হাদিস নং: ৩৩১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا عبد الله بن جعفر، حدثني ثور بن زيد الديلي، عن ابي الغيث، عن ابي هريرة، قال كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم حين انزلت سورة الجمعة فتلاها فلما بلغ : ( واخرين منهم لما يلحقوا بهم ) قال له رجل يا رسول الله من هولاء الذين لم يلحقوا بنا فلم يكلمه قال وسلمان الفارسي فينا قال فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده على سلمان فقال " والذي نفسي بيده لو كان الايمان بالثريا لتناوله رجال من هولاء " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب وقد روي هذا الحديث عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه . وعبد الله بن جعفر هو والد علي بن المديني ضعفه يحيى بن معين .
৩৩১০. আলী ইবনে হুজর (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যখন সূরা জুম’আ নাযিল হয় তখন আমরা রাসুলুল্লাহ এর কাছে ছিলাম। তিনি আমাদের তা তেলাওয়াত করে শুনালেন। (وآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ) এবং তাদের অন্যান্যদের জন্যও (তিনি এই রাসূলকে পাঠিয়েছেন) যারা এখন তাদের সঙ্গে মিলিত হয় নাই। (সূরা জুম’আ ৬২ঃ ৩) আয়াতটিতে পৌছলে জনৈক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা কারা যারা এখনও আমাদের সঙ্গে মিলিত হয় নি?
তিনি এ ব্যাপারে কিছু বললেন না। রাবী বলেনঃ আমাদেও মাঝে সে সময় সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর তার হাত রাখলেন এবং বললেন সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ ঈমান যদি সূরাইয়্যা নক্ষত্রেও চলে যায়, তাদের কিছু লোক সেখান থেকেও তা নিয়ে আসবে।
সহীহ, সহীহ হাদিস সিরিজ ১০১৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণিত আছে। রাবী আবুল গায়স (রহঃ) এর নাম হল সালিম। তিনি আবদুল্লাহ ইবন মুতী এর আযাদকৃত গোলাম। ছওর ইবন যায়দ (রহঃ) হলেন মাদানী। ছওর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) হলেন শামদেশীয়। হাদীসটি গারীব। আবদুল্লাহ ইবন জাফ’র (রহঃ) হলেন আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) এর পিতা। ইয়াহইয়া ইবন মাঈন তাকে যঈফ বলেছেন।
তিনি এ ব্যাপারে কিছু বললেন না। রাবী বলেনঃ আমাদেও মাঝে সে সময় সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর তার হাত রাখলেন এবং বললেন সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ ঈমান যদি সূরাইয়্যা নক্ষত্রেও চলে যায়, তাদের কিছু লোক সেখান থেকেও তা নিয়ে আসবে।
সহীহ, সহীহ হাদিস সিরিজ ১০১৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণিত আছে। রাবী আবুল গায়স (রহঃ) এর নাম হল সালিম। তিনি আবদুল্লাহ ইবন মুতী এর আযাদকৃত গোলাম। ছওর ইবন যায়দ (রহঃ) হলেন মাদানী। ছওর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) হলেন শামদেশীয়। হাদীসটি গারীব। আবদুল্লাহ ইবন জাফ’র (রহঃ) হলেন আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) এর পিতা। ইয়াহইয়া ইবন মাঈন তাকে যঈফ বলেছেন।
হাদিস নং: ৩৩১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، اخبرنا حصين، عن ابي سفيان، عن جابر، قال بينما النبي صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة قاىما اذ قدمت عير المدينة فابتدرها اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى لم يبق منهم الا اثنا عشر رجلا فيهم ابو بكر وعمر ونزلت الاية : ( واذا راوا تجارة او لهوا انفضوا اليها وتركوك قاىما ) . قال هذا حديث حسن صحيح .
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، اخبرنا حصين، عن سالم بن ابي الجعد، عن جابر، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، اخبرنا حصين، عن سالم بن ابي الجعد، عن جابر، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩৩১১. আহমদ ইবন মানী (রহঃ) .... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে জুমা’আর খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় মদীনার তেজরতী কাফেলার আগমন ঘটে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীরা তখন সে দিকে দ্রুত ছুটে জান। তাদের মধ্য থেকে বারোজন ছাড়া আর কেউ বকী থাকলেনা। এদের মধ্যে আবু বকর, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অন্যতম। এই প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ (وإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا) - যখন তারা দেখল কোন তেজারত বা কোন কৌতুককর বিষয় তখন তারা সে দিকে চুটে গেল। (সূরা জুম’আ ৬২ঃ ১৯)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আহমদ ইবন মানী (রহঃ) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আহমদ ইবন মানী (রহঃ) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩৩১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراىيل، عن ابي اسحاق، عن زيد بن ارقم، قال كنت مع عمي فسمعت عبد الله بن ابى ابن سلول، يقول لاصحابه : ( لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) و (لىن رجعنا الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل ) فذكرت ذلك لعمي فذكر ذلك عمي للنبي صلى الله عليه وسلم فدعاني النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته فارسل رسول الله صلى الله عليه وسلم الى عبد الله بن ابى واصحابه فحلفوا ما قالوا فكذبني رسول الله صلى الله عليه وسلم وصدقه فاصابني شيء لم يصبني قط مثله فجلست في البيت فقال عمي ما اردت الا ان كذبك رسول الله صلى الله عليه وسلم ومقتك فانزل الله تعالى : ( اذا جاءك المنافقون ) فبعث الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقراها ثم قال " ان الله قد صدقك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩৩১২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি আমার চাচার কাছে ছিলাম। এমন সময় শুনলাম আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল তার সঙ্গিদের বলছেঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের কিছু দিবে না যতক্ষন না তারা (তাঁকে ছেড়ে) সরে পড়ে। আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে প্রবলরা দুর্বলদের (মুসলিমদের) আবশ্যই বের করে দেবে।
আমি আমার চাচার কাছে এ কথাটি বললাম। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি গোচরীভূত করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন। তখন আমি তার নিকট বিষয়টি বর্ণনা করলাম।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবন উবাই ও তার সঙ্গিদেও ডেকে পাঠালেন। তারা কসম করে বলল তারা এরূপ কথা বলেনি। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মিথ্যাবাদী এবং তাকে সত্য বলে সাব্যস্ত করলেন। এতে আমার এমন কষ্ট লাগল যে এরূপ কষ্ট আর কিছুতে কোন দিন পাইনি। আমি আমার ঘরে বসে গেলাম। আমার চাচা আমাকে বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্রেধ ও তৎকর্তৃক মিথ্যাবাদী সাবস্ত হওয়াই কি তোমার অভিপ্রায় ছিল।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেনঃ (إذا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ ) যখন মুনাফিকরা তোমার নিকট আসে (সূরা আল মুনাফিকুন ৬৩ঃ ১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠিয়ে আমাকে ডেকে আনলেন। আমাকে সূরাটি পড়ে শুনালেন। পরে বললেন আল্লাহ তায়ালা তোমার সত্যবাদীতার ঘোষনা দিলেন।
সহীহ, বুখারি ৪৯০০, ৪৯০৪, মুসলিম ৮/১১৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান সহীহ।
আমি আমার চাচার কাছে এ কথাটি বললাম। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি গোচরীভূত করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন। তখন আমি তার নিকট বিষয়টি বর্ণনা করলাম।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবন উবাই ও তার সঙ্গিদেও ডেকে পাঠালেন। তারা কসম করে বলল তারা এরূপ কথা বলেনি। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মিথ্যাবাদী এবং তাকে সত্য বলে সাব্যস্ত করলেন। এতে আমার এমন কষ্ট লাগল যে এরূপ কষ্ট আর কিছুতে কোন দিন পাইনি। আমি আমার ঘরে বসে গেলাম। আমার চাচা আমাকে বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্রেধ ও তৎকর্তৃক মিথ্যাবাদী সাবস্ত হওয়াই কি তোমার অভিপ্রায় ছিল।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেনঃ (إذا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ ) যখন মুনাফিকরা তোমার নিকট আসে (সূরা আল মুনাফিকুন ৬৩ঃ ১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠিয়ে আমাকে ডেকে আনলেন। আমাকে সূরাটি পড়ে শুনালেন। পরে বললেন আল্লাহ তায়ালা তোমার সত্যবাদীতার ঘোষনা দিলেন।
সহীহ, বুখারি ৪৯০০, ৪৯০৪, মুসলিম ৮/১১৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস নং: ৩৩১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراىيل، عن السدي، عن ابي سعيد الازدي، حدثنا زيد بن ارقم، قال غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان معنا اناس من الاعراب فكنا نبتدر الماء وكان الاعراب يسبقونا اليه فسبق اعرابي اصحابه فسبق الاعرابي فيملا الحوض ويجعل حوله حجارة ويجعل النطع عليه حتى يجيء اصحابه . قال فاتى رجل من الانصار اعرابيا فارخى زمام ناقته لتشرب فابى ان يدعه فانتزع قباض الماء فرفع الاعرابي خشبته فضرب بها راس الانصاري فشجه فاتى عبد الله بن ابى راس المنافقين فاخبره وكان من اصحابه فغضب عبد الله بن ابى ثم قال : (لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) من حوله . يعني الاعراب وكانوا يحضرون رسول الله صلى الله عليه وسلم عند الطعام فقال عبد الله اذا انفضوا من عند محمد فاىتوا محمدا بالطعام فلياكل هو ومن عنده ثم قال لاصحابه لىن رجعتم الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل . قال زيد وانا ردف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فسمعت عبد الله بن ابى فاخبرت عمي فانطلق فاخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فارسل اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فحلف وجحد . قال فصدقه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبني قال فجاء عمي الى فقال ما اردت الا ان مقتك رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبك والمسلمون . قال فوقع على من الهم ما لم يقع على احد . قال فبينما انا اسير مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر قد خفقت براسي من الهم اذ اتاني رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرك اذني وضحك في وجهي فما كان يسرني ان لي بها الخلد في الدنيا . ثم ان ابا بكر لحقني فقال ما قال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت ما قال شيىا الا انه عرك اذني وضحك في وجهي . فقال ابشر . ثم لحقني عمر فقلت له مثل قولي لابي بكر فلما اصبحنا قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم سورة المنافقين . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩৩১৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক অভিযানে ছিলাম। আমাদের সঙ্গে কিছু মরুবাসী আরব ও ছিল। আমরা পানির জন্য দ্রুত ছুটে যেতাম কিন্তু মরুবাসীরা আমাদের আগে পানির কাছে চলে যেত। একবার জনৈক মরুবাসী সবার আগে চলে গিয়ে একটি হাউয পানি ভর্তি করল। এর চতুর্দিকে পাথর দিয়ে বেষ্টনী দিল এবং একটি চামড়া এর উপর রেখে দিল। এর মধ্যে বাকী সঙ্গিরা চলে এল। জনৈক আনসারী উক্ত মরুবাসীর কছে এল এবং পানি পানের জন্য তার উটনীটির লাগাম ঢিলা করে দিল। কিন্তু মরুবাসীটি তাকে পানি দিতে অস্বীকৃতি জানাল। তখন উক্ত আনসারী পানির বেষ্টনী ফেলে দিল। মরুবাসী একটি কাঠ দিয়ে আনসারীর মাথায় যখম করে দিল। সে তখন মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর কাছে যেয়ে তাকে বিষয়টি জানাল। এই আনসারীটি ছিল আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর সাথীদের অন্যতম। বিষয়টি শুনে আবদুল্লাহ ইবন উবাই অত্যান্ত রাগান্বিত হয়ে পড়ে। এরপর সে বললঃ রাসুলুল্লাহর চতুস্পার্শ্ব থেকে এই মরুবাসীরা সরে না যাওয়া পর্যন্ত যারা তার নিকট আছে, তাদের কিছু দিবে না।
