হাদিস নং: ১১৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن يحيى بن سعيد، عن سليمان بن يسار، ان ابا هريرة، وابن، عباس وابا سلمة بن عبد الرحمن تذاكروا المتوفى عنها زوجها الحامل تضع عند وفاة زوجها فقال ابن عباس تعتد اخر الاجلين . وقال ابو سلمة بل تحل حين تضع . وقال ابو هريرة انا مع ابن اخي يعني ابا سلمة فارسلوا الى ام سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم فقالت قد وضعت سبيعة الاسلمية بعد وفاة زوجها بيسير فاستفتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فامرها ان تتزوج . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح.
১১৯৬. কুতায়বা (রহঃ) ...... সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা, ইবনু আব্বাস এবং আবূ সালামা ইবনু আবদুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম যে গর্ভবর্তী মহিলা স্বামীর ওয়াফাতের অব্যবহিত পর সন্তান প্রসব করে তার সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। ইবনু আব্বাস বললেন, দুটো মুদ্দতের শেষেরটি দ্বারা ইদ্দত পালন করবে। আবূ সালামা বললেন, যখনই সন্তান প্রসব করবে তখনই তার জন্য বিবাহ হালাল। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আমার ভ্রাতুষ্পুত্র অর্থাৎ আবূ সালামার সঙ্গে আছি। অনন্তুর তারা এই প্রসঙ্গে [জানার জন্য] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে লোক পাঠান। তিনি বললেন, স্বামীর মৃত্যুর সামান্য দিন পরই সুবাই’আ আল-আসলামিয়্যা সন্তান প্রসব করে। তখন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিজ সম্পর্কে ফতওয়া জিজ্ঞাসা করে। তখন তিনি তাকে বিবাহ করতে পারে বলে জানালেন। - ইরওয়া ২১১৩, সহিহ আবু আউদ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ।
হাদিস নং: ১১৯৭
তাহকীক অপেক্ষমাণ
حدثنا الانصاري، حدثنا معن بن عيسى، انبانا مالك بن انس، عن عبد الله بن ابي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، عن حميد بن نافع، عن زينب بنت ابي سلمة، انها اخبرته بهذه الاحاديث الثلاثة،
১১৯৭. আনসারী (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু নাফে’ থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে যায়নার বিনত আবূ সালামা (রহঃ) এই তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ১১৯৮
সহিহ (Sahih)
قال قالت زينب دخلت على ام حبيبة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين توفي ابوها ابو سفيان بن حرب فدعت بطيب فيه صفرة خلوق او غيره فدهنت به جارية ثم مست بعارضيها ثم قالت والله ما لي بالطيب من حاجة غير اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا يحل لامراة تومن بالله واليوم الاخر ان تحد على ميت فوق ثلاثة ايام الا على زوج اربعة اشهر وعشرا " .
১১৯৮. যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহ ধর্মিনী উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর পিতা আবূ সুফইয়ান ইবনু হারব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ইন্তেকালের পর আমি তাঁর কাছে গেলাম। তিনি ডেকে সুগন্ধি আনলেন। এতে হলদে রং এর জাফরানী বা এ জাতীয় আতর ছিল। তিনি একটি বালিকার গায়ে তা লাগালেন। এরপরে স্বীয় গন্ডদ্বায়ে তা লাগালেন। তারপর বললেন, আমার এই সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আমি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ্ ও শেষদিনে ঈমান রাখে তার পক্ষে হালাল নয় কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিনদিনের অধিক শোক পালন করা। তবে স্বামীর জন্য চারমাস দশ দিন। - ইরওয়া ২১১৪, সহিহ আবু দাউদ ১৯৯০, ১৯৯১, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১১৯৯
সহিহ (Sahih)
قالت زينب فدخلت على زينب بنت جحش حين توفي اخوها فدعت بطيب فمست منه ثم قالت والله ما لي في الطيب من حاجة غير اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا يحل لامراة تومن بالله واليوم الاخر ان تحد على ميت فوق ثلاث ليال الا على زوج اربعة اشهر وعشرا " .
