অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সুনান আত তিরমিজী
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু' এর স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত আমি লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি।
মোট ৩৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ২৬০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فاذا قالوها منعوا مني دماءهم واموالهم الا بحقها وحسابهم على الله " . وفي الباب عن جابر وابي سعيد وابن عمر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৬০৭. হান্নাদ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতদিন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ না বলবে ততদিন আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি। যখন তারা এ কথার স্বীকৃতি দিবে আমার থেকে তাদের রক্ত (জান) ও সম্পদ নিরাপদ হয়ে যাবে। তবে শরীয়ত সম্মত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। আর তাদের হিসাব তো আল্লাহর কাছে। সহীহ, মুতাওাতির, ইবনু মাজাহ ৭১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে জাবির, আবূ সাঈদ ও ইবন উমর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এ বিষয়ে জাবির, আবূ সাঈদ ও ইবন উমর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৬০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن عقيل، عن الزهري، اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابي هريرة، قال لما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم واستخلف ابو بكر بعده كفر من كفر من العرب فقال عمر بن الخطاب لابي بكر كيف تقاتل الناس وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله ومن قال لا اله الا الله عصم مني ماله ونفسه الا بحقه وحسابه على الله " . قال ابو بكر والله لاقاتلن من فرق بين الزكاة والصلاة فان الزكاة حق المال والله لو منعوني عقالا كانوا يودونه الى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعه فقال عمر بن الخطاب فوالله ما هو الا ان رايت ان الله قد شرح صدر ابي بكر للقتال فعرفت انه الحق . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وهكذا روى شعيب بن ابي حمزة عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابي هريرة . وروى عمران القطان هذا الحديث عن معمر عن الزهري عن انس بن مالك عن ابي بكر وهو حديث خطا وقد خولف عمران في روايته عن معمر .
২৬০৮. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখন ইনতিকাল হল আর তাঁর পর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যখন খলিফা নির্বাচিত করা হল তখন আরবের কিছু লোক কাফির হয়ে গেল। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেনঃ আপনি লোকদের বিরূদ্ধে * কিরূপে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত লোকদের বিরূদ্ধে লড়াই করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এ কথা স্বীকার করল, সে আমার থেকে তার জান ও মালের নিরাপত্তা পেল। তবে শরীয়ত সম্মত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। তার হিসাব তো আল্লাহর কাছে।
আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি সেই ব্যক্তির বিরূদ্ধে অবশ্যই লড়াই করব, যে সালাত (নামায) ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা, যাকাত হল মালের হক। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমার কাছে একটি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (যাকাত হিসাবে) দিত তবুও এই অস্বীকৃতির দরুন আমি অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি তো দেখছি আল্লাহ্ তা’আলা আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বক্ষকে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আমিও উপলব্ধি করলাম যে, এ-ই হক। সহীহ, সহিহাহ ৪০৭, সহিহ আবু দাউদ ১৩৯১-১৩৯৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। শুআয়ব ইবন আবূ হামযা (রহঃ) এটিকে যুহরী-উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদূল্লাহ্ ইবন উৎবা-আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমরান কাত্তান (রহঃ) হাদীসটি মা’মার-যুহরী-আনাস ইবন মালিক-আবূ বকর (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মা’মার থেকে বর্ণিত রিওয়ায়তের মধ্যে রাবী ইমরান (রহঃ) এর ব্যাপারে বিরোধিতা রয়েছে।
আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি সেই ব্যক্তির বিরূদ্ধে অবশ্যই লড়াই করব, যে সালাত (নামায) ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা, যাকাত হল মালের হক। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমার কাছে একটি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (যাকাত হিসাবে) দিত তবুও এই অস্বীকৃতির দরুন আমি অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি তো দেখছি আল্লাহ্ তা’আলা আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বক্ষকে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আমিও উপলব্ধি করলাম যে, এ-ই হক। সহীহ, সহিহাহ ৪০৭, সহিহ আবু দাউদ ১৩৯১-১৩৯৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। শুআয়ব ইবন আবূ হামযা (রহঃ) এটিকে যুহরী-উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদূল্লাহ্ ইবন উৎবা-আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমরান কাত্তান (রহঃ) হাদীসটি মা’মার-যুহরী-আনাস ইবন মালিক-আবূ বকর (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মা’মার থেকে বর্ণিত রিওয়ায়তের মধ্যে রাবী ইমরান (রহঃ) এর ব্যাপারে বিরোধিতা রয়েছে।
নোট: * তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল আর কিছু যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জিজ্ঞাসা ছিল যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করে অথচ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলে তাদের বিরুদ্ধে কি জিহাদ করা যাবে?
হাদিস নং: ২৬০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن يعقوب الطالقاني، حدثنا ابن المبارك، اخبرنا حميد الطويل، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس حتى يشهدوا ان لا اله الا الله وان محمدا عبده ورسوله وان يستقبلوا قبلتنا وياكلوا ذبيحتنا وان يصلوا صلاتنا فاذا فعلوا ذلك حرمت علينا دماوهم واموالهم الا بحقها لهم ما للمسلمين وعليهم ما على المسلمين " . وفي الباب عن معاذ بن جبل وابي هريرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه . وقد رواه يحيى بن ايوب عن حميد عن انس نحو هذا .
২৬০৯. সাঈদ ইবন ইয়াকূব তালাকানী (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তারা আমাদের কিবলার অনুসরণ করে, আমাদের যবেহকৃত জীবের মাংস আহার করে, আমাদের সালাতের ন্যায় সালাত (নামায) আদায় করে। যদি তারা তা করে তা হলে আমাদের জন্য তাদের রক্ত ও সম্পদ হারাম। তবে শরীয়ত সম্মত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। অন্যান্য মুসলিমদের যা প্রাপ্য তাদেরও তা-ই হবে প্রাপ্য। অন্য মুসলিমদের উপর যে দায়িত্ব বর্তায় তাদের উপরও তা-ই বর্তাবে।
সহীহ, সহিহাহ ৩০৩ ও ১/১৫২, সহিহ আবু দাউদ ২৩৭৪, বুখারি অনুরূপ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মুআয ইবন জাবাল ও আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-হাসান-সহীহ এই সূত্রে গারীব। ইয়াহ্ইয়া ইবন আয়্যূব হুমায়দ (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ, সহিহাহ ৩০৩ ও ১/১৫২, সহিহ আবু দাউদ ২৩৭৪, বুখারি অনুরূপ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মুআয ইবন জাবাল ও আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-হাসান-সহীহ এই সূত্রে গারীব। ইয়াহ্ইয়া ইবন আয়্যূব হুমায়দ (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২৬১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن سعير بن الخمس التميمي، عن حبيب بن ابي ثابت، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بني الاسلام على خمس شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وصوم رمضان وحج البيت " . وفي الباب عن جرير بن عبد الله . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا . وسعير بن الخمس ثقة عند اهل الحديث .