এ মরুবাসীরা আহারের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে হাযির হত। আবদুল্লাহ বললঃ মুহাম্মদের কাছ থেকে এরা সরে গেলে পরে তোমরা মুহাম্মদের সামনে খানা আনবে। তিনি এবং তার সথীরাই কেবল তা আহার করবে। এর পর সে তার সঙ্গিদের বললঃ তোমরা যখন মদীনায় ফিরে যাবে তখন সম্মানিতেরা অবশ্যই হীনদের (মু’মিনদের) মদীনা থেকে বের করে দেবে।
যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহনের পিছনে উপবিষ্ট ছিলাম। আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর কথাবার্তা আমি শুনে ফেললাম। আমি আমার চাচাকে তা আবহিত করলাম। তিনি গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তা জানালেন। তিনি আবদুল্লাহকে ডেকে পাঠালেন। সে কসম কওে তা আস্বিকার করল। ফলে রাসুলুল্লাহ তাকে সত্যবাদী এবং আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেন। আমার চাচা আমার কাছে এলেন। বললেনঃ রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মুসলিমদের ক্রোধ ও তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করাইকি তোমার আভিপ্রয় ছিল।
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ ফলে এত চিন্তা ও পেরেশানী আমার উপর আপতিত হল যা আর কারো উপর আপতিত হয় নি। আমি সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। চিন্তায় আমার মাথা ঝুঁকে পড়ে ছিল। এমন সময় রাসুলুল্লাহ আমার কাছে এলেন। এবং (আদর করে) আমার কান মলে দিলেন ও আমার সামনে হাসলেন।
তিনি বললেন সুসংবাদ গ্রহণ কর। তারপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন। আবু বকরকে যে কথা বলেছিলাম তাকেও আমি সে রূপ কথা বললাম। পরে যখন ভোর হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আল মুনাফিকুন পাঠ করে শুনালেন।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ মরুবাসীরা আহারের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে হাযির হত। আবদুল্লাহ বললঃ মুহাম্মদের কাছ থেকে এরা সরে গেলে পরে তোমরা মুহাম্মদের সামনে খানা আনবে। তিনি এবং তার সথীরাই কেবল তা আহার করবে। এর পর সে তার সঙ্গিদের বললঃ তোমরা যখন মদীনায় ফিরে যাবে তখন সম্মানিতেরা অবশ্যই হীনদের (মু’মিনদের) মদীনা থেকে বের করে দেবে।
যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহনের পিছনে উপবিষ্ট ছিলাম। আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর কথাবার্তা আমি শুনে ফেললাম। আমি আমার চাচাকে তা আবহিত করলাম। তিনি গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তা জানালেন। তিনি আবদুল্লাহকে ডেকে পাঠালেন। সে কসম কওে তা আস্বিকার করল। ফলে রাসুলুল্লাহ তাকে সত্যবাদী এবং আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেন। আমার চাচা আমার কাছে এলেন। বললেনঃ রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মুসলিমদের ক্রোধ ও তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করাইকি তোমার আভিপ্রয় ছিল।
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ ফলে এত চিন্তা ও পেরেশানী আমার উপর আপতিত হল যা আর কারো উপর আপতিত হয় নি। আমি সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। চিন্তায় আমার মাথা ঝুঁকে পড়ে ছিল। এমন সময় রাসুলুল্লাহ আমার কাছে এলেন। এবং (আদর করে) আমার কান মলে দিলেন ও আমার সামনে হাসলেন।
তিনি বললেন সুসংবাদ গ্রহণ কর। তারপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন। আবু বকরকে যে কথা বলেছিলাম তাকেও আমি সে রূপ কথা বললাম। পরে যখন ভোর হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আল মুনাফিকুন পাঠ করে শুনালেন।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৩১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن ابي عدي، انبانا شعبة، عن الحكم بن عتيبة، قال سمعت محمد بن كعب القرظي، منذ اربعين سنة يحدث عن زيد بن ارقم، رضى الله عنه ان عبد، الله بن ابى قال في غزوة تبوك : (لىن رجعنا الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل ) قال فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فحلف ما قاله فلامني قومي وقالوا ما اردت الى هذه فاتيت البيت ونمت كىيبا حزينا فاتاني النبي صلى الله عليه وسلم او اتيته فقال " ان الله قد صدقك " . قال فنزلت هذه الاية : ( هم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩৩১৪. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... যায়দ ইবন আকরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ গাযওয়ায়ে তাবুকে আবদুল্লাহ ইবন উবাই বলেছিলেন, আমরা যদি মদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্ভ্রান্তরা নিকৃষ্টদেরকে আবশ্যই সেখান থেকে বের করে দেবে। তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসি এবং বিষয়টি সম্পর্কে তাকে আবহিত করি। কিন্তু সে কসম করে বলে যে, এমন কথা সে বলেনি। এতে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে খুব নিন্দা করে। তারা বলল তুমি এরূপ করতে গেলে কেন?
আমি আমার বাড়ি চলে এলাম এবং ক্ষোভে-দুঃখে-চিন্তায় শুয়ে রইলাম। শেষে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন অথবা আমিই তার কাছে গেলাম। তিনি বললেন আল্লাহ তা’য়ালা তোমার সত্যবাদীতা প্রকাশ করছেন। এই প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ (هم الَّذِينَ يَقُولُونَ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا) -(সূরা মুনাফিকুন ৬৩ঃ ৭)
সহীহ, বুখারি ৪৯০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
আমি আমার বাড়ি চলে এলাম এবং ক্ষোভে-দুঃখে-চিন্তায় শুয়ে রইলাম। শেষে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন অথবা আমিই তার কাছে গেলাম। তিনি বললেন আল্লাহ তা’য়ালা তোমার সত্যবাদীতা প্রকাশ করছেন। এই প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ (هم الَّذِينَ يَقُولُونَ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا) -(সূরা মুনাফিকুন ৬৩ঃ ৭)
সহীহ, বুখারি ৪৯০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩৩১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، سمع جابر بن عبد الله، يقول كنا في غزاة قال سفيان يرون انها غزوة بني المصطلق فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الانصار فقال المهاجري يا للمهاجرين وقال الانصاري يا للانصار فسمع ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ما بال دعوى الجاهلية " . قالوا رجل من المهاجرين كسع رجلا من الانصار فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " دعوها فانها منتنة " . فسمع ذلك عبد الله بن ابى ابن سلول فقال اوقد فعلوها والله (لىن رجعنا الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل ) فقال عمر يا رسول الله دعني اضرب عنق هذا المنافق . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " دعه لا يتحدث الناس ان محمدا يقتل اصحابه " . وقال غير عمرو فقال له ابنه عبد الله بن عبد الله والله لا تنقلب حتى تقر انك الذليل ورسول الله صلى الله عليه وسلم العزيز . ففعل . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩৩১৫. ইবন আবু উমার (রহঃ) ...... জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা এক গাযওয়াহ অভিযানে ছিলাম। বর্ণনাকারী সুফয়ান (রহঃ) বলেন এটি ছিল বানু মুত্তালিক (মুরায়সী) যুদ্ধ। ঘটনাক্রমে একজন মুহাজির জনৈক আনসারীর নিতম্বে ঘুষি মারে। আনসারী ব্যক্তিটি তখন (সাহায্যের জন্য) আনসারীদের আহবান জানায়। এদিকে মুহাজির ব্যক্তিটি মুহাজিরদের আহবান জানায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বলেনঃ এ জাহেলী ডাক কেন? সাহাবীরা বললেনঃ জনৈক মুহাজির ব্যক্তি জৈনক আনসারীর নিতম্বে ঘুষি মেরেছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ছেড়ে দাও তা এত পুঁতিগন্ধময় কথা। আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুলও তা শুনল। সে বলল এরা এমন করেছে না কি? আল্লাহর কসম আমরা যদি মদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্ভ্রান্তরা (মদীনাবাসীরা) নিকৃষ্টদের (মুহাজিরদের) আবশ্যই সেখান থেকে বের করে দিবে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন আমাকে ছেড়ে দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ মুনাফিকটার গর্দান উড়েয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ছেড়ে দাও ওকে। মুহাম্মদ তার সঙ্গিদের হত্যা করেছেু এ কথা যেন মানুষ না বলে। আমর ব্যতীত অন্যান্য রবীরা বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর ছেলে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতাকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর কসম তুমি নিজে হীন এবং এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই সম্মানিত, এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত তুমি যেতে পারবে না। শেষে তাকে তা স্বীকার করতে হল।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ছেড়ে দাও তা এত পুঁতিগন্ধময় কথা। আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুলও তা শুনল। সে বলল এরা এমন করেছে না কি? আল্লাহর কসম আমরা যদি মদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্ভ্রান্তরা (মদীনাবাসীরা) নিকৃষ্টদের (মুহাজিরদের) আবশ্যই সেখান থেকে বের করে দিবে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন আমাকে ছেড়ে দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ মুনাফিকটার গর্দান উড়েয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ছেড়ে দাও ওকে। মুহাম্মদ তার সঙ্গিদের হত্যা করেছেু এ কথা যেন মানুষ না বলে। আমর ব্যতীত অন্যান্য রবীরা বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর ছেলে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতাকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর কসম তুমি নিজে হীন এবং এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই সম্মানিত, এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত তুমি যেতে পারবে না। শেষে তাকে তা স্বীকার করতে হল।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩৩১৬
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا جعفر بن عون، اخبرنا ابو جناب الكلبي، عن الضحاك بن مزاحم، عن ابن عباس، رضى الله عنهما قال من كان له مال يبلغه حج بيت ربه او تجب عليه فيه الزكاة فلم يفعل سال الرجعة عند الموت . فقال رجل يا ابن عباس اتق الله انما سال الرجعة الكفار قال ساتلو عليك بذلك قرانا : ( يا ايها الذين امنوا لا تلهكم اموالكم ولا اولادكم عن ذكر الله ) : (وانفقوا مما رزقناكم من قبل ان ياتي احدكم الموت ) الى قوله : ( والله خبير بما تعملون ) قال فما يوجب الزكاة قال اذا بلغ المال ماىتى درهم فصاعدا . قال فما يوجب الحج قال الزاد والبعير .
