হাদিস নং: ৭১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا ابو خالد الاحمر، عن حجاج بن ارطاة، عن قتادة، عن ابن سيرين، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من اكل او شرب ناسيا فلا يفطر فانما هو رزق رزقه الله " .
৭১৯. আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি (সিয়াম কালে) ভুলবশতঃ কিছু খায় বা পান করে তবে সে সাওম ভঙ্গ করবেন না। কেননা, এ হলো রিয্ক যা আল্লাহ তা’আলা তাকে দিয়েছেন। - ইবনু মাজাহ ১৬৭৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا ابو اسامة، عن عوف، عن ابن سيرين، وخلاس، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله او نحوه . قال وفي الباب عن ابي سعيد وام اسحاق الغنوية . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم وبه يقول سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق . وقال مالك بن انس اذا اكل في رمضان ناسيا فعليه القضاء . والقول الاول اصح .
৭২০. আবূ সাঈদ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ ও উম্মু ইসহাক আলগানবিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান সহীহ্। অধিকাংশ আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও অভিমত। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) বলেন, রামাযানে কেউ যদি ভুলে খেয়ে ফেলে তবে তাকে তা কাযা করতে হবে। কিন্তু প্রথমোক্ত অভিমতটই অধিকতর বিশুদ্ধ।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ ও উম্মু ইসহাক আলগানবিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান সহীহ্। অধিকাংশ আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও অভিমত। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) বলেন, রামাযানে কেউ যদি ভুলে খেয়ে ফেলে তবে তাকে তা কাযা করতে হবে। কিন্তু প্রথমোক্ত অভিমতটই অধিকতর বিশুদ্ধ।
হাদিস নং: ৭২১
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، وعبد الرحمن بن مهدي، قالا حدثنا سفيان، عن حبيب بن ابي ثابت، حدثنا ابو المطوس، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من افطر يوما من رمضان من غير رخصة ولا مرض لم يقض عنه صوم الدهر كله وان صامه " . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة لا نعرفه الا من هذا الوجه . وسمعت محمدا يقول ابو المطوس اسمه يزيد بن المطوس ولا اعرف له غير هذا الحديث .
৭২১. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনরূপ অনুমোদিত কারণ বা রোগ ব্যতিরেকে কেউ যদি রামাযানের সিয়াম ভঙ্গ করে তবে একজন সারা জীবন সিয়াম পালন করলেও তার কাযা আদায় হবে না। - ইবনু মাজাহ ১৬৭২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সূত্র ব্যতিত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানিনা, মুহাম্মাদ বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাবী আবূল মুতাওবিস (রহঃ) এর নাম হলো ইয়াযিদ ইবনু মুতাওবিস। এই হাদিস ছাড়া তার আর কোন রিওয়ায়াত আছে বলে আমাদের জানা নেই।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সূত্র ব্যতিত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানিনা, মুহাম্মাদ বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাবী আবূল মুতাওবিস (রহঃ) এর নাম হলো ইয়াযিদ ইবনু মুতাওবিস। এই হাদিস ছাড়া তার আর কোন রিওয়ায়াত আছে বলে আমাদের জানা নেই।
হাদিস নং: ৭২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، وابو عمار والمعنى واحد واللفظ لفظ ابي عمار قالا اخبرنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن حميد بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، قال اتاه رجل فقال يا رسول الله هلكت . قال " وما اهلكك " . قال وقعت على امراتي في رمضان . قال " هل تستطيع ان تعتق رقبة " . قال لا . قال " فهل تستطيع ان تصوم شهرين متتابعين " . قال لا . قال " فهل تستطيع ان تطعم ستين مسكينا " . قال لا . قال " اجلس " . فجلس فاتي النبي صلى الله عليه وسلم بعرق فيه تمر - والعرق المكتل الضخم قال " تصدق به " . فقال ما بين لابتيها احد افقر منا . قال فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت انيابه . قال " فخذه فاطعمه اهلك " . قال وفي الباب عن ابن عمر وعاىشة وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم في من افطر في رمضان متعمدا من جماع واما من افطر متعمدا من اكل او شرب فان اهل العلم قد اختلفوا في ذلك فقال بعضهم عليه القضاء والكفارة . وشبهوا الاكل والشرب بالجماع . وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك واسحاق . وقال بعضهم عليه القضاء ولا كفارة عليه لانه انما ذكر عن النبي صلى الله عليه وسلم الكفارة في الجماع ولم تذكر عنه في الاكل والشرب . وقالوا لا يشبه الاكل والشرب الجماع . وهو قول الشافعي واحمد . وقال الشافعي وقول النبي صلى الله عليه وسلم للرجل الذي افطر فتصدق عليه " خذه فاطعمه اهلك " . يحتمل هذا معاني يحتمل ان تكون الكفارة على من قدر عليها وهذا رجل لم يقدر على الكفارة فلما اعطاه النبي صلى الله عليه وسلم شيىا وملكه فقال الرجل ما احد افقر اليه منا . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " خذه فاطعمه اهلك " . لان الكفارة انما تكون بعد الفضل عن قوته . واختار الشافعي لمن كان على مثل هذا الحال ان ياكله وتكون الكفارة عليه دينا فمتى ما ملك يوما ما كفر .
