হাদিস নং: ৭৫৯
হাসান (Hasan)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، قال انبانا شعبة، عن الاعمش، قال سمعت يحيى بن سام، يحدث عن موسى بن طلحة، قال سمعت ابا ذر، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا ابا ذر اذا صمت من الشهر ثلاثة ايام فصم ثلاث عشرة واربع عشرة وخمس عشرة " . وفي الباب عن ابي قتادة وعبد الله بن عمرو وقرة بن اياس المزني وعبد الله بن مسعود وابي عقرب وابن عباس وعاىشة وقتادة بن ملحان وعثمان بن ابي العاصي وجرير . قال ابو عيسى حديث ابي ذر حديث حسن . وقد روي في بعض الحديث ان " من صام ثلاثة ايام من كل شهر كان كمن صام الدهر " .
৭৫৯. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন, হে আবূ যার! প্রতি মাসে যদি তিন দিন সিয়াম পালন করতে চাও তবে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখের সিয়াম পালন করো। - ইরওয়া ৯৪৭, মিশকাত তাহকিক ছানী ২০৫৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ কাতাদা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, কররা ইবনু ইয়াস আল-মুযানী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, আবূ আকরাব, ইবনু আব্বাস, আয়িশা, কাতাদা ইবনু মিলহান, উসমান ইবনু আবূল আসী ও জারীর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ যার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। কতক হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করল।
এই বিষয়ে আবূ কাতাদা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, কররা ইবনু ইয়াস আল-মুযানী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, আবূ আকরাব, ইবনু আব্বাস, আয়িশা, কাতাদা ইবনু মিলহান, উসমান ইবনু আবূল আসী ও জারীর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ যার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। কতক হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করল।
হাদিস নং: ৭৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن عاصم الاحول، عن ابي عثمان النهدي، عن ابي ذر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من صام من كل شهر ثلاثة ايام فذلك صيام الدهر " . فانزل الله عز وجل تصديق ذلك في كتابه : (من جاء بالحسنة فله عشر امثالها ) . اليوم بعشرة ايام . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روى شعبة هذا الحديث عن ابي شمر وابي التياح عن ابي عثمان عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৭৬০. হান্নাদ (রহঃ) ...... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে তবে তা যেন সারা বছরই সিয়াম পালন করা হলো। এর সমর্থনে আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে আয়াত নাযিল করলেনঃ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا (অর্থ) কেউ যদি একটি নেক কাজ করে তবে তার প্রতিদান হলো এর দশগুণ। সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান। - ইরওয়া, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, শুবা (রহঃ) এই হাদীসটি আবূত তায়্যাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, শুবা (রহঃ) এই হাদীসটি আবূত তায়্যাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৭৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، اخبرنا شعبة، عن يزيد الرشك، قال سمعت معاذة، قالت قلت لعاىشة اكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصوم ثلاثة ايام من كل شهر قالت نعم . قلت من ايه كان يصوم قالت كان لا يبالي من ايه صام . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال ويزيد الرشك هو يزيد الضبعي وهو يزيد بن القاسم وهو القسام والرشك هو القسام بلغة اهل البصرة .
৭৬১. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ...... মুআযাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আয়িশা (রাঃ) কে বললাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বললাম, কোন তারিখ তিনি এই সিয়াম পালন করতেন? তিনি বললেন, কোন তিন দিন এই সিয়াম পালন করবেন এই বিষয়ে তিনি কোন পরওয়া করতেন না। - ইবনু মাজাহ ১৭০৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান-সহীহ। রাবী ইয়াযীদ আর-রিশক হলেন, ইয়াযীদ আয-যুবাঈ আর ইনিই ইয়াযীদ আল-কাসিম। ইনি ছিলেন বন্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় রিশক অর্থ হলো বন্টনকারী।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান-সহীহ। রাবী ইয়াযীদ আর-রিশক হলেন, ইয়াযীদ আয-যুবাঈ আর ইনিই ইয়াযীদ আল-কাসিম। ইনি ছিলেন বন্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় রিশক অর্থ হলো বন্টনকারী।
হাদিস নং: ৭৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمران بن موسى القزاز، حدثنا عبد الوارث بن سعيد، حدثنا علي بن زيد، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان ربكم يقول كل حسنة بعشر امثالها الى سبعماىة ضعف والصوم لي وانا اجزي به الصوم جنة من النار ولخلوف فم الصاىم اطيب عند الله من ريح المسك وان جهل على احدكم جاهل وهو صاىم فليقل اني صاىم " . وفي الباب عن معاذ بن جبل وسهل بن سعد وكعب بن عجرة وسلامة بن قيصر وبشير ابن الخصاصية . واسم بشير زحم بن معبد والخصاصية هي امه . قال ابو عيسى وحديث ابي هريرة حديث حسن غريب من هذا الوجه .
