অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সুনান আত তিরমিজী
তিনটি কারনের কোন একটি ছাড়া মুসলিম ব্যক্তির খুন হালাল নয়।
মোট ১১২ টি হাদিস
হাদিস নং: ২২৪১
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا الحكم بن المبارك، حدثنا الوليد بن مسلم، عن ابي بكر بن ابي مريم، عن الوليد بن سفيان، عن يزيد بن قطيب السكوني، عن ابي بحرية، صاحب معاذ عن معاذ بن جبل، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الملحمة العظمى وفتح القسطنطينية وخروج الدجال في سبعة اشهر " . قال ابو عيسى وفي الباب عن الصعب بن جثامة وعبد الله بن بسر وعبد الله بن مسعود وابي سعيد الخدري . وهذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه .
২২৪১. আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ...... মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহা হত্যাযজ্ঞ, কুসতুনতুনিয়া বিজয় এবং দাজ্জাল এর আবির্ভাব ঘটবে সাত মাসের মধ্যে। যঈফ, ইবনু মাজাহ ৪০৯২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে সাব ইবন জাছছামা, আবদুল্লাহ ইবন বুসর, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। এ সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।
এ বিষয়ে সাব ইবন জাছছামা, আবদুল্লাহ ইবন বুসর, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। এ সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।
হাদিস নং: ২২৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، عن شعبة، عن يحيى بن سعيد، عن انس بن مالك، قال فتح القسطنطينية مع قيام الساعة . قال هذا حديث غريب . والقسطنطينية هي مدينة الروم تفتح عند خروج الدجال والقسطنطينية قد فتحت في زمان بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم .
২২৪২. মুহাম্মদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিয়ামতের সন্নিকট কুসতুনতুনিয়ার বিজয় ঘটবে। সহিহ, মাওকুফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মাহমূদ বলেনঃ হাদীসটি গারীব। কুসতুনতুনিয়া হল রোম দেশের একটি শহর। দাজ্জালের আবির্ভাবকালে এটি জয় করা হবে। কতক সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম যামানাতেই কুসতুনতুনিয়া জয় হয়।
মাহমূদ বলেনঃ হাদীসটি গারীব। কুসতুনতুনিয়া হল রোম দেশের একটি শহর। দাজ্জালের আবির্ভাবকালে এটি জয় করা হবে। কতক সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম যামানাতেই কুসতুনতুনিয়া জয় হয়।
হাদিস নং: ২২৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا الوليد بن مسلم، وعبد الله بن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، دخل حديث احدهما في حديث الاخر عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر عن يحيى بن جابر الطاىي عن عبد الرحمن بن جبير عن ابيه جبير بن نفير عن النواس بن سمعان الكلابي قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجال ذات غداة فخفض فيه ورفع حتى ظنناه في طاىفة النخل . قال فانصرفنا من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم رجعنا اليه فعرف ذلك فينا فقال " ما شانكم " . قال قلنا يا رسول الله ذكرت الدجال الغداة فخفضت فيه ورفعت حتى ظنناه في طاىفة النخل . قال " غير الدجال اخوف لي عليكم ان يخرج وانا فيكم فانا حجيجه دونكم وان يخرج ولست فيكم فامرو حجيج نفسه والله خليفتي على كل مسلم انه شاب قطط عينه قاىمة شبيه بعبد العزى بن قطن فمن راه منكم فليقرا فواتح سورة اصحاب الكهف قال يخرج ما بين الشام والعراق فعاث يمينا وشمالا يا عباد الله اثبتوا " . قال قلنا يا رسول الله وما لبثه في الارض قال " اربعين يوما يوم كسنة ويوم كشهر ويوم كجمعة وساىر ايامه كايامكم " . قال قلنا يا رسول الله ارايت اليوم الذي كالسنة اتكفينا فيه صلاة يوم قال " لا ولكن اقدروا له " . قال قلنا يا رسول الله فما سرعته في الارض قال " كالغيث استدبرته الريح فياتي القوم فيدعوهم فيكذبونه ويردون عليه قوله فينصرف عنهم فتتبعه اموالهم فيصبحون ليس بايديهم شيء ثم ياتي القوم فيدعوهم فيستجيبون له ويصدقونه فيامر السماء ان تمطر فتمطر ويامر الارض ان تنبت فتنبت فتروح عليهم سارحتهم كاطول ما كانت ذرى وامده خواصر وادره ضروعا قال ثم ياتي الخربة فيقول لها اخرجي كنوزك فينصرف منها فتتبعه كيعاسيب النحل ثم يدعو رجلا شابا ممتلىا شبابا فيضربه بالسيف فيقطعه جزلتين ثم يدعوه فيقبل يتهلل وجهه يضحك فبينما هو كذلك اذ هبط عيسى ابن مريم عليه السلام بشرقي دمشق عند المنارة البيضاء بين مهرودتين واضعا يديه على اجنحة ملكين اذا طاطا راسه قطر واذا رفعه تحدر منه جمان كاللولو قال ولا يجد ريح نفسه يعني احد الا مات وريح نفسه منتهى بصره قال فيطلبه حتى يدركه بباب لد فيقتله قال فيلبث كذلك ما شاء الله . قال ثم يوحي الله اليه ان حرز عبادي الى الطور فاني قد انزلت عبادا لي لا يدان لاحد بقتالهم . قال ويبعث الله ياجوج وماجوج وهم كما قال الله: ( من كل حدب ينسلون ) . قال فيمر اولهم ببحيرة الطبرية فيشرب ما فيها ثم يمر بها اخرهم فيقول لقد كان بهذه مرة ماء ثم يسيرون حتى ينتهوا الى جبل بيت المقدس فيقولون لقد قتلنا من في الارض هلم فلنقتل من في السماء . فيرمون بنشابهم الى السماء فيرد الله عليهم نشابهم محمرا دما ويحاصر عيسى ابن مريم واصحابه حتى يكون راس الثور يومىذ خيرا لاحدهم من ماىة دينار لاحدكم اليوم . قال فيرغب عيسى ابن مريم الى الله واصحابه قال فيرسل الله اليهم النغف في رقابهم فيصبحون فرسى موتى كموت نفس واحدة قال ويهبط عيسى واصحابه فلا يجد موضع شبر الا وقد ملاته زهمتهم ونتنهم ودماوهم قال فيرغب عيسى الى الله واصحابه قال فيرسل الله عليهم طيرا كاعناق البخت قال فتحملهم فتطرحهم بالمهبل ويستوقد المسلمون من قسيهم ونشابهم وجعابهم سبع سنين قال ويرسل الله عليهم مطرا لا يكن منه بيت وبر ولا مدر قال فيغسل الارض فيتركها كالزلفة قال ثم يقال للارض اخرجي ثمرتك وردي بركتك . فيومىذ تاكل العصابة من الرمانة ويستظلون بقحفها ويبارك في الرسل حتى ان الفىام من الناس ليكتفون باللقحة من الابل وان القبيلة ليكتفون باللقحة من البقر وان الفخذ ليكتفون باللقحة من الغنم فبينما هم كذلك اذ بعث الله ريحا فقبضت روح كل مومن ويبقى ساىر الناس يتهارجون كما تتهارج الحمر فعليهم تقوم الساعة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه الا من حديث عبد الرحمن بن يزيد بن جابر .