৭২২. নাসর ইবনু আলী জাহযামী ও আবূ আম্মার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করলো? লোকটি বলল, রামাযানে আমি স্ত্রী সংগম করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে সক্ষম? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি লাগাতার দুই মাস সিয়াম পালনে সমর্থ? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, ষাটজন মিসকিনকে আহার করাতে সক্ষম? লোকটি বলল, না। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি বসো। লোকটি বসে রইলো। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক আরক খেজুর এলো। ’আরক’ হল বড় থলে বা টুকরি। তিনি লোকটিকে বললেন, এগুলো নিয়ে সা’দকা করে দাও। লোকটি বলল, মদিনার দুই প্রান্তের মাঝে আমার চাইতে অভাবগ্রস্ত আর কেউ নেই। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তিনি শুনে হেসে উঠলেন, এমন কি তার চোয়ালের দাঁত প্রকাশ পেল। তিনি বললেন, তুমি নিয়ে নাও তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও। - ইবনু মাজাহ ১৬৭১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমার, আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহিহ। যে ব্যক্তি রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সংগম দ্বারা সিয়াম ভঙ্গ করে তার ব্যাপারে এই হাদীস অনুসারে উলামায়ে কিরামদের আমল রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি পানাহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে সাওম ভেঙ্গে ফেলে তবে তার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। তারা পানাহারকে স্ত্রী সংগমের সাথে সা’দৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এ হলো সুফিয়ান সাওরী, ইবনু মুবারক ও ইসহাক এর অভিমত।
কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা করতে হবে। কিন্তু কাফফারা দিতে হবেনা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্ত্রী সংগমের ক্ষেত্রেই কাফফারা উল্লেখ রয়েছে। পানাহারের ক্ষেত্রে এর উল্লেখ নেই। তারা বলেন, স্ত্রী সংগমের সাথে পানাহারের সা’দৃশ্য নেই। এ হলো, ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ) এর অভিমত।
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, সিয়াম ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সা’দকা করে দিয়েছিলেন; তার উক্তি নাও, তোমার পরিবারবর্গকে তার আহার করাও, বিভিন্নার্থ বহন করে। হতে পারে যে, কাফফারা তো যে সক্ষম তার দিতে হয়। এই ব্যাক্তি তখন কাফফারা দিতে সক্ষম ছিল না। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে কিছু দিলেন আর সে তার মালিক হয়ে গেল তখন সে বলল, এ এলাকায় আমাদের চাইতে বেশী অভাবগ্রস্ত আর কেউ নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও। কেননা, জীবন ধারণের মত পরিমাণ খাদ্যের অতিরিক্ত যা হয় তা কাফফারা হয়। যার অবস্থা এই ব্যক্তির ন্যায় তার সম্পর্কে ইমাম শাফেঈর মত হলো, সে ঐ মাল ভোগ করতে পারে। আর কাফফারা তার সিয়াম থেকে যাবে। যেদিন সে মালিক হবে সেদিন সে কাফফারা দিবে।
এই বিষয়ে ইবনু উমার, আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহিহ। যে ব্যক্তি রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সংগম দ্বারা সিয়াম ভঙ্গ করে তার ব্যাপারে এই হাদীস অনুসারে উলামায়ে কিরামদের আমল রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি পানাহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে সাওম ভেঙ্গে ফেলে তবে তার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। তারা পানাহারকে স্ত্রী সংগমের সাথে সা’দৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এ হলো সুফিয়ান সাওরী, ইবনু মুবারক ও ইসহাক এর অভিমত।
কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা করতে হবে। কিন্তু কাফফারা দিতে হবেনা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্ত্রী সংগমের ক্ষেত্রেই কাফফারা উল্লেখ রয়েছে। পানাহারের ক্ষেত্রে এর উল্লেখ নেই। তারা বলেন, স্ত্রী সংগমের সাথে পানাহারের সা’দৃশ্য নেই। এ হলো, ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ) এর অভিমত।
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, সিয়াম ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সা’দকা করে দিয়েছিলেন; তার উক্তি নাও, তোমার পরিবারবর্গকে তার আহার করাও, বিভিন্নার্থ বহন করে। হতে পারে যে, কাফফারা তো যে সক্ষম তার দিতে হয়। এই ব্যাক্তি তখন কাফফারা দিতে সক্ষম ছিল না। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে কিছু দিলেন আর সে তার মালিক হয়ে গেল তখন সে বলল, এ এলাকায় আমাদের চাইতে বেশী অভাবগ্রস্ত আর কেউ নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও। কেননা, জীবন ধারণের মত পরিমাণ খাদ্যের অতিরিক্ত যা হয় তা কাফফারা হয়। যার অবস্থা এই ব্যক্তির ন্যায় তার সম্পর্কে ইমাম শাফেঈর মত হলো, সে ঐ মাল ভোগ করতে পারে। আর কাফফারা তার সিয়াম থেকে যাবে। যেদিন সে মালিক হবে সেদিন সে কাফফারা দিবে।
হাদিস নং: ৭২৩
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن عاصم بن عبيد الله، عن عبد الله بن عامر بن ربيعة، عن ابيه، قال رايت النبي صلى الله عليه وسلم ما لا احصي يتسوك وهو صاىم . قال وفي الباب عن عاىشة . قال ابو عيسى حديث عامر بن ربيعة حديث حسن . والعمل على هذا عند اهل العلم لا يرون بالسواك للصاىم باسا الا ان بعض اهل العلم كرهوا السواك للصاىم بالعود الرطب وكرهوا له السواك اخر النهار ولم ير الشافعي بالسواك باسا اول النهار ولا اخره وكره احمد واسحاق السواك اخر النهار .
