অধ্যায় তালিকা
১/ পবিত্রতা ( كتاب الطهارة عن رسول الله ﷺ)
২/ সালাত (নামায) (كتاب الصلاة)
৩/ বিতর (أَبْوَابُ الْوِتْرِ)
৪/ জুমু'আ (كِتَاب الْجُمُعَةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ)
৫/ ঈদ (أَبْوَابُ الْعِيدَيْنِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ)
৬/ সফর (أَبْوَابُ السَّفَرِ)
৭/ যাকাত (كتاب الزكاة عن رسول الله ﷺ)
৮/ সাওম (রোজা) (كتاب الصوم عن رسول الله ﷺ)
৯/ হাজ্জ (হজ্জ) (كتاب الحج عن رسول الله ﷺ)
১০/ কাফন-দাফন (كتاب الجنائز عن رسول الله ﷺ)
১১/ বিবাহ (كتاب النكاح عن رسول الله ﷺ)
১২/ শিশুদের দুগ্ধপান (كتاب الرضاع)
১৩/ তালাক ও লি’আন (كتاب الطلاق واللعان عن رسول الله ﷺ)
১৪/ ক্রয় বিক্রয় (كتاب البيوع عن رسول الله ﷺ)
১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার (كتاب الأحكام عن رسول الله ﷺ)
১৬/ রক্তপণ (كتاب الديات عن رسول الله ﷺ)
১৭/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود عن رسول الله ﷺ)
১৮/ শিকার (كتاب الصيد والذبائح عن رسول الله ﷺ)
১৯/ যাবাহ (كتاب الأضاحى عن رسول الله ﷺ)
২০/ আহার করা (كتاب الأطعمة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم)
২১/ বিবিধ বিধান ও তার উপকারিতা (كتاب الأحكام والفوائد)
২২/ কুরবানী (كتاب الأضاحى عن رسول الله)
২৩/ মানত ও কসম (كتاب النذور والأيمان عن رسول الله ﷺ)
২৪/ অভিযান (كتاب السير عن رسول الله صلى الله عليه وسلم)
২৫/ জিহাদের ফযীলত (كتاب فضائل الجهاد عن رسول الله ﷺ)
২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ (كتاب اللباس)
২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত (كتاب الأطعمة عن رسول الله ﷺ)
২৯/ পানীয় (كتاب الأشربة عن رسول الله ﷺ)
৩০/ সৎ ব্যবহার ও সম্পর্ক রক্ষা (كتاب البر والصلة عن رسول الله ﷺ)
৩১/ চিকিৎসা (كتاب الطب عن رسول اللَّهِ ﷺ)
৩২/ ফারাইয (كتاب الفرائض عن رسول الله ﷺ)
৩৩/ ওয়াসীয়ত (كتاب الوصايا عن رسول الله ﷺ)
৩৪/ ওয়ালা এবং হেবা (كتاب الولاء والهبة عن رسول الله ﷺ)
৩৫/ তাকদীর (كتاب القدر عن رسول الله ﷺ)
৩৬/ ফিতনা (كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ)
৩৭/ স্বপ্ন (كتاب الرؤيا عن رسول الله ﷺ)
৩৮/ সাক্ষ্য (كتاب الشهادات عن رسول الله ﷺ)
৩৯/ সংসারের প্রতি অনাসক্তি (كتاب الزهد عن رسول الله ﷺ)
৪০/ কিয়ামত (كتاب صفة القيامة والرقائق والورع عن رسول الله ﷺ)
৪১/ জান্নাতের বিবরণ (كتاب صفة الجنة عن رسول الله ﷺ)
৪২/ জাহান্নামের বিবরণ (كتاب صفة جهنم عن رسول الله ﷺ)
৪৩/ ঈমান (كتاب الإيمان عن رسول الله ﷺ)
৪৪/ ইলম (كتاب العلم عن رسول الله ﷺ)
৪৫/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان والآداب عن رسول الله ﷺ)
৪৬/ কিতাবুল আদব (كتاب الأدب عن رسول الله ﷺ)
৪৭/ উপমা (كتاب الأمثال عن رسول الله ﷺ)
৪৮/ কুরআনের ফযীলত (كتاب فضائل القرآن عن رسول الله ﷺ)
৪৯/ কিরাআত (كتاب القراءات عن رسول الله ﷺ)
৫০/ কুরআন তাফসীর (كتاب تفسير القرآن عن رسول الله ﷺ)
৫১/ দু’আ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত (كتاب الدعوات عن رسول الله ﷺ)
৫২/ মানাকিব (ফযিলত, মর্যাদা ও গুণাবলীর বিবরণ) (كتاب المناقب عن رسول الله ﷺ)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সুনান আত তিরমিজী

বিবাহের ফযীলত এবং এতদ্বিষয়ে উৎসাহিত করা।
মোট ৬৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ১১০৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا محمد بن يوسف، حدثنا الاوزاعي، عن يحيى بن ابي كثير، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لا تنكح الثيب حتى تستامر ولا تنكح البكر حتى تستاذن واذنها الصموت ‏"‏ ‏.‏ قال وفي الباب عن عمر وابن عباس وعاىشة والعرس بن عميرة ‏.‏ قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند اهل العلم ان الثيب لا تزوج حتى تستامر وان زوجها الاب من غير ان يستامرها فكرهت ذلك فالنكاح مفسوخ عند عامة اهل العلم ‏.‏ واختلف اهل العلم في تزويج الابكار اذا زوجهن الاباء فراى اكثر اهل العلم من اهل الكوفة وغيرهم ان الاب اذا زوج البكر وهي بالغة بغير امرها فلم ترض بتزويج الاب فالنكاح مفسوخ ‏.‏ وقال بعض اهل المدينة تزويج الاب على البكر جاىز وان كرهت ذلك ‏.‏ وهو قول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق ‏.‏
১১০৭. ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অকুমারী মহিলাকে তার সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতিরেকে বিবাহ দেওয়া যাবে না। কুমারী মহিলাকেও তার সম্মতি ব্যতিরেকে বিবাহ দেওয়া যাবে না। আর চুপ থাকাই তার সম্মতি। - ইবনু মাজাহ ১৮৭১, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে উমর, ইবনু আব্বাস, আয়িশা, উরস ইবনু আমীরা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এতদানুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, সুস্পষ্ট ভাবে না বলা পর্যন্ত অকুমারী মহিলার বিবাহ হতে পারে না। যদিও তার পিতা তার অনুমতি ব্যতিরেকে তার বিবাহ দিয়ে দেয় এবং সে তা অপছন্দ করে তবে অধিকাংশ উলামার মতে, তার এ বিবাহ বাতিল হবে। পিতা অনুমতি গ্রহণ না করে কুমারী কন্যাকে বিবাহ প্রদানের বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কুফাবাসী এবং অপরাপর অধিকাংশ আলিমের মতে পিতা যদি তার সাবালিকা কুমারী কন্যাকে সম্মতি না নিয়ে বিয়ে দিয়ে দেয় আর সে পিতৃপ্রদত্ত এই বিয়েতে সন্তুষ্ট না হয় তবে এই বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে। মদীনাবাসী কোন কোন আলিম বলেন, কুমারী কন্যা অমত হলেও তাকে পিতা বিয়ে দিয়ে দিলে জায়েজ হবে। ইমাম মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর এ অভিমত।
হাদিস নং: ১১০৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا مالك بن انس، عن عبد الله بن الفضل، عن نافع بن جبير بن مطعم، عن ابن عباس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ الايم احق بنفسها من وليها والبكر تستاذن في نفسها واذنها صماتها ‏"‏ ‏.‏ هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ وقد روى شعبة وسفيان الثوري هذا الحديث عن مالك بن انس ‏.‏ وقد احتج بعض الناس في اجازة النكاح بغير ولي بهذا الحديث وليس في هذا الحديث ما احتجوا به لانه قد روي من غير وجه عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لا نكاح الا بولي ‏"‏ وهكذا افتى به ابن عباس بعد النبي صلى الله عليه وسلم فقال لا نكاح الا بولي ‏.‏ وانما معنى قول النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الايم احق بنفسها من وليها ‏"‏ ‏.‏ عند اكثر اهل العلم ان الولي لا يزوجها الا برضاها وامرها فان زوجها فالنكاح مفسوخ على حديث خنساء بنت خذام حيث زوجها ابوها وهي ثيب فكرهت ذلك فرد النبي صلى الله عليه وسلم نكاحه ‏.‏
১১০৮. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অকুমারী মেয়ে নিজের ব্যপারে তার ওলীর অপেক্ষা অধিক হকদার। কুমারীর বেলায় তার বিষয়ে তার নিকট থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর তার চুপ থাকা অনুমতি। - ইবনু মাজাহ ১৮৭০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ। শু’বা ও সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) এ হাদীসটি মালিক ইবনু আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। ওলী ছাড়াই বিবাহ জাইয হওয়ার বিষয়ে কেউ কেউ এই হাদীসটিকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। বস্ত্তত: তাঁরা যে বিষয়ে দলীল গ্রহণ করেছেন এ হাদীসে তা প্রমাণিত হয় না। কেননা ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে একাধিক সনদে নবী (সা)-এর থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, ওলী ব্যতিরেকে বিবাহ হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াফাতের পর ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এরূপ ফতওয়া দিয়েছেন। অকুমারী মেয়ে নিজের বিষয়ে তার ওলী অপেক্ষা অধিকতর হকদার’’ এই হাদীসটির মর্ম অধিকাংশ আলিমের মতে এই যে, ওলী তাকে তার সন্তুষ্টি ও তার স্পষ্ট নির্দেশ ব্যতীত বিবাহ দিতে পারে না। যদি সে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় তবে খানসা বিনত খিযাম রাদিয়াল্লাহু আনহা এর হাদীসের ভিত্তিতে এই বিয়ে বাতিল। খানসাকে তাঁর পিতা অকুমারী অবস্থায় বিয়ে দিয়েছিলেন, আর তিনি তাতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিবাহ বাতিল করে দেন।
হাদিস নং: ১১০৯ হাসান (Hasan)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اليتيمة تستامر في نفسها فان صمتت فهو اذنها وان ابت فلا جواز عليها ‏"‏ ‏.‏ قال وفي الباب عن ابي موسى وابن عمر وعاىشة ‏.‏ قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن ‏.‏ واختلف اهل العلم في تزويج اليتيمة فراى بعض اهل العلم ان اليتيمة اذا زوجت فالنكاح موقوف حتى تبلغ فاذا بلغت فلها الخيار في اجازة النكاح او فسخه ‏.‏ وهو قول بعض التابعين وغيرهم ‏.‏ وقال بعضهم لا يجوز نكاح اليتيمة حتى تبلغ ‏.‏ ولا يجوز الخيار في النكاح ‏.‏ وهو قول سفيان الثوري والشافعي وغيرهما من اهل العلم ‏.‏ وقال احمد واسحاق اذا بلغت اليتيمة تسع سنين فزوجت فرضيت فالنكاح جاىز ولا خيار لها اذا ادركت ‏.‏ واحتجا بحديث عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم بنى بها وهي بنت تسع سنين ‏.‏ وقد قالت عاىشة اذا بلغت الجارية تسع سنين فهي امراة ‏.‏
১১০৯. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (সাবালিকা) ইয়াতীম কুমারী থেকে তার বিবাহের ব্যাপারে সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। যদি সে চুপ থাকে তবে তাই তার সম্মতি বলে গণ্য হবে। আর যদি অস্বীকার করে তবে তার উপর তা কার্যকারী হবেনা। - ইরওয়া ১৮৩৪, সহিহ আবু দাউদ ১৮২৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আবূ মূসা, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আলিমগণের ইয়াতিম কুমারী মেয়ে বিয়ের ব্যপারে মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিমের অভিমত এই যে, কোন ইয়াতীম কুমারী কন্যার যদি বিয়ে দেওয়া হয়, তবে তার নিকাহ বালেগ হওয়া পর্যন্ত স্থগিত তাকবে। সে বালেগ হলে, তার এ বিয়ে বহাল রাখা বা বাতিল করার ইখতিয়ার থাকবে। এ হলো কোন কোন তাবিঈ ও অপরাপর আলিমের বক্তব্য।

কোন কোন আলিম বলেন, সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত ইয়াতীম কুমারী কন্যার বিয়ে জায়েজ নয়। বিবাহের ক্ষেত্রে ইখতিয়ার প্রয়োজ্য নয়। এহলো, সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, প্রমূখ আলিমগণের অভিমত। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন, যখন ইয়তীম কণ্যার বয়স নয় বৎসর হয় আর তাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং সে সম্মতি দান করে তবে এই বিয়ে এই বিয়ে জাইজ। সাবালিকা হওয়ার পর আর তার ইখতিয়ার থাকবে না। তাঁরা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ঘটনাকে দলীল হিসাবে পেশ করেন যে যখন তার বয়স নয় বৎসর হয়, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর যাপন করেন। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, মেয়েদের বয়স নয় বছর হলে সে মহিলা।
হাদিস নং: ১১১০ যঈফ (Dai'f)
حدثنا قتيبة، حدثنا غندر، حدثنا سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة بن جندب، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ ايما امراة زوجها وليان فهي للاول منهما ومن باع بيعا من رجلين فهو للاول منهما ‏"‏ ‏.‏ قال ابو عيسى هذا حديث حسن ‏.‏ والعمل على هذا عند اهل العلم لا نعلم بينهم في ذلك اختلافا اذا زوج احد الوليين قبل الاخر فنكاح الاول جاىز ونكاح الاخر مفسوخ واذا زوجا جميعا فنكاحهما جميعا مفسوخ ‏.‏ وهو قول الثوري واحمد واسحاق ‏.‏
১১১০. কুতায়বা (রহঃ) ..... সামুরা ইবনু জুন্দুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মহিলাকে যদি (সমপর্যায়ের) দুই ওলী বিবাহ দেয় তবে তাদের প্রথম জনের বিবাহ কার্যকর হবে। আর কেউ যদি দুইজনের কাছে কোন জিনিস বিক্রি করে তবে তা এদের মধ্যে প্রথম জনে পাবে। - ইরওয়া ১৮৫৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। এ হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। এই বিষয়ে তাদের মধ্যে কোন মতবিরোধ আছে বলে আমাদের জানা নেই। যদি সমপর্যায়ের দুই ওলী এক জনের আগে আগে আরেকজন কোন মহিলাকে বিয়ে দিয়ে দেয় তবে প্রথমটই কার্যকর হবে। দ্বিতীয় জনেরটি বাতিল গন্য হবে। আর যদি উভয়েই একই সঙ্গে বিয়ে দেয় তবে উভয়টই বাতিল বলে গণ্য হবে। এ হলো ইমাম ছাওরী, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ১১১১ হাসান (Hasan)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا الوليد بن مسلم، عن زهير بن محمد، عن عبد الله بن محمد بن عقيل، عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ ايما عبد تزوج بغير اذن سيده فهو عاهر ‏"‏ ‏.‏ قال وفي الباب عن ابن عمر ‏.‏ قال ابو عيسى حديث جابر حديث حسن ‏.‏ وروى بعضهم هذا الحديث عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ ولا يصح والصحيح عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن جابر ‏.‏ والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان نكاح العبد بغير اذن سيده لا يجوز ‏.‏ وهو قول احمد واسحاق وغيرهما ‏بلا اختلاف.
১১১১. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) .... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে গোলাম তার মালিকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে সে ব্যভিচারী। - ইবনু মাজাহ ১৯৫৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বার্ণিত হাদীসটি হাসান। কেউ কেউ এই হাদীসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীল। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সনদে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটি সাহীহ নয়। সাহীহ হলো, আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীল-- ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে। সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণের এই হাদীসটির উপর আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে গোলামের বিবাহ জায়েজ নেই। এ হলো, ইমাম আহমাদ, ইসহাক প্রমুখের অভিমত।
হাদিস নং: ১১১২ হাসান (Hasan)
حدثنا سعيد بن يحيى بن سعيد الاموي، حدثنا ابي، حدثنا ابن جريج، عن عبد الله بن محمد بن عقيل، عن جابر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ ايما عبد تزوج بغير اذن سيده فهو عاهر ‏"‏ ‏.‏ قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏
১১১২. সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ উমারী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন গোলাম তার মালিকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করবে সে ব্যভিচারী। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

(আবু ঈসা বলেন) এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ১১১৩ যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، وعبد الرحمن بن مهدي، ومحمد بن جعفر، قالوا حدثنا شعبة، عن عاصم بن عبيد الله، قال سمعت عبد الله بن عامر بن ربيعة، عن ابيه، ان امراة، من بني فزارة تزوجت على نعلين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ارضيت من نفسك ومالك بنعلين ‏"‏ ‏.‏ قالت نعم ‏.‏ قال فاجازه ‏.‏ قال وفي الباب عن عمر وابي هريرة وسهل بن سعد وابي سعيد وانس وعاىشة وجابر وابي حدرد الاسلمي ‏.‏ قال ابو عيسى حديث عامر بن ربيعة حديث حسن صحيح ‏.‏ واختلف اهل العلم في المهر فقال بعض اهل العلم المهر على ما تراضوا عليه ‏.‏ وهو قول سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق ‏.‏ وقال مالك بن انس لا يكون المهر اقل من ربع دينار ‏.‏ وقال بعض اهل الكوفة لا يكون المهر اقل من عشرة دراهم ‏.‏
১১১৩. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) .... আমির ইবনু রাবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, বানী ফাযারার জনৈক মহিলা দুটো পাদুকা মহরানার বিনিময়ে বিবাহ করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমরা জান ও মালের বিনিময়ে এই দুটো পাদুকার ওপর তুমি নিজের বিয়েতে রাজি হয়ে গেলে? মহিলাটি বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এই বিয়ের অনুমোদন দিয়ে দিলেন। - ইবনু মাজাহ ১৮৮৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে উমার, আবূ হুরায়রা, সাহল ইবনু সা’দ, আবূ সাঈদ, আনাস, আয়িশা, জাবির এবং আবূ হাদরাদ আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমির ইবনু রাবিআ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। মহরানার পরিমাণ সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, যে পরিমাণ মোহরের উপর তারা সম্মত হয় তা-ই মহর বলে গণ্য হবে। এ হলো সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) বলেন, এক দ্বীনার (স্বর্ণমুদ্রা)-এর এক চতুর্থায়শের কম মহর হতে পারে না। কুফাবাসী কতক আলিম বলেন দশ দিরহামের কমে মহর হতে পারে না।
হাদিস নং: ১১১৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا اسحاق بن عيسى، وعبد الله بن نافع الصاىغ، قالا اخبرنا مالك بن انس، عن ابي حازم بن دينار، عن سهل بن سعد الساعدي، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءته امراة فقالت اني وهبت نفسي لك ‏.‏ فقامت طويلا فقال رجل يا رسول الله فزوجنيها ان لم تكن لك بها حاجة ‏.‏ فقال ‏"‏ هل عندك من شيء تصدقها ‏"‏ ‏.‏ فقال ما عندي الا ازاري هذا ‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ازارك ان اعطيتها جلست ولا ازار لك فالتمس شيىا ‏"‏ قال ما اجد ‏.‏ قال ‏"‏ فالتمس ولو خاتما من حديد ‏"‏ ‏.‏ قال فالتمس فلم يجد شيىا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هل معك من القران شيء ‏"‏ ‏.‏ قال نعم سورة كذا وسورة كذا ‏.‏ لسور سماها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ زوجتكها بما معك من القران ‏"‏ ‏.‏ قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ وقد ذهب الشافعي الى هذا الحديث فقال ان لم يكن له شيء يصدقها وتزوجها على سورة من القران فالنكاح جاىز ويعلمها سورة من القران ‏.‏ وقال بعض اهل العلم النكاح جاىز ويجعل لها صداق مثلها ‏.‏ وهو قول اهل الكوفة واحمد واسحاق
১১১৪. হাসান ইবনু আলী খাললাল (রহঃ) ...... সাহল ইবনু সা’দ সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জনৈকা মহিলা এসে বলল, আমি আপনার জন্য আমাকে হেবা করলাম। মহিলাটি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার যদি প্রয়োজন না থাকে তবে এই মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একে মহর দেয়ার মত তোমার কাছে কিছু আছে কি? লোকটি বলল, এই লুঙ্গিটি ছাড়া আমার কাছে কিছুই নাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার লুঙ্গিটি যদি একে দিয়ে দাও তবে তো তোমার (ঘরে) বসে থাকতে হবে। তোমার নিজের তো কোন লুঙ্গি থাকবে না। সুতরাং (মাহরের জন্য) অন্য কিছু তালাশ কর। লোকটি বলল, কিছুই তো পাচ্ছি না। তিনি বললেন, তালাশ কর। লোহার আংটি হলেও (নিয়ে এস)। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি তালাশ করে কিছুই পেলনা। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা্) বললেন, তোমার কাছে কোরানের কিছু অংশ আছে কি? লোকটি কতগুলো সূরার নাম উল্লেখ করে বললঃ হ্যাঁ, অমুক সূরা অমুক সূরা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কোরানের যা আছে তার কারণে এই মহিলাকে তোমার সাথে বিয়ে দিয়ে দিলাম। - ইবনু মাজাহ ১৮৮৯, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১৪/১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এই হাদীস অনুসারে অভিমত প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, কারো যদি মহর প্রদানের মত কিছু না থাকে আর সে কোন মহিলাকে কুরআনের কোন সূরা মহরের বিনিময়ে বিয়ে করে তবে সে বিয়ে জাইয। আর ঐ ব্যক্তি এই মহিলাকে কুরআনের সেই সূরা শিখিয়ে দিবে। কোন কোন আলিম বলেন, এমতবস্তায় বিয়ে জাইয হবে। তবে মহিলাকে মহরে মিছল দিতে হবে এ হলো কুফাবাসী উলামা, আহমদ, ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ১১১৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ايوب، عن ابن سيرين، عن ابي العجفاء السلمي، قال قال عمر بن الخطاب الا لا تغالوا صدقة النساء فانها لو كانت مكرمة في الدنيا او تقوى عند الله لكان اولاكم بها نبي الله صلى الله عليه وسلم ما علمت رسول الله صلى الله عليه وسلم نكح شيىا من نساىه ولا انكح شيىا من بناته على اكثر من ثنتى عشرة اوقية ‏.‏ قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ وابو العجفاء السلمي اسمه هرم ‏.‏ والاوقية عند اهل العلم اربعون درهما وثنتا عشرة اوقية اربعماىة وثمانون درهما ‏.‏
১১১৫. ইবনু আবূ উমার (রহঃ) .... আবূল আজফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, সাবধান, তোমরা উচ্চ হারে মহর নির্ধারণ করবে না। কেননা, উচ্চহারে মহর নির্ধারণ করা যদি দুনিয়ার কোন সম্মান বা আল্লাহর কাছে কোনরূপ তাকওয়াজনক বিষয় হত, তবে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই তোমাদের চাইতে বেশী এর উদ্যোগী হতেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন স্ত্রীর বিবাহে বা তাঁর কোন কন্যাকে বিবাহ দিতে গিয়ে বার উকিয়া স্বর্ণ মুদ্রার অধিক মহর নির্ধারণ করেছেন বলে আমি জানি না। - ইবনু মাজাহ ১৮৮৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১৪/২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ। ওয়াবী আবূল আজফা সুলামী-এর নাম হলো হারাম। আলিমগণের মতে চল্লিশ দিরহামে হলো এক উকিয়া। সুতরাং বার উকিয়া হলো চার শ’ আশি দিরহাম।
হাদিস নং: ১১১৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، وعبد العزيز بن صهيب، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتق صفية وجعل عتقها صداقها ‏.‏ قال وفي الباب عن صفية ‏.‏ قال ابو عيسى حديث انس حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم وهو قول الشافعي واحمد واسحاق ‏.‏ وكره بعض اهل العلم ان يجعل عتقها صداقها حتى يجعل لها مهرا سوى العتق ‏.‏ والقول الاول اصح ‏.‏
১১১৬. কুতায়বা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আযাদ করে দিয়েছিলেন (এবং বিয়ে করেছিলেন), এবং তাঁর আযাদীকে তার মহর সাব্যস্ত করেছিলেন। - ইবনু মাজাহ ১৯৫৭, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কোন কোন সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম শাফিঈ আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। অপর কতক আলিম আযাদ করাকেই মহর হিসাবে সাব্যস্ত করা যাইজ রাখেননি। (তাঁদের মতে) আযাদ করা ছাড়া অন্য কোন বস্তুকে মহর সাব্যস্ত করতে হবে। প্রথম অভিমতটি অধিক সহীহ।
হাদিস নং: ১১১৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا علي بن مسهر، عن الفضل بن يزيد، عن الشعبي، عن ابي بردة بن ابي موسى، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ثلاثة يوتون اجرهم مرتين عبد ادى حق الله وحق مواليه فذلك يوتى اجره مرتين ورجل كانت عنده جارية وضيىة فادبها فاحسن ادبها ثم اعتقها ثم تزوجها يبتغي بذلك وجه الله فذلك يوتى اجره مرتين ورجل امن بالكتاب الاول ثم جاء الكتاب الاخر فامن به فذلك يوتى اجره مرتين ‏"‏ ‏.‏
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن صالح بن صالح، وهو ابن حى عن الشعبي، عن ابي بردة، عن ابي موسى، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه ‏.‏ قال ابو عيسى حديث ابي موسى حديث حسن صحيح ‏.‏ وابو بردة بن ابي موسى اسمه عامر بن عبد الله بن قيس ‏.‏ وروى شعبة وسفيان الثوري هذا الحديث عن صالح بن صالح بن حى ‏.‏ وصالح بن صالح بن حى هو والد الحسن بن صالح بن حى ‏.‏
১১১৭. হান্নাদ (রহঃ) .... আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তিকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেওয়া হবে। সেই গোলাম যে, আল্লাহর হক আদায় করে এবং তার মালিকের হকও আদায় করে তাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেওয়া হবে; এমন এক ব্যক্তি যার ছিল সুন্দরী দাসী। সে একে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় এবং অতি উত্তমরূপে তাকে শিক্ষা দেয় এরপর সে তাকে আযাদ করে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে বিয়ে করে সেই ব্যক্তিকেও দ্বিগুণ ছওয়াব দেওয়া হবে, এমন এক ব্যক্তি যে পূর্ববর্তী কিতাবের উপর ঈমান এনেছে এবং আখেরী কিতাব (কুরআন) আসার পর এর উপরও ঈমান এনেছে সেই ব্যক্তিকেও দ্বিগুণ ছওয়াব প্রদান করা হবে। - ইবনু মাজাহ ১৯৫৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইবনু আবী উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সাহীহ। আবূ বুরদা ইবনু আবূ মূসা-এর পূর্ণ নাম হলো আমির ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কায়স। শু’বা এবং ছাওরী (রহঃ) ও এই হাদীসটিকে ছালিহ ইবনু সালিহ ইবনু হায়্যি (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। সালিহ ইবনু সালিহ ইবনু হায়্যি (রহঃ) হলেন হাসান ইবনু সালিহ-এর পিতা।
হাদিস নং: ১১১৮ যঈফ (Dai'f)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابن لهيعة، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ ايما رجل نكح امراة فدخل بها فلا يحل له نكاح ابنتها فان لم يكن دخل بها فلينكح ابنتها وايما رجل نكح امراة فدخل بها او لم يدخل بها فلا يحل له نكاح امها ‏"‏ ‏.‏ قال ابو عيسى هذا حديث لا يصح من قبل اسناده وانما رواه ابن لهيعة والمثنى بن الصباح عن عمرو بن شعيب ‏.‏ والمثنى بن الصباح وابن لهيعة يضعفان في الحديث ‏.‏ والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم قالوا اذا تزوج الرجل امراة ثم طلقها قبل ان يدخل بها حل له ان ينكح ابنتها واذا تزوج الرجل الابنة فطلقها قبل ان يدخل بها لم يحل له نكاح امها لقول الله تعالى ‏(‏وامهات نساىكم ‏)‏ وهو قول الشافعي واحمد واسحاق ‏.‏
১১১৮. কুতায়বা (রহঃ) ..... আমর ইবনু শু’আয়ব (রহঃ) তৎপিতা-পিতামহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কোন মহিলাকে বিবাহ করে তার সাথে মিলিত হয় তবে সেই মহিলার কন্যার সাথে তার বিবাহ হালাল নয়। আর যদি মিলিত না হয় তবে সেই হিলার কন্যার সাথে বিবাহ হতে পারবে। আর কেউ যদি কোন মহিলাকে বিবাহ করে তবে সে তার সাথে মিলিত হউক বা না হউক ঐ মহিলার মা কে বিবাহ করা তার জন্য হালাল নয়। - ইরওয়া ১৮৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। আমর ইবনু শু’আয়ব (রহঃ) থেকে এটিকে ইবনু লাহিয়া এবং মুছান্না ইবনুস সাববাহ রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনু লাহীয়া এবং মুছান্না ইবনুুস সাববাহ উভয়েই যঈফ। এই হাদীস অনুসারে অধিকাংশ আলিমের আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, কোন মহিলাকে বিবাহ করার পর তার সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বেই যদি তাকে তালাক দিয়ে দেয় তবে তার কন্যাকে ঐ ব্যক্তির জন্য বিবাহ করা হালাল। যদি কন্যাকে বিবাহ করে এবং মিলিত হওয়ার পূর্বেই তাকে তালাক দিয়ে দেয় তবে তার মাকে বিবাহ করা হালাল নয়। কেনন, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ‏وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ আর তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের মা হারাম করা হয়েছে। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ১১১৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، واسحاق بن منصور، قالا حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة، قالت جاءت امراة رفاعة القرظي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت اني كنت عند رفاعة فطلقني فبت طلاقي فتزوجت عبد الرحمن بن الزبير وما معه الا مثل هدبة الثوب ‏.‏ فقال ‏ "‏ اتريدين ان ترجعي الى رفاعة لا حتى تذوقي عسيلته ويذوق عسيلتك ‏"‏ ‏.‏ قال وفي الباب عن ابن عمر وانس والرميصاء او الغميصاء وابي هريرة ‏.‏ قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند عامة اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان الرجل اذا طلق امراته ثلاثا فتزوجت زوجا غيره فطلقها قبل ان يدخل بها انها لا تحل للزوج الاول اذا لم يكن جامع الزوج الاخر ‏.‏
১১১৯. ইবনু আবূ উমার ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি রিফাআর বিবাহ বন্ধনে ছিলাম। তিনি আমাকে তালাক তালাক দিয়ে দেন এবং চুড়ান্ত তালাক দেন। তারপর আমি আবদুর রহমান ইবনু যুবায়রকে বিয়ে করি। কিন্তু তার কাছে কাপড়ের ঝালোরের তুল্যই রয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আবার রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চাও? না, যতক্ষণ না তুমি তার (আবদুর রহমানের) মধু আস্বাদ করেছ এবং সে তোমার মধু আস্বাদ করেছে ততক্ষণ তুমি তা পার না। - ইবনু মাজাহ ১৯৩৪, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে ইবনু উমার, আনাস, রুমায়সা বা গুমায়সা এবং আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপারাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয় এবং সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে আর সেই স্বামীও যদি মিলিত হওয়ার পূর্বেই যদি তালাক দিয়ে দেয় তবে প্রথম স্বামীর জন্য সে হালাল হবে না, যদিও দ্বিতীয় স্বামী তার সঙ্গে মিলিত হয় নি।
হাদিস নং: ১১২০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا اشعث بن عبد الرحمن بن زبيد الايامي، حدثنا مجالد، عن الشعبي، عن جابر بن عبد الله، وعن الحارث، عن علي، قالا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لعن المحل والمحلل له ‏.‏ قال وفي الباب عن ابن مسعود وابي هريرة وعقبة بن عامر وابن عباس ‏.‏ قال ابو عيسى حديث علي وجابر حديث معلول ‏.‏ هكذا روى اشعث بن عبد الرحمن عن مجالد عن عامر هو الشعبي عن الحارث عن علي وعامر عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وهذا حديث ليس اسناده بالقاىم لان مجالد بن سعيد قد ضعفه بعض اهل العلم منهم احمد بن حنبل ‏.‏ وروى عبد الله بن نمير هذا الحديث عن مجالد عن عامر عن جابر بن عبد الله عن علي ‏.‏ وهذا قد وهم فيه ابن نمير والحديث الاول اصح ‏.‏ وقد رواه مغيرة وابن ابي خالد وغير واحد عن الشعبي عن الحارث عن علي ‏.‏
১১২০. আবূ সাঈদ আশজ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিলার উদ্দেশ্যে) যে ব্যক্তি ’হিলা’ (বিয়ে) করে আর যার জন্য ’হিলা’ করা হয় উভয়ের উপরই লানত করেছে। - ইবনু মাজাহ ১৫৩৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে ইবনু মাসঊদ, আবূ হুরায়রা, উকবা ইবনু আমির ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আলী ও জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীসটি মা’লুল বা ক্রটিপূর্ণ। আশআছ ইবনু আবদুর রহমান-মুজালিদ-আমির-হারিস-আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে, এবং আমির-জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটির সনদ প্রতিষ্ঠিত নয়। করাণ আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) সহ কোন আলিম মুজালিদ ইবনু সাঈদ-কে যঈফ বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়রও এই হাদীসটিকে মুজালিদ-আমির-জারিব ইবনু আবদুল্লাহ-আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে ইবনু নুমায়রের বিভ্রান্তি ঘটেছে। প্রথম সূত্রটি অধিক সহীহ। মুগীরা ইবনু আবী খালিদ প্রমূখ এটিকে শা’বী- হারিছ- আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ১১২১ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو احمد الزبيري، حدثنا سفيان، عن ابي قيس، عن هزيل بن شرحبيل، عن عبد الله بن مسعود، قال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المحل والمحلل له ‏.‏ قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ وابو قيس الاودي اسمه عبد الرحمن بن ثروان ‏.‏ وقد روي هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه ‏.‏ والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منهم عمر بن الخطاب وعثمان بن عفان وعبد الله بن عمر وغيرهم وهو قول الفقهاء من التابعين وبه يقول سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق ‏.‏ قال وسمعت الجارود بن معاذ يذكر عن وكيع انه قال بهذا وقال ينبغي ان يرمى بهذا الباب من قول اصحاب الراى ‏.‏ قال جارود قال وكيع وقال سفيان اذا تزوج الرجل المراة ليحللها ثم بدا له ان يمسكها فلا يحل له ان يمسكها حتى يتزوجها بنكاح جديد ‏.‏
১১২১. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হীলা কারীকে এবং যার জন্য হীলা করা হয় তাকে লা’নত করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ রাবী আবূ কায়স আওদীর পূর্ণ নাম হলো আবদুর রহমান ইবনু ছারওয়ান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণিত আছে। উমার ইবনুল খাত্তাব, উছমান ইবনু আফফান, আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমূখ সাহাবী ও অপারাপর উলামাদের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাবিঈ ফকীহগনের বক্তব্যও এ-ই। এ হলো সুফইয়ান ছাওরী, ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। জারুদ, ওয়াকী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনিও এ মত, পোষণ করেন। তিনি বলেছেন, এই বিষয়ে কিয়াসকারীদের মতামত ছুড়ে ফেলে দেওয়া উচিৎ। ওয়াকী আরো বলেন, সুফইয়ান বলেছেন, কেউ যদি অন্যের জন্য হীলার উদ্দেশ্যে কোন স্ত্রী-লোককে বিবাহ করে এবং পরে যদি নিজেই তাকে রেখে দিতে চায় তবে নতুনভাবে বিবাহ করা ছাড়া তার জন্য তাকে রেখে দেওয়া হালাল হবেনা।
হাদিস নং: ১১২২ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عبد الله، والحسن، ابنى محمد بن علي عن ابيهما، عن علي بن ابي طالب، ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن متعة النساء وعن لحوم الحمر الاهلية زمن خيبر ‏.‏ قال وفي الباب عن سبرة الجهني وابي هريرة ‏.‏ قال ابو عيسى حديث علي حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم وانما روي عن ابن عباس شيء من الرخصة في المتعة ثم رجع عن قوله حيث اخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم وامر اكثر اهل العلم على تحريم المتعة وهو قول الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق ‏.‏
১১২২. ইবনু আবী উমার (রহঃ) .... আলী ইবনু আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধকালে মেয়েদের সাথে মুতআ বিাবাহ, গৃহ পালিত গাধার মাংস নিষিদ্ধ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ১৯৬১, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে সাবরা জুহানী ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সাহীহ। সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। মুতআ বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কিছু অবকাশ আছে বলে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই সব হাদীসের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে তিনি স্বীয় মত প্রত্যাহার করেন। অধিকাংশ আলিম মুতআ হারাম হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ হলো ইমাম ছাওরী, ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ১১২৩ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا سفيان بن عقبة، اخو قبيصة بن عقبة حدثنا سفيان الثوري، عن موسى بن عبيدة، عن محمد بن كعب، عن ابن عباس، قال انما كانت المتعة في اول الاسلام كان الرجل يقدم البلدة ليس له بها معرفة فيتزوج المراة بقدر ما يرى انه يقيم فتحفظ له متاعه وتصلح له شيىه حتى اذا نزلت الاية ‏:‏ ‏(‏ الا على ازواجهم او ما ملكت ايمانهم ‏)‏ قال ابن عباس فكل فرج سوى هذين فهو حرام ‏.‏
১১২৩. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মুতআ বিষয়টি ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে। কোন ব্যক্তি কার্য ব্যাপদেশে এমন অঞ্চলে বা শহরেও যেত সেখানে তার কোন পরিচিত জন থাকত না। তখন সে যতদিন সেখানে থাকবে বলে মনে করত ততদিনের জন্য বিয়ে করে নিত। সেই মহিলা তার মাল-সামান হিফাযত করত ও তার জিনিস-পত্তর তত্ত্বাবধান করত। শেষে স্বীয় স্ত্রী বা মালিকানাভূক্ত দাসী ব্যতীত তোমাদের জন্য হালাল নয়’’- মর্মে আয়াত নাযিল হলো। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ফলে এই দুইটি ছাড়া আর সব লজ্জাস্থান হারাম। - ইরওয়া ১৯০৩, মিশকাত - তাহকিক ছানী ৩১৫৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১১২৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الملك بن ابي الشوارب، حدثنا بشر بن المفضل، حدثنا حميد، وهو الطويل قال حدث الحسن، عن عمران بن حصين، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ لا جلب ولا جنب ولا شغار في الاسلام ومن انتهب نهبة فليس منا ‏"‏ ‏.‏ قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ قال وفي الباب عن انس وابي ريحانة وابن عمر وجابر ومعاوية وابي هريرة وواىل بن حجر ‏.‏
১১২৪. মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক ইবনু আবূ শাওয়ারিব (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামে ’জালাব’ (যাকাতের সম্পদ একত্রীকরণ) জানাব (দূরে সরানো) এবং শিগার (বিনিময়ে বিবাহ) নেই। আর অন্যের মাল ছিনতাইকারী আমাদের অন্তর্ভক্ত নয়। - মিশকাত - তাহকিক ছানী ২৯৪৭, সহিহ আবু দাউদ ২৩২৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আনাস, আবূ রায়হানা, ইবনু উমার, জাবির, মুআবিয়া, আবূ হুরায়রা এবং ওয়াইল ইবনু হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ১১২৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن موسى الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن نافع، عن ابن عمر، ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الشغار ‏.‏ قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح ‏.‏ والعمل على هذا عند عامة اهل العلم لا يرون نكاح الشغار ‏.‏ والشغار ان يزوج الرجل ابنته على ان يزوجه الاخر ابنته او اخته ولا صداق بينهما ‏.‏ وقال بعض اهل العلم نكاح الشغار مفسوخ ولا يحل وان جعل لهما صداقا ‏.‏ وهو قول الشافعي واحمد واسحاق ‏.‏ وروي عن عطاء بن ابي رباح انه قال يقران على نكاحهما ويجعل لهما صداق المثل ‏.‏ وهو قول اهل الكوفة ‏.‏
১১২৫. ইসহাক ইবনু মূসা আনছারী (রহঃ) .... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’বিনিময়ের বিবাহ’ থেকে নিষেধ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ১৮৮৩, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ। এই হাদীস অনুসারে অধিকাংশ আলিমের আমল রয়েছে। তাঁরা বিনিময়ের বিবাহ জাইয বলে মনে করেন না। বিনিময়ের বিবাহ হলো, কোন ব্যক্তি তার কন্যাকে অন্য এক ব্যক্তির নিকট এই শর্তে বিবাহ দিল যে ঐ ব্যক্তিও তার কন্যা বা বোনকে এর নিকট বিবাহ দিবে আর এই ক্ষেত্রে কারো কোন মহরানা দিতে হবে না। কতক আলিম বলেন, বিনিময়ের বিবাহ’ বাতিল। পরে যদি মহরানাও নির্ধারণ করে তবুও তা হালাল হবে না। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। আতা ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, তাদের উভয়েরই বিবাহ বহাল রাখা হবে আর তাদের ক্ষেত্রে মহর মিছল নির্দ্ধারিত হবে। এ হলো কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
হাদিস নং: ১১২৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، حدثنا عبد الاعلى بن عبد الاعلى، حدثنا سعيد بن ابي عروبة، عن ابي حريز، عن عكرمة، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى ان تزوج المراة على عمتها او على خالتها ‏.‏ وابو حريز اسمه عبد الله بن حسين ‏.‏
حدثنا نصر بن علي، حدثنا عبد الاعلى، عن هشام بن حسان، عن ابن سيرين، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثله ‏.‏ قال وفي الباب عن علي وابن عمر وعبد الله بن عمرو وابي سعيد وابي امامة وجابر وعاىشة وابي موسى وسمرة بن جندب ‏.‏
১১২৬. নাসর ইবনু আলী জাহযামী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মহিলাকে তার ফুফু বা খালার উপর (সতীনরূপে) বিয়ে করা নিষেধ করেছেন। - ইরওয়া ২৮৮২, যইফ আবু দাউদ ৩৫২

নাসর ইবনু আলী (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। - সহিহ ইবনু মাজাহ ১৯২৯, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আলী, ইবনু উমার, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ সাঈদ, আবূ উমামা, জাবির, আয়িশা আবূ মূসা এবং সামুরা ইবনু জুন্দব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।
অধ্যায় তালিকা