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن الثوري، عن يحيى بن ابي حية، عن الضحاك، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه . وقال هكذا روى سفيان بن عيينة، وغير، واحد، هذا الحديث عن ابي جناب، عن الضحاك، عن ابن عباس، قوله ولم يرفعه . وهذا اصح من رواية عبد الرزاق . وابو جناب القصاب اسمه يحيى بن ابي حية وليس هو بالقوي في الحديث .
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن الثوري، عن يحيى بن ابي حية، عن الضحاك، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه . وقال هكذا روى سفيان بن عيينة، وغير، واحد، هذا الحديث عن ابي جناب، عن الضحاك، عن ابن عباس، قوله ولم يرفعه . وهذا اصح من رواية عبد الرزاق . وابو جناب القصاب اسمه يحيى بن ابي حية وليس هو بالقوي في الحديث .
৩৩১৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কারো যদি এত পরিমান সম্পদ থাকে যে যদ্বারা সে তার বায়তুল্লাহ হজ্জ করতে পারে বা তার উপর যাকাত ফরয হতে পারে, আর যদি সে তা না করে, তবে মৃত্যুর সময় সে দুনিয়ায় ফিরে আসতে চাইবে।
জনৈক ব্যক্তি বললঃ হে ইবন আব্বাস! আল্লাহকে ভয় করুন, দুনিয়ায় তো কাফিররা ফিরে আসতে চাইবে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এ বিষয়ে আমি তোমাদের কে একটি আয়াত তেলাওয়াত করে শুনাচ্ছিঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ إِلَى قَوْلِهِ : واللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন সম্পদ এবং সন্তান সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে। যারা উদাসীন হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বেই অন্যথায় মৃত্যুতে সে বলবেঃ হে আমার রব আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদকা দিতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হবে, আল্লাহ কখনও কাউকে অবকাশ দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। (সূরা মুনাফিকুন ৬৩ঃ ৯-১১)
লোকটি বললঃ কিসে যাকাত ওয়াজিব হয়? ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ দু’শো বা ততোধিক পরিমাণ দিরহাম হলে তাতে যাকাত ওয়াজিব হয়।
লোকটি বলল হজ্জ কিসে ওয়াজিব হয়? ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ পাথেয় এবং যানবাহনের ব্যবস্থা হলে।
আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবন উমায়ায়না প্রমুখ (রহঃ) এ হাদীসটিকে আবু জানাব-যাহাহক-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তারা এটিকে মারফরূপে বর্ণনা করেননি।
এ রেওয়ায়াতটি আবদুর রাযযাক (রহঃ) এর রেওয়ায়াত থেকে (৩৩১৬ নং) অধিক সহীহ। আবু জানাব কাসসাব (রহঃ) এর নাম হল ইয়াহইয়া ইবন আবু হায়যা। তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
জনৈক ব্যক্তি বললঃ হে ইবন আব্বাস! আল্লাহকে ভয় করুন, দুনিয়ায় তো কাফিররা ফিরে আসতে চাইবে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এ বিষয়ে আমি তোমাদের কে একটি আয়াত তেলাওয়াত করে শুনাচ্ছিঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ إِلَى قَوْلِهِ : واللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন সম্পদ এবং সন্তান সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে। যারা উদাসীন হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বেই অন্যথায় মৃত্যুতে সে বলবেঃ হে আমার রব আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদকা দিতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হবে, আল্লাহ কখনও কাউকে অবকাশ দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। (সূরা মুনাফিকুন ৬৩ঃ ৯-১১)
লোকটি বললঃ কিসে যাকাত ওয়াজিব হয়? ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ দু’শো বা ততোধিক পরিমাণ দিরহাম হলে তাতে যাকাত ওয়াজিব হয়।
লোকটি বলল হজ্জ কিসে ওয়াজিব হয়? ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ পাথেয় এবং যানবাহনের ব্যবস্থা হলে।
আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবন উমায়ায়না প্রমুখ (রহঃ) এ হাদীসটিকে আবু জানাব-যাহাহক-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তারা এটিকে মারফরূপে বর্ণনা করেননি।
এ রেওয়ায়াতটি আবদুর রাযযাক (রহঃ) এর রেওয়ায়াত থেকে (৩৩১৬ নং) অধিক সহীহ। আবু জানাব কাসসাব (রহঃ) এর নাম হল ইয়াহইয়া ইবন আবু হায়যা। তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৩১৭
হাসান (Hasan)
حدثنا محمد بن يحيى، حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا اسراىيل، حدثنا سماك بن حرب، عن عكرمة، عن ابن عباس، وساله، رجل عن هذه الاية، ( يا ايها الذين امنوا ان من ازواجكم واولادكم عدوا لكم فاحذروهم ) قال هولاء رجال اسلموا من اهل مكة وارادوا ان ياتوا النبي صلى الله عليه وسلم فابى ازواجهم واولادهم ان يدعوهم ان ياتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما اتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم راوا الناس قد فقهوا في الدين هموا ان يعاقبوهم فانزل الله عز وجل : ( يا ايها الذين امنوا ان من ازواجكم واولادكم عدوا لكم فاحذروهم ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩৩১৭. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে জৈনক ব্যক্তি ’হে মুমিনগণ! তোমাদের স্ত্রী ও সন্তান সন্তুতির মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু। সুতরাং তাদের বিষয়ে সতর্ক থাক। (সূরা তাগবুন ৬৪ঃ ১৪) আয়াতটি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করল তিনি বলেনঃ মক্কাবাসীদের কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হিজরত করে চলে আসতে ইচ্ছা করেন। কিন্তু তাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিরা তাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসার জন্য ছেড়ে দিতে অস্বিকৃতি জানায়। শেষে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম এর কাছে হিজরত করে আসতে সক্ষম হলেন। দেখতে পেলেন যে লোকেরা দীনের বিষয়ে অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান হয়ে গেছে। এতদ্দর্শনে তারা তাদেও স্ত্রী ও সন্তান-সন্তদিদের শাস্তি দিতে মনস্থ করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেনঃ
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلاَدِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلاَدِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৩১৮
হাসান (Hasan)
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن ابي ثور، قال سمعت ابن عباس، رضى الله عنهما يقول لم ازل حريصا ان اسال عمر عن المراتين من ازواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتين قال الله عز وجل : (ان تتوبا الى الله فقد صغت قلوبكما ) حتى حج عمر وحججت معه فصببت عليه من الاداوة فتوضا فقلت يا امير المومنين من المراتان من ازواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتان قال الله : ( ان تتوبا الى الله فقد صغت قلوبكما وان تظاهرا عليه فان الله هو مولاه ) فقال لي واعجبا لك يا ابن عباس قال الزهري وكره والله ما ساله عنه ولم يكتمه فقال لي هي عاىشة وحفصة قال ثم انشا يحدثني الحديث فقال كنا معشر قريش نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساوهم فطفق نساونا يتعلمن من نساىهم فتغضبت على امراتي يوما فاذا هي تراجعني فانكرت ان تراجعني فقالت ما تنكر من ذلك فوالله ان ازواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره احداهن اليوم الى الليل . قال قلت في نفسي قد خابت من فعلت ذلك منهن وخسرت . قال وكان منزلي بالعوالي في بني امية وكان لي جار من الانصار كنا نتناوب النزول الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فينزل يوما فياتيني بخبر الوحى وغيره وانزل يوما فاتيه بمثل ذلك . قال وكنا نحدث ان غسان تنعل الخيل لتغزونا . قال فجاءني يوما عشاء فضرب على الباب فخرجت اليه فقال حدث امر عظيم . قلت اجاءت غسان قال اعظم من ذلك طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه . قال قلت في نفسي قد خابت حفصة وخسرت قد كنت اظن هذا كاىنا قال فلما صليت الصبح شددت على ثيابي ثم انطلقت حتى دخلت على حفصة فاذا هي تبكي فقلت اطلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت لا ادري هو ذا معتزل في هذه المشربة . قال فانطلقت فاتيت غلاما اسود فقلت استاذن لعمر . قال فدخل ثم خرج الى . قال قد ذكرتك له فلم يقل شيىا . قال فانطلقت الى المسجد فاذا حول المنبر نفر يبكون فجلست اليهم ثم غلبني ما اجد فاتيت الغلام فقلت استاذن لعمر . فدخل ثم خرج الى فقال قد ذكرتك له فلم يقل شيىا . قال فانطلقت الى المسجد ايضا فجلست ثم غلبني ما اجد فاتيت الغلام فقلت استاذن لعمر . فدخل ثم خرج الى فقال قد ذكرتك له فلم يقل شيىا . قال فوليت منطلقا فاذا الغلام يدعوني فقال ادخل فقد اذن لك فدخلت فاذا النبي صلى الله عليه وسلم متكى على رمل حصير قد رايت اثره في جنبه فقلت يا رسول الله اطلقت نساءك قال لا . قلت الله اكبر لقد رايتنا يا رسول الله ونحن معشر قريش نغلب النساء فلما قدمنا المدينة وجدنا قوما تغلبهم نساوهم فطفق نساونا يتعلمن من نساىهم فتغضبت يوما على امراتي فاذا هي تراجعني فانكرت ذلك فقالت ما تنكر فوالله ان ازواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه وتهجره احداهن اليوم الى الليل . قال فقلت لحفصة اتراجعين رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم وتهجره احدانا اليوم الى الليل . فقلت قد خابت من فعلت ذلك منكن وخسرت اتامن احداكن ان يغضب الله عليها لغضب رسوله فاذا هي قد هلكت فتبسم النبي صلى الله عليه وسلم . قال فقلت لحفصة لا تراجعي رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تساليه شيىا وسليني ما بدا لك ولا يغرنك ان كانت صاحبتك اوسم منك واحب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال فتبسم اخرى فقلت يا رسول الله استانس قال " نعم " . قال فرفعت راسي فما رايت في البيت الا اهبة ثلاثة . قال فقلت يا رسول الله ادع الله ان يوسع على امتك فقد وسع على فارس والروم وهم لا يعبدونه . فاستوى جالسا فقال " اوفي شك انت يا ابن الخطاب اولىك قوم عجلت لهم طيباتهم في الحياة الدنيا " . قال وكان اقسم ان لا يدخل على نساىه شهرا فعاتبه الله في ذلك وجعل له كفارة اليمين .
