হাদিস নং: ২৪৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا شريك، عن ابي اسحاق، عن حارثة بن مضرب، قال اتينا خبابا نعوده وقد اكتوى سبع كيات فقال لقد تطاول مرضي ولولا اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا تمنوا الموت " . لتمنيت وقال " يوجر الرجل في نفقته كلها الا التراب او قال في البناء " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৪৮৫. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ..... হারিছা ইবন মুযাররিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর অসুস্থতার সময় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলাম। তখন তিনি তাঁর শরীরে লোহার সাতটি দাগ লাগিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বললেন অনেকদিন থেকে আমি পীড়িত। ’’তোমরা মৃত্যু কামনা করবে না’’ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্ত বাণীটি যদি আমি না শুনতাম তবে আজ অবশ্যই আমি মৃত্যু কামনা করতাম। রাসূলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ নির্মাণ কাজ ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ে ব্যক্তিকে ছওয়াব দেওয়া হয়। সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৪৮৬
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو احمد الزبيري، حدثنا خالد بن طهمان ابو العلاء، حدثنا حصين، قال جاء ساىل فسال ابن عباس فقال ابن عباس للساىل اتشهد ان لا، اله الا الله قال نعم . قال اتشهد ان محمدا رسول الله قال نعم . قال وتصوم رمضان قال نعم . قال سالت وللساىل حق انه لحق علينا ان نصلك . فاعطاه ثوبا ثم قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ما من مسلم كسا مسلما ثوبا الا كان في حفظ الله ما دام منه عليه خرقة " . قال هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه .
২৪৮৬. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... হুসায়ন (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ কোন এক ভিক্ষুক ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে কিছু ছওয়াল করল। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই? সে বললঃ হ্যাঁ।
তিনি বললেনঃ মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তুমি কি এরও সাক্ষ্য দাও? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ রমাযানের সিয়াম পালন কর? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি আমার কাছে কিছু চেয়েছ। সওয়ালকারীর অবশ্যই হক রয়েছে। তোমাকে কিছু দান করা অবশ্যই আমাদের উপর কর্তব্য।
এরপর তিনি তাকে একটি কাপড় দিলেন। পরে বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিম যদি অপর কোন মুসলিমকে বস্ত্র পরিধান করায় তবে যতদিন পর্যন্ত এর একটি টুকরাও বাকী থাকবে সেই (দাতা) ব্যক্তি আল্লাহর হিফাযতে থাকবে। যঈফ, মিশকাত ১৯২০, তা’লীকুর রাগীব ৩/১১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান এবং এ সূত্রে গারীব।
তিনি বললেনঃ মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তুমি কি এরও সাক্ষ্য দাও? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ রমাযানের সিয়াম পালন কর? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি আমার কাছে কিছু চেয়েছ। সওয়ালকারীর অবশ্যই হক রয়েছে। তোমাকে কিছু দান করা অবশ্যই আমাদের উপর কর্তব্য।
এরপর তিনি তাকে একটি কাপড় দিলেন। পরে বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিম যদি অপর কোন মুসলিমকে বস্ত্র পরিধান করায় তবে যতদিন পর্যন্ত এর একটি টুকরাও বাকী থাকবে সেই (দাতা) ব্যক্তি আল্লাহর হিফাযতে থাকবে। যঈফ, মিশকাত ১৯২০, তা’লীকুর রাগীব ৩/১১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান এবং এ সূত্রে গারীব।
হাদিস নং: ২৪৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، ومحمد بن جعفر، وابن ابي عدي، ويحيى بن سعيد، عن عوف بن ابي جميلة الاعرابي، عن زرارة بن اوفى، عن عبد الله بن سلام، قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة انجفل الناس اليه وقيل قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم فجىت في الناس لانظر اليه فلما استبنت وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم عرفت ان وجهه ليس بوجه كذاب وكان اول شيء تكلم به ان قال " ايها الناس افشوا السلام واطعموا الطعام وصلوا والناس نيام تدخلون الجنة بسلام " . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح .
২৪৮৭. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় এলেন তখন লোকেরা দ্রুত তাঁর দিকে ছুটে গেল। বলাবলি হতে লাগল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। লোকদের মধ্যে আমিও তাঁকে দেখতে গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা যখন আমার সামনে প্রতিভাত হল আমি চিনে ফেললাম যে, এ চেহারা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তিনি প্রথম যে কথা উচ্চারণ করলেন তা হলঃ হে লোক সকল, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাবে, লোকদের খাদ্য দিবে, মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকবে (শেষ রাতে) তখন তাহাজ্জুদের সালাত (নামায) আদায় করবে। তাহলে তোমরা শান্তি ও নিরাপদে জান্নাতে দাখেল হতে পারবে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৩৩৪,৩২৫১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি সহীহ।
হাদিস নং: ২৪৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن موسى الانصاري، حدثنا محمد بن معن المدني الغفاري، حدثني ابي، عن سعيد المقبري، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الطاعم الشاكر بمنزلة الصاىم الصابر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب .
২৪৮৮. ইসহাক ইবন মূসা আনসারী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুকরগুযার আহারকারীর মর্যাদা হল ধৈর্যশীল সাওম পালনকারীর মত। সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৭৬৪, ১৭৬৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৪৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسين بن الحسن المروزي، بمكة حدثنا ابن ابي عدي، حدثنا حميد، عن انس، قال لما قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة اتاه المهاجرون فقالوا يا رسول الله ما راينا قوما ابذل من كثير ولا احسن مواساة من قليل من قوم نزلنا بين اظهرهم لقد كفونا المونة واشركونا في المهنا حتى خفنا ان يذهبوا بالاجر كله . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا ما دعوتم الله لهم واثنيتم عليهم " . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح حسن غريب من هذا الوجه .
২৪৮৯. হুসায়ন ইবন হাসান মারওয়াযী (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় এলেন তখন মুহাজিরগণ তাঁর কাছে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা যে জাতির কাছে এসেছি তাদের মত প্রাচুর্যের অবস্থায় এবং অপ্রাচুর্যের অবস্থায় (আল্লাহর পথে) এত ব্যয় করতে এবং এত উত্তম সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে আর কাউকে আমরা দেখিনি। তারা আমাদের সকল প্রয়োজনে যথেষ্ট ছিলেন এবং তাদের শ্রমলব্ধ সম্পদে আমাদের অংশীদার বানিয়েছেন। এমনকি আমাদের আশংকা হচ্ছে যে সব ছাওয়াব তারাই নিয়ে যাবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শোন যতদিন তোমরা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবে এবং তাদের প্রশংসা করবে (ততদিন তোমাদেরও ছওয়াব হতে থাকবে)। সহীহ, মিশকাত ৩২০৬, তা’লীকুর রাগীব ২/৫৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ২৪৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا عبدة، عن هشام بن عروة، عن موسى بن عقبة، عن عبد الله بن عمرو الاودي، عن عبد الله بن مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا اخبركم بمن يحرم على النار او بمن تحرم عليه النار على كل قريب هين لين سهل " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب .
২৪৯০. হান্নাদ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কে জাহান্নামের জন্য হারাম এবং কার জন্য জাহান্নাম হারাম সে খবর তোমাদের দিব কি? সে হল যে মানুষের নিকটবর্তী এবং সহজ-সরল ও কোমল। সহীহ, সহিহাহ ৯৩৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ২৪৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن شعبة، عن الحكم، عن ابراهيم، عن الاسود بن يزيد، قال قلت لعاىشة اى شيء كان النبي صلى الله عليه وسلم يصنع اذا دخل بيته قالت كان يكون في مهنة اهله فاذا حضرت الصلاة قام فصلى . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৪৯১. হান্নাদ (রহঃ) ... আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আইশা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে আসতেন তখন কি করতেন? তিনি বললেন, পরিজনের কাজে থাকতেন। সালাতের সময় হলে উঠে যেতেন এবং সালাত আদায় করতেন। সহীহ, মুখতাসার শামাইল ২৯৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৪৯২
সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حدثنا سويد بن نصر، اخبرنا عبد الله بن المبارك، عن عمران بن زيد التغلبي، عن زيد العمي، عن انس بن مالك، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا استقبله الرجل فصافحه لا ينزع يده من يده حتى يكون الرجل الذي ينزع ولا يصرف وجهه عن وجهه حتى يكون الرجل هو الذي يصرفه ولم ير مقدما ركبتيه بين يدى جليس له . قال هذا حديث غريب .