৭২৩. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিয়াম অবস্থায় এতবার মিস্ওয়াক করতে দেখেছি, যার সংখ্যা আমি গণনা করতে পারিনা। - ইরওয়া ৬৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। এই হাদীস অনুমারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তারা সিয়াম পালনকারীর জন্য মিস্ওয়াক করার কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। তবে কতক আলেম কাঁচা ডাল দিয়ে মিস্ওয়াক করা এবং দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) দিনের শুরু বা শেষ কোন ভাগেই মিস্ওয়াক করার কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ মনে করেন।
এই বিষয়ে আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। এই হাদীস অনুমারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তারা সিয়াম পালনকারীর জন্য মিস্ওয়াক করার কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। তবে কতক আলেম কাঁচা ডাল দিয়ে মিস্ওয়াক করা এবং দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) দিনের শুরু বা শেষ কোন ভাগেই মিস্ওয়াক করার কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ মনে করেন।
হাদিস নং: ৭২৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الاعلى بن واصل الكوفي، حدثنا الحسن بن عطية، حدثنا ابو عاتكة، عن انس بن مالك، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اشتكت عيني افاكتحل وانا صاىم قال " نعم " . قال وفي الباب عن ابي رافع . قال ابو عيسى حديث انس حديث ليس اسناده بالقوي ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب شيء . وابو عاتكة يضعف . واختلف اهل العلم في الكحل للصاىم فكرهه بعضهم وهو قول سفيان وابن المبارك واحمد واسحاق . ورخص بعض اهل العلم في الكحل للصاىم وهو قول الشافعي .
৭২৪. আবদুল আ’লা ইবনু ওয়াসিল আল-কুফী (রহঃ) .... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমার চোখ দু’টিতে কষ্ট পাচ্ছি। আমি সায়িম অবস্থায় তাতে সুরমা ব্যবহার করতে পারি কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ রাফি (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটির সনদ শক্তিশালী নয়। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ কিছু বর্ণিত নাই। রাবী আবূ আতিকাকে যঈফ বলা হয়। সিয়াম অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মাকরূহ মনে করেন। এ হল সুফিয়ান, ইবনু মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম সিয়াম অবস্থায় সুরমা ব্যবহারের অনুমতি দেন। এ হল ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমত।
এই বিষয়ে আবূ রাফি (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটির সনদ শক্তিশালী নয়। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ কিছু বর্ণিত নাই। রাবী আবূ আতিকাকে যঈফ বলা হয়। সিয়াম অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মাকরূহ মনে করেন। এ হল সুফিয়ান, ইবনু মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম সিয়াম অবস্থায় সুরমা ব্যবহারের অনুমতি দেন। এ হল ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، وقتيبة، قالا حدثنا ابو الاحوص، عن زياد بن علاقة، عن عمرو بن ميمون، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقبل في شهر الصوم . قال وفي الباب عن عمر بن الخطاب وحفصة وابي سعيد وام سلمة وابن عباس وانس وابي هريرة . قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح . واختلف اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم في القبلة للصاىم فرخص بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في القبلة للشيخ ولم يرخصوا للشاب مخافة ان لا يسلم له صومه والمباشرة عندهم اشد . وقد قال بعض اهل العلم القبلة تنقص الاجر ولا تفطر الصاىم . وراوا ان للصاىم اذا ملك نفسه ان يقبل واذا لم يامن على نفسه ترك القبلة ليسلم له صومه . وهو قول سفيان الثوري والشافعي .
৭২৫. হান্নাদ ও কুতায়রা (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়ামের মাসে তাকে (সিয়াম অবস্থায়) চুম্বন করতেন। - ইবনু মাজাহ ১৬৮৩, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমার ইবনু খাত্তাব, হাফসা, আবূ সাঈদ, উম্মে সালামা, ইবনু আব্বাস, আনাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্নিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা বলেন, আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ। সায়িমের চুম্বন করা বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে ইলম সাহাবী ও আলিমদের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু যুবকদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দেননি; এই আশংকায় যে, এতে হয়ত বা এরা তাদের সাওম হিফাজত করতে পারবে না। আর স্ত্রী আলিঙ্গন করার বিষয়টি তাদের মতে আরো মারাত্মক। কোন কোন আলিম বলেন, চুম্বনে সাওয়াব কমে যায়, কিন্তু সাওম ভঙ্গ হবে না। তারা মনে করেন; সায়িম ব্যক্তি নিজের নফসের উপর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হলে চুম্বন করতে পারে। আর যদি তার নফসের ব্যাপারে আস্থা না থাকে তবে সে তা পরিত্যাগ করবে; যাতে সাওমের হিফাযত হয়। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমত।
এই বিষয়ে উমার ইবনু খাত্তাব, হাফসা, আবূ সাঈদ, উম্মে সালামা, ইবনু আব্বাস, আনাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্নিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা বলেন, আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ। সায়িমের চুম্বন করা বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে ইলম সাহাবী ও আলিমদের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু যুবকদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দেননি; এই আশংকায় যে, এতে হয়ত বা এরা তাদের সাওম হিফাজত করতে পারবে না। আর স্ত্রী আলিঙ্গন করার বিষয়টি তাদের মতে আরো মারাত্মক। কোন কোন আলিম বলেন, চুম্বনে সাওয়াব কমে যায়, কিন্তু সাওম ভঙ্গ হবে না। তারা মনে করেন; সায়িম ব্যক্তি নিজের নফসের উপর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হলে চুম্বন করতে পারে। আর যদি তার নফসের ব্যাপারে আস্থা না থাকে তবে সে তা পরিত্যাগ করবে; যাতে সাওমের হিফাযত হয়। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭২৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا وكيع، حدثنا اسراىيل، عن ابي اسحاق، عن ابي ميسرة، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يباشرني وهو صاىم وكان املككم لاربه .
৭২৬. ইবন আবী উমার (রহঃ) ..... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম অবস্থান আমাকে আলিঙ্গন করেছেন। তবে তিনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রনে তোমাদের তুলনায় অনেক বেশী সমর্থ ছিলেন। - ইবনু মাজাহ ১৬৮৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، والاسود، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل ويباشر وهو صاىم وكان املككم لاربه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو ميسرة اسمه عمرو بن شرحبيل . ومعنى لاربه لنفسه .