قال الزهري فاخبرني عروة، عن عاىشة، قالت فلما مضت تسع وعشرون دخل على النبي صلى الله عليه وسلم بدا بي فقال " يا عاىشة اني ذاكر لك شيىا فلا تعجلي حتى تستامري ابويك " . قالت ثم قرا هذه الاية ( يا ايها النبي قل لازواجك ) الاية . قالت علم والله ان ابوى لم يكونا يامراني بفراقه فقلت افي هذا استامر ابوى فاني اريد الله ورسوله والدار الاخرة . قال معمر فاخبرني ايوب ان عاىشة قالت له يا رسول الله لا تخبر ازواجك اني اخترتك . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " انما بعثني الله مبلغا ولم يبعثني متعنتا " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب قد روي من غير وجه عن ابن عباس .
قال الزهري فاخبرني عروة، عن عاىشة، قالت فلما مضت تسع وعشرون دخل على النبي صلى الله عليه وسلم بدا بي فقال " يا عاىشة اني ذاكر لك شيىا فلا تعجلي حتى تستامري ابويك " . قالت ثم قرا هذه الاية ( يا ايها النبي قل لازواجك ) الاية . قالت علم والله ان ابوى لم يكونا يامراني بفراقه فقلت افي هذا استامر ابوى فاني اريد الله ورسوله والدار الاخرة . قال معمر فاخبرني ايوب ان عاىشة قالت له يا رسول الله لا تخبر ازواجك اني اخترتك . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " انما بعثني الله مبلغا ولم يبعثني متعنتا " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب قد روي من غير وجه عن ابن عباس .
৩৩১৮. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (إن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا) - যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুকে পড়েছে তাই তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা কর। তবে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। (সূরা তাহরীম ৬৬ঃ ৪) আয়াতটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে দুইজন সহধর্মিণীর উল্লেখ করা হয়েছে। তারা কারা সে সম্পর্কে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য আমি অনেক দিন লালায়িত ছিলাম। শেষে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার হজ্জ করতে গেলে আমিও তার সঙ্গে সে হজ্জে ছিলাম। একদিন তিনি উযু করছিলেন আর আমি পাত্র থেকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম। আমি তাকে বললামঃ হে আমিরুল মুমিণীন! (إن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا) আয়াতটিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে দুই স্ত্রীর উল্লেখ করা হয়েছে তারা কারা?
তিনি বললেনঃ হে ইবন আব্বাস, আশ্চার্য! যুহরী (রহঃ) বলেন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাস্য বিষয়টি পছন্দ করেননি, তবে তিনি বিষয়টি গোপনও করলেন না। যা হোক তিনি বললেনঃ এরা হল আয়েশা ও হাফসা। এরপর তিনি আমাকে পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করা শুরু করেন। তিনি বলেন আমরা কুরায়শী সম্প্রদায় ছিলাম স্ত্রীদের উপর প্রবল। কিন্তু মদীনায় এসে দেখতে পেলাম যে, এরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রবল। এখানে আমাদের স্ত্রীরাও তাদের আচরণ শিখতে শুরু করে। একদিন একটি বিষয়ে আমার স্ত্রীর উপর আমি রাগ করি। সে তখন আমাকে প্রত্যুত্তর দেয় তার সে প্রত্যুত্তর করাটা আমি অপছন্দ করি। তখন সে বলল আপনি মন্দ ভাবছেন কেন? আল্লাহর কসম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীরাও তো তার কথার প্রত্যুত্তর করে থাকেন এবং তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ করে রাখেন।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি মনে মনে বললাম তাদের যে জন এ ধরণের কাজ করে সেত লাঞ্ছিত ও ধ্বংস হয়ে যাবে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ মদীনায় আওয়ালী অঞ্চলে বানু উমায়্যায় ছিল আমার বাস। আমার এক আনসারী প্রতিবেশী ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে হাযিরী প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা পালা নির্ধারণ করে নেই। তিনি এক দিন সেখানে হাজির হতেন এবং সে দিন ওয়াহী ও অন্যান্য বিষয়ের খবরাদি আমার কাছে নিয়ে আসতেন। আরেক দিন আমি হাযির হতাম আর তার কাছে অনুরূপ খবরাদি নিয়ে আসতাম। তখন আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল যে, গাসসানীরা আমাদেও বিরুদ্ধে লড়ার জন্য অশ্বসমূহে নাল লাগিয়ে তৈরী করে রাখছে। যাহোক আমার ঐ প্রতিবেশী একদিন ইশার সময় আমার বাড়ি আসে এবং দরজায় করাঘাত করে আমি তার কাছে বের হয়ে এলাম। তিনি বললেনঃ একটি ভীষন ব্যাপার ঘটে গেছে।
আমি বললাম গাসসানীরাকি এসে গেছে? তিনি বললেন এর চেয়েও ভীষন ব্যাপার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধর্মিনীদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন।
আমি মনে মনে বললাম হাফসা নিরাশ হল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হল। আমারো ধারণা ছিল যে,এমন একটি বিষয় কোন দিন ঘটতে পারে। ফজরের সালাত (নামায) আদায় করে আমি কাপোড়-চোপড় পরলাম। রওয়ানা হয়ে হাফসা এর কাছে পৌছলাম। সে তখন কাঁদছিল। আমি বললাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন?
সে বললঃ আমি জানি না। এই তো তিনি ঐ চিলেকোঠায় আলাদা হয়ে আছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি সে দিকে গেলাম। কৃষ্ণবর্ণের একটি গোলামকে সেখানে পেলাম। বললাম উমারের জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর।
সে ভেতরে গেল। পরে আমার কছে বের হয়ে এল। বললঃ আপনার কথা তাকে বলেছি কিন্তু কিছুই বললেন না তিনি।
আমি মসজিদে চলে এলাম। মিম্বারের চারপাশে বসে কিছু লোক কাঁদছেন। আমি তাদের কাছে বসে গেলাম। কিন্তু পুনঃ আমার মনের উদ্বেগ প্রবল হয়ে উঠল। গোলামটির কাছে এলাম। বললাম উমারের জন্য অনুমতি নিয়ে এস। সে ভেতরে চলে গেল। এরপর আমার কাছে বের হয়ে এসে বললঃ আমি আপনার কথা তার কাছে উল্লেখ করেছি কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।
আমি আবার মসজিদে চলে এলাম এবং বসে পড়লাম। পরে আবার আমার ভিতরে উদ্বেগ প্রবল হয়ে উঠল। গোলামটির কাছে এলাম এবং বললাম উমারের জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর। সে ভিতরে গিয়ে পুনর্বার বের হয়ে এল। বলল আপনার কথা তো তাকে বললাম কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন আমি পিছন ফিরে চলে এলাম। এমন সময় গোলামটি আমাকে ডাকতে লাগল। বললঃ ভিতরে যান, তিনি আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলে আমি ভিতরে গেলাম। দেখতে পেলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বুননকৃত চাটাইয়ে ঠেস দিয়ে আছেন। চাটাইয়ের দাগ পড়ে গেছে তাঁর দুই পার্শ্বদেশে।
আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিকি আপনার সহধর্মিণীদের তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ না।
আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের অবস্থা যদি লক্ষ করতেন যে, আমরা কুরায়শী সম্প্রদায় ছিলাম স্ত্রীদের উপর প্রবল। কিন্তু মদীনায় এসে এমন এক সম্প্রদায় পেলাম যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রবল। এখানে আমাদের স্ত্রীরা তাদের আচরণ শিখাতে। একদিন কোন এক বিষয়ে আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগ করি কিন্তু সে আমাকে প্রত্যুত্তর দেয়। আমি বিষয়টি খুবই না-পছন্দ করলাম। সে বলল আপনি কেন তা না পছন্দ করছেন? আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণও তো তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করেন এবং কোন কোন সময় তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত কথাবার্তা বন্ধ করে দেন। পরে আমি হাফসাকে বললাম তোমরা কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার প্রত্যুত্তর কর? সে বললঃ হ্যাঁ আমাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কর্থাবর্তা বন্ধ করে থাকে।
আমি বললামঃ তোমাদের মধ্যে যে এমন কাজ করে সে তো লাঞ্ছিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্রোধের কারণে তার উপর আল্লাহর ক্রোধান্বিত হওয়া থেকে তোমাদের কেউ কি নিজেকে নিরাপদ মনে কর? এমতবস্থায় সে তো ধ্বংস হয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্মিত হাসলেন।
আমি বললাম হাফসাকে বলেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার প্রত্যুত্তর করবে না এবং তার কাছে কোন কিছু চাইবে না। তোর যা মন চায় আমার কাচেই চেয়ো। তোমর যে সখী (আয়িশা) তোমার চেয়েও সুন্দরী এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অধিক প্রিয়,তার অবস্থা যেন তোমাকে ধোকায় না ফেলে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক বার স্মিত হাসলেন।
আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আরো স্বচ্ছন্দ হব? তিনি বললেন হ্যাঁ। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন আমি মাথা উঠালাম। সারা ঘরে তিনটা চামড়া ব্যতীত আর কিছুই নজরে পড়ল না। বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। তিনি যেন আপনার উম্মতকে স্বচ্ছন্দ্য দান করেন। পারস্য ও রোমবাসীরা আল্লাহর ইবাদত করেনা অথচ তিনি তাদের কত অর্থ-বৈভব দিয়েছেন।
এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসলেন। বললেন হে খাত্তাব পুত্র! তুমি কি সন্দেহে আছ নাকি? এরা তো এমন সম্প্রদায় যাদের ত্বরা করে পার্থিব জীবনেই তাদের ভাল প্রতিদান সমূহ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসম করেছিলেন যে, এক মাস পর্যন্ত স্ত্রীদের কাছে যাবেন না। এ কারণে আল্লাহ তা’য়ালা তাকে সোহাগ ভরে ভৎর্সনা করেন এবং কসমের কাফফারা প্রদানের বিধান দেন।
যুহরী (রহঃ) বলেরনঃ উরওযা বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ উনত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং আমার থেকে (থাকা না থাকার এখতিয়ার প্রদান বিষয়টি) শুরু করেন। বললেন হে আয়িশা! আমি তোমাকে একটি বিষয় বলেছি। তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে এ ব্যাপারে কোন তাড়াহুড়া করবে না।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন এর পর তিনি তেলওয়াত কররেন। (يا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ)
হে রাসুল! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন। তোমরা যদি পার্থিব জীবন এবং এর ভূষন কামনা কর তবে এস আমি তোমাদিগের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদাই দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তার রাসূল ও আখিরাত কামনা কর,তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, আল্লাহ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন। (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ২৮-২৯)
