হাদিস নং: ৪৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن يحيى بن ابي كثير، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد الخدري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اوتروا قبل ان تصبحوا " .
৪৬৮. হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই তোমরা বিতর আদায় করে নিবে। - ইবনু মাজাহ ১১৮৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৪৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا ابن جريج، عن سليمان بن موسى، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا طلع الفجر فقد ذهب كل صلاة الليل والوتر فاوتروا قبل طلوع الفجر " . قال ابو عيسى وسليمان بن موسى قد تفرد به على هذا اللفظ . وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " لا وتر بعد صلاة الصبح " . وهو قول غير واحد من اهل العلم . وبه يقول الشافعي واحمد واسحاق لا يرون الوتر بعد صلاة الصبح .
৪৬৯. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ...... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সুবহে সা’দিকের সাথে সাথে রাতের সালাত (নামায/নামাজ) ও বিতরের ওয়াক্ত চলে যায়। সুতরাং তোমরা সুবহে সা’দিকের পুর্বেই বিতর আদায় করে নিবে। - ইরওয়া ২/১৫৪, সহিহ আবু দাউদ ১২৯০,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটিকে এই শব্দে কেবল সুলায়মান ইবনু মূসা (রহঃ)-ই রিওয়ায়াত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ ফজরের পর আর বিতর নেই। এ হ’ল একাধিক আলিমের অভিমত। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এই মত ব্যক্ত করেছেন। ফজরের পর বিতর আছে বলে তারা মনে করেন না।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটিকে এই শব্দে কেবল সুলায়মান ইবনু মূসা (রহঃ)-ই রিওয়ায়াত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ ফজরের পর আর বিতর নেই। এ হ’ল একাধিক আলিমের অভিমত। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এই মত ব্যক্ত করেছেন। ফজরের পর বিতর আছে বলে তারা মনে করেন না।
হাদিস নং: ৪৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ملازم بن عمرو، حدثني عبد الله بن بدر، عن قيس بن طلق بن علي، عن ابيه، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا وتران في ليلة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . واختلف اهل العلم في الذي يوتر من اول الليل ثم يقوم من اخره فراى بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ومن بعدهم نقض الوتر وقالوا يضيف اليها ركعة ويصلي ما بدا له ثم يوتر في اخر صلاته لانه " لا وتران في ليلة " . وهو الذي ذهب اليه اسحاق . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم اذا اوتر من اول الليل ثم نام ثم قام من اخر الليل فانه يصلي ما بدا له ولا ينقض وتره ويدع وتره على ما كان . وهو قول سفيان الثوري ومالك بن انس وابن المبارك والشافعي واهل الكوفة واحمد . وهذا اصح لانه قد روي من غير وجه ان النبي صلى الله عليه وسلم قد صلى بعد الوتر .
৪৭০. হান্নাদ (রহঃ) ..... তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, এক রাতে দুইবার বিতর নেই। - সহিহ আবু দাউদ ১২৯৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব। প্রথম রাতে বিতর আদায়ের পর শেষরাতে তাহাজ্জুদ আদায় করলে পুনরায় বিতর আদায় করতে হবে কিনা এই বিষয়ে আলিমদের মতবিরোধ রয়েছে। কতক সাহাবী ও পরবর্তী যুগের আলিম মনে করেন এতে প্রথম রাতের বিতর বিনষ্ট হয়ে যাবে। তারা বলেনঃ প্রথম রাতের আদায়কৃত বিতরের সঙ্গে আরো এক রাকআত সংযোগ করবে, পরে যত পরিমাণ ইচ্ছা সালাতুত্ তাহাজ্জুদ পড়বে। শেষে বিতর আদায় করে নিবে। কারণ এক রাতে দুইবার বিতর নেই। এ হ’ল ইমাম ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
কতক ফকীহ সাহাবী ও অন্যান্য আলিম বলেনঃ কেউ যদি প্রথম রাতে বিতর আদায় করে নেয় এবং ঘুমিয়ে যায়, এর পর শেষরাতে উঠে, তবে তার যত পরিমাণ ইচ্ছা তাহাজ্জুদ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পারে। এতে তার প্রথম রাতে আদায়কৃত বিতর বিনষ্ট হবে না। সে তার বিতরকে পূর্বাবস্থায় রেখে দেবে। এ হ’ল সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, আহমদ ও ইবনু মুবারক (রহঃ)-এর অভিমত। এই অভিমতটই অধিকতর সহীহ। কেননা বিভিন্ন সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বিতর আদায়ের পরও অনেক সময় সালাত আদায় করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব। প্রথম রাতে বিতর আদায়ের পর শেষরাতে তাহাজ্জুদ আদায় করলে পুনরায় বিতর আদায় করতে হবে কিনা এই বিষয়ে আলিমদের মতবিরোধ রয়েছে। কতক সাহাবী ও পরবর্তী যুগের আলিম মনে করেন এতে প্রথম রাতের বিতর বিনষ্ট হয়ে যাবে। তারা বলেনঃ প্রথম রাতের আদায়কৃত বিতরের সঙ্গে আরো এক রাকআত সংযোগ করবে, পরে যত পরিমাণ ইচ্ছা সালাতুত্ তাহাজ্জুদ পড়বে। শেষে বিতর আদায় করে নিবে। কারণ এক রাতে দুইবার বিতর নেই। এ হ’ল ইমাম ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
কতক ফকীহ সাহাবী ও অন্যান্য আলিম বলেনঃ কেউ যদি প্রথম রাতে বিতর আদায় করে নেয় এবং ঘুমিয়ে যায়, এর পর শেষরাতে উঠে, তবে তার যত পরিমাণ ইচ্ছা তাহাজ্জুদ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পারে। এতে তার প্রথম রাতে আদায়কৃত বিতর বিনষ্ট হবে না। সে তার বিতরকে পূর্বাবস্থায় রেখে দেবে। এ হ’ল সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, আহমদ ও ইবনু মুবারক (রহঃ)-এর অভিমত। এই অভিমতটই অধিকতর সহীহ। কেননা বিভিন্ন সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বিতর আদায়ের পরও অনেক সময় সালাত আদায় করেছেন।