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، عن حنظلة بن ابي سفيان الجمحي، عن عكرمة بن خالد المخزومي، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، عن حنظلة بن ابي سفيان الجمحي، عن عكرمة بن خالد المخزومي، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৬১০. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত (নামায) কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা, বায়তুল্লাহর হজ্জ করা। সহীহ, ইরওয়া ৭৮১, ঈমান আবী ’উবাইদ ২, রাওযুন নাযীর ২৭০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জারীর ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসবিদগণের কাছে সুআয়র ইবন খিমস ছিকা বা নির্ভরযোগ্য রাবী বলে গণ্য। আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এই বিষয়ে জারীর ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসবিদগণের কাছে সুআয়র ইবন খিমস ছিকা বা নির্ভরযোগ্য রাবী বলে গণ্য। আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৬১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عمار الحسين بن حريث الخزاعي، اخبرنا وكيع، عن كهمس بن الحسن، عن عبد الله بن بريدة، عن يحيى بن يعمر، قال اول من تكلم في القدر معبد الجهني قال فخرجت انا وحميد بن عبد الرحمن الحميري حتى اتينا المدينة فقلنا لو لقينا رجلا من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فسالناه عما احدث هولاء القوم . قال فلقيناه يعني عبد الله بن عمر وهو خارج من المسجد قال فاكتنفته انا وصاحبي قال فظننت ان صاحبي سيكل الكلام الى فقلت يا ابا عبد الرحمن ان قوما يقرءون القران ويتقفرون العلم ويزعمون ان لا قدر وان الامر انف قال فاذا لقيت اولىك فاخبرهم اني منهم بريء وانهم مني براء والذي يحلف به عبد الله لو ان احدهم انفق مثل احد ذهبا ما قبل ذلك منه حتى يومن بالقدر خيره وشره . قال ثم انشا يحدث فقال قال عمر بن الخطاب كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا يرى عليه اثر السفر ولا يعرفه منا احد حتى اتى النبي صلى الله عليه وسلم فالزق ركبته بركبته ثم قال يا محمد ما الايمان قال " ان تومن بالله وملاىكته وكتبه ورسله واليوم الاخر والقدر خيره وشره " . قال فما الاسلام قال " شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا عبده ورسوله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان " . قال فما الاحسان قال " ان تعبد الله كانك تراه فانك ان لم تكن تراه فانه يراك " . قال في كل ذلك يقول له صدقت . قال فتعجبنا منه يساله ويصدقه . قال فمتى الساعة قال " ما المسىول عنها باعلم من الساىل " . قال فما امارتها قال ان تلد الامة ربتها وان ترى الحفاة العراة العالة اصحاب الشاء يتطاولون في البنيان " . قال عمر فلقيني النبي صلى الله عليه وسلم بعد ذلك بثلاث فقال " يا عمر هل تدري من الساىل ذاك جبريل اتاكم يعلمكم معالم دينكم " .
حدثنا احمد بن محمد، اخبرنا ابن المبارك، اخبرنا كهمس بن الحسن، بهذا الاسناد نحوه .
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا معاذ بن معاذ، عن كهمس، بهذا الاسناد نحوه بمعناه . وفي الباب عن طلحة بن عبيد الله وانس بن مالك وابي هريرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح قد روي من غير وجه نحو هذا عن عمر . وقد روي هذا الحديث عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحيح هو ابن عمر عن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم .
حدثنا احمد بن محمد، اخبرنا ابن المبارك، اخبرنا كهمس بن الحسن، بهذا الاسناد نحوه .
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا معاذ بن معاذ، عن كهمس، بهذا الاسناد نحوه بمعناه . وفي الباب عن طلحة بن عبيد الله وانس بن مالك وابي هريرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح قد روي من غير وجه نحو هذا عن عمر . وقد روي هذا الحديث عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحيح هو ابن عمر عن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم .
২৬১১. আবূ আম্মার হুসায়ন ইবন হুরায়ছ খুযাঈ (রহঃ) ... ইয়াহ্ইয়া ইবন ইয়া’মুর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম মা’বাদ জুহানী’ কাদর মতবাদ’* সম্পর্কে কথা বলেন। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) বলেনঃ একবার আমি এবং হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান হিমায়ারী (হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে) বের হলাম। শেষে আমরা মদ্বীনয় আসলাম। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম যে, যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেতাম তবে এসব লোক যে নতুন মতবাদ প্রকাশ করছে সে বিষয়ে তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করতাম। (সৌভাগ্যক্রমে) আমরা তাঁর অর্থাৎ আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাক্ষাৎ পেলাম। তিনি তখন মসজিদে নববী থেকে বের হচ্ছিলেন। আমি এবং আমার সঙ্গী কথা বলার ভার আমার উপরই ন্যাস্ত করবেন। তাই) আমি আরম্ভ করলামঃ হে আবূ আবদুর রহমান! (আবদুল্লাহ্ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উপনাম) একদল লোক এমন আছে যারা কুরআন পাঠ করে, ইলম র্চচা করে বটে কিন্তু তারা মনে করে তাকদীর বলতে কিছুই নেই। সবকিছু তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটে।
তিনি বললেনঃ এদের সঙ্গে তোমার যখন সাক্ষাৎ হবে তখন বলে দিবে যে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এবং তারাও আমার সঙ্গে সম্পর্কহীন। যে সত্তার নামে আবদুল্লাহ্ কসম করে সেই সত্তার (আল্লাহ্ তা’আলা) কসম তাদের কেউ যদি উহূদ পাহাড় পরিমান স্বর্ণও আল্লাহর পথে ব্যয় করে তবুও তাকদীরের ভাল-মন্দ আল্লাহর থেকে ই হয় এই কথার উপর ঈমান না আনা পর্যন্ত তার কিছুই কবুল করা হবে না।
ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেনঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হাযির হল, তাঁর কাপড় ছিল সাদা ধবধবে আর চুল ছিল কাল কুচকুচে। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। কিন্তু আমাদের কেউই তাঁকে চিনতে পারছিল না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুই হাঁটুর সঙ্গে লাগিয়ে বসে পড়লেন। তারপর বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! ঈমান কি?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতা, কিতাব, রাসূলগণ এবং শেষ দিন ও তাকদীরের ভাল-মন্দ তাঁর পক্ষ থেকে ই হয় সেই কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।
লোকটি বললেনঃ ইসলাম কি?