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ তিনি জানতেন, কসম আল্লাহর, আমার পিতামাতা তাকে পরিত্যাগ করার পরামর্শ আমাকে কখনও দিবেন না।
আমি বললাম এ বিষয়ে আমি আমার পিতামাতার সঙ্গে কি পরামর্শ করব? আমিতো অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের আবাসই কামনা করি।
মা’মার (রহঃ) বলেনঃ আয়্যুব বর্ণনা করেন যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার স্ত্রীদের অবহিত করবেন না যে, আমি আপনাকে গ্রহণ করেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা তো আমাকে এক মুবাল্লিগ (বাণী প্রচারক) করে পাঠিয়েছেন কষ্টদানকারী হিসেবে আমাকে পাঠান নি।
হাসান, সহীহ হাদিস সিরিজ ১৫১৬, মুসলিম জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- সহীহ-গারীব। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে।
তিনি বললেনঃ হে ইবন আব্বাস, আশ্চার্য! যুহরী (রহঃ) বলেন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাস্য বিষয়টি পছন্দ করেননি, তবে তিনি বিষয়টি গোপনও করলেন না। যা হোক তিনি বললেনঃ এরা হল আয়েশা ও হাফসা। এরপর তিনি আমাকে পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করা শুরু করেন। তিনি বলেন আমরা কুরায়শী সম্প্রদায় ছিলাম স্ত্রীদের উপর প্রবল। কিন্তু মদীনায় এসে দেখতে পেলাম যে, এরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রবল। এখানে আমাদের স্ত্রীরাও তাদের আচরণ শিখতে শুরু করে। একদিন একটি বিষয়ে আমার স্ত্রীর উপর আমি রাগ করি। সে তখন আমাকে প্রত্যুত্তর দেয় তার সে প্রত্যুত্তর করাটা আমি অপছন্দ করি। তখন সে বলল আপনি মন্দ ভাবছেন কেন? আল্লাহর কসম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীরাও তো তার কথার প্রত্যুত্তর করে থাকেন এবং তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ করে রাখেন।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি মনে মনে বললাম তাদের যে জন এ ধরণের কাজ করে সেত লাঞ্ছিত ও ধ্বংস হয়ে যাবে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ মদীনায় আওয়ালী অঞ্চলে বানু উমায়্যায় ছিল আমার বাস। আমার এক আনসারী প্রতিবেশী ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে হাযিরী প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা পালা নির্ধারণ করে নেই। তিনি এক দিন সেখানে হাজির হতেন এবং সে দিন ওয়াহী ও অন্যান্য বিষয়ের খবরাদি আমার কাছে নিয়ে আসতেন। আরেক দিন আমি হাযির হতাম আর তার কাছে অনুরূপ খবরাদি নিয়ে আসতাম। তখন আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল যে, গাসসানীরা আমাদেও বিরুদ্ধে লড়ার জন্য অশ্বসমূহে নাল লাগিয়ে তৈরী করে রাখছে। যাহোক আমার ঐ প্রতিবেশী একদিন ইশার সময় আমার বাড়ি আসে এবং দরজায় করাঘাত করে আমি তার কাছে বের হয়ে এলাম। তিনি বললেনঃ একটি ভীষন ব্যাপার ঘটে গেছে।
আমি বললাম গাসসানীরাকি এসে গেছে? তিনি বললেন এর চেয়েও ভীষন ব্যাপার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধর্মিনীদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন।
আমি মনে মনে বললাম হাফসা নিরাশ হল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হল। আমারো ধারণা ছিল যে,এমন একটি বিষয় কোন দিন ঘটতে পারে। ফজরের সালাত (নামায) আদায় করে আমি কাপোড়-চোপড় পরলাম। রওয়ানা হয়ে হাফসা এর কাছে পৌছলাম। সে তখন কাঁদছিল। আমি বললাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন?
সে বললঃ আমি জানি না। এই তো তিনি ঐ চিলেকোঠায় আলাদা হয়ে আছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি সে দিকে গেলাম। কৃষ্ণবর্ণের একটি গোলামকে সেখানে পেলাম। বললাম উমারের জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর।
সে ভেতরে গেল। পরে আমার কছে বের হয়ে এল। বললঃ আপনার কথা তাকে বলেছি কিন্তু কিছুই বললেন না তিনি।
আমি মসজিদে চলে এলাম। মিম্বারের চারপাশে বসে কিছু লোক কাঁদছেন। আমি তাদের কাছে বসে গেলাম। কিন্তু পুনঃ আমার মনের উদ্বেগ প্রবল হয়ে উঠল। গোলামটির কাছে এলাম। বললাম উমারের জন্য অনুমতি নিয়ে এস। সে ভেতরে চলে গেল। এরপর আমার কাছে বের হয়ে এসে বললঃ আমি আপনার কথা তার কাছে উল্লেখ করেছি কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।
আমি আবার মসজিদে চলে এলাম এবং বসে পড়লাম। পরে আবার আমার ভিতরে উদ্বেগ প্রবল হয়ে উঠল। গোলামটির কাছে এলাম এবং বললাম উমারের জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর। সে ভিতরে গিয়ে পুনর্বার বের হয়ে এল। বলল আপনার কথা তো তাকে বললাম কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন আমি পিছন ফিরে চলে এলাম। এমন সময় গোলামটি আমাকে ডাকতে লাগল। বললঃ ভিতরে যান, তিনি আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলে আমি ভিতরে গেলাম। দেখতে পেলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বুননকৃত চাটাইয়ে ঠেস দিয়ে আছেন। চাটাইয়ের দাগ পড়ে গেছে তাঁর দুই পার্শ্বদেশে।
আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিকি আপনার সহধর্মিণীদের তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ না।
আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের অবস্থা যদি লক্ষ করতেন যে, আমরা কুরায়শী সম্প্রদায় ছিলাম স্ত্রীদের উপর প্রবল। কিন্তু মদীনায় এসে এমন এক সম্প্রদায় পেলাম যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রবল। এখানে আমাদের স্ত্রীরা তাদের আচরণ শিখাতে। একদিন কোন এক বিষয়ে আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগ করি কিন্তু সে আমাকে প্রত্যুত্তর দেয়। আমি বিষয়টি খুবই না-পছন্দ করলাম। সে বলল আপনি কেন তা না পছন্দ করছেন? আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণও তো তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করেন এবং কোন কোন সময় তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত কথাবার্তা বন্ধ করে দেন। পরে আমি হাফসাকে বললাম তোমরা কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার প্রত্যুত্তর কর? সে বললঃ হ্যাঁ আমাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কর্থাবর্তা বন্ধ করে থাকে।
আমি বললামঃ তোমাদের মধ্যে যে এমন কাজ করে সে তো লাঞ্ছিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্রোধের কারণে তার উপর আল্লাহর ক্রোধান্বিত হওয়া থেকে তোমাদের কেউ কি নিজেকে নিরাপদ মনে কর? এমতবস্থায় সে তো ধ্বংস হয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্মিত হাসলেন।
আমি বললাম হাফসাকে বলেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার প্রত্যুত্তর করবে না এবং তার কাছে কোন কিছু চাইবে না। তোর যা মন চায় আমার কাচেই চেয়ো। তোমর যে সখী (আয়িশা) তোমার চেয়েও সুন্দরী এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অধিক প্রিয়,তার অবস্থা যেন তোমাকে ধোকায় না ফেলে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক বার স্মিত হাসলেন।
আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আরো স্বচ্ছন্দ হব? তিনি বললেন হ্যাঁ। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন আমি মাথা উঠালাম। সারা ঘরে তিনটা চামড়া ব্যতীত আর কিছুই নজরে পড়ল না। বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। তিনি যেন আপনার উম্মতকে স্বচ্ছন্দ্য দান করেন। পারস্য ও রোমবাসীরা আল্লাহর ইবাদত করেনা অথচ তিনি তাদের কত অর্থ-বৈভব দিয়েছেন।
এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসলেন। বললেন হে খাত্তাব পুত্র! তুমি কি সন্দেহে আছ নাকি? এরা তো এমন সম্প্রদায় যাদের ত্বরা করে পার্থিব জীবনেই তাদের ভাল প্রতিদান সমূহ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসম করেছিলেন যে, এক মাস পর্যন্ত স্ত্রীদের কাছে যাবেন না। এ কারণে আল্লাহ তা’য়ালা তাকে সোহাগ ভরে ভৎর্সনা করেন এবং কসমের কাফফারা প্রদানের বিধান দেন।
যুহরী (রহঃ) বলেরনঃ উরওযা বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ উনত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং আমার থেকে (থাকা না থাকার এখতিয়ার প্রদান বিষয়টি) শুরু করেন। বললেন হে আয়িশা! আমি তোমাকে একটি বিষয় বলেছি। তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে এ ব্যাপারে কোন তাড়াহুড়া করবে না।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন এর পর তিনি তেলওয়াত কররেন। (يا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ)
হে রাসুল! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন। তোমরা যদি পার্থিব জীবন এবং এর ভূষন কামনা কর তবে এস আমি তোমাদিগের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদাই দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তার রাসূল ও আখিরাত কামনা কর,তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, আল্লাহ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন। (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ২৮-২৯)
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ তিনি জানতেন, কসম আল্লাহর, আমার পিতামাতা তাকে পরিত্যাগ করার পরামর্শ আমাকে কখনও দিবেন না।
আমি বললাম এ বিষয়ে আমি আমার পিতামাতার সঙ্গে কি পরামর্শ করব? আমিতো অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের আবাসই কামনা করি।
মা’মার (রহঃ) বলেনঃ আয়্যুব বর্ণনা করেন যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার স্ত্রীদের অবহিত করবেন না যে, আমি আপনাকে গ্রহণ করেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা তো আমাকে এক মুবাল্লিগ (বাণী প্রচারক) করে পাঠিয়েছেন কষ্টদানকারী হিসেবে আমাকে পাঠান নি।
হাসান, সহীহ হাদিস সিরিজ ১৫১৬, মুসলিম জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- সহীহ-গারীব। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৩৩১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا ابو داود الطيالسي، حدثنا عبد الواحد بن سليم، قال قدمت مكة فلقيت عطاء بن ابي رباح فقلت له يا ابا محمد ان اناسا عندنا يقولون في القدر . فقال عطاء لقيت الوليد بن عبادة بن الصامت قال حدثني ابي قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان اول ما خلق الله القلم فقال له اكتب فجرى بما هو كاىن الى الابد " . وفي الحديث قصة . قال هذا حديث حسن صحيح غريب . وفيه عن ابن عباس .
