হাদিস নং: ৭৮৭
যঈফ (Dai'f)
حدثنا بشر بن معاذ العقدي البصري، حدثنا ايوب بن واقد الكوفي، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من نزل على قوم فلا يصومن تطوعا الا باذنهم " . قال ابو عيسى هذا حديث منكر لا نعرف احدا من الثقات روى هذا الحديث عن هشام بن عروة . وقد روى موسى بن داود عن ابي بكر المديني عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوا من هذا . قال ابو عيسى وهذا حديث ضعيف ايضا . وابو بكر ضعيف عند اهل الحديث وابو بكر المدني الذي روى عن جابر بن عبد الله اسمه الفضل بن مبشر وهو اوثق من هذا واقدم .
৭৮৭. বিশর ইবনু মুআয আকদী বাসরী (রহঃ) ..... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কোন কাওমের মেহমান হয়, তবে সে যেন তাদের অনুমতি ব্যতিরেকে (নফল) সিয়াম পালন না করে। - ইবনু মাজাহ ১৭৬৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি মুনকার। হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) থেকে এই হাদীসটি রিওয়ায়াত কোন নির্ভরযোগ্য রাবী বলেছেন বলে আমরা জানিনা। মূসা ইবনু দাঊদ আবূ বকর মাদানী হিশাম ইবনু উরওয়া তৎপিতা উরওয়া আয়িশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরুপ এক রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। এই রেওয়ায়াতটিও যঈফ। আবূ বকরের হাদীসটি বিশেষজ্ঞদের কাছে দুর্বল। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে আবূ বকর আল-মাদানী উপনামের যে রাবী হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন তাঁর নাম হল আল-ফাযল ইবনু মুবাশশির। তিনি এই আবূ বকর আল-মাদানী থেকে অধিক নির্ভরযোগ্য ও অগ্রগণ্য।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি মুনকার। হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) থেকে এই হাদীসটি রিওয়ায়াত কোন নির্ভরযোগ্য রাবী বলেছেন বলে আমরা জানিনা। মূসা ইবনু দাঊদ আবূ বকর মাদানী হিশাম ইবনু উরওয়া তৎপিতা উরওয়া আয়িশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরুপ এক রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। এই রেওয়ায়াতটিও যঈফ। আবূ বকরের হাদীসটি বিশেষজ্ঞদের কাছে দুর্বল। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে আবূ বকর আল-মাদানী উপনামের যে রাবী হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন তাঁর নাম হল আল-ফাযল ইবনু মুবাশশির। তিনি এই আবূ বকর আল-মাদানী থেকে অধিক নির্ভরযোগ্য ও অগ্রগণ্য।
হাদিস নং: ৭৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، وعروة، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يعتكف العشر الاواخر من رمضان حتى قبضه الله . قال وفي الباب عن ابى بن كعب وابي ليلى وابي سعيد وانس وابن عمر . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة وعاىشة حديث حسن صحيح .
৭৮৮. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা ও আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত রামাযানের শেষ দশদিন ই’তিকাফ করতেন। - ইরওয়া ৯৬৬, সহিহ আবু দাউদ ২১২৫, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উবাই ইবনু কা’বা, আবূ লায়লা, আবূ সাঈদ, আনাস ও ইবনু উমার থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা ও আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এই বিষয়ে উবাই ইবনু কা’বা, আবূ লায়লা, আবূ সাঈদ, আনাস ও ইবনু উমার থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা ও আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن يحيى بن سعيد، عن عمرة، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اراد ان يعتكف صلى الفجر ثم دخل في معتكفه . قال ابو عيسى وقد روي هذا الحديث عن يحيى بن سعيد عن عمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . رواه مالك وغير واحد عن يحيى بن سعيد عن عمرة مرسلا . ورواه الاوزاعي وسفيان الثوري وغير واحد عن يحيى بن سعيد عن عمرة عن عاىشة . والعمل على هذا الحديث عند بعض اهل العلم يقولون اذا اراد الرجل ان يعتكف صلى الفجر ثم دخل في معتكفه . وهو قول احمد بن حنبل واسحاق بن ابراهيم . وقال بعضهم اذا اراد ان يعتكف فلتغب له الشمس من الليلة التي يريد ان يعتكف فيها من الغد وقد قعد في معتكفه . وهو قول سفيان الثوري ومالك بن انس .