তিনি বললেনঃ এই কথার সাক্ষ্য প্রদান যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল, সালাত (নামায) কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহর হজ্জ করা, রমযানের সিয়াম পালন করা।
লোকটি বললেনঃ ইহসান কি?
তিনি বললেনঃ এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে প্রত্যক্ষ করছ। যদি তুমি তাঁকে না-ও দেখ তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন।
উমর (রাঃ) বলেনঃ এই লোকটি প্রতিটি বিষয়েই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলছিল, ’আপনি ঠিক বলেছেন’। লোকটির এই আচরণে আমরা বিস্মিত বোধ করছিলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তা সত্যায়িত করছেন।
লোকটি বললেনঃ কিয়ামত কবে হবে?
রাসূলুল্লাহ বললেনঃ এই বিষয়ে প্রশ্নকর্তা অপেক্ষা জিজ্ঞাসিত জন অধিক অবহিত নন।
লোকটি বললেনঃ এর আলামত কি?
তিনি বললেনঃ তা হল, দাসী তার প্রভুর জননী হবে। আর খালি পা, খালি দেহ, দরিদ্র মেষ পালকদেরকে বিরাট বিরাট অট্রালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে।
উমর (রাঃ) বলেন, এর তিন দিন পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি বললেনঃ হে উমর! তুমি কি জানো এই প্রশ্নকারী কে? তিনি জিবরীল। তিনি তোমাদের দীনী বিষয়ে শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। -ইবনু মাজাহ ৬৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আহমদ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) কাহমাস ইবন হাসান (রহঃ) থেকে এই সনদে ই উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) কাহমাস (রহঃ) থেকে এই সনদে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্, আনাস ইবন মালিক ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদীসটি সহীহ-হাসান। একাধিক সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি ইবন উমর ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রেও বর্ণিত আছে। ইবন উমর ... উমর ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সনদটিই হল সহীহ।
তিনি বললেনঃ এদের সঙ্গে তোমার যখন সাক্ষাৎ হবে তখন বলে দিবে যে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এবং তারাও আমার সঙ্গে সম্পর্কহীন। যে সত্তার নামে আবদুল্লাহ্ কসম করে সেই সত্তার (আল্লাহ্ তা’আলা) কসম তাদের কেউ যদি উহূদ পাহাড় পরিমান স্বর্ণও আল্লাহর পথে ব্যয় করে তবুও তাকদীরের ভাল-মন্দ আল্লাহর থেকে ই হয় এই কথার উপর ঈমান না আনা পর্যন্ত তার কিছুই কবুল করা হবে না।
ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেনঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হাযির হল, তাঁর কাপড় ছিল সাদা ধবধবে আর চুল ছিল কাল কুচকুচে। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। কিন্তু আমাদের কেউই তাঁকে চিনতে পারছিল না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুই হাঁটুর সঙ্গে লাগিয়ে বসে পড়লেন। তারপর বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! ঈমান কি?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতা, কিতাব, রাসূলগণ এবং শেষ দিন ও তাকদীরের ভাল-মন্দ তাঁর পক্ষ থেকে ই হয় সেই কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।
লোকটি বললেনঃ ইসলাম কি?
তিনি বললেনঃ এই কথার সাক্ষ্য প্রদান যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল, সালাত (নামায) কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহর হজ্জ করা, রমযানের সিয়াম পালন করা।
লোকটি বললেনঃ ইহসান কি?
তিনি বললেনঃ এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে প্রত্যক্ষ করছ। যদি তুমি তাঁকে না-ও দেখ তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন।
উমর (রাঃ) বলেনঃ এই লোকটি প্রতিটি বিষয়েই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলছিল, ’আপনি ঠিক বলেছেন’। লোকটির এই আচরণে আমরা বিস্মিত বোধ করছিলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তা সত্যায়িত করছেন।
লোকটি বললেনঃ কিয়ামত কবে হবে?
রাসূলুল্লাহ বললেনঃ এই বিষয়ে প্রশ্নকর্তা অপেক্ষা জিজ্ঞাসিত জন অধিক অবহিত নন।
লোকটি বললেনঃ এর আলামত কি?
তিনি বললেনঃ তা হল, দাসী তার প্রভুর জননী হবে। আর খালি পা, খালি দেহ, দরিদ্র মেষ পালকদেরকে বিরাট বিরাট অট্রালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে।
উমর (রাঃ) বলেন, এর তিন দিন পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি বললেনঃ হে উমর! তুমি কি জানো এই প্রশ্নকারী কে? তিনি জিবরীল। তিনি তোমাদের দীনী বিষয়ে শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। -ইবনু মাজাহ ৬৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আহমদ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) কাহমাস ইবন হাসান (রহঃ) থেকে এই সনদে ই উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) কাহমাস (রহঃ) থেকে এই সনদে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্, আনাস ইবন মালিক ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদীসটি সহীহ-হাসান। একাধিক সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি ইবন উমর ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রেও বর্ণিত আছে। ইবন উমর ... উমর ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সনদটিই হল সহীহ।
নোট: * তাকদীর অস্বীকার করা বিষয়ক মতবাদ।
হাদিস নং: ২৬১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عباد بن عباد المهلبي، عن ابي جمرة، عن ابن عباس، قال قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا انا هذا الحى من ربيعة ولسنا نصل اليك الا في اشهر الحرام فمرنا بشيء ناخذه عنك وندعو اليه من وراءنا . فقال " امركم باربع الايمان بالله ثم فسرها لهم شهادة ان لا اله الا الله واني رسول الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وان تودوا خمس ما غنمتم " .