৩৩১৯. ইয়াহইয়া ইবন মূসা (রহঃ) ... আব্দুল ওয়াহিদ ইবন সুলায়ম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার আমি মক্কায় এলাম এবং আতা ইবন আবী রাবাহ (রহঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললামঃ হে আবু মুহাম্মদ! আমাদের এখানে কিছু লোক তাকদীর বিষয়ে নানা কথা বলে থাকে।
তখন আতা (রহঃ) বলেনঃ ওয়ালীদ ইবন উবাদা ইবনুস সামিত-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বললেনঃ তার পিতা উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন। আল্লাহ তা’আলা সবার আগে সৃষ্টি করেছেন কলম। তার পর তিনি সেটিকে লিখতে হুকুম করলেন। সেটি অনন্তকাল অবধি যা ঘটবে, সব কিছুই লিখে নিল।
হাদীসটিতে আরো ঘটনা আছে। হাদীসটি হাসান- সহীহ-গারীব। এই বিষয়ে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
তখন আতা (রহঃ) বলেনঃ ওয়ালীদ ইবন উবাদা ইবনুস সামিত-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বললেনঃ তার পিতা উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন। আল্লাহ তা’আলা সবার আগে সৃষ্টি করেছেন কলম। তার পর তিনি সেটিকে লিখতে হুকুম করলেন। সেটি অনন্তকাল অবধি যা ঘটবে, সব কিছুই লিখে নিল।
হাদীসটিতে আরো ঘটনা আছে। হাদীসটি হাসান- সহীহ-গারীব। এই বিষয়ে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৩২০
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرحمن بن سعد، عن عمرو بن ابي قيس، عن سماك بن حرب، عن عبد الله بن عميرة، عن الاحنف بن قيس، عن العباس بن عبد المطلب، قال زعم انه كان جالسا في البطحاء في عصابة ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس فيهم اذ مرت عليهم سحابة فنظروا اليها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل تدرون ما اسم هذه " . قالوا نعم هذا السحاب . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " والمزن " . قالوا والمزن . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " والعنان " . قالوا والعنان . ثم قال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل تدرون كم بعد ما بين السماء والارض " . فقالوا لا والله ما ندري . قال " فان بعد ما بينهما اما واحدة واما اثنتان او ثلاث وسبعون سنة والسماء التي فوقها كذلك " . حتى عددهن سبع سموات كذلك ثم قال " فوق السماء السابعة بحر بين اعلاه واسفله كما بين السماء الى السماء وفوق ذلك ثمانية اوعال بين اظلافهن وركبهن ما بين سماء الى سماء ثم فوق ظهورهن العرش بين اسفله واعلاه ما بين سماء الى سماء والله فوق ذلك " . قال عبد بن حميد سمعت يحيى بن معين يقول الا يريد عبد الرحمن بن سعد ان يحج حتى نسمع منه هذا الحديث . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وروى الوليد بن ابي ثور عن سماك نحوه ورفعه . وروى شريك عن سماك بعض هذا الحديث واوقفه ولم يرفعه وعبد الرحمن هو ابن عبد الله بن سعد الرازي .
৩৩২০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একদিন তিনি একদল লোকের সাথে বাহতা নামক স্থানে বসা ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাদের মাঝে উপকিষ্ট ছিলেন এমন সময় তাদের উপর দিয়ে একটা মেঘ উড়ে গেল। তাঁরা সে দিকে তাকান। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান এর নাম কি? তারা বলল হ্যাঁ এটি হল সাহাব (মেঘ)।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুযন (জালদ)-ও। তারা বললঃ মুযনও। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আনান (নীরদ)-ও। তরা বললঃ আনানও। এর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে কতটুক দুরত্ব কি তা কি তোমরা জান? তারা বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমরা তা জানি না।
তিনি বললেনঃ এতদুভয়ের মাঝে দুরত্ব হল একাত্তর বা বাহাত্তর বা তিহাত্তর বছরের পথ। এর উপর আসমানের দুরত্বও অনুরূপ। এভাবে তিনি সাত আসমানের উল্লেখ করেন। পরে বললেনঃ সপ্তম আকাশের উপর আছে সাগর। এর উপর ও নিচের দুরত্ব হল আসমান ও যমীনের দুরুত্বের অনুরূপ। এর উপর হল আটটি মেষ (আকৃতির ফিরিশতা) এগুলোর খুর থেকে নিয়ে হাটু পর্যন্ত হল এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের দুরত্বের সমান। এগুলোর পিঠের উপর হল আরশ। এর নিচ থেকে উপরের ব্যবধান হল দুই আকাশের মাঝের ব্যাবধানের অনুরূপ। এরও উর্ধ্বে হলেন আল্লাহর রাব্বুল ইযযত।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ১৯৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- গারীব। সিমাক (রহঃ) এর বরাতে ওয়ালীদ ইবন আবি ছাওর (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা কওেছেন এবং তিনি হাদীসটি মারফু করেছেন। সিমাক (রহঃ) থেকে শরীক (রহঃ) ও এই হাদীসটির কিছু আংশ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি মারফু রূপে নয়, মাওকুফরূপে এটির রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান (রহঃ) হলেন ইবন আবদুল্লাহ ইবন সা’দ রাযী।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুযন (জালদ)-ও। তারা বললঃ মুযনও। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আনান (নীরদ)-ও। তরা বললঃ আনানও। এর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে কতটুক দুরত্ব কি তা কি তোমরা জান? তারা বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমরা তা জানি না।
তিনি বললেনঃ এতদুভয়ের মাঝে দুরত্ব হল একাত্তর বা বাহাত্তর বা তিহাত্তর বছরের পথ। এর উপর আসমানের দুরত্বও অনুরূপ। এভাবে তিনি সাত আসমানের উল্লেখ করেন। পরে বললেনঃ সপ্তম আকাশের উপর আছে সাগর। এর উপর ও নিচের দুরত্ব হল আসমান ও যমীনের দুরুত্বের অনুরূপ। এর উপর হল আটটি মেষ (আকৃতির ফিরিশতা) এগুলোর খুর থেকে নিয়ে হাটু পর্যন্ত হল এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের দুরত্বের সমান। এগুলোর পিঠের উপর হল আরশ। এর নিচ থেকে উপরের ব্যবধান হল দুই আকাশের মাঝের ব্যাবধানের অনুরূপ। এরও উর্ধ্বে হলেন আল্লাহর রাব্বুল ইযযত।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ১৯৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- গারীব। সিমাক (রহঃ) এর বরাতে ওয়ালীদ ইবন আবি ছাওর (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা কওেছেন এবং তিনি হাদীসটি মারফু করেছেন। সিমাক (রহঃ) থেকে শরীক (রহঃ) ও এই হাদীসটির কিছু আংশ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি মারফু রূপে নয়, মাওকুফরূপে এটির রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান (রহঃ) হলেন ইবন আবদুল্লাহ ইবন সা’দ রাযী।
হাদিস নং: ৩৩২১
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن حميد الرازي، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن سعد، عن والده عبد الله بن سعد، . حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن سعد الرازي، وهو الدشتكي ان اباه، اخبره ان اباه رحمه الله اخبره كذا، قال اخبره قال رايت رجلا ببخارى على بغلة وعليه عمامة سوداء ويقول كسانيها رسول الله صلى الله عليه وسلم .
৩৩২১. মুহাম্মদ ইবন হুমায়দ আর রাযী বলেনঃ আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন সা’দ রাযী বর্ণনা করেন যে, তার পিতা আবদুল্লাহ ইবন সাদ রাযী বলেছেনঃ বুখারায় খচ্চরের উপর উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে আমি দেখেছি। তাঁর মাথায় ছিল কাল এক পাগড়ী। তিনি বলেছেনঃ এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছেন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৩২২
যঈফ (Dai'f)
حدثنا ابو كريب، حدثنا رشدين بن سعد، عن عمرو بن الحارث، عن دراج ابي السمح، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله : ( كالمهل ) قال " كعكر الزيت فاذا قربه الى وجهه سقطت فروة وجهه فيه " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث رشدين .
৩৩২২. আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আল্লাহর বাণীঃ (كالْمُهْلِ) এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ তেলের গাদের মত হবে। জাহান্নামীরা যখন তা মুখের কাছে নিবে, তার চেহারার চামড়া গলে তাতে পড়ে যাবে।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি গারীব। রিশদ্বীন (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি গারীব। রিশদ্বীন (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৩২৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، حدثني ابو الوليد، حدثنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، رضى الله عنهما قال ما قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم على الجن ولا راهم انطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم في طاىفة من اصحابه عامدين الى سوق عكاظ وقد حيل بين الشياطين وبين خبر السماء وارسلت عليهم الشهب فرجعت الشياطين الى قومهم فقالوا ما لكم قالوا حيل بيننا وبين خبر السماء وارسلت علينا الشهب . فقالوا ما حال بيننا وبين خبر السماء الا من امر حدث فاضربوا مشارق الارض ومغاربها فانظروا ما هذا الذي حال بينكم وبين خبر السماء قال فانطلقوا يضربون مشارق الارض ومغاربها يبتغون ما هذا الذي حال بينهم وبين خبر السماء فانصرف اولىك النفر الذين توجهوا الى نحو تهامة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بنخلة عامدا الى سوق عكاظ وهو يصلي باصحابه صلاة الفجر فلما سمعوا القران استمعوا له فقالوا هذا والله الذي حال بينكم وبين خبر السماء . قال فهنالك رجعوا الى قومهم فقالوا يا قومنا : ( انا سمعنا قرانا عجبا * يهدي الى الرشد فامنا به ولن نشرك بربنا احدا ) فانزل الله على نبيه : ( قل اوحي الى انه استمع ) وانما اوحي اليه قول الجن .
قال وبهذا الاسناد عن ابن عباس، قال قول الجن لقومهم (لما قام عبد الله يدعوه كادوا يكونون عليه لبدا ) قال لما راوه يصلي واصحابه يصلون بصلاته فيسجدون بسجوده قال تعجبوا من طواعية اصحابه له قالوا لقومهم : (لما قام عبد الله يدعوه كادوا يكونون عليه لبدا ) . قال هذا حديث حسن صحيح .
قال وبهذا الاسناد عن ابن عباس، قال قول الجن لقومهم (لما قام عبد الله يدعوه كادوا يكونون عليه لبدا ) قال لما راوه يصلي واصحابه يصلون بصلاته فيسجدون بسجوده قال تعجبوا من طواعية اصحابه له قالوا لقومهم : (لما قام عبد الله يدعوه كادوا يكونون عليه لبدا ) . قال هذا حديث حسن صحيح .
৩৩২৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন্নদের কাছে তিলওয়াত করেননি এবং তাদের তিনি দেখেনও নি। একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের একদল নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তখন আসমান থেকে খবর সংগ্রহের পথ শয়তান জিন্নদের জন্য রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের দিকে উল্কাপিন্ড নিক্ষেপ করা হত। তাই শয়তান জিন্নরা স্বসম্প্রদায়ে ফিরে আসে। তারা এদের বললঃ তোমাদের কি ব্যাপার?
এরা বললঃ আসমান থেকে খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমরা বাধা পাচ্ছি। আমাদের উপর উল্কাপিন্ড ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। এরা বললঃ নতুুন কোন ব্যাপার ঘটেছে বলে আসমান থেকে খবর সংগ্রহের বিষয়ে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। যমীনের পূর্ব-পশ্চিম সব দিকে বেরিয়ে পড়। দেখ সেটি কি যা আমরা ও আমাদের আকাশের খবর সংগ্রহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করছে।
তারপর তারা রওয়ানা হল এবং পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম সব দিক তালাশ করতে লাগল কি সে বস্ত। যদ্দরুন আকাশের খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাদের বাধা হচ্ছে। (আরবের) তিহামা অঞ্চলের দিকে যে দলটি যাত্রা করে ছিল তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে এল। তিনি উকায বাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে নাখলায় অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁর সাহাবী নিয়ে ফজরের সালাত (নামায) আদায় করছিলেন। জিন্নদের এ দল যখন কুরআনের আওয়াজ শুনল, তখন তারা এ দিকে কান পাতল এবং পরস্পর বললঃ আল্লাহর কসম, এই জিনিসই তোমাদের এবং আকাশের খবর সংগ্রহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করছে।
এখান থেকেই তারা নিজেদের কওমে ফিরে যায়। এবং বললঃ হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সঙ্গে কাউকে শরীক করব না। এতদপ্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিল করেনঃ
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا - يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا
বলুন, আমার কাছে ওয়াহী এসেছে যে, জিন্নদের একটি দল (আমার তিলাওয়াত) কান পেতে শুনেছে এবং বলেছে আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি (সূরা জিন্ন ৭২ঃ ১)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিন্নদের বক্তব্য ওয়াহী করা হয়েছিল।
সহীহ, বুখারি ৪৯২১, মুসলিম ২/৩৫, ৩৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ সনদে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেনঃ স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট জিন্নদের বক্তবের মাঝে ছিল। (لمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا) আল্লাহর বান্দা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকে ডাকতে (সালাতে) দন্ডায়মান হল, তখন তারা তার নিকট ভিড় করল। (সূরা জিন্ন ৭২ঃ ১৯) জিন্নরা যখন দেখল নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) আদায় করছে এবং সাহাবীরা তার সঙ্গে তার সালাত (নামায) অনুসারে সালাত (নামায) আদায় করছে, তাঁর সিজদা আনুসারে সিজদা করছে, তারা নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সাহাবীগণের এই অনুগত্য দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হয় এবং স্বীয় সম্প্রদায়কে এসে বলেঃ আল্লাহর বান্দা যখন তাঁকে ডাকতে (সালাতে) দন্ডায়মান হল, তখন তারা তার নিকট ভিড় করল। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এরা বললঃ আসমান থেকে খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমরা বাধা পাচ্ছি। আমাদের উপর উল্কাপিন্ড ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। এরা বললঃ নতুুন কোন ব্যাপার ঘটেছে বলে আসমান থেকে খবর সংগ্রহের বিষয়ে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। যমীনের পূর্ব-পশ্চিম সব দিকে বেরিয়ে পড়। দেখ সেটি কি যা আমরা ও আমাদের আকাশের খবর সংগ্রহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করছে।
তারপর তারা রওয়ানা হল এবং পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম সব দিক তালাশ করতে লাগল কি সে বস্ত। যদ্দরুন আকাশের খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাদের বাধা হচ্ছে। (আরবের) তিহামা অঞ্চলের দিকে যে দলটি যাত্রা করে ছিল তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে এল। তিনি উকায বাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে নাখলায় অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁর সাহাবী নিয়ে ফজরের সালাত (নামায) আদায় করছিলেন। জিন্নদের এ দল যখন কুরআনের আওয়াজ শুনল, তখন তারা এ দিকে কান পাতল এবং পরস্পর বললঃ আল্লাহর কসম, এই জিনিসই তোমাদের এবং আকাশের খবর সংগ্রহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করছে।
এখান থেকেই তারা নিজেদের কওমে ফিরে যায়। এবং বললঃ হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সঙ্গে কাউকে শরীক করব না। এতদপ্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিল করেনঃ
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا - يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا
বলুন, আমার কাছে ওয়াহী এসেছে যে, জিন্নদের একটি দল (আমার তিলাওয়াত) কান পেতে শুনেছে এবং বলেছে আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি (সূরা জিন্ন ৭২ঃ ১)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিন্নদের বক্তব্য ওয়াহী করা হয়েছিল।
সহীহ, বুখারি ৪৯২১, মুসলিম ২/৩৫, ৩৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ সনদে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেনঃ স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট জিন্নদের বক্তবের মাঝে ছিল। (لمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا) আল্লাহর বান্দা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকে ডাকতে (সালাতে) দন্ডায়মান হল, তখন তারা তার নিকট ভিড় করল। (সূরা জিন্ন ৭২ঃ ১৯) জিন্নরা যখন দেখল নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) আদায় করছে এবং সাহাবীরা তার সঙ্গে তার সালাত (নামায) অনুসারে সালাত (নামায) আদায় করছে, তাঁর সিজদা আনুসারে সিজদা করছে, তারা নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সাহাবীগণের এই অনুগত্য দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হয় এবং স্বীয় সম্প্রদায়কে এসে বলেঃ আল্লাহর বান্দা যখন তাঁকে ডাকতে (সালাতে) দন্ডায়মান হল, তখন তারা তার নিকট ভিড় করল। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩৩২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يحيى، حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا اسراىيل، حدثنا ابو اسحاق، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال كان الجن يصعدون الى السماء يستمعون الوحى فاذا سمعوا الكلمة زادوا فيها تسعا فاما الكلمة فتكون حقا واما ما زادوه فيكون باطلا فلما بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم منعوا مقاعدهم فذكروا ذلك لابليس ولم تكن النجوم يرمى بها قبل ذلك فقال لهم ابليس ما هذا الا من امر قد حدث في الارض فبعث جنوده فوجدوا رسول الله صلى الله عليه وسلم قاىما يصلي بين جبلين اراه قال بمكة فاتوه فاخبروه فقال هذا الذي حدث في الارض . قال هذا حديث حسن صحيح .
৩৩২৪. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ জিন্নরা আকাশে চড়ত এবং ওয়াহী শুনার প্রয়াস পেত। একটা কথা শুনতে পেলে তাতে তারা আরো নয়টি কথা আরো নিজের থেকে বাড়িয়ে দিত। একটা কথা তো হত সত্য, আর তাদের বর্ধিতগুলো হত মিথ্যা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী হিসাবে প্রেরিত হওয়ার পর তাদের এ উৎপাত ওুদ্ধ করে দেওয়া হয়। তারা এ বিষয়টি (তাদের নেতা) ইবলীসকে অবহিত করে। এরপূর্বে কখনও তাদের উপর উল্কাপিন্ড নিক্ষেপ করা হত না। ইবলীস তাদের বললঃ নিশ্চয়ই পৃথিবীতে নতুন কিছু ঘটেছে বলেই এই ধরণের বিষয় ঘটেছে।
তারপর সে তার বাহিনীকে বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করল। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় দুই পাহাড়ের মাঝে সালাত (নামায) আদায়রত অবস্থায় পেল। পরে তারা ইবলীসের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এই বিষয়ে অবহিত করে। সে বলল নতুন এই ঘটনাই পৃথিবীতে ঘটেছে।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান- সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
তারপর সে তার বাহিনীকে বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করল। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় দুই পাহাড়ের মাঝে সালাত (নামায) আদায়রত অবস্থায় পেল। পরে তারা ইবলীসের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এই বিষয়ে অবহিত করে। সে বলল নতুন এই ঘটনাই পৃথিবীতে ঘটেছে।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান- সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৩২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، حدثنا معمر، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن جابر بن عبد الله، رضى الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يحدث عن فترة الوحى فقال في حديثه " بينما انا امشي سمعت صوتا من السماء فرفعت راسي فاذا الملك الذي جاءني بحراء جالس على كرسي بين السماء والارض فجثثت منه رعبا فرجعت فقلت زملوني زملوني . فدثروني فانزل الله عز وجل : ( يا ايها المدثر * قم فانذر ) الى قوله : (والرجز فاهجر) قبل ان تفرض الصلاة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد رواه يحيى بن ابي كثير عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن جابر ابو سلمة اسمه عبد الله .
৩৩২৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাময়িকভাবে ওয়াহী অবতরণ বন্ধ থাকা (ফাতরাতুল ওয়াহী) সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তার বর্ণনায় বলেছেন। আমি হাঁটছিলাম এমন সময় আসমান থেকে একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমার মাথা উপরে তুললাম দেখি হেরা গুহায় যে ফিরি্শতা আমার কাছে এসেছিলেন, তিনি আসমান ও যমীনের মাঝে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। পরে ঘরে ফিরে আসলাম। বললামঃ আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। বাড়ির লোকেরা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। আল্লাহ তায়ালা তখন নাযিল করলেনঃ
يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ إِلَى قَوْلِهِ : والرُّجْزَ فَاهْجُرْ
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠুন সতর্কবাণী প্রচার করুন। অপবিত্রতা থেকে দুরে থাকুন। (সূরা মুদ্দাছছির ৭৪ঃ ১-৪) এ ছিল সালাত (নামায) ফরয হওয়ার আগের ঘটনা।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবন আবু কাছীর (রহঃ) এ হাদীসটি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকেও বর্ণনা করেছেন।
يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ إِلَى قَوْلِهِ : والرُّجْزَ فَاهْجُرْ
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠুন সতর্কবাণী প্রচার করুন। অপবিত্রতা থেকে দুরে থাকুন। (সূরা মুদ্দাছছির ৭৪ঃ ১-৪) এ ছিল সালাত (নামায) ফরয হওয়ার আগের ঘটনা।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবন আবু কাছীর (রহঃ) এ হাদীসটি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকেও বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৩৩২৬
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا الحسن بن موسى، عن ابن لهيعة، عن دراج، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الصعود جبل من نار يتصعد فيه الكافر سبعين خريفا ثم يهوي به كذلك فيه ابدا " . قال هذا حديث غريب انما نعرفه مرفوعا من حديث ابن لهيعة . وقد روي شيء من هذا عن عطية عن ابي سعيد قوله موقوف .
৩৩২৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আস সাউদ (الصَّعُودُ) হল জাহান্নামের একটি পাহাড়। তাতে চড়বে সত্তর বছর বয়সে এবং নামবেও সে পরিমাণ সময়ে সর্বদা।
এ হাদীসটি গারীব। ইবন লাহীআ (রহঃ) এর হাদীস হিসাবে কেবল এটিকে মারফূ’ হিসাবে আমরা জানি। আতিয়্যা ... আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এ ধরনের কিছু বিষয় মাওকুফরূপে বর্ণিত আছে।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি গারীব। ইবন লাহীআ (রহঃ) এর হাদীস হিসাবে কেবল এটিকে মারফূ’ হিসাবে আমরা জানি। আতিয়্যা ... আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এ ধরনের কিছু বিষয় মাওকুফরূপে বর্ণিত আছে।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৩২৭
সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن مجالد، عن الشعبي، عن جابر بن عبد الله، قال قال ناس من اليهود لاناس من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم هل يعلم نبيكم كم عدد خزنة جهنم قالوا لا ندري حتى نسال نبينا . فجاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا محمد غلب اصحابك اليوم . قال " وبم غلبوا " . قال سالهم يهود هل يعلم نبيكم كم عدد خزنة جهنم قال " فما قالوا " . قال قالوا لا ندري حتى نسال نبينا . قال " افغلب قوم سىلوا عما لا يعلمون فقالوا لا نعلم حتى نسال نبينا لكنهم قد سالوا نبيهم فقالوا ارنا الله جهرة على باعداء الله اني ساىلهم عن تربة الجنة وهي الدرمك " . فلما جاءوا قالوا يا ابا القاسم كم عدد خزنة جهنم قال " هكذا وهكذا " . في مرة عشرة وفي مرة تسع . قالوا نعم . قال لهم النبي صلى الله عليه وسلم " ما تربة الجنة " . قال فسكتوا هنيهة ثم قالوا خبزة يا ابا القاسم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الخبز من الدرمك " . قال هذا حديث غريب انما نعرفه من هذا الوجه من حديث مجالد .
৩৩২৭. ইবন আবু উমার (রহঃ) ..... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ ইয়াহুদীদের কিছু লোক একবার কিছু সংখ্যক সাহাবীকে বললঃ তোমাদের নবী কি জানেন জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা কত? সাহাবীরা বললেনঃ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা পর্যন্ত তো আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।
এক ব্যক্তি তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল হে মুহাম্মদ! আপনার সাহাবীরা তো আজ পরাজিত হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ কিসে তারা পরাজিত হল? লোকটি বললঃ ইয়াহুদীরা জিজ্ঞাসা করেছিল, তোমাদের নবী কি জানেন জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা কত? তিনি বললেনঃ তারা কি জওয়ব দিল? লোকটি বললঃ তারা বলল, আমাদের নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তো আমরা এ বিষয়ে কিছু জানিনা।
তিনি বললেনঃ যে বিষয়ে তারা জানে না সে বিষয়ে যদি কোন সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন যদি তারা বলে, আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না - তবে তাতে কি এ লোকদের কে পরাজিত বলা যায়? তারা তো তাদের নবীকেও প্রশ্ন করেছিল। বলেছিলঃ আল্লাহকে আমাদের চাক্ষুস দেখিয়ে দিন। আল্লাহর এ দুশমনদের আমার কাছে আসতে বল। আমি তাদেরকে জান্নাতের মাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। আর তা হল ময়দার মত।
এরা যখন এল, তখন বললঃ হে আবুল কাসিম! জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা কত? তিনি বললেন এত এবং এত। প্রথমবার দশ এবং দ্বিতীয় বার নয় বলে ঈঙ্গিত করলেন। তারা বললঃ ঠিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেনঃ জান্নাতের মাটি কিসের? তারা কিছুক্ষন চুপ করে রইল পরে বললঃ এত রুটির মত। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ময়দার রুটির মত।
যঈফ, যঈফা ৩৩৪৮, মুসলিম ৮/১৯১, আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাঈদকে বললেনঃ জান্নাতের মাটি কেমন? তিনি বললেনঃ সাদা ময়দা মিসকের মত সুগন্ধি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সত্য বলেছ।
হাদীসটি গারীব। মুজালিদের রিওয়ায়াত হিসাবেই কেবল এ হাদীসটি সম্পর্কে আমরা জানি।
এক ব্যক্তি তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল হে মুহাম্মদ! আপনার সাহাবীরা তো আজ পরাজিত হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ কিসে তারা পরাজিত হল? লোকটি বললঃ ইয়াহুদীরা জিজ্ঞাসা করেছিল, তোমাদের নবী কি জানেন জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা কত? তিনি বললেনঃ তারা কি জওয়ব দিল? লোকটি বললঃ তারা বলল, আমাদের নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তো আমরা এ বিষয়ে কিছু জানিনা।
তিনি বললেনঃ যে বিষয়ে তারা জানে না সে বিষয়ে যদি কোন সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন যদি তারা বলে, আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না - তবে তাতে কি এ লোকদের কে পরাজিত বলা যায়? তারা তো তাদের নবীকেও প্রশ্ন করেছিল। বলেছিলঃ আল্লাহকে আমাদের চাক্ষুস দেখিয়ে দিন। আল্লাহর এ দুশমনদের আমার কাছে আসতে বল। আমি তাদেরকে জান্নাতের মাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। আর তা হল ময়দার মত।
এরা যখন এল, তখন বললঃ হে আবুল কাসিম! জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা কত? তিনি বললেন এত এবং এত। প্রথমবার দশ এবং দ্বিতীয় বার নয় বলে ঈঙ্গিত করলেন। তারা বললঃ ঠিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেনঃ জান্নাতের মাটি কিসের? তারা কিছুক্ষন চুপ করে রইল পরে বললঃ এত রুটির মত। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ময়দার রুটির মত।
যঈফ, যঈফা ৩৩৪৮, মুসলিম ৮/১৯১, আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাঈদকে বললেনঃ জান্নাতের মাটি কেমন? তিনি বললেনঃ সাদা ময়দা মিসকের মত সুগন্ধি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সত্য বলেছ।
হাদীসটি গারীব। মুজালিদের রিওয়ায়াত হিসাবেই কেবল এ হাদীসটি সম্পর্কে আমরা জানি।
হাদিস নং: ৩৩২৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا الحسن بن الصباح البزار، حدثنا زيد بن حباب، اخبرنا سهيل بن عبد الله القطعي، وهو اخو حزم بن ابي حزم القطعي عن ثابت، عن انس بن مالك، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال في هذه الاية ( هو اهل التقوى واهل المغفرة ) قال قال الله عز وجل انا اهل ان اتقى فمن اتقاني فلم يجعل معي الها فانا اهل ان اغفر له قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وسهيل ليس بالقوي في الحديث وقد تفرد بهذا الحديث عن ثابت
৩৩২৮. হাসান ইবন সাব্বাহ বাযযার (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ (هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ) - একমাত্র তিনিই ভয়যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী। (সূরা মুদ্দাছছির ৭৪ঃ ৫৬) আয়তটি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, আমিই ভয় করার যোগ্য; যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করবে সে আমার সঙ্গে অন্য ইলাহকে শরীক করবে না। তখন আমিই তাকে ক্ষমা করে দিব।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৪২৯৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- গারীব। বর্ণনাকারী সুহায়ল হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন। ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সুহায়ল একা।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৪২৯৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- গারীব। বর্ণনাকারী সুহায়ল হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন। ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সুহায়ল একা।
হাদিস নং: ৩৩২৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن موسى بن ابي عاىشة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا انزل عليه القران يحرك به لسانه يريد ان يحفظه فانزل الله : ( لا تحرك به لسانك لتعجل به ) قال فكان يحرك به شفتيه وحرك سفيان شفتيه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال علي قال يحيى بن سعيد اثنى سفيان الثوري على موسى بن ابي عاىشة خيرا .
৩৩২৯. ইবন আবু উমার (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যখন কুরআন নাযিল হত তখন তাড়াতাড়ি তা আয়ত্ব করার উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জিহ্বা নাড়াতে থাকতেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ (لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ) - তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা এর সাথে সঞ্চালন করবেন না। (সূরা কিয়ামা ৭৫ঃ ১৬)। তিনি তাঁর ঠোঁট নাড়াতেন। রাবী সুফয়ান (রহঃ)-ও তার ঠোঁট নেড়ে দেখিয়েছেন।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- সহীহ। আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল কাত্তান (রহঃ) বলেছেন যে, সুফওয়ান ছওরী (রহঃ) মূসা ইবন আবু আয়িশা (রহঃ) এর প্রশংসা করতেন।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- সহীহ। আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল কাত্তান (রহঃ) বলেছেন যে, সুফওয়ান ছওরী (রহঃ) মূসা ইবন আবু আয়িশা (রহঃ) এর প্রশংসা করতেন।