৭২৭. হান্নাদ (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সায়িম অবস্থায় চুম্বন করতেন এবং আলিঙ্গন করতেন। আর তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রনে তোমাদের চেয়ে বেশী সক্ষম ছিলেন। - ইবনু মাজাহ ১৬৭৮, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ। রাবী আবূ মায়সারা (রহঃ) এর নাম হলো আমর ইবনু শুরাহবীল। হাদীছোক্ত لإِرْبِهِ শব্দ অর্থ হল ’তার নিজের উপর’।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ। রাবী আবূ মায়সারা (রহঃ) এর নাম হলো আমর ইবনু শুরাহবীল। হাদীছোক্ত لإِرْبِهِ শব্দ অর্থ হল ’তার নিজের উপর’।
হাদিস নং: ৭২৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا ابن ابي مريم، اخبرنا يحيى بن ايوب، عن عبد الله بن ابي بكر، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، عن ابيه، عن حفصة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له " . قال ابو عيسى حديث حفصة حديث لا نعرفه مرفوعا الا من هذا الوجه . وقد روي عن نافع عن ابن عمر قوله وهو اصح وهكذا ايضا روي هذا الحديث عن الزهري موقوفا ولا نعلم احدا رفعه الا يحيى بن ايوب . وانما معنى هذا عند اهل العلم لا صيام لمن لم يجمع الصيام قبل طلوع الفجر في رمضان او في قضاء رمضان او في صيام نذر اذا لم ينوه من الليل لم يجزه واما صيام التطوع فمباح له ان ينويه بعد ما اصبح وهو قول الشافعي واحمد واسحاق .
৭২৮. ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ...... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের পূর্বেই যে ব্যক্তি সিয়ামের সিদ্ধান্ত না নেয় তার সিয়ামই নেই। - ইবনু মাজাহ ১৭০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সূত্র ছাড়া হাফসা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটির মারফু হওয়া সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। নাফি’ থেকে ইবনু উমার (রাঃ) এর উক্তি হিসাবে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। আর এটই অধিকতর সহীহ। কোন কোন আলিমের মতে এই হাদিসটির অর্থ হল, রামাযানের সিয়াম বা কাযা বা মানতের সিয়াম হলে রাত থেকে অর্থাৎ ফজর উদিত হওয়ার পূর্বেই যদি কেউ নিয়াত না করে তবে তার সিয়াম হবে না। কিন্তু নফল সিয়ামের ক্ষেত্রে ভোর হওয়ার পর নিয়াত করা তার জন্য মুবাহ ও জায়েয। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সূত্র ছাড়া হাফসা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটির মারফু হওয়া সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। নাফি’ থেকে ইবনু উমার (রাঃ) এর উক্তি হিসাবে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। আর এটই অধিকতর সহীহ। কোন কোন আলিমের মতে এই হাদিসটির অর্থ হল, রামাযানের সিয়াম বা কাযা বা মানতের সিয়াম হলে রাত থেকে অর্থাৎ ফজর উদিত হওয়ার পূর্বেই যদি কেউ নিয়াত না করে তবে তার সিয়াম হবে না। কিন্তু নফল সিয়ামের ক্ষেত্রে ভোর হওয়ার পর নিয়াত করা তার জন্য মুবাহ ও জায়েয। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭২৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو الاحوص، عن سماك بن حرب، عن ابن ام هانى، عن ام هانى، قالت كنت قاعدة عند النبي صلى الله عليه وسلم فاتي بشراب فشرب منه ثم ناولني فشربت منه فقلت اني اذنبت فاستغفر لي . فقال " وما ذاك " . قالت كنت صاىمة فافطرت . فقال " امن قضاء كنت تقضينه " . قالت لا . قال " فلا يضرك " . قال وفي الباب عن ابي سعيد وعاىشة .
৭২৯. কুতারায় (রহঃ) ..... উম্মু হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তাঁর নিকট কিছু শরবত এল। তিনি এ থেকে পান করলেন। এরপর আমাকে তা দিলেন। আমিও তা থেকে কিছু পান করলাম। তারপর আমি বললাম, আমি তো অপরাধ করে ফেলেছি। আপনি আমার ক্ষমার জন্য দোয়া করুন। তিনি বললেনঃ তা কী? বললাম, আমি তো সায়িম ছিলাম, তা ভেঙ্গে ফেলেছি। তিনি বললেন, তুমি কি কোনা কাযা আদায় করছিলে? তিনি বললেন, না তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে এতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। - তাখরীজুল মিশকাত ২০৭৯, সহিহ আবু দাউদ ২১২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭৩০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، حدثنا شعبة، قال كنت اسمع سماك بن حرب يقول احد ابنى ام هانى حدثني فلقيت، انا افضلهما، وكان، اسمه جعدة وكانت ام هانى جدته فحدثني عن جدته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليها فدعى بشراب فشرب ثم ناولها فشربت فقالت يا رسول الله اما اني كنت صاىمة . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الصاىم المتطوع امين نفسه ان شاء صام وان شاء افطر " . قال شعبة فقلت له اانت سمعت هذا من ام هانى قال لا اخبرني ابو صالح واهلنا عن ام هانى . وروى حماد بن سلمة هذا الحديث عن سماك بن حرب فقال عن هارون ابن بنت ام هانى عن ام هانى . ورواية شعبة احسن . هكذا حدثنا محمود بن غيلان عن ابي داود فقال " امين نفسه " . وحدثنا غير محمود عن ابي داود فقال " امير نفسه او امين نفسه " . على الشك وهكذا روي من غير وجه عن شعبة " امين او امير نفسه " على الشك . قال وحديث ام هانى في اسناده مقال . والعمل عليه عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان الصاىم المتطوع اذا افطر فلا قضاء عليه الا ان يحب ان يقضيه . وهو قول سفيان الثوري واحمد واسحاق والشافعي .
৭৩০. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রাঃ) ..... উম্মু হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল্লুাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে আসেন এবং পানি নিয়ে আনতে ডাকলেন। তিনি তা থেকে পান করলেন, তারপর উম্মে হানীকে দিলেন; তিনিও পান করলেন। পরে উম্মে হানী (রাঃ) বললেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তো সাওম পালনকারী ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নফল সিয়াম পালনকারী নিজের আমানতদার; ইচ্ছা করলে সিয়াম পালন করতে পারে আর ইচ্ছা করলে তা ভঙ্গও করতে পারে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(রাবী) শুবা বলেন যে, আমি জা’দাকে বললাম, আপনি নিজে উম্মু হানী (রাঃ) থেকে এই হাদিসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, না। আবূ সালীহ ও আমাদের পরিবারের লোকজন উম্মু হানী (রাঃ) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু সালামা এই হাদিসটিকে সিমাক- উম্মু হানী দৌহিত্র হারুন উম্মুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। শু’বা-এর রিওয়াতটি অধিক হাসান। মাহমুদ ইবনু গায়লান এটিকে আবূ দাউদ সূত্রে রিওয়াত করেছেন। তিনি এতে বলেছেন امين نفسه ’’সিয়াম পালনকারী নিজেই নিজের আমানতদার’ মাহমুদ ছাড়া অন্যান্য রাবীগণ আবূ দাউদ সূত্রে সন্দেহ পোষণ করেন রিওয়ায়াত করেছেন او امين نفسه، أمير نفسه ’’সিয়াম পালনকারী নিজেই নিজের উপর ক্ষমতাবান অথবা নিজেই নিজেদের আমানতদার’। শুবা (রহঃ) থেকে ও তদ্রুপ দ্বিধার সঙ্গে একাধিক সূত্রে أمير او امين نفسه রূপে বর্ণিত আছে। উম্মু হানী (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটির সনদ সম্পর্কে বিরূপ বক্তব্য রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে ইলম কোন কোন সাহাবী ও অন্যান্য আলিমদের এ হাদিস অনুসারে আমল রয়েছে যে, নফল সিয়াম পালনকারী যদি তা ভঙ্গ করে ফেলে তবে তার উপর কাযা নেই। তবে ইচ্ছা করলে (মুস্তাহাব হিসাবে) কাযা আদায় করতে পারে। এ হলো সুফিয়ানী সাওরী, আহমাদ, ইসহাক ও শাফিঈ (রাঃ) এর অভিমত।
(রাবী) শুবা বলেন যে, আমি জা’দাকে বললাম, আপনি নিজে উম্মু হানী (রাঃ) থেকে এই হাদিসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, না। আবূ সালীহ ও আমাদের পরিবারের লোকজন উম্মু হানী (রাঃ) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু সালামা এই হাদিসটিকে সিমাক- উম্মু হানী দৌহিত্র হারুন উম্মুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। শু’বা-এর রিওয়াতটি অধিক হাসান। মাহমুদ ইবনু গায়লান এটিকে আবূ দাউদ সূত্রে রিওয়াত করেছেন। তিনি এতে বলেছেন امين نفسه ’’সিয়াম পালনকারী নিজেই নিজের আমানতদার’ মাহমুদ ছাড়া অন্যান্য রাবীগণ আবূ দাউদ সূত্রে সন্দেহ পোষণ করেন রিওয়ায়াত করেছেন او امين نفسه، أمير نفسه ’’সিয়াম পালনকারী নিজেই নিজের উপর ক্ষমতাবান অথবা নিজেই নিজেদের আমানতদার’। শুবা (রহঃ) থেকে ও তদ্রুপ দ্বিধার সঙ্গে একাধিক সূত্রে أمير او امين نفسه রূপে বর্ণিত আছে। উম্মু হানী (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটির সনদ সম্পর্কে বিরূপ বক্তব্য রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে ইলম কোন কোন সাহাবী ও অন্যান্য আলিমদের এ হাদিস অনুসারে আমল রয়েছে যে, নফল সিয়াম পালনকারী যদি তা ভঙ্গ করে ফেলে তবে তার উপর কাযা নেই। তবে ইচ্ছা করলে (মুস্তাহাব হিসাবে) কাযা আদায় করতে পারে। এ হলো সুফিয়ানী সাওরী, আহমাদ, ইসহাক ও শাফিঈ (রাঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭৩১
হাসান (Hasan)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن طلحة بن يحيى، عن عمته، عاىشة بنت طلحة عن عاىشة ام المومنين، قالت دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فقال " هل عندكم شيء " . قالت قلت لا . قال " فاني صاىم " .
৭৩১. হান্নাদ (রহঃ) ...... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং বললেনঃ তোমার কাছে খাওয়ার মত কিছু আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তা হলে আমি সিয়াম পালন করছি। - ইরওয়া ৯৬৫, সহিহ আবু দাউদ ২১১৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭৩২
হাসান (Hasan)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا بشر بن السري، عن سفيان، عن طلحة بن يحيى، عن عاىشة بنت طلحة، عن عاىشة ام المومنين، قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم ياتيني فيقول " اعندك غداء " . فاقول لا . فيقول " اني صاىم " . قالت فاتاني يوما فقلت يا رسول الله انه قد اهديت لنا هدية . قال " وما هي " . قالت قلت حيس . قال " اما اني قد اصبحت صاىما " . قالت ثم اكل . قال ابو عيسى هذا حديث حسن .
৭৩২. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তোমার কাছে আসতেন এবং বলতেনঃ তোমার কাছে (সকালের) খাবার কিছু আছে কি? আমি বলতাম, না। তখন তিনি বলতেন, তাহলে আমি সাওম পালন করছি। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এমনিভাবে তিনি একদিন এলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের কাছে কিছু হাদিয়া এসেছে। তিনি বললেন, তা কি? আমি বললাম, হায়স (ঘি, পনির ও খেজুর মিশ্রিত এক প্রকার খাদ্য)। তিনি বললেন, সকাল থেকে তো সিয়াম পালন করছিলাম। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি তা আহার করলেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান।
হাদিস নং: ৭৩৩
যঈফ (Dai'f)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا كثير بن هشام، حدثنا جعفر بن برقان، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة، قالت كنت انا وحفصة، صاىمتين فعرض لنا طعام اشتهيناه فاكلنا منه فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فبدرتني اليه حفصة وكانت ابنة ابيها فقالت يا رسول الله انا كنا صاىمتين فعرض لنا طعام اشتهيناه فاكلنا منه . قال " اقضيا يوما اخر مكانه " . قال ابو عيسى وروى صالح بن ابي الاخضر ومحمد بن ابي حفصة هذا الحديث عن الزهري عن عروة عن عاىشة مثل هذا . ورواه مالك بن انس ومعمر وعبيد الله بن عمر وزياد بن سعد وغير واحد من الحفاظ عن الزهري عن عاىشة مرسلا . ولم يذكروا فيه عن عروة وهذا اصح .
لانه روي عن ابن جريج، قال سالت الزهري قلت له احدثك عروة عن عاىشة قال لم اسمع من عروة في هذا شيىا ولكني سمعت في خلافة سليمان بن عبد الملك من ناس عن بعض من سال عاىشة عن هذا الحديث . حدثنا بذلك علي بن عيسى بن يزيد البغدادي حدثنا روح بن عبادة عن ابن جريج فذكر الحديث . وقد ذهب قوم من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم الى هذا الحديث فراوا عليه القضاء اذا افطر وهو قول مالك بن انس .
لانه روي عن ابن جريج، قال سالت الزهري قلت له احدثك عروة عن عاىشة قال لم اسمع من عروة في هذا شيىا ولكني سمعت في خلافة سليمان بن عبد الملك من ناس عن بعض من سال عاىشة عن هذا الحديث . حدثنا بذلك علي بن عيسى بن يزيد البغدادي حدثنا روح بن عبادة عن ابن جريج فذكر الحديث . وقد ذهب قوم من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم الى هذا الحديث فراوا عليه القضاء اذا افطر وهو قول مالك بن انس .
৭৩৩. আহমাদ ইবনু মানী (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আর হাফসা (রাঃ) উভয়েই একবার সিয়াম পালন করছিলাম। আমাদের সামনে খুবই লোভনীয় খাবার এলো, আমরা তা থেকে খেয়ে নিলাম। তারপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলে হাফসা (রাঃ) আমার আগেই তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। আর তিনি ছিলেন তার বাপের বেটি (পিতা, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর মত সাহসী) কাজেই বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা দুজন সায়িম ছিলাম। এমন সময় আমাদের সামনে লোভনীয় খাবার এলে; আমরা তা খেয়ে ফেললাম। তিনি বললেন, তোমরা উভয়ে এর স্থলে আরেক দিন সিয়াম পালন করবে। - যইফ আবু দাউদ ৪২৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, সালিহ্ ইবনু আবূল আখদার ও মুহাম্মদ ইবনু আবূ হাফস (রহঃ) এই হাদীসটিকে যুহরী (রহঃ), উরওয়া, আয়িশা (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনু আনাস, মা’মার, উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার, যিয়াদ ইবনু সা’দ (রহঃ) প্রমূখ হাফিযুল হাদীস যুহরী (রহঃ) সূত্রে আয়িশা (রাঃ) থেকে মুরসাল হিসেবে এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এতে তাঁরা উরওয়ার নাম উল্লেখ করেননি। আর এটিই অধিকতর সহীহ। কেননা, ইবনু জুরাউজ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি যুহরীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনার নিকট আয়িশা (রাঃ) এর বরাতে উরওয়া কিছু রিওয়ায়াত করেছেন কি? তিনি বললেন, এই বিষয়ে আমি উরওয়া থেকে কিছু শুনিনি। তবে সুলায়মান ইবনু আবদুল মালিকের খিলাফতকালে এ হাদীস সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) এর কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাদের কারোর কাছ থেকে কিছু লোকের মাধ্যমে আয়িশা (রাঃ) সূত্রে এটি আমি শুনেছি। এই হাদীসটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, আলী ইবনু ঈসা ইবনু ইয়াযীদ বাগদাদী রাওহ ইবনু উবায়দা ইবনু জুরায়জ (রহঃ) শেষ পর্যন্ত। কতক সাহাবী ও অপরাপর একদল আলিম এই হাদীস অনুসারে আমলের মত গ্রহণ করেছেন। নফল সিয়াম ভঙ্গ করলে কাযা করতে হবে বলে তাঁরা মনে করেন। এ হল ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাঃ) এর অভিমত।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, সালিহ্ ইবনু আবূল আখদার ও মুহাম্মদ ইবনু আবূ হাফস (রহঃ) এই হাদীসটিকে যুহরী (রহঃ), উরওয়া, আয়িশা (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনু আনাস, মা’মার, উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার, যিয়াদ ইবনু সা’দ (রহঃ) প্রমূখ হাফিযুল হাদীস যুহরী (রহঃ) সূত্রে আয়িশা (রাঃ) থেকে মুরসাল হিসেবে এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এতে তাঁরা উরওয়ার নাম উল্লেখ করেননি। আর এটিই অধিকতর সহীহ। কেননা, ইবনু জুরাউজ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি যুহরীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনার নিকট আয়িশা (রাঃ) এর বরাতে উরওয়া কিছু রিওয়ায়াত করেছেন কি? তিনি বললেন, এই বিষয়ে আমি উরওয়া থেকে কিছু শুনিনি। তবে সুলায়মান ইবনু আবদুল মালিকের খিলাফতকালে এ হাদীস সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) এর কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাদের কারোর কাছ থেকে কিছু লোকের মাধ্যমে আয়িশা (রাঃ) সূত্রে এটি আমি শুনেছি। এই হাদীসটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, আলী ইবনু ঈসা ইবনু ইয়াযীদ বাগদাদী রাওহ ইবনু উবায়দা ইবনু জুরায়জ (রহঃ) শেষ পর্যন্ত। কতক সাহাবী ও অপরাপর একদল আলিম এই হাদীস অনুসারে আমলের মত গ্রহণ করেছেন। নফল সিয়াম ভঙ্গ করলে কাযা করতে হবে বলে তাঁরা মনে করেন। এ হল ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭৩৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن سفيان، عن منصور، عن سالم بن ابي الجعد، عن ابي سلمة، عن ام سلمة، قالت ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم يصوم شهرين متتابعين الا شعبان ورمضان . وفي الباب عن عاىشة . قال ابو عيسى حديث ام سلمة حديث حسن .