২২৪৩. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ...... নাওওয়ান ইবন সামআন কিলাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের আলোচনা করলেন এবং বিষয়টির ভীষণতা এবং নিকৃষ্টতা সব কিছু তুলে ধরেন। এমনকি আমাদের ধারণা হচ্ছিল, যে সে খেজুর বাগানে উপস্থিত রয়েছে।
নাওওয়াস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে ফিরে গেলাম। পরে বিকালে আবার তাঁর কাছে এলাম। তিনি আমাদের মাঝে দাজ্জালের ভীতির চিহ্ন দেখে বললেনঃ তোমাদের একি অবস্থা? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি সকালে দাজ্জালের আলোচনা করেছিলেন এবং বিষয়টির ভীষণতা এবং নিকৃষ্টতা এমন উল্লেখ করেছিলেন যে, আমাদের মনে হচ্ছিল সে বুঝি খেজুর বাগানে কিনারে এসে হাজির। তিনি বললেনঃ তোমাদের জন্য দাজ্জাল ছাড়া অনূ কিছুর অধিক আশংকা আমার রয়েছে। তোমাদের মাঝে আমার জীবদ্দশায় যদি এর আবির্ভাব হয় তবে আমিই তোমাদের পক্ষে এ বিরুদ্ধে বিতর্কে জয়ী হব। আর আমি যদি তোমাদের মাঝে না থাকি তখন যদি সে বের হয় তবে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পক্ষে তার বিরুদ্ধে বিতর্ককারী হবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার স্থলে আল্লাহ তাআলা নিজেই সহায়ক হবেন।
দাজ্জাল হল এক যুবক। তার চুল অতিশয় কুকড়ানো, চোখ তার স্থির। আবদুল উযযা ইবন কাতান সদৃশ হবে। তোমাদের কেউ যদি তাকে পায় তবে সে যেন সূরাতুল কাহফ-এর শুরুর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে। তিনি আরো বলেনঃ শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে সে বের হবে।ডান দিক ও বাম দিক সে ফেতনা-ফাসাতের সৃষ্টি করে ফিরবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা দৃঢ় থাকবে।
আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ, যে দিনটি হবে এক বছরের মত বড় সে দিন কি একদিনের সালাতেই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমরা এর জন্য (স্বাভাবিক দিনের পরিমান) আন্দায করে নিবে (এবং সে হিসাবে সালাত (নামায) আদায় করবে)।
আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ পৃথিবীতে কত দ্রুত হবে তার গতি?
তিনি বললেনঃ বায়ু তাড়িত মেঘমালার মত। কোন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তাদেরকে সে নিজের দলে ডাকবে। কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করবে এবং তার দাবী প্রত্যাখান করবে। সে তখন তাদের থেকে ফিরে আসবে আর তার পিছে পিছে তাদের সব সম্পদও চলে আসবে। তাদের হাতে আর কিছুই থাকবে না। তারপর সে আরেক সম্প্রদায়ের কাছে যাবে। সে তাদেরকে নিজের দিকে ডাকবে। তারা তার কথা গ্রহণ করবে এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করে নিবে। তখন সে আকাশকে বৃষ্টি ঝড়াতে নির্দেশ দিবে। তারপর তদানুসারে বৃষ্টি নামবে। যমীনকে সে উদ্ভিদ জন্মাতে নির্দেশ দিবে ফলে ফসল হবে। বিকালে তাদের পশুপালগুলো পূর্বের চেয়েও লম্বা, কুঁজ, বিস্তৃত নিতম্ব, দুগ্ধপুষ্ট ওলান বিশিষ্ট হয়ে ফিরে আসবে।
তারপর সে এক বিরান ধবংসস্তুপে আসবে। সেটিকে লক্ষ্য করে বলবেঃ তোমার ধনভান্ডার বের করে দাও। তারপর সে এখান থেকে ফিরে আসবে আর যেভাবে রানী মৌমাছিকে ঘিরে ধরে অন্যগুলি তার অনুসরণ করে থাকে তেমনিভাবে সব ধনভান্ডার তার অনুসরণ করবে।
এরপর সে যৌবনে পরিপূর্ণ এক তরুন যুবককে তার দিকে আহবান জানাবে। তাকে সে তলোয়ারের আঘাতে দ্বিখন্ডিত করে ফেলবে। পরে তাকে ডাকবে। যুবকটি (জীবিত হয়ে) হাস্যেজ্জল চেহারা নিয়ে এদিকে আসবে।
এমতাবস্থায় এদিকে ঈসা (আঃ) দুই ফিরিশতার পাখনায় তাঁর হাত রেখে গেরুয়া রঙ্গের বসনে স্বেত-শুভ্র মিনারার কাছে পূর্ব দামিশকে অবতরণ করবেন। তাঁর মাথা নীচু করলে পানি ঝরতে থাকবে আর তা উঠানে মোতির মত ফোটায় ফোটায় পানি পড়বে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যাকেই তাঁর শ্বাস প্রশ্বাস স্পর্শ করবে সেই মারা যাবে। চক্ষু দৃষ্টি যেখানে গিয়ে শেষ হবে সেখানে পর্যন্ত তাঁর নিঃশ্বাসের বাতাস পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করবেন এবং লুদ (বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী একটি শহর)-এর নগর দরওয়াজার কাছে তাকে পাবেন। তারপর একে তিনি হত্যা করবেন।
আল্লাহ যতদিন চান তিনি এভাবে বসবাস করবেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাকে ওয়াহী পাঠাবেনঃ আমার বান্দাদেরকে তুর পাহাড়ে সরিয়ে নাও। আমি আমার এমন একদল বান্দা নামাচ্ছি যাদের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা কারো নেই। এরপর আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাঠাবেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বিবরণ মত প্রতি ’উচ্চ ভূমি থেকে তারা ছুটে আসবে’। তাদের প্রথম দলটি তাবারিয়া উপসাগর (শামে অবস্থিত একটি ছোট সাগর) অতিক্রম করা কালে এর মাঝে যা পানি আছে সব পান করে ফেলবে। এমন অবস্থা হবে যে, পরে তাদের শেষ দলটি যখন এই উপসাগর অতিক্রম করবে তখন তারা বলবে ’এখানে এক কালে হয়ত পানি ছিল’। আবার তারা চলবে এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে পর্বতে যেয়ে তাদের এই যাত্রার শেষ হবে। তারা পরস্পর বলবেঃ পৃথিবীতে যারা ছিল তাদেরকে তো বধ করেছি এস এবার আসমানে যারা আছে তাদের শেষ করে দইে। তারপর তারা আসমানের দিকে তাদের তীর ছুড়বে। আল্লাহ তাআলা তাদের তীরগুলোকে রক্ত রঞ্জিত করে ফিরিয়ে দিবেন। ঈসা ইবন মারয়াম (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। তাদের অবস্থা এমন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে যে, আজকে তোমাদের কাছে একশত স্বর্ণ মুদ্রার যে দাম তাদের কাছে তখন একটি ষাড়ের মাথাও তদপেক্ষা অনেক উত্তম বলে মনে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে মিনতি জানাবেন। আল্লাহ তাআলা তাদের গর্দানে ’’নাগাফ’’ জাতীয় এক জীবানু মহামারীরূপে প্রেরণ করবেন। তারা সব ধ্বংস হয়ে মরে যাবে যেন একটি মাত্র প্রাণের মৃত্যু হল। এরপর ঈসা (আঃ) ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে নেমে আসবেন, কিন্তু তারা এব বিঘৎ জায়গাও এমন পাবেন না যেখানে ইয়জুজ-মাজুজের গলিত চর্বি, রক্ত ও দুগন্ধ ছড়িয়ে না আছে। তারপ ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে আবার মিনতি জানাবেন। তখন আল্লাহ তাআলা উটের মত লম্বা গলা বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন। পাখিগুলি ইয়াজুজ-মাজুজদের লাশ উঠিয়ে নীচু গর্তে নিয়ে ফেলে দিবে। মুসলিমগণ তাদের ফেলে যাওয়া ধনুকে জ্যা, তীর এবং তুলীর সাত বছর পর্যন্ত জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে। আল্লাহ তাআলা প্রবল বৃষ্টি করবেন শহর বা গ্রামের কোন বাড়িঘরই তা থেকে রক্ষা পাবে না। সমস্ত যমীন ধৌত হয়ে যাবে এবং তা আয়নার মত ঝক ঝকে হয়ে উঠবে।
পরে যমীনকে বলা হবে, তোমার সব ফল ও ফসল বের করে দাও, সব বরকত ফিরিয়ে দাও। এমন হবে যে সেদিন একটি আনার একদল লোক খেতে পারবে এবং একদল লোক এর খোসার নীচে ছায়া গ্রহণ করতে পারবে। দূধের মধ্যেও এমন বরকত হবে যে, একটি দুগ্ধবতী উট বহুসংখ্যক লোক বিশিষ্ট দলের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী গাভী একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী ছাগল একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে।
এমন অবস্থায় তারা দিন গুযরান করতে থাকবে হঠাৎ আল্লাহ তাআলা এক হাওয়া চালাবেন। এই হাওয়া প্রত্যেক মুমিনের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। বাকী কেবল দুষ্টু লোকেরা থেকে যাবে। এরা গাধার মত নির্লজ্জভাবে নারী সঙ্গমে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
সহীহ, সহিহাহ ৪৮১, তাখরিজ ফাযায়েলুশশাম ২৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবির (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।
নাওওয়াস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে ফিরে গেলাম। পরে বিকালে আবার তাঁর কাছে এলাম। তিনি আমাদের মাঝে দাজ্জালের ভীতির চিহ্ন দেখে বললেনঃ তোমাদের একি অবস্থা? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি সকালে দাজ্জালের আলোচনা করেছিলেন এবং বিষয়টির ভীষণতা এবং নিকৃষ্টতা এমন উল্লেখ করেছিলেন যে, আমাদের মনে হচ্ছিল সে বুঝি খেজুর বাগানে কিনারে এসে হাজির। তিনি বললেনঃ তোমাদের জন্য দাজ্জাল ছাড়া অনূ কিছুর অধিক আশংকা আমার রয়েছে। তোমাদের মাঝে আমার জীবদ্দশায় যদি এর আবির্ভাব হয় তবে আমিই তোমাদের পক্ষে এ বিরুদ্ধে বিতর্কে জয়ী হব। আর আমি যদি তোমাদের মাঝে না থাকি তখন যদি সে বের হয় তবে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পক্ষে তার বিরুদ্ধে বিতর্ককারী হবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার স্থলে আল্লাহ তাআলা নিজেই সহায়ক হবেন।
দাজ্জাল হল এক যুবক। তার চুল অতিশয় কুকড়ানো, চোখ তার স্থির। আবদুল উযযা ইবন কাতান সদৃশ হবে। তোমাদের কেউ যদি তাকে পায় তবে সে যেন সূরাতুল কাহফ-এর শুরুর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে। তিনি আরো বলেনঃ শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে সে বের হবে।ডান দিক ও বাম দিক সে ফেতনা-ফাসাতের সৃষ্টি করে ফিরবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা দৃঢ় থাকবে।
আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ, যে দিনটি হবে এক বছরের মত বড় সে দিন কি একদিনের সালাতেই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমরা এর জন্য (স্বাভাবিক দিনের পরিমান) আন্দায করে নিবে (এবং সে হিসাবে সালাত (নামায) আদায় করবে)।
আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ পৃথিবীতে কত দ্রুত হবে তার গতি?
