হাদিস নং: ৭৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، واحمد بن عبدة الضبي، قالا حدثنا حماد بن زيد، عن غيلان بن جرير، عن عبد الله بن معبد الزماني، عن ابي قتادة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " صيام يوم عرفة اني احتسب على الله ان يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده " . قال وفي الباب عن ابي سعيد . قال ابو عيسى حديث ابي قتادة حديث حسن . وقد استحب اهل العلم صيام يوم عرفة الا بعرفة .
৭৪৭. কুতয়াবা ও আহমাদ ইবনু আবদা আদ-দাববী (রহঃ) ...... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছনঃ আরাফা দিবসের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী বছর এবং পরবর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারা করে দিবেন। - ইবনু মাজাহ ১৭৩০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। আলিমগণ আরাফায় অবস্থান রত ব্যক্তিদের ছাড়া বাকীদের জন্য আরাফা দিবসের সিয়াম পালন মুস্তাহাব বলে অভিমত দিয়েছেন।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। আলিমগণ আরাফায় অবস্থান রত ব্যক্তিদের ছাড়া বাকীদের জন্য আরাফা দিবসের সিয়াম পালন মুস্তাহাব বলে অভিমত দিয়েছেন।
হাদিস নং: ৭৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا اسماعيل ابن علية، حدثنا ايوب، عن عكرمة، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم افطر بعرفة وارسلت اليه ام الفضل بلبن فشرب . وفي الباب عن ابي هريرة وابن عمر وام الفضل . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . وقد روي عن ابن عمر قال حججت مع النبي صلى الله عليه وسلم فلم يصمه يعني يوم عرفة ومع ابي بكر فلم يصمه ومع عمر فلم يصمه ومع عثمان فلم يصمه . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم يستحبون الافطار بعرفة ليتقوى به الرجل على الدعاء وقد صام بعض اهل العلم يوم عرفة بعرفة .
৭৪৮. আহমাদ ইবনু মানী (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিন সিয়াম অবস্থায় ছিলেন। উম্মুল ফাযল (রাঃ) সেদিন তাঁকে কিছু দুধ পাঠিয়েছিলেন। তিনি তা পান করেন। - সহিহ আবু দাউদ ২১০৯, তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমাহ ২১০২, উম্মুল ফাযল হতে বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ইবনু উমার উম্মল ফাযল (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জ করেছি তিনিও কিন্তু আরাফার দিন সিয়াম পালন করেননি; আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও সে দিনের সিয়াম করেননি। উমার (রাঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও সে দিনের সিয়াম পালন করেননি। অধিকাংশ আলিম এই হাদীস অনুসারে আমলের অভিমত গ্রহণ করেছেন। তাঁরা দু’আর ক্ষেত্রে শক্তিলাভের উদ্দেশ্যে আরাফার দিন সিয়াম পালন না করা মুস্তাহাব বলে মনে করেন। কোন কোন আলিম আরাফায় অবস্থানকালে সে দিনের সিয়াম পালন করেছেন।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ইবনু উমার উম্মল ফাযল (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জ করেছি তিনিও কিন্তু আরাফার দিন সিয়াম পালন করেননি; আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও সে দিনের সিয়াম করেননি। উমার (রাঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও সে দিনের সিয়াম পালন করেননি। অধিকাংশ আলিম এই হাদীস অনুসারে আমলের অভিমত গ্রহণ করেছেন। তাঁরা দু’আর ক্ষেত্রে শক্তিলাভের উদ্দেশ্যে আরাফার দিন সিয়াম পালন না করা মুস্তাহাব বলে মনে করেন। কোন কোন আলিম আরাফায় অবস্থানকালে সে দিনের সিয়াম পালন করেছেন।
হাদিস নং: ৭৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، وعلي بن حجر، قالا حدثنا سفيان بن عيينة، واسماعيل بن ابراهيم، عن ابن ابي نجيح، عن ابيه، قال سىل ابن عمر عن صوم، يوم عرفة بعرفة فقال حججت مع النبي صلى الله عليه وسلم فلم يصمه ومع ابي بكر فلم يصمه ومع عمر فلم يصمه ومع عثمان فلم يصمه . وانا لا اصومه ولا امر به ولا انهى عنه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روي هذا الحديث عن ابن ابي نجيح عن ابيه عن رجل عن ابن عمر . وابو نجيح اسمه يسار.
