হাদিস নং: ৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، ومحمد بن المثنى، قالا حدثنا وهب بن جرير، حدثنا ابي، عن محمد بن اسحاق، عن ابان بن صالح، عن مجاهد، عن جابر بن عبد الله، قال نهى النبي صلى الله عليه وسلم ان نستقبل القبلة ببول فرايته قبل ان يقبض بعام يستقبلها . وفي الباب عن ابي قتادة وعاىشة وعمار بن ياسر . قال ابو عيسى حديث جابر في هذا الباب حديث حسن غريب .
وقد روى هذا الحديث ابن لهيعة، عن ابي الزبير، عن جابر، عن ابي قتادة، انه راى النبي صلى الله عليه وسلم يبول مستقبل القبلة . حدثنا بذلك قتيبة حدثنا ابن لهيعة . وحديث جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم اصح من حديث ابن لهيعة . وابن لهيعة ضعيف عند اهل الحديث ضعفه يحيى بن سعيد القطان وغيره من قبل حفظه .
وقد روى هذا الحديث ابن لهيعة، عن ابي الزبير، عن جابر، عن ابي قتادة، انه راى النبي صلى الله عليه وسلم يبول مستقبل القبلة . حدثنا بذلك قتيبة حدثنا ابن لهيعة . وحديث جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم اصح من حديث ابن لهيعة . وابن لهيعة ضعيف عند اهل الحديث ضعفه يحيى بن سعيد القطان وغيره من قبل حفظه .
৯. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবনু মুছন্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, পেশাবের সময় কিবলামুখী হয়ে বসতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছিলেন; কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের এক বছর পূর্বে তাঁকে আমি ঐ অবস্থায় কিবলামুখি হতে দেখেছি। - ইবনু মাজাহ ৩২৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ কাতাদা, আইশা, আম্মার (রাঃ) থেকেও হাদীছ বর্ণিত রয়েছে। ইমাম তিরমযযী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদীছটি হাসান গরীব অর্থাৎ উত্তম তবে অপ্রসিদ্ধ।
এই বিষয়ে আবূ কাতাদা, আইশা, আম্মার (রাঃ) থেকেও হাদীছ বর্ণিত রয়েছে। ইমাম তিরমযযী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদীছটি হাসান গরীব অর্থাৎ উত্তম তবে অপ্রসিদ্ধ।
হাদিস নং: ১০
যঈফ (Dai'f)
وقد روى هذا الحديث ابن لهيعة، عن ابي الزبير، عن جابر، عن ابي قتادة، انه راى النبي صلى الله عليه وسلم يبول مستقبل القبلة . حدثنا بذلك قتيبة حدثنا ابن لهيعة . وحديث جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اصح من حديث ابن لهيعة . وابن لهيعة ضعيف عند اهل الحديث ضعفه يحيى بن سعيد القطان وغيره من قبل حفظه .
১০. ইবনু লাহী’আ .... আবূ কাতাদা সূত্রে বর্ণনা করেন, আবূ কাতাদা বলেছেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিবলামুখী হয়ে পেশাব করতে দেখেছেন। ইবনু লাহীআর এই রিওয়ায়াতটির তুলনায় জাবির সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে রিওয়ায়াতটি (৯নং) করেছেন সেটি অধিকতর সহীহ। হাদীছবেত্তাগণের নিকট ইবনু লাহী’আ যঈফ বলে গণ্য। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান প্রমুখ ইবনু লাহী’আকে তাঁর স্মৃতি শক্তির দিক থেকে যঈফ বলে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا عبدة بن سليمان، عن عبيد الله بن عمر، عن محمد بن يحيى بن حبان، عن عمه، واسع بن حبان، عن ابن عمر، قال رقيت يوما على بيت حفصة فرايت النبي صلى الله عليه وسلم على حاجته مستقبل الشام مستدبر الكعبة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
১১. হান্নাদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি একদিন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরের ছাদে উঠেছিলাম। হঠাৎ দেখলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে পিছন দিয়ে এবং শামের দিকে মুখ করে তাঁর হাজত পূরণ (ইস্তিঞ্জাহ) করছেন। - ইবনু মাজাহ ৩২২, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীছটি হাসান সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীছটি হাসান সহীহ।
হাদিস নং: ১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا شريك، عن المقدام بن شريح، عن ابيه، عن عاىشة، قالت من حدثكم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يبول قاىما فلا تصدقوه ما كان يبول الا قاعدا . قال وفي الباب عن عمر وبريدة وعبد الرحمن بن حسنة . قال ابو عيسى حديث عاىشة احسن شيء في هذا الباب واصح . وحديث عمر انما روي من حديث عبد الكريم بن ابي المخارق عن نافع عن ابن عمر عن عمر قال راني النبي صلى الله عليه وسلم وانا ابول قاىما فقال " يا عمر لا تبل قاىما " . فما بلت قاىما بعد . قال ابو عيسى وانما رفع هذا الحديث عبد الكريم بن ابي المخارق وهو ضعيف عند اهل الحديث ضعفه ايوب السختياني وتكلم فيه . وروى عبيد الله عن نافع عن ابن عمر قال قال عمر رضى الله عنه ما بلت قاىما منذ اسلمت . وهذا اصح من حديث عبد الكريم وحديث بريدة في هذا غير محفوظ . ومعنى النهى عن البول قاىما على التاديب لا على التحريم . وقد روي عن عبد الله بن مسعود قال ان من الجفاء ان تبول وانت قاىم .
১২. আলী ইবনু হুজর ..... আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেনঃ কেউ যদি তোমাদের বলে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন তবে তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস করো না। তিনি বসা ছাড়া পেশাব করতেন না। - ইবনু মাজাহ ৩০৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমর, বুরায়দা ও আবদুর রহমান ইবনু হাসানহ (রাঃ) থেকে হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই বিষযে আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীছটই সর্বাপেক্ষা সহীহ এবং উত্তম। আবদুল করীম ...... উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করাতে দেখে বললেনঃ হে উমর! দাঁড়িয়ে পেশাব করো না। এরপর আমি আর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ হাদীছটি কেবলমাত্র রাবী আবদুল করীম-ই মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি হাদীছবেত্তাগণের নিকট যঈফ বলে গণ্য। আয়্যুব আর সাখতিয়ানী তাঁকে যইফ বলেছেন এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন ইসলাম গ্রহণের পর আমি কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করি নাই। আবদুল করীম বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে এই রিওয়ায়াতটি অধিক বিশুদ্ধ। এই বিষয়ে বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীছটি মাহফুজ (সংরক্ষেত) নয়। দঁড়িয়ে পেশাব করা হারাম বলে নয় বরং আদব ও শিষ্টাচারের দৃষ্টিকোন থেকে তা নিষেধ করা হয়েছে। ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ দাড়িয়ে পেশাব করা শিষ্টাচার বিরোধী।
এই বিষয়ে উমর, বুরায়দা ও আবদুর রহমান ইবনু হাসানহ (রাঃ) থেকে হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই বিষযে আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীছটই সর্বাপেক্ষা সহীহ এবং উত্তম। আবদুল করীম ...... উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করাতে দেখে বললেনঃ হে উমর! দাঁড়িয়ে পেশাব করো না। এরপর আমি আর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ হাদীছটি কেবলমাত্র রাবী আবদুল করীম-ই মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি হাদীছবেত্তাগণের নিকট যঈফ বলে গণ্য। আয়্যুব আর সাখতিয়ানী তাঁকে যইফ বলেছেন এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন ইসলাম গ্রহণের পর আমি কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করি নাই। আবদুল করীম বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে এই রিওয়ায়াতটি অধিক বিশুদ্ধ। এই বিষয়ে বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীছটি মাহফুজ (সংরক্ষেত) নয়। দঁড়িয়ে পেশাব করা হারাম বলে নয় বরং আদব ও শিষ্টাচারের দৃষ্টিকোন থেকে তা নিষেধ করা হয়েছে। ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ দাড়িয়ে পেশাব করা শিষ্টাচার বিরোধী।
হাদিস নং: ১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن الاعمش، عن ابي واىل، عن حذيفة، ان النبي صلى الله عليه وسلم اتى سباطة قوم فبال عليها قاىما فاتيته بوضوء فذهبت لاتاخر عنه فدعاني حتى كنت عند عقبيه فتوضا ومسح على خفيه .