وقد روي هذا الحديث، ايضا عن ابي سلمة، عن عاىشة، انها قالت ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم في شهر اكثر صياما منه في شعبان كان يصومه الا قليلا بل كان يصومه كله .
وقد روي هذا الحديث، ايضا عن ابي سلمة، عن عاىشة، انها قالت ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم في شهر اكثر صياما منه في شعبان كان يصومه الا قليلا بل كان يصومه كله .
৭৩৪. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শা’বান ও রামাযান ব্যতীত দুই মাস লাগাতার সিয়াম করতে দেখিনি। - ইবনু মাজাহ ১৩৪৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, উম্ম সালামা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি আবূ সালামা, আয়িশা (রাঃ) সূত্রেও বর্ণিত আছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, শা’বান মাসের মত আর কোন মাসে এত অধিক (নফল) সিয়াম পালন করতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখিনি। এ মাসের কিছু অংশ ব্যতীত পুরো মাসটাই বলতে কি সারা মাসটাই তিনি (নফল) সিয়াম পালন করতেন।
এই বিষয়ে আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, উম্ম সালামা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি আবূ সালামা, আয়িশা (রাঃ) সূত্রেও বর্ণিত আছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, শা’বান মাসের মত আর কোন মাসে এত অধিক (নফল) সিয়াম পালন করতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখিনি। এ মাসের কিছু অংশ ব্যতীত পুরো মাসটাই বলতে কি সারা মাসটাই তিনি (নফল) সিয়াম পালন করতেন।
হাদিস নং: ৭৩৫
হাসান (Hasan)
حدثنا هناد حدثنا عبدة عن محمد بن عمرو حدثنا ابو سلمة عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم بذلك . وروي عن ابن المبارك انه قال في هذا الحديث هو جاىز في كلام العرب اذا صام اكثر الشهر ان يقال صام الشهر كله ويقال قام فلان ليله اجمع . ولعله تعشى واشتغل ببعض امره . كان ابن المبارك قد راى كلا الحديثين متفقين يقول انما معنى هذا الحديث انه كان يصوم اكثر الشهر . قال ابو عيسى وقد روى سالم ابو النضر وغير واحد هذا الحديث عن ابي سلمة عن عاىشة نحو رواية محمد بن عمرو .
৭৩৫. হান্নাদ (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইবনু মুবারক (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি এই হাদীস প্রসঙ্গে বলেন, কেউ যদি মাসের অধিকাংশ দিন সিয়াম পালন করে তবে আরবী বাগধারা অনুসারে সারা মাসই সিয়াম পালন করেছে বলা বৈধ। বলা হয় অমুক ব্যক্তি সারারাত দাড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে। অথচ হতে পারে সে রাতের আহারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজেও তার কিছু সময় ব্যয় করেছে। এ প্রেক্ষিতে ইবনু মুবারক (রহঃ) মনে করেন, হাদীস দু’টি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এ হাদীসের অর্থ হলো এই যে, তিনি (শাবান) মাসের অধিকাংশ দিন সিয়াম পালন করতেন। সালিম আবূন নাযর (রহঃ) প্রমখ এই হাদীসটিকে আবূ সালামা-আয়িশা (রাঃ) সূত্রে মুহাম্মদ ইবনু আমর (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইবনু মুবারক (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি এই হাদীস প্রসঙ্গে বলেন, কেউ যদি মাসের অধিকাংশ দিন সিয়াম পালন করে তবে আরবী বাগধারা অনুসারে সারা মাসই সিয়াম পালন করেছে বলা বৈধ। বলা হয় অমুক ব্যক্তি সারারাত দাড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে। অথচ হতে পারে সে রাতের আহারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজেও তার কিছু সময় ব্যয় করেছে। এ প্রেক্ষিতে ইবনু মুবারক (রহঃ) মনে করেন, হাদীস দু’টি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এ হাদীসের অর্থ হলো এই যে, তিনি (শাবান) মাসের অধিকাংশ দিন সিয়াম পালন করতেন। সালিম আবূন নাযর (রহঃ) প্রমখ এই হাদীসটিকে আবূ সালামা-আয়িশা (রাঃ) সূত্রে মুহাম্মদ ইবনু আমর (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৭৩৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا بقي نصف من شعبان فلا تصوموا " . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح لا نعرفه الا من هذا الوجه على هذا اللفظ . ومعنى هذا الحديث عند بعض اهل العلم ان يكون الرجل مفطرا فاذا بقي من شعبان شيء اخذ في الصوم لحال شهر رمضان . وقد روي عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يشبه قولهم حيث قال صلى الله عليه وسلم " لا تقدموا شهر رمضان بصيام الا ان يوافق ذلك صوما كان يصومه احدكم " . وقد دل في هذا الحديث انما الكراهية على من يتعمد الصيام لحال رمضان .