৭৪৯. আহমাদ ইবনু মানী ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ...... আবূ নাজীহ (রহঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) কে আরাফার দিনে সিয়াম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জ করেছি, তিনি সে দিন সিয়াম পালন করেননি; আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ পালন করেছি তিনিও ঐ সিয়াম পালন করেননি; উমার (রাঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও ঐ সিয়াম পালন করেননি; উসমান (রাঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও ঐ সিয়াম পালন করেননি। আমি নিজেও এই সিয়াম পালন করিনা এবং তা কাউকে পালন করতে বলিও না এবং নিষেধও করিনা। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আবূ নাজীহ এর নাম হল ইয়াসার। তিনি ইবনু উমার (রাঃ) থেকে হাদীস শুনেছেন। এই হাদীসটি ইবনু আবূ নাজীহ তৎপিতা আবূ নাজীহ জনৈক ব্যক্তি ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আবূ নাজীহ এর নাম হল ইয়াসার। তিনি ইবনু উমার (রাঃ) থেকে হাদীস শুনেছেন। এই হাদীসটি ইবনু আবূ নাজীহ তৎপিতা আবূ নাজীহ জনৈক ব্যক্তি ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস নং: ৭৫০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، واحمد بن عبدة الضبي، قالا حدثنا حماد بن زيد، عن غيلان بن جرير، عن عبد الله بن معبد الزماني، عن ابي قتادة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " صيام يوم عاشوراء اني احتسب على الله ان يكفر السنة التي قبله " . وفي الباب عن علي ومحمد بن صيفي وسلمة بن الاكوع وهند بن اسماء وابن عباس والربيع بنت معوذ بن عفراء وعبد الرحمن بن سلمة الخزاعي عن عمه وعبد الله بن الزبير ذكروا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه حث على صيام يوم عاشوراء . قال ابو عيسى لا نعلم في شيء من الروايات انه قال " صيام يوم عاشوراء كفارة سنة " . الا في حديث ابي قتادة . وبحديث ابي قتادة يقول احمد واسحاق .
৭৫০. কুতায়বা ও আহমাদ ইবনু আবদ আয-যাববী (রহঃ) .... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) দিবসের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, এর মাধ্যমে, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের (গুনাহর) কাফফারা করে দিবেন। - ইবনু মাজাহ ১৭৩৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, মুহাম্মদ ইবনু সায়ফী, সালামা ইবনু আকওয়া, হিন্দ ইবনু আসমা, ইবনু আব্বাস, রুবাই বিনত মুআওবিয ইবনু আফরা, আব্দুর রহমান ইবনু সালমা আল-খুযাঈ তৎ চাচার বরাতে এবং আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) প্রমূখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) দিবসের সিয়াম পালন করতে উৎসাহিত করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি ছাড়া অন্য কোন রিওয়ায়াতে আশূরা দিবসের সিয়াম পালন এক বছরের কাফফারা স্বরুপ এই কথা উল্লেখ হয়েছে বলে আমাদের জানা নাই। আবূ কাতাদা (রাঃ) এর হাদীস অনুসারেই ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এই বিষয়ে আলী, মুহাম্মদ ইবনু সায়ফী, সালামা ইবনু আকওয়া, হিন্দ ইবনু আসমা, ইবনু আব্বাস, রুবাই বিনত মুআওবিয ইবনু আফরা, আব্দুর রহমান ইবনু সালমা আল-খুযাঈ তৎ চাচার বরাতে এবং আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) প্রমূখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) দিবসের সিয়াম পালন করতে উৎসাহিত করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি ছাড়া অন্য কোন রিওয়ায়াতে আশূরা দিবসের সিয়াম পালন এক বছরের কাফফারা স্বরুপ এই কথা উল্লেখ হয়েছে বলে আমাদের জানা নাই। আবূ কাতাদা (রাঃ) এর হাদীস অনুসারেই ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
হাদিস নং: ৭৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا هارون بن اسحاق الهمداني، حدثنا عبدة بن سليمان، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، قالت كان عاشوراء يوما تصومه قريش في الجاهلية وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصومه فلما قدم المدينة صامه وامر الناس بصيامه فلما افترض رمضان كان رمضان هو الفريضة وترك عاشوراء فمن شاء صامه ومن شاء تركه . وفي الباب عن ابن مسعود وقيس بن سعد وجابر بن سمرة وابن عمر ومعاوية . قال ابو عيسى والعمل عند اهل العلم على حديث عاىشة وهو حديث صحيح لا يرون صيام يوم عاشوراء واجبا الا من رغب في صيامه لما ذكر فيه من الفضل .