তিনি বললেনঃ বায়ু তাড়িত মেঘমালার মত। কোন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তাদেরকে সে নিজের দলে ডাকবে। কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করবে এবং তার দাবী প্রত্যাখান করবে। সে তখন তাদের থেকে ফিরে আসবে আর তার পিছে পিছে তাদের সব সম্পদও চলে আসবে। তাদের হাতে আর কিছুই থাকবে না। তারপর সে আরেক সম্প্রদায়ের কাছে যাবে। সে তাদেরকে নিজের দিকে ডাকবে। তারা তার কথা গ্রহণ করবে এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করে নিবে। তখন সে আকাশকে বৃষ্টি ঝড়াতে নির্দেশ দিবে। তারপর তদানুসারে বৃষ্টি নামবে। যমীনকে সে উদ্ভিদ জন্মাতে নির্দেশ দিবে ফলে ফসল হবে। বিকালে তাদের পশুপালগুলো পূর্বের চেয়েও লম্বা, কুঁজ, বিস্তৃত নিতম্ব, দুগ্ধপুষ্ট ওলান বিশিষ্ট হয়ে ফিরে আসবে।
তারপর সে এক বিরান ধবংসস্তুপে আসবে। সেটিকে লক্ষ্য করে বলবেঃ তোমার ধনভান্ডার বের করে দাও। তারপর সে এখান থেকে ফিরে আসবে আর যেভাবে রানী মৌমাছিকে ঘিরে ধরে অন্যগুলি তার অনুসরণ করে থাকে তেমনিভাবে সব ধনভান্ডার তার অনুসরণ করবে।
এরপর সে যৌবনে পরিপূর্ণ এক তরুন যুবককে তার দিকে আহবান জানাবে। তাকে সে তলোয়ারের আঘাতে দ্বিখন্ডিত করে ফেলবে। পরে তাকে ডাকবে। যুবকটি (জীবিত হয়ে) হাস্যেজ্জল চেহারা নিয়ে এদিকে আসবে।
এমতাবস্থায় এদিকে ঈসা (আঃ) দুই ফিরিশতার পাখনায় তাঁর হাত রেখে গেরুয়া রঙ্গের বসনে স্বেত-শুভ্র মিনারার কাছে পূর্ব দামিশকে অবতরণ করবেন। তাঁর মাথা নীচু করলে পানি ঝরতে থাকবে আর তা উঠানে মোতির মত ফোটায় ফোটায় পানি পড়বে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যাকেই তাঁর শ্বাস প্রশ্বাস স্পর্শ করবে সেই মারা যাবে। চক্ষু দৃষ্টি যেখানে গিয়ে শেষ হবে সেখানে পর্যন্ত তাঁর নিঃশ্বাসের বাতাস পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করবেন এবং লুদ (বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী একটি শহর)-এর নগর দরওয়াজার কাছে তাকে পাবেন। তারপর একে তিনি হত্যা করবেন।
আল্লাহ যতদিন চান তিনি এভাবে বসবাস করবেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাকে ওয়াহী পাঠাবেনঃ আমার বান্দাদেরকে তুর পাহাড়ে সরিয়ে নাও। আমি আমার এমন একদল বান্দা নামাচ্ছি যাদের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা কারো নেই। এরপর আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাঠাবেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বিবরণ মত প্রতি ’উচ্চ ভূমি থেকে তারা ছুটে আসবে’। তাদের প্রথম দলটি তাবারিয়া উপসাগর (শামে অবস্থিত একটি ছোট সাগর) অতিক্রম করা কালে এর মাঝে যা পানি আছে সব পান করে ফেলবে। এমন অবস্থা হবে যে, পরে তাদের শেষ দলটি যখন এই উপসাগর অতিক্রম করবে তখন তারা বলবে ’এখানে এক কালে হয়ত পানি ছিল’। আবার তারা চলবে এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে পর্বতে যেয়ে তাদের এই যাত্রার শেষ হবে। তারা পরস্পর বলবেঃ পৃথিবীতে যারা ছিল তাদেরকে তো বধ করেছি এস এবার আসমানে যারা আছে তাদের শেষ করে দইে। তারপর তারা আসমানের দিকে তাদের তীর ছুড়বে। আল্লাহ তাআলা তাদের তীরগুলোকে রক্ত রঞ্জিত করে ফিরিয়ে দিবেন। ঈসা ইবন মারয়াম (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। তাদের অবস্থা এমন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে যে, আজকে তোমাদের কাছে একশত স্বর্ণ মুদ্রার যে দাম তাদের কাছে তখন একটি ষাড়ের মাথাও তদপেক্ষা অনেক উত্তম বলে মনে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে মিনতি জানাবেন। আল্লাহ তাআলা তাদের গর্দানে ’’নাগাফ’’ জাতীয় এক জীবানু মহামারীরূপে প্রেরণ করবেন। তারা সব ধ্বংস হয়ে মরে যাবে যেন একটি মাত্র প্রাণের মৃত্যু হল। এরপর ঈসা (আঃ) ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে নেমে আসবেন, কিন্তু তারা এব বিঘৎ জায়গাও এমন পাবেন না যেখানে ইয়জুজ-মাজুজের গলিত চর্বি, রক্ত ও দুগন্ধ ছড়িয়ে না আছে। তারপ ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে আবার মিনতি জানাবেন। তখন আল্লাহ তাআলা উটের মত লম্বা গলা বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন। পাখিগুলি ইয়াজুজ-মাজুজদের লাশ উঠিয়ে নীচু গর্তে নিয়ে ফেলে দিবে। মুসলিমগণ তাদের ফেলে যাওয়া ধনুকে জ্যা, তীর এবং তুলীর সাত বছর পর্যন্ত জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে। আল্লাহ তাআলা প্রবল বৃষ্টি করবেন শহর বা গ্রামের কোন বাড়িঘরই তা থেকে রক্ষা পাবে না। সমস্ত যমীন ধৌত হয়ে যাবে এবং তা আয়নার মত ঝক ঝকে হয়ে উঠবে।
পরে যমীনকে বলা হবে, তোমার সব ফল ও ফসল বের করে দাও, সব বরকত ফিরিয়ে দাও। এমন হবে যে সেদিন একটি আনার একদল লোক খেতে পারবে এবং একদল লোক এর খোসার নীচে ছায়া গ্রহণ করতে পারবে। দূধের মধ্যেও এমন বরকত হবে যে, একটি দুগ্ধবতী উট বহুসংখ্যক লোক বিশিষ্ট দলের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী গাভী একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী ছাগল একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে।
এমন অবস্থায় তারা দিন গুযরান করতে থাকবে হঠাৎ আল্লাহ তাআলা এক হাওয়া চালাবেন। এই হাওয়া প্রত্যেক মুমিনের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। বাকী কেবল দুষ্টু লোকেরা থেকে যাবে। এরা গাধার মত নির্লজ্জভাবে নারী সঙ্গমে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
সহীহ, সহিহাহ ৪৮১, তাখরিজ ফাযায়েলুশশাম ২৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবির (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।
হাদিস নং: ২২৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الاعلى الصنعاني، حدثنا المعتمر بن سليمان، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه سىل عن الدجال فقال " الا ان ربكم ليس باعور الا وانه اعور عينه اليمنى كانها عنبة طافية " . قال وفي الباب عن سعد وحذيفة وابي هريرة واسماء وجابر بن عبد الله وابي بكرة وعاىشة وانس وابن عباس والفلتان بن عاصم . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح غريب من حديث عبيد الله بن عمر .