১১৯৯. যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যায়নাব বিনত জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর ভ্রাতা মারা যাওয়ার পর আমি তাঁর কাছে গেলাম। তিনি সুগন্ধি আনলেন এবং তা লাগালেন। পরে বললেন, আল্লাহর কসম, আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ্ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে তার পক্ষে হালাল নয় কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন রাত্রির অধক শোক পালন করা। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১২০০
সহিহ (Sahih)
قالت زينب وسمعت امي ام سلمة، تقول جاءت امراة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ان ابنتي توفي عنها زوجها وقد اشتكت عينيها افنكحلها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا " مرتين او ثلاث مرات كل ذلك يقول " لا " . ثم قال " انما هي اربعة اشهر وعشرا وقد كانت احداكن في الجاهلية ترمي بالبعرة على راس الحول " . قال وفي الباب عن فريعة بنت مالك اخت ابي سعيد الخدري وحفصة بنت عمر . قال ابو عيسى حديث زينب حديث حسن صحيح . - والعمل على هذا عند اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان المتوفى عنها زوجها تتقي في عدتها الطيب والزينة . وهو قول سفيان الثوري ومالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق .
১২০০. যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমার মা উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছি যে, জনৈকা মহিলা রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার স্বামী মারা গেছে। বর্তমানে তার চোখ রোগক্রান্ত। আমরা কি তাকে সুরমা ব্যবহার করাতে পারি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। বর্ণনাকারী বলেন, দুবার বা তিনবার যতবারই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুমতির কথা বলা হল, ততবারই তিনি বললেন, না। এরপর তিনি বললেন, এ তো হলো মাত্র চার মাস দশ দিন। অথচ জাহিলী আমলে এজন্য তোমরা বৎসরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করতে।* - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৯৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ভগ্নী ফুরায়’আ বিনত মালিক সিনান ও হাফসা বিনত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সাহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের আমল এই হাদীস অনুসারে রয়েছে যে, যে মহিলার স্বামী মারা গেছে সে ইদ্দত পালনের সময় সুগন্ধি ও সাজ-সজ্জা থেকে বিরত থাকবে। এ হলো ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ভগ্নী ফুরায়’আ বিনত মালিক সিনান ও হাফসা বিনত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সাহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের আমল এই হাদীস অনুসারে রয়েছে যে, যে মহিলার স্বামী মারা গেছে সে ইদ্দত পালনের সময় সুগন্ধি ও সাজ-সজ্জা থেকে বিরত থাকবে। এ হলো ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
নোট: * জাহিলী আমলে কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে রীতি ছিল যে, তাকে একটি সংকীর্ণ ঘরে একাকী থাকতে হত এবং ভাল পোষাক-পরিচ্ছদ ও সুগন্ধি কিছুই ব্যবহার করতে পারত না। এভাবে একবছর অতিবাহিত হলে গাধা বা বকরীর মাধ্যমে তার গ্রপ্তাঙ্গ ছোঁয়ান হত। পরে ঐ ঘর থেকে বের হত এবং তার হাতে উটের বিষ্ঠা প্রদান করা হতো। আর সে তা নিক্ষেপ করে ইদ্দত থেকে মুক্ত হত। ইসলাম এই ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সহজ, মানুষের স্বভাবানুগ বিধান দিয়েছে। এখানে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হাদিস নং: ১২০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا عبد الله بن ادريس، عن محمد بن اسحاق، عن محمد بن عمرو بن عطاء، عن سليمان بن يسار، عن سلمة بن صخر البياضي، عن النبي صلى الله عليه وسلم في المظاهر يواقع قبل ان يكفر قال " كفارة واحدة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم وهو قول سفيان الثوري ومالك والشافعي واحمد واسحاق . وقال بعضهم اذا واقعها قبل ان يكفر فعليه كفارتان . وهو قول عبد الرحمن بن مهدي .