৭৫১. হারূন ইবনু ইসহাক আল-হামদানী (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) ছিল এমন একটি দিন যে দিন কুরাইশরা জাহেলী যুগেও সিয়াম পালন করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিজরতের পূর্বে) সে দিন সিয়াম পালন করতেন। মদীনায় আসার পরও তিনি এই দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং লোকদেরকেও সিয়াম পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রামাযানের সিয়াম পালন ফরয হওয়ার পর রামাযানই ফরয হিসাবে রয়ে গেল আর আশূরার সিয়াম (ফরয হিসাবে) রইল না। ফলে যার ইচ্ছা এই দিনের সিয়াম পালন করতে পারে আর যার ইচ্ছা তা ছাড়তেও পারে। - সহিহ আবু দাউদ ২১১০, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু মাসঊদ, কায়স ইবনু সা’দ, জাবির ইবনু সামুরা, ইবনু উমার ও মুআবিয়া (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আলিমগণ আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীস আমল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। এই হাদীস সহীহ। তাঁর আশূরা দিবসের সিয়াম ওয়াজিব বলে মনে করেন না। কিন্তু কারো যদি এই দিনের সিয়াম পালনের আগ্রহ হয় তবে ভিন্ন কথা। কারণ এই দিনের সিয়াম পালনের বিষয়ে বহু ফযীলতের উল্লেখ রয়েছে।
এই বিষয়ে ইবনু মাসঊদ, কায়স ইবনু সা’দ, জাবির ইবনু সামুরা, ইবনু উমার ও মুআবিয়া (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আলিমগণ আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীস আমল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। এই হাদীস সহীহ। তাঁর আশূরা দিবসের সিয়াম ওয়াজিব বলে মনে করেন না। কিন্তু কারো যদি এই দিনের সিয়াম পালনের আগ্রহ হয় তবে ভিন্ন কথা। কারণ এই দিনের সিয়াম পালনের বিষয়ে বহু ফযীলতের উল্লেখ রয়েছে।
হাদিস নং: ৭৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، وابو كريب قالا حدثنا وكيع، عن حاجب بن عمر، عن الحكم بن الاعرج، قال انتهيت الى ابن عباس وهو متوسد رداءه في زمزم فقلت اخبرني عن يوم عاشوراء اى يوم هو اصومه فقال اذا رايت هلال المحرم فاعدد ثم اصبح من التاسع صاىما . قال فقلت اهكذا كان يصومه محمد صلى الله عليه وسلم قال نعم .
৭৫২. হান্নাদ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... হাকাম ইবনু আ’রাজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি তখন যমযমের কাছে তাঁর চাঁদরকে বালিশের মত করে টেক লাগানো অবস্থায় ছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) সম্পর্কে আমাকে বলুন তো, কোন দিন আমি এর সিয়াম পালন করবো? তিনি বললেন, মুহাররমের চাঁদ যখন দেখবে তখন থেকেই দিন গুনতে থাকবে। পরে নবম তারিখ ভোর থেকে সাওম পালন করবে। আমি বললাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই তা পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। - সহিহ আবু দাউদ ২১১৪, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الوارث، عن يونس، عن الحسن، عن ابن عباس، قال امر رسول الله صلى الله عليه وسلم بصوم عاشوراء يوم العاشر . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . وقد اختلف اهل العلم في يوم عاشوراء فقال بعضهم يوم التاسع . وقال بعضهم يوم العاشر . وروي عن ابن عباس انه قال صوموا التاسع والعاشر وخالفوا اليهود . وبهذا الحديث يقول الشافعي واحمد واسحاق .
৭৫৩. কুতায়বা (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশম তারিখ আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র সিয়াম পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। - সহিহ আবু দাউদ ২১১৩, মুসলিম আরো পুর্নাঙ্গ রূপে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আশূরা দিবস সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এ হলো নবম তারিখ। আর অপর একদল বলেন, এ হলো দশম তারিখ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবম ও দশম তোমরা সিয়াম পালন করবেন এবং ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধাচারণ করবে। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই হাদীস অনুসারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আশূরা দিবস সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এ হলো নবম তারিখ। আর অপর একদল বলেন, এ হলো দশম তারিখ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবম ও দশম তোমরা সিয়াম পালন করবেন এবং ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধাচারণ করবে। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই হাদীস অনুসারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
হাদিস নং: ৭৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عاىشة، قالت ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم صاىما في العشر قط . قال ابو عيسى هكذا روى غير واحد عن الاعمش عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة . وروى الثوري وغيره هذا الحديث عن منصور عن ابراهيم ان النبي صلى الله عليه وسلم لم ير صاىما في العشر . وروى ابو الاحوص عن منصور عن ابراهيم عن عاىشة . ولم يذكر فيه عن الاسود . وقد اختلفوا على منصور في هذا الحديث ورواية الاعمش اصح واوصل اسنادا . قال وسمعت ابا بكر محمد بن ابان يقول سمعت وكيعا يقول الاعمش احفظ لاسناد ابراهيم من منصور .