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن ابي جمرة، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وابو جمرة الضبعي اسمه نصر بن عمران . وقد رواه شعبة عن ابي جمرة ايضا وزاد فيه اتدرون ما الايمان شهادة ان لا اله الا الله واني رسول الله وذكر الحديث . سمعت قتيبة بن سعيد يقول ما رايت مثل هولاء الاشراف الاربعة مالك بن انس والليث بن سعد وعباد بن عباد المهلبي وعبد الوهاب الثقفي . قال قتيبة كنا نرضى ان نرجع من عند عباد كل يوم بحديثين وعباد بن عباد هو من ولد المهلب بن ابي صفرة .
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن ابي جمرة، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وابو جمرة الضبعي اسمه نصر بن عمران . وقد رواه شعبة عن ابي جمرة ايضا وزاد فيه اتدرون ما الايمان شهادة ان لا اله الا الله واني رسول الله وذكر الحديث . سمعت قتيبة بن سعيد يقول ما رايت مثل هولاء الاشراف الاربعة مالك بن انس والليث بن سعد وعباد بن عباد المهلبي وعبد الوهاب الثقفي . قال قتيبة كنا نرضى ان نرجع من عند عباد كل يوم بحديثين وعباد بن عباد هو من ولد المهلب بن ابي صفرة .
২৬১২. কুতায়বা (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল কায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো। তারা বললঃ আমরা রাবীআ গোত্রের লোক। শাহরুল হারাম* ছাড়া আমরা আপনার কাছে আসতে পারি না। সুতরাং আমাদেরকে এমন কাজের আদেশ দিন যা আমরা নিজেরাও ধারণ করতে পারি এবং যারা আমাদেরকেও সেগুলোর দাওয়াত দিতে পারি।
তিনি বললেনঃ তোমাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। এরপর তিনি এর বিবরণ দিয়ে বললেনঃ এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূর, সালাত (নামায) কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, আর তোমরা গণিমত হিসাবে যা লাভ কর এর পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রদান করবে।
সহীহ, ঈমান আবী উবাইদ, পৃঃ ৫৮-৫৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ জামরা আয-যুবাঈ (রহঃ) এর নাম হল নাসর ইবন ইমরান। শু’বা (রহঃ)-ও আবূ জামরা (রহঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে আরো, তোমরা কি জান, ঈমান কি? এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল। এরপর তিনি পুরো হাদীসটির উল্লেখ করেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, আমি কুতায়বা ইবন সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, এই চার জন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ফকীহের মত কাউকে আমি দেখিনি- মালিক ইবন আনাস, লায়ছ ইবন সা’দ, আব্বাদ মুহাল্লাবী এবং আবদুল ওয়াহহাব ছাকাফী (রহঃ)। কুতায়বা (রহঃ) আরো বলেন, আমরা এতে সন্তুষ্ট যে, আব্বাদ ইবন আব্বাদ (রহঃ) এর নিকট থেকে প্রতিদিন দু’টো হাদীস সংগ্রহ করে ফিরে আসব। আব্বাস ইবন আব্বাদ (রহঃ) হলেন মুহাল্লাব ইবন আবূ সুফরা-এর বংশের একজন।
তিনি বললেনঃ তোমাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। এরপর তিনি এর বিবরণ দিয়ে বললেনঃ এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূর, সালাত (নামায) কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, আর তোমরা গণিমত হিসাবে যা লাভ কর এর পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রদান করবে।
সহীহ, ঈমান আবী উবাইদ, পৃঃ ৫৮-৫৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ জামরা আয-যুবাঈ (রহঃ) এর নাম হল নাসর ইবন ইমরান। শু’বা (রহঃ)-ও আবূ জামরা (রহঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে আরো, তোমরা কি জান, ঈমান কি? এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল। এরপর তিনি পুরো হাদীসটির উল্লেখ করেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, আমি কুতায়বা ইবন সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, এই চার জন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ফকীহের মত কাউকে আমি দেখিনি- মালিক ইবন আনাস, লায়ছ ইবন সা’দ, আব্বাদ মুহাল্লাবী এবং আবদুল ওয়াহহাব ছাকাফী (রহঃ)। কুতায়বা (রহঃ) আরো বলেন, আমরা এতে সন্তুষ্ট যে, আব্বাদ ইবন আব্বাদ (রহঃ) এর নিকট থেকে প্রতিদিন দু’টো হাদীস সংগ্রহ করে ফিরে আসব। আব্বাস ইবন আব্বাদ (রহঃ) হলেন মুহাল্লাব ইবন আবূ সুফরা-এর বংশের একজন।
নোট: * আশ-শাহরুল হারাম-সম্মানিত নিষিদ্ধ মাসসমূহ যুলকাদ, যুলহাজ্জ, মুহররম, রজব এই চারটি মাসে রক্তপাত ও যুদ্ধ নিষিদ্ধ কাল। জাহিলী যুগের কাফিররাও তা মেনে চলত।
হাদিস নং: ২৬১৩
যঈফ (Dai'f)
حدثنا احمد بن منيع البغدادي، حدثنا اسماعيل ابن علية، حدثنا خالد الحذاء، عن ابي قلابة، عن عاىشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان من اكمل المومنين ايمانا احسنهم خلقا والطفهم باهله " . وفي الباب عن ابي هريرة وانس بن مالك . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . ولا نعرف لابي قلابة سماعا من عاىشة . وقد روى ابو قلابة عن عبد الله بن يزيد رضيع لعاىشة عن عاىشة غير هذا الحديث وابو قلابة اسمه عبد الله بن زيد الجرمي . حدثنا ابن ابي عمر حدثنا سفيان بن عيينة قال ذكر ايوب السختياني ابا قلابة فقال كان والله من الفقهاء ذوي الالباب .