৭৮৯. হান্নাদ (রহঃ) ..... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফের ইচ্ছা করতেন তখন ফযরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে পরে ই’তিকাফ স্থলে প্রবেশ করতেন। - ইবনু মাজাহ ১৭৭১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আমরা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে রেওয়ায়েত করেছেন। আর এই হাদীসটি আওযায়ী ও সুফিয়ান সাওরী ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ - আমরা আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস অনুসারে কোন কোন আলিমের আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, যখন কেউ ইতিকাফের ইচ্ছা করে, তখন সে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর যেন ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করে। ইতিকাফ করতে চাইলে, যে দিন থেকে ইতিকাফ আরম্ভ করতে ইচ্ছুক তার আগের তার আগের রাত্রির সন্ধ্যার সূর্য ডোবার আগে যে সে অবস্থান গ্রহণ করে নেয়। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) এর বক্তব্য।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আমরা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে রেওয়ায়েত করেছেন। আর এই হাদীসটি আওযায়ী ও সুফিয়ান সাওরী ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ - আমরা আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস অনুসারে কোন কোন আলিমের আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, যখন কেউ ইতিকাফের ইচ্ছা করে, তখন সে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর যেন ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করে। ইতিকাফ করতে চাইলে, যে দিন থেকে ইতিকাফ আরম্ভ করতে ইচ্ছুক তার আগের তার আগের রাত্রির সন্ধ্যার সূর্য ডোবার আগে যে সে অবস্থান গ্রহণ করে নেয়। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) এর বক্তব্য।
হাদিস নং: ৭৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا هارون بن اسحاق الهمداني، حدثنا عبدة بن سليمان، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجاور في العشر الاواخر من رمضان ويقول " تحروا ليلة القدر في العشر الاواخر من رمضان " . وفي الباب عن عمر وابى وجابر بن سمرة وجابر بن عبد الله وابن عمر والفلتان بن عاصم وانس وابي سعيد وعبد الله بن انيس وابي بكرة وابن عباس وبلال وعبادة بن الصامت . قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح . وقولها يجاور يعني يعتكف . واكثر الروايات عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " التمسوها في العشر الاواخر في كل وتر " . وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم في ليلة القدر انها ليلة احدى وعشرين وليلة ثلاث وعشرين وخمس وعشرين وسبع وعشرين وتسع وعشرين واخر ليلة من رمضان " . قال ابو عيسى قال الشافعي كان هذا عندي والله اعلم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يجيب على نحو ما يسال عنه يقال له نلتمسها في ليلة كذا فيقول التمسوها في ليلة كذا . قال الشافعي واقوى الروايات عندي فيها ليلة احدى وعشرين . قال ابو عيسى وقد روي عن ابى بن كعب انه كان يحلف انها ليلة سبع وعشرين . ويقول اخبرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بعلامتها فعددنا وحفظنا . وروي عن ابي قلابة انه قال ليلة القدر تنتقل في العشر الاواخر . حدثنا بذلك عبد بن حميد اخبرنا عبد الرزاق عن معمر عن ايوب عن ابي قلابة بهذا .
৭৯০. হারূন ইবনু ইসহাক হামদানী (রহঃ) ..... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযানের শেষ দশদিন মসজিদে অবস্থান করতেন। বলতেন, তোমরা রামাযানের শেষ দশদিন লায়লাতুল ক্বাদর অনুসন্ধান করে। - বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমার, উবাই ইবনু কাব, জাবির ইবনু সামুরা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, ইবনু উমার, ফালাতান ইবনু আসিম, আনাস, আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স, আবূ বকরা, ইবনু আব্বাস, বিলাল ও উবাদা ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। তাঁর এই রিওয়ায়াতে উল্লেখিত শব্দ يحاور অর্থ তিনি ই’তিকাফ করতেন। এই ক্ষেত্রে অধিকাংশ রিওয়ায়াতের শব্দ হল, তোমরা শেষ দশ দিনের প্রত্যেক বেজোড় রাতে লায়লাতুল ক্বদর তালাশ করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে লায়লাতুল ক্বাদর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তা হল একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ, ঊনত্রিশ এবং রামাযানের শেষ রাত।
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, আমার মতে এই ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ভাবেই উত্তর দিয়েছেন যে ভাবে তার নিকট জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। যেমন হয়ত কেউ তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে, আমরা কি অমুক তারিখে তা অন্বেষন করবো? তিনি উত্তরে বলেছেন, তা অমুক তারিখে তোমরা তালাশ কর। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন বলেন, এই বিষয়ে আমার কাছে সব চাইতে শক্তিশালী রিওয়ায়াত হল একুশ তারিখ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতটি। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কসম করে বলতেন যে, এ হল সাতাশ তারিখের রাত; এবং তিনি বলতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এর আলামত জানিয়েছেন। তা আমরা গণনা করে দেখেছি এবং স্মরণ রেখেছি। আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, শেষ দশকের মাঝে লায়লাতুল ক্বাদর আবর্তিত হতে থাকে। এই বক্তব্যটি আব্দুর রাযযাক-মামার-আইউব আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে আবদ ইবনু হুমায়দ বর্ণনা করেছেন।
এই বিষয়ে উমার, উবাই ইবনু কাব, জাবির ইবনু সামুরা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, ইবনু উমার, ফালাতান ইবনু আসিম, আনাস, আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স, আবূ বকরা, ইবনু আব্বাস, বিলাল ও উবাদা ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। তাঁর এই রিওয়ায়াতে উল্লেখিত শব্দ يحاور অর্থ তিনি ই’তিকাফ করতেন। এই ক্ষেত্রে অধিকাংশ রিওয়ায়াতের শব্দ হল, তোমরা শেষ দশ দিনের প্রত্যেক বেজোড় রাতে লায়লাতুল ক্বদর তালাশ করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে লায়লাতুল ক্বাদর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তা হল একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ, ঊনত্রিশ এবং রামাযানের শেষ রাত।