২৪৯২. সুওয়ায়াদ ইবন নাসর (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যখন কারো সাক্ষাৎ হত এবং সে তার সঙ্গে মুসাফাহা করত তখন ঐ ব্যক্তি নিজে তার হাত টেনে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি তার হাত ঐ ব্যক্তির হাত থেকে টেনে নিতেন না, ঐ ব্যক্তি নিজে তার চেহারা ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর চেহারা ঐ ব্যক্তির চেহারা থেকে ফিরিয়ে নিতেন না, তিনি তাঁর সামনে বসা লোকদের দিকে কখনও পা বাড়িয়ে বসতেন না। দুর্বল; তবে মুসাফার অংশটুকু সহিহ, ইবনু মাজাহ ৩৭১৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি গারীব।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি গারীব।
হাদিস নং: ২৪৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو الاحوص، عن عطاء بن الساىب، عن ابيه، عن عبد الله بن عمرو، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " خرج رجل ممن كان قبلكم في حلة له يختال فيها فامر الله الارض فاخذته فهو يتجلجل فيها او قال يتلجلج فيها الى يوم القيامة " . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح .
২৪৯৩. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী যুগের জনৈক ব্যক্তি তার মুল্যবান এক জোড়া পোষাক পরে গর্বিত বেশে বের হলে আল্লাহ তা’আলা যমীনকে নির্দেশ দিলেন ফলে যমীন তাকে গ্রাস করে নেয়, সে কিয়ামত পর্যন্ত এতে প্রোথিত হথে থাকবে।
সহীহ, আস-সহিহ আল জামি’ ৩২১৭, বুখারী, মুসলিম আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটি সহীহ।
সহীহ, আস-সহিহ আল জামি’ ৩২১৭, বুখারী, মুসলিম আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটি সহীহ।
হাদিস নং: ২৪৯৪
হাসান (Hasan)
حدثنا سويد بن نصر، اخبرنا عبد الله بن المبارك، عن محمد بن عجلان، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " يحشر المتكبرون يوم القيامة امثال الذر في صور الرجال يغشاهم الذل من كل مكان فيساقون الى سجن في جهنم يسمى بولس تعلوهم نار الانيار يسقون من عصارة اهل النار طينة الخبال " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن .
২৪৯৪. সুয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ..... আমর ইবন শু’আয়ব তার পিতা তার পিতামহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন অহংকারীদিগকে মানুষের সূরতে পিপীলিকার ন্যায় একত্রিত করা হবে। সব দিক থেকে লাঞ্চনা তাদেরকে আচ্ছাদিত করে ফেলবে। জাহান্নামের বূলাছ নামীয় বন্দীখানায় তাদের হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কঠিন অগ্নি তাদের গ্রাস নিবে। জাহান্নামীদের পূতি গন্ধময় পূজ রক্ত ইত্যাদি তাদের পান করান হবে। হাসান, মিশকাত তাহকিক ছানী ৫১১২, তা’লিকুর রাগীব ৪/১৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৪৯৫
হাসান (Hasan)
حدثنا عبد بن حميد، وعباس بن محمد الدوري، قالا حدثنا عبد الله بن يزيد المقرى، حدثنا سعيد بن ابي ايوب، حدثني ابو مرحوم عبد الرحيم بن ميمون، عن سهل بن معاذ بن انس، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من كظم غيظا وهو يقدر على ان ينفذه دعاه الله على رءوس الخلاىق يوم القيامة حتى يخيره في اى الحور شاء " . قال هذا حديث حسن غريب .
২৪৯৫. আবদ ইবন হুমায়দ ও আব্বাস ইবন মুহাম্মদী দূরী (রহঃ) ..... সাহল ইবন মুআয ইবন আনাস তার পিতা মুআয ইবন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রোধ কার্যকরী করার ক্ষমতা থাকা সত্বেও যদি তার ক্রোধ সংবরণ করে তবে আল্লাহ তা’আলা সকল মানুষের সমক্ষে তাকে ডাকবেন এবং যে কোন হূরকে সে চায় তা গ্রহণের তাকে ইখতিয়ার দিবেন। হাসান, রওযুন নাযীর ৪৮১, ৮৫৪, তা’লিকুর রাগীব ৩/২৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৪৯৬
জাল (Fake)
حدثنا سلمة بن شبيب، حدثنا عبد الله بن ابراهيم الغفاري المدني، حدثني ابي، عن ابي بكر بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ثلاث من كن فيه نشر الله عليه كنفه وادخله جنته رفق بالضعيف وشفقة على الوالدين واحسان الى المملوك " قال هذا حديث حسن غريب . وابو بكر بن المنكدر هو اخو محمد بن المنكدر .