২৬১৩. আহমদ ইবন মানী’ আল-বাগদাদী (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের দিক থেকে পরিপূর্ণ মু’মিন ব্যক্তি হল সে ব্যক্তি যার আখলাক ও চরিত্র সুন্দর এবং যে ব্যক্তি স্বীয় পরিবারের প্রতি অধিক দয়ার্দ্র। যঈফ, সহীহাহ ২৮৪ হাদীসের আওতায়, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান। আবূ কিলাবা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে সরাসরি হাদীস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবূ কিলাবা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) এর দুধ ভাই আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ-এর বরাতে আয়িশা (রাঃ) থেকে অন্যান্য হাদীস রিওয়ায়ত করেছেন। আবূ কিলাবা (রহঃ) এর নাম হল আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ আল-জারমী (রহঃ)।
ইবন আবূ উমর (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, সুফইয়ান ইবন উওয়ায়না (রহঃ) বলেন, আয়্যূব আস-সিখতিয়ানী (রহঃ) আবূ কিলাবা (রহঃ) এর আলোচনার প্রসঙ্গে বলেছেন। আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন, প্রজ্ঞাবান ফকীহগণের একজন।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান। আবূ কিলাবা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে সরাসরি হাদীস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবূ কিলাবা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) এর দুধ ভাই আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ-এর বরাতে আয়িশা (রাঃ) থেকে অন্যান্য হাদীস রিওয়ায়ত করেছেন। আবূ কিলাবা (রহঃ) এর নাম হল আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ আল-জারমী (রহঃ)।
ইবন আবূ উমর (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, সুফইয়ান ইবন উওয়ায়না (রহঃ) বলেন, আয়্যূব আস-সিখতিয়ানী (রহঃ) আবূ কিলাবা (রহঃ) এর আলোচনার প্রসঙ্গে বলেছেন। আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন, প্রজ্ঞাবান ফকীহগণের একজন।
হাদিস নং: ২৬১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عبد الله، هريم بن مسعر الازدي الترمذي حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب الناس فوعظهم ثم قال " يا معشر النساء تصدقن فانكن اكثر اهل النار " . فقالت امراة منهن ولم ذاك يا رسول الله قال " لكثرة لعنكن " . يعني وكفركن العشير . قال " وما رايت من ناقصات عقل ودين اغلب لذوي الالباب وذوي الراى منكن " . قالت امراة منهن وما نقصان دينها وعقلها قال " شهادة امراتين منكن بشهادة رجل ونقصان دينكن الحيضة تمكث احداكن الثلاث والاربع لا تصلي " . وفي الباب عن ابي سعيد وابن عمر . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح غريب حسن من هذا الوجه .
২৬১৪. আবূ আবদুল্লাহ্ হুরায়ম ইবন মিসআর আযদী তিরমিযী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসম্মুখে ভাষণ দিলেন এবং নসীহত করলেনঃ হে নারী সম্প্রদায়! তোমরা সাদকা কর। কেননা, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা হলে তোমরা। তখন তাদের মধ্য থেকে জনৈক মহিলা বললেনঃ তা কেন? হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে অভিসম্পাতের আধিক্যহেতু, অর্থাৎ তোমাদের জীবন সঙ্গীর অনুগ্রহ অঙ্গীকার করার দরুন।
তিনি আরো বললেনঃ মেধা ও দীনের দিক থেকে কম হওয়া সত্ত্বেও প্রজ্ঞাবান এবং বিবেচনার অধিকারীদের উপর প্রবল হতে তোমাদের চেয়ে বেশী পারঙ্গম আর কাউকে আমি দেখিনি। জনৈক মহিলা বললেনঃ তাদের মেধা ও দীনের ঘাটতি কি? তিনি বললেনঃ তোমাদের দুই জন মহিলার সাক্ষ্য একজন তিন দিন-চার দিন অতিবাহিত করে অথচ সে কোন সালাত (নামায) আদায় করতে পারে না। সহীহ, ইরওয়া ১/২০৫, আযযিলাল ৯৫৬, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ ও ইবন উমর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
তিনি আরো বললেনঃ মেধা ও দীনের দিক থেকে কম হওয়া সত্ত্বেও প্রজ্ঞাবান এবং বিবেচনার অধিকারীদের উপর প্রবল হতে তোমাদের চেয়ে বেশী পারঙ্গম আর কাউকে আমি দেখিনি। জনৈক মহিলা বললেনঃ তাদের মেধা ও দীনের ঘাটতি কি? তিনি বললেনঃ তোমাদের দুই জন মহিলার সাক্ষ্য একজন তিন দিন-চার দিন অতিবাহিত করে অথচ সে কোন সালাত (নামায) আদায় করতে পারে না। সহীহ, ইরওয়া ১/২০৫, আযযিলাল ৯৫৬, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ ও ইবন উমর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৬১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن سهيل بن ابي صالح، عن عبد الله بن دينار، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الايمان بضع وسبعون بابا فادناها اماطة الاذى عن الطريق وارفعها قول لا اله الا الله " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وهكذا روى سهيل بن ابي صالح عن عبد الله بن دينار عن ابي صالح عن ابي هريرة .