২২৪৪. মুহাম্মদ ইবন আবদুল আলা সানআনী (রহঃ) ..... ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাজ্জাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেনঃ শুনে রাখ, তোমাদের রব তো কানা নন। শুনে রাখ, দাজ্জালের ডান চোখ কানা তার চোখটি যেন ফুলে উঠা একটি আঙ্গুর। সহীহ, বুখারি ৩৪৯৩, মুসলিম ১/১০৭ প্রশ্নের উল্লেখ ব্যাতিত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে সা’দ, হুযায়ফা, আবূ হুরায়রা, আসমা, জাবির ইবন আবদুল্লাহ, আবূ বকরা, আয়িশা, আনাস, ইবন আব্বাস এবং ফালাতান ইবন আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ ইবন ’উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াত সূত্রে গারীব।
এ বিষয়ে সা’দ, হুযায়ফা, আবূ হুরায়রা, আসমা, জাবির ইবন আবদুল্লাহ, আবূ বকরা, আয়িশা, আনাস, ইবন আব্বাস এবং ফালাতান ইবন আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ ইবন ’উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াত সূত্রে গারীব।
হাদিস নং: ২২৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدة بن عبد الله الخزاعي البصري، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا شعبة، عن قتادة، عن انس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ياتي الدجال المدينة فيجد الملاىكة يحرسونها فلا يدخلها الطاعون ولا الدجال ان شاء الله " . قال وفي الباب عن ابي هريرة وفاطمة بنت قيس واسامة بن زيد وسمرة بن جندب ومحجن . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح .
২২৪৫. ’আবদা ইবন আবদুল্লাহ খুযাঈ (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাজ্জাল মদীনায় আসবে কিন্তু সে দেখতে পাবে যে, ফিরিশতাগণ তা পাহারা দিচ্ছেন। অতএব মদীনায় প্লেগ এবং দাজ্জাল ইনশাআল্লাহ প্রবেশ করতে পারবে না। সহীহ, সহিহাহ ২৪৫৮, বুখারী, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ফাতিমা বিনত কায়স, মিনহাজ, উসামা ইবন যায়দ এবং সামুরা ইবন জুন্দুব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণত আছে। এ হাদীসটি সহীহ।
এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ফাতিমা বিনত কায়স, মিনহাজ, উসামা ইবন যায়দ এবং সামুরা ইবন জুন্দুব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণত আছে। এ হাদীসটি সহীহ।
হাদিস নং: ২২৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الايمان يمان والكفر من قبل المشرق والسكينة لاهل الغنم والفخر والرياء في الفدادين اهل الخيل واهل الوبر ياتي المسيح اذا جاء دبر احد صرفت الملاىكة وجهه قبل الشام وهنالك يهلك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২২৪৬. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেঃ ঈমান হল ইয়ামানে, কুফর হল পূর্ব দিকে, ছাগল ওয়ালাদের মধ্যে রয়েচে প্রশান্তি, অহংকার এবং রিয়াকারী রয়েছে উট ও ঘোড়ার পিছনে চিৎকারকারীদের মাঝে। মাসীহ-এ-দাজ্জাল আসবে, উহুদের পিছনে যখন সে পৌছবে ফিরিশতাগণ শামের দিকে তার চেহারা ফিরায়ে দিবেন। আর সেখানেই সে ধ্বংস হবে। সহীহ, সহিহাহ ১৭৭০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি সহীহ।
হাদিস নং: ২২৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، انه سمع عبيد الله بن عبد الله بن ثعلبة الانصاري، يحدث عن عبد الرحمن بن يزيد الانصاري، من بني عمرو بن عوف يقول سمعت عمي، مجمع بن جارية الانصاري يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " يقتل ابن مريم الدجال بباب لد " . قال وفي الباب عن عمران بن حصين ونافع بن عتبة وابي برزة وحذيفة بن اسيد وابي هريرة وكيسان وعثمان بن ابي العاصي وجابر وابي امامة وابن مسعود وعبد الله بن عمرو وسمرة بن جندب والنواس بن سمعان وعمرو بن عوف وحذيفة بن اليمان . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২২৪৭. কুতায়বা (রহঃ) ... মুজাম্মা ইবন জারিয়া আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ইবন মারয়াম [ঈসা (আঃ)] দাজ্জালকে লুদ্দ দ্বার প্রান্তে হত্যা করবেন। সহীহ, কিচ্ছাতুল মাসিহি দাজ্জালি ওয়া কাতলুহু, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে ইমরান ইবন হুসায়ন, নাফি’ ইবন উতবা, আবূ বারযা, হুযায়ফা ইবন আসীদ, আবূ হুরায়রা কায়সান, ’উসমান ইবন আবুল আস, জাবির, আবূ উসামা, ইবন মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবন ’আমর, সামুরা ইবন জুন্দুব, নাওওয়াস ইবন সামআন, ’আমর ইবন ’আওফ এবং হুযায়ফা ইবন ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এ বিষয়ে ইমরান ইবন হুসায়ন, নাফি’ ইবন উতবা, আবূ বারযা, হুযায়ফা ইবন আসীদ, আবূ হুরায়রা কায়সান, ’উসমান ইবন আবুল আস, জাবির, আবূ উসামা, ইবন মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবন ’আমর, সামুরা ইবন জুন্দুব, নাওওয়াস ইবন সামআন, ’আমর ইবন ’আওফ এবং হুযায়ফা ইবন ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২২৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن قتادة، قال سمعت انسا، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من نبي الا وقد انذر امته الاعور الكذاب الا انه اعور وان ربكم ليس باعور مكتوب بين عينيه ك ف ر " . هذا حديث حسن صحيح .
২২৪৮. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন কোন নবী নাই যিনি তার উম্মাতকে কানা মিথ্যাবাদী (দাজ্জাল) সর্ম্পকে সতর্ক না করেছেন। শোন, দাজ্জাল তো কানা। তোমাদের রব তো কানা নন। তার দুই চোখের মাঝখানে লেখা আছে ’’কাফির’’। সহীহ, তাখরিজু শারহিল আকিদাতিত তাহাবিয়া ৭৬২, "কিচ্ছাতুল মাসিহিদ্দাজ্জাল", বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২২৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا عبد الاعلى بن عبد الاعلى، عن الجريري، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد، قال صحبني ابن صاىد اما حجاجا واما معتمرين فانطلق الناس وتركت انا وهو فلما خلصت به اقشعررت منه واستوحشت منه مما يقول الناس فيه فلما نزلت قلت له ضع متاعك حيث تلك الشجرة . قال فابصر غنما فاخذ القدح فانطلق فاستحلب ثم اتاني بلبن فقال لي يا ابا سعيد اشرب . فكرهت ان اشرب من يده شيىا لما يقول الناس فيه فقلت له هذا اليوم يوم صاىف واني اكره فيه اللبن . قال لي يا ابا سعيد هممت ان اخذ حبلا فاوثقه الى شجرة ثم اختنق لما يقول الناس لي وفي ارايت من خفي عليه حديثي فلن يخفى عليكم الستم اعلم الناس بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معشر الانصار الم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم انه كافر وانا مسلم الم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم انه عقيم لا يولد له وقد خلفت ولدي بالمدينة الم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل او لا تحل له مكة والمدينة الست من اهل المدينة وهو ذا انطلق معك الى مكة . فوالله ما زال يجيء بهذا حتى قلت فلعله مكذوب عليه ثم قال يا ابا سعيد والله لاخبرنك خبرا حقا والله اني لاعرفه واعرف والده واعرف اين هو الساعة من الارض . فقلت تبا لك ساىر اليوم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح.
২২৪৯. সুফইয়ান ইবন ওয়াকী (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজ্জ (কিংবা উমরা) এর সফরে ইবন সায়্যাদ আমার সঙ্গী হয়। লোকেরা চলে গেলে আমি এবং সে রয়ে গেলাম। আমি তার সাথে একা হয়ে গেলে তার সম্পর্কে লোকেরা যা বলাবলি করত তা ভেবে আমি ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। এক স্থানে বিশ্রামের জন্য আমি অবতরণ করলে তাকে বললামঃ ঐ গাছটার কাছে তোমার সামান-পত্র রাখ।
আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ সে কিছু বকরী দেখতি পেয়ে একটি পেয়ালা নিয় গিয়ে সেদিকে গেল এবং কিছু দুধ দোহন করে আমার কাছে তা নিয়ে এল। আমাকে বললঃ আবূ সাঈদ, পান কর। মানুষ যেহেতু তার সম্পর্কে নানা কথা বলত তাই তার হাতে কিছু পান করতে আমার ভাল লাগছিল না। তাই আমি তাকে বললামঃ আজকের দিনটি খুব গরম, এমন দিনে আমি দুধ পছন্দ করি না।
সে বললঃ হে আবূ সাঈদ, লোকেরা যে আমাকে এবং আমর সম্পর্কে নানা কথা বলে সেই জন্য আমার ইচ্ছা হয় একটি দড়ি নিয়ে একটি গাছে বেধে ফাসিয়ে লাগিয়ে আত্মহত্য করে ফেলি। তুমি কি মনে কর, আমার বিষয়টি কারো কাছে অস্পষ্ট থাকলেও তোমরা আনসারীদের কাছে তো আর কখনো অস্পষ্ট থাকার কথা নয়। হে আনসার সম্প্রদায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস সম্পর্কে তোমরা কি সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত নও? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে দাজ্জাল হল কাফির আথচ আমি মুসলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আরো বলেন নি যে, সে হবে নিঃসন্তান তার কোন সন্তান থাকবে না। আর আমি তো মদীনায় আমার সন্তান রেখে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, মক্কা এবং মদীনা তার জন্য হালাল নয়। (সে মক্কায় প্রবেশ করতে পারবে না)। আমি কি নিজে মদীনাবাসী নই আর এই তো এখন তোমার সঙ্গে মক্কায় চলছি।
আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম, সে এমনভাবে একটার পর একটা যুক্তি উত্থাপন করতে লাগল যে আমি মনে মনে বললাম, হয়ত লোকটির সম্পর্কে লোকেরা মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। এরপর সে বললঃ হে আবূ সাঈদ, আল্লাহর কসম, তোমাকে অবশ্যই আমি একটি সত্য খবর দিচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাকে (দাজ্জালকে) জানি, তার পিতাকে চিনি এবং এখন সে পৃথিবীর কোথায় আছে তা-ও আমি জানি। আমি বললামঃ তোর জন্য ধ্বংস আসুক সারা দিন। সহীহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান।
আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ সে কিছু বকরী দেখতি পেয়ে একটি পেয়ালা নিয় গিয়ে সেদিকে গেল এবং কিছু দুধ দোহন করে আমার কাছে তা নিয়ে এল। আমাকে বললঃ আবূ সাঈদ, পান কর। মানুষ যেহেতু তার সম্পর্কে নানা কথা বলত তাই তার হাতে কিছু পান করতে আমার ভাল লাগছিল না। তাই আমি তাকে বললামঃ আজকের দিনটি খুব গরম, এমন দিনে আমি দুধ পছন্দ করি না।
সে বললঃ হে আবূ সাঈদ, লোকেরা যে আমাকে এবং আমর সম্পর্কে নানা কথা বলে সেই জন্য আমার ইচ্ছা হয় একটি দড়ি নিয়ে একটি গাছে বেধে ফাসিয়ে লাগিয়ে আত্মহত্য করে ফেলি। তুমি কি মনে কর, আমার বিষয়টি কারো কাছে অস্পষ্ট থাকলেও তোমরা আনসারীদের কাছে তো আর কখনো অস্পষ্ট থাকার কথা নয়। হে আনসার সম্প্রদায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস সম্পর্কে তোমরা কি সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত নও? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে দাজ্জাল হল কাফির আথচ আমি মুসলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আরো বলেন নি যে, সে হবে নিঃসন্তান তার কোন সন্তান থাকবে না। আর আমি তো মদীনায় আমার সন্তান রেখে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, মক্কা এবং মদীনা তার জন্য হালাল নয়। (সে মক্কায় প্রবেশ করতে পারবে না)। আমি কি নিজে মদীনাবাসী নই আর এই তো এখন তোমার সঙ্গে মক্কায় চলছি।
আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম, সে এমনভাবে একটার পর একটা যুক্তি উত্থাপন করতে লাগল যে আমি মনে মনে বললাম, হয়ত লোকটির সম্পর্কে লোকেরা মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। এরপর সে বললঃ হে আবূ সাঈদ, আল্লাহর কসম, তোমাকে অবশ্যই আমি একটি সত্য খবর দিচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাকে (দাজ্জালকে) জানি, তার পিতাকে চিনি এবং এখন সে পৃথিবীর কোথায় আছে তা-ও আমি জানি। আমি বললামঃ তোর জন্য ধ্বংস আসুক সারা দিন। সহীহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান।
হাদিস নং: ২২৫০
সহিহ (Sahih)
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا عبد الاعلى، عن الجريري، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد، قال لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم ابن صاىد في بعض طرق المدينة فاحتبسه وهو غلام يهودي وله ذوابة ومعه ابو بكر وعمر فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتشهد اني رسول الله " . فقال اتشهد انت اني رسول الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم " امنت بالله وملاىكته وكتبه ورسله واليوم الاخر " . قال له النبي صلى الله عليه وسلم " ما ترى " . قال ارى عرشا فوق الماء . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ترى عرش ابليس فوق البحر . قال " فما ترى " . قال ارى صادقا وكاذبين او صادقين وكاذبا . قال النبي صلى الله عليه وسلم " لبس عليه " . فدعاه قال وفي الباب عن عمر وحسين بن علي وابن عمر وابي ذر وابن مسعود وجابر وحفصة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن .
২২৫০. সুফইয়ান ইবন ওয়াকী (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার কোন এক রাস্তায় ইবন সায়্যাদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি তাঁকে থামালেন। সে ছিল এক ইয়াহূদী বালক। তার চুল ছিল বেনীবদ্ধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আবূ বকর এবং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমাও ছিলেন। তাকে রাসয়ূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল?
সে বললঃ আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিনের উপর ঈমান এনেছি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আরো বললেনঃ তুমি কি দেখতে পাও?
সে বললঃ পানির উপর একটি সিংহাসন দেখতে পাচ্ছি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাগরের উপর ইবরীশের আসন দেখতে পাচ্ছ।
তিনি বললেনঃ আর কি দেখ?
সে বলল একজন সত্যবাদী ও দুইজন মিথ্যাবাদী কিংবা দুইজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদীকে দেখি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার উপর বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। অতএব তোমরা একে ছেড়ে দাও। সহীহ, সহিহাহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে উমার, হুসায়ন ইবন আলী, ইবন উমার, আবূ যারর, ইবন মাসউদ, জাবির এবং হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান।
সে বললঃ আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিনের উপর ঈমান এনেছি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আরো বললেনঃ তুমি কি দেখতে পাও?
সে বললঃ পানির উপর একটি সিংহাসন দেখতে পাচ্ছি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাগরের উপর ইবরীশের আসন দেখতে পাচ্ছ।
তিনি বললেনঃ আর কি দেখ?
সে বলল একজন সত্যবাদী ও দুইজন মিথ্যাবাদী কিংবা দুইজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদীকে দেখি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার উপর বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। অতএব তোমরা একে ছেড়ে দাও। সহীহ, সহিহাহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে উমার, হুসায়ন ইবন আলী, ইবন উমার, আবূ যারর, ইবন মাসউদ, জাবির এবং হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান।
হাদিস নং: ২২৫১
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الله بن معاوية الجمحي، حدثنا حماد بن سلمة، عن علي بن زيد، عن عبد الرحمن بن ابي بكرة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يمكث ابو الدجال وامه ثلاثين عاما لا يولد لهما ولد ثم يولد لهما غلام اعور اضر شيء واقله منفعة تنام عيناه ولا ينام قلبه " . ثم نعت لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ابويه فقال " ابوه طوال ضرب اللحم كان انفه منقار وامه امراة فرضاخية طويلة اليدين " . فقال ابو بكرة فسمعنا بمولود في اليهود بالمدينة فذهبت انا والزبير بن العوام حتى دخلنا على ابويه فاذا نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم فيهما فقلنا هل لكما ولد فقالا مكثنا ثلاثين عاما لا يولد لنا ولد ثم ولد لنا غلام اعور اضر شيء واقله منفعة تنام عيناه ولا ينام قلبه . قال فخرجنا من عندهما فاذا هو منجدل في الشمس في قطيفة له وله همهمة فكشف عن راسه فقال ما قلتما قلنا وهل سمعت ما قلنا قال نعم تنام عيناى ولا ينام قلبي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث حماد بن سلمة .
২২৫১. আবদুল্লাহ ইবন মুআবিয়া জুমাহী (রহঃ) ..... আবদুর রাহমান ইবন আবূ বকরা তার পিতা আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাজ্জালের পিতা-মাতা ত্রিশ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে তাদের কোন সন্তান হবে না। পরে তাদের এক কানা শিশুর জন্ম হবে। যা হবে সবচেয়ে ক্ষতিকর এবং অত্যন্ত অনুপোকারী। তার চোখ তো হবে নিদ্রিত কিন্তু অন্তর হবে না।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতা-মাতার বিবরণ দিলেন। বললেনঃ তার পিতা হবে লম্বা, পাতলা গড়ানের। তার নাকটা যেন পাখির ঠোট। তার মা হবে স্থুলকায়, সুদীর্ঘ স্তন বিশিষ্টা মহিলা।
আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ মদীনায় ইয়াহুদীদের একটি সন্তানের কথা শুনে আমি এবং যুবায়র ইবন আওওয়াম সেখানে গেলাম। আমরা তার পিতা-মাতার কাছে গিয়ে দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন এরা ঠিক তদ্রুপ। আমরা বললামঃ তোমাদের কোন সন্তান আছে কি? তারা বললঃ ত্রিশ বছর আমাদের কোন সন্তান হয় নাই। এরপর একটি কানা বাচ্চা হয়েছে। সে সবচেয়ে ক্ষতিকর এবং কম উপকারী। তার দুচোখ তো ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না।
আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহ বললেনঃ আমরা তাদের ওখান থেকে বের হয়ে এলাম। হঠাত দেখি বালকটি একটি চাঁদর লেপটে রোদে শুয়ে আছে আর বিড় বিড় করছে। সে তার মাথা থেকে কাপড় সরাল, বলল, তোমরা কি বলছ?
আমরা বললামঃ আমরা কি বলেছি তুমি শুনেছ নাকি?
সে বললঃ হ্যাঁ, আমার দু’চোখ ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায় না। যঈফ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৫৫০৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। হাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতা-মাতার বিবরণ দিলেন। বললেনঃ তার পিতা হবে লম্বা, পাতলা গড়ানের। তার নাকটা যেন পাখির ঠোট। তার মা হবে স্থুলকায়, সুদীর্ঘ স্তন বিশিষ্টা মহিলা।
আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ মদীনায় ইয়াহুদীদের একটি সন্তানের কথা শুনে আমি এবং যুবায়র ইবন আওওয়াম সেখানে গেলাম। আমরা তার পিতা-মাতার কাছে গিয়ে দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন এরা ঠিক তদ্রুপ। আমরা বললামঃ তোমাদের কোন সন্তান আছে কি? তারা বললঃ ত্রিশ বছর আমাদের কোন সন্তান হয় নাই। এরপর একটি কানা বাচ্চা হয়েছে। সে সবচেয়ে ক্ষতিকর এবং কম উপকারী। তার দুচোখ তো ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না।
আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহ বললেনঃ আমরা তাদের ওখান থেকে বের হয়ে এলাম। হঠাত দেখি বালকটি একটি চাঁদর লেপটে রোদে শুয়ে আছে আর বিড় বিড় করছে। সে তার মাথা থেকে কাপড় সরাল, বলল, তোমরা কি বলছ?
আমরা বললামঃ আমরা কি বলেছি তুমি শুনেছ নাকি?
সে বললঃ হ্যাঁ, আমার দু’চোখ ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায় না। যঈফ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৫৫০৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। হাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
হাদিস নং: ২২৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بابن صياد في نفر من اصحابه فيهم عمر بن الخطاب وهو يلعب مع الغلمان عند اطم بني مغالة وهو غلام فلم يشعر حتى ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم ظهره بيده ثم قال " اتشهد اني رسول الله " . فنظر اليه ابن صياد فقال اشهد انك رسول الاميين . ثم قال ابن صياد للنبي صلى الله عليه وسلم اتشهد انت اني رسول الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم " امنت بالله وبرسله " . ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم " ما ياتيك " . قال ابن صياد ياتيني صادق وكاذب . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " خلط عليك الامر " . ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اني خبات لك خبيىا " . وخبا له : (يوم تاتي السماء بدخان مبين) فقال ابن صياد هو الدخ . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اخسا فلن تعدو قدرك " . قال عمر يا رسول الله اىذن لي فاضرب عنقه . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان يك حقا فلن تسلط عليه وان لا يكنه فلا خير لك في قتله " . قال عبد الرزاق يعني الدجال . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২২৫২. ’আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, সাহাবীগণের এক দলসহ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবন সাইয়াদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই দলে উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। বানূ মাগালায় উচুমহলের পাশে ইবন সায়্যাদ তখন কিছু বালকের সাথে খেলছিল। সেও ছিল একজন বালক। সে টের পাওয়ার আগেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়ে তার পিঠে হাত-চাপড় দিলেন। পরে বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল?
ইবন সায়্যাদ তাঁর দিকে তাকিয়ে বললঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল।
আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ এরপর ইবন সায়্যাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললঃ আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান এনেছি।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ কি আসে তোমার কাছে?
ইবন সায়্যাদ বললঃ আমার কাছে সত্যও আসে মিথ্যাও আসে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিষয়টি তোমার কাছে মিশ্রিত হয়ে গেছে।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার জন্য একটি বিষয় ধ্যানে লুকিয়ে রাখলাম বল তো কি? তিনি(يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ) আয়াতটি গোপনে পাঠ করেছিলেন।
ইবন সায়্যাদ বললঃ তা হল ’’দুখ’’
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দূর হ, তুই কখনো তোর তাকদীর অতিক্রম করতে পারবি না।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, অনুমতি দিন, আমি এর গর্দান উড়িয়ে দিই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যদি সত্যই (দাজ্জাল) হয়ে থাকে তবে তো তার উপর তোমার ক্ষমতা হবে না। আর যদি (দাজ্জাল) না হয়ে থাকে তবে একে হত্যা করা তো তোমার জন্য কল্যাণকর নয়।
রাবী আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) বলেন, শব্দটিতে দাজ্জালকে বুঝানো হয়েছে। আদাবুল মুফরাদ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইবন সায়্যাদ তাঁর দিকে তাকিয়ে বললঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল।
আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ এরপর ইবন সায়্যাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললঃ আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান এনেছি।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ কি আসে তোমার কাছে?
ইবন সায়্যাদ বললঃ আমার কাছে সত্যও আসে মিথ্যাও আসে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিষয়টি তোমার কাছে মিশ্রিত হয়ে গেছে।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার জন্য একটি বিষয় ধ্যানে লুকিয়ে রাখলাম বল তো কি? তিনি(يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ) আয়াতটি গোপনে পাঠ করেছিলেন।
ইবন সায়্যাদ বললঃ তা হল ’’দুখ’’
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দূর হ, তুই কখনো তোর তাকদীর অতিক্রম করতে পারবি না।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, অনুমতি দিন, আমি এর গর্দান উড়িয়ে দিই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যদি সত্যই (দাজ্জাল) হয়ে থাকে তবে তো তার উপর তোমার ক্ষমতা হবে না। আর যদি (দাজ্জাল) না হয়ে থাকে তবে একে হত্যা করা তো তোমার জন্য কল্যাণকর নয়।
রাবী আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) বলেন, শব্দটিতে দাজ্জালকে বুঝানো হয়েছে। আদাবুল মুফরাদ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২২৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي سفيان، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما على الارض نفس منفوسة - يعني اليوم تاتي عليها ماىة سنة " . قال وفي الباب عن ابن عمر وابي سعيد وبريدة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن .
২২৫৩. হান্নাদ (রহঃ) .... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীতে এমন কোন ভূমিষ্ট প্রাণী নেই যার জীবনে একশ’ বছর অতিবাহিত হবে। সহীহ, রাওযুন নাযির ১১০০, সহিহ আদাবুল মুফরাদ ৭৫৫, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে ইবন উমার, আবূ সাঈদ এবং বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান।
এ বিষয়ে ইবন উমার, আবূ সাঈদ এবং বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান।
হাদিস নং: ২২৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم بن عبد الله، وابي، بكر بن سليمان وهو ابن ابي حثمة ان عبد الله بن عمر، قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة صلاة العشاء في اخر حياته فلما سلم قال " ارايتكم ليلتكم هذه على راس ماىة سنة منها لا يبقى ممن هو على ظهر الارض احد " . قال ابن عمر فوهل الناس في مقالة رسول الله صلى الله عليه وسلم تلك فيما يتحدثونه من هذه الاحاديث عن ماىة سنة وانما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا يبقى ممن هو اليوم على ظهر الارض احد " . يريد بذلك ان ينخرم ذلك القرن . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح .
২২৫৪. ’আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ দিকে আমাদেরকে নিয়ে এক রাতে ইশার সালাত (নামায) আদায় করলেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ আজকের এই রাতটিকে তোমরা লক্ষ্য করো, যারা আজ পৃথিবীতে আছে তাদের কেউ আজ থেকে একশ’ বছর পর আর বেঁচে থাকবে না।
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্যে একশ’ বছরের বিষয়ে লোকেরা যে আলাপ-আলোচনা করে তাতে তারা ভুল করে বসে। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজকে যারা পৃথিবীতে আছে তাদের কেউ আর তখন জীবিত থাকবে না। এই মর্ম হল বর্তমানের এই যুগটি তখন শেষ হয়ে যাবে। সহীহ, (রওয), বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্যে একশ’ বছরের বিষয়ে লোকেরা যে আলাপ-আলোচনা করে তাতে তারা ভুল করে বসে। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজকে যারা পৃথিবীতে আছে তাদের কেউ আর তখন জীবিত থাকবে না। এই মর্ম হল বর্তমানের এই যুগটি তখন শেষ হয়ে যাবে। সহীহ, (রওয), বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২২৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم بن حبيب بن الشهيد البصري، حدثنا محمد بن فضيل، حدثنا الاعمش، عن حبيب بن ابي ثابت، عن ذر، عن سعيد بن عبد الرحمن بن ابزى، عن ابيه، عن ابى بن كعب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تسبوا الريح فاذا رايتم ما تكرهون فقولوا اللهم انا نسالك من خير هذه الريح وخير ما فيها وخير ما امرت به ونعوذ بك من شر هذه الريح وشر ما فيها وشر ما امرت به " . قال وفي الباب عن عاىشة وابي هريرة وعثمان بن ابي العاصي وانس وابن عباس وجابر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২২৫৫. ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবন হাবীব ইবন শাহীদ (রহঃ) ..... উবায় ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বাতাসকে গাল-মন্দ করবে না। তোমাদের অপছন্দনীয় কিছু দেখলে বলবেঃ
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ
’’হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করি এই বাতাসের কল্যাণ, এবং তাতে নিহিত বিষয়ের কল্যাণ এবং সে যে বিষয়ে নির্দেশিত হয়েছে তার কল্যাণ এবং তোমার কাছে পানাহ চাই এই বাতাসের অকল্যাণ থেকে, তাতে নিহিত বিষয়ের অমঙ্গল থেকে এবং সে বিষয়ে নির্দেশিত তার অমঙ্গল থেকে।
মিশকাত ১৫১৮, সহিহাহ ২৭৫৬, রওযুন নাযীর ১১০৭, কালিমাতুত তাইয়্যিব ১৫৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আয়িশা, আবূ হুরায়রা, উসমান ইবন আবুল আস, আনাস, ইবন আব্বাস ও জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ
’’হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করি এই বাতাসের কল্যাণ, এবং তাতে নিহিত বিষয়ের কল্যাণ এবং সে যে বিষয়ে নির্দেশিত হয়েছে তার কল্যাণ এবং তোমার কাছে পানাহ চাই এই বাতাসের অকল্যাণ থেকে, তাতে নিহিত বিষয়ের অমঙ্গল থেকে এবং সে বিষয়ে নির্দেশিত তার অমঙ্গল থেকে।
মিশকাত ১৫১৮, সহিহাহ ২৭৫৬, রওযুন নাযীর ১১০৭, কালিমাতুত তাইয়্যিব ১৫৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আয়িশা, আবূ হুরায়রা, উসমান ইবন আবুল আস, আনাস, ইবন আব্বাস ও জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২২৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا معاذ بن هشام، حدثنا ابي، عن قتادة، عن الشعبي، عن فاطمة بنت قيس، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم صعد المنبر فضحك فقال " ان تميما الداري حدثني بحديث ففرحت فاحببت ان احدثكم حدثني ان ناسا من اهل فلسطين ركبوا سفينة في البحر فجالت بهم حتى قذفتهم في جزيرة من جزاىر البحر فاذا هم بدابة لباسة ناشرة شعرها فقالوا ما انت قالت انا الجساسة . قالوا فاخبرينا . قالت لا اخبركم ولا استخبركم ولكن اىتوا اقصى القرية فان ثم من يخبركم ويستخبركم . فاتينا اقصى القرية فاذا رجل موثق بسلسلة فقال اخبروني عن عين زغر . قلنا ملاى تدفق . قال اخبروني عن البحيرة قلنا ملاى تدفق . قال اخبروني عن نخل بيسان الذي بين الاردن وفلسطين هل اطعم قلنا نعم . قال اخبروني عن النبي هل بعث قلنا نعم . قال اخبروني كيف الناس اليه قلنا سراع . قال فنز نزوة حتى كاد . قلنا فما انت قال انه الدجال وانه يدخل الامصار كلها الا طيبة . وطيبة المدينة " . قال ابو عيسى وهذا حديث صحيح غريب من حديث قتادة عن الشعبي وقد رواه غير واحد عن الشعبي عن فاطمة بنت قيس .
২২৫৬. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... ফাতিমা বিনত কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং হাসলেন। পরে বললেনঃ তামীম দারী আমাকে একটি বিষয় বর্ণনা করেছে। বিষয়টি শুনে আমি খুশী হয়েছি। সুতরাং সে বিষয়টি তোমাদেরকে বর্ণনা করতে আমি ভাল মনে করি ফিলিস্তিনবাসী কিছু লোক জাহাজে সওয়ার হয়ে সমুদ্র যাত্রা করছিল। পথে তারা ঝড়ে পড়ে দিকভ্রান্ত হয়ে যায় এবং তারা সাগরের এক অজানা দীপে যেয়ে নিপতিত হয়। সেখানে তারা এক বিভ্রান্তকারী প্রাণীর তারা দেখা পায়। এর তুন ছিল চতুর্দিকে বিস্তৃত। তাঁরা বললঃ তুমি কে?