৭৩৬. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, শা’বানের অর্ধাংশ যখন বাকী থাকে তখন আর তোমরা সিয়াম পালন করবেনা। - ইবনু মাজাহ ১৬৫১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্নিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এই সূত্র ছাড়া এই শব্দে অন্য রিওয়ায়াতে আছে কি না আমাদের জানা নেই। কোন কোন আলিম বলেন, এই হাদীস সে ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য সে সাধারণত সাওম পালন করছেনা; কিন্তু শাবানের কিছু দিন অবশিষ্ঠ থাকতেই মাহে রামাযানের সম্মানার্থে সাওম পালন করা শুরু করে দেয়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিয়াম পালন করে তোমরা রমযানকে এগিয়ে নিবেনা। তবে তোমাদের কারো নির্ধারিত সিয়াম পালনের দিনগুলো কোন সাওমের সঙ্গে এই দিনের সিয়ামের মিল পড়ে গেলে ভিন্ন কথা। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কেউ রামাযানের সম্মানার্থে ইচ্ছা করে সিয়াম পালন করা মাকরূহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্নিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এই সূত্র ছাড়া এই শব্দে অন্য রিওয়ায়াতে আছে কি না আমাদের জানা নেই। কোন কোন আলিম বলেন, এই হাদীস সে ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য সে সাধারণত সাওম পালন করছেনা; কিন্তু শাবানের কিছু দিন অবশিষ্ঠ থাকতেই মাহে রামাযানের সম্মানার্থে সাওম পালন করা শুরু করে দেয়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিয়াম পালন করে তোমরা রমযানকে এগিয়ে নিবেনা। তবে তোমাদের কারো নির্ধারিত সিয়াম পালনের দিনগুলো কোন সাওমের সঙ্গে এই দিনের সিয়ামের মিল পড়ে গেলে ভিন্ন কথা। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কেউ রামাযানের সম্মানার্থে ইচ্ছা করে সিয়াম পালন করা মাকরূহ।
হাদিস নং: ৭৩৭
যঈফ (Dai'f)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا الحجاج بن ارطاة، عن يحيى بن ابي كثير، عن عروة، عن عاىشة، قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فخرجت فاذا هو بالبقيع فقال " اكنت تخافين ان يحيف الله عليك ورسوله " . قلت يا رسول الله اني ظننت انك اتيت بعض نساىك . فقال " ان الله عز وجل ينزل ليلة النصف من شعبان الى السماء الدنيا فيغفر لاكثر من عدد شعر غنم كلب " . وفي الباب عن ابي بكر الصديق . قال ابو عيسى حديث عاىشة لا نعرفه الا من هذا الوجه من حديث الحجاج . وسمعت محمدا يضعف هذا الحديث وقال يحيى بن ابي كثير لم يسمع من عروة والحجاج بن ارطاة لم يسمع من يحيى بن ابي كثير .
৭৩৭. আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে না পেয়ে ঘর থেকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ তাকে বাকী গোরস্তানে যেয়ে পেলাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি আশংকা করো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অন্যায় করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার অন্য কোন স্ত্রী কাছে চলে গিয়েছেন বলে আমার ধারণা হয়েছিল। তিনি বলেন, শোন, আল্লাহ তা’আলার মধ্য শাবানের রাত্রিতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে নেমে আসেন। অনন্তর বানূ কালব গোত্রের বকরী পালের লোমের সংখ্যার চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে তিনি ক্ষমা করে দেন। - ইবনু মাজাহ ১৩৮৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম ঈসা (রহঃ) বলেন, হাজ্জাতের বরাতে এই সূত্রটি ছাড়া আয়িশা (রাঃ) এর হাদীসটি সম্পর্কে কোন কিছু আমাদের জানা নাই। এই হাদীসটিকে দুর্বল বলতে আমি মুহাম্মদ আল-বুখারীকে শুনেছি। তিনি বলেন, রাবী ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর উরওয়া (রহঃ) থেকে কোন রিওয়ায়াত শোনেননি। মুহাম্মদ আল-বুখারী বলেন, এমনিভাবে হাজ্জাজ ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীরের নিকট থেকে কিছুই শোনেননি।
ইমাম ঈসা (রহঃ) বলেন, হাজ্জাতের বরাতে এই সূত্রটি ছাড়া আয়িশা (রাঃ) এর হাদীসটি সম্পর্কে কোন কিছু আমাদের জানা নাই। এই হাদীসটিকে দুর্বল বলতে আমি মুহাম্মদ আল-বুখারীকে শুনেছি। তিনি বলেন, রাবী ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর উরওয়া (রহঃ) থেকে কোন রিওয়ায়াত শোনেননি। মুহাম্মদ আল-বুখারী বলেন, এমনিভাবে হাজ্জাজ ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীরের নিকট থেকে কিছুই শোনেননি।
হাদিস নং: ৭৩৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن حميد بن عبد الرحمن الحميري، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " افضل الصيام بعد صيام شهر رمضان شهر الله المحرم " . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن .
৭৩৮. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রামাযান মাসের সিয়ামের পর সবচে ফযিলতের সিয়াম হলো আল্লাহর মাস মুহাররামের সিয়াম। - ইবনু মাজাহ ১৭৪২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান।