অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সুনান আত তিরমিজী
স্বাস্থ্য ও অবসর এমন দু'টো নিয়ামত যাতে বহু লোক ধোকায় নিপতিত।
মোট ১১১ টি হাদিস
হাদিস নং: ২৩৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا العباس بن محمد الدوري، حدثنا عبد الله بن يزيد المقرى، حدثنا سعيد بن ابي ايوب، عن عمرو بن جابر الحضرمي، عن جابر بن عبد الله، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " يدخل فقراء المسلمين الجنة قبل اغنياىهم باربعين خريفا " . هذا حديث حسن .
২৩৫৮. আব্বাস ইবন মুহাম্মদ দূরী (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দরিদ্র মুসলিমগন ধনীদের অর্ধেক দিন পূর্বেই জান্নাতে দাখেল হবে। "দরিদ্র মুহাজিরগন" এই শব্দে হাদিসটি সহীহ, মুসলিম ৮/২২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান।
হাদিস নং: ২৩৫৯
যঈফ (Dai'f)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا عباد بن عباد المهلبي، عن مجالد، عن الشعبي، عن مسروق، قال دخلت على عاىشة فدعت لي بطعام وقالت ما اشبع من طعام فاشاء ان ابكي الا بكيت . قال قلت لم قالت اذكر الحال التي فارق عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم الدنيا والله ما شبع من خبز ولحم مرتين في يوم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৩৫৯. আহমাদ ইবন মানী’ (রহঃ) ... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাছে গেলাম। তিনি আমার জন্য খানা নিয়ে আসতে বললেন, পরে বললেনঃ আমি পেট পুরে কখনো খাইনি। আমি যদি তাতে কাঁদতে চাই তবে কাঁদতে পারি। আমি বললাম তা কেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অবস্থায় দুনিয়া ত্যাগ করে গিয়েছেন, সে কথা মনে পড়ছে। আল্লাহর কসম, তিনি কখনো দিনে দুই বেলা রুটি-মাংস পেট পুরে খেতে পান নি।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব ৪/১০৯, মুখতাসার শামায়িল ১২৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব ৪/১০৯, মুখতাসার শামায়িল ১২৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৩৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، انبانا شعبة، عن ابي اسحاق، قال سمعت عبد الرحمن بن يزيد، يحدث عن الاسود بن يزيد، عن عاىشة، قالت ما شبع رسول الله صلى الله عليه وسلم من خبز شعير يومين متتابعين حتى قبض . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن ابي هريرة .
২৩৬০. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত পরপর দুই দিন যবের রুটি পেট ভরে খেতে পান নি। সহীহ, মুখতাসার শামাইল ১২৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৩৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء حدثنا المحاربي، حدثنا يزيد بن كيسان، عن ابي حازم، عن ابي هريرة، قال ما شبع رسول الله صلى الله عليه وسلم واهله ثلاثا تباعا من خبز البر حتى فارق الدنيا . هذا حديث صحيح حسن غريب من هذا الوجه .
২৩৬১. আবূ কুরায়ব মুহাম্মদ ইবন ’আলা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহলোক পরিত্যাগ করা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যগণ এক নাগাড়ে তিন দিন পেট পুরে আটার রুটি খেতে পান নি। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৩৪৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই সূত্রে গারীব।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই সূত্রে গারীব।
হাদিস নং: ২৩৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عباس بن محمد الدوري، حدثنا يحيى بن ابي بكير، حدثنا حريز بن عثمان، عن سليم بن عامر، قال سمعت ابا امامة، يقول ما كان يفضل عن اهل، بيت النبي صلى الله عليه وسلم خبز الشعير . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه . ويحيى بن ابي بكير هذا كوفي وابو بكير والد يحيى روى له سفيان الثوري ويحيى بن عبد الله بن بكير مصري صاحب الليث .
২৩৬২. আব্বাস ইবন মুহাম্মদ দূরী (রহঃ) .... সুলায়ম ইবন আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে যবের রুটি কখনো অতিরিক্ত হয়নি। সহীহ, মুখতাসার শামাইল ১২৪, তা’লীকুর রাগীব ৪/১১০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ, এই সূত্রে গারীব।
রাবী এই ইয়াহইয়া ইবন আবূ বুকায়র (রহঃ) হলেন কুফাবাসী। ইয়াহইয়ার পিতা হলেন আবূ বুকায়র। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) তার নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াহয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন বুকায়র (রহঃ) হলেন মিসরবাসী। তিনি লায়স ইবন সা’দ (রহঃ) এর ছাত্র।
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ, এই সূত্রে গারীব।
রাবী এই ইয়াহইয়া ইবন আবূ বুকায়র (রহঃ) হলেন কুফাবাসী। ইয়াহইয়ার পিতা হলেন আবূ বুকায়র। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) তার নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াহয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন বুকায়র (রহঃ) হলেন মিসরবাসী। তিনি লায়স ইবন সা’দ (রহঃ) এর ছাত্র।
হাদিস নং: ২৩৬৩
হাসান (Hasan)
حدثنا عبد الله بن معاوية الجمحي، حدثنا ثابت بن يزيد، عن هلال بن خباب، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يبيت الليالي المتتابعة طاويا واهله لا يجدون عشاء وكان اكثر خبزهم خبز الشعير . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৩৬৩. আবদুল্লাহ ইবন মুআবিয়া জুমাহী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যগণ পর পর কয়েক রাত্রি ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটত। তাদের জন্য রাত্রি আহারের সংস্থান হতনা, অধিকাংশ দিন যবের রুটিই ছিল তাদের খাদ্য। হাসান, ইবনু মাজাহ ২৩৪৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৩৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عمار، حدثنا وكيع، عن الاعمش، عن عمارة بن القعقاع، عن ابي زرعة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم اجعل رزق ال محمد قوتا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৩৬৪. আবূ আম্মার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ, মুহাম্মদ-এর পরিবারকে প্রাণ রক্ষার মত রিযক দান করুন। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪১৩৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৩৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا جعفر بن سليمان، عن ثابت، عن انس، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يدخر شيىا لغد . قال ابو عيسى هذا حديث غريب وقد روي هذا الحديث عن جعفر بن سليمان عن ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا .
২৩৬৫. কুতায়বা (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগামী দিনের জন্য কোন জিনিস জমা করে রাখতেন না। সহীহ, মুখতাসার শামাইল ৩০৪, তা’লীকুর রাগীব ২/৪২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। জাফার ইবন সুলায়মান ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারী এটিকে ছাবিত (রহঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি গারীব। জাফার ইবন সুলায়মান ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারী এটিকে ছাবিত (রহঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২৩৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا ابو معمر عبد الله بن عمرو، حدثنا عبد الوارث، عن سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن انس، قال ما اكل رسول الله صلى الله عليه وسلم على خوان ولا اكل خبزا مرققا حتى مات . قال هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث سعيد بن ابي عروبة .
২৩৬৬. আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত টেবিলে রেখে খানা খাননি এবং কখনো পাতলা রুটি খাননি। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩২৯২, ৩২৯৩, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাঈদ ইবন আবূ আরূবা (রহঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাঈদ ইবন আবূ আরূবা (রহঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
হাদিস নং: ২৩৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا عبيد الله بن عبد المجيد الحنفي، حدثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن دينار، اخبرنا ابو حازم، عن سهل بن سعد، انه قيل له اكل رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي يعني الحوارى فقال سهل ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي حتى لقي الله . فقيل له هل كانت لكم مناخل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ما كانت لنا مناخل . قيل فكيف كنتم تصنعون بالشعير قال كنا ننفخه فيطير منه ما طار ثم نثريه فنعجنه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد رواه مالك بن انس عن ابي حازم .
২৩৬৭. আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ..... সাহল ইবন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কখনো ময়দা খেয়েছেন? সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা (মৃত্যু) পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ময়দা দেখেননি। বলা হলঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আপনাদের চালনি জাতীয় কিছু ছিল কি? তিনি বললেনঃ না, আমাদের কোন চালনি ছিল না। বলা হলঃ তাহলে যব নিয়ে কি করতেন? তিনি বললেনঃ আমরা তাতে ফুঁক দিতাম। এতে যা উড়ে যাওয়ার তা উড়ে যেত। এরপর পানি ঢেলে তা মন্ড করে নিতাম। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৩৩৫, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। মালিক ইবন আনাস (রহঃ)-ও এটিকে আবূ হাযিম (রহঃ)-এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। মালিক ইবন আনাস (রহঃ)-ও এটিকে আবূ হাযিম (রহঃ)-এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ২৩৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن اسماعيل بن مجالد بن سعيد، حدثنا ابي، عن بيان، عن قيس بن ابي حازم، قال سمعت سعد بن ابي وقاص، يقول اني لاول رجل اهراق دما في سبيل الله واني لاول رجل رمى بسهم في سبيل الله ولقد رايتني اغزو في العصابة من اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم ما ناكل الا ورق الشجر والحبلة حتى ان احدنا ليضع كما تضع الشاة او البعير واصبحت بنو اسد يعزروني في الدين لقد خبت اذا وضل عملي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث بيان .
২৩৬৮. আমর ইবন ইসমাঈল ইবন মুজালিদ ইবন সাঈদ (রহঃ) ...... রায়ান ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে প্রথম রক্ত ঝরিয়েছে। আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে, আমি আমার এ অবস্থা দেখেছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের এক জামাআতে এক অভিযানে ছিলাম। আমরা গাছের পাতা ও বাবলার ফল ছাড়া কিছুই আহারের জন্য পাইনি। এমন কি আমাদের এক একজন উট-ছাগলের মলের মত মলত্যাগ করত। আর এখন বানূ আসাদের লোক এসে দীনের ব্যাপারে আমার ত্রুটি ধরছে। তা হলে তো আমি ব্যর্থ হলাম এবং আমার আমলও নিস্ফল হল।
সহীহ, মুখতাসার শামাইল ১১৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। বায়ানের রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
সহীহ, মুখতাসার শামাইল ১১৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। বায়ানের রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
হাদিস নং: ২৩৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا اسماعيل بن ابي خالد، حدثنا قيس، قال سمعت سعد بن مالك، يقول اني اول رجل من العرب رمى بسهم في سبيل الله ولقد رايتنا نغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وما لنا طعام الا الحبلة وهذا السمر حتى ان احدنا ليضع كما تضع الشاة ثم اصبحت بنو اسد يعزروني في الدين لقد خبت اذا وضل عملي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن عتبة بن غزوان .
২৩৬৯. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সা’দ ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছিঃ আমিই প্রথম আরব ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে তীর ছুড়েছে। আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুক্ত করতে দেখেছি তখন বাবলা বৃক্ষ আর বুনো জাম ছাড়া আমাদের সঙ্গে আহারের কোন কিছুই ছিল না। এমন কি তা খেয়ে আমাদের এক একজন বকরীর মলের ন্যায় মল ত্যাগ করত। এরপর এখন বানূ আসাদরা দীনের বিষয়ে আমার ত্রুটি ধরতে আসে। এ যদি হয় তাহলে তো আমি ক্ষতিগ্রস্ত এবং আমার আমলও নিষ্ফল। সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে উতবা ইবন গাযওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে উতবা ইবন গাযওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৩৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن محمد بن سيرين، قال كنا عند ابي هريرة وعليه ثوبان ممشقان من كتان فتمخط في احدهما ثم قال بخ بخ يتمخط ابو هريرة في الكتان لقد رايتني واني لاخر فيما بين منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وحجرة عاىشة من الجوع مغشيا على فيجيء الجاىي فيضع رجله على عنقي يرى ان بي الجنون وما بي جنون وما هو الا الجوع . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
من هذا الوجه
من هذا الوجه
২৩৭০. কুতায়বা (রহঃ) ..... মুহাম্মদ ইবন সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে ছিলাম। তাঁর গায়ে তখন দুটো রঙ্গিন কাতান কাপড় ছিল। একটাতে তিনি নাক ঝাড়লেন। এরপর বললেনঃ বেশ বেশ, আবূ হুরায়রা আজ কাতান কাপড় দিয়ে নাক ঝাড়ছে। অথচ তোমরা আমাকে দেখেছ যে, ক্ষুধায় কাতর হয়ে আয়িশার হুজরা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বরের মাঝে বেহুশ হয়ে পড়ে আছি। তখন একজন এসে আমার গর্দানে পা চাপা দিয়ে ধরছে। সে মনে করেছে আমাকে বুঝি পাগলামোয় পেয়েছে। অথচ আমার কোন পাগলামো রোগ ছিল না। এ তো ক্ষুধার জ্বালা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সহীহ, বুখারি ৭৩২৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই সূত্রে গারীব।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই সূত্রে গারীব।
হাদিস নং: ২৩৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا العباس بن محمد الدوري، حدثنا عبد الله بن يزيد، حدثنا حيوة بن شريح، اخبرني ابو هانى الخولاني، ان ابا علي، عمرو بن مالك الجنبي اخبره عن فضالة بن عبيد، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا صلى بالناس يخر رجال من قامتهم في الصلاة من الخصاصة وهم اصحاب الصفة حتى تقول الاعراب هولاء مجانين او مجانون فاذا صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم انصرف اليهم فقال " لو تعلمون ما لكم عند الله لاحببتم ان تزدادوا فاقة وحاجة " . قال فضالة وانا يومىذ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৩৭১. আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ দূরী (রহঃ) ..... ফাযালা ইবন উবায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন লোকদের নিয়ে সালাতে দাঁড়াতেন তখন কিছু লোক ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় দাঁড়ানো থেকে সালাতের মাঝেই নীচে পড়ে যেতেন। এরা ছিলেন, ’সুফফার’ সদস্য।* এমনকি তাদের এই অবস্থা দেখে মরুবাসীারবরা বলতঃ এরা পাগল নাকি!
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) শেষ করে এদের দিকে ফিরতেন। বলতেনঃ তোমরা যদি জানতে আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য কি নেয়ামত আছে তাহলে তোমরা আরো ক্ষুধার্ত থাকতে আরো অভাবী থাকতে ভালবাসতে। ফায়ালা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি ঐ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গেই ছিলাম।
সহীহ, তা’লিকুর রাগীব ৪/১২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) শেষ করে এদের দিকে ফিরতেন। বলতেনঃ তোমরা যদি জানতে আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য কি নেয়ামত আছে তাহলে তোমরা আরো ক্ষুধার্ত থাকতে আরো অভাবী থাকতে ভালবাসতে। ফায়ালা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি ঐ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গেই ছিলাম।
সহীহ, তা’লিকুর রাগীব ৪/১২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
নোট: * একদল সাহাবী সাহাবী তালীম ও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের অপেক্ষায় সব সময় হাযির থাকতেন। তাদের কোন বাড়ি-ঘর বা নির্দিষ্ট কো কামাই-রোযগার ছিল না। তারা সুফফা বা মসজিদে নববীর আঙ্গিনায় বসবাস করতেন। তারা খুবই দরিদ্র ছিলেন, কাঠ কেটে বা কায়িক পরিশ্রম করে বা নবীজীর বদান্যতার ওয়াসীলায় তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদেরকে আহলে সুফফা বলা হত।
হাদিস নং: ২৩৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا ادم بن ابي اياس، حدثنا شيبان ابو معاوية، حدثنا عبد الملك بن عمير، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم في ساعة لا يخرج فيها ولا يلقاه فيها احد فاتاه ابو بكر فقال " ما جاء بك يا ابا بكر " . فقال خرجت القى رسول الله صلى الله عليه وسلم وانظر في وجهه والتسليم عليه . فلم يلبث ان جاء عمر فقال " ما جاء بك يا عمر " . قال الجوع يا رسول الله قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وانا قد وجدت بعض ذلك " . فانطلقوا الى منزل ابي الهيثم بن التيهان الانصاري وكان رجلا كثير النخل والشاء ولم يكن له خدم فلم يجدوه فقالوا لامراته اين صاحبك فقالت انطلق يستعذب لنا الماء . فلم يلبثوا ان جاء ابو الهيثم بقربة يزعبها فوضعها ثم جاء يلتزم النبي صلى الله عليه وسلم ويفديه بابيه وامه ثم انطلق بهم الى حديقته فبسط لهم بساطا ثم انطلق الى نخلة فجاء بقنو فوضعه فقال النبي صلى الله عليه وسلم " افلا تنقيت لنا من رطبه " . فقال يا رسول الله اني اردت ان تختاروا او قال تخيروا من رطبه وبسره . فاكلوا وشربوا من ذلك الماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هذا والذي نفسي بيده من النعيم الذي تسالون عنه يوم القيامة ظل بارد ورطب طيب وماء بارد " . فانطلق ابو الهيثم ليصنع لهم طعاما فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تذبحن ذات در " . قال فذبح لهم عناقا او جديا فاتاهم بها فاكلوا فقال النبي صلى الله عليه وسلم " هل لك خادم " . قال لا . قال " فاذا اتانا سبى فاىتنا " . فاتي النبي صلى الله عليه وسلم براسين ليس معهما ثالث فاتاه ابو الهيثم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اختر منهما " . فقال يا نبي الله اختر لي . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ان المستشار موتمن خذ هذا فاني رايته يصلي واستوص به معروفا " . فانطلق ابو الهيثم الى امراته فاخبرها بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت امراته ما انت ببالغ ما قال فيه النبي صلى الله عليه وسلم الا ان تعتقه قال فهو عتيق . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ان الله لم يبعث نبيا ولا خليفة الا وله بطانتان بطانة تامره بالمعروف وتنهاه عن المنكر وبطانة لا تالوه خبالا ومن يوق بطانة السوء فقد وقي " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
২৩৭২. মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সময় (ঘর থেকে) বের হলেন যে সময় (সাধারণত) তিনি বের হন না এবং এই সময়ে তাঁর সঙ্গে কেউ মূলাকাত করতেও আসে না। অনন্তর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে এলেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ বকর, তোমার আগমনের কারণ কি?
তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলাম। তাঁর চেহারা মুবারকের দিকে তাকাব এবং তাঁকে সালাম পেশ করব। কিছুক্ষণ না যেতেই উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে হাযির হলেন। তিনি বললেন, হে উমার তোমার আগমনের কারণ কি? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, ক্ষুধার জ্বালায়। নবীজী বললেনঃ আমিও এই ধরণের কিছু পাচ্ছি।
এরপর তারা সকলেই আবূল হায়সাম ইবন তায়্যিহান আনসারীর বাড়ি চললেন। তিনি বহু খেজুর বৃক্ষ ও ছাগলের অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন। তবে তাঁর কোন চাকর-নফর ছিল না। তাঁরা তাকে বাড়ি পেলেন না। তার স্ত্রীকে বললেনঃ তোমার সঙ্গী কই?
তার স্ত্রী বললেনঃ আমাদের জন্য মিঠা পানি আনতে গিয়েছেন তিনি। অল্পক্ষণ পরেই আবুল হায়ছাম পানি ভর্তি মশক বয়ে ফিরে এলেন। এরপর তিনি মশকটি রাখলেন এবং জলদি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জাপটে ধরলেন এবং তাঁর জন্য স্বীয় মা-বাপ কুরবান হোক কথাটি বললেন। এরপর তাঁদের নিয়ে তার বাগানে গেলেন এবং তাঁদের জন্য একটি বিছানা বিছিয়ে দিলেন। পরে গিয়ে একটি খেজুর গাছ থেকে একটি ছড়া পেড়ে সামনে এনে রাখলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাদের জন্য পাকাগুলি আলাদা করে নিয়ে আসতে পাররে না?
আবুল হায়ছাম বললেনঃ আমার ইচ্ছা হল, আপনারা কাচা পাকা যা ইচ্ছা পছন্দ করে নেন।
এরপর তাঁরা তা আহার করলেন এবং ঐ পানি পান করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, এ-ও এমন এক নেয়ামত যে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রশ্ন করা হবে। এই শীতল ছায়া, সুস্বাদু পাকা টাটকা খেজুর আর ঠান্ডা পানি (কত নেয়ামত!)
পরে আবুল হায়ছাম (রাঃ) তাঁদের জন্য খানা প্রস্তুত করতে উঠে চললেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন দুধওয়ালা কোন পশু যবেহ করবে না।
তিনি তাঁদের জন্য একটি বকরীর বাচ্চা যবেহ করলেন এবং তা পাকিয়ে নিয়ে এলেন। এরপর সকলেই তা খেলেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন তোমার কোন খাদেম আছে কি? তিনি বললেনঃ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যখন কোন বন্দী আসবে তখন আমার কাছে এসো।
পরবর্তীকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দু’টি দাস আসে। তৃতীয় আর কোন দাস সেই সাথে ছিল না। আবুল হায়ছাম রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাঁর কাছে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু’টোর যেটি পছন্দ হয় নিয়ে যাও।
আবুল হায়ছাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে আল্লাহর নবী, আপনিই আমার জন্য একটিকে পছন্দ করে দিন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পরামর্শদাতাকে আমানতদার হতে হবে। এটিকে নাও। একে আমি সালাত (নামায) আদায় করতে দেখেছি। তার বিষয়ে আমি তোমাকে সদাচারের বিশেষ নসীহত করছি।
আবুল হায়ছাম রাদিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীর কাছে গেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি সম্পর্কে তাকে জানালেন। তখন তার স্ত্রী বললেনঃ তুমি একে আযাদ করে দেওয়া ছাড়া এর বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে যা করতে বলেছেন সে স্তরে পৌছতে পারবে না। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এ এখন স্বাধীন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তাআলা এমন কোন নবী বা খালীফা পাঠাননি যার দুইজন অন্তরঙ্গ পরামর্শদাতা নেই। একজন তো তাকে সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে থাকে। আরেকজন তার ক্ষতি করতে বিন্দু মাত্র কসুর করে না। আর যাকে মন্দ পরামর্শদাতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তিনিই বেঁচে যেতে পেরেছেন। -
সহীহ, সহিহাহ ১৬৪১, মুখতাসার শামাইল ১১৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলাম। তাঁর চেহারা মুবারকের দিকে তাকাব এবং তাঁকে সালাম পেশ করব। কিছুক্ষণ না যেতেই উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে হাযির হলেন। তিনি বললেন, হে উমার তোমার আগমনের কারণ কি? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, ক্ষুধার জ্বালায়। নবীজী বললেনঃ আমিও এই ধরণের কিছু পাচ্ছি।
এরপর তারা সকলেই আবূল হায়সাম ইবন তায়্যিহান আনসারীর বাড়ি চললেন। তিনি বহু খেজুর বৃক্ষ ও ছাগলের অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন। তবে তাঁর কোন চাকর-নফর ছিল না। তাঁরা তাকে বাড়ি পেলেন না। তার স্ত্রীকে বললেনঃ তোমার সঙ্গী কই?
তার স্ত্রী বললেনঃ আমাদের জন্য মিঠা পানি আনতে গিয়েছেন তিনি। অল্পক্ষণ পরেই আবুল হায়ছাম পানি ভর্তি মশক বয়ে ফিরে এলেন। এরপর তিনি মশকটি রাখলেন এবং জলদি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জাপটে ধরলেন এবং তাঁর জন্য স্বীয় মা-বাপ কুরবান হোক কথাটি বললেন। এরপর তাঁদের নিয়ে তার বাগানে গেলেন এবং তাঁদের জন্য একটি বিছানা বিছিয়ে দিলেন। পরে গিয়ে একটি খেজুর গাছ থেকে একটি ছড়া পেড়ে সামনে এনে রাখলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাদের জন্য পাকাগুলি আলাদা করে নিয়ে আসতে পাররে না?
আবুল হায়ছাম বললেনঃ আমার ইচ্ছা হল, আপনারা কাচা পাকা যা ইচ্ছা পছন্দ করে নেন।
এরপর তাঁরা তা আহার করলেন এবং ঐ পানি পান করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, এ-ও এমন এক নেয়ামত যে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রশ্ন করা হবে। এই শীতল ছায়া, সুস্বাদু পাকা টাটকা খেজুর আর ঠান্ডা পানি (কত নেয়ামত!)
পরে আবুল হায়ছাম (রাঃ) তাঁদের জন্য খানা প্রস্তুত করতে উঠে চললেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন দুধওয়ালা কোন পশু যবেহ করবে না।
তিনি তাঁদের জন্য একটি বকরীর বাচ্চা যবেহ করলেন এবং তা পাকিয়ে নিয়ে এলেন। এরপর সকলেই তা খেলেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন তোমার কোন খাদেম আছে কি? তিনি বললেনঃ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যখন কোন বন্দী আসবে তখন আমার কাছে এসো।
পরবর্তীকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দু’টি দাস আসে। তৃতীয় আর কোন দাস সেই সাথে ছিল না। আবুল হায়ছাম রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাঁর কাছে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু’টোর যেটি পছন্দ হয় নিয়ে যাও।
আবুল হায়ছাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে আল্লাহর নবী, আপনিই আমার জন্য একটিকে পছন্দ করে দিন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পরামর্শদাতাকে আমানতদার হতে হবে। এটিকে নাও। একে আমি সালাত (নামায) আদায় করতে দেখেছি। তার বিষয়ে আমি তোমাকে সদাচারের বিশেষ নসীহত করছি।
আবুল হায়ছাম রাদিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীর কাছে গেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি সম্পর্কে তাকে জানালেন। তখন তার স্ত্রী বললেনঃ তুমি একে আযাদ করে দেওয়া ছাড়া এর বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে যা করতে বলেছেন সে স্তরে পৌছতে পারবে না। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এ এখন স্বাধীন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তাআলা এমন কোন নবী বা খালীফা পাঠাননি যার দুইজন অন্তরঙ্গ পরামর্শদাতা নেই। একজন তো তাকে সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে থাকে। আরেকজন তার ক্ষতি করতে বিন্দু মাত্র কসুর করে না। আর যাকে মন্দ পরামর্শদাতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তিনিই বেঁচে যেতে পেরেছেন। -
সহীহ, সহিহাহ ১৬৪১, মুখতাসার শামাইল ১১৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ২৩৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا صالح بن عبد الله، حدثنا ابو عوانة، عن عبد الملك بن عمير، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج يوما وابو بكر وعمر فذكر نحو هذا الحديث ولم يذكر فيه عن ابي هريرة وحديث شيبان اتم من حديث ابي عوانة واطول . وشيبان ثقة عندهم صاحب كتاب . وقد روي عن ابي هريرة هذا الحديث من غير هذا الوجه وروي عن ابن عباس ايضا .
২৩৭৩. সালিহ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ...... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বের হলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ নেই। সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
শায়বান (রহঃ) এর রিওয়ায়াতটি (২৩৭১ নং) আবূ আওয়ানা (রহঃ) এর (২৩৭২ নং) তুলনায় দীর্ঘতর এবং অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মতে শায়বান (রহঃ) ছিকা এবং নিভর্রযোগ্য রাবী। তার সংকলিত গ্রন্থও রয়েছে।
শায়বান (রহঃ) এর রিওয়ায়াতটি (২৩৭১ নং) আবূ আওয়ানা (রহঃ) এর (২৩৭২ নং) তুলনায় দীর্ঘতর এবং অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মতে শায়বান (রহঃ) ছিকা এবং নিভর্রযোগ্য রাবী। তার সংকলিত গ্রন্থও রয়েছে।
হাদিস নং: ২৩৭৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الله بن ابي زياد، حدثنا سيار بن حاتم، عن سهل بن اسلم، عن يزيد بن ابي منصور، عن انس بن مالك، عن ابي طلحة، قال شكونا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم الجوع ورفعنا عن بطوننا عن حجر حجر فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حجرين . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه .
২৩৭৪. আবদুল্লাহ ইবন আবূ যিয়াদ (রহঃ) .... আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনাহারের অভিযোগ করলাম এবং আমাদের পেটের কাপড় সরিয়ে এক একটি পাথর (বাঁধা) দেখালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর পেটে দু’টো পাথর বাঁধা দেখালেন।
যঈফ, মুখতাসার শামাইল ১১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।
যঈফ, মুখতাসার শামাইল ১১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।
হাদিস নং: ২৩৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو الاحوص، عن سماك بن حرب، قال سمعت النعمان بن بشير، يقول الستم في طعام وشراب ما شىتم لقد رايت نبيكم صلى الله عليه وسلم وما يجد من الدقل ما يملا بطنه . قال وهذا حديث صحيح . قال ابو عيسى وروى ابو عوانة وغير واحد عن سماك بن حرب نحو حديث ابي الاحوص . وروى شعبة هذا الحديث عن سماك عن النعمان بن بشير عن عمر .
২৩৭৫. কুতায়বা (রহঃ) ..... সিমাক ইবন হারব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি নু’মান ইবন বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছিঃ তোমর তো এখন তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী পানাহার করতে পার অথচ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি দেখেছি যে, তিনি এমন কোন রদ্দী খেজুরও পাচ্ছেন না যা দিয়ে তিনি পেট ভরতে পারেন।
সহীহ, মুখতাসার শামাইল ১১০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ আওয়ানা প্রমুখ (রহঃ) ... সিমাক ইবন হারব (রহঃ) থেকে আবুল আহওয়াস (রহঃ)-এর অনুরূপ (২৩৭৫ নং) বর্ণনা করেছেন। শু’বা (রহঃ)-ও এই হাদীসটি সিমাক-নুমান ইবন বাশীর-উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
সহীহ, মুখতাসার শামাইল ১১০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ আওয়ানা প্রমুখ (রহঃ) ... সিমাক ইবন হারব (রহঃ) থেকে আবুল আহওয়াস (রহঃ)-এর অনুরূপ (২৩৭৫ নং) বর্ণনা করেছেন। শু’বা (রহঃ)-ও এই হাদীসটি সিমাক-নুমান ইবন বাশীর-উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২৩৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن بديل بن قريش اليامي الكوفي، حدثنا ابو بكر بن عياش، عن ابي حصين، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ليس الغنى عن كثرة العرض ولكن الغنى غنى النفس " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو حصين اسمه عثمان بن عاصم الاسدي .
২৩৭৬. আহমাদ ইবন বুদায়ল ইবন কুরায়শ ইয়ামী কূফী (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বেশী মাল-সামান থাকার নাম ধনী হওয়া নয়। বরং মনের দিক থেকে ধনী হওয়ার নামই আসলে ধনী হওয়া। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪১৩৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূ হুসায়ন-এর নাম হল উছমান ইবন আসিম আসাদী।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূ হুসায়ন-এর নাম হল উছমান ইবন আসিম আসাদী।
হাদিস নং: ২৩৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن سعيد المقبري، عن ابي الوليد، قال سمعت خولة بنت قيس، وكانت، تحت حمزة بن عبد المطلب تقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان هذا المال خضرة حلوة من اصابه بحقه بورك له فيه ورب متخوض فيما شاءت به نفسه من مال الله ورسوله ليس له يوم القيامة الا النار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو الوليد اسمه عبيد سنوطى
২৩৭৭. কুতায়বা (রহঃ) .... হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর স্ত্রী খাওলা বিনত কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এই ধন-দৌলত হল শ্যামল মনোরম ও মিষ্টি। যে ব্যক্তি এর হকসহ তা লাভ করে তার জন্য একে বরকতময় করে দেওয়া হয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এই সম্পদ যে ব্যক্তি তার মনের খায়েশ অনুসারে ব্যবহার করে কিয়ামতের দিন জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই সে লাভ করবে না। সহীহ, সহিহাহ ১৫৯২, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৪০১৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবুল ওয়ালীদ (রহঃ) এর নাম হল উবায়দ সানূতা।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবুল ওয়ালীদ (রহঃ) এর নাম হল উবায়দ সানূতা।