অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সুনান আত তিরমিজী
কেউ সম্পদ রেখে গেলে তা হবে তার ওয়ারিছানের জন্য।
মোট ২৬ টি হাদিস
হাদিস নং: ২০৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن يحيى بن سعيد الاموي، حدثنا ابي، حدثنا محمد بن عمرو، حدثنا ابو سلمة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من ترك مالا فلاهله ومن ترك ضياعا فالى " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن جابر وانس . وقد رواه الزهري عن ابي سلمة عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم اطول من هذا واتم . معنى ضياعا ضاىعا ليس له شيء فانا اعوله وانفق عليه .
২০৯৩. সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ উমাবী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ সম্পদ রেখে গেলে তা হবে তার ওয়ারিছানের আর কেউ সহায়-সম্পদহীন পরিবার-পরিজন রেখে গেলে তাদের দায়িত্ব আমার উপর। সহীহ, বুখারী ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। যুহরী (রহঃ) এটিকে আবূ সালামা-আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বিস্তারিত এবং অধিকতর পূর্ণাঙ্গভাবে রিওয়ায়াত করেছেন। এই বিষয়ে জাবির এবং আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।مَنْ تَرَكَ ضَيَاعًا কথাটির মর্ম হল এমন পরিবার-পরিজন রেখে গেল, যারা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তাদের কিছুই নাই,فَإِلَىَّ অর্থ হল আমি তাদের দেখ-ভাল করব এবং ভরণ-পোষণ করব।
আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। যুহরী (রহঃ) এটিকে আবূ সালামা-আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বিস্তারিত এবং অধিকতর পূর্ণাঙ্গভাবে রিওয়ায়াত করেছেন। এই বিষয়ে জাবির এবং আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।مَنْ تَرَكَ ضَيَاعًا কথাটির মর্ম হল এমন পরিবার-পরিজন রেখে গেল, যারা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তাদের কিছুই নাই,فَإِلَىَّ অর্থ হল আমি তাদের দেখ-ভাল করব এবং ভরণ-পোষণ করব।
হাদিস নং: ২০৯৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الاعلى بن واصل، حدثنا محمد بن القاسم الاسدي، حدثنا الفضل بن دلهم، حدثنا عوف، عن شهر بن حوشب، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " تعلموا القران والفراىض وعلموا الناس فاني مقبوض " . قال ابو عيسى هذا حديث فيه اضطراب .
وروى ابو اسامة، هذا الحديث عن عوف، عن رجل، عن سليمان بن جابر، عن ابن مسعود، عن النبي صلى الله عليه وسلم . حدثنا بذلك الحسين بن حريث، اخبرنا ابو اسامة، عن عوف، بهذا بمعناه . ومحمد بن القاسم الاسدي قد ضعفه احمد بن حنبل وغيره .
وروى ابو اسامة، هذا الحديث عن عوف، عن رجل، عن سليمان بن جابر، عن ابن مسعود، عن النبي صلى الله عليه وسلم . حدثنا بذلك الحسين بن حريث، اخبرنا ابو اسامة، عن عوف، بهذا بمعناه . ومحمد بن القاسم الاسدي قد ضعفه احمد بن حنبل وغيره .
২০৯৪. আবদুল আ’লা ইবন ওয়াসিল (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ফারাইয এবং কুরআন শিক্ষা করবে এবং মানুষকেও তা শিখাবে। আমাকে তো কবয করে নেওয়া হবে। যইফ, মিশকাত ২৪৪, ইরওয়া ১৬৬৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীছে ইযতিরাব বিদ্যমান। আবূ উসামা হাদীসটিকে আবূ আওফ-জনৈক ব্যক্তি-সুলায়মান ইবন জাবির-ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হুসায়ন ইবন হুরায়স ... আবূ উসামা (রহঃ) সূত্রে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী মুহাম্মদ ইবনুল-কাসিমকে আহমাদ ইবন হাম্বাল (রহঃ) যঈফ বলেছেন।
এই হাদীছে ইযতিরাব বিদ্যমান। আবূ উসামা হাদীসটিকে আবূ আওফ-জনৈক ব্যক্তি-সুলায়মান ইবন জাবির-ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হুসায়ন ইবন হুরায়স ... আবূ উসামা (রহঃ) সূত্রে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী মুহাম্মদ ইবনুল-কাসিমকে আহমাদ ইবন হাম্বাল (রহঃ) যঈফ বলেছেন।
হাদিস নং: ২০৯৫
হাসান (Hasan)
حدثنا عبد بن حميد، حدثني زكرياء بن عدي، اخبرنا عبيد الله بن عمرو، عن عبد الله بن محمد بن عقيل، عن جابر بن عبد الله، قال جاءت امراة سعد بن الربيع بابنتيها من سعد الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله هاتان ابنتا سعد بن الربيع قتل ابوهما معك يوم احد شهيدا وان عمهما اخذ مالهما فلم يدع لهما مالا ولا تنكحان الا ولهما مال . قال " يقضي الله في ذلك " . فنزلت اية الميراث فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الى عمهما فقال " اعط ابنتى سعد الثلثين واعط امهما الثمن وما بقي فهو لك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح لا نعرفه الا من حديث عبد الله بن محمد بن عقيل وقد رواه شريك ايضا عن عبد الله بن محمد بن عقيل .
২০৯৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনুর রাবী-এর স্ত্রী সা’দের ঔরসজাত দুই কন্যা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, এরা সা’দ ইবনুর রাবী-এর দুই কন্যা। এদের পিতা আপনার সঙ্গে উহুদ যুদ্ধে শহীদ হিসাবে নিহত হন। এদের চাচা তাদের সম্পদ দখল করে নিয়েছে। এদের জন্য কোন সম্পদই অবশিষ্ট রাখেনি। অর্থ-সম্পদ না থাকলে এদের বিবাহও তো হবে না। তিনি বললেনঃ এই বিষয়ে আল্লাহ্ই ফায়সালা দিবেন। অনন্তর মীরাছ সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চাচার কাছে লোক পাঠিয়ে বললেনঃ সা’দ-এর দুই কন্যাকে দুই তৃতীয়াংশ, তাদের মাকে এক অষ্টমাংশ দিয়ে দাও বাদবাকী সম্পদ হল তোমার। হাসান, ইবনু মাজাহ ২৭২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীল (রহঃ) -এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। শারীক (রহঃ) ও এটিকে আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীল (রহঃ) -এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীল (রহঃ) -এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। শারীক (রহঃ) ও এটিকে আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীল (রহঃ) -এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ২০৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا يزيد بن هارون، عن سفيان الثوري، عن ابي قيس الاودي، عن هزيل بن شرحبيل، قال جاء رجل الى ابي موسى وسلمان بن ربيعة فسالهما عن الابنة، وابنة الابن، واخت، لاب وام فقالا للابنة النصف وللاخت من الاب والام ما بقي . وقالا له انطلق الى عبد الله فاساله فانه سيتابعنا . فاتى عبد الله فذكر ذلك له واخبره بما قالا قال عبد الله قد ضللت اذا وما انا من المهتدين ولكن اقضي فيهما كما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم للابنة النصف ولابنة الابن السدس تكملة الثلثين وللاخت ما بقي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وابو قيس الاودي اسمه عبد الرحمن بن ثروان الكوفي وقد رواه شعبة عن ابي قيس .
২০৯৬. হাসান ইবন আরাফা (রহঃ) ..... হুযায়ল ইবন শুরাহবীল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি আবূ মূসা ও সালমান ইবন রাবীআ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর নিকট এল এবং তাদেরকে কন্যা, পৌত্রী এবং আপন ভগ্নীর মীরাছ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তারা বললেনঃ কন্যার হল অর্ধেক, আর অবশিষ্টাংশ হল আপন ভগ্নির, তারা তাকে আরও বললেনঃ আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ)-এর নিকট যাও এবং তাকেও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা কর। তিনিও আমাদের সঙ্গে এক মত হবেন। লোকটি আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট গিয়ে বিষয়দি আলোচনা করল এবং তারা যে উত্তর দিয়েছিলেন তাও তাকে অবহিত করল।
আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তাদের মতানুসারে মত দিলে আমিও তো গুমরাহ হয়ে যাব এবং হেদায়োত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারব না। তবে এই বিষয়ে আমি সেরূপ সিদ্ধান্তই দিব যেরূপ সিদ্ধান্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন। এই ক্ষেত্রে কন্যা পাবে অর্ধেক আর দুই তৃতীয়াংশের পরিমাণ পূরণার্থে পৌত্রী পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ, অবশিষ্টাংশ হল ভগ্নির। সহিহ, ইবনু মাজাহ ২৭২১, বুখারী, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূ কাওস আওদী (রহঃ)-এর নাম হল আবদুর রহমান ইবন ছারওয়ান কূফী। শু’বা (রহঃ)-ও হাদীসটি আবূ কায়স (রহঃ)-এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন।
আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তাদের মতানুসারে মত দিলে আমিও তো গুমরাহ হয়ে যাব এবং হেদায়োত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারব না। তবে এই বিষয়ে আমি সেরূপ সিদ্ধান্তই দিব যেরূপ সিদ্ধান্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন। এই ক্ষেত্রে কন্যা পাবে অর্ধেক আর দুই তৃতীয়াংশের পরিমাণ পূরণার্থে পৌত্রী পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ, অবশিষ্টাংশ হল ভগ্নির। সহিহ, ইবনু মাজাহ ২৭২১, বুখারী, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূ কাওস আওদী (রহঃ)-এর নাম হল আবদুর রহমান ইবন ছারওয়ান কূফী। শু’বা (রহঃ)-ও হাদীসটি আবূ কায়স (রহঃ)-এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ২০৯৭
হাসান (Hasan)
حدثنا بندار، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن الحارث، عن علي، انه قال انكم تقرءون هذه الاية : (من بعد وصية توصون بها او دين ) وان رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى بالدين قبل الوصية وان اعيان بني الام يتوارثون دون بني العلات الرجل يرث اخاه لابيه وامه دون اخيه لابيه .
حدثنا بندار، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا زكريا بن ابي زاىدة، عن ابي اسحاق، عن الحارث، عن علي، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثله .
حدثنا بندار، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا زكريا بن ابي زاىدة، عن ابي اسحاق، عن الحارث، عن علي، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثله .
২০৯৭. বুনদার (রহঃ) ..... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ তোমরা এই আয়াতটি তিলাওয়াত করে থাক যে, (مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ) (এই বন্টনের বিধান হল) তোমরা যা ওয়াসীয়াত করবে তা প্রদানের পর বা ঋণ পরিশোধের পর। [সূরা নিসাঃ ১২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াসীয়ত প্রদানের পূর্বে ঋণ পরিশোধের ফায়সালা দিয়েছেন। কেবল বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভ্রাতাগণের আগে সহোদর ভ্রাতাগণ মীরাছ পাবে। একজন সহোদর ভাই বৈপিত্রেয় ভাইয়ের পূর্বে ওয়ারিছ হয়। হাসান, ইবনু মাজাহ ২৭১৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
বুনদার (রহঃ) ... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
বুনদার (রহঃ) ... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২০৯৮
হাসান (Hasan)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، حدثنا ابو اسحاق، عن الحارث، عن علي، قال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اعيان بني الام يتوارثون دون بني العلات . قال ابو عيسى هذا حديث لا نعرفه الا من حديث ابي اسحاق عن الحارث عن علي . وقد تكلم بعض اهل العلم في الحارث والعمل على هذا الحديث عند عامة اهل العلم .
২০৯৮. ইবন আবূ উমার (রহঃ) ... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দিয়েছেন যে, বাপ শরীক বা মা শরীক ভাইরা নয় বরং বাপ ও মা শরীক আপন ভাইরা ওয়ারিশ হবে। হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবূ ইসহাক-হারিস-আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্র ছাড়া হাদীসটি সম্পর্কে আমরা কিছু অবহিত নই। হারিছের বিষয়ে কতক হাদীস বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।
আবূ ইসহাক-হারিস-আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্র ছাড়া হাদীসটি সম্পর্কে আমরা কিছু অবহিত নই। হারিছের বিষয়ে কতক হাদীস বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।
হাদিস নং: ২০৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرحمن بن سعد، اخبرنا عمرو بن ابي قيس، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، قال جاءني رسول الله صلى الله عليه وسلم يعودني وانا مريض في بني سلمة فقلت يا نبي الله كيف اقسم مالي بين ولدي فلم يرد على شيىا فنزلت : (يوصيكم الله في اولادكم للذكر مثل حظ الانثيين ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد رواه شعبة وابن عيينة وغيره عن محمد بن المنكدر عن جابر .
২০৯৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। আমি তখন অসুস্থ অবস্থায় আবূ সালামা গোত্রে ছিলাম, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র নবী! আমার সন্তানদের মাঝে আমার সম্পদ কিভাবে বণ্টন করব? তিনি কোন জবাব দিলেন না। তখন আয়াত নাযিল হলঃيُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنْثَيَيْنِ আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিতেছেন এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান (৪ঃ ১১) বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবন উয়ায়না প্রমুখ (রহঃ) এটিকে মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবন উয়ায়না প্রমুখ (রহঃ) এটিকে মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২১০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا الفضل بن الصباح البغدادي، اخبرنا سفيان بن عيينة، اخبرنا محمد بن المنكدر، سمع جابر بن عبد الله، يقول مرضت فاتاني رسول الله صلى الله عليه وسلم يعودني فوجدني قد اغمي على فاتى ومعه ابو بكر وعمر وهما ماشيان فتوضا رسول الله صلى الله عليه وسلم فصب على من وضوىه فافقت فقلت يا رسول الله كيف اقضي في مالي او كيف اصنع في مالي فلم يجبني شيىا وكان له تسع اخوات حتى نزلت اية الميراث : (يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة ) الاية . قال جابر في نزلت . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২১০০. ফাযল ইবন সাব্বাহ বাগদাদী (রহঃ) .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। তিনি এসে আমাকে বেহুশ অবস্থায় পেলেন। তাঁর সঙ্গে আবু বাকরও এসেছিলেন। তাঁরা উভয়েই পায়ে হেটেই এসেছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ করলেন এবং তাঁর উযূর পানি আমার উপর ঢেলে দিলেন, আমার হুশ ফিরে এল। বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার সম্পদ আমি কি করব? তিনি কোন জবাব দিলেন না। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নয় বোন ছিল। শেষে মীরাছের এই আয়াত নাযিল হলঃ(يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ) লোকে তোমার কাছে ব্যবস্থা জানতে চায়। বল পিতা মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে ...... (৪ঃ ১৭৬) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এই আয়াতটি আমার বিষয়েই নাযিল হয়েছিল। ইবনু মাজাহ ২৭২৮, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২১০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا مسلم بن ابراهيم، حدثنا وهيب، حدثنا ابن طاوس، عن ابيه، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الحقوا الفراىض باهلها فما بقي فهو لاولى رجل ذكر " .
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، عن معمر، عن ابن طاوس، عن ابيه، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن وقد روى بعضهم عن ابن طاوس عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا .
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، عن معمر، عن ابن طاوس، عن ابيه، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن وقد روى بعضهم عن ابن طاوس عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا .
২১০১. আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) .... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যাদের ফারাইয আছে তা তাদেরকে দিয়ে দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতর পুরুষ আত্মীয়গণ পাবে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৭৪০, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান, কেউ কেউ এটিকে ইবন তাউস তার পিতা তাউস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন।
আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান, কেউ কেউ এটিকে ইবন তাউস তার পিতা তাউস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২১০২
যঈফ (Dai'f)
حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا يزيد بن هارون، عن همام بن يحيى، عن قتادة، عن الحسن، عن عمران بن حصين، قال جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ان ابني مات فما لي في ميراثه قال " لك السدس " . فلما ولى دعاه فقال " لك سدس اخر " . فلما ولى دعاه قال " ان السدس الاخر طعمة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن معقل بن يسار .
২১০২. হাসান ইবন আরাফা (রহঃ) ..... ইমরান ইবন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললঃ আমার এক পৌত্র মারা গিয়েছে। তার মীরাছ থেকে আমার কি কোন অংশ আছে? তিনি বললেনঃ ছয় ভাগের এক ভাগ তোমার জন্য আছে। লোকটি যখন চলে যাচ্ছিল তখন তিনি তাকে ডাকলেন। আর বললেনঃ তোমার আরো এক ষষ্ঠামাংশ রয়েছে। লোকটি যেমন ফিরে যাচ্ছিল তখন তিনি তাকে আবার ডাকলেন। বললেনঃ অপর ষষ্ঠমাংশটি হল তোমার জন্য অতিরিক্ত রিযক স্বরূপ। যইফ আবু দাউদ ৫০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে মা’কিল ইবন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে মা’কিল ইবন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২১০৩
যঈফ (Dai'f)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، حدثنا الزهري، قال مرة قال قبيصة وقال مرة رجل عن قبيصة بن ذويب قال جاءت الجدة ام الام او ام الاب الى ابي بكر فقالت ان ابن ابني او ابن بنتي مات وقد اخبرت ان لي في كتاب الله حقا . فقال ابو بكر ما اجد لك في الكتاب من حق وما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى لك بشيء وساسال الناس . قال فسال فشهد المغيرة بن شعبة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعطاها السدس . قال ومن سمع ذلك معك قال محمد بن مسلمة . قال فاعطاها السدس ثم جاءت الجدة الاخرى التي تخالفها الى عمر . قال سفيان وزادني فيه معمر عن الزهري ولم احفظه عن الزهري ولكن حفظته من معمر ان عمر قال ان اجتمعتما فهو لكما وايتكما انفردت به فهو لها .
২১০৩. ইবন আবূ উমার (রহঃ) ..... কাবীসা ইবন যুআয়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক জাদ্দা অর্থাৎ মাতামহী বা পিতামহী আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে বললঃ আমার পৌত্র বা দৌহিত্র মারা গেছে। আমি শুনেছি যে, আল্লাহর কিতাবে আমার জন্য তাতে হক দেওয়া হয়েছে। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর কিতাবে এ বিষয়ে তোমার কোন হক পাচ্ছি না আর তোমার পক্ষে কোন ফায়সালা দিতেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু আমি শুনিনি। তবে আমি শীঘ্রই সাহাবীগণের নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব। পরে মুগীরা ইবন শু’বা সাক্ষ্য দেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ক্ষেত্রে এক ষষ্ঠামাংশ দিয়েছেন। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমার সঙ্গে আর কে এ বিষয়টি শুনেছেন? মুগীরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ মুহাম্মদ ইবন মাসলামা। তখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে এক সষ্ঠামাংশ প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এরপর এর বিপরীত অন্য এক জাদ্দা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এল। তিনি তাকে বললেনঃ তোমরা যদি দু্জনও (একাধিক জন) এতে একত্রিত হও তবে ঐ পরিমানই তোমাদের হবে। আর যদি একজন হয় তবু ঐ পরিমানই তার হবে। যঈফ, ইরওয়া ১৬৮০, যইফ আবু দাউদ ৪৯৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২১০৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن ابن شهاب، عن عثمان بن اسحاق بن خرشة، عن قبيصة بن ذويب، قال جاءت الجدة الى ابي بكر تساله ميراثها . قال فقال لها ما لك في كتاب الله شيء وما لك في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم شيء فارجعي حتى اسال الناس . فسال الناس فقال المغيرة بن شعبة حضرت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاها السدس . فقال ابو بكر هل معك غيرك فقام محمد بن مسلمة الانصاري فقال مثل ما قال المغيرة بن شعبة فانفذه لها ابو بكر . قال ثم جاءت الجدة الاخرى الى عمر بن الخطاب تساله ميراثها فقال ما لك في كتاب الله شيء ولكن هو ذاك السدس فان اجتمعتما فيه فهو بينكما وايتكما خلت به فهو لها . قال ابو عيسى وفي الباب عن بريدة . وهذا احسن وهو اصح من حديث ابن عيينة .
২১০৪. আনসারী (রহঃ) ...... কাবীসা ইবন যুআয়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিসি বলেনঃ জনৈক জাদ্দা (পিতামহী বা মাতামহী) আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে তার মীরাছ সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি তাকে বললেনঃ আল্লাহর কিতাবে তোমার ব্যাপারে কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নায়ও তোমার ব্যাপারে কিছু নেই, তুমি ফিরে যাও। আমি এ বিষয়ে লোকদের জিজ্ঞাসা করে নিব।
এরপর তিনি এ বিষয়ে সাহীবীদের জিজ্ঞাসা করলেন। মুগীরা ইবন শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি তাকে এক ষষ্ঠমাংশ দিয়েছেন।
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেঃ তোমার সঙ্গে আরো কেউ ছিল কি? মুহাম্মদ ইবন মাসলামা রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং মুগীরা যেরূপ বললেন তিনিও সেরূপ বক্তব্য রাখলেন। তখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জাদ্দার ক্ষেত্রে এ বিধান জারি করে দিলেন।
পরবর্তীতে অপর এক জাদ্দা উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে স্বীয় মীরাছ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করে তিনি তখন বললেনঃ তোমার জন্য আল্লাহর কিতাবে কিছুই নেই। তবে ঐ ষষ্ঠামাংম রয়েছে, যদি তোমরা দুজন একত্র হও তবে ততটুকুই তোমাদের দুইজনের মাঝে বন্টিত হবে, আর কেউ একা হলে তার জন্যও ঐ পরিমাণই হবে। যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ, এটি ইবন উয়ায়ানা (রহঃ) -এর রিওয়ায়াত থেকে অধিক সহীহ। এ বিষয়ে বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।
এরপর তিনি এ বিষয়ে সাহীবীদের জিজ্ঞাসা করলেন। মুগীরা ইবন শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি তাকে এক ষষ্ঠমাংশ দিয়েছেন।
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেঃ তোমার সঙ্গে আরো কেউ ছিল কি? মুহাম্মদ ইবন মাসলামা রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং মুগীরা যেরূপ বললেন তিনিও সেরূপ বক্তব্য রাখলেন। তখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জাদ্দার ক্ষেত্রে এ বিধান জারি করে দিলেন।
পরবর্তীতে অপর এক জাদ্দা উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে স্বীয় মীরাছ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করে তিনি তখন বললেনঃ তোমার জন্য আল্লাহর কিতাবে কিছুই নেই। তবে ঐ ষষ্ঠামাংম রয়েছে, যদি তোমরা দুজন একত্র হও তবে ততটুকুই তোমাদের দুইজনের মাঝে বন্টিত হবে, আর কেউ একা হলে তার জন্যও ঐ পরিমাণই হবে। যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ, এটি ইবন উয়ায়ানা (রহঃ) -এর রিওয়ায়াত থেকে অধিক সহীহ। এ বিষয়ে বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২১০৫
যঈফ (Dai'f)
حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا يزيد بن هارون، عن محمد بن سالم، عن الشعبي، عن مسروق، عن عبد الله بن مسعود، قال في الجدة مع ابنها انها اول جدة اطعمها رسول الله صلى الله عليه وسلم سدسا مع ابنها وابنها حى . قال ابو عيسى هذا حديث لا نعرفه مرفوعا الا من هذا الوجه . - وقد ورث بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الجدة مع ابنها ولم يورثها بعضهم .
২১০৫. হাসান ইবন আরাফা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি পিতামহী/মাতামহী ও তাঁর পুত্রের মীরাছ সম্পর্কে বললেনঃ পিতামহী/মাতামহী ও তাঁর পুত্রের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মহিলাকেই প্রথম এক ষষ্ঠামাংশ মীরাছ ভোগ করতে দেন। অথচ এ মহিলার পুত্রও তখন জীবিত ছিল। যইফ, ইরওয়া ১৬৮৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ সূত্র ছাড়া হাদীসটি মারফুরূপে বর্ণিত আছে বলে আমরা অবহিত নই। কতক সাহাবী পিতামহী/মাতামহীকে তার পুত্র থাকাবস্থায় মীরাছের অংশ দিয়ছেন। অপর কতক সাহাবী এমতাবস্থায় তাকে মীরাছ প্রদান করেন নাই।
এ সূত্র ছাড়া হাদীসটি মারফুরূপে বর্ণিত আছে বলে আমরা অবহিত নই। কতক সাহাবী পিতামহী/মাতামহীকে তার পুত্র থাকাবস্থায় মীরাছের অংশ দিয়ছেন। অপর কতক সাহাবী এমতাবস্থায় তাকে মীরাছ প্রদান করেন নাই।
হাদিস নং: ২১০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا بندار، حدثنا ابو احمد الزبيري، حدثنا سفيان، عن عبد الرحمن بن الحارث، عن حكيم بن حكيم بن عباد بن حنيف، عن ابي امامة بن سهل بن حنيف، قال كتب عمر بن الخطاب الى ابي عبيدة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الله ورسوله مولى من لا مولى له والخال وارث من لا وارث له " . قال ابو عيسى وفي الباب عن عاىشة والمقدام بن معديكرب . وهذا حديث حسن صحيح .
২১০৬. বুনদার (রহঃ) ..... আবূ উমামা ইবন সাহল ইবন হুনায়ফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার সাথে আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট এ বলে একটি চিঠি লিখে দেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার কোন অভিভাবক নেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হলেন তার অভিভাবক। আর যার (অন্য কোন) ওয়ারিছ নাই মামা হল তার ওয়ারিছ। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৭৩৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আয়িশা, মিকদাম ইবন মা’দীকারিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এ বিষয়ে আয়িশা, মিকদাম ইবন মা’দীকারিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২১০৭
সহিহ (Sahih)
اخبرنا اسحاق بن منصور، اخبرنا ابو عاصم، عن ابن جريج، عن عمرو بن مسلم، عن طاوس، عن عاىشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الخال وارث من لا وارث له " . وهذا حديث حسن غريب وقد ارسله بعضهم ولم يذكر فيه عن عاىشة . - واختلف فيه اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فورث بعضهم الخال والخالة والعمة والى هذا الحديث ذهب اكثر اهل العلم في توريث ذوي الارحام واما زيد بن ثابت فلم يورثهم وجعل الميراث في بيت المال .
২১০৭. ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ..... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার (অন্য কোন) ওয়ারিছ নাই মামা হল তার ওয়ারিছ। সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-গারীব। কেউ কেউ এটিকে মুরসালরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। তারা এতে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে সাহাবীগণের মত পার্থক্য রয়েছে। তাদের কেউ কেউ মামা, খালা এবং ফুফুকে ওয়ারিছ হিসাবে গণ্য করেছেন। যাবীল আরহামদের ওয়ারিছ হিসাবে গণ্য করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলিম এ হাদীস অনুসারে মত গ্রহণ করেছেন। তবে যায়দ ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে ওয়ারিছ হিসাবে গণ্য করেন না। এমতাবস্থায় তিনি বায়তুল মালে মীরাছ জমা প্রদানের মত দেন।
এ হাদীসটি হাসান-গারীব। কেউ কেউ এটিকে মুরসালরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। তারা এতে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে সাহাবীগণের মত পার্থক্য রয়েছে। তাদের কেউ কেউ মামা, খালা এবং ফুফুকে ওয়ারিছ হিসাবে গণ্য করেছেন। যাবীল আরহামদের ওয়ারিছ হিসাবে গণ্য করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলিম এ হাদীস অনুসারে মত গ্রহণ করেছেন। তবে যায়দ ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে ওয়ারিছ হিসাবে গণ্য করেন না। এমতাবস্থায় তিনি বায়তুল মালে মীরাছ জমা প্রদানের মত দেন।
হাদিস নং: ২১০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا بندار، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا سفيان، عن عبد الرحمن بن الاصبهاني، عن مجاهد، وهو ابن وردان عن عروة، عن عاىشة، ان مولى، للنبي صلى الله عليه وسلم وقع من عذق نخلة فمات فقال النبي صلى الله عليه وسلم " انظروا هل له من وارث " . قالوا لا . قال " فادفعوه الى بعض اهل القرية " . وهذا حديث حسن .
২১০৮. বুনদার (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক আযাদকৃত দাস খেজুর গাছের মাথা থেকে পড়ে মারা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা দেখ, এর কেউ ওয়ারিছ আছে কিনা। লোকেরা বললঃ কেউ নেই। তিনি বললেনঃ তবে গ্রামবাসীদের কাউকে তা (মীরাছ) দিয়ে দাও। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৭৩৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। (আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এ বিষয়ে বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। (আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২১০৯
যঈফ (Dai'f)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن عوسجة، عن ابن عباس، ان رجلا، مات على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يدع وارثا الا عبدا هو اعتقه فاعطاه النبي صلى الله عليه وسلم ميراثه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . والعمل عند اهل العلم في هذا الباب اذا مات الرجل ولم يترك عصبة ان ميراثه يجعل في بيت مال المسلمين .
২১০৯. ইবন আবূ উমার (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে জনৈক ব্যক্তি মারা যায়। তার এক আযদকৃত গোলাম ছাড়া কোন ওয়ারিছ ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ঐ ব্যক্তির মীরাছ দিয়ে দেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ ২৭৪১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান। এ বিষয়ে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় আর তার কোন আসাবা না থাকে তবে বায়তুল মালে তার মীরাছ জমা করা হবে।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান। এ বিষয়ে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় আর তার কোন আসাবা না থাকে তবে বায়তুল মালে তার মীরাছ জমা করা হবে।
হাদিস নং: ২১১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عبد الرحمن المخزومي، وغير، واحد، قالوا حدثنا سفيان، عن الزهري، ح وحدثنا علي بن حجر، اخبرنا هشيم، عن الزهري، عن علي بن حسين، عن عمرو بن عثمان، عن اسامة بن زيد، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يرث المسلم الكافر ولا الكافر المسلم " . حدثنا ابن ابي عمر حدثنا سفيان حدثنا الزهري نحوه . قال ابو عيسى وفي الباب عن جابر وعبد الله بن عمرو . وهذا حديث حسن صحيح هكذا رواه معمر وغير واحد عن الزهري نحو هذا . وروى مالك عن الزهري عن علي بن حسين عن عمر بن عثمان عن اسامة بن زيد عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه وحديث مالك وهم وهم فيه مالك وقد رواه بعضهم عن مالك فقال عن عمرو بن عثمان واكثر اصحاب مالك قالوا عن مالك عن عمر بن عثمان وعمرو بن عثمان بن عفان هو مشهور من ولد عثمان ولا يعرف عمر بن عثمان . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم واختلف بعض اهل العلم في ميراث المرتد فجعل اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم المال لورثته من المسلمين . وقال بعضهم لا يرثه ورثته من المسلمين واحتجوا بحديث النبي صلى الله عليه وسلم " لا يرث المسلم الكافر " . وهو قول الشافعي .
২১১০. সাঈদ ইবন আবদুর রহমান মাখযুমী প্রমুখ এবং আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... উসামা ইবন যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম কোন কাফিরের এবং কাফির কোন মুসলিমের ওয়ারিছ হবে না। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৭২৯, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইবন আবূ উমার (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এ বিষয়ে জাবির এবং আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। মা’মার (রহঃ) প্রমুখও এটিকে যুহরী (রহঃ) এর বরাতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক (রহঃ) এটিকে যুহরী-আলী ইবন হুসায়ন-উমার ইবন উসমান-উসামা ইবন যায়দ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক (রহঃ)-এর রিওয়ায়াত বিভ্রান্তিপূর্ণ। এতে মালিকেরই বিভ্রান্তি হয়েছে। কোন কোন রাবী মালিক (রহঃ)-এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং রাবীর নাম (উমার এর স্থলে) আমর ইবন উসমান বলে উল্লেখ করেছেন। মালিক (রহঃ)-এর অধিকাংশ শাগরিদ বলেছেন মালিক উমার ইবন উসমান। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সন্তানদের মাঝে প্রসিদ্ধ হল আমর ইবন ’উসমান ইবন’ আফফান। ’উমার ইবন ’উসমান বলে আমরা কাউকে চিনি না।
এ হাদীসটি অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। আলিমগণ মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগীকারী)-এর মীরাছ সম্পর্কে মতবিরোধ করেছেন। কোন কোন সাহাবী ও অপরাপর বিশেষজ্ঞ আলিম তার সম্পদ তার মুসলিম ওয়ারিছদের প্রাপ্য বলে মত দিয়েছেন। আর কতক আলিম বলেন তার কোন মুসলিম ওয়ারিছ তার মীরাছের ওয়ারিছ হবে না। তারা দলীল হিসাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীস পেশ করেন যে, মুসলিমরা কাফিরদের ওয়ারিছ হবে না। এ হল ইমাম শাফিঈ (রহঃ)-এর অভিমত।
ইবন আবূ উমার (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এ বিষয়ে জাবির এবং আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। মা’মার (রহঃ) প্রমুখও এটিকে যুহরী (রহঃ) এর বরাতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক (রহঃ) এটিকে যুহরী-আলী ইবন হুসায়ন-উমার ইবন উসমান-উসামা ইবন যায়দ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক (রহঃ)-এর রিওয়ায়াত বিভ্রান্তিপূর্ণ। এতে মালিকেরই বিভ্রান্তি হয়েছে। কোন কোন রাবী মালিক (রহঃ)-এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং রাবীর নাম (উমার এর স্থলে) আমর ইবন উসমান বলে উল্লেখ করেছেন। মালিক (রহঃ)-এর অধিকাংশ শাগরিদ বলেছেন মালিক উমার ইবন উসমান। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সন্তানদের মাঝে প্রসিদ্ধ হল আমর ইবন ’উসমান ইবন’ আফফান। ’উমার ইবন ’উসমান বলে আমরা কাউকে চিনি না।
এ হাদীসটি অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। আলিমগণ মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগীকারী)-এর মীরাছ সম্পর্কে মতবিরোধ করেছেন। কোন কোন সাহাবী ও অপরাপর বিশেষজ্ঞ আলিম তার সম্পদ তার মুসলিম ওয়ারিছদের প্রাপ্য বলে মত দিয়েছেন। আর কতক আলিম বলেন তার কোন মুসলিম ওয়ারিছ তার মীরাছের ওয়ারিছ হবে না। তারা দলীল হিসাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীস পেশ করেন যে, মুসলিমরা কাফিরদের ওয়ারিছ হবে না। এ হল ইমাম শাফিঈ (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ২১১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا حميد بن مسعدة، حدثنا حصين بن نمير، عن ابن ابي ليلى، عن ابي الزبير، عن جابر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا يتوارث اهل ملتين " . قال ابو عيسى هذا حديث لا نعرفه من حديث جابر الا من حديث ابن ابي ليلى .
২১১১. হুমায়দ ইবন মাসআদা (রহঃ) ... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই ভিন্ন ধর্মাবিলম্বী পরস্পর ওয়ারিছ হবে না। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৭৩১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি গারীব। ইবন আবূ লায়লা (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াত হিসাবে আমরা অবহিত নই।
এ হাদীসটি গারীব। ইবন আবূ লায়লা (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াত হিসাবে আমরা অবহিত নই।
হাদিস নং: ২১১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن اسحاق بن عبد الله، عن الزهري، عن حميد بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " القاتل لا يرث " . قال ابو عيسى هذا حديث لا يصح ولا يعرف الا من هذا الوجه . واسحاق بن عبد الله بن ابي فروة قد تركه بعض اهل الحديث منهم احمد بن حنبل . والعمل على هذا عند اهل العلم ان القاتل لا يرث كان القتل عمدا او خطا . وقال بعضهم اذا كان القتل خطا فانه يرث وهو قول مالك .
২১১২. কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না। ইবনু মাজাহ ২৭৩৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি সহীহ নয়। এ সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে অন্য কিছু জানা যায় নাই। আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) সহ কতক আলিম ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবূ ফারওয়াকে পরিত্যাক্ত বলে মত দিয়েছেন।
আলিমগণের এতদনুসারে আমল রয়েছে। হত্যা স্বেচ্ছা ও স্বজ্ঞানেই হোক বা ভূলক্রমে হোক কোন অবস্থায়ই হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না। কতক আলেম বলেনঃ যদি ভুলক্রমে হত্যা সংঘটিত হয় তবে হত্যাকারী মীরাছ পাবে। এ হল ইমাম মালিক (রহঃ) এর অভিমত।
এ হাদীসটি সহীহ নয়। এ সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে অন্য কিছু জানা যায় নাই। আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) সহ কতক আলিম ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবূ ফারওয়াকে পরিত্যাক্ত বলে মত দিয়েছেন।
আলিমগণের এতদনুসারে আমল রয়েছে। হত্যা স্বেচ্ছা ও স্বজ্ঞানেই হোক বা ভূলক্রমে হোক কোন অবস্থায়ই হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না। কতক আলেম বলেনঃ যদি ভুলক্রমে হত্যা সংঘটিত হয় তবে হত্যাকারী মীরাছ পাবে। এ হল ইমাম মালিক (রহঃ) এর অভিমত।