হাদিস নং: ৪৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا حماد بن مسعدة، عن ميمون بن موسى المرىي، عن الحسن، عن امه، عن ام سلمة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي بعد الوتر ركعتين . قال ابو عيسى وقد روي نحو هذا عن ابي امامة وعاىشة وغير واحد عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৪৭১. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের পর দু’রাকআত (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছেন। - ইবনু মাজাহ ১১৯৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ উমামা, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং আরো অনেকের সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ উমামা, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং আরো অনেকের সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত আছে।
হাদিস নং: ৪৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا مالك بن انس، عن ابي بكر بن عمر بن عبد الرحمن، عن سعيد بن يسار، قال كنت امشي مع ابن عمر في سفر فتخلفت عنه فقال اين كنت فقلت اوترت . فقال اليس لك في رسول الله اسوة رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر على راحلته . قال وفي الباب عن ابن عباس . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح . وقد ذهب بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم الى هذا وراوا ان يوتر الرجل على راحلته . وبه يقول الشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم لا يوتر الرجل على الراحلة واذا اراد ان يوتر نزل فاوتر على الارض . وهو قول بعض اهل الكوفة . اخر ابواب الوتر
৪৭২. কুতায়বা (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ আমি একবার ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। একবার আমি তাঁর পিছনে পড়ে গেলাম। পরে তিনি আমাকে বললেন, কোথায় ছিলে? আমি বললামঃ সালাতুল বিতর আদায় করে নিলাম। তিনি বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝে কি তোমার জন্য উত্তম আদর্শ নিহিত নেই? আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বাহনের উপর সালাতুল বিতর আদায় করতে দেখেছি। - বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক ফকীহ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদীস অনুসারে মত প্রকাশ করেছেন। তারা বাহনের উপর বিতর আদায় করা যায় বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও এই অভিমত। কোন কোন আলিম বলেনঃ বাহনের উপর কেউ বিতর আদায় করবে না। বিতর আদায় করতে চাইলে বাহন থেকে নেমে আসবে এবং ভূমিতে তা আদায় করবে। এ হ’ল কতক কূফাবাসী ফকীহ এর অভিমত।
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক ফকীহ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদীস অনুসারে মত প্রকাশ করেছেন। তারা বাহনের উপর বিতর আদায় করা যায় বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও এই অভিমত। কোন কোন আলিম বলেনঃ বাহনের উপর কেউ বিতর আদায় করবে না। বিতর আদায় করতে চাইলে বাহন থেকে নেমে আসবে এবং ভূমিতে তা আদায় করবে। এ হ’ল কতক কূফাবাসী ফকীহ এর অভিমত।
হাদিস নং: ৪৭৩
যঈফ (Dai'f)
حدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء حدثنا يونس بن بكير، عن محمد بن اسحاق، قال حدثني موسى بن فلان بن انس، عن عمه، ثمامة بن انس بن مالك عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من صلى الضحى ثنتى عشرة ركعة بنى الله له قصرا من ذهب في الجنة " . قال وفي الباب عن ام هانى وابي هريرة ونعيم بن همار وابي ذر وعاىشة وابي امامة وعتبة بن عبد السلمي وابن ابي اوفى وابي سعيد وزيد بن ارقم وابن عباس . قال ابو عيسى حديث انس حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه .
৪৭৩. আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) .... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি বার রাকআত সালাতুয্-যুহা (চাশতের নাময) আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে একটি সোনার প্রাসা’দ নির্মান করবেন। - ইবনু মাজাহ ১৩৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উম্মু হানী, আবূ হুরায়রা, নুআয়ম ইবনু হাম্মার, আবূ যর, আয়িশা, আবূ উমামা, উত্বা ইবনু আবদ আস-সুলামী, ইবনু আবী আওফ, আবূ সাঈদ, যায়দ ইবনু আরকাম ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ব্যতীত এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
এই বিষয়ে উম্মু হানী, আবূ হুরায়রা, নুআয়ম ইবনু হাম্মার, আবূ যর, আয়িশা, আবূ উমামা, উত্বা ইবনু আবদ আস-সুলামী, ইবনু আবী আওফ, আবূ সাঈদ, যায়দ ইবনু আরকাম ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ব্যতীত এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
হাদিস নং: ৪৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو موسى، محمد بن المثنى حدثنا محمد بن جعفر، اخبرنا شعبة، عن عمرو بن مرة، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، قال ما اخبرني احد، انه راى النبي صلى الله عليه وسلم يصلي الضحى الا ام هانى فانها حدثت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل بيتها يوم فتح مكة فاغتسل فسبح ثمان ركعات ما رايته صلى صلاة قط اخف منها غير انه كان يتم الركوع والسجود . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وكان احمد راى اصح شيء في هذا الباب حديث ام هانى . واختلفوا في نعيم فقال بعضهم نعيم بن خمار وقال بعضهم ابن همار ويقال ابن هبار ويقال ابن همام والصحيح ابن همار . وابو نعيم وهم فيه فقال ابن حماز واخطا فيه ثم ترك فقال نعيم عن النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى واخبرني بذلك عبد بن حميد عن ابي نعيم .