২৪৯৬. সালমা ইবন শাবীব (রহঃ) ....... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার মাঝে এই তিনটি গুন আছে আল্লাহ তা’আলা তার মাঝে স্বীয় রহমতের বাজু প্রসারিত করবেন এবং তাকে জান্নাতে দাখেল করবেন। গুনগুলো হলঃ দুর্বলদের সাথে নরম ব্যবহার, পিতা-মাতার উপর মায়া প্রদর্শন এবং দাসদের প্রতি সদ্ব্যহার। মাওযূ, যঈফা ৯২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ২৪৯৭
সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حدثنا هناد، حدثنا ابو الاحوص، عن ليث، عن شهر بن حوشب، عن عبد الرحمن بن غنم، عن ابي ذر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يقول الله تعالى يا عبادي كلكم ضال الا من هديته فسلوني الهدى اهدكم وكلكم فقير الا من اغنيت فسلوني ارزقكم وكلكم مذنب الا من عافيت فمن علم منكم اني ذو قدرة على المغفرة فاستغفرني غفرت له ولا ابالي ولو ان اولكم واخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا على اتقى قلب عبد من عبادي ما زاد ذلك في ملكي جناح بعوضة ولو ان اولكم واخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا على اشقى قلب عبد من عبادي ما نقص ذلك من ملكي جناح بعوضة ولو ان اولكم واخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا في صعيد واحد فسال كل انسان منكم ما بلغت امنيته فاعطيت كل ساىل منكم ما سال ما نقص ذلك من ملكي الا كما لو ان احدكم مر بالبحر فغمس فيه ابرة ثم رفعها اليه ذلك باني جواد ماجد افعل ما اريد عطاىي كلام وعذابي كلام انما امري لشيء اذا اردته ان اقول له كن فيكون " . قال هذا حديث حسن . وروى بعضهم هذا الحديث عن شهر بن حوشب عن معديكرب عن ابي ذر عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه .
২৪৯৭ হান্নাদ (রহঃ) ...... আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
হে আমার বান্দাগণ, তোমরা তো সবাই পথ হারা যাকে আমি হেদায়েত করি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে হেদায়েত চাও তোমাদের আমি হেদায়েত করব। তোমরা তো সবাই অভাবী আমি যাকে ধনবান করেছি সে ছাড়া। তোমরা আমার কাছেই প্রার্থনা কর আমি তোমাদের রিযক দান করব। তোমরা তো সবাই গুনাহগার যাকে আমি রক্ষা করি, সে ছাড়া। সুতরাং তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি এই কথা জানে আমি ক্ষমার শক্তি রাখি এবং যে আমার কাছেই ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।
আর আমি পরওয়া করি না। যদি তোমাদের প্রথম এবং শেষ জন, জীবীত ও মৃত, স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল সকলেই মিলে আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাকওয়ার অধিকারী ব্যক্তির হৃদয়ের মত হয় যায় তা একটি মশার পাখনা পরিমাণও আমার রাজ্যে বৃদ্ধি ঘটাবে না। আর তোমাদের প্রথম ও শেষ ব্যক্তি, স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল, জীবীত ও মৃত সকলেই মিলে যদি আমার বান্দাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট হৃদয়াধিকারী ব্যক্তির মত হয়ে যায় তবে তা একটি মশার পাখনা পরিমাণও আমার রাজ্যে হ্রাস ঘটাবে না।
তোমাদের প্রথম ও শেষ ব্যক্তি, স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল, জীবীত ও মৃত সকলেই মিলে যদি একই ময়দানে একত্রিত হয় আর প্রত্যেকেই যদি তার কামনা-বাসনার চুড়ান্ত মত আমার কাছে প্রার্থনা করে আর আমি প্রত্যেককেই তার প্রার্থনানুসারে দেই তবে তা আমার রাজ্যের কিছুই কমাতে পারবে না। কেবল ততটুকুই পারবে তোমাদের কেউ যদি সমুদ্র অতিক্রম করে আর তাতে একটি সুচ ঢুকায় এরপর তা উঠিয়ে নেয় তবে যতটুকু সমুদ্রের পানিতে হ্রাস ঘটবে। কারণ আমি তো দানশীল, অভাবমুক্ত ও মহান। যা ইচ্ছা তা করি। আমার দান হল আমার কথা, আমার আযাব হল নির্দেশ। আমার ব্যাপার তো হল যখন কিছুর ইরাদা করি তখন বলি ’’হও’’ আর তা হয়ে যায়।