১২০১. আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ...... সালামা ইবনু সাখর বায়াযী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা- জিহারের কাফফারা প্রদানের পূর্বে সংগত হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন। (এমতাবস্থায়ও) এর জন্য একই কাফফারা। -তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এই হাদীস অনুসারে অধিকাংশ আলিমের আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, কাফফারা প্রদানের পূর্বেই যদি কেউ স্ত্রীর সহিত সঙ্গত হয় তবে তাকে দুই কাফফারা দিতে হবে। এ হলো আবদুর রহমান ইবনু মাহদী (রহঃ) এর অভিমত।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এই হাদীস অনুসারে অধিকাংশ আলিমের আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, কাফফারা প্রদানের পূর্বেই যদি কেউ স্ত্রীর সহিত সঙ্গত হয় তবে তাকে দুই কাফফারা দিতে হবে। এ হলো আবদুর রহমান ইবনু মাহদী (রহঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ১২০২
সহিহ (Sahih)
انبانا ابو عمار الحسين بن حريث، انبانا الفضل بن موسى، عن معمر، عن الحكم بن ابان، عن عكرمة، عن ابن عباس، ان رجلا، اتى النبي صلى الله عليه وسلم قد ظاهر من امراته فوقع عليها فقال يا رسول الله اني قد ظاهرت من زوجتي فوقعت عليها قبل ان اكفر . فقال " وما حملك على ذلك يرحمك الله " . قال رايت خلخالها في ضوء القمر . قال " فلا تقربها حتى تفعل ما امرك الله به " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح .
১২০২. আবূ আম্মার হুসায়ন ইবনু হুরায়ছ (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি জিহার করার পর তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হল। এপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে জিহার করেছিলাম। কিন্তু কাফফারা প্রদানের পূর্বেই তার সঙ্গে সঙ্গত হয়েছি। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমার প্রতি রহম করুন। এতে লিপ্ত হতে কিসে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করল? সে বলল, চাঁদের আলোতে তার পায়ের খাড়ুর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যায়। (ফলে......)। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে (কাফফারার) যে নির্দেশ দিয়েছেন তা সমাধান না করে আর স্ত্রীর কাছেও যেওনা। - ইবনু মাজাহ ২০৬৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ-গারীব।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ১২০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، انبانا هارون بن اسماعيل الخزاز، انبانا علي بن المبارك، انبانا يحيى بن ابي كثير، انبانا ابو سلمة، ومحمد بن عبد الرحمن بن ثوبان، ان سلمان بن صخر الانصاري، احد بني بياضة جعل امراته عليه كظهر امه حتى يمضي رمضان فلما مضى نصف من رمضان وقع عليها ليلا فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " اعتق رقبة " . قال لا اجدها . قال " فصم شهرين متتابعين " . قال لا استطيع . قال " اطعم ستين مسكينا " . قال لا اجد . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لفروة بن عمرو " اعطه ذلك العرق " . وهو مكتل ياخذ خمسة عشر صاعا او ستة عشر صاعا فقال " اطعم ستين مسكينا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . يقال سلمان بن صخر ويقال سلمة بن صخر البياضي . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم في كفارة الظهار .