وروى عمارة بن غزية، هذا الحديث عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الايمان اربعة وستون بابا " . قال حدثنا بذلك قتيبة حدثنا بكر بن مضر عن عمارة بن غزية عن ابي صالح عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
وروى عمارة بن غزية، هذا الحديث عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الايمان اربعة وستون بابا " . قال حدثنا بذلك قتيبة حدثنا بكر بن مضر عن عمارة بن غزية عن ابي صالح عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
২৬১৫. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের দরজা হল সত্তর এবং আরো কিছু। এর সর্বনিম্ন দরজা হল পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্ত দূর করা আর সর্বোচ্চ হল ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্বীকার করা। সহীহ, সহিহাহ ১৩৬৯, বুখারির বর্ণনায় ষাটের অধিক এবং মুসলিমের বর্ণনায় সত্তরের অধিক উল্লেখ আছে। আর এটাই অগ্রগণ্য। তাখরিজুল ঈমান ২১/৬৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুহায়ল ইবন আবূ সালিহ (রহঃ) এটিকে আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার-আবূ সালিহ-আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। উমারা ইবন গাযীয়্যা (রহঃ) হাদীসটি আবূ সালিহ-আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈমানের হল চৌষট্রিটি দরজা। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুহায়ল ইবন আবূ সালিহ (রহঃ) এটিকে আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার-আবূ সালিহ-আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। উমারা ইবন গাযীয়্যা (রহঃ) হাদীসটি আবূ সালিহ-আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈমানের হল চৌষট্রিটি দরজা। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৬১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، واحمد بن منيع، - المعنى واحد قالا حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر برجل وهو يعظ اخاه في الحياء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الحياء من الايمان " . قال احمد بن منيع في حديثه ان النبي صلى الله عليه وسلم سمع رجلا يعظ اخاه في الحياء . قال هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن ابي هريرة وابي بكرة وابي امامة .
২৬১৬. ইবন আবূ উমর ও আহমদ ইবন মানী (রহঃ) ..... সালিম তৎপিতা ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে ব্যক্তি তার এক ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে নসীহত করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।
ইবনু মাজাহ ৫৮, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) এর বর্ণনায় আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে নসীহত করতে শুনতে পেলেন। হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
ইবনু মাজাহ ৫৮, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) এর বর্ণনায় আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে নসীহত করতে শুনতে পেলেন। হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৬১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا عبد الله بن معاذ الصنعاني، عن معمر، عن عاصم بن ابي النجود، عن ابي واىل، عن معاذ بن جبل، قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فاصبحت يوما قريبا منه ونحن نسير فقلت يا رسول الله اخبرني بعمل يدخلني الجنة ويباعدني من النار . قال " لقد سالتني عن عظيم وانه ليسير على من يسره الله عليه تعبد الله ولا تشرك به شيىا وتقيم الصلاة وتوتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت " . ثم قال " الا ادلك على ابواب الخير الصوم جنة والصدقة تطفى الخطيىة كما يطفى الماء النار وصلاة الرجل من جوف الليل " . قال ثم تلا: ( تتجافى جنوبهم عن المضاجع ) حتى بلغ: (يعملون) ثم قال " الا اخبرك براس الامر كله وعموده وذروة سنامه " . قلت بلى يا رسول الله . قال " راس الامر الاسلام وعموده الصلاة وذروة سنامه الجهاد " . ثم قال " الا اخبرك بملاك ذلك كله " . قلت بلى يا نبي الله قال فاخذ بلسانه قال " كف عليك هذا " . فقلت يا نبي الله وانا لمواخذون بما نتكلم به فقال " ثكلتك امك يا معاذ وهل يكب الناس في النار على وجوههم او على مناخرهم الا حصاىد السنتهم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৬১৭. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। একদিন চলার সময় আমি তাঁর নিকটবর্তী হয়ে গেলাম। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে জান্নাতে দাখিল করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দিবে।
তিনি বললেনঃ তুমি তো বিরাট একটা বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তবে আল্লাহ্ তা’আলা যার জন্য তা সহজ করে দেন তার জন্য বিষয়টি অবশ্য সহজ। আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সঙ্গে কোন কিছু শরীক করবে না। সালাত (নামায) কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে, বায়তুল্লাহর হজ্জ করবে।
এরপর তিনি বললেনঃ সব কল্যাণের দ্বার সম্পর্কে কি আমি তোমাকে দিক-নির্দেশনা দিব? সিয়াম হল ঢালস্বরূপ, পানি যেমন আগুন নিভিয়ে দেয় তেমনি সাদকা ও গুনাহসমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, আর হল মধ্য রাতের সালাত (নামায)।
এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ তারা (মু’মিনরা গভীর রাতে) শয্যা ত্যাগ করে তাদের পরওয়ারদিগারকে ডাকে আশায় ও আশংকায় এবং আমি তাদের যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন সুখকর কী লূকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ। (সাজদা ৩২ঃ ১৬-১৭)
তারপর বললেনঃ তোমাকে এই সব কিছুর মাথা ও বুনিয়াদ এবং সর্বোচ্চ শীর্ষদেশ স্বরূপ আমল সম্পর্কে অবহিত করব কি?
এরপর বললেনঃ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ্!
তিনি বললেনঃ সব কিছুর মাথা হল ইসলাম, বুনিয়াদ হল সালাত (নামায) আর সর্বোচ্চ শীর্ষ হল জিহাদ।
এরপর বললেনঃ এ সব কিছুর মূল পুঁজি সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করব কি?
আমি বললামঃ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ্!
তিনি তাঁর জিহ্বা ধরে বললেনঃ এটিকে সংযত রাখ।
আমি বললামঃ হে আল্লাহ্র নবী, আমরা যে কথাবর্তা বলি সেই কারণেও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে?
তিনি বললেনঃ তোমাদের মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক,* হে মু’আয! লোকদের অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ্ত হওয়ার জন্য এই যবানের কামাই ছাড়া আর কি কিছু আছে নাকি?
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
তিনি বললেনঃ তুমি তো বিরাট একটা বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তবে আল্লাহ্ তা’আলা যার জন্য তা সহজ করে দেন তার জন্য বিষয়টি অবশ্য সহজ। আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সঙ্গে কোন কিছু শরীক করবে না। সালাত (নামায) কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে, বায়তুল্লাহর হজ্জ করবে।
এরপর তিনি বললেনঃ সব কল্যাণের দ্বার সম্পর্কে কি আমি তোমাকে দিক-নির্দেশনা দিব? সিয়াম হল ঢালস্বরূপ, পানি যেমন আগুন নিভিয়ে দেয় তেমনি সাদকা ও গুনাহসমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, আর হল মধ্য রাতের সালাত (নামায)।
এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ তারা (মু’মিনরা গভীর রাতে) শয্যা ত্যাগ করে তাদের পরওয়ারদিগারকে ডাকে আশায় ও আশংকায় এবং আমি তাদের যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন সুখকর কী লূকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ। (সাজদা ৩২ঃ ১৬-১৭)
তারপর বললেনঃ তোমাকে এই সব কিছুর মাথা ও বুনিয়াদ এবং সর্বোচ্চ শীর্ষদেশ স্বরূপ আমল সম্পর্কে অবহিত করব কি?