قال ابو عيسى وسمعت الجارود يقول سمعت وكيعا يحدث بهذا الحديث عن الاعمش . ثم قال وكيع هذا اصح حديث روي عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم في المسح . وسمعت ابا عمار الحسين بن حريث يقول سمعت وكيعا فذكر نحوه . قال ابو عيسى وهكذا روى منصور وعبيدة الضبي عن ابي واىل عن حذيفة مثل رواية الاعمش . وروى حماد بن ابي سليمان وعاصم بن بهدلة عن ابي واىل عن المغيرة بن شعبة عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وحديث ابي واىل عن حذيفة اصح . .
قال ابو عيسى وسمعت الجارود يقول سمعت وكيعا يحدث بهذا الحديث عن الاعمش . ثم قال وكيع هذا اصح حديث روي عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم في المسح . وسمعت ابا عمار الحسين بن حريث يقول سمعت وكيعا فذكر نحوه . قال ابو عيسى وهكذا روى منصور وعبيدة الضبي عن ابي واىل عن حذيفة مثل رواية الاعمش . وروى حماد بن ابي سليمان وعاصم بن بهدلة عن ابي واىل عن المغيرة بن شعبة عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وحديث ابي واىل عن حذيفة اصح . .
১৩. হান্নাদ (রহঃ) ..... হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি আস্তাকুঁড়ের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে পেশাব করেছিলেন। আমি তাঁর উযূর পানি নিযে আসলাম। আমি সরে যেতে চাইলে তিনি আমাকে (ইশারায়) ডাকলেন। আমি তাঁর পিছনে এসে দাঁড়ালাম। তারপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং চামড়ার মোজায় মাসেহ (মাসেহ) করলেন। - ইবনু মাজাহ ৩০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ মানসূর এবং বায়দা আয-যাববী ও হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই ধরনের হাদীছ বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ ইবনু আবী সুলায়মান মূগীরা ইাবন শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই বিষয়ে আরেকটি হাদীছ রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ ওয়াইলেন বরাতে হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র রিওয়ায়াতটই অধিকতর শুদ্ধ।
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ মানসূর এবং বায়দা আয-যাববী ও হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই ধরনের হাদীছ বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ ইবনু আবী সুলায়মান মূগীরা ইাবন শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই বিষয়ে আরেকটি হাদীছ রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ ওয়াইলেন বরাতে হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র রিওয়ায়াতটই অধিকতর শুদ্ধ।
হাদিস নং: ১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا عبد السلام بن حرب الملاىي، عن الاعمش، عن انس، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اراد الحاجة لم يرفع ثوبه حتى يدنو من الارض . قال ابو عيسى هكذا روى محمد بن ربيعة عن الاعمش عن انس هذا الحديث . وروى وكيع وابو يحيى الحماني عن الاعمش قال قال ابن عمر كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اراد الحاجة لم يرفع ثوبه حتى يدنو من الارض . وكلا الحديثين مرسل . ويقال لم يسمع الاعمش من انس ولا من احد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وقد نظر الى انس بن مالك قال رايته يصلي . فذكر عنه حكاية في الصلاة . والاعمش اسمه سليمان بن مهران ابو محمد الكاهلي وهو مولى لهم . قال الاعمش كان ابي حميلا فورثه مسروق .
১৪. কুবায়বা (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, পেশাব-পায়খানার সময় ভূমির নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাপড় তুলতেন না। - আবু দাউদ ১১, সহিহাহ ১০৭১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু রাবী’আও আমাশু এর সনদে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণা করেছেন। ওয়াকী ও আবূ ইয়াহইয়া আল-হিম্মানী (রহঃ) ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে , পেশাব-পায়খানার সময় ভূমির নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় তুলতেন না।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উপরের দুটো হাদীছই মুরসাল। কারণ উভয় হাদীছই আ’মাশ এর সনদে বর্ণিত হয়েছে। আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বা অপর কোন সাহাবী থেকে আ’মাশ এর হাদীছ শোনার সুযোগ হয়নি। তবে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কে তিনি দেখেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আনাসকে সালাতরত অবস্থায় দেখেছি। অতঃপর তিনি আনস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সালাতের বিবরণ দেন। আ’মাশ এর পূর্ণ নাম সুলায়মান ইবনু মিহরান আবূ মুহাম্মাদ আল-কাহিলী। তিনি আল-কাহিল গোত্রের আযাদকৃত দাস ছিলেন। আ’মাশ বলেনঃ আমার পিতাকে শৈশবে দারূল হারব থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল পরবর্তীকালে ইমাম মাসরূক তাকে বৈধ উত্তরাধিকরী বলে রায় দিয়েছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু রাবী’আও আমাশু এর সনদে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণা করেছেন। ওয়াকী ও আবূ ইয়াহইয়া আল-হিম্মানী (রহঃ) ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে , পেশাব-পায়খানার সময় ভূমির নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় তুলতেন না।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উপরের দুটো হাদীছই মুরসাল। কারণ উভয় হাদীছই আ’মাশ এর সনদে বর্ণিত হয়েছে। আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বা অপর কোন সাহাবী থেকে আ’মাশ এর হাদীছ শোনার সুযোগ হয়নি। তবে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কে তিনি দেখেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আনাসকে সালাতরত অবস্থায় দেখেছি। অতঃপর তিনি আনস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সালাতের বিবরণ দেন। আ’মাশ এর পূর্ণ নাম সুলায়মান ইবনু মিহরান আবূ মুহাম্মাদ আল-কাহিলী। তিনি আল-কাহিল গোত্রের আযাদকৃত দাস ছিলেন। আ’মাশ বলেনঃ আমার পিতাকে শৈশবে দারূল হারব থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল পরবর্তীকালে ইমাম মাসরূক তাকে বৈধ উত্তরাধিকরী বলে রায় দিয়েছেন।
হাদিস নং: ১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن ابي عمر المكي، حدثنا سفيان بن عيينة، عن معمر، عن يحيى بن ابي كثير، عن عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى ان يمس الرجل ذكره بيمينه . وفي هذا الباب عن عاىشة وسلمان وابي هريرة وسهل بن حنيف . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو قتادة الانصاري اسمه الحارث بن ربعي . والعمل على هذا عند عامة اهل العلم كرهوا الاستنجاء باليمين .
১৫. মুহাম্মদ ইবনু আবী উমর মাক্কী (রহঃ) ..... আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৩১০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আইশা, সালমান, আবূ হুরায়রা এবং সাহল ইবনু হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ উক্ত হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। আবূ কাতাদার আসল নাম আল-হারিছ ইবনু রিবাঈ। ফকীহ ও আলিমগণ এই হাদীছ আনুসারে আমল করে থাকেন এবং তাঁরা ডান হাতে শৌচকর্ম করা মাকরুহ মনে করেন।
এই বিষয়ে আইশা, সালমান, আবূ হুরায়রা এবং সাহল ইবনু হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ উক্ত হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। আবূ কাতাদার আসল নাম আল-হারিছ ইবনু রিবাঈ। ফকীহ ও আলিমগণ এই হাদীছ আনুসারে আমল করে থাকেন এবং তাঁরা ডান হাতে শৌচকর্ম করা মাকরুহ মনে করেন।
হাদিস নং: ১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن عبد الرحمن بن يزيد، قال قيل لسلمان قد علمكم نبيكم صلى الله عليه وسلم كل شيء حتى الخراءة فقال سلمان اجل نهانا ان نستقبل القبلة بغاىط او بول وان نستنجي باليمين او ان يستنجي احدنا باقل من ثلاثة احجار او ان نستنجي برجيع او بعظم . قال ابو عيسى وفي الباب عن عاىشة وخزيمة بن ثابت وجابر وخلاد بن الساىب عن ابيه . قال ابو عيسى وحديث سلمان في هذا الباب حديث حسن صحيح . وهو قول اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم ومن بعدهم راوا ان الاستنجاء بالحجارة يجزى وان لم يستنج بالماء اذا انقى اثر الغاىط والبول وبه يقول الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق .
১৬. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলা হল, আপনাদের নবী আপনাদের সবকিছুই শিখান এমনকি দেখা যায় ইস্তিঞ্জায় কেমন করে বসতে হবে তাও শিখিয়ে থাকেন। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পেশাব-পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ করতে, ডান হাতে ইস্তিঞ্জা করতে, তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে এবং পশুর মল ও হাড্ডী দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৩১৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আইশা, খুযাইমা ইবনু ছাবিত, জাবির (রাঃ) এবং খাল্লাদ ইবনুুস সাইব থেকে তাঁর পিতার বরাতেও এই বিষয়ে হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীছটি উত্তম এবং বিশুদ্ধ। এ হচ্ছে অধিকাংশ সাহাবী ও তৎপরবর্তী যুগের আলিম ও ফকীহগণের অভিমত। পেশাব ও পায়খানার পর যদি ভালভাবে পরিস্কার হয়ে যায় তা হলে পানি ব্যবহারে না করে কেবল মাত্র ঢিলা ব্যবহার করা যথেষ্ট হবে বলে তাঁরা অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। ইমাম ছাওরী, ইবনু মুবারাক, ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমদ, ইমাম ইসহাক (রহঃ)-ও এ মত প্রকাশ করেছেন।
আইশা, খুযাইমা ইবনু ছাবিত, জাবির (রাঃ) এবং খাল্লাদ ইবনুুস সাইব থেকে তাঁর পিতার বরাতেও এই বিষয়ে হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীছটি উত্তম এবং বিশুদ্ধ। এ হচ্ছে অধিকাংশ সাহাবী ও তৎপরবর্তী যুগের আলিম ও ফকীহগণের অভিমত। পেশাব ও পায়খানার পর যদি ভালভাবে পরিস্কার হয়ে যায় তা হলে পানি ব্যবহারে না করে কেবল মাত্র ঢিলা ব্যবহার করা যথেষ্ট হবে বলে তাঁরা অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। ইমাম ছাওরী, ইবনু মুবারাক, ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমদ, ইমাম ইসহাক (রহঃ)-ও এ মত প্রকাশ করেছেন।
হাদিস নং: ১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، وقتيبة، قالا حدثنا وكيع، عن اسراىيل، عن ابي اسحاق، عن ابي عبيدة، عن عبد الله، قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم لحاجته فقال " التمس لي ثلاثة احجار " . قال فاتيته بحجرين وروثة فاخذ الحجرين والقى الروثة وقال " انها ركس " . قال ابو عيسى وهكذا روى قيس بن الربيع هذا الحديث عن ابي اسحاق عن ابي عبيدة عن عبد الله نحو حديث اسراىيل . وروى معمر وعمار بن رزيق عن ابي اسحاق عن علقمة عن عبد الله . وروى زهير عن ابي اسحاق عن عبد الرحمن بن الاسود عن ابيه الاسود بن يزيد عن عبد الله . وروى زكريا بن ابي زاىدة عن ابي اسحاق عن عبد الرحمن بن يزيد عن الاسود بن يزيد عن عبد الله . وهذا حديث فيه اضطراب . حدثنا محمد بن بشار العبدي حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة قال سالت ابا عبيدة بن عبد الله هل تذكر من عبد الله شيىا قال لا .
১৭. হান্নাদ ও কুতায়বা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ইস্তিঞ্জার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং বললেন, আমার জন্য তিনটি পাথর তালাশ করে নিয়ে আস। আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি দুটি পাথর ও এক টুকরা গোবর নিয়ে এলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর দুটি গ্রহণ করলেন এবং গোবর ফেলে দিলেন, বললেনঃ এটি নোংরা। - বুখারি ১৫৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ কায়স ইবনুুর রাবী ইসরাঈলের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মা’মার এবং আম্মার ইবনু যুরাইক ও আবূ ইসহাক - আলকামা - আবদুল্লাহ - এর সূত্রে আর যুহাইর আবূ ইসহাক - আবদুর রাহমান ইবনুল আসওয়াদ - আসওয়াদ ইাবন ইয়াযীদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে হাদীছাটি রিওয়ায়াত করেছেন। যাকরিয়া ইবনু আবী যাইদাও আবূ ইসহাক - আবদুর হরমান ইবনু উয়াযীদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এ হাদীছাটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছটির সনদ ইযতিরাব বিশিষ্ট। ইমাম আবূ ঈসা তিরমযী (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রাহমানকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আবূ ইসহাকের বরাতে করা বর্ণনাটি অধিকতর সহীহ? তিনি এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করেননি।
মুহাম্মাদ আল বুখারীকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনিও কোনরূপ সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেননি। তবে তাঁর আচরণে মনে হয় যে, তিনি যুহাইর-আবূ ইসহাক - আবদুর রাহমান ইবনুল আসওয়াদ-তাঁর পিতা আল-আসওয়াদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রটি অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করেন। তিনি এই সূত্রে বর্ণিত হাদীছটিকে তাঁর জামি’ সহীহ (বুখারী শরীফ)- তে স্থান দিয়েছেন। আমার মতে ইসরাঈল এবং কায়স-আবূ ইসহাক-আবূ উবাউদা আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রটি অধিক সহীহ। কেননা, আবূ ইসাহক থেকে হাদীছ বর্ণনার বিষয়ে এদের সবার চেয়ে ইসরাঈল অধিক নির্ভরযোগ্য এবং স্মৃতিধর। তদুপরি কায়স ইবনুুর রাবীও এই হাদীছটির বর্ণনায় ইসরাঈলের সহযোগী।
আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্নাকে বলতে শুনেছে যে, আবদুর রহমান ইবনু মাহদী বলেনঃ ইসরাঈলের উপর ভরসা করেই সুফইয়ান ছাওরীর সূত্রে আবূ ইসাহাকের বর্ণিত হাদীছসমূহ আমি স্মরণ করিনি। কেননা, ইসরাঈল ঐ হাদীছসমূহ যথাযথ এবং পুরাপুরি ভাবে বর্ণনা করে থাকেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ ইসহাক থেকে হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে যুহাইার তেমন বির্ভরযোগ্য নন। কেননা তিনি আবূ ইসহাকের শেষ বয়সে তাঁর হাদীছ শুনেছেন। আহমদ ইবনুল হাসান আত-তিরমিযীকে বলতে শুনেছি যে, আহমদ ইবনু হাম্বাল বলেন, যাইদা এবং যুহাইর থেকে কোন হাদীছ শুনতে পেলে অন্য কারো কাছ থেকে তা শুনলে কখনও এর পরওয়া করবে না। তবে আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত তাদের হাদীছের ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। আবূ সিহাকের নাম হল আমর ইবনু আবূদল্লাহ আশ-শাবীঈ আল-হামদানী।
আবূ উবাইদা ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীছ শুনেননি। তাঁর নাম তত প্রসিদ্ধ নয়। মুহাম্মাদ ইবান বাশশার এর সূত্রে আমর ইবনু মুররা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আবূ উবাইদা ইাবন আবদুল্লাহকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনি (আপনার পিতা) আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) থেকে কোন হাদীছ বর্ণনা স্মরণ রেখেছেন কি? তিনি উত্তরে বললেন না।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ কায়স ইবনুুর রাবী ইসরাঈলের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মা’মার এবং আম্মার ইবনু যুরাইক ও আবূ ইসহাক - আলকামা - আবদুল্লাহ - এর সূত্রে আর যুহাইর আবূ ইসহাক - আবদুর রাহমান ইবনুল আসওয়াদ - আসওয়াদ ইাবন ইয়াযীদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে হাদীছাটি রিওয়ায়াত করেছেন। যাকরিয়া ইবনু আবী যাইদাও আবূ ইসহাক - আবদুর হরমান ইবনু উয়াযীদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এ হাদীছাটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছটির সনদ ইযতিরাব বিশিষ্ট। ইমাম আবূ ঈসা তিরমযী (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রাহমানকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আবূ ইসহাকের বরাতে করা বর্ণনাটি অধিকতর সহীহ? তিনি এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করেননি।
মুহাম্মাদ আল বুখারীকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনিও কোনরূপ সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেননি। তবে তাঁর আচরণে মনে হয় যে, তিনি যুহাইর-আবূ ইসহাক - আবদুর রাহমান ইবনুল আসওয়াদ-তাঁর পিতা আল-আসওয়াদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রটি অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করেন। তিনি এই সূত্রে বর্ণিত হাদীছটিকে তাঁর জামি’ সহীহ (বুখারী শরীফ)- তে স্থান দিয়েছেন। আমার মতে ইসরাঈল এবং কায়স-আবূ ইসহাক-আবূ উবাউদা আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রটি অধিক সহীহ। কেননা, আবূ ইসাহক থেকে হাদীছ বর্ণনার বিষয়ে এদের সবার চেয়ে ইসরাঈল অধিক নির্ভরযোগ্য এবং স্মৃতিধর। তদুপরি কায়স ইবনুুর রাবীও এই হাদীছটির বর্ণনায় ইসরাঈলের সহযোগী।
আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্নাকে বলতে শুনেছে যে, আবদুর রহমান ইবনু মাহদী বলেনঃ ইসরাঈলের উপর ভরসা করেই সুফইয়ান ছাওরীর সূত্রে আবূ ইসাহাকের বর্ণিত হাদীছসমূহ আমি স্মরণ করিনি। কেননা, ইসরাঈল ঐ হাদীছসমূহ যথাযথ এবং পুরাপুরি ভাবে বর্ণনা করে থাকেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ ইসহাক থেকে হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে যুহাইার তেমন বির্ভরযোগ্য নন। কেননা তিনি আবূ ইসহাকের শেষ বয়সে তাঁর হাদীছ শুনেছেন। আহমদ ইবনুল হাসান আত-তিরমিযীকে বলতে শুনেছি যে, আহমদ ইবনু হাম্বাল বলেন, যাইদা এবং যুহাইর থেকে কোন হাদীছ শুনতে পেলে অন্য কারো কাছ থেকে তা শুনলে কখনও এর পরওয়া করবে না। তবে আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত তাদের হাদীছের ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। আবূ সিহাকের নাম হল আমর ইবনু আবূদল্লাহ আশ-শাবীঈ আল-হামদানী।
আবূ উবাইদা ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীছ শুনেননি। তাঁর নাম তত প্রসিদ্ধ নয়। মুহাম্মাদ ইবান বাশশার এর সূত্রে আমর ইবনু মুররা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আবূ উবাইদা ইাবন আবদুল্লাহকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনি (আপনার পিতা) আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) থেকে কোন হাদীছ বর্ণনা স্মরণ রেখেছেন কি? তিনি উত্তরে বললেন না।
হাদিস নং: ১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا حفص بن غياث، عن داود بن ابي هند، عن الشعبي، عن علقمة، عن عبد الله بن مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تستنجوا بالروث ولا بالعظام فانه زاد اخوانكم من الجن " . وفي الباب عن ابي هريرة وسلمان وجابر وابن عمر . قال ابو عيسى وقد روى هذا الحديث اسماعيل بن ابراهيم وغيره عن داود بن ابي هند عن الشعبي عن علقمة عن عبد الله انه كان مع النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم ليلة الجن - الحديث بطوله - فقال الشعبي ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا تستنجوا بالروث ولا بالعظام فانه زاد اخوانكم من الجن " . وكان رواية اسماعيل اصح من رواية حفص بن غياث . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم . وفي الباب عن جابر وابن عمر رضى الله عنهما .
১৮. হান্নাদ ..... তাঁর উস্তাদ হাফস ইবনু গিয়াছের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, তোমরা গোবর এবং হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করবে না। কারণ এগুলো তোমাদের ভাই জ্বীনদের খাবার। - আল ইরওয়া ৪৬, মিশকাত ৩৫০, যইফা ১০৩৮ এর অধীনে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, সলামান, জাবির এবং ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম এবং অপর কতিপয় রাবীও এই হাদীছটি দাঊদ ইবনু আবী হিনদ-শা’বী আলকামা-আবদুল্লাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে উল্লেখ আছে যে, লাইলাতুল জ্বীন বা জ্বীন সম্পর্কিত ঘটনার রাতে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। শা’বী বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তোমরা গোবর এবং হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করো না। কেননা, এ হলো তোমাদের ভাই জ্বীনদের খাবার। হাফস ইবনু গিয়াসের বর্ণনার তুলনায় ইসমাঈলের বর্ণনা অধিকতর শুদ্ধ। ফকীহ আলিমগণ এই হাদীছের বক্তব্য অনুসারে আমল করেন। জাবির ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও এ বিষয়ে হাদীছ বর্ণিত আছে।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, সলামান, জাবির এবং ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম এবং অপর কতিপয় রাবীও এই হাদীছটি দাঊদ ইবনু আবী হিনদ-শা’বী আলকামা-আবদুল্লাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে উল্লেখ আছে যে, লাইলাতুল জ্বীন বা জ্বীন সম্পর্কিত ঘটনার রাতে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। শা’বী বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তোমরা গোবর এবং হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করো না। কেননা, এ হলো তোমাদের ভাই জ্বীনদের খাবার। হাফস ইবনু গিয়াসের বর্ণনার তুলনায় ইসমাঈলের বর্ণনা অধিকতর শুদ্ধ। ফকীহ আলিমগণ এই হাদীছের বক্তব্য অনুসারে আমল করেন। জাবির ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও এ বিষয়ে হাদীছ বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، ومحمد بن عبد الملك بن ابي الشوارب البصري، قالا حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، عن معاذة، عن عاىشة، قالت مرن ازواجكن ان يستطيبوا، بالماء فاني استحييهم فان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يفعله " . وفي الباب عن جرير بن عبد الله البجلي وانس وابي هريرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وعليه العمل عند اهل العلم يختارون الاستنجاء بالماء وان كان الاستنجاء بالحجارة يجزى عندهم فانهم استحبوا الاستنجاء بالماء وراوه افضل . وبه يقول سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق .
১৯. কুতায়বা এবং মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল মালিক ইবনু আবিশ শাওয়ারিব (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা কারেন যে, তিনি বলেছে তোমরা তোমাদের স্বামীদের পানির সাহয্যে শৌচ ক্রিয়া সম্পাদন করতে নির্দেশ দিবে, আমি নিজে তাদের সে কথা বলতে লজ্জাবোধ করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এইরূপ করতেন। - ইরওয়া ৪২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জারীর ইবনু আবদিল্লাহ্ আল-বাজালী, আনাস এবং আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। ফকীহ আলিমগণ এই ধরনের আমল করেন। পাথর বা ঢিলার সাহায্য ইস্তিঞ্জা যথেষ্ট হলেও পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাকে তাঁরা পছন্দনীয় ও উত্তম বলে মত ব্যক্ত করেছেন। সুফইয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসাহাকও অনুরূপ মত পোষণ করেন।
এই বিষয়ে জারীর ইবনু আবদিল্লাহ্ আল-বাজালী, আনাস এবং আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। ফকীহ আলিমগণ এই ধরনের আমল করেন। পাথর বা ঢিলার সাহায্য ইস্তিঞ্জা যথেষ্ট হলেও পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাকে তাঁরা পছন্দনীয় ও উত্তম বলে মত ব্যক্ত করেছেন। সুফইয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসাহাকও অনুরূপ মত পোষণ করেন।
হাদিস নং: ২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن المغيرة بن شعبة، قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم في سفر فاتى النبي صلى الله عليه وسلم حاجته فابعد في المذهب . قال وفي الباب عن عبد الرحمن بن ابي قراد وابي قتادة وجابر ويحيى بن عبيد عن ابيه وابي موسى وابن عباس وبلال بن الحارث . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ويروى عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم انه كان يرتاد لبوله مكانا كما يرتاد منزلا . وابو سلمة اسمه عبد الله بن عبد الرحمن بن عوف الزهري .
২০. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, মুগীরা বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমি এক সফরে ছিলাম। তিনি তাঁর ইস্তিঞ্জার প্রয়োজনে অনেক দূর চলে গেলেন। - ইবনু মাজাহ ৩৩০১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুর রহমান ইবন আবী কুরাদ, আবূ কাতাদা, জাবির, উবায়দ, আবূ মূসা, ইবনু আব্বাস ও বিলাল ইবনুল হারিছ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি অবস্থানের জন্য যেমন পছন্দসই জায়গা তালাশ করে নিতেন তেমনি পেশাবের জন্যও নরম স্থান তালাশ করে নিতেন। আবূ সালমার পূর্ণ নাম হল, আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রাহামান ইবনু আওফ আয-যুহরী।
এই বিষয়ে আবদুর রহমান ইবন আবী কুরাদ, আবূ কাতাদা, জাবির, উবায়দ, আবূ মূসা, ইবনু আব্বাস ও বিলাল ইবনুল হারিছ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি অবস্থানের জন্য যেমন পছন্দসই জায়গা তালাশ করে নিতেন তেমনি পেশাবের জন্যও নরম স্থান তালাশ করে নিতেন। আবূ সালমার পূর্ণ নাম হল, আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রাহামান ইবনু আওফ আয-যুহরী।
হাদিস নং: ২১
সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حدثنا علي بن حجر، واحمد بن محمد بن موسى، مردويه قالا اخبرنا عبد الله بن المبارك، عن معمر، عن اشعث بن عبد الله، عن الحسن، عن عبد الله بن مغفل، ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى ان يبول الرجل في مستحمه . وقال " ان عامة الوسواس منه " . قال وفي الباب عن رجل من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا الا من حديث اشعث بن عبد الله ويقال له اشعث الاعمى . وقد كره قوم من اهل العلم البول في المغتسل وقالوا عامة الوسواس منه . ورخص فيه بعض اهل العلم منهم ابن سيرين وقيل له انه يقال ان عامة الوسواس منه فقال ربنا الله لا شريك له . وقال ابن المبارك قد وسع في البول في المغتسل اذا جرى فيه الماء . قال ابو عيسى حدثنا بذلك احمد بن عبدة الاملي عن حبان عن عبد الله بن المبارك .
২১. আলী ইবনু হুজর ও আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মূসা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলখানায় পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণতঃ এ থেকেই ওয়াসওয়ার সৃষ্টি হয়ে থাকে। - প্রথম অংশ সহিহ দ্বিতীয় অংশ যইফ। ইবনু মাজাহ ৩০৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে অপর এক সাহাবী থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি গরীব। আশ’আছ ইবনু আবদিল্লাহর সূত্র ব্যতীত মারফূ’ হিসাবে এটি রিওয়ায়াত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। আশ্’আছ ইবনু আবদুল্লাহকে আশআছ আল-আ’মা বলেও অভিহিত করা হয়। আলিমগণের এক দল গোসলখানায় পেশাব করা অপছন্দ করেছেন। তাদের মতে সাধারণত এ থেকেই ওয়াস-ওয়াসার সৃষ্টি হয়। কোন কোন আলিম ফকীহ অবশ্য এই ব্যপারে অনুমতি দিয়েছেন। এদের মধ্যে ইবনু সীরীন (রহঃ) অন্যতম। তাঁকে বলা হয়েছিল যে, সাধারণতঃ এ থেকেই ওয়াসওয়াসার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তিনি বললেন, আল্লাহই আমাদের রব। তাঁর সাথে আমরা কাউকে শরীক করি না। ইবনুল মুবারক বলেন, পানি যদি স্থির না থেকে বেয়ে সরে যায় তবে সেইরূপ গোসলখানায় পেশাব করাতে ক্ষতি নেই। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, আহমদ ইবনু আবদাতা আল-আমুলী স্বীয় সনদে ইবনুল মুবারক থেকে উক্ত কথাটি বর্ণনা করেছেন।
এই বিষয়ে অপর এক সাহাবী থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি গরীব। আশ’আছ ইবনু আবদিল্লাহর সূত্র ব্যতীত মারফূ’ হিসাবে এটি রিওয়ায়াত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। আশ্’আছ ইবনু আবদুল্লাহকে আশআছ আল-আ’মা বলেও অভিহিত করা হয়। আলিমগণের এক দল গোসলখানায় পেশাব করা অপছন্দ করেছেন। তাদের মতে সাধারণত এ থেকেই ওয়াস-ওয়াসার সৃষ্টি হয়। কোন কোন আলিম ফকীহ অবশ্য এই ব্যপারে অনুমতি দিয়েছেন। এদের মধ্যে ইবনু সীরীন (রহঃ) অন্যতম। তাঁকে বলা হয়েছিল যে, সাধারণতঃ এ থেকেই ওয়াসওয়াসার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তিনি বললেন, আল্লাহই আমাদের রব। তাঁর সাথে আমরা কাউকে শরীক করি না। ইবনুল মুবারক বলেন, পানি যদি স্থির না থেকে বেয়ে সরে যায় তবে সেইরূপ গোসলখানায় পেশাব করাতে ক্ষতি নেই। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, আহমদ ইবনু আবদাতা আল-আমুলী স্বীয় সনদে ইবনুল মুবারক থেকে উক্ত কথাটি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، حدثنا عبدة بن سليمان، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لولا ان اشق على امتي لامرتهم بالسواك عند كل صلاة " . قال ابو عيسى وقد روى هذا الحديث محمد بن اسحاق عن محمد بن ابراهيم عن ابي سلمة عن زيد بن خالد عن النبي صلى الله عليه وسلم . وحديث ابي سلمة عن ابي هريرة وزيد بن خالد عن النبي صلى الله عليه وسلم كلاهما عندي صحيح لانه قد روي من غير وجه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم هذا الحديث . وحديث ابي هريرة انما صح لانه قد روي من غير وجه . واما محمد بن اسماعيل فزعم ان حديث ابي سلمة عن زيد بن خالد اصح . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي بكر الصديق وعلي وعاىشة وابن عباس وحذيفة وزيد بن خالد وانس وعبد الله بن عمرو وابن عمر وام حبيبة وابي امامة وابي ايوب وتمام بن عباس وعبد الله بن حنظلة وام سلمة وواثلة بن الاسقع وابي موسى .
২২. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে এই অশংকা যদি না হত তা হলে আমি প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করতে তাদের নির্দেশ দিতাম। - ইবনু মাজাহ ২৮৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) আবূ সালমার সূত্রে যায়দ ইবনু খালিদ থেকে এই হাদীছটি বর্ণিত হয়েছ। আবূ সালামার সূত্রে আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উভয় হাদীছই আমার জানা মতে সহীহ। কেননা, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদীছটি আরো বহু সূত্রে বর্ণিত রয়েছে। তবে মুহাম্মাদ (রহঃ) আবূ সালামার সূত্রে যায়দ ইবনু খালিদ বর্ণিত হাদীছটি অধিকতর সহীহ বলে ধারণা পোষণ করেন। এই বিষয়ে আবূ বকর সিদ্দীক, আলী, আয়িশা, ইবনু আব্বাস, হুযায়ফা, যায়দ ইবনু খালিদ, আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু উমর, উম্মু হবীবা, আবূ উমামা, আবূ আইয়্যূব, তাম্মাম ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু হানযালা, উম্মু সালমা, ওয়াছিলা ইবনুল আসকা এবং আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) আবূ সালমার সূত্রে যায়দ ইবনু খালিদ থেকে এই হাদীছটি বর্ণিত হয়েছ। আবূ সালামার সূত্রে আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উভয় হাদীছই আমার জানা মতে সহীহ। কেননা, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদীছটি আরো বহু সূত্রে বর্ণিত রয়েছে। তবে মুহাম্মাদ (রহঃ) আবূ সালামার সূত্রে যায়দ ইবনু খালিদ বর্ণিত হাদীছটি অধিকতর সহীহ বলে ধারণা পোষণ করেন। এই বিষয়ে আবূ বকর সিদ্দীক, আলী, আয়িশা, ইবনু আব্বাস, হুযায়ফা, যায়দ ইবনু খালিদ, আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু উমর, উম্মু হবীবা, আবূ উমামা, আবূ আইয়্যূব, তাম্মাম ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু হানযালা, উম্মু সালমা, ওয়াছিলা ইবনুল আসকা এবং আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا عبدة بن سليمان، عن محمد بن اسحاق، عن محمد بن ابراهيم، عن ابي سلمة، عن زيد بن خالد الجهني، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لولا ان اشق على امتي لامرتهم بالسواك عند كل صلاة ولاخرت صلاة العشاء الى ثلث الليل " . قال فكان زيد بن خالد يشهد الصلوات في المسجد وسواكه على اذنه موضع القلم من اذن الكاتب لا يقوم الى الصلاة الا استن ثم رده الى موضعه " .
২৩. হান্নাদ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে এই আশংকা যদি না হত তাহলে প্রতি সালাতের সময় তাদের আমি মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম আর রাত্রের এক তৃতীয়াংশ সময় পর্যন্ত ইশার সালাত পিছিয়ে নিতাম। রাবী বলেন, লিপিকার তার কলম কানের যে স্থানে গুঁজে রাখে তেমনি যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কানে মিসওয়াক গুঁজে রেখে সালাতের জন্য মসজিদে হাযির হতেন। সালাতে দাঁড়ানোর সময় তিনি মিসওয়াক করে নিতেন এবং পুনরায় তা স্ব-স্থানে রেখে দিতেন। - সহিহ আবু দাউদ ৩৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ।
হাদিস নং: ২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، احمد بن بكار الدمشقي - يقال هو من ولد بسر بن ارطاة صاحب النبي صلى الله عليه وسلم حدثنا الوليد بن مسلم عن الاوزاعي عن الزهري عن سعيد بن المسيب وابي سلمة عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا استيقظ احدكم من الليل فلا يدخل يده في الاناء حتى يفرغ عليها مرتين او ثلاثا فانه لا يدري اين باتت يده " . وفي الباب عن ابن عمر وجابر وعاىشة . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح . قال الشافعي واحب لكل من استيقظ من النوم قاىلة كانت او غيرها ان لا يدخل يده في وضوىه حتى يغسلها فان ادخل يده قبل ان يغسلها كرهت ذلك له ولم يفسد ذلك الماء اذا لم يكن على يده نجاسة . وقال احمد بن حنبل اذا استيقظ من النوم من الليل فادخل يده في وضوىه قبل ان يغسلها فاعجب الى ان يهريق الماء . وقال اسحاق اذا استيقظ من النوم بالليل او بالنهار فلا يدخل يده في وضوىه حتى يغسلها .
২৪. আবূল ওয়ালীদ আহমদ ইবনু বাক্কার আদ্-দিমাশকী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন তোমাদের কেউ যদি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে তবে সে হাতে দুই বা তিন বার পানি না ঢেলে তা পাত্রে ঢুকাবে না। কারণ, সে জানেনা তার হাত কোন কোন স্থানে রাত কাটিয়েছে। - ইবনু মাজাহ ৩৯৩, বুখারি ও মুসলিম, বুখারিতে সংখ্যার উল্লেখ নেই, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমর, জাবির ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতেও হাদীছ বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি হাসান ও সহীহ। ইমাম শাফিঈ বলেন, আমি ভাল মনে করি, দিনে হোক বা রাতে হোক ঘুম থেকে জেগে উঠে কেউ যেন হাত না ধুয়ে তা উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পাত্রে প্রবেশ না করায়। অধৌত হাত পাত্রে প্রবেশ করানো আমি মাকরূহ মনে করি। কিন্তু হাতে কোন নাপাকী না থাকলে তাতে পানি ফাসিদ বা বিনষ্ট হবে না। ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বাল বলেন, যদি রাতে কেউ জাগরিত হয় আর সে হাত না ধুযে তা উযূর পানি রাখা পাত্রে ঢুকিয়ে দেয় তবে সে পানি ফেলে দেওয়াই আমার নিকট উত্তম। ইসহাক (রহঃ) বলেন, রাতে বা দিনে যে কোন সময় ঘুম থেকে জাগরিত হলে হাত না ধুয়ে তা উযূর বরতনে ঢুকাবে না।
এই বিষয়ে ইবনু উমর, জাবির ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতেও হাদীছ বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি হাসান ও সহীহ। ইমাম শাফিঈ বলেন, আমি ভাল মনে করি, দিনে হোক বা রাতে হোক ঘুম থেকে জেগে উঠে কেউ যেন হাত না ধুয়ে তা উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পাত্রে প্রবেশ না করায়। অধৌত হাত পাত্রে প্রবেশ করানো আমি মাকরূহ মনে করি। কিন্তু হাতে কোন নাপাকী না থাকলে তাতে পানি ফাসিদ বা বিনষ্ট হবে না। ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বাল বলেন, যদি রাতে কেউ জাগরিত হয় আর সে হাত না ধুযে তা উযূর পানি রাখা পাত্রে ঢুকিয়ে দেয় তবে সে পানি ফেলে দেওয়াই আমার নিকট উত্তম। ইসহাক (রহঃ) বলেন, রাতে বা দিনে যে কোন সময় ঘুম থেকে জাগরিত হলে হাত না ধুয়ে তা উযূর বরতনে ঢুকাবে না।
হাদিস নং: ২৫
হাসান (Hasan)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، وبشر بن معاذ العقدي، قالا حدثنا بشر بن المفضل، عن عبد الرحمن بن حرملة، عن ابي ثفال المري، عن رباح بن عبد الرحمن بن ابي سفيان بن حويطب، عن جدته، عن ابيها، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه " . قال وفي الباب عن عاىشة وابي سعيد وابي هريرة وسهل بن سعد وانس . قال ابو عيسى قال احمد بن حنبل لا اعلم في هذا الباب حديثا له اسناد جيد . وقال اسحاق ان ترك التسمية عامدا اعاد الوضوء وان كان ناسيا او متاولا اجزاه . قال محمد بن اسماعيل احسن شيء في هذا الباب حديث رباح بن عبد الرحمن . قال ابو عيسى ورباح بن عبد الرحمن عن جدته عن ابيها . وابوها سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل . وابو ثفال المري اسمه ثمامة بن حصين . ورباح بن عبد الرحمن هو ابو بكر بن حويطب . منهم من روى هذا الحديث فقال عن ابي بكر بن حويطب فنسبه الى جده .
২৫. নাসর ইবনু আলী ও বিশর ইবনু মু’আয আল-আকাদী (রহঃ) ..... রাবাহ ইবন আবদির রাহমান ইবনু আবী সুফইয়ান ইবনু হুওয়ায়তিব (রহঃ) তাঁর পিতামহী থেকে বর্ণনা করেন। আমার পিতা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিবে না, তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হবে না। - ইবনু মাজাহ ৩৯৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, আবূ হুরায়রা, আবূ সঈদ খুদরী, সাহল ইবনু সা’দ ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, ইমাম আহমদ বলেছেন, এই বিষয়ে এমন কোন হাদিস আমার জানা নেই যে হাদিসটির সনদ জায়্যিদ বা উত্তম বলা যেতে পারে। ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, ইচ্ছাপূর্বক ’’বিসমিল্লাহ’’ বলা পরিত্যাগ করলে পুনরায় উযূ করতে হবে। ভুলক্রমে কিংবা ভিন্ন কোন ব্যাখ্যার আলোকে বিসমিল্লাহ পরিত্যাগ করলে পুনরায় উযূর দরকার হবে না। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে রাবাহ ইবনু আবদির রাহমান বর্ণিত হাদিসটই অধিক উত্তম।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন রাবাহ ইবনু আবদির রাহমানের পিতামহীর পিতা হলেন সাঈদ ইবনু যায়দ ইবনু আমর ইবনু নুফায়ল। রাবী আবূ ছিকাল আল-মুররীর নাম হল ছুমামা ইবনু হুসায়ন। রাবাহ ইবনু আবদির রাহমানই হচ্ছেন আবূ বকর ইবনু হুওয়ায়তিব। রাবীদের কেউ কেউ এই হদীছের বর্ণনায় পিতাম হুয়ায়াতিবের প্রতি সম্পর্কিত করে আবূ বকর ইবনু হুওয়ায়াতির রূপে তাঁকে উল্লেখ করেছেন।
এই বিষয়ে আয়িশা, আবূ হুরায়রা, আবূ সঈদ খুদরী, সাহল ইবনু সা’দ ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, ইমাম আহমদ বলেছেন, এই বিষয়ে এমন কোন হাদিস আমার জানা নেই যে হাদিসটির সনদ জায়্যিদ বা উত্তম বলা যেতে পারে। ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, ইচ্ছাপূর্বক ’’বিসমিল্লাহ’’ বলা পরিত্যাগ করলে পুনরায় উযূ করতে হবে। ভুলক্রমে কিংবা ভিন্ন কোন ব্যাখ্যার আলোকে বিসমিল্লাহ পরিত্যাগ করলে পুনরায় উযূর দরকার হবে না। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে রাবাহ ইবনু আবদির রাহমান বর্ণিত হাদিসটই অধিক উত্তম।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন রাবাহ ইবনু আবদির রাহমানের পিতামহীর পিতা হলেন সাঈদ ইবনু যায়দ ইবনু আমর ইবনু নুফায়ল। রাবী আবূ ছিকাল আল-মুররীর নাম হল ছুমামা ইবনু হুসায়ন। রাবাহ ইবনু আবদির রাহমানই হচ্ছেন আবূ বকর ইবনু হুওয়ায়তিব। রাবীদের কেউ কেউ এই হদীছের বর্ণনায় পিতাম হুয়ায়াতিবের প্রতি সম্পর্কিত করে আবূ বকর ইবনু হুওয়ায়াতির রূপে তাঁকে উল্লেখ করেছেন।
হাদিস নং: ২৬
হাসান (Hasan)
حدثنا الحسن بن علي الحلواني، حدثنا يزيد بن هارون، عن يزيد بن عياض، عن ابي ثفال المري، عن رباح بن عبد الرحمن بن ابي سفيان بن حويطب، عن جدته بنت سعيد بن زيد، عن ابيها، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله .
২৬. হাসান ইবনু আলী আল-হুলওয়ানী (রহঃ) ...... সাঈদ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনূরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا حماد بن زيد، وجرير، عن منصور، عن هلال بن يساف، عن سلمة بن قيس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا توضات فانتثر واذا استجمرت فاوتر " . قال وفي الباب عن عثمان ولقيط بن صبرة وابن عباس والمقدام بن معديكرب وواىل بن حجر وابي هريرة . قال ابو عيسى حديث سلمة بن قيس حديث حسن صحيح . واختلف اهل العلم فيمن ترك المضمضة والاستنشاق فقالت طاىفة منهم اذا تركهما في الوضوء حتى صلى اعاد الصلاة وراوا ذلك في الوضوء والجنابة سواء . وبه يقول ابن ابي ليلى وعبد الله بن المبارك واحمد واسحاق . وقال احمد الاستنشاق اوكد من المضمضة . قال ابو عيسى وقالت طاىفة من اهل العلم يعيد في الجنابة ولا يعيد في الوضوء وهو قول سفيان الثوري وبعض اهل الكوفة . وقالت طاىفة لا يعيد في الوضوء ولا في الجنابة لانهما سنة من النبي صلى الله عليه وسلم فلا تجب الاعادة على من تركهما في الوضوء ولا في الجنابة . وهو قول مالك والشافعي في اخرة .
২৭. কুতায়বা (রহঃ) ..... সালমা ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে তখন নাকে পানি ঢেলে তা ঝেড়ে ফেলবে। আর কুলুখ ব্যবহার করলে তা বেজোড় সংখ্যায় করবে। - ইবনু মাজাহ ৪০৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ’উছমান, লাকীত ইবনু সাবিরা, ইবনু ’আব্বাস, মিকদাম ইবনু মা’দী কারিব, ওয়াইল ইবনু হুজর ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, সালমা ইবনু কায়স বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। নাকে পানি দেওয়া ও কুলি করা ছেড়ে দিলে তার বিধান সম্পর্কে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের একদল বলেন , কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ছেড়ে দিয়ে কেউ যদি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) দিয়ে সালাত আদায় করে তবে তাকে সালাত পূনরায় আদায় করতে হবে। উযূ ও ফরয গোসল উভয়ক্ষেত্রে বিধান একই। ইবনু আবী লায়লা, ’আবদুল্লাহ ইবনু ইবনু মুবারক, আহমদ, ইসহাক এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম আহমদ বলেন, কুলি করা অপেক্ষা নাকি পানি দেয়ার বিষয়টি অধিকতর তাকীদপূর্ণ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, ’আলিমদের অপর একদল বলেন, এমতাস্থায় ফরয গোসল পুনারায় করতে হবে; উযূ পুনারায় করতে হবে না। সুফইয়ান ছাওরী এবং কূফাবাসী আলিমগণের কারো মত অনুরূপ। অপর একদল ’আলিম বলেন উযূ ও ফরয গোসল কোনটাই পুনরায় করতে হবে না। এ হল ইমাম মালিক ও শাফি’ঈ এর অভিমত।
এই বিষয়ে ’উছমান, লাকীত ইবনু সাবিরা, ইবনু ’আব্বাস, মিকদাম ইবনু মা’দী কারিব, ওয়াইল ইবনু হুজর ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, সালমা ইবনু কায়স বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। নাকে পানি দেওয়া ও কুলি করা ছেড়ে দিলে তার বিধান সম্পর্কে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের একদল বলেন , কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ছেড়ে দিয়ে কেউ যদি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) দিয়ে সালাত আদায় করে তবে তাকে সালাত পূনরায় আদায় করতে হবে। উযূ ও ফরয গোসল উভয়ক্ষেত্রে বিধান একই। ইবনু আবী লায়লা, ’আবদুল্লাহ ইবনু ইবনু মুবারক, আহমদ, ইসহাক এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম আহমদ বলেন, কুলি করা অপেক্ষা নাকি পানি দেয়ার বিষয়টি অধিকতর তাকীদপূর্ণ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, ’আলিমদের অপর একদল বলেন, এমতাস্থায় ফরয গোসল পুনারায় করতে হবে; উযূ পুনারায় করতে হবে না। সুফইয়ান ছাওরী এবং কূফাবাসী আলিমগণের কারো মত অনুরূপ। অপর একদল ’আলিম বলেন উযূ ও ফরয গোসল কোনটাই পুনরায় করতে হবে না। এ হল ইমাম মালিক ও শাফি’ঈ এর অভিমত।
হাদিস নং: ২৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا ابراهيم بن موسى الرازي، حدثنا خالد بن عبد الله، عن عمرو بن يحيى، عن ابيه، عن عبد الله بن زيد، قال رايت النبي صلى الله عليه وسلم مضمض واستنشق من كف واحد فعل ذلك ثلاثا . قال ابو عيسى وفي الباب عن عبد الله بن عباس . قال ابو عيسى وحديث عبد الله بن زيد حسن غريب . وقد روى مالك وابن عيينة وغير واحد هذا الحديث عن عمرو بن يحيى ولم يذكروا هذا الحرف ان النبي صلى الله عليه وسلم مضمض واستنشق من كف واحد . وانما ذكره خالد بن عبد الله . وخالد بن عبد الله ثقة حافظ عند اهل الحديث . وقال بعض اهل العلم المضمضة والاستنشاق من كف واحد يجزى وقال بعضهم تفريقهما احب الينا . وقال الشافعي ان جمعهما في كف واحد فهو جاىز وان فرقهما فهو احب الينا .
২৮. ইয়াহ্য়া ইবনু মূসা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু যায়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একই কোষে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কুলি করতে ও নাকে পানি দিতে দেখেছি। তিনি এরূপ তিনাবর করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১১০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ’আবূ আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান গরীব। ’আমর ইবনুু ইয়াহইয়ার সূত্রে মালিক ও ইবনু ’উয়ায়না এবং আরো একাধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু ’’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কোষে কুলি করেছেন ও নাকে পানি দিয়েছেন’’ বাক্যটি তারা উল্লেখ করেননি। কেবলমাত্র খালিদ ইবনু আবদিল্লাহ্ এটির উল্লেখ করেছেন। মুহাদ্দিছগণের নিকট খালিদ নির্ভরযোগ্য ও হাফিজুল হাদিস হিসাবে স্বীকৃত। ’আলিমগণের কেউ কেউ বলেনঃ একই কোষে কুলি করলে ও নাকে পানি দিলে তা যথেষ্ট বলে গণ্য হবে। অপর এক দল বলেনঃ আমাদের নিকট পৃথক পৃথক কোষে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয় অধিক পছন্দনীয়। ইমাম শাফিঈ বলেনঃ একই কোষে তা করা জায়েয হবে বটে; কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে করাই আমার নিকট উত্তম।
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ’আবূ আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান গরীব। ’আমর ইবনুু ইয়াহইয়ার সূত্রে মালিক ও ইবনু ’উয়ায়না এবং আরো একাধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু ’’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কোষে কুলি করেছেন ও নাকে পানি দিয়েছেন’’ বাক্যটি তারা উল্লেখ করেননি। কেবলমাত্র খালিদ ইবনু আবদিল্লাহ্ এটির উল্লেখ করেছেন। মুহাদ্দিছগণের নিকট খালিদ নির্ভরযোগ্য ও হাফিজুল হাদিস হিসাবে স্বীকৃত। ’আলিমগণের কেউ কেউ বলেনঃ একই কোষে কুলি করলে ও নাকে পানি দিলে তা যথেষ্ট বলে গণ্য হবে। অপর এক দল বলেনঃ আমাদের নিকট পৃথক পৃথক কোষে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয় অধিক পছন্দনীয়। ইমাম শাফিঈ বলেনঃ একই কোষে তা করা জায়েয হবে বটে; কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে করাই আমার নিকট উত্তম।