১২০৩. ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ সালামা ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, বানূ বায়যার জনৈক ব্যক্তি সালমান ইবনু সাখর আনসারী স্ত্রীকে তার মায়ের পিঠের সঙ্গে তুলনা করে (জিহার করে)। এমতাবস্থায় রমযান অতিবাহিত হচ্ছিল। রমাযানের অর্ধেক হলে পর একরাতে ঐ ব্যক্তি তার উক্ত স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হয়। অনন্তর সে রাসূলুল্লা্হ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ঐ ঘটনা বিবৃত করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, একটি গোলাম আযাদ করে দাও। সে বলল, আমার তা নেই। তিনি বললেন, একনাগাড়ে দুই মাস সিয়াম পালন কর। সে বলল, আমি তা করতে সমর্থ নই। তিনি বললেন, ষাটজন মিসকীনকে আহার্য দাও। সে বলল, তারও সামর্থ আমার নই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফারওয়া ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, ষাট জন মিসকীনের খাদ্য প্রদান করার জন্য এই ’’আরাকটি’’ (পনের সা বা ষোল সা খাদ্য ধরে এমন পাত্র), লোকটিকে দিয়ে দাও। - ইবনু মাজাহ ২০৬২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। বলা হয়, ইনি সালমান ইবনু সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলা হয়, সালামা ইবনু সাখর বায়যী। জিহারের কাফফারার ক্ষেত্রে এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। বলা হয়, ইনি সালমান ইবনু সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলা হয়, সালামা ইবনু সাখর বায়যী। জিহারের কাফফারার ক্ষেত্রে এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে।
হাদিস নং: ১২০৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا الحسن بن قزعة البصري، انبانا مسلمة بن علقمة، انبانا داود بن علي، عن عامر، عن مسروق، عن عاىشة، قالت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم من نساىه وحرم فجعل الحرام حلالا وجعل في اليمين كفارة . قال وفي الباب عن انس وابي موسى . قال ابو عيسى حديث مسلمة بن علقمة عن داود رواه علي بن مسهر وغيره عن داود عن الشعبي ان النبي صلى الله عليه وسلم . مرسلا . وليس فيه عن مسروق عن عاىشة وهذا اصح من حديث مسلمة بن علقمة . والايلاء هو ان يحلف الرجل ان لا يقرب امراته اربعة اشهر فاكثر . واختلف اهل العلم فيه اذا مضت اربعة اشهر فقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم اذا مضت اربعة اشهر يوقف فاما ان يفيء واما ان يطلق . وهو قول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم اذا مضت اربعة اشهر فهي تطليقة باىنة . وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة .
১২০৪. হাসান ইবনু কাযাআ বাসরী (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে ঈলা করেছিলেন। আর একটি হালাল বিষয়কে (নিজের জন্য) হারাম কসম করে ফেলেছিলেন। আর তিনি এই কসমের কারণে কাফফারা প্রদান করেছিলেন। - ইরওয়া ৪৭৫২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ মূসা ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। মাসলামা ইবনু আলকামা-দাঊদ সূত্রে বর্ণিত এই রিওয়ায়াতটি আলী ইবনু মুসহির প্রমূখ দাঊদ-শাবী সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। এই সনদে মাসরূক-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর উল্লেখ নাই। এটি মাসলামা ইবনু আলকামা (রহঃ) এর সূত্র থেকে অধিকতর সাহীহ। ঈলা হল চার মাস বা ততোধিক স্ত্রী গমন না করার কসম করা। এমতাবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে বিধান কি হবে? সে সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, এমতাবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে তাওয়াক-কূফ’ করা হবে। ইচ্ছা করলে সে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবে বা ইচ্ছা করতে তালাক দিতে পারবে। এ হলো মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, যদি চার মাস অতিবাহিত হয়ে যায় তবে এক তালাক বাইন আপতিত হবে। এ হলো সুফইয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
এই বিষয়ে আবূ মূসা ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। মাসলামা ইবনু আলকামা-দাঊদ সূত্রে বর্ণিত এই রিওয়ায়াতটি আলী ইবনু মুসহির প্রমূখ দাঊদ-শাবী সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। এই সনদে মাসরূক-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর উল্লেখ নাই। এটি মাসলামা ইবনু আলকামা (রহঃ) এর সূত্র থেকে অধিকতর সাহীহ। ঈলা হল চার মাস বা ততোধিক স্ত্রী গমন না করার কসম করা। এমতাবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে বিধান কি হবে? সে সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, এমতাবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে তাওয়াক-কূফ’ করা হবে। ইচ্ছা করলে সে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবে বা ইচ্ছা করতে তালাক দিতে পারবে। এ হলো মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, যদি চার মাস অতিবাহিত হয়ে যায় তবে এক তালাক বাইন আপতিত হবে। এ হলো সুফইয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