এরপর বললেনঃ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ্!
তিনি বললেনঃ সব কিছুর মাথা হল ইসলাম, বুনিয়াদ হল সালাত (নামায) আর সর্বোচ্চ শীর্ষ হল জিহাদ।
এরপর বললেনঃ এ সব কিছুর মূল পুঁজি সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করব কি?
আমি বললামঃ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ্!
তিনি তাঁর জিহ্বা ধরে বললেনঃ এটিকে সংযত রাখ।
আমি বললামঃ হে আল্লাহ্র নবী, আমরা যে কথাবর্তা বলি সেই কারণেও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে?
তিনি বললেনঃ তোমাদের মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক,* হে মু’আয! লোকদের অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ্ত হওয়ার জন্য এই যবানের কামাই ছাড়া আর কি কিছু আছে নাকি?
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
নোট: * একটি বাক রীতি। কোন কথার গুরুত্ব বুঝাতে এবং শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণার্থে এই বাক-ভঙ্গিমা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
হাদিস নং: ২৬১৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا عبد الله بن وهب، عن عمرو بن الحارث، عن دراج ابي السمح، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا رايتم الرجل يتعاهد المسجد فاشهدوا له بالايمان فان الله تعالى يقول: (انما يعمر مساجد الله من امن بالله واليوم الاخر واقام الصلاة واتى الزكاة) " . الاية . قال ابو عيسى هذا حديث غريب حسن .
২৬১৮. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাউকে যদি মসজিদের প্রতি মনোযোগী ও রক্ষণাবেক্ষণশীল দেখতে পাও তবে তার ঈমানের সাক্ষ্য দিতে পার। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ
তারাই তো আল্লাহর মসজিদসমূহের আবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাত দিবসে ঈমান আনে এবং সালাত (নামায) কায়েম করে। যাকাত দেয় (তওবা ৯ঃ১৮)
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৮০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ
তারাই তো আল্লাহর মসজিদসমূহের আবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাত দিবসে ঈমান আনে এবং সালাত (নামায) কায়েম করে। যাকাত দেয় (তওবা ৯ঃ১৮)
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৮০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৬১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا جرير، وابو معاوية عن الاعمش، عن ابي سفيان، عن جابر، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " بين الكفر والايمان ترك الصلاة " .
২৬১৯. কুতায়বা (রহঃ) ...... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান ও কুফরের ব্যবধান হল সালাত (নামায) পরিত্যাগ করা।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১০৭৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১০৭৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৬২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا اسباط بن محمد، عن الاعمش، بهذا الاسناد نحوه وقال " بين العبد وبين الشرك او الكفر ترك الصلاة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وابو سفيان اسمه طلحة بن نافع .
২৬২০. হান্নাদ (রহঃ) ..... আ’মাশ (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ বান্দা ও শিরক বা কুফরের মাঝে ব্যবধান হল সালাত (নামায) পরিত্যাগ করা।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ সুফইয়ান (রহঃ) এর নাম হল তালহা ইবন নাফি’।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ সুফইয়ান (রহঃ) এর নাম হল তালহা ইবন নাফি’।
হাদিস নং: ২৬২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن ابي الزبير، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بين العبد وبين الكفر ترك الصلاة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وابو الزبير اسمه محمد بن مسلم بن تدرس .
২৬২১. হান্নাদ (রহঃ) ..... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা ও কুফরের মাঝে ব্যবধান হল সালাত (নামায) পরিত্যাগ করা। সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ যুবায়র (রহঃ) এর নাম হল মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন তাদরুস।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ যুবায়র (রহঃ) এর নাম হল মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন তাদরুস।
হাদিস নং: ২৬২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عمار الحسين بن حريث، ويوسف بن عيسى، قالا حدثنا الفضل بن موسى، عن الحسين بن واقد، ح وحدثنا ابو عمار الحسين بن حريث، ومحمود بن غيلان، قالا حدثنا علي بن الحسين بن واقد، عن ابيه، ح وحدثنا محمد بن علي بن الحسن بن شقيق، ومحمود بن غيلان، قالا حدثنا علي بن الحسن بن شقيق، عن الحسين بن واقد، عن عبد الله بن بريدة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر " . وفي الباب عن انس وابن عباس . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
২৬২২. আবূ আম্মার হুসায়ন ইবন হুরায়স ও ইউসুফ ইবন ঈসা (রহঃ) ... হুসায়ন ইবন ওয়াকিদ (রহঃ) থেকে (অনুরূপ) বর্ণিত আছে। আবূ আম্মার ও মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) আলী ইবন হুসায়ন ইবন ওয়াকিদ ... তৎপিতা হুসায়ন ইবন ওয়াকিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে।
মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন হাসান শাকীকী ও মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন বুরায়দা তৎপিতা বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মুনাফিকদের জান-মাল রক্ষার জন্য) তাদের ও আমাদের মাঝে চুক্তির শর্ত হল সালাত (নামায)। যে ব্যক্তি সালাত (নামায) পরিত্যাগ করল সে কুফরী করল।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১০৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আনাস ও ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন হাসান শাকীকী ও মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন বুরায়দা তৎপিতা বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মুনাফিকদের জান-মাল রক্ষার জন্য) তাদের ও আমাদের মাঝে চুক্তির শর্ত হল সালাত (নামায)। যে ব্যক্তি সালাত (নামায) পরিত্যাগ করল সে কুফরী করল।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১০৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আনাস ও ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ২৬২৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا بشر بن المفضل، عن الجريري، عن عبد الله بن شقيق العقيلي، قال كان اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم لا يرون شيىا من الاعمال تركه كفر غير الصلاة . قال ابو عيسى سمعت ابا مصعب المدني يقول من قال الايمان قول يستتاب فان تاب والا ضربت عنقه .