৭৫৪. হান্নাদ (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কখনও (যিলহাজ্জ মাসের) দশ দিন সিয়াম পালন করতে দেখিনি। - ইবনু মাজাহ ১৭২৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, একাধিক রাবী এই হাদীসটিকে আমাশ ইবরাহীম আসওয়াদ আয়িশা (রাঃ) সূত্রে এইরূপ বর্ণনা করেছেন। সাওরী প্রমূখ রাবী এই হাদীসটিকে মানসুর ইবরাহীম সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এই দশ দিন কখনও সিয়াম পালন অবস্থায় দেখা যায়নি। আবূল আহওয়াস (রহঃ) এই হাদীসটিকে মানসুর ইবরাহীম আয়িশা (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে রাবী আসওয়াদ (রহঃ) এর উল্লেখ করেননি। মানসূর পরবর্তী রাবীগণ এই হাদীসের সনদের ক্ষেত্রে উক্ত মতবিরোধ করেছেন। এই সনদসমূহের মধ্যে আ’মাশ (রহঃ) এর রিওয়ায়াতটই অধিকতর সহীহ এবং সনদ হিসাবে মুত্তাসিল। আবূ বকর মুহাম্মদ ইবনু আবান (রহঃ) বলেন, আমি ওয়াকী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, ইবরাহীম-মানসুর সনদের ক্ষেত্রে আমাশ হলেন অধিক সংরক্ষক।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, একাধিক রাবী এই হাদীসটিকে আমাশ ইবরাহীম আসওয়াদ আয়িশা (রাঃ) সূত্রে এইরূপ বর্ণনা করেছেন। সাওরী প্রমূখ রাবী এই হাদীসটিকে মানসুর ইবরাহীম সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এই দশ দিন কখনও সিয়াম পালন অবস্থায় দেখা যায়নি। আবূল আহওয়াস (রহঃ) এই হাদীসটিকে মানসুর ইবরাহীম আয়িশা (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে রাবী আসওয়াদ (রহঃ) এর উল্লেখ করেননি। মানসূর পরবর্তী রাবীগণ এই হাদীসের সনদের ক্ষেত্রে উক্ত মতবিরোধ করেছেন। এই সনদসমূহের মধ্যে আ’মাশ (রহঃ) এর রিওয়ায়াতটই অধিকতর সহীহ এবং সনদ হিসাবে মুত্তাসিল। আবূ বকর মুহাম্মদ ইবনু আবান (রহঃ) বলেন, আমি ওয়াকী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, ইবরাহীম-মানসুর সনদের ক্ষেত্রে আমাশ হলেন অধিক সংরক্ষক।
হাদিস নং: ৭৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن مسلم، هو البطين وهو ابن عمران عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من ايام العمل الصالح فيهن احب الى الله من هذه الايام العشر " . فقالوا يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ولا الجهاد في سبيل الله الا رجل خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء " . وفي الباب عن ابن عمر وابي هريرة وعبد الله بن عمرو وجابر . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح غريب .
৭৫৫. হান্নাদ (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এমন কোন দিন নাই যে দিনসমূহের নেক আমল আল্লাহর নিকট যিলহজ্জ মাসের এই দশ দিনের নেক আমল অপেক্ষা অধীক প্রিয়। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আল্লাহর পথে জিহাদও কি তদপেক্ষা প্রিয় নয়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না। আল্লাহর পথে জিহাদও তদপেক্ষা অধীক প্রিয় নয়। তবে কোন ব্যক্তি যদি জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয়ে যায় এবং দুটির কিছু নিয়ে আর ফিরে না আসতে পারে তার কথা স্বতন্ত্র। - ইবনু মাজাহ ১৭২৭, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমার, আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ।
এই বিষয়ে ইবনু উমার, আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৫৬
যঈফ (Dai'f)
حدثنا ابو بكر بن نافع البصري، حدثنا مسعود بن واصل، عن نهاس بن قهم، عن قتادة، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ما من ايام احب الى الله ان يتعبد له فيها من عشر ذي الحجة يعدل صيام كل يوم منها بصيام سنة وقيام كل ليلة منها بقيام ليلة القدر " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث مسعود بن واصل عن النهاس . قال وسالت محمدا عن هذا الحديث فلم يعرفه من غير هذا الوجه مثل هذا . وقال قد روي عن قتادة عن سعيد بن المسيب عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا شيء من هذا . وقد تكلم يحيى بن سعيد في نهاس بن قهم من قبل حفظه .
৭৫৬. আবূ বকর ইবনু নাফি আল বাসরী (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এমন কোন দিন নাই যে দিনসমূহের ইবাদত আল্লাহর নিকট যিলহজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয়। এর প্রতিটি দিনের সিয়াম এক বছরের সিয়ামের সমতুল্য। এর প্রতিটি রাতের ইবাদত লায়লাতুল কাদরের ইবাদতের সমতুল্য। - ইবনু মাজাহ ১৭২৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। রাবী মাসঊদ ইবনু ওয়াসিল-নাহ্হাস সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানিনা। মুহাম্মদ আল-বুখারী (রহঃ) কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনিও এই সূত্র ছাড়া অনুরূপ কিছু পরিচয় দিতে পারেন নি। তিনি বলেন, কাতাদা-সাঈদ ইবনুল মূসায়্যাব (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত হাদীসের কিছু অংশ মুরসাল রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) নাহ্হাস ইবনু কাহম এর স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। রাবী মাসঊদ ইবনু ওয়াসিল-নাহ্হাস সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানিনা। মুহাম্মদ আল-বুখারী (রহঃ) কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনিও এই সূত্র ছাড়া অনুরূপ কিছু পরিচয় দিতে পারেন নি। তিনি বলেন, কাতাদা-সাঈদ ইবনুল মূসায়্যাব (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত হাদীসের কিছু অংশ মুরসাল রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) নাহ্হাস ইবনু কাহম এর স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন।
হাদিস নং: ৭৫৭
হাসান (Hasan)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا ابو معاوية، حدثنا سعد بن سعيد، عن عمر بن ثابت، عن ابي ايوب، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " من صام رمضان ثم اتبعه ستا من شوال فذلك صيام الدهر " . وفي الباب عن جابر وابي هريرة وثوبان . قال ابو عيسى حديث ابي ايوب حديث حسن صحيح . وقد استحب قوم صيام ستة ايام من شوال بهذا الحديث . قال ابن المبارك هو حسن هو مثل صيام ثلاثة ايام من كل شهر . قال ابن المبارك ويروى في بعض الحديث " ويلحق هذا الصيام برمضان " . واختار ابن المبارك ان تكون ستة ايام في اول الشهر . وقد روي عن ابن المبارك انه قال ان صام ستة ايام من شوال متفرقا فهو جاىز . قال وقد روى عبد العزيز بن محمد عن صفوان بن سليم وسعد بن سعيد عن عمر بن ثابت عن ابي ايوب عن النبي صلى الله عليه وسلم هذا . وروى شعبة عن ورقاء بن عمر عن سعد بن سعيد هذا الحديث . وسعد بن سعيد هو اخو يحيى بن سعيد الانصاري وقد تكلم بعض اهل الحديث في سعد بن سعيد من قبل حفظه . حدثنا هناد قال اخبرنا الحسين بن علي الجعفي عن اسراىيل ابي موسى عن الحسن البصري قال كان اذا ذكر عنده صيام ستة ايام من شوال فيقول والله لقد رضي الله بصيام هذا الشهر عن السنة كلها .