হাদিস নং: ১২০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا عبدة بن سليمان، عن عبد الملك بن ابي سليمان، عن سعيد بن جبير، قال سىلت عن المتلاعنين، في امارة مصعب بن الزبير ايفرق بينهما فما دريت ما اقول فقمت مكاني الى منزل عبد الله بن عمر استاذنت عليه فقيل لي انه قاىل . فسمع كلامي فقال ابن جبير ادخل ما جاء بك الا حاجة . قال فدخلت فاذا هو مفترش بردعة رحل له . فقلت يا ابا عبد الرحمن المتلاعنان ايفرق بينهما قال سبحان الله نعم ان اول من سال عن ذلك فلان بن فلان اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ارايت لو ان احدنا راى امراته على فاحشة كيف يصنع ان تكلم تكلم بامر عظيم وان سكت سكت على امر عظيم . قال فسكت النبي صلى الله عليه وسلم فلم يجبه فلما كان بعد ذلك اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان الذي سالتك عنه قد ابتليت به . فانزل الله هذه الايات التي في سورة النور : (والذين يرمون ازواجهم ولم يكن لهم شهداء الا انفسهم ) حتى ختم الايات فدعا الرجل فتلا الايات عليه ووعظه وذكره واخبره ان عذاب الدنيا اهون من عذاب الاخرة . فقال لا والذي بعثك بالحق ما كذبت عليها . ثم ثنى بالمراة فوعظها وذكرها واخبرها ان عذاب الدنيا اهون من عذاب الاخرة فقالت لا والذي بعثك بالحق ما صدق . قال فبدا بالرجل فشهد اربع شهادات بالله انه لمن الصادقين والخامسة ان لعنة الله عليه ان كان من الكاذبين . ثم ثنى بالمراة فشهدت اربع شهادات بالله انه لمن الكاذبين والخامسة ان غضب الله عليها ان كان من الصادقين . ثم فرق بينهما . قال وفي الباب عن سهل بن سعد وابن عباس وابن مسعود وحذيفة . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم .
১২০৫. হান্নাদ (রহঃ) ...... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুসআব ইবনু যুবায়র যখন (ইরাক অঞ্চলের) আমীর তখন আমাকে লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়ে কি বলব তা আমার জনা ছিল না। তাই আমি আমার ঘর থেকে উঠে আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বাড়িতে গেলাম এবং তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। আমাকে বলা হল যে, তিনি দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছেন। এই সময় তিনি (নিজে ভিতর থেকে) আমার কথা শুনে বললেন, ইবনু জুবায়র, ভিতরে এসো। কোন প্রয়োজন ছাড়া অন্য কিছু তোমাকে এখানে নিয়ে আসেনি। ইবনু জুবায়র বলেন, আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। (দেখলাম) তিনি উটের পিঠে ব্যবহৃত আসেনের একটি কাপড়ের টুকরায় শুয়ে আছেন। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান, লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীর একজনকে আরেকজন থেকে কি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ্, হ্যাঁ।
এই বিষয়ে অমুকের ছেলে অমুক সর্বপ্রথম জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, কি বলেন, কেউ যদি তার স্ত্রীকে অপকর্মে দেখতে পায় তবে সে কি করবে? যদি সে এই বিষয়ে কথা বলে তবুও ভীষণ এক বিষয়ে সে কথা বলল। আর চুপ থাকলেও তো সে মারাত্মক এক বিষয়ে চুপ রইল। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (এই কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা মচুপ করে রইলেন, তাকে কোন জবাব দিলেন না। এই ঘটনার পর ঐ সাহাবী আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। বললেন, যে বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম সে বিষয়ে আমিই নিপতিত। তখন আল্লাহ্ তা’আলা সূরা নূরের এই আয়াত নাযিল করেনঃوَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ - আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নাই ......আয়াতের শেষ পর্যন্ত। পঞ্চমবার বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লা’নত। আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী। এবং পঞ্চমবারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ অব্যাহতি পেতে না। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবূলকারী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা নূর ২৪ : ৬-১০]
অনন্তর তিনি ঐ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং আয়াতগুলো তাকে তিলাওয়াত করে শোনালেন, তাকে নছীহত করে বুঝালেন এবং জানালেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। সে বলল, না, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে মিথ্যা বলিনি। এরপর তিনি মহিলাটির দিকে ফিরলেন এবং তাকে নসীহত করলেন ও উপদেশ দিলেন। আর তাকে জানালেন, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। মহিলাটি বলল, না, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন। সে সত্য বলেনি। রাবী বলেন অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষটিকে দিয়ে শুরু করলেন। সে চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। পঞ্চমবারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লা’নত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাটির প্রতি ফিরলেন। মহিলাটিও চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, পুরুষটি মিথ্যা বলেছে। পঞ্চমবারে বলল, পুরুষটি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। - সহিহ আবু দাউদ ১৯৫৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সাহল ইবনু সা’দ, ইবনু আব্বাস, হুযায়ফা, ও ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সাহীহ।