২৬২৩. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন শাকীক উকায়লী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ সালাত (নামায) ছাড়া অন্য কোন আমল পরিত্যাগ করা কুফরী বলে মনে করতেন না।
সহীহ, সহিহুত তারগীব ১/২২৭-৫৬৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সহীহ, সহিহুত তারগীব ১/২২৭-৫৬৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৬২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن الهاد، عن محمد بن ابراهيم بن الحارث، عن عامر بن سعد بن ابي وقاص، عن العباس بن عبد المطلب، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ذاق طعم الايمان من رضي بالله ربا وبالاسلام دينا وبمحمد نبيا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৬২৪. কুতায়বা (রহঃ) ...... আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহ্কে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসাবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিল সে ঈমানের স্বাদ পেল। সহীহ, মুসলিম ১/৪৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস নং: ২৬২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، عن ايوب، عن ابي قلابة، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ثلاث من كن فيه وجد بهن طعم الايمان من كان الله ورسوله احب اليه مما سواهما وان يحب المرء لا يحبه الا لله وان يكره ان يعود في الكفر بعد اذ انقذه الله منه كما يكره ان يقذف في النار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد رواه قتادة عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم .
২৬২৫. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান সে ঈমানের স্বাদ পায়। যার কাছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয়, যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই একজনকে ভালবাসে এবং সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ্ তা’আলা কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর সেই দিকে ফিরে যাওয়াকে তেমনিভাবে ঘৃণা করে যেমনিভাবে আগুনে নিক্ষেপ্ত হওয়াকে সে ঘৃণা করে। -ইবনু মাজাহ ৪০৩৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। কাতাদা (রহঃ) এটি আনাস ইবন মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। কাতাদা (রহঃ) এটি আনাস ইবন মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২৬২৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا عبيدة بن حميد، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا يزني الزاني حين يزني وهو مومن ولا يسرق السارق حين يسرق وهو مومن ولكن التوبة معروضة " . وفي الباب عن ابن عباس وعاىشة وعبد الله بن ابي اوفى . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه . - وقد روي عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا زنى العبد خرج منه الايمان فكان فوق راسه كالظلة فاذا خرج من ذلك العمل عاد اليه الايمان " . وقد روي عن ابي جعفر محمد بن علي انه قال في هذا خرج من الايمان الى الاسلام . وقد روي من غير وجه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال في الزنا والسرقة " من اصاب من ذلك شيىا فاقيم عليه الحد فهو كفارة ذنبه ومن اصاب من ذلك شيىا فستر الله عليه فهو الى الله ان شاء عذبه يوم القيامة وان شاء غفر له " . روى ذلك علي بن ابي طالب وعبادة بن الصامت وخزيمة بن ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم .
২৬২৬. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মু’মিন থাকে না। চোর চুরি করা অবস্থায় মু’মিন থাকে না, তবে তখনও তওবার অবকাশ থাকে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৯৩৬, বুখারি ও মুসলিম।
এই বিষয়ে ইবন আব্বাস, আয়িশা এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ আওফা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ কোন বান্দা যখন যিনা করে তখন তার ভিতর থেকে ঈমান বের হয়ে যায় এবং যেন ছায়ার মত তার মাথার উপর অবস্থান করে। এই দুষ্কর্ম থেকে যখন সেই ব্যক্তি সরে আসে তখন পুনর্বার ঈমান তার কাছে ফিরে আসে।
আবূ জা’ফর মুহাম্মাদ ইবন আলী (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ এই সব ক্ষেত্রে ঈমানের স্তর থেকে বেরিয়ে ইসলামের স্তরে সে চলে আসে।
একাধিক সূত্রে যিনা ও চুরি প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, কেউ যদি এই সব পাপ কর্মে লিপ্ত হয় এবং তার উপর হদ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে গিয়ে থাকে তবে তা-ই এই ব্যক্তির গুনাহের জন্য কাফফারা বলে গণ্য হবে। আর কেউ যদি এই সব গুনাহে আপতিত হয় আর আল্লাহ্ তা’আলা তা গোপন রাখেন তবে তা আল্লাহর উপরই ন্যাস্ত। ইচ্ছা করলে কিয়ামতের দিন তাকে আযাবও দিতে পারেন আর ইচ্ছা করলে মাফও করে দিতে পারেন।
সহীহ, সহিহাহ ২৩১৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আলী ইবন আবূ তালিব, উবাদা ইবন সামিত ও খুযায়মা ইবন ছাবিত (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মের হাদিস বর্ণিত আছে।
এই বিষয়ে ইবন আব্বাস, আয়িশা এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ আওফা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ কোন বান্দা যখন যিনা করে তখন তার ভিতর থেকে ঈমান বের হয়ে যায় এবং যেন ছায়ার মত তার মাথার উপর অবস্থান করে। এই দুষ্কর্ম থেকে যখন সেই ব্যক্তি সরে আসে তখন পুনর্বার ঈমান তার কাছে ফিরে আসে।
আবূ জা’ফর মুহাম্মাদ ইবন আলী (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ এই সব ক্ষেত্রে ঈমানের স্তর থেকে বেরিয়ে ইসলামের স্তরে সে চলে আসে।
একাধিক সূত্রে যিনা ও চুরি প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, কেউ যদি এই সব পাপ কর্মে লিপ্ত হয় এবং তার উপর হদ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে গিয়ে থাকে তবে তা-ই এই ব্যক্তির গুনাহের জন্য কাফফারা বলে গণ্য হবে। আর কেউ যদি এই সব গুনাহে আপতিত হয় আর আল্লাহ্ তা’আলা তা গোপন রাখেন তবে তা আল্লাহর উপরই ন্যাস্ত। ইচ্ছা করলে কিয়ামতের দিন তাকে আযাবও দিতে পারেন আর ইচ্ছা করলে মাফও করে দিতে পারেন।
সহীহ, সহিহাহ ২৩১৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আলী ইবন আবূ তালিব, উবাদা ইবন সামিত ও খুযায়মা ইবন ছাবিত (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মের হাদিস বর্ণিত আছে।