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, আমার মতে এই ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ভাবেই উত্তর দিয়েছেন যে ভাবে তার নিকট জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। যেমন হয়ত কেউ তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে, আমরা কি অমুক তারিখে তা অন্বেষন করবো? তিনি উত্তরে বলেছেন, তা অমুক তারিখে তোমরা তালাশ কর। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন বলেন, এই বিষয়ে আমার কাছে সব চাইতে শক্তিশালী রিওয়ায়াত হল একুশ তারিখ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতটি। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কসম করে বলতেন যে, এ হল সাতাশ তারিখের রাত; এবং তিনি বলতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এর আলামত জানিয়েছেন। তা আমরা গণনা করে দেখেছি এবং স্মরণ রেখেছি। আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, শেষ দশকের মাঝে লায়লাতুল ক্বাদর আবর্তিত হতে থাকে। এই বক্তব্যটি আব্দুর রাযযাক-মামার-আইউব আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে আবদ ইবনু হুমায়দ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৭৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا واصل بن عبد الاعلى الكوفي، حدثنا ابو بكر بن عياش، عن عاصم، عن زر، قال قلت لابى بن كعب انى علمت ابا المنذر انها ليلة سبع وعشرين قال بلى اخبرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم " انها ليلة صبيحتها تطلع الشمس ليس لها شعاع " . فعددنا وحفظنا والله لقد علم ابن مسعود انها في رمضان وانها ليلة سبع وعشرين ولكن كره ان يخبركم فتتكلوا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৭৯১. ওয়াসিল ইবনু আবদুল আ’লা কূফী (রহঃ) .... যির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উবাই ইবনু কাব (রাঃ) কে বললাম, হে আবূ মুনযির! এ যে সাতাশের রাত এ কথা আপনি কোথা থেকে জানলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটি হল এমন রাত যার পরবর্তী সকালে সূর্য উদিত হয় এমনভাবে যে তার আলোকরশ্মি থাকে না। তা আমরা গণনা করে রেখেছি এবং স্মরণও রেখেছি। আল্লাহর কসম! ইবনু মাসঊদ (রাঃ) একথা জানেন যে, রাতটি হল রামাযানের এবং তা সাতাশেরই রাত। কিন্তু তিনি তোমাদের তা জানাতে পছন্দ করেননি, পাছে তোমরা এর উপর ভরসা করে বসে থাকে। - সহিহ আবু দাউদ ১২৪৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا حميد بن مسعدة، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا عيينة بن عبد الرحمن، قال حدثني ابي قال، ذكرت ليلة القدر عند ابي بكرة فقال ما انا بملتمسها، لشيء سمعته من، رسول الله صلى الله عليه وسلم الا في العشر الاواخر فاني سمعته يقول " التمسوها في تسع يبقين او في سبع يبقين او في خمس يبقين او في ثلاث او اخر ليلة " . قال وكان ابو بكرة يصلي في العشرين من رمضان كصلاته في ساىر السنة فاذا دخل العشر اجتهد . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৭৯২. হুমায়দা ইবনু মাসআদা (রহঃ) ..... আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকরা (রাঃ) এর কাছে একবার লায়লাতুল ক্বাদর সম্পর্কে আলোচনা হল। তিনি বললেন, আমি লায়লাতুল ক্বাদর রামাযানের শেষ দশ দিন ছাড়া অন্য কোন রাতে অনুসন্ধান করব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে একটি বাণী শোনার কারণে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা এ রাতটিকে রামাযানের নয় দিন বাকী থাকতে বা সাতদিন বাকী থাকতে বা পাঁচ দিন বাকী থাকতে, তিন দিন বাকী থাকতে বা এর শেষ রাতে অণ্বেষন কর। রাবী বলেন, আবূ বকরা (রাঃ) রামাযানের বিশ দিন পর্যন্ত অন্যান্য সুন্নাতের মতই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। কিন্তু শেষ দশ দিনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়াস চালাতেন। - মিশকাত তাহকীক ছানী ২০৯২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، حدثنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن هبيرة بن يريم، عن علي، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يوقظ اهله في العشر الاواخر من رمضان . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৭৯৩. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের লোকদেরকে রামাযানের শেষ দশ দিন জাগাতেন। - ইবনু মাজাহ ১৭৬৮, বুখারি, মুসলিম - আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الواحد بن زياد، عن الحسن بن عبيد الله، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجتهد في العشر الاواخر ما لا يجتهد في غيرها . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
৭৯৪. কুতায়বা (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রামাযানের শেষ দশ দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ প্রচেষ্টা চালাতেন অন্যান্য সময়ে সেরূপ প্রচেষ্টা চালাতেন না। - ইবনু মাজাহ ১৭৬৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৭৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن نمير بن عريب، عن عامر بن مسعود، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الغنيمة الباردة الصوم في الشتاء " . قال ابو عيسى هذا حديث مرسل . عامر بن مسعود لم يدرك النبي صلى الله عليه وسلم وهو والد ابراهيم بن عامر القرشي الذي روى عنه شعبة والثوري .
৭৯৫. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... আমির ইবনু মাসঊদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শীতকালের সিয়াম হল অনায়াশলব্ধ গণীমত সম্পদের মত। - সহিহাহ ১৯২২, আর রাওয ৬৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি মুরসাল। কারণ, আমির ইবনু মাসঊদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ ঘটেনি। তিনি হলেন ইবরাহীম ইবনু আমির আল-কুরাশীর পিতা। যার থেকে শু’বা ও সাওরী (রহঃ) রিওয়ায়াত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি মুরসাল। কারণ, আমির ইবনু মাসঊদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ ঘটেনি। তিনি হলেন ইবরাহীম ইবনু আমির আল-কুরাশীর পিতা। যার থেকে শু’বা ও সাওরী (রহঃ) রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ৭৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا بكر بن مضر، عن عمرو بن الحارث، عن بكير بن عبد الله بن الاشج، عن يزيد، مولى سلمة بن الاكوع عن سلمة بن الاكوع، قال لما نزلت : (وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مسكين ) كان من اراد منا ان يفطر ويفتدي حتى نزلت الاية التي بعدها فنسختها . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب . ويزيد هو ابن ابي عبيد مولى سلمة بن الاكوع .