এই বর্ণনাটি যঈফ, তবে হাদিসের অধিকাংশই সহিহ, মুসলিম, ইবনু মজাহ ৪২৫৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। কোন কোন রাবী এ হাদীসটিকে শাহর ইবন হাওশাব ... মা’দীকারিব ... আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছন।
হে আমার বান্দাগণ, তোমরা তো সবাই পথ হারা যাকে আমি হেদায়েত করি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে হেদায়েত চাও তোমাদের আমি হেদায়েত করব। তোমরা তো সবাই অভাবী আমি যাকে ধনবান করেছি সে ছাড়া। তোমরা আমার কাছেই প্রার্থনা কর আমি তোমাদের রিযক দান করব। তোমরা তো সবাই গুনাহগার যাকে আমি রক্ষা করি, সে ছাড়া। সুতরাং তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি এই কথা জানে আমি ক্ষমার শক্তি রাখি এবং যে আমার কাছেই ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।
আর আমি পরওয়া করি না। যদি তোমাদের প্রথম এবং শেষ জন, জীবীত ও মৃত, স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল সকলেই মিলে আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাকওয়ার অধিকারী ব্যক্তির হৃদয়ের মত হয় যায় তা একটি মশার পাখনা পরিমাণও আমার রাজ্যে বৃদ্ধি ঘটাবে না। আর তোমাদের প্রথম ও শেষ ব্যক্তি, স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল, জীবীত ও মৃত সকলেই মিলে যদি আমার বান্দাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট হৃদয়াধিকারী ব্যক্তির মত হয়ে যায় তবে তা একটি মশার পাখনা পরিমাণও আমার রাজ্যে হ্রাস ঘটাবে না।
তোমাদের প্রথম ও শেষ ব্যক্তি, স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল, জীবীত ও মৃত সকলেই মিলে যদি একই ময়দানে একত্রিত হয় আর প্রত্যেকেই যদি তার কামনা-বাসনার চুড়ান্ত মত আমার কাছে প্রার্থনা করে আর আমি প্রত্যেককেই তার প্রার্থনানুসারে দেই তবে তা আমার রাজ্যের কিছুই কমাতে পারবে না। কেবল ততটুকুই পারবে তোমাদের কেউ যদি সমুদ্র অতিক্রম করে আর তাতে একটি সুচ ঢুকায় এরপর তা উঠিয়ে নেয় তবে যতটুকু সমুদ্রের পানিতে হ্রাস ঘটবে। কারণ আমি তো দানশীল, অভাবমুক্ত ও মহান। যা ইচ্ছা তা করি। আমার দান হল আমার কথা, আমার আযাব হল নির্দেশ। আমার ব্যাপার তো হল যখন কিছুর ইরাদা করি তখন বলি ’’হও’’ আর তা হয়ে যায়।
এই বর্ণনাটি যঈফ, তবে হাদিসের অধিকাংশই সহিহ, মুসলিম, ইবনু মজাহ ৪২৫৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। কোন কোন রাবী এ হাদীসটিকে শাহর ইবন হাওশাব ... মা’দীকারিব ... আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছন।
হাদিস নং: ২৪৯৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبيد بن اسباط بن محمد القرشي، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، عن عبد الله بن عبد الله الرازي، عن سعد، مولى طلحة عن ابن عمر، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يحدث حديثا لو لم اسمعه الا مرة او مرتين حتى عد سبع مرات ولكني سمعته اكثر من ذلك سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " كان الكفل من بني اسراىيل لا يتورع من ذنب عمله فاتته امراة فاعطاها ستين دينارا على ان يطاها فلما قعد منها مقعد الرجل من امراته ارعدت وبكت فقال ما يبكيك ااكرهتك قالت لا ولكنه عمل ما عملته قط وما حملني عليه الا الحاجة فقال تفعلين انت هذا وما فعلته اذهبي فهي لك . وقال لا والله لا اعصي الله بعدها ابدا . فمات من ليلته فاصبح مكتوبا على بابه ان الله قد غفر للكفل " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . قد رواه شيبان وغير واحد عن الاعمش نحو هذا ورفعوه وروى بعضهم عن الاعمش فلم يرفعه . وروى ابو بكر بن عياش هذا الحديث عن الاعمش فاخطا فيه وقال عن عبد الله بن عبد الله عن سعيد بن جبير عن ابن عمر وهو غير محفوظ وعبد الله بن عبد الله الرازي هو كوفي وكانت جدته سرية لعلي بن ابي طالب وروى عن عبد الله بن عبد الله الرازي عبيدة الضبي والحجاج بن ارطاة وغير واحد من كبار اهل العلم .
২৪৯৮. উবায়দ ইবন আসবাত ইবন মুহাম্মদ কুরাশী (রহঃ) ..... ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, এক-দুইবার বা পাঁচ-সাত বার নয় বরং এর চেয়েও বেশীবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বানূ ইসরাঈলের কিফল নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে কোনরূপ গুনাহের কাজকে ছাড়তো না। একবার এক মহিলা (অভাবে পড়ে) তার কাছে এলে সে ব্যভিচারের শর্তে তাকে ষাট দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) দেয়। সে যখন ঐ মহিলার সঙ্গে বদকাজ করতে উদ্যত হল তখন মহিলাটি (আল্লাহর ভয়ে) প্রকম্পিত হয়ে কেঁদে ফেলল। লোকটি বললঃ কাঁদছ কেন? তোমাকে কি আমি যবরদস্তি করছি?
মহিলাটি বললঃ না, তবে এ গুনাহর কাজ আমি কখনো করিনি। আচ কেবল অভাবের তাড়নায় এতে বাধ্য হচ্ছি। লোকটি বললঃ অভাবের তাড়নায় পড়েই তুমি এসেছ অথচ তা কখনো করনি? যাও, তোমাকে ছেড়ে দিলাম। দীনারগুলোও তোমারই। সে আরো বললঃ আল্লাহর কসমঃ এরপর আর আমি কখনও আল্লাহর নাফরমানী করব না। পরে এ রাতে বিফল মারা যায়। সকালে তার ঘরের দরজায় লেখা ছিল, ’’আল্লাহ তা’আলা বিফলকে মাফ করে দিয়েছেন।’’ যঈফ, যঈফা ৪০৮৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। শায়বান (রহঃ) প্রমুখ এটিকে আ’মাশ (রহঃ)-এর বরাতে মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। কোন কোন রাবী আ’মাশ (রহঃ) থেকে তা বর্ণনা করেছেন। তবে তারা এটিকে মারফু করেননি। আবূ বকর ইবন আয়্যাশও এটিকে আ’মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাতে ভুল করে ফেলেছেন। তিনি তার সনদে বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন আবদিল্লাহ-সাঈদ ইবন যুবায়র-ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু। এটি মাহফুজ বা সংরক্ষিত নয়।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ রাযী হলেন কুফী। তাঁর পিতামহী ছিলেন আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দাসী। আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ রাযী (রহঃ) এর বরাতে উবায়দা যাব্বী, হাজ্জাজ ইবন আরতাত প্রমুখ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
মহিলাটি বললঃ না, তবে এ গুনাহর কাজ আমি কখনো করিনি। আচ কেবল অভাবের তাড়নায় এতে বাধ্য হচ্ছি। লোকটি বললঃ অভাবের তাড়নায় পড়েই তুমি এসেছ অথচ তা কখনো করনি? যাও, তোমাকে ছেড়ে দিলাম। দীনারগুলোও তোমারই। সে আরো বললঃ আল্লাহর কসমঃ এরপর আর আমি কখনও আল্লাহর নাফরমানী করব না। পরে এ রাতে বিফল মারা যায়। সকালে তার ঘরের দরজায় লেখা ছিল, ’’আল্লাহ তা’আলা বিফলকে মাফ করে দিয়েছেন।’’ যঈফ, যঈফা ৪০৮৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। শায়বান (রহঃ) প্রমুখ এটিকে আ’মাশ (রহঃ)-এর বরাতে মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। কোন কোন রাবী আ’মাশ (রহঃ) থেকে তা বর্ণনা করেছেন। তবে তারা এটিকে মারফু করেননি। আবূ বকর ইবন আয়্যাশও এটিকে আ’মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাতে ভুল করে ফেলেছেন। তিনি তার সনদে বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন আবদিল্লাহ-সাঈদ ইবন যুবায়র-ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু। এটি মাহফুজ বা সংরক্ষিত নয়।