৭৫৭. আহমাদ ইবনু মানী (রহঃ) ..... আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি রামাযানের সিয়াম পালন করে এবং পরে এর অনবর্তীতে শাউয়ালের ছয় দিন সিয়াম পালন করে তবে সে যেন সারা বছরই সিয়াম পালন করল। - ইবনু মাজাহ ১৭১৬, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জাবির, আবূ হুরায়রা এবং সাওবান (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ আইউব (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটির উপর ভিত্তি করে একদল আলিম শাউয়ালের ছয় দিন সিয়াম পালন মুস্তাহাব বলে মনে করেন। ইবনু মুবারক (রহঃ) বলেন, প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালনের মত এটি ভাল আমল। তিনি আরও বলেন, কতক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, এই সিয়ামকে রামাযানের সিয়ামের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ইবনু মুবারক (রহঃ) মাসের শুরুর দিকে এই ছয় দিনের সিয়াম পালন অধিক পছন্দীয় বলে গ্রহণ করেছেন। ইবনু মুবারক থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, শাওয়ালের মাসের ভিন্ন ভিন্ন দিনে রাখা ও জায়িয আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, রাবী আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মদ এই হাদীসটিকে সাফওয়ান ইবনু সুলায়ম ও সা’দ ইবনু সাঈদ সূত্রে উমার ইবনু সাবিত- আবূ আইউব (রাঃ) সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। শুবা (রহঃ) এই রিওয়াতটি ওয়ারাকা ইবনু উমার সা’দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সা’দ ইবনু সাঈদ হলেন ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রাঃ) এর ভাই। তাঁর স্মরণশক্তি সম্পর্কে কতক হাদীস বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।
এই বিষয়ে জাবির, আবূ হুরায়রা এবং সাওবান (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ আইউব (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটির উপর ভিত্তি করে একদল আলিম শাউয়ালের ছয় দিন সিয়াম পালন মুস্তাহাব বলে মনে করেন। ইবনু মুবারক (রহঃ) বলেন, প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালনের মত এটি ভাল আমল। তিনি আরও বলেন, কতক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, এই সিয়ামকে রামাযানের সিয়ামের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ইবনু মুবারক (রহঃ) মাসের শুরুর দিকে এই ছয় দিনের সিয়াম পালন অধিক পছন্দীয় বলে গ্রহণ করেছেন। ইবনু মুবারক থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, শাওয়ালের মাসের ভিন্ন ভিন্ন দিনে রাখা ও জায়িয আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, রাবী আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মদ এই হাদীসটিকে সাফওয়ান ইবনু সুলায়ম ও সা’দ ইবনু সাঈদ সূত্রে উমার ইবনু সাবিত- আবূ আইউব (রাঃ) সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। শুবা (রহঃ) এই রিওয়াতটি ওয়ারাকা ইবনু উমার সা’দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সা’দ ইবনু সাঈদ হলেন ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রাঃ) এর ভাই। তাঁর স্মরণশক্তি সম্পর্কে কতক হাদীস বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।
হাদিস নং: ৭৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن سماك بن حرب، عن ابي الربيع، عن ابي هريرة، قال عهد الى النبي صلى الله عليه وسلم ثلاثة ان لا انام الا على وتر وصوم ثلاثة ايام من كل شهر وان اصلي الضحى .
৭৫৮ কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি ওসীয়্যাত করেছেন। বিতর (সালাত (নামায/নামাজ) আদায় না করে যেন নিদ্রাগমন না করি। প্রতি মাসে যেন তিন দিন সিয়াম পালন করি আর যেন চাশতের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করি। - ইরওয়া ৯৪৬, সহিহ আবু দাউদ ১২৮৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭৫৯
হাসান (Hasan)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، قال انبانا شعبة، عن الاعمش، قال سمعت يحيى بن سام، يحدث عن موسى بن طلحة، قال سمعت ابا ذر، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا ابا ذر اذا صمت من الشهر ثلاثة ايام فصم ثلاث عشرة واربع عشرة وخمس عشرة " . وفي الباب عن ابي قتادة وعبد الله بن عمرو وقرة بن اياس المزني وعبد الله بن مسعود وابي عقرب وابن عباس وعاىشة وقتادة بن ملحان وعثمان بن ابي العاصي وجرير . قال ابو عيسى حديث ابي ذر حديث حسن . وقد روي في بعض الحديث ان " من صام ثلاثة ايام من كل شهر كان كمن صام الدهر " .
৭৫৯. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন, হে আবূ যার! প্রতি মাসে যদি তিন দিন সিয়াম পালন করতে চাও তবে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখের সিয়াম পালন করো। - ইরওয়া ৯৪৭, মিশকাত তাহকিক ছানী ২০৫৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ কাতাদা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, কররা ইবনু ইয়াস আল-মুযানী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, আবূ আকরাব, ইবনু আব্বাস, আয়িশা, কাতাদা ইবনু মিলহান, উসমান ইবনু আবূল আসী ও জারীর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ যার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। কতক হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করল।
এই বিষয়ে আবূ কাতাদা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, কররা ইবনু ইয়াস আল-মুযানী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, আবূ আকরাব, ইবনু আব্বাস, আয়িশা, কাতাদা ইবনু মিলহান, উসমান ইবনু আবূল আসী ও জারীর (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ যার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। কতক হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করল।
হাদিস নং: ৭৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن عاصم الاحول، عن ابي عثمان النهدي، عن ابي ذر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من صام من كل شهر ثلاثة ايام فذلك صيام الدهر " . فانزل الله عز وجل تصديق ذلك في كتابه : (من جاء بالحسنة فله عشر امثالها ) . اليوم بعشرة ايام . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روى شعبة هذا الحديث عن ابي شمر وابي التياح عن ابي عثمان عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৭৬০. হান্নাদ (রহঃ) ...... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে তবে তা যেন সারা বছরই সিয়াম পালন করা হলো। এর সমর্থনে আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে আয়াত নাযিল করলেনঃ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا (অর্থ) কেউ যদি একটি নেক কাজ করে তবে তার প্রতিদান হলো এর দশগুণ। সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান। - ইরওয়া, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, শুবা (রহঃ) এই হাদীসটি আবূত তায়্যাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, শুবা (রহঃ) এই হাদীসটি আবূত তায়্যাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৭৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، اخبرنا شعبة، عن يزيد الرشك، قال سمعت معاذة، قالت قلت لعاىشة اكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصوم ثلاثة ايام من كل شهر قالت نعم . قلت من ايه كان يصوم قالت كان لا يبالي من ايه صام . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال ويزيد الرشك هو يزيد الضبعي وهو يزيد بن القاسم وهو القسام والرشك هو القسام بلغة اهل البصرة .