৭৯৬. কুতায়বা (রহঃ) .... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ - যারা সিয়াম পালনে অক্ষম তারা একজন মিসকীনের আহার দিবে ফিদয়া হিসাবে যখন উক্ত আয়াতটি নাযিল হল তখন আমাদের যার ইচ্ছা সিয়াম পালন না করে ফিদয়া দিয়ে দিত। শেষে এর পরবর্তী আয়াতفَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ এর অর্থ হল- তোমাদের যে জন রামাযানের এই মাস পায় সে যেন সিয়াম পালন করে নাযিল হলে উপরোক্ত আয়াতের বিধান রহিত হয়ে যায়। - ইরওয়া ৪/২২, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। রাবী ইয়াযীদ হলেন, ইবনু আবূ উবায়দ সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। রাবী ইয়াযীদ হলেন, ইবনু আবূ উবায়দ সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস।
হাদিস নং: ৭৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الله بن جعفر، عن زيد بن اسلم، عن محمد بن المنكدر، عن محمد بن كعب، انه قال اتيت انس بن مالك في رمضان وهو يريد سفرا وقد رحلت له راحلته ولبس ثياب السفر فدعا بطعام فاكل فقلت له سنة قال سنة . ثم ركب .
৭৯৭. কুতায়বা (রহঃ) ...... মুহাম্মদ ইবনু কা’ব (রহঃ) বলেন, আমি এক রামাযানে আনাস (রাঃ) এর কাছে এলাম। তিনি তখন সফরের ইচ্ছা করছিলেন। আমি তাঁর সফরের উটটিকে হাওদা বেঁধে দিলাম। তিনি সফরের পোশাক পরে নিলেন এবং খাবার নিয়ে আসতে বললেন। অনন্তর তিনি তা আহার করলেন। আমি বললাম, এ কি সুন্নাত? তিনি বললেন, সুন্নাত। এরপর সাওয়ার হয়ে গেলেন। - তাসহীহ হাদিসে ইফতারিস সা-ইমি কাবলা সাফারিহি বা’দাল ফাজরি পৃঃ ১৩-২৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا سعيد بن ابي مريم، حدثنا محمد بن جعفر، قال حدثني زيد بن اسلم، قال حدثني محمد بن المنكدر، عن محمد بن كعب، قال اتيت انس بن مالك في رمضان فذكر نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . ومحمد بن جعفر هو ابن ابي كثير هو مديني ثقة وهو اخو اسماعيل بن جعفر . وعبد الله بن جعفر هو ابن نجيح والد علي بن عبد الله المديني وكان يحيى بن معين يضعفه . وقد ذهب بعض اهل العلم الى هذا الحديث وقالوا للمسافر ان يفطر في بيته قبل ان يخرج وليس له ان يقصر الصلاة حتى يخرج من جدار المدينة او القرية . وهو قول اسحاق بن ابراهيم الحنظلي .
৭৯৮. মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ...... মুহাম্মদ ইবনু কাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) এর কাছে রামাযানে এলাম। এরপর উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। রাবী মুহাম্মদ ইবনু জাফর হলেন, ইবনু আবূ কাসীর মাদীনী নির্ভরযোগ্য রাবী। তিনি ইসমাঈল ইবনু জাফর (রহঃ) এর ভাই। আর আবদুল্লাহ ইবনু জাফর হলেন ইবনু নাজীহ; আলী ইবনু মাদীনী (রহঃ) এর পিতা। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন (রহঃ) তাকে যঈফ বলেছেন। কোন কোন আলিম এই হাদীস অনুসারে মত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেন মূসাফির ব্যক্তি সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হওয়ার পূর্বে সিয়াম ভঙ্গ করতে পারবে। তবে যতক্ষণ সে তার গ্রাম বা নগর প্রাচীর অতিক্রম না করেছে ততক্ষণ সালাত (নামায/নামাজ) কসর করতে পারবে না। এ হল ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালীর বক্তব্য।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। রাবী মুহাম্মদ ইবনু জাফর হলেন, ইবনু আবূ কাসীর মাদীনী নির্ভরযোগ্য রাবী। তিনি ইসমাঈল ইবনু জাফর (রহঃ) এর ভাই। আর আবদুল্লাহ ইবনু জাফর হলেন ইবনু নাজীহ; আলী ইবনু মাদীনী (রহঃ) এর পিতা। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন (রহঃ) তাকে যঈফ বলেছেন। কোন কোন আলিম এই হাদীস অনুসারে মত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেন মূসাফির ব্যক্তি সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হওয়ার পূর্বে সিয়াম ভঙ্গ করতে পারবে। তবে যতক্ষণ সে তার গ্রাম বা নগর প্রাচীর অতিক্রম না করেছে ততক্ষণ সালাত (নামায/নামাজ) কসর করতে পারবে না। এ হল ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালীর বক্তব্য।
হাদিস নং: ৭৯৯
জাল (Fake)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا ابو معاوية، عن سعد بن طريف، عن عمير بن مامون، عن الحسن بن علي، قال قال رسول الله " تحفة الصاىم الدهن والمجمر " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب ليس اسناده بذاك لا نعرفه الا من حديث سعد بن طريف . وسعد بن طريف يضعف ويقال عمير بن ماموم ايضا .