প্রাণীটি বলল আমি হলাম জাসসাসা (অনুসন্ধানী)।
তারা বললঃ আমাদের কিছু অনুসন্ধান দাও।
প্রাণীটি বললঃ তোমাদের আমি কিছু জানাবনা এবং তোমাদের কাছে কিছু জানতেও চাইব না। বরং তোমরা এই বস্তিটির মেষভাগে চল। সেখানে এমন একজন আছে যে তোমাদের কিছু জানাতে পারবে এবং তোমাদের কাছ থেকে কিছু জানতেও চাইবে।
তারপর আমরা বস্তিটির শেষ প্রান্তে গেলাম। দেখি, সেখানে একটি লোককে জিঞ্জির দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। সে বললঃ আমাকে তোমরা যুগার (শামের এক এলাকা) ঝর্না সম্পর্কে বলতো? আমরা বললামঃ সেটি তো পানি ভর্তি। এখনো পানি সবেগে প্রবাহিত হচ্ছে। সে বললঃ তাবারীয়া উপসাগর কেমন বলতো? আমরা বললামঃ সেটি তো পানিতে পরিপূর্ণ, সবেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
সে বললঃ জর্ডান এবং ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী বায়সান খেজুর উদ্যানটি কেমন? এখনও কি ফল উৎপাদিত হয়? আমরা বললামঃ হ্যাঁ।
সে বললঃ নবী সম্পর্কে বলতো, তিনি কি আবির্ভুত হয়েছেন।
আমরা বললামঃ হ্যাঁ।
সে বললেনঃ মানুষ তাঁর দিকে কেমন ধাবিত হচ্ছে?
আমরা বরলামঃ খুবই দ্রুত।
তামীম দারী বলেনঃ (এই কথা শুনে) সে এমন এক লাফ দিল যে বন্ধন ছিন্ন করে ফেলছিল প্রায়।
আমরা বললামঃ তুমি কে?
সে বললঃ আমিই দাজ্জাল।
এ দাজ্জাল তায়বা ছাড়া সব ঘরেই প্রবেশ করবে। তায়বা হল মদীনা।
সহীহ, কিচ্ছাতু নুযুলে ঈসা আলাইহিস সালাম, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। কাতাদা-শা’বী (রহঃ) সূত্রে রিওয়ায়াতটি গারীব। একাধিক রাবী শা’বী-ফাতিমা বিনত কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
প্রাণীটি বলল আমি হলাম জাসসাসা (অনুসন্ধানী)।
তারা বললঃ আমাদের কিছু অনুসন্ধান দাও।
প্রাণীটি বললঃ তোমাদের আমি কিছু জানাবনা এবং তোমাদের কাছে কিছু জানতেও চাইব না। বরং তোমরা এই বস্তিটির মেষভাগে চল। সেখানে এমন একজন আছে যে তোমাদের কিছু জানাতে পারবে এবং তোমাদের কাছ থেকে কিছু জানতেও চাইবে।
তারপর আমরা বস্তিটির শেষ প্রান্তে গেলাম। দেখি, সেখানে একটি লোককে জিঞ্জির দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। সে বললঃ আমাকে তোমরা যুগার (শামের এক এলাকা) ঝর্না সম্পর্কে বলতো? আমরা বললামঃ সেটি তো পানি ভর্তি। এখনো পানি সবেগে প্রবাহিত হচ্ছে। সে বললঃ তাবারীয়া উপসাগর কেমন বলতো? আমরা বললামঃ সেটি তো পানিতে পরিপূর্ণ, সবেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
সে বললঃ জর্ডান এবং ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী বায়সান খেজুর উদ্যানটি কেমন? এখনও কি ফল উৎপাদিত হয়? আমরা বললামঃ হ্যাঁ।
সে বললঃ নবী সম্পর্কে বলতো, তিনি কি আবির্ভুত হয়েছেন।
আমরা বললামঃ হ্যাঁ।
সে বললেনঃ মানুষ তাঁর দিকে কেমন ধাবিত হচ্ছে?
আমরা বরলামঃ খুবই দ্রুত।
তামীম দারী বলেনঃ (এই কথা শুনে) সে এমন এক লাফ দিল যে বন্ধন ছিন্ন করে ফেলছিল প্রায়।
আমরা বললামঃ তুমি কে?
সে বললঃ আমিই দাজ্জাল।
এ দাজ্জাল তায়বা ছাড়া সব ঘরেই প্রবেশ করবে। তায়বা হল মদীনা।
সহীহ, কিচ্ছাতু নুযুলে ঈসা আলাইহিস সালাম, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। কাতাদা-শা’বী (রহঃ) সূত্রে রিওয়ায়াতটি গারীব। একাধিক রাবী শা’বী-ফাতিমা বিনত কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২২৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عمرو بن عاصم، حدثنا حماد بن سلمة، عن علي بن زيد، عن الحسن، عن جندب، عن حذيفة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا ينبغي للمومن ان يذل نفسه " . قالوا وكيف يذل نفسه . قال " يتعرض من البلاء لما لا يطيق " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب .
২২৫৭. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিজেকে অপদস্ত করা কোন মু’মিনের উচিত নয়। সাহাবীগণ বললেনঃ নিজেকে অপদস্ত করবে কেমন করে? তিনি বললেনঃ এমন কঠিন বিষয়ে লিপ্ত হওয়া যার শক্তি তার নেই। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪০১৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ২২৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن حاتم المكتب، حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري، حدثنا حميد الطويل، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " انصر اخاك ظالما او مظلوما " . قلنا يا رسول الله نصرته مظلوما فكيف انصره ظالما قال " تكفه عن الظلم فذاك نصرك اياه " . قال وفي الباب عن عاىشة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২২৫৮. মুহাম্মদ ইবন হাতিম মুআদদিব (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যালিম হোক বা মযলুম হোক সর্বাবস্তায় তোমার ভাইকে সাহায্য করবে।
বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, মাযলুম কে তো সাহায্য করেছিই কিন্তু যালিম অবস্থায় তাকে সাহায্য করব কিভাবে? তিনি বললেনঃ যুলুম থেকে ফিরিয়ে রাখা হল তাকে সাহায্য করা। সহীহ, ইরওয়া ২৪৪৯, রাওযুন নাযীর ৩২, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, মাযলুম কে তো সাহায্য করেছিই কিন্তু যালিম অবস্থায় তাকে সাহায্য করব কিভাবে? তিনি বললেনঃ যুলুম থেকে ফিরিয়ে রাখা হল তাকে সাহায্য করা। সহীহ, ইরওয়া ২৪৪৯, রাওযুন নাযীর ৩২, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২২৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن ابي موسى، عن وهب بن منبه، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من سكن البادية جفا ومن اتبع الصيد غفل ومن اتى ابواب السلاطين افتتن " . قال وفي الباب عن ابي هريرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من حديث ابن عباس لا نعرفه الا من حديث الثوري .
২২৫৯. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে গ্রামে বাস করে সে হয় কঠোর, যে ব্যক্তি শিকারের পেচনে ঘুরে সে হয় গাফেল আর যে ব্যক্তি বাদশাহের দ্বারে যায় সে ফিতনায় নিপতিত হয়। সহীহ, মিশকাত তাহকিক ছানী ৩৭০১, সহিহ আবু দাউদ ২৫৪৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। ছাওরী (রহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। ছাওরী (রহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
হাদিস নং: ২২৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، انبانا شعبة، عن سماك بن حرب، قال سمعت عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود، يحدث عن ابيه، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " انكم منصورون ومصيبون ومفتوح لكم فمن ادرك ذلك منكم فليتق الله وليامر بالمعروف ولينه عن المنكر ومن كذب على متعمدا فليتبوا مقعده من النار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২২৬০. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... আবদুর রাহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ তার পিতা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা অবশ্যই বিজয়ী হবে, ধন সম্পদ প্রাপ্ত হবে এবং অনেক অঞ্চল তোমরা জয় করবে। তোমাদের মধ্যে যে ঐ যামানা পাবে সে যেন আল্লাহ কে ভয় করে, সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজের নিষেধ করে। আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে সে যেন জাহান্নামকেই তার আবাস বানিয়ে নেয়। সহীহ, সহিহাহ ১৩৮৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২২৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।