এই বিষয়ে অমুকের ছেলে অমুক সর্বপ্রথম জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, কি বলেন, কেউ যদি তার স্ত্রীকে অপকর্মে দেখতে পায় তবে সে কি করবে? যদি সে এই বিষয়ে কথা বলে তবুও ভীষণ এক বিষয়ে সে কথা বলল। আর চুপ থাকলেও তো সে মারাত্মক এক বিষয়ে চুপ রইল। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (এই কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা মচুপ করে রইলেন, তাকে কোন জবাব দিলেন না। এই ঘটনার পর ঐ সাহাবী আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। বললেন, যে বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম সে বিষয়ে আমিই নিপতিত। তখন আল্লাহ্ তা’আলা সূরা নূরের এই আয়াত নাযিল করেনঃوَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ - আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নাই ......আয়াতের শেষ পর্যন্ত। পঞ্চমবার বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লা’নত। আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী। এবং পঞ্চমবারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ অব্যাহতি পেতে না। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবূলকারী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা নূর ২৪ : ৬-১০]
অনন্তর তিনি ঐ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং আয়াতগুলো তাকে তিলাওয়াত করে শোনালেন, তাকে নছীহত করে বুঝালেন এবং জানালেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। সে বলল, না, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে মিথ্যা বলিনি। এরপর তিনি মহিলাটির দিকে ফিরলেন এবং তাকে নসীহত করলেন ও উপদেশ দিলেন। আর তাকে জানালেন, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। মহিলাটি বলল, না, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন। সে সত্য বলেনি। রাবী বলেন অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষটিকে দিয়ে শুরু করলেন। সে চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। পঞ্চমবারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লা’নত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাটির প্রতি ফিরলেন। মহিলাটিও চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, পুরুষটি মিথ্যা বলেছে। পঞ্চমবারে বলল, পুরুষটি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। - সহিহ আবু দাউদ ১৯৫৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সাহল ইবনু সা’দ, ইবনু আব্বাস, হুযায়ফা, ও ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সাহীহ।
হাদিস নং: ১২০৬
সহিহ (Sahih)
انبانا قتيبة، انبانا مالك بن انس، عن نافع، عن ابن عمر، قال لاعن رجل امراته وفرق النبي صلى الله عليه وسلم بينهما والحق الولد بالام . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم .
১২০৬. কুতায়বা (রহঃ) ...... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে ’’লিআন’’ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং সন্তানটিকে মায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেন। - ইবনু মাজাহ ২০৬৯, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ।। এর উপরই আলিমগণের আমল রয়েছে।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ।। এর উপরই আলিমগণের আমল রয়েছে।
হাদিস নং: ১২০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا الانصاري، انبانا معن، انبانا مالك، عن سعد بن اسحاق بن كعب بن عجرة، عن عمته، زينب بنت كعب بن عجرة ان الفريعة بنت مالك بن سنان، وهي اخت ابي سعيد الخدري اخبرتها انها، جاءت رسول الله صلى الله عليه وسلم تساله ان ترجع الى اهلها في بني خدرة وان زوجها خرج في طلب اعبد له ابقوا حتى اذا كان بطرف القدوم لحقهم فقتلوه . قالت فسالت رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ارجع الى اهلي فان زوجي لم يترك لي مسكنا يملكه ولا نفقة . قالت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " نعم " . قالت فانصرفت حتى اذا كنت في الحجرة او في المسجد ناداني رسول الله صلى الله عليه وسلم او امر بي فنوديت له فقال " كيف قلت " . قالت فرددت عليه القصة التي ذكرت له من شان زوجي قال " امكثي في بيتك حتى يبلغ الكتاب اجله " . قالت فاعتددت فيه اربعة اشهر وعشرا . قالت فلما كان عثمان ارسل الى فسالني عن ذلك فاخبرته فاتبعه وقضى به .
انبانا محمد بن بشار، انبانا يحيى بن سعيد، انبانا سعد بن اسحاق بن كعب بن عجرة، فذكر نحوه بمعناه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا الحديث عند اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم لم يروا للمعتدة ان تنتقل من بيت زوجها حتى تنقضي عدتها . وهو قول سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم للمراة ان تعتد حيث شاءت وان لم تعتد في بيت زوجها . قال ابو عيسى والقول الاول اصح .
انبانا محمد بن بشار، انبانا يحيى بن سعيد، انبانا سعد بن اسحاق بن كعب بن عجرة، فذكر نحوه بمعناه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا الحديث عند اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم لم يروا للمعتدة ان تنتقل من بيت زوجها حتى تنقضي عدتها . وهو قول سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم للمراة ان تعتد حيث شاءت وان لم تعتد في بيت زوجها . قال ابو عيسى والقول الاول اصح .
১২০৭. আনসারী (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ভগ্নি ফুরায়’আ বিনত মালিক ইবনু সিনান রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বানূ খুদরায় তার স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ায়ার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন। তার স্বামী তার কতকগুলি পলাতক গোলামের খোঁজে বের হয়েছিলেন। তারাফুল কুদুম নামক স্থানে তাঁদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সেখানে তাঁরা তাকে মেরে ফেলে। ফুরায়’আ বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। কারণ, স্বামী আমার জন্য এমন কোন বাসস্থান রেখে যাননি, যা তার মালিকানায় ছিল এবং কোন খোরপোষের ব্যবস্থাও ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অনুমতি সূচক) হ্যাঁ বললেন। অনন্তর আমি ফিরে চললাম। আমি তখনও হুজরায়ই ছিলাম, অথবা মসজিদে ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন এবং (পুনরায়) বর্ণনা করার আদেশ করলেন। আমি আমার স্বামী সম্পর্কে যা বলেছিলাম সম্পূর্ণ ঘটনা আবার বললাম।
তিনি বললেন, ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার পূর্ব গৃহেই অবস্থান করবে। অনন্তর আমি সেখানেই চারমাস দশ দিন ইদ্দত পালন করি। পরে উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন খলীফা হলেন, তখন আমার নিকট লোক পাঠিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। অনন্তর তিনি এর অনুসরণ করেছেন এবং এতদনুসারেই ফায়সালা দিয়েছেন। - ইবনু মাজাহ ২০৩১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) সা’দ ইবনু ইসহাক ইবনু কা’ব ইবনু উজরা (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা ইদ্দত অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর ঘর থেকে ইদ্দত পালনকারিনী মহিলার চলে যাওয়ার অনুমতি দেন না। এ হলো ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর কিছু আলিম বলেন, ঐ মহিলা স্বামীর ঘর ছাড়াও যেখানে ইচ্ছা ইদ্দত পালন করতে পারবে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, প্রথমোক্ত মতটি অধিকতর সাহীহ।
তিনি বললেন, ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার পূর্ব গৃহেই অবস্থান করবে। অনন্তর আমি সেখানেই চারমাস দশ দিন ইদ্দত পালন করি। পরে উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন খলীফা হলেন, তখন আমার নিকট লোক পাঠিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। অনন্তর তিনি এর অনুসরণ করেছেন এবং এতদনুসারেই ফায়সালা দিয়েছেন। - ইবনু মাজাহ ২০৩১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) সা’দ ইবনু ইসহাক ইবনু কা’ব ইবনু উজরা (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা ইদ্দত অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর ঘর থেকে ইদ্দত পালনকারিনী মহিলার চলে যাওয়ার অনুমতি দেন না। এ হলো ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর কিছু আলিম বলেন, ঐ মহিলা স্বামীর ঘর ছাড়াও যেখানে ইচ্ছা ইদ্দত পালন করতে পারবে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, প্রথমোক্ত মতটি অধিকতর সাহীহ।