৭৯৯. আহমাদ ইবনু মানী (রহঃ) ...... হাসান ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিয়াম পালনকারীর জন্য তুহফা হল তৈল ও মিজমার (ধূনা বা লোবান জাতীয় সুগন্ধি)। - যইফা ১৬৬০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি গারীব; এর সনদটি তেমন নয়। রাবী সা’দ ইবনু তারীফ ছাড়া আর কোন ক্ষেত্রে এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই। সা’দকে যঈফ গণ্য করা হয় এবং রাবী উমায়র ইবনু মামূনকে উমায়র ইবনু মামূমও বলা হয়।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি গারীব; এর সনদটি তেমন নয়। রাবী সা’দ ইবনু তারীফ ছাড়া আর কোন ক্ষেত্রে এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই। সা’দকে যঈফ গণ্য করা হয় এবং রাবী উমায়র ইবনু মামূনকে উমায়র ইবনু মামূমও বলা হয়।
হাদিস নং: ৮০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا يحيى بن اليمان، عن معمر، عن محمد بن المنكدر، عن عاىشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الفطر يوم يفطر الناس والاضحى يوم يضحي الناس " . قال ابو عيسى سالت محمدا قلت له محمد بن المنكدر سمع من عاىشة قال نعم يقول في حديثه سمعت عاىشة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح من هذا الوجه .
৮০০. ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) ..... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈদুল ফিতর হল যে দিন লোকেরা সিয়াম ভঙ্গ করে আর ঈদুল আযহা হল লোকেরা যেদিন কুরবানী দেয়। - ইবনু মাজাহ ১৬৬০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মদ (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, রাবী মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির কি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে হাদীস শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁর হাদীসে তিনি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে শোনেছি উল্লেখ করে থাকেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মদ (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, রাবী মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির কি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে হাদীস শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁর হাদীসে তিনি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে শোনেছি উল্লেখ করে থাকেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব-সহীহ।
হাদিস নং: ৮০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، قال انبانا حميد الطويل، عن انس بن مالك، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتكف في العشر الاواخر من رمضان فلم يعتكف عاما فلما كان في العام المقبل اعتكف عشرين . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث انس بن مالك . واختلف اهل العلم في المعتكف اذا قطع اعتكافه قبل ان يتمه على ما نوى فقال بعض اهل العلم اذا نقض اعتكافه وجب عليه القضاء . واحتجوا بالحديث ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج من اعتكافه فاعتكف عشرا من شوال . وهو قول مالك . وقال بعضهم ان لم يكن عليه نذر اعتكاف او شيء اوجبه على نفسه وكان متطوعا فخرج فليس عليه ان يقضي الا ان يحب ذلك اختيارا منه ولا يجب ذلك عليه . وهو قول الشافعي . قال الشافعي فكل عمل لك ان لا تدخل فيه فاذا دخلت فيه فخرجت منه فليس عليك ان تقضي الا الحج والعمرة . وفي الباب عن ابي هريرة .
৮০১. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি। ফলে পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন। - সহিহ আবু দাউদ ২১২৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। নিয়্যাত অনুসারে ইতিকাফ পূর্ণ করার পূর্বেই ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। যদি সে নিয়্যাত অনুসারে পূর্ণ করার আগেই ইতিকাফ ছেড়ে দেয়, আলিম বলেন, সে যদি তার ইতিকাফ ভঙ্গ করে তবে তার কাযা ওয়াজিব। তারা এই হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে পড়েছিলেন, পরে শাওয়ালের দশ দিন ইতিকাফ করে। এ হল মালিক (রহঃ) এর বক্তব্য। কোন কোন আলিম বলেন, যদি মানত বা নিজেরে জন্য অবশ্য কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণকৃত ইতিকাফ না হয়ে থাকে এবং সে নফল ইতিকাফ আদায়কারী হয়ে থাকে তবে এমতাবস্থায় ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে গেলে তার উপর ওয়াজিব নয় যে সে কাযা করবে। তবে যদি সে স্বেচ্ছায় কাযা করতে পছন্দ করে, তা ভিন্ন কথা। কিন্তু তা তার উপর ওয়াজিব নয়। এ হল ইমাম শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফেই (রহঃ) বলেন, যে আমল তোমর জন্য ওয়াজিব নয় এমন কোন আমল যদি তুমি করতে শুরু কর আর পূর্ণ না করে তা ছেড়ে দাও তা হলে হজ্জ ও উমরা ছাড়া আর কোন আমলের কাযা করা তোমার উপর ওয়াজিব নয়। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। নিয়্যাত অনুসারে ইতিকাফ পূর্ণ করার পূর্বেই ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। যদি সে নিয়্যাত অনুসারে পূর্ণ করার আগেই ইতিকাফ ছেড়ে দেয়, আলিম বলেন, সে যদি তার ইতিকাফ ভঙ্গ করে তবে তার কাযা ওয়াজিব। তারা এই হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে পড়েছিলেন, পরে শাওয়ালের দশ দিন ইতিকাফ করে। এ হল মালিক (রহঃ) এর বক্তব্য। কোন কোন আলিম বলেন, যদি মানত বা নিজেরে জন্য অবশ্য কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণকৃত ইতিকাফ না হয়ে থাকে এবং সে নফল ইতিকাফ আদায়কারী হয়ে থাকে তবে এমতাবস্থায় ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে গেলে তার উপর ওয়াজিব নয় যে সে কাযা করবে। তবে যদি সে স্বেচ্ছায় কাযা করতে পছন্দ করে, তা ভিন্ন কথা। কিন্তু তা তার উপর ওয়াজিব নয়। এ হল ইমাম শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফেই (রহঃ) বলেন, যে আমল তোমর জন্য ওয়াজিব নয় এমন কোন আমল যদি তুমি করতে শুরু কর আর পূর্ণ না করে তা ছেড়ে দাও তা হলে হজ্জ ও উমরা ছাড়া আর কোন আমলের কাযা করা তোমার উপর ওয়াজিব নয়। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৮০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو مصعب المدني، قراءة عن مالك بن انس، عن ابن شهاب، عن عروة، وعمرة، عن عاىشة، انها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اعتكف ادنى الى راسه فارجله وكان لا يدخل البيت الا لحاجة الانسان . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . هكذا رواه غير واحد عن مالك عن ابن شهاب عن عروة وعمرة عن عاىشة . ورواه بعضهم عن مالك عن ابن شهاب عن عروة عن عمرة عن عاىشة . والصحيح عن عروة وعمرة عن عاىشة .