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ রাযী হলেন কুফী। তাঁর পিতামহী ছিলেন আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দাসী। আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ রাযী (রহঃ) এর বরাতে উবায়দা যাব্বী, হাজ্জাজ ইবন আরতাত প্রমুখ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ২৪৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، اخبرنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن عمارة بن عمير، عن الحارث بن سويد، حدثنا عبد الله بن مسعود، بحديثين احدهما عن نفسه، والاخر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال عبد الله ان المومن يرى ذنوبه كانه في اصل جبل يخاف ان يقع عليه وان الفاجر يرى ذنوبه كذباب وقع على انفه .
২৪৯৯. হান্নাদ (রহঃ) ......... হারিছ ইবন সওয়ায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদেরকে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু দু’টো বিষয় রিওয়ায়াত করেছেন। একটি তাঁর পক্ষ থেকে আরেকটি করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে। আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ মু’মিন তো তার গুনাহকে এমন ভয়াবহ মনে করে যে, সে যেন একটি পাহাড়ের গোড়ায় বসে আছে আর সেটি তার উপর নিপতিত হচ্ছে বলে সে আশংকা করছে। আর ফাসিক-ফাজির ব্যক্তি তার গুনাহকে মনে করে যে, একটি মাছি যেন তার নাকে বসেছে আর সেটিকে সে হাতেই ইশারা করল আর উড়ে গেল। সহীহ, বুখারি ৬৩০৮, মুসলিম ৮/৯২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৫০০
সহিহ (Sahih)
وقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لله افرح بتوبة احدكم من رجل بارض دوية مهلكة معه راحلته عليها زاده وطعامه وشرابه وما يصلحه فاضلها فخرج في طلبها حتى اذا ادركه الموت قال ارجع الى مكاني الذي اضللتها فيه فاموت فيه فرجع الى مكانه فغلبته عينه فاستيقظ فاذا راحلته عند راسه عليها طعامه وشرابه وما يصلحه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفيه عن ابي هريرة والنعمان بن بشير وانس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم .
২৫০০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার তাওবায় আল্লাহ তা’আলা এমন এক ব্যক্তির চেয়েও বেশী আনন্দিত হন যে ব্যক্তি গাছ-পালা ও পানি বিহীন বিজন ভয়াবহ এক মরুভূমিতে যাত্রা করছে। তার সাথের বাহনটিতে সে তার পাথেয় খাদ্য, পানীয় এবং আরো যা যা তার দরকারী জিনিসপত্র রেখেছে। কিন্তু হঠাৎ সে তার বাহনটি হারিয়ে ফেলল। সে তার তালাশ করতে লাগল কিন্তু সে (তা না পেয়ে) যখন মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে পড়ল ভাবল যেখান থেকে সেটিকে হারিয়ে ছিলাম ঐখানেই ফিরে যাই এবং সেই স্থানে গিয়েই মরি। অনন্তর সে ঐ স্থানে ফিরে এল। একসময় (ক্লান্তিতে) তার বুজে আসল। হঠাৎ জেগে দেখে তার বাহনটি মাথার কাছে দাঁড়ান। তার খাদ্য, পানীয়, দরকারী জিনিসপত্র সবই তাতে রয়েছে। (এমতাবস্থায় এই ব্যক্তি যতটুকু আনন্দিত হবে আল্লাহ তাআলা কোন বান্দার তাওবায় এতদপেক্ষা অরেক বেশী আনন্দিত হয়ে থাকেন। সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, নু’মান ইবন বাশীর ও আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, নু’মান ইবন বাশীর ও আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৫০১
হাসান (Hasan)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا زيد بن حباب، حدثنا علي بن مسعدة الباهلي، حدثنا قتادة، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " كل ابن ادم خطاء وخير الخطاىين التوابون " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث علي بن مسعدة عن قتادة .
