হাদিস নং: ৫৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الملك بن ابي الشوارب، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الخوف باحدى الطاىفتين ركعة والطاىفة الاخرى مواجهة العدو ثم انصرفوا فقاموا في مقام اولىك وجاء اولىك فصلى بهم ركعة اخرى ثم سلم عليهم فقام هولاء فقضوا ركعتهم وقام هولاء فقضوا ركعتهم . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح . وقد روى موسى بن عقبة عن نافع عن ابن عمر مثل هذا . قال وفي الباب عن جابر وحذيفة وزيد بن ثابت وابن عباس وابي هريرة وابن مسعود وسهل بن ابي حثمة وابي عياش الزرقي واسمه زيد بن صامت وابي بكرة . قال ابو عيسى وقد ذهب مالك بن انس في صلاة الخوف الى حديث سهل بن ابي حثمة وهو قول الشافعي . وقال احمد قد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف على اوجه وما اعلم في هذا الباب الا حديثا صحيحا واختار حديث سهل بن ابي حثمة . وهكذا قال اسحاق بن ابراهيم قال ثبتت الروايات عن النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الخوف . وراى ان كل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الخوف فهو جاىز وهذا على قدر الخوف . قال اسحاق ولسنا نختار حديث سهل بن ابي حثمة على غيره من الروايات .
৫৬৪. মুহাম্মদ ইবনু আবদিল মালিক ইবনু আবিশ-শাওয়ারিব (রহঃ) ...... সালিম তৎপিতা ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইভাবে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন যে, (পুরো দলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে) এক দলকে নিয়ে এক রাকআত পড়েছেন। এই সময়ে অপর একদল শত্রুর সামনে থেকে ছেন। এরপর যে দল এক রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেরেছন তারা যে দল শত্রুর সামনে রয়েছেন তাদের স্থানে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন আর শত্রুর সম্মুখে অবস্থানরত দল সালাতে এসে শরীক হয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে অপর এক রাকআত সমাধা করেছেন এবং নিজে সালাম ফিরিয়ে নিয়েছেন (কারণ তাঁর সালাত (নামায/নামাজ) শেষ হয়ে গেছে) এরপর সালাত (নামায/নামাজ) রত দল দাঁড়িয়ে তাদের এক রাকআত পুরা করেছেন এবং শত্রুর সম্মুখে যারা অবস্থানরত তারাও দাঁড়িয়ে (অবশিষ্ট) এক রাকআত পুরা করে নিয়েছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১১৩২, ইরওয়া ৩/৫০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি (৫৬১ নং) হাসান-সহীহ। মূসা ইবনু উকবা (রহঃ)-ও এটি নাফি ইবনু উমর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে জাবির, হুসায়ফা, যায়দ ইবনু সাবিত, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, সাহল ইবনু আবূ আয়্যাশ আয্ যুরাকী-তাঁর নাম হ’ল যায়দ ইবনু সামিত এবং আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক (রহঃ) সালাতুল খাওফ-এর ব্যাপারে সাহল ইবনু আবী হাসমা (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অনুসারে পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এটা ঈমাম শাফিঈ (রহঃ)-এরও অভিমত।
ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কয়েকভাবে সালাতুল খাওফ আদায়ের পদ্ধতি বর্ণিত আছে।এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ বলেই আমি জানি। তবে আমি সাহল ইবনু আবী হাসমা বর্ণিত পদ্ধতিটই গ্রহণ করেছি। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও এইরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ সালাতুল খাওফ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ সহীহ বলে প্রমাণিত। এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যতগুলো পদ্ধতি বর্ণিত আছে, সবগুলোই জায়েয। এই বিভিন্নতা হ’ল খাওফ বা ভীতির পরিমাণের তারতম্য হিসাবে। ইসহাক বলেনঃ আমরা অন্যান্য রিওয়ায়াতসমূহের উপর সাহল আবী হাসমার রিওয়ায়াতটির প্রাধান্য দেই না।
ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি (৫৬১ নং) হাসান-সহীহ। মূসা ইবনু উকবা (রহঃ)-ও এটি নাফি ইবনু উমর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে জাবির, হুসায়ফা, যায়দ ইবনু সাবিত, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, সাহল ইবনু আবূ আয়্যাশ আয্ যুরাকী-তাঁর নাম হ’ল যায়দ ইবনু সামিত এবং আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক (রহঃ) সালাতুল খাওফ-এর ব্যাপারে সাহল ইবনু আবী হাসমা (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অনুসারে পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এটা ঈমাম শাফিঈ (রহঃ)-এরও অভিমত।
ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কয়েকভাবে সালাতুল খাওফ আদায়ের পদ্ধতি বর্ণিত আছে।এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ বলেই আমি জানি। তবে আমি সাহল ইবনু আবী হাসমা বর্ণিত পদ্ধতিটই গ্রহণ করেছি। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও এইরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ সালাতুল খাওফ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ সহীহ বলে প্রমাণিত। এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যতগুলো পদ্ধতি বর্ণিত আছে, সবগুলোই জায়েয। এই বিভিন্নতা হ’ল খাওফ বা ভীতির পরিমাণের তারতম্য হিসাবে। ইসহাক বলেনঃ আমরা অন্যান্য রিওয়ায়াতসমূহের উপর সাহল আবী হাসমার রিওয়ায়াতটির প্রাধান্য দেই না।
হাদিস নং: ৫৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد القطان، حدثنا يحيى بن سعيد الانصاري، عن القاسم بن محمد، عن صالح بن خوات بن جبير، عن سهل بن ابي حثمة، انه قال في صلاة الخوف قال يقوم الامام مستقبل القبلة وتقوم طاىفة منهم معه وطاىفة من قبل العدو ووجوهم الى العدو فيركع بهم ركعة ويركعون لانفسهم ركعة ويسجدون لانفسهم سجدتين في مكانهم ثم يذهبون الى مقام اولىك ويجيء اولىك فيركع بهم ركعة ويسجد بهم سجدتين فهي له ثنتان ولهم واحدة ثم يركعون ركعة ويسجدون سجدتين .
৫৬৫. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ....... সাহল ইবনু আবী হাসমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি সালাতুল খাওফ বিষয়ে বলেনঃ ইমাম কিবলামূখী হয়ে দাঁড়াবেন। তার সাথে একদল মুসল্লি শামিল হবেন। আরেক দল থাকবেন শত্রুর সামনে তাদের দিকে মুখ করে। ইমাম তার সঙ্গে শামিল দলকে নিয়ে এক রাকআত আদায় করবেন আর মুসল্লিরা নিজেরা এক রাকআত আদায় করবেন এবং নিজেরা নিজেদের দুই সিজদা দেবেন। এরপর তারা শত্রুর সম্মুখে অবস্থানরত দলের স্থানে গিয়ে দাঁড়াবেন এবং ওরা এসে ইমামের সঙ্গে অবস্থান গ্রহণ করবেন।ইমাম তাদের নিয়ে (অবশিষ্ট) এক রাকআত আদায় করবেন ও দুই সিজদা দিবেন। এতে ইমামের হবে পূর্ণ দু’রাকআত আর এই দলের হবে এক রাকআত। সুতরাং এরা রুকূ ও দুই সিজদা দিবেন ও তাদের সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ণ করবেন। - ইবনু মাজাহ ১২৫৯, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৬৬
সহিহ (Sahih)
قال ابو عيسى قال محمد بن بشار سالت يحيى بن سعيد عن هذا الحديث، فحدثني عن شعبة، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن صالح بن خوات، عن سهل بن ابي حثمة، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثل حديث يحيى بن سعيد الانصاري . وقال لي يحيى اكتبه الى جنبه ولست احفظ الحديث ولكنه مثل حديث يحيى بن سعيد الانصاري . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح . لم يرفعه يحيى بن سعيد الانصاري عن القاسم بن محمد وهكذا روى اصحاب يحيى بن سعيد الانصاري موقوفا ورفعه شعبة عن عبد الرحمن بن القاسم بن محمد .
৫৬৬. (ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন) মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) কে আমি এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে তা শু’বা আব্দুর রহমান ইবনু আল-কাসিম-পিতা কাসিম-সালিহ ইবনু খাওওয়াত-সাহল ইবনু আবী হাসমা (রহঃ) সূত্রে মারফূ হিসাবে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এর রিওয়ায়াত (৫৬৫ নং)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি (৫৬৬নং)-টির শব্দ পুরাপুরি সংরক্ষণ করতে পারি নাই তবে এটিও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এর রিওয়ায়াত (৫৬৫ নং)-টির অনুরূপই।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এটিকে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সূত্রে মারফূ হিসাবে রিওয়ায়াত করেননি। এমনিভাবে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ) এর শাগরিদগণও একে মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু’বা (রহঃ) আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে এটিকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এটিকে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সূত্রে মারফূ হিসাবে রিওয়ায়াত করেননি। এমনিভাবে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ) এর শাগরিদগণও একে মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু’বা (রহঃ) আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে এটিকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৬৭
সহিহ (Sahih)
وروى مالك بن انس، عن يزيد بن رومان، عن صالح بن خوات، عمن صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف فذكر نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وبه يقول مالك والشافعي واحمد واسحاق . وروي عن غير واحد ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى باحدى الطاىفتين ركعة ركعة فكانت للنبي صلى الله عليه وسلم ركعتان ولهم ركعة ركعة . قال ابو عيسى ابو عياش الزرقي اسمه زيد بن صامت .
৫৬৭. মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) ...... সালিহ ইবনু খাওওয়াত (রহঃ) সূত্রে যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন এমন এক ব্যক্তি থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এই হাদীস অনুসারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একাধিক রাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী এক-এক দলের সঙ্গে এক-এক রাকআত করে আদায় করেছেন। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হয়েছে দু’রাকআত আর মুসল্লিদের হয়েছে এক এক রাক’আত। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ আবূ আয়্যাশ আয-যুরাকীর নাম হলো যায়দ ইবনু সামিত। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এই হাদীস অনুসারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একাধিক রাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী এক-এক দলের সঙ্গে এক-এক রাকআত করে আদায় করেছেন। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হয়েছে দু’রাকআত আর মুসল্লিদের হয়েছে এক এক রাক’আত। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ আবূ আয়্যাশ আয-যুরাকীর নাম হলো যায়দ ইবনু সামিত। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৬৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا عبد الله بن وهب، عن عمرو بن الحارث، عن سعيد بن ابي هلال، عن عمر الدمشقي، عن ام الدرداء، عن ابي الدرداء، قال سجدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم احدى عشرة سجدة منها التي في النجم .
৫৬৮. সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী .... আবূদ্ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এগারটি তিলাওয়ায়াতের সিজদা আদায় করেছি। এগুলোর একটি হ’ল সূরা আন-নাজম-এর সিজদা। - ইবনু মাজাহ ১০৫৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৬৯
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا عبد الله بن صالح، حدثنا الليث بن سعد، عن خالد بن يزيد، عن سعيد بن ابي هلال، عن عمر، وهو ابن حيان الدمشقي قال سمعت مخبرا، يخبر عن ام الدرداء، عن ابي الدرداء، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه بلفظه . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث سفيان بن وكيع عن عبد الله بن وهب . قال وفي الباب عن علي وابن عباس وابي هريرة وابن مسعود وزيد بن ثابت وعمرو بن العاص . قال ابو عيسى حديث ابي الدرداء حديث غريب لا نعرفه الا من حديث سعيد بن ابي هلال عن عمر الدمشقي .
৫৬৯. আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) ..... আবূদ্ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ শব্দে বর্ণিত আছে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই রিওয়ায়াতটি সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি (৫৬৮নং) থেকে অধিক সহীহ। এই বিষয়ে আলী, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, যায়দ ইবনু সাবিত ও আমর ইবনু আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূদ্-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব। সাঈদ ইবনু আবূ হিলাল উমার দিমাশকী (রহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই রিওয়ায়াতটি সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি (৫৬৮নং) থেকে অধিক সহীহ। এই বিষয়ে আলী, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, যায়দ ইবনু সাবিত ও আমর ইবনু আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূদ্-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব। সাঈদ ইবনু আবূ হিলাল উমার দিমাশকী (রহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
হাদিস নং: ৫৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا نصر بن علي، حدثنا عيسى بن يونس، عن الاعمش، عن مجاهد، قال كنا عند ابن عمر فقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ايذنوا للنساء بالليل الى المساجد " . فقال ابنه والله لا ناذن لهن يتخذنه دغلا . فقال فعل الله بك وفعل اقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول لا ناذن لهن . قال وفي الباب عن ابي هريرة وزينب امراة عبد الله بن مسعود وزيد بن خالد . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح .
৫৭০. নাসর ইবনু আলী (রহঃ) .... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমরা একদিন ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে বসা ছিলাম। তিনি বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমরা মহিলাদেরকে রাতে মসজিদে যেতে অনুমতি দিও। তখন তার ছেলে (বিলাল) বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমরা তাদের অনুমতি দিব না। কারণ এটিকে তারা একটা বাহানা বানিয়ে নিবে। এই শুনে ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহ্ তোমার সাথে যা করার করুন। আমি বলছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অনুমতি দিতে) বলেছেন, আর তুমি বলছ আমরা অনুমতি দিব না। - সহিহ আবু দাউদ ৫৭৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ এর স্ত্রী যয়নব এবং যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ এর স্ত্রী যয়নব এবং যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৫৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن سفيان، عن منصور، عن ربعي بن حراش، عن طارق بن عبد الله المحاربي، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا كنت في الصلاة فلا تبزق عن يمينك ولكن خلفك او تلقاء شمالك او تحت قدمك اليسرى " . قال وفي الباب عن ابي سعيد وابن عمر وانس وابي هريرة . قال ابو عيسى وحديث طارق حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم . قال وسمعت الجارود يقول سمعت وكيعا يقول لم يكذب ربعي بن حراش في الاسلام كذبة . قال وقال عبد الرحمن بن مهدي اثبت اهل الكوفة منصور بن المعتمر .
৫৭১. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... তারিক ইবনু আবদিল্লাহ আলি-মুহারিবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যখন সালাত (নামায/নামাজ) রত থাকবে তখন তোমরা ডানে থুথু ফেলবে না, (যদি অগত্যা ফেলতেই হয় তবে) তোমার পিছনে বা বামে বা বাম পায়ের নিচে ফেলবে। - ইবনু মাজাহ ১০২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ, ইবনু উমর, আনাস ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ তারিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত দিয়েছেন। আল-জারূদ (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমি ওয়াকী (রহঃ) - কে বলতে শুনেছিঃ রিবঈ ইবনু হিরাশ ইসলামে কোন দিন মিথ্যা বলেন নি। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রহঃ) বলেন, কূফবাসীদের মধ্যে সবচে বিশ্বস্ত হলেন মনসূর ইবনুল মু’তামির।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ, ইবনু উমর, আনাস ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ তারিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত দিয়েছেন। আল-জারূদ (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমি ওয়াকী (রহঃ) - কে বলতে শুনেছিঃ রিবঈ ইবনু হিরাশ ইসলামে কোন দিন মিথ্যা বলেন নি। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রহঃ) বলেন, কূফবাসীদের মধ্যে সবচে বিশ্বস্ত হলেন মনসূর ইবনুল মু’তামির।
হাদিস নং: ৫৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " البزاق في المسجد خطيىة وكفارتها دفنها " . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح .
৫৭২. কুতায়বা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা অপরাধ। আর এর কাফফারা হ’ল তা মুছে ফেলা। - রওয ৪৮, সহিহ আবু দাউদ ৪৯৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৫৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ايوب بن موسى، عن عطاء بن ميناء، عن ابي هريرة، قال سجدنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في (اقرا باسم ربك الذي خلق ) و (اذا السماء انشقت )
৫৭৩. কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ (সূরা আলাক) এবং إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ (সূরা ইনশিকাক) সূরায় সিজদা করেছি। - ইবনু মাজাহ ১০৫৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا سفيان بن عيينة، عن يحيى بن سعيد، عن ابي بكر بن محمد، هو ابن عمرو بن حزم عن عمر بن عبد العزيز، عن ابي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم يرون السجود في(اذا السماء انشقت ) و (اقرا باسم ربك ) . وفي هذا الحديث اربعة من التابعين بعضهم عن بعض .
৫৭৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ভিন্ন সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। السَّمَاءُ انْشَقَّتْ এবং اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ সূরাদ্বয়ে সিজদা এ-তিলাওয়াত করতে হবে বলে তারা মনে করেন। এই রিওয়াত (৫৭৪) টিতে চারজন তাবিঈ (ইয়াহহিয়া ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু হাযম, উমর ইবনু আবদিল আযীয, আবূ বকর ইবনু আবদির রহমান ইবনু আল-হারিস ইবনু হিশাম) পরস্পর পরস্পর থেকে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هارون بن عبد الله البزاز البغدادي، حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث، حدثنا ابي، عن ايوب، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال سجد رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها - يعني النجم - والمسلمون والمشركون والجن والانس . قال وفي الباب عن ابن مسعود وابي هريرة . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم يرون السجود في سورة النجم . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ليس في المفصل سجدة . وهو قول مالك بن انس . والقول الاول اصح وبه يقول الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق . وفي الباب عن ابن مسعود وابي هريرة .
৫৭৫. হারূন ইবনু আবদিল্লাহ আল-বাযযার আল-রাগদাদী (রহঃ) .... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে অর্থাৎ সূরা আন্ নাজমে সিজদা করেছেন। তাঁর সঙ্গে মুসলিক, মুশরিক, জ্বীন ও মানুষ (যারা ছিল) সবাই সিজদা করেছে। - বুখারি, কিসসাতুল গারানীক (১৮, ২৫, ৩১ পৃষ্ঠা), বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু মাসঊদ ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা সূরা আন-নাজমে সিজদা-এ-তিলাওয়াত রয়েছে বলে মনে করেন। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেনঃ আল-মুফসসাল সূরাসমূহে কোন সিজদা নাই। এ হ’ল ইমাম মালিক (রহঃ) এর বক্তব্য। তবে প্রথমোক্ত অভিমতটি অধিকতর সহীহ। ইমাম সাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে ইবনু মাসউদ (রহঃ) ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
এই বিষয়ে ইবনু মাসঊদ ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা সূরা আন-নাজমে সিজদা-এ-তিলাওয়াত রয়েছে বলে মনে করেন। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেনঃ আল-মুফসসাল সূরাসমূহে কোন সিজদা নাই। এ হ’ল ইমাম মালিক (রহঃ) এর বক্তব্য। তবে প্রথমোক্ত অভিমতটি অধিকতর সহীহ। ইমাম সাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে ইবনু মাসউদ (রহঃ) ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৫৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا وكيع، عن ابن ابي ذىب، عن يزيد بن عبد الله بن قسيط، عن عطاء بن يسار، عن زيد بن ثابت، قال قرات على رسول الله صلى الله عليه وسلم النجم فلم يسجد فيها . قال ابو عيسى حديث زيد بن ثابت حديث حسن صحيح . وتاول بعض اهل العلم هذا الحديث فقال انما ترك النبي صلى الله عليه وسلم السجود لان زيد بن ثابت حين قرا فلم يسجد لم يسجد النبي صلى الله عليه وسلم . وقالوا السجدة واجبة على من سمعها فلم يرخصوا في تركها . وقالوا ان سمع الرجل وهو على غير وضوء فاذا توضا سجد . وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة وبه يقول اسحاق . وقال بعض اهل العلم انما السجدة على من اراد ان يسجد فيها والتمس فضلها ورخصوا في تركها ان اراد ذلك . واحتجوا بالحديث المرفوع حديث زيد بن ثابت حيث قال قرات على النبي صلى الله عليه وسلم النجم فلم يسجد فيها . فقالوا لو كانت السجدة واجبة لم يترك النبي صلى الله عليه وسلم زيدا حتى كان يسجد ويسجد النبي صلى الله عليه وسلم . واحتجوا بحديث عمر انه قرا سجدة على المنبر فنزل فسجد ثم قراها في الجمعة الثانية فتهيا الناس للسجود فقال انها لم تكتب علينا الا ان نشاء . فلم يسجد ولم يسجدوا . فذهب بعض اهل العلم الى هذا . وهو قول الشافعي واحمد .
৫৭৬. ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) ...... যায়দ সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি সূরা আন্-নাজম পাঠ করতে শুনেছি। তিনি এতে কোন সিজদা দেননি। - সহিহ আবু দাউদ ১২৬৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ যায়দ ইবনু সাবিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কোন কোন আলিম এই হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেনঃ এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করেননি, কারণ যায়দ ইবনু সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করার সময় সিজদা করেননি। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সিজদা করেননি। আলিমগণ বলেনঃ সিজদার আয়াত তিলাওয়ায়াত করতে যে ব্যক্তি শুনবে, তার উপরও সিজদা করা ওয়াজিব। তারা এই ব্যক্তির জন্যও সিজদা না করার অনুমতি দেন নি। তারা আরো বলেনঃ কারো যদি সিজদার আয়াত শোনার সময় উযু না থাকে তবে সে যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তখন সে সিজদা করবে। এ হ’ল সুফইয়ান সাওরী, কূফাবাসী আলিমগণ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
কতক আলিম বলেনঃ কেউ যদি সিজদা করতে চায় এবং ফযীলতের প্রত্যাশী হয়, তবে সে সিজদা করবে। আর যদি সে সিজদা করতে না চায়, তবে তার জন্য তা না করারও অনুমতি রয়েছে (অর্থাৎ তাদের মতে সিজদা তিলাওয়াত ওয়াজিব নয়) তারা যায়দ ইবনু সাবিত বর্ণিত হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। তিনি বর্ণনা করেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা আন-নাজম তিলাওয়াত করে শুনিয়েছি কিন্তু তিনি এতে সিজদা করেননি। তাঁরা বলেনঃ সিজদা তিলাওয়াত যদি ওয়াজিব হতো তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দকে সিজদা না করা পর্যন্ত ছেড়ে দিতেন না এবং তাকে সিজদা করতে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি নিজেও সিজদা করতেন।
এই আলিমগণ উমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করে থাকেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার মিম্বরে (খুতবারত অবস্থায়) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন তখন তিনি নিচে নেমে এসে সিজদা করলেন। পরে দ্বিতীয় জুমুআতেও তিনি এটি তিলাওয়াত করেন। তখন লোকজনও সিজদা করার জন্য প্রস্তুত হয়। এতে তিনি বললেনঃ এ আমাদের ফরয করা হয়নি। হ্যাঁ, আমরা যদি চাই তা করতে পারি। যা হোক, এই দিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু -ও সিজদা করেননি এবং লোকজনও সিজদা করলেন না। কতক আলিম এই মতটই গ্রহণ করেছেন। এ হ’ল ইমাম শাফিঈ ও আহমদ (রহঃ) এর বক্তব্য।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ যায়দ ইবনু সাবিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কোন কোন আলিম এই হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেনঃ এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করেননি, কারণ যায়দ ইবনু সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করার সময় সিজদা করেননি। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সিজদা করেননি। আলিমগণ বলেনঃ সিজদার আয়াত তিলাওয়ায়াত করতে যে ব্যক্তি শুনবে, তার উপরও সিজদা করা ওয়াজিব। তারা এই ব্যক্তির জন্যও সিজদা না করার অনুমতি দেন নি। তারা আরো বলেনঃ কারো যদি সিজদার আয়াত শোনার সময় উযু না থাকে তবে সে যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তখন সে সিজদা করবে। এ হ’ল সুফইয়ান সাওরী, কূফাবাসী আলিমগণ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
কতক আলিম বলেনঃ কেউ যদি সিজদা করতে চায় এবং ফযীলতের প্রত্যাশী হয়, তবে সে সিজদা করবে। আর যদি সে সিজদা করতে না চায়, তবে তার জন্য তা না করারও অনুমতি রয়েছে (অর্থাৎ তাদের মতে সিজদা তিলাওয়াত ওয়াজিব নয়) তারা যায়দ ইবনু সাবিত বর্ণিত হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। তিনি বর্ণনা করেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা আন-নাজম তিলাওয়াত করে শুনিয়েছি কিন্তু তিনি এতে সিজদা করেননি। তাঁরা বলেনঃ সিজদা তিলাওয়াত যদি ওয়াজিব হতো তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দকে সিজদা না করা পর্যন্ত ছেড়ে দিতেন না এবং তাকে সিজদা করতে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি নিজেও সিজদা করতেন।
এই আলিমগণ উমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করে থাকেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার মিম্বরে (খুতবারত অবস্থায়) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন তখন তিনি নিচে নেমে এসে সিজদা করলেন। পরে দ্বিতীয় জুমুআতেও তিনি এটি তিলাওয়াত করেন। তখন লোকজনও সিজদা করার জন্য প্রস্তুত হয়। এতে তিনি বললেনঃ এ আমাদের ফরয করা হয়নি। হ্যাঁ, আমরা যদি চাই তা করতে পারি। যা হোক, এই দিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু -ও সিজদা করেননি এবং লোকজনও সিজদা করলেন না। কতক আলিম এই মতটই গ্রহণ করেছেন। এ হ’ল ইমাম শাফিঈ ও আহমদ (রহঃ) এর বক্তব্য।
হাদিস নং: ৫৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ايوب، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يسجد في ص . قال ابن عباس وليست من عزاىم السجود . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . واختلف اهل العلم في ذلك فراى بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان يسجد فيها . وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق . وقال بعضهم انها توبة نبي ولم يروا السجود فيها .
৫৭৭. ইবনু আবী উমর ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা সোয়াদ-এ সিজদা করতে দেখেছি। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এটি জরুরী সিজদার অন্তর্ভূক্ত নয়। - সহিহ আবু দাউদ ১২৭০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের মধ্যে এই বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কতক আলিম বলেনঃ এতে সিজদা করা হবে। এ হ’ল সূফইয়ান সাওরী ইবনুল, মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। আর কতক আলিম বলেনঃ এখানে জনৈক নবী (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর তওবা কবূলের বিবরণ বিধৃত। সুতরাং তারা এতে সিজদা করতে হবে বলে মনে করেন না।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের মধ্যে এই বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কতক আলিম বলেনঃ এতে সিজদা করা হবে। এ হ’ল সূফইয়ান সাওরী ইবনুল, মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। আর কতক আলিম বলেনঃ এখানে জনৈক নবী (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর তওবা কবূলের বিবরণ বিধৃত। সুতরাং তারা এতে সিজদা করতে হবে বলে মনে করেন না।
হাদিস নং: ৫৭৮
হাসান (Hasan)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابن لهيعة، عن مشرح بن هاعان، عن عقبة بن عامر، قال قلت يا رسول الله فضلت سورة الحج بان فيها سجدتين قال " نعم ومن لم يسجدهما فلا يقراهما " . قال ابو عيسى هذا حديث ليس اسناده بذاك القوي . واختلف اهل العلم في هذا فروي عن عمر بن الخطاب وابن عمر انهما قالا فضلت سورة الحج بان فيها سجدتين . وبه يقول ابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق . وراى بعضهم فيها سجدة وهو قول سفيان الثوري ومالك واهل الكوفة .
৫৭৮. কুতায়বা (রহঃ) ..... উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! সূরা হাজ্জকে তো বেশ ফযীলত প্রদান করা হয়েছে। এতে রয়েছে দুটো সিজদা। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেউ যদি এই দুটো সিজদা না করে সে যেন এই দুই আয়াত তিলাওয়াত না করে। - সহিহ আবু দাউদ ১২৬৫, মিশকাত ১০৩০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটির সনদ তত শক্তিশালী নয়। এই বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা বলেছেনঃ সূরা হাজ্জকে ফযীলত প্রদান করা হয়েছে; এতে রয়েছে দুটো সিজদা। ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কতক আলিম বলেনঃ এতে রয়েছে একটি সিজদা। এ হ’ল সুফইয়ান সাওরী, মালিক ও কূফাবাসী আলিমগণ এর অভিমত।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটির সনদ তত শক্তিশালী নয়। এই বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা বলেছেনঃ সূরা হাজ্জকে ফযীলত প্রদান করা হয়েছে; এতে রয়েছে দুটো সিজদা। ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কতক আলিম বলেনঃ এতে রয়েছে একটি সিজদা। এ হ’ল সুফইয়ান সাওরী, মালিক ও কূফাবাসী আলিমগণ এর অভিমত।
হাদিস নং: ৫৭৯
হাসান (Hasan)
حدثنا قتيبة، حدثنا محمد بن يزيد بن خنيس، حدثنا الحسن بن محمد بن عبيد الله بن ابي يزيد، قال قال لي ابن جريج يا حسن اخبرني عبيد الله بن ابي يزيد، عن ابن عباس، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اني رايتني الليلة وانا ناىم كاني اصلي خلف شجرة فسجدت فسجدت الشجرة لسجودي فسمعتها وهي تقول اللهم اكتب لي بها عندك اجرا وضع عني بها وزرا واجعلها لي عندك ذخرا وتقبلها مني كما تقبلتها من عبدك داود . قال الحسن قال لي ابن جريج قال لي جدك قال ابن عباس فقرا النبي صلى الله عليه وسلم سجدة ثم سجد . قال فقال ابن عباس فسمعته وهو يقول مثل ما اخبره الرجل عن قول الشجرة . قال وفي الباب عن ابي سعيد . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من حديث ابن عباس لا نعرفه الا من هذا الوجه .
৫৭৯. কুতায়বা (রহঃ) ..... হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দিল্লাহ ইবনু আবী ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমাকে ইবনু জুরায়জ বললেন, হে হাসান, আমাকে উবায়দুল্লাহ ইবনু আবী ইয়াযীদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। একবার জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল। আমি রাতে স্বপ্নে দেখলাম, আমি যেন একটা গাছের পিছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছি। অনন্তর যখন সিজদা (তিলাওয়াত) করলাম, তখন গাছটিও আমার সিজদার সাথে সিজদা করল। আমি এটিকে সিজদায় বলতে শুনলামঃ
اللَّهُمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا عِنْدَكَ أَجْرًا وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا وَاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَاوُدَ
’’হে আল্লাহ! এর মাধ্যমে আপনার নিকট আমার জন্য সওয়াব লিখে নিন। এর মাধ্যমে আমার পাপ দূরীভূত করুন, এটিকে আমার সঞ্চয় বলে গ্রহণ করুন এবং আমার থেকে এটিকে এভাবে কবূল করুন যেভাবে আপনি আপনার বান্দা দাউদ (আলাইহিস সালাম) থেকে কবূল করেছিলেন।’’
হাসান বলেন যে, আমাকে ইবনু জুরায়জ বললেনঃ আমাকে তোমার পিতামহ বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াতে তিলাওয়াত করলেন, পরে সিজদা দিলেন। তিনি আরো বলেনঃ স্বপ্নে বৃক্ষটির দু’আ সম্পর্কে ঐ ব্যক্তি যা বলেছিলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ও সিজদায় উক্তরূপ পাঠ করতে শুনেছি। - ইবনু মাজাহ ১০৫৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই।
اللَّهُمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا عِنْدَكَ أَجْرًا وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا وَاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَاوُدَ
’’হে আল্লাহ! এর মাধ্যমে আপনার নিকট আমার জন্য সওয়াব লিখে নিন। এর মাধ্যমে আমার পাপ দূরীভূত করুন, এটিকে আমার সঞ্চয় বলে গ্রহণ করুন এবং আমার থেকে এটিকে এভাবে কবূল করুন যেভাবে আপনি আপনার বান্দা দাউদ (আলাইহিস সালাম) থেকে কবূল করেছিলেন।’’
হাসান বলেন যে, আমাকে ইবনু জুরায়জ বললেনঃ আমাকে তোমার পিতামহ বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াতে তিলাওয়াত করলেন, পরে সিজদা দিলেন। তিনি আরো বলেনঃ স্বপ্নে বৃক্ষটির দু’আ সম্পর্কে ঐ ব্যক্তি যা বলেছিলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ও সিজদায় উক্তরূপ পাঠ করতে শুনেছি। - ইবনু মাজাহ ১০৫৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই।
হাদিস নং: ৫৮০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، حدثنا خالد الحذاء، عن ابي العالية، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في سجود القران بالليل " سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره بحوله وقوته " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৫৮০. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার .... আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কুরআন তিলাওয়াতে সিজদায় এ দুই দু’আ পড়তেনঃ سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ
’’আমার মুখমণ্ডল
প্রণত সেই সত্তার উদ্দেশ্যে যিনি তাঁর শক্তিতে তাকে বানিয়েছেন। তার কানও তার চোখ খুলে দিয়েছেন।’’ - সহিহ আবু দাউদ ১২৭৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন : হাদীসটি হাসান-সহীহ।
’’আমার মুখমণ্ডল
প্রণত সেই সত্তার উদ্দেশ্যে যিনি তাঁর শক্তিতে তাকে বানিয়েছেন। তার কানও তার চোখ খুলে দিয়েছেন।’’ - সহিহ আবু দাউদ ১২৭৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন : হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৫৮১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو صفوان، عن يونس بن يزيد، عن ابن شهاب الزهري، ان الساىب بن يزيد، وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، اخبراه عن عبد الرحمن بن عبد القاري، قال سمعت عمر بن الخطاب، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من نام عن حزبه او عن شيء منه فقراه ما بين صلاة الفجر وصلاة الظهر كتب له كانما قراه من الليل " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال وابو صفوان اسمه عبد الله بن سعيد المكي وروى عنه الحميدي وكبار الناس .
৫৮১. কুতায়বা (রহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কারো যদি রাতের জন্য নির্ধারিত ইবাদত বা এর কিছু অংশ ফওত হয়ে যায়, আর পরে সে যদি সালাতুল ফজর ও সালাতুল যোহরের মাঝে তা আদায় করে নেয়, সে যেন রাত্রেই তা আদায় করল, তদ্রূপ সওয়াব তার জন্য লিখা হবে। - ইবনু মাজাহ ১৩৪৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূ সাফওয়ানের নাম হ’ল আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল-মক্কী। হুমায়দী (রহঃ) এবং আরো বহু প্রবীণ তাবিঈ তাঁর বরাতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূ সাফওয়ানের নাম হ’ল আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল-মক্কী। হুমায়দী (রহঃ) এবং আরো বহু প্রবীণ তাবিঈ তাঁর বরাতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ৫৮২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن محمد بن زياد، وهو ابو الحارث البصري ثقة عن ابي هريرة، قال قال محمد صلى الله عليه وسلم " اما يخشى الذي يرفع راسه قبل الامام ان يحول الله راسه راس حمار " . قال قتيبة قال حماد قال لي محمد بن زياد وانما قال " اما يخشى " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ومحمد بن زياد هو بصري ثقة ويكنى ابا الحارث .
৫৮২. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে তার মাথা উঠায় সে কি এ কথার ভয় করে না যে, আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথারূপে পরিবর্তিত করে দিবেন? - ইবনু মাজাহ ৯৬১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
কুতায়বা (রহঃ) বলেনঃ হাম্মাদ বলেছেন যে, আমাকে মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ রিওয়ায়াত করেছেন: أَمَا يَخْشَى ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ হলেন বসরী। তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী। তাঁর উপনাম হল আবূল হারিস।
কুতায়বা (রহঃ) বলেনঃ হাম্মাদ বলেছেন যে, আমাকে মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ রিওয়ায়াত করেছেন: أَمَا يَخْشَى ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ হলেন বসরী। তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী। তাঁর উপনাম হল আবূল হারিস।
হাদিস নং: ৫৮৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن عمرو بن دينار، عن جابر بن عبد الله، ان معاذ بن جبل، كان يصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم المغرب ثم يرجع الى قومه فيومهم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اصحابنا الشافعي واحمد واسحاق قالوا اذا ام الرجل القوم في المكتوبة وقد كان صلاها قبل ذلك ان صلاة من اىتم به جاىزة . واحتجوا بحديث جابر في قصة معاذ وهو حديث صحيح وقد روي من غير وجه عن جابر . وروي عن ابي الدرداء انه سىل عن رجل دخل المسجد والقوم في صلاة العصر وهو يحسب انها صلاة الظهر فاىتم بهم قال صلاته جاىزة . وقد قال قوم من اهل الكوفة اذا اىتم قوم بامام وهو يصلي العصر وهم يحسبون انها الظهر فصلى بهم واقتدوا به فان صلاة المقتدي فاسدة اذ اختلف نية الامام ونية الماموم .
৫৮৩. কুতায়বা (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, মু’আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, পরে স্বীয় কওমের কাছে ফিরে যেতেন এবং তাদের ইমামতি করতেন। - সহিহ আবু দাউদ ৭৫৬, বুখারি ও মুসলিম আরো পূর্ণরূপে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ, আহমদ, ইসহাক (রহঃ) প্রমুখ আমাদের ফকীহ আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমলের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেনঃ কোন ব্যক্তি যদি পূর্বে সালাত আদায় করে পরে সেই ফরয সালাতের ক্ষেত্রে কোন জামাআতের ইমামতি করে, তবে যারা তার ইক্তিদায় সালাত আদায় করবে, তাদের সালাত আদায হয়ে যাবে। এই ফকীহগণ মু’আয রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। এই হাদীসটি সহীহ। একাধিক সূত্রে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এটির রিওয়ায়াত আছে।
আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত আছে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এক ব্যক্তি সমজিদে আসল। এ সময় লোকেরা সালাতুল আসর আদায় করছিল কিন্তু সে এটিকে যোহরের সালাত মনে করে ইক্তিদা শুরু করে দিল। এটা কি জায়েয হবে? তিনি উত্তরে বললেনঃ এ ব্যক্তির সালাত জায়েয হয়ে যাবে। কুফাবাসী একদল আলিম বলেনঃ কেউ যদি যোহরের সালাত আদায় করছে বলে মনে করে এমন এক ইমামের ইক্তিদা করে যিনি আসলে আসরের সালাত আদায় করছেন, তবে মুক্তাদির সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে। কারণ এখানে ইমাম ও মুক্তাদীর নিয়্যাতের মধ্যে বৈপরীত্য বিদ্যমান।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ, আহমদ, ইসহাক (রহঃ) প্রমুখ আমাদের ফকীহ আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমলের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেনঃ কোন ব্যক্তি যদি পূর্বে সালাত আদায় করে পরে সেই ফরয সালাতের ক্ষেত্রে কোন জামাআতের ইমামতি করে, তবে যারা তার ইক্তিদায় সালাত আদায় করবে, তাদের সালাত আদায হয়ে যাবে। এই ফকীহগণ মু’আয রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। এই হাদীসটি সহীহ। একাধিক সূত্রে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এটির রিওয়ায়াত আছে।
আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত আছে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এক ব্যক্তি সমজিদে আসল। এ সময় লোকেরা সালাতুল আসর আদায় করছিল কিন্তু সে এটিকে যোহরের সালাত মনে করে ইক্তিদা শুরু করে দিল। এটা কি জায়েয হবে? তিনি উত্তরে বললেনঃ এ ব্যক্তির সালাত জায়েয হয়ে যাবে। কুফাবাসী একদল আলিম বলেনঃ কেউ যদি যোহরের সালাত আদায় করছে বলে মনে করে এমন এক ইমামের ইক্তিদা করে যিনি আসলে আসরের সালাত আদায় করছেন, তবে মুক্তাদির সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে। কারণ এখানে ইমাম ও মুক্তাদীর নিয়্যাতের মধ্যে বৈপরীত্য বিদ্যমান।