৪৭৪. আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ উম্মু হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা ব্যতীত আমার নিকট আর কেউ একথা বর্ণনা করেননি যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই সালাত (আয-যুহা) আদায় করতে দেখেছেন। উম্মু হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, রাসূল ফতহে মক্কার দিন (মক্কা বিজয়ের দিন) তাঁর ঘরে এলেন এবং গোসল করলেন। এরপর আট রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় করতে আমি তাঁকে আর কখনও দেখিনি। তবে তাঁর এই সালাতে তিনি রুকূ ও সিজদা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছিলেন। - ইবনু মাজাহ ১৩৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম আহমদ এই বিষয়ে উম্মু হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর রিওয়ায়াতটিকেই সর্বাধিক সহীহ বলে মনে করেন। এই বিষয়ে একটি হাদীসসের রাবী অপর এক সাহাবী নুআয়ম রাদিয়াল্লাহু আনহু (এর পিতার নাম) সম্পর্কে ঐতিহাসিকভাবে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ তিনি হচ্ছেন নুআয়ম ইবনু খাম্মার, কারো কারো মত হ’ল, ইবনু আম্মার, কেউ কেউ বলেনঃ ইবনু হাব্বার, কারো কারো মতে ইবনু হাম্মাম। তবে শুদ্ধ হ’ল ইবনু হাম্মার। রাবী আবূ নু’আয়ম রাদিয়াল্লাহু আনহু এই বিষয়ে সন্দেহের শিকার হয়েছেন। তিনি তাকে ভুল করে ইবনু ইবনু খাম্মার বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি এর উল্লেখ ছেড়ে দেন এবং (পিতার নাম উল্লেখ করা ছাড়াই) নু’আয়ম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আবূ নু’আয়ম (রহঃ) থেকে আমাকে এই সম্পর্কে রিওয়ায়াত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম আহমদ এই বিষয়ে উম্মু হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর রিওয়ায়াতটিকেই সর্বাধিক সহীহ বলে মনে করেন। এই বিষয়ে একটি হাদীসসের রাবী অপর এক সাহাবী নুআয়ম রাদিয়াল্লাহু আনহু (এর পিতার নাম) সম্পর্কে ঐতিহাসিকভাবে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ তিনি হচ্ছেন নুআয়ম ইবনু খাম্মার, কারো কারো মত হ’ল, ইবনু আম্মার, কেউ কেউ বলেনঃ ইবনু হাব্বার, কারো কারো মতে ইবনু হাম্মাম। তবে শুদ্ধ হ’ল ইবনু হাম্মার। রাবী আবূ নু’আয়ম রাদিয়াল্লাহু আনহু এই বিষয়ে সন্দেহের শিকার হয়েছেন। তিনি তাকে ভুল করে ইবনু ইবনু খাম্মার বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি এর উল্লেখ ছেড়ে দেন এবং (পিতার নাম উল্লেখ করা ছাড়াই) নু’আয়ম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আবূ নু’আয়ম (রহঃ) থেকে আমাকে এই সম্পর্কে রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ৪৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو جعفر السمناني، حدثنا ابو مسهر، حدثنا اسماعيل بن عياش، عن بحير بن سعد، عن خالد بن معدان، عن جبير بن نفير، عن ابي الدرداء، وابي، ذر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم " عن الله، عز وجل انه قال ابن ادم اركع لي من اول النهار اربع ركعات اكفك اخره " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب .
৪৭৫. আবূ জাফর আস্-সামনানী (রহঃ) ..... আবূ দারদা ও আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এর বরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে আল্লাহ্ তা’আলা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ হে আদম সন্তান! তুমি দিনের শুরুতে আমার জন্য চার রাক’আত (নফল) আদায় করে নাও, আমি দিনের শেষ পর্যন্ত তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাব। - সহিহ তা’লীকুর রাগীব ১/২৩৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ৪৭৬
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن عبد الاعلى البصري، حدثنا يزيد بن زريع، عن نهاس بن قهم، عن شداد ابي عمار، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من حافظ على شفعة الضحى غفر له ذنوبه وان كانت مثل زبد البحر " . قال ابو عيسى وقد روى وكيع والنضر بن شميل وغير واحد من الاىمة هذا الحديث عن نهاس بن قهم ولا نعرفه الا من حديثه .
৪৭৬. মুহাম্মদ ইবনু আবদিল আ’লা আল-বাসরী (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি চাশতের জোড় সালাতে নিত্য সংরক্ষণ করবে, সমূদ্রের ফেনার মতও যদি তার গুনাহ হয়, তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে। - মিশকাত ১৩১৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ওয়াকী, নাযর ইবনু শুমায়ল (রহঃ) প্রমূখ হাদীসশাস্ত্রের ইমাম নাহ্হাস ইবনু কাহম (রহঃ) সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করেন। এই হাদীসটি ছাড়া তার অন্য কোন হাদীস সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ওয়াকী, নাযর ইবনু শুমায়ল (রহঃ) প্রমূখ হাদীসশাস্ত্রের ইমাম নাহ্হাস ইবনু কাহম (রহঃ) সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করেন। এই হাদীসটি ছাড়া তার অন্য কোন হাদীস সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।
হাদিস নং: ৪৭৭
যঈফ (Dai'f)
حدثنا زياد بن ايوب البغدادي، حدثنا محمد بن ربيعة، عن فضيل بن مرزوق، عن عطية العوفي، عن ابي سعيد الخدري، قال كان نبي الله صلى الله عليه وسلم يصلي الضحى حتى نقول لا يدع ويدعها حتى نقول لا يصلي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب .
৪৭৭. যিয়াদ ইবনু আয়্যূব আল-বাগদাদী (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে সালাতুয-যুহা আদায় করতেন যে, আমরা বলতামঃ তিনি হয়ত আর পরিত্যাগ করবেন না। আবার যখন তা আদায় করা থেকে বিরত থাকতেন তখন আমরা বলতাম যে, হয়ত তিনি আর তা আদায় করবেন না। - ইরওয়া ৪৬০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ৪৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو موسى، محمد بن المثنى حدثنا ابو داود الطيالسي، حدثنا محمد بن مسلم بن ابي الوضاح، هو ابو سعيد المودب عن عبد الكريم الجزري، عن مجاهد، عن عبد الله بن الساىب، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي اربعا بعد ان تزول الشمس قبل الظهر وقال " انها ساعة تفتح فيها ابواب السماء واحب ان يصعد لي فيها عمل صالح " . قال وفي الباب عن علي وابي ايوب . قال ابو عيسى حديث عبد الله بن الساىب حديث حسن غريب . وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان يصلي اربع ركعات بعد الزوال لا يسلم الا في اخرهن .
৪৭৮. আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনুুস সাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশ্চিমে সূর্য হেলে যাওয়ার পর যোহরের পূর্বে চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। বলতেনঃ এটা এমন সময় যখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, এই সময়ে আমার একটি নেক আমল উত্থিত হোক তা আমি ভালবাসি। - ইবনু মাজাহ ১১৫৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী ও আবূ আয়্যূব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবদু্ল্লাহ ইবনুস সাইব বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি যাওয়াল বা সূর্য পশ্চিমে হেলে যাওয়ার পর-চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। এতে শেষ রাকআত ছাড়া আর কোথাও তিনি সালাম ফিরাতেন না।
এই বিষয়ে আলী ও আবূ আয়্যূব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবদু্ল্লাহ ইবনুস সাইব বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি যাওয়াল বা সূর্য পশ্চিমে হেলে যাওয়ার পর-চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। এতে শেষ রাকআত ছাড়া আর কোথাও তিনি সালাম ফিরাতেন না।
হাদিস নং: ৪৭৯
যঈফ (Dai'f)
حدثنا علي بن عيسى بن يزيد البغدادي، حدثنا عبد الله بن بكر السهمي، . وحدثنا عبد الله بن منير، عن عبد الله بن بكر، عن فاىد بن عبد الرحمن، عن عبد الله بن ابي اوفى، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من كانت له الى الله حاجة او الى احد من بني ادم فليتوضا وليحسن الوضوء ثم ليصل ركعتين ثم ليثن على الله وليصل على النبي صلى الله عليه وسلم ثم ليقل لا اله الا الله الحليم الكريم سبحان الله رب العرش العظيم الحمد لله رب العالمين اسالك موجبات رحمتك وعزاىم مغفرتك والغنيمة من كل بر والسلامة من كل اثم لا تدع لي ذنبا الا غفرته ولا هما الا فرجته ولا حاجة هي لك رضا الا قضيتها يا ارحم الراحمين " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وفي اسناده مقال . فاىد بن عبد الرحمن يضعف في الحديث وفاىد هو ابو الورقاء .
৪৭৯. আলী ইবনু ঈসা ইবনু ইয়াযীদ আল-বাগদাদী (রহঃ) ..... ফায়েদ ইবনু আবদির রহমান ইবনু আবদিল্লাহ্ ইবনু আবী আওফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে, আল্লাহর কাছে বা কোন আদম-সন্তানের কাছে যদি কারো কোন প্রয়োজন হয় তবে সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং খুব সুন্দরভাবে যেন তা করে। পরে যেন দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, এরপর যেন আল্লাহর হামদ করে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ সালামের পর এই দু’আটি পড়েঃ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
’’আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহিষ্ণ ও দয়ালু, সকল দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র তিনি, মহান আরশের প্রভু। সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি সারা জাহানের রব। আপনার কাছেই আমরা যাঞ্ছা করি, আপনার রহমত আকর্ষণকারী সকল পূণ্যকর্মের ওয়াসীলায়, আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত আকর্ষণকারী সকল ক্রিয়াকাণ্ডের বরকত, সকল নেক কাজ সাফল্য লাভের এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে নিরাপত্তা লাভের। আমার কোন গুনাহ যেন মাফ ছাড়া না থাকে। কোন সমস্যা যেন সমাধান ছাড়া না যায় আর আমার এমন প্রয়োজন যাতে রয়েছে আপনার সন্তুষ্টি তা যেন অপূরণ না থাকে, হে আর রাহমানুর রাহিমীন; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। - ইবনু মাজাহ ১৩৮৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি গারীবঃ এর সনদ প্রশ্নাতীত নয়। রাবী ফায়েদ ইবনু আবদির রহমান হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল। এই ফায়েদ হলেন আবূল ওয়ারকা।
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
’’আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহিষ্ণ ও দয়ালু, সকল দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র তিনি, মহান আরশের প্রভু। সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি সারা জাহানের রব। আপনার কাছেই আমরা যাঞ্ছা করি, আপনার রহমত আকর্ষণকারী সকল পূণ্যকর্মের ওয়াসীলায়, আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত আকর্ষণকারী সকল ক্রিয়াকাণ্ডের বরকত, সকল নেক কাজ সাফল্য লাভের এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে নিরাপত্তা লাভের। আমার কোন গুনাহ যেন মাফ ছাড়া না থাকে। কোন সমস্যা যেন সমাধান ছাড়া না যায় আর আমার এমন প্রয়োজন যাতে রয়েছে আপনার সন্তুষ্টি তা যেন অপূরণ না থাকে, হে আর রাহমানুর রাহিমীন; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। - ইবনু মাজাহ ১৩৮৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি গারীবঃ এর সনদ প্রশ্নাতীত নয়। রাবী ফায়েদ ইবনু আবদির রহমান হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল। এই ফায়েদ হলেন আবূল ওয়ারকা।
হাদিস নং: ৪৮০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الرحمن بن ابي الموالي، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارة في الامور كلها كما يعلمنا السورة من القران يقول " اذا هم احدكم بالامر فليركع ركعتين من غير الفريضة ثم ليقل اللهم اني استخيرك بعلمك واستقدرك بقدرتك واسالك من فضلك العظيم فانك تقدر ولا اقدر وتعلم ولا اعلم وانت علام الغيوب اللهم ان كنت تعلم ان هذا الامر خير لي في ديني ومعيشتي وعاقبة امري او قال في عاجل امري واجله فيسره لي ثم بارك لي فيه وان كنت تعلم ان هذا الامر شر لي في ديني ومعيشتي وعاقبة امري او قال في عاجل امري واجله فاصرفه عني واصرفني عنه واقدر لي الخير حيث كان ثم ارضني به قال ويسمي حاجته " . قال وفي الباب عن عبد الله بن مسعود وابي ايوب . قال ابو عيسى حديث جابر حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه الا من حديث عبد الرحمن بن ابي الموالي . وهو شيخ مديني ثقة روى عنه سفيان حديثا وقد روى عن عبد الرحمن غير واحد من الاىمة وهو عبد الرحمن بن زيد بن ابي الموالي .
৪৮০. কুতায়বা (রহঃ) ...... জাবির ইবনু আবদিল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেমন কুরআন করীমের সুরা শিখাতেন, তেমনিভাবে সকল বিষয়ে ইস্তিখারা করতেও শিখাতেন। তিনি বলতেনঃ তোমরা যখন কোন কাজ করতে ইচ্ছা কর তখন ফরয ছাড়া অন্য ধরনের (নফল) দুই রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। পরে এই দু’আটি পাঠ করবেঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعِيشَتِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعِيشَتِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ
’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বিইলমিকা অ আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা অ আসআলুকা মিন ফায্বলিকাল আযীম, ফাইন্নাকা তাক্বদিরু অলা আক্বদিরু অতা’লামু অলা আ’লামু অ আন্তা আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা (—) খাইরুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাক্বদুরহু লী, অয়্যাসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। অইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাস্বরিফহু আন্নী অস্বরিফনী আনহু, অক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না সুম্মা আরযিনী বিহ।’
’’হে আল্লাহ! আপনার মহাজ্ঞানের ওয়াসীলায় আমি আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করি। আপনার মহাশক্তিতে শক্তি চাই, আর আপনার মহান অনুগ্রহ থেকে আপনার কাছেই কিছু যাঞ্ছা করি। কারণ আপনি তো ক্ষমতা রাখেন, আমি তো কোন ক্ষমতা রাখি না, আপনই জ্ঞানবান, আমি তো কোন জ্ঞান রাখি না, আপনি তো অদৃশ্য সম্পর্কে মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে, এই বিষয়টি (এই স্থানে বিষয়টি নাম বলবে বা মনে মনে ভাববে) আমার জন্য, আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণাম হিসাবে ভাল, তবে এটি আমার জন্য সহজ করে দিন, এরপর এতে আমার জন্য বরকত দান কর। আর যদি জানেন যে, এই বিষয়টি আমার জন্য, আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণাম হিসাবে মন্দ, তবে এটিকে আমার থেকে দূরীভূত করে দিন এবং আমাকে এটি থেকে সরিয়ে রাখুন এবং যেখানে আমার জন্য মঙ্গল নিহিত তা আমার আয়ত্বাধীন করে দিন, অতঃপর তা দিয়ে আমাদেরকে আপনি সন্তুষ্ট করে দিন।’’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই বিষয়টি-এর স্থলে স্ব স্ব প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে। - ইবনু মাজাহ ১৩৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ ও আবূ আইয়ূব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ জাবির (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। আবদুর রহমান ইবনু আবিল মাওয়ালীর সূত্র ব্যতীত এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। ইনি একজন নির্ভরযোগ্য মাদানী শায়খ, ইমাম সুফইয়ান (রহঃ) তার নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই আবদুর রহমান বরাতে হাদীসশাস্ত্রের একাধিক ইমামও হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعِيشَتِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعِيشَتِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ
’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বিইলমিকা অ আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা অ আসআলুকা মিন ফায্বলিকাল আযীম, ফাইন্নাকা তাক্বদিরু অলা আক্বদিরু অতা’লামু অলা আ’লামু অ আন্তা আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা (—) খাইরুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাক্বদুরহু লী, অয়্যাসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। অইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাস্বরিফহু আন্নী অস্বরিফনী আনহু, অক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না সুম্মা আরযিনী বিহ।’
’’হে আল্লাহ! আপনার মহাজ্ঞানের ওয়াসীলায় আমি আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করি। আপনার মহাশক্তিতে শক্তি চাই, আর আপনার মহান অনুগ্রহ থেকে আপনার কাছেই কিছু যাঞ্ছা করি। কারণ আপনি তো ক্ষমতা রাখেন, আমি তো কোন ক্ষমতা রাখি না, আপনই জ্ঞানবান, আমি তো কোন জ্ঞান রাখি না, আপনি তো অদৃশ্য সম্পর্কে মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে, এই বিষয়টি (এই স্থানে বিষয়টি নাম বলবে বা মনে মনে ভাববে) আমার জন্য, আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণাম হিসাবে ভাল, তবে এটি আমার জন্য সহজ করে দিন, এরপর এতে আমার জন্য বরকত দান কর। আর যদি জানেন যে, এই বিষয়টি আমার জন্য, আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণাম হিসাবে মন্দ, তবে এটিকে আমার থেকে দূরীভূত করে দিন এবং আমাকে এটি থেকে সরিয়ে রাখুন এবং যেখানে আমার জন্য মঙ্গল নিহিত তা আমার আয়ত্বাধীন করে দিন, অতঃপর তা দিয়ে আমাদেরকে আপনি সন্তুষ্ট করে দিন।’’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই বিষয়টি-এর স্থলে স্ব স্ব প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে। - ইবনু মাজাহ ১৩৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ ও আবূ আইয়ূব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ জাবির (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। আবদুর রহমান ইবনু আবিল মাওয়ালীর সূত্র ব্যতীত এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। ইনি একজন নির্ভরযোগ্য মাদানী শায়খ, ইমাম সুফইয়ান (রহঃ) তার নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই আবদুর রহমান বরাতে হাদীসশাস্ত্রের একাধিক ইমামও হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ৪৮১
হাসান (Hasan)
حدثنا احمد بن محمد بن موسى، اخبرنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا عكرمة بن عمار، حدثني اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، عن انس بن مالك، ان ام سليم، غدت على النبي صلى الله عليه وسلم فقالت علمني كلمات اقولهن في صلاتي . فقال " كبري الله عشرا وسبحي الله عشرا واحمديه عشرا ثم سلي ما شىت يقول نعم نعم " . قال وفي الباب عن ابن عباس وعبد الله بن عمرو والفضل بن عباس وابي رافع . قال ابو عيسى حديث انس حديث حسن غريب . وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم غير حديث في صلاة التسبيح ولا يصح منه كبير شيء . وقد راى ابن المبارك وغير واحد من اهل العلم صلاة التسبيح وذكروا الفضل فيه . حدثنا احمد بن عبدة حدثنا ابو وهب قال سالت عبد الله بن المبارك عن الصلاة التي يسبح فيها فقال يكبر ثم يقول سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا اله غيرك ثم يقول خمس عشرة مرة سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر ثم يتعوذ ويقرا (بسم الله الرحمن الرحيم) وفاتحة الكتاب وسورة ثم يقول عشر مرات سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر ثم يركع فيقولها عشرا . ثم يرفع راسه من الركوع فيقولها عشرا ثم يسجد فيقولها عشرا ثم يرفع راسه فيقولها عشرا ثم يسجد الثانية فيقولها عشرا يصلي اربع ركعات على هذا فذلك خمس وسبعون تسبيحة في كل ركعة يبدا في كل ركعة بخمس عشرة تسبيحة ثم يقرا ثم يسبح عشرا فان صلى ليلا فاحب الى ان يسلم في الركعتين وان صلى نهارا فان شاء سلم وان شاء لم يسلم . قال ابو وهب واخبرني عبد العزيز بن ابي رزمة عن عبد الله انه قال يبدا في الركوع بسبحان ربي العظيم وفي السجود بسبحان ربي الاعلى ثلاثا ثم يسبح التسبيحات . قال احمد بن عبدة وحدثنا وهب بن زمعة قال اخبرني عبد العزيز وهو ابن ابي رزمة قال قلت لعبد الله بن المبارك ان سها فيها يسبح في سجدتى السهو عشرا عشرا قال لا انما هي ثلاثماىة تسبيحة .
৪৮১. আহমদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু মূসা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, উম্মু সুলায়ম রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ওয়াদা নিলেন। বললেনঃ আমাকে এমন কতগুলি কালেমা শিখিয়ে দিন যা আমি আমার সালাতে পাঠ করব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দশবার আল্লাহু আকবার, দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করবে। পরে তোমার মন যা চায় তা আল্লাহর নিকট চাইবে। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ফযল ইবনু আব্বাস ও আবূ রাফি’ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব। সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু এর অধিকাংশই সহীহ নয়। ইবনু মুবারকসহ একধিক আলিম সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে রিওয়ায়াত করেছেন এবং এই বিষয়ে ফযীলতের উল্লেখ করেছেন। আহমদ ইবনু আবদা আয্-যাববী (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ ওয়াহব বলেন, আমি ইবনু মুবারক (রহঃ)-কে যে সালাত (নামায/নামাজ) (অতিরিক্ত) তাসবীহ পাঠ করা হয়, সে সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ তাকবীর বলার পর বলবেঃ
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ পরে পনরবার পাঠ করবে: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ পরে আউযূবিল্লাহ্- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, পরে সুরা ফাতিহা ও অন্যা একটি সূরা পাঠ করে দশবার পাঠ করবেঃ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ পরে রুকূতে যেয়ে দশবার, রুকূ থেকে মাথা তুলে দশবার, সিজদায় গিয়ে দশবার, সিজদা থেকে মাথা তুলে দশবার। দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে দশবার পাঠ করবে। এইভাবে চার রাকআত আদায় করবে। এতে প্রতি রাকআতে মোট পঁচাত্তারবার তাসবীহ পাঠ করা হবে। পনরবার তাসবীহ পাঠের মাধ্যমে শুরু হবে প্রতি রাকআত। পরে কির’আত হবে, এরপর হবে দশবার তাসবীহ পাঠ। রাতে এই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হলে প্রতি দু’রাকআত পর সালাম ফিরান আমার নিকট অধিক প্রিয় বলে গণ্য। আর দিনে আদায় করা হলে ইচ্ছা করলে দু’রাকআত পর সালাম ফিরাতেও পার, ইচ্ছা হলে না-ও ফিরাতে পার।
আবূ ওয়াহব (রহঃ) বলেন, আবদুল আযীয ইবনু আবী রিযমা (রহঃ) আমাকে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ রুকুতে প্রথমে সুবহানা রাব্বিআল আযীম এবং সিজদায় প্রথমে সুবহানা রাব্বিআল আলা তিনবার পাঠ করে নিবে এরপর উক্ত তাসবীহসমূহ পাঠ করবে। আহমদ ইবনু আবদা (রহঃ) আবদুল আযীয ইবনু আবী রিযমা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ)-কে বললাম, যদি এই সালাতে কারো সাহু হয়ে যায়, তবে সিজদা সাহু-এও কি দশবার করে উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে? তিনি বললেনঃ না, কারণ এই সালাতে মোট তাসবীহের সংখ্যা হ’ল তিনশত। - তা’লীকুর রাগীব ১/২৩৯,
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ফযল ইবনু আব্বাস ও আবূ রাফি’ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব। সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু এর অধিকাংশই সহীহ নয়। ইবনু মুবারকসহ একধিক আলিম সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে রিওয়ায়াত করেছেন এবং এই বিষয়ে ফযীলতের উল্লেখ করেছেন। আহমদ ইবনু আবদা আয্-যাববী (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ ওয়াহব বলেন, আমি ইবনু মুবারক (রহঃ)-কে যে সালাত (নামায/নামাজ) (অতিরিক্ত) তাসবীহ পাঠ করা হয়, সে সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ তাকবীর বলার পর বলবেঃ
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ পরে পনরবার পাঠ করবে: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ পরে আউযূবিল্লাহ্- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, পরে সুরা ফাতিহা ও অন্যা একটি সূরা পাঠ করে দশবার পাঠ করবেঃ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ পরে রুকূতে যেয়ে দশবার, রুকূ থেকে মাথা তুলে দশবার, সিজদায় গিয়ে দশবার, সিজদা থেকে মাথা তুলে দশবার। দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে দশবার পাঠ করবে। এইভাবে চার রাকআত আদায় করবে। এতে প্রতি রাকআতে মোট পঁচাত্তারবার তাসবীহ পাঠ করা হবে। পনরবার তাসবীহ পাঠের মাধ্যমে শুরু হবে প্রতি রাকআত। পরে কির’আত হবে, এরপর হবে দশবার তাসবীহ পাঠ। রাতে এই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হলে প্রতি দু’রাকআত পর সালাম ফিরান আমার নিকট অধিক প্রিয় বলে গণ্য। আর দিনে আদায় করা হলে ইচ্ছা করলে দু’রাকআত পর সালাম ফিরাতেও পার, ইচ্ছা হলে না-ও ফিরাতে পার।
আবূ ওয়াহব (রহঃ) বলেন, আবদুল আযীয ইবনু আবী রিযমা (রহঃ) আমাকে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ রুকুতে প্রথমে সুবহানা রাব্বিআল আযীম এবং সিজদায় প্রথমে সুবহানা রাব্বিআল আলা তিনবার পাঠ করে নিবে এরপর উক্ত তাসবীহসমূহ পাঠ করবে। আহমদ ইবনু আবদা (রহঃ) আবদুল আযীয ইবনু আবী রিযমা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ)-কে বললাম, যদি এই সালাতে কারো সাহু হয়ে যায়, তবে সিজদা সাহু-এও কি দশবার করে উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে? তিনি বললেনঃ না, কারণ এই সালাতে মোট তাসবীহের সংখ্যা হ’ল তিনশত। - তা’লীকুর রাগীব ১/২৩৯,
হাদিস নং: ৪৮২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء حدثنا زيد بن حباب العكلي، حدثنا موسى بن عبيدة، حدثني سعيد بن ابي سعيد، مولى ابي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم عن ابي رافع، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للعباس " يا عم الا اصلك الا احبوك الا انفعك " . قال بلى يا رسول الله . قال " يا عم صل اربع ركعات تقرا في كل ركعة بفاتحة الكتاب وسورة فاذا انقضت القراءة فقل الله اكبر والحمد لله وسبحان الله ولا اله الا الله خمس عشرة مرة قبل ان تركع ثم اركع فقلها عشرا ثم ارفع راسك فقلها عشرا ثم اسجد فقلها عشرا ثم ارفع راسك فقلها عشرا ثم اسجد الثانية فقلها عشرا ثم ارفع راسك فقلها عشرا قبل ان تقوم فتلك خمس وسبعون في كل ركعة وهي ثلاثماىة في اربع ركعات فلو كانت ذنوبك مثل رمل عالج لغفرها الله لك " . قال يا رسول الله ومن يستطيع ان يقولها في كل يوم قال " فان لم تستطع ان تقولها في كل يوم فقلها في جمعة فان لم تستطع ان تقولها في جمعة فقلها في شهر " . فلم يزل يقول له حتى قال " فقلها في سنة " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من حديث ابي رافع .
৪৮২. আবূ কুরায়ব মুহাম্মদ ইবনুল আ’লা (রহঃ) ..... আবূ রাফি’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেনঃ হে আমার পিতৃব্য! আপনাকে কি আত্মীয়তার হক আদায় হিসাবে একটি জিনিস দিব, আপনাকে কি একটি বস্তু দান করব, আপনাকে কি উপকৃত করব? আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে পিতৃব্য! এমন ভাবে চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবেন যে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করে রুকূর পূর্বে পনরবার পাঠ করবেন। এরপর রুকূ করে তাতে পাঠ করবেন দশবার, পরে রুকূ থেকে মাথা তুলে পাঠ করবেন দশবার, পরে সিজদা করে পাঠ করবেন দশবার, পরে সিজদা থেকে মাথা তুলে পাঠ করবেন দশবার, পরে আবার সিজদা করে পাঠ করবেন দশবার, সিজদা থেকে মাথা তুলে কিয়ামের পূর্বে পাঠ করবেন দশবার। এইভাবে প্রতি রাকা’আত হবে পঁচাত্তরবার, আর চার রাকআতে হবে মোট তিনশতবার। আপনার পাপরাশি স্তুপ দিয়ে সাজান বালুকারাশির টিলার মত যদি হয়, তবূও এতে আল্লাহ্ তা’আলা তা মাফ করে দিবেন। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বললেনঃ হে্ আল্লাহর রাসূল! এমন কে আছে যে প্রতিদিন তা পাঠ করতে সক্ষম হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি প্রতিদিন আপনি তা না পারেন তবে প্রতি সাপ্তাহে একবার করবেন। প্রতি সপ্তাহে একবার করে না পারলে প্রতি মাসে একবার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইভাবে বলতে বলতে শেষে বললেনঃ অন্তত বছরে একবার তা পাঠ করবেন। - ইবনু মাজাহ ১৩৮৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি আবূ রাফি’ থেকে বর্ণিত গারীব হাদীস।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি আবূ রাফি’ থেকে বর্ণিত গারীব হাদীস।
হাদিস নং: ৪৮৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو اسامة، عن مسعر، والاجلح، ومالك بن مغول، عن الحكم بن عتيبة، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن كعب بن عجرة، قال قلنا يا رسول الله هذا السلام عليك قد علمنا فكيف الصلاة عليك قال " قولوا اللهم صل على محمد وعلى ال محمد كما صليت على ابراهيم انك حميد مجيد وبارك على محمد وعلى ال محمد كما باركت على ابراهيم انك حميد مجيد " . قال محمود قال ابو اسامة وزادني زاىدة عن الاعمش عن الحكم عن عبد الرحمن بن ابي ليلى قال ونحن نقول وعلينا معهم . قال وفي الباب عن علي وابي حميد وابي مسعود وطلحة وابي سعيد وبريدة وزيد بن خارجة ويقال ابن جارية وابي هريرة . قال ابو عيسى حديث كعب بن عجرة حديث حسن صحيح . وعبد الرحمن بن ابي ليلى كنيته ابو عيسى وابو ليلى اسمه يسار .
৪৮৩. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... কা’ব ইবনু উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমরা একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর এই যে সালাম পাঠ করা, তা তো আমরা জানি কিন্তূ আপনার উপর সালাত (নামায/নামাজ) (দরূদ) পাঠ করব কি উপায়ে? তিনি বললেনঃ তোমরা বলবেঃ
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
মাহমূদ (রহঃ) বলেনঃ আবূ ইসামা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেছেন যে, আমাশ, হাকাম-আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে আরো একটু অতিরিক্ত বর্ণিত আছে। তা হ’ল, আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা বলেনঃ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ এর পর আমরা বলতামঃ وَعَلَيْنَا مَعَهُمْ - ইবনু মাজাহ ৯০৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, আবূ হুরায়রা, আবূ মাসঊদ, তালহা, আবূ সাঈদ, বুরায়দা, যায়দ ইবনু খারিজা-কথিত আছে ইনি হলেনঃ ইবনু জারিয়া এবং আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ কা’ব ইবনু উজরা বর্ণিত হাদীস হাসান-সহীহ। আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা (রহঃ) এর উপনাম হ’ল আবূ ঈসা, আর আবূ লায়লা (রহঃ)-এর নাম হ’ল ইয়াসার।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
মাহমূদ (রহঃ) বলেনঃ আবূ ইসামা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেছেন যে, আমাশ, হাকাম-আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে আরো একটু অতিরিক্ত বর্ণিত আছে। তা হ’ল, আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা বলেনঃ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ এর পর আমরা বলতামঃ وَعَلَيْنَا مَعَهُمْ - ইবনু মাজাহ ৯০৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, আবূ হুরায়রা, আবূ মাসঊদ, তালহা, আবূ সাঈদ, বুরায়দা, যায়দ ইবনু খারিজা-কথিত আছে ইনি হলেনঃ ইবনু জারিয়া এবং আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ কা’ব ইবনু উজরা বর্ণিত হাদীস হাসান-সহীহ। আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা (রহঃ) এর উপনাম হ’ল আবূ ঈসা, আর আবূ লায়লা (রহঃ)-এর নাম হ’ল ইয়াসার।
হাদিস নং: ৪৮৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن بشار، بندار حدثنا محمد بن خالد ابن عثمة، حدثني موسى بن يعقوب الزمعي، حدثني عبد الله بن كيسان، ان عبد الله بن شداد، اخبره عن عبد الله بن مسعود، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اولى الناس بي يوم القيامة اكثرهم على صلاة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " من صلى على صلاة صلى الله عليه بها عشرا وكتب له بها عشر حسنات " .
৪৮৪. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর অধিক সালাত (নামায/নামাজ) পাঠ করে, কিয়ামতের দিন সে-ই আমার অধিকতর নিকটবর্তী থাকবে। - তা’লীকুর রাগীব ২/২৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন: এই হাদীসটি হাসান-গারীব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার সালাত (দরূদ) পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশবার রহমত করবেন এবং তার দশটি নেকী লেখা হবে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন: এই হাদীসটি হাসান-গারীব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার সালাত (দরূদ) পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশবার রহমত করবেন এবং তার দশটি নেকী লেখা হবে।
হাদিস নং: ৪৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن جعفر، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من صلى على صلاة صلى الله عليه بها عشرا " . قال وفي الباب عن عبد الرحمن بن عوف وعامر بن ربيعة وعمار وابي طلحة وانس وابى بن كعب . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . وروي عن سفيان الثوري وغير واحد من اهل العلم قالوا صلاة الرب الرحمة وصلاة الملاىكة الاستغفار .
৪৮৫. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে, ব্যক্তি আমার উপর একবার সালাত (দুরুদ) পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশবার রহমত করবেন। - সহিহ আবু দাউদ ১৩৬৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুর রহমান ইবনু আওফ, আমির ইবনু রাবীআ, আম্মার, আবূ তালহা, আনাস ও উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুফইয়ান সাওরী (রহঃ) এবং আরো একাধিক আলিম থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা বলেন, আল্লাহ্ কর্তৃক সালাত পাঠ করা অর্থ হল রহমত নাযিল করা আর ফেরেশতাগণ কর্তৃক সালাত পাঠ করা অর্থ হ’ল মাগফিরাত কামনা করা।
এই বিষয়ে আবদুর রহমান ইবনু আওফ, আমির ইবনু রাবীআ, আম্মার, আবূ তালহা, আনাস ও উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুফইয়ান সাওরী (রহঃ) এবং আরো একাধিক আলিম থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা বলেন, আল্লাহ্ কর্তৃক সালাত পাঠ করা অর্থ হল রহমত নাযিল করা আর ফেরেশতাগণ কর্তৃক সালাত পাঠ করা অর্থ হ’ল মাগফিরাত কামনা করা।
হাদিস নং: ৪৮৬
হাসান (Hasan)
حدثنا ابو داود، سليمان بن سلم المصاحفي البلخي اخبرنا النضر بن شميل، عن ابي قرة الاسدي، عن سعيد بن المسيب، عن عمر بن الخطاب، قال ان الدعاء موقوف بين السماء والارض لا يصعد منه شيء حتى تصلي على نبيك صلى الله عليه وسلم .
৪৮৬. আবূ দাউদ সুলায়মান ইবনু মুসলিম আল-মুসহিফী আল-বালখী (রহঃ) ...... উমর উবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সালাত (দরূদ) পাঠ না করা পর্যন্ত দু’আ আসমান ও যমীনের মাঝে মওকূফ অবস্থায় থাকে এবং এর কিছুই আল্লাহর নিকটে উত্থিত হয় না। - সহিহাহ ২০৫৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৪৮৭
হাসান (Hasan)
حدثنا عباس العنبري، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن مالك بن انس، عن العلاء بن عبد الرحمن بن يعقوب، عن ابيه، عن جده، قال قال عمر بن الخطاب لا يبع في سوقنا الا من قد تفقه في الدين . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . عباس هو ابن عبد العظيم . قال ابو عيسى والعلاء بن عبد الرحمن هو ابن يعقوب وهو مولى الحرقة والعلاء هو من التابعين سمع من انس بن مالك وغيره . وعبد الرحمن بن يعقوب والد العلاء هو ايضا من التابعين سمع من ابي هريرة وابي سعيد الخدري وابن عمر . ويعقوب جد العلاء هو من كبار التابعين ايضا قد ادرك عمر بن الخطاب وروى عنه . ابواب الجمعة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم .
৪৮৭. আব্বাস ইবনু আবদিল আযীম আল-আম্বারী (রহঃ) ...... ইয়াকূব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ দ্বীন সম্পর্কে যার সম্যক জ্ঞান আছে সে ব্যতীত আর কেউ যেন আমাদের বাজারে লেনদেন না করে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব। আব্বাস হলেন ইবনু আবদুল আযীম। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ রাবী আ’লা ইবনু আবদির রহমান হলেন ইবনু ইয়াকূব। তিনি ছিলেন হুযাফার আযাদকৃত দাস। তিনি তাবিঈ। আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অপর কতিপয় সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তিনি হাদীস শুনেছেন। তাঁর পিতা আবদুর রহমান ইবনু ইয়াকূব (রহঃ)-ও তাবিঈ। তিনি আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে হাদীস শুনেছেন। ইয়াকূব (রহঃ)-ও ছিলেন জ্যৈষ্ঠ তাবিঈনের অন্তর্ভক্ত। তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে পেয়েছেন এবং তাঁর বরাতে হাদীসও বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব। আব্বাস হলেন ইবনু আবদুল আযীম। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ রাবী আ’লা ইবনু আবদির রহমান হলেন ইবনু ইয়াকূব। তিনি ছিলেন হুযাফার আযাদকৃত দাস। তিনি তাবিঈ। আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অপর কতিপয় সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তিনি হাদীস শুনেছেন। তাঁর পিতা আবদুর রহমান ইবনু ইয়াকূব (রহঃ)-ও তাবিঈ। তিনি আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে হাদীস শুনেছেন। ইয়াকূব (রহঃ)-ও ছিলেন জ্যৈষ্ঠ তাবিঈনের অন্তর্ভক্ত। তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে পেয়েছেন এবং তাঁর বরাতে হাদীসও বর্ণনা করেছেন।