২৫০১. আহমাদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আদম সন্তানদের প্রত্যেকেই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারী ব্যক্তিরা হল উত্তম। হাসান, ইবনু মাজাহ ৪২৫১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি গারীব। আলী ইবন মাসআদা-কাতাদা (রহঃ) সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি গারীব। আলী ইবন মাসআদা-কাতাদা (রহঃ) সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
হাদিস নং: ২৫০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا سويد، اخبرنا عبد الله بن المبارك، عن معمر، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من كان يومن بالله واليوم الاخر فليكرم ضيفه ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليقل خيرا او ليصمت " . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح . وفي الباب عن عاىشة وانس وابي شريح العدوي الكعبي الخزاعي واسمه خويلد بن عمرو .
২৫০২. সুওয়ায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ এবং শেষ দিনের উপর যার ঈমান আছে সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে। আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর যার ঈমান আছে সে যেন ভাল কথা বলে তা না হলে যেন চুপ থাকে। সহীহ, ইরওয়া ২৫২৫, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৫০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি সহীহ। এ বিষয়ে আয়িশা, আনাস, আবূ শুরায়হ কা’বী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। এই আবূ শুরায়হ কা’বী হলেন আদাবী, তার নাম হল খুওয়ায়লিদ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
এ হাদীসটি সহীহ। এ বিষয়ে আয়িশা, আনাস, আবূ শুরায়হ কা’বী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। এই আবূ শুরায়হ কা’বী হলেন আদাবী, তার নাম হল খুওয়ায়লিদ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
হাদিস নং: ২৫০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابن لهيعة، عن يزيد بن عمرو المعافري، عن ابي عبد الرحمن الحبلي، عن عبد الله بن عمرو، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من صمت نجا " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث ابن لهيعة . وابو عبد الرحمن الحبلي هو عبد الله بن يزيد .
২৫০৩. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে চুপ রইল সে নাজাত পাইল। সহীহ, সহিহাহ ৫৩৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৫০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইবন লাহিআ এর সুত্র ছাড়া এই হাদীস সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
ইবন লাহিআ এর সুত্র ছাড়া এই হাদীস সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
হাদিস নং: ২৫০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، وعبد الرحمن بن مهدي، قالا حدثنا سفيان، عن علي بن الاقمر، عن ابي حذيفة، وكان، من اصحاب ابن مسعود عن عاىشة، قالت حكيت للنبي صلى الله عليه وسلم رجلا فقال " ما يسرني اني حكيت رجلا وان لي كذا وكذا " . قالت فقلت يا رسول الله ان صفية امراة وقالت بيدها هكذا كانها تعني قصيرة . فقال " لقد مزجت بكلمة لو مزجت بها ماء البحر لمزج " .
২৫০৪. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক জনের আচরণ নকল করে দেখিয়েছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমাকে এত এত সম্পদ দেওয়া হলেও কারো আচরন নকল করে দেখানো আমাকে আনন্দ দেয় না।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেনঃ আমি একদিন বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, সাফিয়্যা তো এতটুকু এক মহিলা। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে তাঁকে বেঁটে বলে দেখালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এমন এক কথা দ্বারা তোমার আমলকে মিশ্রিত করে ফেললে যে কথা সমুদ্রের পানির সাথে মিলালেও তা থেকে দূষিত করে ফেলবে।
সহীহ, মিশকাত তাহকিক ছানী ৪৮৫৩, ৪৮৫৭, গায়াতুল মারাম ৪২৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৫০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেনঃ আমি একদিন বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, সাফিয়্যা তো এতটুকু এক মহিলা। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে তাঁকে বেঁটে বলে দেখালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এমন এক কথা দ্বারা তোমার আমলকে মিশ্রিত করে ফেললে যে কথা সমুদ্রের পানির সাথে মিলালেও তা থেকে দূষিত করে ফেলবে।
সহীহ, মিশকাত তাহকিক ছানী ৪৮৫৩, ৪৮৫৭, গায়াতুল মারাম ৪২৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৫০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]