৭৬২. ইমরান ইবনু মূসা আল-কাযযায (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের রব বলেছেন, প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান হলো দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত। সাওম হলো আমারই জন্য। সুতরাং আমি নিজে এর প্রতিদান দিব। সাওম হলো জাহান্নাম থেকে ঢাল স্বরুপ। সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশক আম্বরের গন্ধের চেয়েও অধিক পছন্দনীয়। সাওম পালন অবস্থায় কোন জাহিল (মূর্খ) যদি তোমাদের কারো সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করে তবে সে যেন বলে আমি তো সাওম পালন করছি। - তা’লীকুর রাগীব ২/৫৭-৫৮, সহিহ আবু দাউদ ২০৪৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মুআয ইবনু জাবাল, সাহল ইবনু সা’দ, কাব ইবনু উজরা, সালামা ইবনু কায়সার বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। বাশীর (রাঃ) এর নাম হল যাহম ইবনু মাবাদ। খাসাসিয়্যা হলেন তাঁর মাতা। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
এই বিষয়ে মুআয ইবনু জাবাল, সাহল ইবনু সা’দ, কাব ইবনু উজরা, সালামা ইবনু কায়সার বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। বাশীর (রাঃ) এর নাম হল যাহম ইবনু মাবাদ। খাসাসিয়্যা হলেন তাঁর মাতা। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ৭৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عامر العقدي، عن هشام بن سعد، عن ابي حازم، عن سهل بن سعد، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان في الجنة لبابا يدعى الريان يدعى له الصاىمون فمن كان من الصاىمين دخله ومن دخله لم يظما ابدا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
৭৬৩. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে; একে ’’রায়্যান’’ নামে অভিহিত করা হয়। এই দরজা দিয়ে সাওম পালনকারীদের ডাকা হবে। যারা সাওম পালনকারী তারা এই দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করবে সে কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না। - ইবনু মাজাহ ১৬৪০, "তৃষ্ণার্ত হবে না" বাক্যাংশ ব্যাতিত, বুখারি ও মুসলিম,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ৭৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " للصاىم فرحتان فرحة حين يفطر وفرحة حين يلقى ربه " . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح .
৭৬৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সায়েমের জন্য দু’টি আনন্দ। একটি আনন্দ হলো যখন সে ইফতার করে; আরেকটি হলো যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। - ইবনু মাজাহ ১৬৩৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، واحمد بن عبدة الضبي، قالا حدثنا حماد بن زيد، عن غيلان بن جرير، عن عبد الله بن معبد، عن ابي قتادة، قال قيل يا رسول الله كيف بمن صام الدهر قال " لا صام ولا افطر " . او " لم يصم ولم يفطر " . وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وعبد الله بن الشخير وعمران بن حصين وابي موسى . قال ابو عيسى حديث ابي قتادة حديث حسن . وقد كره قوم من اهل العلم صيام الدهر واجازه قوم اخرون وقالوا انما يكون صيام الدهر اذا لم يفطر يوم الفطر ويوم الاضحى وايام التشريق فمن افطر هذه الايام فقد خرج من حد الكراهية ولا يكون قد صام الدهر كله . هكذا روي عن مالك بن انس وهو قول الشافعي . وقال احمد واسحاق نحوا من هذا وقالا لا يجب ان يفطر اياما غير هذه الخمسة الايام التي نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عنها يوم الفطر ويوم الاضحى وايام التشريق .