৮০২. আবূ মুসআব মাদানী (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফে বসতেন, তিনি তাঁর মাথা আমার দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম। তিনি মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না। - ইবনু মাজাহ ৬৩৩, ১৭৭৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটিকে একাধিক রাবী মালিক ইবনু আনাস ইবনু শিহাব উরওয়া-আমরা-আয়িশা (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে উরওয়া ও আমরা-আয়িশা (রাঃ) এর সনদে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটিকে একাধিক রাবী মালিক ইবনু আনাস ইবনু শিহাব উরওয়া-আমরা-আয়িশা (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে উরওয়া ও আমরা-আয়িশা (রাঃ) এর সনদে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৮০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا بذلك، قتيبة حدثنا الليث بن سعد، عن ابن شهاب، عن عروة، وعمرة، عن عاىشة، . والعمل على هذا عند اهل العلم اذا اعتكف الرجل ان لا يخرج من اعتكافه الا لحاجة الانسان واجتمعوا على هذا انه يخرج لقضاء حاجته للغاىط والبول . ثم اختلف اهل العلم في عيادة المريض وشهود الجمعة والجنازة للمعتكف فراى بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان يعود المريض ويشيع الجنازة ويشهد الجمعة اذا اشترط ذلك . وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك . وقال بعضهم ليس له ان يفعل شيىا من هذا وراوا للمعتكف اذا كان في مصر يجمع فيه ان لا يعتكف الا في مسجد الجامع لانهم كرهوا الخروج له من معتكفه الى الجمعة ولم يروا له ان يترك الجمعة فقالوا لا يعتكف الا في مسجد الجامع حتى لا يحتاج الى ان يخرج من معتكفه لغير قضاء حاجة الانسان لان خروجه لغير قضاء حاجة الانسان قطع عندهم للاعتكاف . وهو قول مالك والشافعي . وقال احمد لا يعود المريض ولا يتبع الجنازة على حديث عاىشة . وقال اسحاق ان اشترط ذلك فله ان يتبع الجنازة ويعود المريض .
৮০৩. কুতায়বা (রহঃ) আমাকে উক্ত রিওয়ায়াতটি লায়স (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, ইতিকাফকারী ব্যক্তি মানবীয় প্রয়োজনে সে অবশ্যই বের হতে পারবে। তবে রোগী দেখা, জুমু’আ ও জানাযার সালাতে ইতিকাফরত ব্যক্তি হাযির হতে পারবে কিনা এ-ই বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী ও অপরাপর আলিমের মত হল, যদি ইতিকাফের সময় শর্ত করে থাকে তবে সে রোগী দেখতে, জানাযা অনুসরণ করতে এবং জুমুআর সালাতে হাযির হতে পারবে। এ হল ইমাম সুফিয়ান সাওরী ও ইবনু মুবারক (রহঃ) এর অভিমত।
কোন কোন আলিম বলেন, উল্লিখিত কোন কাজ সে করতে পারবে না। ইতিকাফকারী ব্যক্তি যদি এমন শহরে বাস করে যেখানে জুমুআর সালাত (নামায/নামাজ) হয় সেখানে সে জামি’ মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও ইতিকাফ করবে না। তাঁরা ইতিকাফস্থল ছেড়ে জুমুআর জন্য বের হওয়াও পছন্দ করেন না। আবার জুমুআ পরিত্যাগ করাও জায়িজ বলে মনে করেন না। সুতরাং তারা বলেন, জামি মসজিদ ছাড়া ইতিকাফ করবেনা যাতে মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফস্থল থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন না পড়ে। কেননা মানবী প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া তাদের মতে ইতিকাফ ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য। এ হল ইমাম মালিক ও শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত।
ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) এর হাদীসের আলোকে সে রোগী দেখতে ও জানাযায় শরীক হতে বের হতে পারবে না। ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, যদি সে পূর্বেই এই বিষয়ে নিজে নিজে শর্ত করে নেয় তবে সে জানাযায় শরীক হতে ও রোগীকে দেখতে যেতে পারবে।
আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, ইতিকাফকারী ব্যক্তি মানবীয় প্রয়োজনে সে অবশ্যই বের হতে পারবে। তবে রোগী দেখা, জুমু’আ ও জানাযার সালাতে ইতিকাফরত ব্যক্তি হাযির হতে পারবে কিনা এ-ই বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী ও অপরাপর আলিমের মত হল, যদি ইতিকাফের সময় শর্ত করে থাকে তবে সে রোগী দেখতে, জানাযা অনুসরণ করতে এবং জুমুআর সালাতে হাযির হতে পারবে। এ হল ইমাম সুফিয়ান সাওরী ও ইবনু মুবারক (রহঃ) এর অভিমত।