৭৬১. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ...... মুআযাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আয়িশা (রাঃ) কে বললাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বললাম, কোন তারিখ তিনি এই সিয়াম পালন করতেন? তিনি বললেন, কোন তিন দিন এই সিয়াম পালন করবেন এই বিষয়ে তিনি কোন পরওয়া করতেন না। - ইবনু মাজাহ ১৭০৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান-সহীহ। রাবী ইয়াযীদ আর-রিশক হলেন, ইয়াযীদ আয-যুবাঈ আর ইনিই ইয়াযীদ আল-কাসিম। ইনি ছিলেন বন্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় রিশক অর্থ হলো বন্টনকারী।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান-সহীহ। রাবী ইয়াযীদ আর-রিশক হলেন, ইয়াযীদ আয-যুবাঈ আর ইনিই ইয়াযীদ আল-কাসিম। ইনি ছিলেন বন্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় রিশক অর্থ হলো বন্টনকারী।
হাদিস নং: ৭৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمران بن موسى القزاز، حدثنا عبد الوارث بن سعيد، حدثنا علي بن زيد، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان ربكم يقول كل حسنة بعشر امثالها الى سبعماىة ضعف والصوم لي وانا اجزي به الصوم جنة من النار ولخلوف فم الصاىم اطيب عند الله من ريح المسك وان جهل على احدكم جاهل وهو صاىم فليقل اني صاىم " . وفي الباب عن معاذ بن جبل وسهل بن سعد وكعب بن عجرة وسلامة بن قيصر وبشير ابن الخصاصية . واسم بشير زحم بن معبد والخصاصية هي امه . قال ابو عيسى وحديث ابي هريرة حديث حسن غريب من هذا الوجه .
৭৬২. ইমরান ইবনু মূসা আল-কাযযায (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের রব বলেছেন, প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান হলো দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত। সাওম হলো আমারই জন্য। সুতরাং আমি নিজে এর প্রতিদান দিব। সাওম হলো জাহান্নাম থেকে ঢাল স্বরুপ। সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশক আম্বরের গন্ধের চেয়েও অধিক পছন্দনীয়। সাওম পালন অবস্থায় কোন জাহিল (মূর্খ) যদি তোমাদের কারো সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করে তবে সে যেন বলে আমি তো সাওম পালন করছি। - তা’লীকুর রাগীব ২/৫৭-৫৮, সহিহ আবু দাউদ ২০৪৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মুআয ইবনু জাবাল, সাহল ইবনু সা’দ, কাব ইবনু উজরা, সালামা ইবনু কায়সার বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। বাশীর (রাঃ) এর নাম হল যাহম ইবনু মাবাদ। খাসাসিয়্যা হলেন তাঁর মাতা। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
এই বিষয়ে মুআয ইবনু জাবাল, সাহল ইবনু সা’দ, কাব ইবনু উজরা, সালামা ইবনু কায়সার বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। বাশীর (রাঃ) এর নাম হল যাহম ইবনু মাবাদ। খাসাসিয়্যা হলেন তাঁর মাতা। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ৭৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عامر العقدي، عن هشام بن سعد، عن ابي حازم، عن سهل بن سعد، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان في الجنة لبابا يدعى الريان يدعى له الصاىمون فمن كان من الصاىمين دخله ومن دخله لم يظما ابدا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
৭৬৩. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে; একে ’’রায়্যান’’ নামে অভিহিত করা হয়। এই দরজা দিয়ে সাওম পালনকারীদের ডাকা হবে। যারা সাওম পালনকারী তারা এই দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করবে সে কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না। - ইবনু মাজাহ ১৬৪০, "তৃষ্ণার্ত হবে না" বাক্যাংশ ব্যাতিত, বুখারি ও মুসলিম,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ৭৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " للصاىم فرحتان فرحة حين يفطر وفرحة حين يلقى ربه " . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح .
৭৬৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সায়েমের জন্য দু’টি আনন্দ। একটি আনন্দ হলো যখন সে ইফতার করে; আরেকটি হলো যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। - ইবনু মাজাহ ১৬৩৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، واحمد بن عبدة الضبي، قالا حدثنا حماد بن زيد، عن غيلان بن جرير، عن عبد الله بن معبد، عن ابي قتادة، قال قيل يا رسول الله كيف بمن صام الدهر قال " لا صام ولا افطر " . او " لم يصم ولم يفطر " . وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وعبد الله بن الشخير وعمران بن حصين وابي موسى . قال ابو عيسى حديث ابي قتادة حديث حسن . وقد كره قوم من اهل العلم صيام الدهر واجازه قوم اخرون وقالوا انما يكون صيام الدهر اذا لم يفطر يوم الفطر ويوم الاضحى وايام التشريق فمن افطر هذه الايام فقد خرج من حد الكراهية ولا يكون قد صام الدهر كله . هكذا روي عن مالك بن انس وهو قول الشافعي . وقال احمد واسحاق نحوا من هذا وقالا لا يجب ان يفطر اياما غير هذه الخمسة الايام التي نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عنها يوم الفطر ويوم الاضحى وايام التشريق .
৭৬৫. কুতায়বা ও আহমাদ ইবনু আবদা (রহঃ) ...... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল যে ব্যক্তি সারা বছর সাওম পালন করবে তার কেমন হবে? তিনি বললেন তার সাওম হলো না, ইফতারও হলো না। - ইরওয়া ৯৫২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনুু-শিখখীর, ইমরান ইবনু হুসাইন ও আবূ মূসা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আলিমগণের একদল সাওমুদ্দাহর অর্থ্যাৎ সারা বছর সাওম পালন করা মাকরূহ বলে মনে করেন। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে যদি কেউ সাওম পালন করে তবে তা হবে সাওমুদ্দাহার। এই দিনগুলোতে যে সাওম পালন করবেনা সে উপরোক্ত নিষিদ্ধ সীমা থেকে বের হয়ে যাবে এবং সে সাওমুদ্দাহার পালনকারী রূপে গণ্য হবে না। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে এই ধরণের অভিমত বর্ণিত আছে। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও বক্তব্য অনুরূপ। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং আইয়্যামে তাশরীক এই যে পাঁচটি দিন সাওম পালন করতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সেই পাঁচটি দিন ছাড়া অন্য কোন দিনের সাওম পরিত্যাগ করা ওয়াজিব নয়।
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনুু-শিখখীর, ইমরান ইবনু হুসাইন ও আবূ মূসা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আলিমগণের একদল সাওমুদ্দাহর অর্থ্যাৎ সারা বছর সাওম পালন করা মাকরূহ বলে মনে করেন। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে যদি কেউ সাওম পালন করে তবে তা হবে সাওমুদ্দাহার। এই দিনগুলোতে যে সাওম পালন করবেনা সে উপরোক্ত নিষিদ্ধ সীমা থেকে বের হয়ে যাবে এবং সে সাওমুদ্দাহার পালনকারী রূপে গণ্য হবে না। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে এই ধরণের অভিমত বর্ণিত আছে। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও বক্তব্য অনুরূপ। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং আইয়্যামে তাশরীক এই যে পাঁচটি দিন সাওম পালন করতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সেই পাঁচটি দিন ছাড়া অন্য কোন দিনের সাওম পরিত্যাগ করা ওয়াজিব নয়।
হাদিস নং: ৭৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن عبد الله بن شقيق، قال سالت عاىشة عن صيام النبي، صلى الله عليه وسلم قالت كان يصوم حتى نقول قد صام ويفطر حتى نقول قد افطر . قالت وما صام رسول الله صلى الله عليه وسلم شهرا كاملا الا رمضان . وفي الباب عن انس وابن عباس . قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح .
৭৬৬. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ভাবে সাওম পালন করতেন যে এমনকি আমরা বলতাম, তিনি তো সাওম পালন করে যাচ্ছেন। আবার সাওম পালন থেকে যখন বিরত থাকতেন তখন আমরা বলতে থাকতাম তিনি বুঝি আর সাওম পালন করবেনই না। রামাযান ছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোন (পূর্ণ) মাসেই সাওম পালন করেননি। - ইবনু মাজাহ ১৭১০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এই বিষয়ে আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।