৭৬৫. কুতায়বা ও আহমাদ ইবনু আবদা (রহঃ) ...... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল যে ব্যক্তি সারা বছর সাওম পালন করবে তার কেমন হবে? তিনি বললেন তার সাওম হলো না, ইফতারও হলো না। - ইরওয়া ৯৫২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনুু-শিখখীর, ইমরান ইবনু হুসাইন ও আবূ মূসা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আলিমগণের একদল সাওমুদ্দাহর অর্থ্যাৎ সারা বছর সাওম পালন করা মাকরূহ বলে মনে করেন। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে যদি কেউ সাওম পালন করে তবে তা হবে সাওমুদ্দাহার। এই দিনগুলোতে যে সাওম পালন করবেনা সে উপরোক্ত নিষিদ্ধ সীমা থেকে বের হয়ে যাবে এবং সে সাওমুদ্দাহার পালনকারী রূপে গণ্য হবে না। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে এই ধরণের অভিমত বর্ণিত আছে। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও বক্তব্য অনুরূপ। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং আইয়্যামে তাশরীক এই যে পাঁচটি দিন সাওম পালন করতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সেই পাঁচটি দিন ছাড়া অন্য কোন দিনের সাওম পরিত্যাগ করা ওয়াজিব নয়।
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনুু-শিখখীর, ইমরান ইবনু হুসাইন ও আবূ মূসা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আলিমগণের একদল সাওমুদ্দাহর অর্থ্যাৎ সারা বছর সাওম পালন করা মাকরূহ বলে মনে করেন। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে যদি কেউ সাওম পালন করে তবে তা হবে সাওমুদ্দাহার। এই দিনগুলোতে যে সাওম পালন করবেনা সে উপরোক্ত নিষিদ্ধ সীমা থেকে বের হয়ে যাবে এবং সে সাওমুদ্দাহার পালনকারী রূপে গণ্য হবে না। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে এই ধরণের অভিমত বর্ণিত আছে। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও বক্তব্য অনুরূপ। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং আইয়্যামে তাশরীক এই যে পাঁচটি দিন সাওম পালন করতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সেই পাঁচটি দিন ছাড়া অন্য কোন দিনের সাওম পরিত্যাগ করা ওয়াজিব নয়।
হাদিস নং: ৭৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن عبد الله بن شقيق، قال سالت عاىشة عن صيام النبي، صلى الله عليه وسلم قالت كان يصوم حتى نقول قد صام ويفطر حتى نقول قد افطر . قالت وما صام رسول الله صلى الله عليه وسلم شهرا كاملا الا رمضان . وفي الباب عن انس وابن عباس . قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح .
৭৬৬. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ভাবে সাওম পালন করতেন যে এমনকি আমরা বলতাম, তিনি তো সাওম পালন করে যাচ্ছেন। আবার সাওম পালন থেকে যখন বিরত থাকতেন তখন আমরা বলতে থাকতাম তিনি বুঝি আর সাওম পালন করবেনই না। রামাযান ছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোন (পূর্ণ) মাসেই সাওম পালন করেননি। - ইবনু মাজাহ ১৭১০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এই বিষয়ে আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، حدثنا اسماعيل بن جعفر، عن حميد، عن انس بن مالك، انه سىل عن صوم النبي، صلى الله عليه وسلم قال كان يصوم من الشهر حتى نرى انه لا يريد ان يفطر منه ويفطر حتى نرى انه لا يريد ان يصوم منه شيىا وكنت لا تشاء ان تراه من الليل مصليا الا رايته مصليا ولا ناىما الا رايته ناىما . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৭৬৭. আলী ইবনু হুজুর (রাঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাকে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, প্রতি মাসে তিনি যখন সাওম পালন করতে থাকতেন তখন মনে হত যে বুঝি আর সাওম ছাড়ার কোন ইচ্ছা নাই। এভাবে যখন তিনি সাওম ছাড়তেন তখন মনে হত তাঁর বুঝি আর এই মাসের সাওম পালনের ইচ্ছা নাই। তাকে যদি তুমি রাত্রে সালাত (নামায/নামাজ) রত অবস্থায় ছাড়া দেখতে না চাইতে তবে সে অবস্থায়ই দেখতে পেতে আর যদি নিদ্রারত অবস্থায় ছাড়া দেখতে না চাইতে তবে সে অবস্থায়ই দেখতে পেতে। - বুখারি ১৯৭২, মুসলিম ৩/১৬২, সালাতের বাক্যাংশ বাদে সংক্ষিপ্তভাবে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন,এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন,এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن مسعر، وسفيان، عن حبيب بن ابي ثابت، عن ابي العباس، عن عبد الله بن عمرو، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " افضل الصوم صوم اخي داود كان يصوم يوما ويفطر يوما ولا يفر اذا لاقى " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو العباس هو الشاعر المكي الاعمى واسمه الساىب بن فروخ . قال بعض اهل العلم افضل الصيام ان تصوم يوما وتفطر يوما . ويقال هذا هو اشد الصيام .
৭৬৮. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম সাওম হলো আমার ভাই দাঊদ (আঃ) এর সাওম। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন এবং একদিন তা ছাড়তেন। আর (যুদ্ধে শত্রুর) সম্মুখীন হলে তিনি যেখান থেকে পলায়ন করতেন না। - বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূল আব্বাস ছিলেন মক্কার কবি ও অন্ধ ব্যক্তি। তাঁর নাম হলো সাঈদ ইবনু ফাররুখ। কতক আলিম বলেন, সর্বোত্তম সাওম হলো একদিন সাওম পালন করা এবং একদিন তা ছেড়ে দেওয়া। বলা হয় এই ধরণের সিয়াম হলো কঠিন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূল আব্বাস ছিলেন মক্কার কবি ও অন্ধ ব্যক্তি। তাঁর নাম হলো সাঈদ ইবনু ফাররুখ। কতক আলিম বলেন, সর্বোত্তম সাওম হলো একদিন সাওম পালন করা এবং একদিন তা ছেড়ে দেওয়া। বলা হয় এই ধরণের সিয়াম হলো কঠিন।
হাদিস নং: ৭৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الملك بن ابي الشوارب، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا معمر، عن الزهري، عن ابي عبيد، مولى عبد الرحمن بن عوف قال شهدت عمر بن الخطاب في يوم النحر بدا بالصلاة قبل الخطبة ثم قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن صوم هذين اليومين اما يوم الفطر ففطركم من صومكم وعيد للمسلمين واما يوم الاضحى فكلوا من لحوم نسككم . قال هذا حديث صحيح . وابو عبيد مولى عبد الرحمن بن عوف اسمه سعد ويقال له مولى عبد الرحمن بن ازهر ايضا وعبد الرحمن بن ازهر هو ابن عم عبد الرحمن بن عوف .
৭৬৯. মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনু আবূশ শাওয়াবির (রহঃ) .... আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস আবূ উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিন আমি উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে দেখেছি যে, তিনি খুতবা প্রদানের আগে প্রথমে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এই দুই ঈদের দিন সাওম পালন নিষেধ করতে শুনেছি। ঈদুল ফিতরের দিন হল তো তোমাদের সিয়াম ভঙ্গের দিন এবং মুসলিমের ঈদের দিন। ইহা আযহার দিন সেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর মাংস আহার করবে। - ইবনু মাজাহ ১৭২২, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সহীহ। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এর মাওলা বা আযাদকৃত দাস আবূ ওবায়দের নাম হলো সা’দ। তাকে আবদুর রহমান আযহার এ মাওলাও বলা হয়। আব্দুর রহমান ইবনু আযহার হলেন, আব্দুর রহমান আওফ (রাঃ) এর চাচাত ভাই।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সহীহ। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এর মাওলা বা আযাদকৃত দাস আবূ ওবায়দের নাম হলো সা’দ। তাকে আবদুর রহমান আযহার এ মাওলাও বলা হয়। আব্দুর রহমান ইবনু আযহার হলেন, আব্দুর রহমান আওফ (রাঃ) এর চাচাত ভাই।
হাদিস নং: ৭৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن عمرو بن يحيى، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيامين يوم الاضحى ويوم الفطر . قال وفي الباب عن عمر وعلي وعاىشة وابي هريرة وعقبة بن عامر وانس . قال ابو عيسى حديث ابي سعيد حديث حسن صحيح . والعمل عليه عند اهل العلم . قال ابو عيسى وعمرو بن يحيى هو ابن عمارة بن ابي الحسن المازني المدني وهو ثقة روى عنه سفيان الثوري وشعبة ومالك بن انس .
৭৭০. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই দিনের সাওম থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন। - ইবনু মাজাহ ১৭২১, বুখারি, ইরওয়া ৯৬২, আর রাওয ৬৪৩, সহিহ আবু দাউদ ২০৮৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমার, আলী, আয়িশা, আবূ হুরায়রা, উকবা ইবনু আমির ও আনাস (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, বারী আমর ইবনু ইয়াহইয়া হলেন ইবনু উমারা ইবনু আবূল হাসান আল-মাযীনী। তিনি ছিকাহ। তার থেকে সুফিয়ান সাওরী ও শু’বা (রহঃ) ও মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।
এই বিষয়ে উমার, আলী, আয়িশা, আবূ হুরায়রা, উকবা ইবনু আমির ও আনাস (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, বারী আমর ইবনু ইয়াহইয়া হলেন ইবনু উমারা ইবনু আবূল হাসান আল-মাযীনী। তিনি ছিকাহ। তার থেকে সুফিয়ান সাওরী ও শু’বা (রহঃ) ও মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৭৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن موسى بن على، عن ابيه، عن عقبة بن عامر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يوم عرفة ويوم النحر وايام التشريق عيدنا اهل الاسلام وهي ايام اكل وشرب " . قال وفي الباب عن علي وسعد وابي هريرة وجابر ونبيشة وبشر بن سحيم وعبد الله بن حذافة وانس وحمزة بن عمرو الاسلمي وكعب بن مالك وعاىشة وعمرو بن العاص وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى وحديث عقبة بن عامر حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم يكرهون الصيام ايام التشريق الا ان قوما من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم رخصوا للمتمتع اذا لم يجد هديا ولم يصم في العشر ان يصوم ايام التشريق . وبه يقول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق . قال ابو عيسى واهل العراق يقولون موسى بن علي بن رباح واهل مصر يقولون موسى بن على . وقال سمعت قتيبة يقول سمعت الليث بن سعد يقول قال موسى بن علي لا اجعل احدا في حل صغر اسم ابي .
৭৭১. হান্নাদ (রহঃ) ..... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আরাফার দিন, কুরবানীর দিন এবং আয়্যামা তাশরীক হলো আমরা মুসলিম জনগণের ঈদের দিন। এ দিনগুলো হলো পানাহারের দিন। - সহিহ আবু দাউদ ২০৯০, ইরওয়া ৪/১৩০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, সা’দ, আবূ হুরায়রা, জাবির, নুবায়শা বিশর ইবনু সুহায়ম, আবদুল্লাহ ইবনু হুযায়ফা, আনাস, হামযা ইবনু আমর আল-আসলামী, কাব ইবনু মালিক, আয়িশা, আমর ইবনু আস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, উকবা ইবনু আমির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা আয়্যামে তাশরীকের সিয়াম হারাম বলে মনে করেন। কিন্তু সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণের তামাত্তু হজ্জ পালনকারীর জন্য এই দিনগুলোর সিয়াম পালনের অবকাশ দিয়েছেন। শর্ত হয় যদি সে হাদী না পায় এবং প্রথম দশ দিনের মধ্যে সে যদি সাওম পালন করতে না পেরে থাকে তবে তাদের মতে সে আয়্যামে তাশরীকে ঐ সাওম পালন করতে পারবে। ইমাম মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এই মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইরাকবাসী মুহাদ্দীছগণ বলেন, মূসা ইবনু আলী ইবনু রাবাহ। মিসরবাসীগণ বলেন, মূসা ইবনু আলী এবং আবূ ঈসা (রহঃ) আরও বলেন, আমি কুতায়বাকে বলতে শুনেছি তিনি বলতে শুনেছেন যে, মূসা ইবনু আলী বলেছেন, আমার পিতার নাম তাসগীর রূপে উচ্চারণ কারো হালাল মনে করি না।
এই বিষয়ে আলী, সা’দ, আবূ হুরায়রা, জাবির, নুবায়শা বিশর ইবনু সুহায়ম, আবদুল্লাহ ইবনু হুযায়ফা, আনাস, হামযা ইবনু আমর আল-আসলামী, কাব ইবনু মালিক, আয়িশা, আমর ইবনু আস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, উকবা ইবনু আমির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা আয়্যামে তাশরীকের সিয়াম হারাম বলে মনে করেন। কিন্তু সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণের তামাত্তু হজ্জ পালনকারীর জন্য এই দিনগুলোর সিয়াম পালনের অবকাশ দিয়েছেন। শর্ত হয় যদি সে হাদী না পায় এবং প্রথম দশ দিনের মধ্যে সে যদি সাওম পালন করতে না পেরে থাকে তবে তাদের মতে সে আয়্যামে তাশরীকে ঐ সাওম পালন করতে পারবে। ইমাম মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এই মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইরাকবাসী মুহাদ্দীছগণ বলেন, মূসা ইবনু আলী ইবনু রাবাহ। মিসরবাসীগণ বলেন, মূসা ইবনু আলী এবং আবূ ঈসা (রহঃ) আরও বলেন, আমি কুতায়বাকে বলতে শুনেছি তিনি বলতে শুনেছেন যে, মূসা ইবনু আলী বলেছেন, আমার পিতার নাম তাসগীর রূপে উচ্চারণ কারো হালাল মনে করি না।
হাদিস নং: ৭৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يحيى، ومحمد بن رافع النيسابوري، ومحمود بن غيلان، ويحيى بن موسى، قالوا حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن يحيى بن ابي كثير، عن ابراهيم بن عبد الله بن قارظ، عن الساىب بن يزيد، عن رافع بن خديج، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " افطر الحاجم والمحجوم " . قال ابو عيسى وفي الباب عن علي وسعد وشداد بن اوس وثوبان واسامة بن زيد وعاىشة ومعقل بن سنان ويقال ابن يسار وابي هريرة وابن عباس وابي موسى وبلال . قال ابو عيسى وحديث رافع بن خديج حديث حسن . وذكر عن احمد بن حنبل انه قال اصح شيء في هذا الباب حديث رافع بن خديج . وذكر عن علي بن عبد الله انه قال اصح شيء في هذا الباب حديث ثوبان وشداد بن اوس لان يحيى بن ابي كثير روى عن ابي قلابة الحديثين جميعا حديث ثوبان وحديث شداد بن اوس . وقد كره قوم من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم الحجامة للصاىم حتى ان بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم احتجم بالليل منهم ابو موسى الاشعري وابن عمر وبهذا يقول ابن المبارك . قال ابو عيسى سمعت اسحاق بن منصور يقول قال عبد الرحمن بن مهدي من احتجم وهو صاىم فعليه القضاء . قال اسحاق بن منصور وهكذا قال احمد بن حنبل واسحاق بن ابراهيم . وقال ابو عيسى واخبرني الحسن بن محمد الزعفراني قال قال الشافعي قد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه احتجم وهو صاىم وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " افطر الحاجم والمحجوم " . ولا اعلم واحدا من هذين الحديثين ثابتا ولو توقى رجل الحجامة وهو صاىم كان احب الى ولو احتجم صاىم لم ار ذلك ان يفطره . قال ابو عيسى هكذا كان قول الشافعي ببغداد واما بمصر فمال الى الرخصة ولم ير بالحجامة للصاىم باسا واحتج بان النبي صلى الله عليه وسلم احتجم في حجة الوداع وهو محرم صاىم .
৭৭২. মুহাম্মদ ইবনু রাফি আন-নায়সাবূরী, মাহমুদ ইবনু গায়লান ও ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) .... রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যাকে শিংগা লাগানো হয় উভয়ের সাওমই বিনষ্ট হয়ে গেল। - ইবনু মাজাহ ১৬৭৯-১৬৮১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সা’দ, আলী, শাদ্দাদ ইবনু আওস, সাওবান, উসামা ইবনু যায়িদ, আয়িশা, মাকিল ইবনু ইয়াসার, আবূ হুরায়রা, ইবনু আব্বাস, আবূ মূসা ও বিলাল (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, এই বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হাদীস আল রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) বর্ণিত হাদীস এবং আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) কর্তৃক এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটি অধিকতর সহীহ।
ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ) আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে দুটো হাদীসই রিওয়ায়াত করেছেন। আর এই উভয়টই হল সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনু আওসের দুটো হাদীস। সাহাবী ও পরবর্তী আলিমদর একদল সিয়াম পালনকারীর জন্য শিংগা লাগান মাকরূহ বলে মনে করেন। এমন কি কতক সাহাবী যেমন আবূ মূসা আল-আশআরী ও ইবনু উমার (রাঃ) রাত্রিতে শিংগা লাগাতেন। ইবনু মুবারক ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমি ইসহাক ইবনু মনসুরকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী বলেছেন, সিয়ামরত অবস্থায় যদি কেউ শিংগা লাগায় তবে তাকে তা কাযা করতে হবে। ইসহাক ইবনু মানসুর বলেন, আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি সিয়াম অবস্থায়ও শিংগা লাগিয়েছেন, আর তাঁর থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যাকে শিংগা লাগানো হয় তাদের উভয়ের সাওমই বিনষ্ট হয়ে গেল। এই রিওয়াতদ্বয়ের একটিও সঠিক বলে আমার জানা নাই। সিয়াম অবস্থায় কেউ যদি শিংগা পালন থেকে বেঁচে থাকে তবে তা আমার মতে অধিক পছন্দনীয়। আর কেউ যদি শিংগা লাগায় তবে এতে তার সিয়াম ভেঙ্গে গেল বলে আমি মনে করি না। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ ছিল বাগদাদ থাকা অবস্থায় ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এর বক্তব্য। কিন্তু মিসরে গমনের পর তিনি এই বিষয়ে অনুমতি প্রদানের অভিমতের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং সিয়াম অবস্থায় শিংগা লাগানোতে কোনরূপ দোষ আছে বলে আর তিনি মনে করেননি। এ বিষয়ে তিনি দলীল হিসাবে বলেন যে, বিদায় হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম এবং ইহরাম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন।
এই বিষয়ে সা’দ, আলী, শাদ্দাদ ইবনু আওস, সাওবান, উসামা ইবনু যায়িদ, আয়িশা, মাকিল ইবনু ইয়াসার, আবূ হুরায়রা, ইবনু আব্বাস, আবূ মূসা ও বিলাল (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, এই বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হাদীস আল রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) বর্ণিত হাদীস এবং আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) কর্তৃক এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটি অধিকতর সহীহ।
ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ) আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে দুটো হাদীসই রিওয়ায়াত করেছেন। আর এই উভয়টই হল সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনু আওসের দুটো হাদীস। সাহাবী ও পরবর্তী আলিমদর একদল সিয়াম পালনকারীর জন্য শিংগা লাগান মাকরূহ বলে মনে করেন। এমন কি কতক সাহাবী যেমন আবূ মূসা আল-আশআরী ও ইবনু উমার (রাঃ) রাত্রিতে শিংগা লাগাতেন। ইবনু মুবারক ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমি ইসহাক ইবনু মনসুরকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী বলেছেন, সিয়ামরত অবস্থায় যদি কেউ শিংগা লাগায় তবে তাকে তা কাযা করতে হবে। ইসহাক ইবনু মানসুর বলেন, আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি সিয়াম অবস্থায়ও শিংগা লাগিয়েছেন, আর তাঁর থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যাকে শিংগা লাগানো হয় তাদের উভয়ের সাওমই বিনষ্ট হয়ে গেল। এই রিওয়াতদ্বয়ের একটিও সঠিক বলে আমার জানা নাই। সিয়াম অবস্থায় কেউ যদি শিংগা পালন থেকে বেঁচে থাকে তবে তা আমার মতে অধিক পছন্দনীয়। আর কেউ যদি শিংগা লাগায় তবে এতে তার সিয়াম ভেঙ্গে গেল বলে আমি মনে করি না। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ ছিল বাগদাদ থাকা অবস্থায় ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এর বক্তব্য। কিন্তু মিসরে গমনের পর তিনি এই বিষয়ে অনুমতি প্রদানের অভিমতের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং সিয়াম অবস্থায় শিংগা লাগানোতে কোনরূপ দোষ আছে বলে আর তিনি মনে করেননি। এ বিষয়ে তিনি দলীল হিসাবে বলেন যে, বিদায় হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম এবং ইহরাম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন।
হাদিস নং: ৭৭৩
সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حدثنا بشر بن هلال البصري، حدثنا عبد الوارث بن سعيد، حدثنا ايوب، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال احتجم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو محرم صاىم . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح . وهكذا روى وهيب نحو رواية عبد الوارث . وروى اسماعيل بن ابراهيم عن ايوب عن عكرمة مرسلا ولم يذكر فيه عن ابن عباس .
৭৭৩. বিশর ইবনু হিলাল আল-বাসরী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম এবং সিয়াম অবস্থায়ও শিংগা লাগিয়েছেন। - সহিহ এই অর্থে "সিয়াম অবস্থায়ও তিনি শিংগা লাগিয়েছেন", বুখারি, ইবনু মাজাহ ১৬৮২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সহীহ।
হাদিস নং: ৭৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو موسى، محمد بن المثنى حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري، عن حبيب بن الشهيد، عن ميمون بن مهران، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم احتجم وهو صاىم . هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه .
৭৭৪. আবূ মূসা মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সনদে হাদীসটি হাসান-গারীব।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সনদে হাদীসটি হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ৭৭৫
মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا عبد الله بن ادريس، عن يزيد بن ابي زياد، عن مقسم، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم احتجم فيما بين مكة والمدينة وهو محرم صاىم . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي سعيد وجابر وانس . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . وقد ذهب بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم الى هذا الحديث ولم يروا بالحجامة للصاىم باسا . وهو قول سفيان الثوري ومالك بن انس والشافعي .
৭৭৫. আহমাদ ইবনু মানী (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ও মদীনার মাঝে ইহরাম এবং সিয়াম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ, জাবির ও আনাস (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও আলিম এই হাদীস অনুসারে অভিমত গ্রহণ করেছেন। তাঁরা সাওম পালনকারীর জন্য শিংগা লাগানোতে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। এ হল ইমাম সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস ও শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ, জাবির ও আনাস (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও আলিম এই হাদীস অনুসারে অভিমত গ্রহণ করেছেন। তাঁরা সাওম পালনকারীর জন্য শিংগা লাগানোতে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। এ হল ইমাম সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস ও শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا نصر بن علي، حدثنا بشر بن المفضل، وخالد بن الحارث، عن سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن انس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تواصلوا " . قالوا فانك تواصل يا رسول الله . قال " اني لست كاحدكم ان ربي يطعمني ويسقيني " . قال وفي الباب عن علي وابي هريرة وعاىشة وابن عمر وجابر وابي سعيد وبشير ابن الخصاصية . قال ابو عيسى حديث انس حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم كرهوا الوصال في الصيام . وروي عن عبد الله بن الزبير انه كان يواصل الايام ولا يفطر .
৭৭৬. নাসর ইবনু আলী (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা সাওমে বিসাল করবে না। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো সাওমে বিসাল পালন করেন। তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের কারো মত নই। আমার রব আমাকে আহার দেন এবং আপনাকে পান করান। - বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, আবূ হুরায়রা, আয়িশা, ইবনু উমার, জাবির, আবূ সাঈদ এবং বাশীর ইবনু খাসাসিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহন করেছেন। তারা সাওমে বিসাল অপছন্দনীয় বলে মত ব্যক্ত করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একাধিক দিন সাওম বিসাল করতেন; মাঝে ইফতার করতেন না।
এই বিষয়ে আলী, আবূ হুরায়রা, আয়িশা, ইবনু উমার, জাবির, আবূ সাঈদ এবং বাশীর ইবনু খাসাসিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহন করেছেন। তারা সাওমে বিসাল অপছন্দনীয় বলে মত ব্যক্ত করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একাধিক দিন সাওম বিসাল করতেন; মাঝে ইফতার করতেন না।
হাদিস নং: ৭৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن ابي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، قال اخبرتني عاىشة، وام سلمة زوجا النبي صلى الله عليه وسلم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يدركه الفجر وهو جنب من اهله ثم يغتسل فيصوم . قال ابو عيسى حديث عاىشة وام سلمة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم وهو قول سفيان والشافعي واحمد واسحاق . وقد قال قوم من التابعين اذا اصبح جنبا يقضي ذلك اليوم . والقول الاول اصح .
৭৭৭. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ বকর ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মীনী আয়িশা ও উম্মু সালামা (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন। কোন কোন সময় জুনুবী অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফজর হয়ে যেত। এরপর তিনি গোসল করতেন এবং সিয়াম পালন করতেন। - ইবনু মাজাহ ১৭০৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা ও উম্মু সালামা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদিস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন। এ হল সুফিয়ান, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। তাবিঈগণের একদল বলেন, জুনুবী অবস্থায় যদি ফজর হয়ে যায় তবে তাকে এই দিনের কাযা করতে হবে। তবে প্রথমোক্ত অভিমতটই অধিকতর বিশুদ্ধ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা ও উম্মু সালামা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদিস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন। এ হল সুফিয়ান, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। তাবিঈগণের একদল বলেন, জুনুবী অবস্থায় যদি ফজর হয়ে যায় তবে তাকে এই দিনের কাযা করতে হবে। তবে প্রথমোক্ত অভিমতটই অধিকতর বিশুদ্ধ।
হাদিস নং: ৭৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ازهر بن مروان البصري، حدثنا محمد بن سواء، حدثنا سعيد بن ابي عروبة، عن ايوب، عن محمد بن سيرين، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا دعي احدكم الى طعام فليجب فان كان صاىما فليصل " . يعني الدعاء .
৭৭৮. আযহার ইবনু মারওয়ান আল-বাসরী (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি তোমাদের কাউকে আহারের দাওয়াত দেওয়া হয় তবে সে যেন তা কবুল করে। যদি সাওম পালনকারী হয় তবে সে (দাওয়াতকারীর জন্য) দু’আ করবে। - ইবনু মাজাহ ১৭৫০, মুসলিম,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]