কোন কোন আলিম বলেন, উল্লিখিত কোন কাজ সে করতে পারবে না। ইতিকাফকারী ব্যক্তি যদি এমন শহরে বাস করে যেখানে জুমুআর সালাত (নামায/নামাজ) হয় সেখানে সে জামি’ মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও ইতিকাফ করবে না। তাঁরা ইতিকাফস্থল ছেড়ে জুমুআর জন্য বের হওয়াও পছন্দ করেন না। আবার জুমুআ পরিত্যাগ করাও জায়িজ বলে মনে করেন না। সুতরাং তারা বলেন, জামি মসজিদ ছাড়া ইতিকাফ করবেনা যাতে মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফস্থল থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন না পড়ে। কেননা মানবী প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া তাদের মতে ইতিকাফ ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য। এ হল ইমাম মালিক ও শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত।
ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) এর হাদীসের আলোকে সে রোগী দেখতে ও জানাযায় শরীক হতে বের হতে পারবে না। ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, যদি সে পূর্বেই এই বিষয়ে নিজে নিজে শর্ত করে নেয় তবে সে জানাযায় শরীক হতে ও রোগীকে দেখতে যেতে পারবে।
হাদিস নং: ৮০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا محمد بن الفضيل، عن داود بن ابي هند، عن الوليد بن عبد الرحمن الجرشي، عن جبير بن نفير، عن ابي ذر، قال صمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يصل بنا حتى بقي سبع من الشهر فقام بنا حتى ذهب ثلث الليل ثم لم يقم بنا في السادسة وقام بنا في الخامسة حتى ذهب شطر الليل فقلنا له يا رسول الله لو نفلتنا بقية ليلتنا هذه فقال " انه من قام مع الامام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة " . ثم لم يصل بنا حتى بقي ثلاث من الشهر وصلى بنا في الثالثة ودعا اهله ونساءه فقام بنا حتى تخوفنا الفلاح . قلت له وما الفلاح قال السحور . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . واختلف اهل العلم في قيام رمضان فراى بعضهم ان يصلي احدى واربعين ركعة مع الوتر . وهو قول اهل المدينة والعمل على هذا عندهم بالمدينة . واكثر اهل العلم على ما روي عن عمر وعلي وغيرهما من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم عشرين ركعة . وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي . وقال الشافعي وهكذا ادركت ببلدنا بمكة يصلون عشرين ركعة . وقال احمد روي في هذا الوان . ولم يقض فيه بشيء . وقال اسحاق بل نختار احدى واربعين ركعة على ما روي عن ابى بن كعب . واختار ابن المبارك واحمد واسحاق الصلاة مع الامام في شهر رمضان . واختار الشافعي ان يصلي الرجل وحده اذا كان قارىا . وفي الباب عن عاىشة والنعمان بن بشير وابن عباس .
৮০৪. হান্নাদ (রহঃ) ...... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমরা সিয়াম পালন করেছি। তিনি রামাযান মাসে আমাদের নিয়ে (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেননি। অবশেষে সাত দিন বাকী তিনি আমাদের নিয়ে সালাত দাঁড়ালেন। এমনকি রাতের এক তৃতীয়াংশ এতে অতিবাহিত হয়ে গেল। এরপর আর ষষ্ঠ রাত আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন না। কিন্তু প্রথম রাত থাকতে আবার আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন। এমকি এতে অর্ধেক রাত অতিবাহিত হয়ে গেল। আমরা তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের অবশিষ্ট রাতটিও যদি নফল আদায় করে অতিবাহিত করে দিতেন। তিনি বললেন, কেউ যদি ইমামের সঙ্গে (ফরয) সালাতে দাঁড়ায় এবং ইমামের শেষ করা পর্যন্ত তাঁর সাথে দাড়ায় তবে তার জন্য সারারাত (নফল) সালাত আদায়ের সওয়াব লেখা হয়।
এরপর তিন মাসের তিন রাত অবশিষ্ঠ থাকা পর্যন্ত আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন না। তৃতীয় (২৭শে) রাত থাকতে আবার তিনি আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন। এই রাত তিনি তাঁর পরিজন ও স্ত্রীগণকেও ডেকে তুললেন। অনন্তর তিনি এত দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করলেন যে আমাদের ফালাহ এর ব্যাপারে এর আশংকা সৃষ্টি হয়ে গেল। রাবী জুবায়র ইবনু নুফায়র (রহঃ) বলেন যে, আমি আবূ বকর (রাঃ) কে বললামঃ ফালাহ কি? তিনি বললেন, সাহরী খাওয়া। - ইবনু মাজাহ ১৩২৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রামাযানের কিয়াম সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, বিতরসহ এর রাকাত সংখ্যা একচল্লিশ। এ হল মদীনাবাসীদের অভিমত এবং মদিনা বাসীদেরও এইরূপ আমল রয়েছে। অধিকাংশ আলিমের অভিমত আলী ও উমার (রাঃ) প্রমূখ সাহাবায় কিরাম থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত অনুযায়ী রাকাআত সংখ্যা হল বিশ। সুফিয়ান সাওরী, ইবনু মুবারক ও শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, আমাদের নগর মক্কায়ও এই ধরণের আমল দেখেছি। তাঁরা বিশ রাকআত সালাত আদায় করেন। আহমাদ (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। তিনি এই ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত দেননি। ইসহাক বলেন, উবাই ইবনু কাব (রহঃ) এর রিওয়ায়াতের আদেশে আমরা এক চল্লিশ রাকআতের অভিমতটি গ্রহণ করি। ইবনু মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) রামাযান মাসে ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পছন্দীয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। হাফিজুল কুরআন হলে তার জন্য একা সালাত আদায় করা উত্তম বলে ইমাম শাফেঈ (রহঃ) অভিমত দিয়েছেন।
এরপর তিন মাসের তিন রাত অবশিষ্ঠ থাকা পর্যন্ত আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন না। তৃতীয় (২৭শে) রাত থাকতে আবার তিনি আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন। এই রাত তিনি তাঁর পরিজন ও স্ত্রীগণকেও ডেকে তুললেন। অনন্তর তিনি এত দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করলেন যে আমাদের ফালাহ এর ব্যাপারে এর আশংকা সৃষ্টি হয়ে গেল। রাবী জুবায়র ইবনু নুফায়র (রহঃ) বলেন যে, আমি আবূ বকর (রাঃ) কে বললামঃ ফালাহ কি? তিনি বললেন, সাহরী খাওয়া। - ইবনু মাজাহ ১৩২৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রামাযানের কিয়াম সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, বিতরসহ এর রাকাত সংখ্যা একচল্লিশ। এ হল মদীনাবাসীদের অভিমত এবং মদিনা বাসীদেরও এইরূপ আমল রয়েছে। অধিকাংশ আলিমের অভিমত আলী ও উমার (রাঃ) প্রমূখ সাহাবায় কিরাম থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত অনুযায়ী রাকাআত সংখ্যা হল বিশ। সুফিয়ান সাওরী, ইবনু মুবারক ও শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, আমাদের নগর মক্কায়ও এই ধরণের আমল দেখেছি। তাঁরা বিশ রাকআত সালাত আদায় করেন। আহমাদ (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। তিনি এই ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত দেননি। ইসহাক বলেন, উবাই ইবনু কাব (রহঃ) এর রিওয়ায়াতের আদেশে আমরা এক চল্লিশ রাকআতের অভিমতটি গ্রহণ করি। ইবনু মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) রামাযান মাসে ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পছন্দীয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। হাফিজুল কুরআন হলে তার জন্য একা সালাত আদায় করা উত্তম বলে ইমাম শাফেঈ (রহঃ) অভিমত দিয়েছেন।
হাদিস নং: ৮০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا عبد الرحيم بن سليمان، عن عبد الملك بن ابي سليمان، عن عطاء، عن زيد بن خالد الجهني، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من فطر صاىما كان له مثل اجره غير انه لا ينقص من اجر الصاىم شيىا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৮০৫. হান্নাদ (রহঃ) ...... যায়িদ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যদি কোন সায়িমকে ইফতার করায় তবে তার জন্যও অনুরূপ (সিয়ামের) সাওয়াব হবে। কিন্তু এতে সিয়াম পালনকারীর সাওয়াবে কোন ঘাটতি হবে না। - ইবনু মাজাহ ১৭৪৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান-সহীহ্।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান-সহীহ্।
হাদিস নং: ৮০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يرغب في قيام رمضان من غير ان يامرهم بعزيمة ويقول " من قام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه " . فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم والامر على ذلك ثم كان الامر كذلك في خلافة ابي بكر وصدرا من خلافة عمر بن الخطاب على ذلك . وفي الباب عن عاىشة . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح . وقد روي هذا الحديث ايضا عن الزهري عن عروة عن عاىشة عن النبي قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح.
৮০৬. আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাসের কিয়াম সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতেন। তবে তা বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশ দেননি। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশা নিয়ে রামাযান মাসের কিয়াম করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। বিষয়টি এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল পর্যন্ত চলতে থাকে। পরে আবূ বকর (রাঃ) এর খিলাফত এবং উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও বিষয়টি তদ্রুপই ছিল। - সহিহ আবু দাউদ ১২৪১, নাসাঈ, ইমাম বুখারির মতে ইন্তেকাল পর্যন্ত ...... এই বাক্যাংশটি যুহরি হাদিসে সংযোগ করেছেন, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। এই হাদিসটি সহীহ্। এই হাদিসটি যুহরী-উরওয়া-আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে।
এই বিষয়ে আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। এই হাদিসটি সহীহ্। এই হাদিসটি যুহরী-উরওয়া-আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে।