হাদিস নং: ৩৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا ابو خالد الاحمر، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الى بعيره او راحلته وكان يصلي على راحلته حيثما توجهت به . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وهو قول بعض اهل العلم لا يرون بالصلاة الى البعير باسا ان يستتر به .
৩৫২. সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী (রহঃ) ..... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটটিকে বা সওয়ারীটিকে সামনে রেখে সালাত আদায় করেছেন। আর তিনি সওয়ারী যেদিকে ফিরছে সেদিকে ফিরে তার উপরেও সালাত আদায় করেছেন। - সিফাতুস সালাত ৫৫, সহিহ আবু দাউদ ৬৯১,১১০৯, বুখারি ও মুসলিম, বিচ্ছিন্নিভাবে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। উট (বা এই জাতীয় কিছু) কে সুতরা হিসাবে সামনে রেখে সালাত আদায় করায় কোন অসুবিধা আছে বলে তাঁরা মনে করেন না।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। উট (বা এই জাতীয় কিছু) কে সুতরা হিসাবে সামনে রেখে সালাত আদায় করায় কোন অসুবিধা আছে বলে তাঁরা মনে করেন না।
হাদিস নং: ৩৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن انس، يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا حضر العشاء واقيمت الصلاة فابدءوا بالعشاء " . قال وفي الباب عن عاىشة وابن عمر وسلمة بن الاكوع وام سلمة . قال ابو عيسى حديث انس حديث حسن صحيح . وعليه العمل عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منهم ابو بكر وعمر وابن عمر . وبه يقول احمد واسحاق يقولان يبدا بالعشاء وان فاتته الصلاة في الجماعة . قال ابو عيسى سمعت الجارود يقول سمعت وكيعا يقول في هذا الحديث يبدا بالعشاء اذا كان طعاما يخاف فساده . والذي ذهب اليه بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم اشبه بالاتباع وانما ارادوا ان لا يقوم الرجل الى الصلاة وقلبه مشغول بسبب شيء . وقد روي عن ابن عباس انه قال لا نقوم الى الصلاة وفي انفسنا شيء .
৩৫৩. কুতায়বা (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাতের খানা যদি হাযির হয়ে পড়ে আর এদিকে সালাতের ইকামাত হয়ে যায়, তবে আগে খানা খেয়ে নিবে। - ইবনু মাজাহ ৯৩৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, ইবনু উমর, সালামা ইবনুল আকওয়া এবং উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ বকর, উমর ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ সাহাবীগণের কেউ কেউ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও এই অভিমত পোষণ করেন। তাঁরা বলেনঃ জামাত ফওত হওয়ার আশংকা হলেও আগে আহার করে নিবে। জারূদ (রহঃ) বলেনঃ আমি ওয়াকী (রহঃ)-কে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি যে, খানা বিনষ্ট হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিলে আগে আহার করবে। কতক সাহাবী ও অপরাপর কতিপয় আলিম এই বিষয়ে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তার অনুসরণ করাই শ্রেয়তর। তাঁদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য হল, অন্য কোন বিষয়ে মন মশগুল রেখে কেউ যেন সালাতে না দাঁড়ায়। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মনে কোন চিন্তা বা ব্যস্ততা রেখে আমরা সালাতে দাঁড়াই না।
এই বিষয়ে আয়িশা, ইবনু উমর, সালামা ইবনুল আকওয়া এবং উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ বকর, উমর ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ সাহাবীগণের কেউ কেউ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও এই অভিমত পোষণ করেন। তাঁরা বলেনঃ জামাত ফওত হওয়ার আশংকা হলেও আগে আহার করে নিবে। জারূদ (রহঃ) বলেনঃ আমি ওয়াকী (রহঃ)-কে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি যে, খানা বিনষ্ট হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিলে আগে আহার করবে। কতক সাহাবী ও অপরাপর কতিপয় আলিম এই বিষয়ে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তার অনুসরণ করাই শ্রেয়তর। তাঁদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য হল, অন্য কোন বিষয়ে মন মশগুল রেখে কেউ যেন সালাতে না দাঁড়ায়। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মনে কোন চিন্তা বা ব্যস্ততা রেখে আমরা সালাতে দাঁড়াই না।
হাদিস নং: ৩৫৪
সহিহ (Sahih)
وروي عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " اذا وضع العشاء واقيمت الصلاة فابدءوا بالعشاء " . قال وتعشى ابن عمر وهو يسمع قراءة الامام . قال حدثنا بذلك هناد حدثنا عبدة عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر .
৩৫৪. ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যদি রাতের খানা সামনে দিয়ে দেওয়া হয় আর এদিকে সালাত দাঁড়িয়ে যায়, তবে আগে আহার করে নিবে। - বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হান্নাদ (রহঃ) নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, (একদিন এমন হয়েছিল যে,) ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ। আহার করছিলেন আর তখন তিনি ইমামের কিরাআত শুনছিলেন।
হান্নাদ (রহঃ) নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, (একদিন এমন হয়েছিল যে,) ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ। আহার করছিলেন আর তখন তিনি ইমামের কিরাআত শুনছিলেন।
হাদিস নং: ৩৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هارون بن اسحاق الهمداني، حدثنا عبدة بن سليمان الكلابي، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا نعس احدكم وهو يصلي فليرقد حتى يذهب عنه النوم فان احدكم اذا صلى وهو ينعس لعله يذهب يستغفر فيسب نفسه " . قال وفي الباب عن انس وابي هريرة . قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح .
৩৫৫. হারূন ইবনু ইসহাক আল-হামদানী (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সালাতের সময় তন্দ্রা এলে ঘুমিয়ে নিবে যাতে নিদ্রার প্রকোপ দূরীভূত হয়ে যায়। কেননা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সালাত আদায় করতে থাকলে এমন হতে পারে যে, মাগফিরাত চাইতে গিয়ে নিজেকে মালামত করে বসবে। - ইবনু মাজাহ ১৩৭০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আনাস ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এই বিষয়ে আনাস ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، وهناد، قالا حدثنا وكيع، عن ابان بن يزيد العطار، عن بديل بن ميسرة العقيلي، عن ابي عطية، رجل منهم قال كان مالك بن الحويرث ياتينا في مصلانا يتحدث فحضرت الصلاة يوما فقلنا له تقدم . فقال ليتقدم بعضكم حتى احدثكم لم لا اتقدم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من زار قوما فلا يومهم وليومهم رجل منهم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم قالوا صاحب المنزل احق بالامامة من الزاىر . وقال بعض اهل العلم اذا اذن له فلا باس ان يصلي به . وقال اسحاق بحديث مالك بن الحويرث وشدد في ان لا يصلي احد بصاحب المنزل وان اذن له صاحب المنزل . قال وكذلك في المسجد لا يصلي بهم في المسجد اذا زارهم يقول ليصل بهم رجل منهم .
৩৫৬. মাহমূদ ইবনু গায়লান ও হান্নাদ (রহঃ) .... বনূ উকায়লের জনৈক ব্যক্তি আবূ আতিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের মসজিদে আলাপ-আলোচনা করতে আসতেন। একদিন তাঁর উপস্থিতিতে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল আমরা তাকে সামনে গিয়ে ইমামতি করতে অনুরোধ জানালাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ ইমামতি করুক। আমি কেন ইমামতি করছি না তা তোমাদের বলছিঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কেউ যদি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়, তবে সে যেন তাদের ইমামতি না করে, বরং ঐ সম্প্রদায়ের কেউ যেন ইমামতি করে। - সহিহ আবু দাউদ ৬০৯, মালিকের ঘটনা উল্লেখ ব্যাতিত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী এবং অপরাপর আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা বলেনঃ সাক্ষাৎকারী অপেক্ষা বাড়ির কর্তা ইমামতির অধিক হকদার। কতক আলিম বলেনঃ বাড়ির কর্তা যদি অনুমতি দেন তবে ইমামতি করায় কোন দোষ নেই। ইমাম ইসহাক (রহঃ) মালিক ইবনুল হুওয়ায়রিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটির উপর কঠোরভাবে আমল করেন। তিনি বলেনঃ বাড়ির কর্তা যদি অনুমতিও দেন, তবুও কেউ এ ক্ষেত্রে ইমামতি করবে না। এমনিভাবে বাইরের কেউ যদি কোন সম্প্রদায়ে বা মহল্লার মসজিদে আসে, তবে সে মসজিদের সালাতে ইমামতি করবে না, বরং ঐ সম্প্রদায়েরই একজন ইমামতি করবে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী এবং অপরাপর আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা বলেনঃ সাক্ষাৎকারী অপেক্ষা বাড়ির কর্তা ইমামতির অধিক হকদার। কতক আলিম বলেনঃ বাড়ির কর্তা যদি অনুমতি দেন তবে ইমামতি করায় কোন দোষ নেই। ইমাম ইসহাক (রহঃ) মালিক ইবনুল হুওয়ায়রিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটির উপর কঠোরভাবে আমল করেন। তিনি বলেনঃ বাড়ির কর্তা যদি অনুমতিও দেন, তবুও কেউ এ ক্ষেত্রে ইমামতি করবে না। এমনিভাবে বাইরের কেউ যদি কোন সম্প্রদায়ে বা মহল্লার মসজিদে আসে, তবে সে মসজিদের সালাতে ইমামতি করবে না, বরং ঐ সম্প্রদায়েরই একজন ইমামতি করবে।
হাদিস নং: ৩৫৭
সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حدثنا علي بن حجر، حدثنا اسماعيل بن عياش، حدثني حبيب بن صالح، عن يزيد بن شريح، عن ابي حى الموذن الحمصي، عن ثوبان، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يحل لامرى ان ينظر في جوف بيت امرى حتى يستاذن فان نظر فقد دخل ولا يوم قوما فيخص نفسه بدعوة دونهم فان فعل فقد خانهم ولا يقوم الى الصلاة وهو حقن " . قال وفي الباب عن ابي هريرة وابي امامة . قال ابو عيسى حديث ثوبان حديث حسن . وقد روي هذا الحديث عن معاوية بن صالح عن السفر بن نسير عن يزيد بن شريح عن ابي امامة عن النبي صلى الله عليه وسلم . وروي هذا الحديث عن يزيد بن شريح عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم . وكان حديث يزيد بن شريح عن ابي حى الموذن عن ثوبان في هذا اجود اسنادا واشهر .
৩৫৭. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ অনুমতি ব্যতীত কারো ঘরের ভিতর দৃষ্টিপাত করা জায়েয নয়। কেউ যদি কারো ঘরের ভিতর দৃষ্টিপাত করে, তবে তো সে তাতে প্রবেশই করে ফেলল। কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে দু’আর বেলায় তাদের বাদ দিয়ে কেবল নিজের জন্য দু’আ করবে না। এরূপ করলে তাদের সাথে খিয়ানত করা হবে। পেশাব-পায়খার বেগরুদ্ধ করা অবস্থায় কেউ সালাতে দাঁড়াবে না। - "পেশাব-পায়খার বেগরুদ্ধ করা অবস্থায় কেউ সালাতে দাঁড়াবে না" হাদিসের এই অংশ সহিহঃ ইবনু মাজাহ ৬১৭, বাকিটুকু যইফঃ যইফ আবু দাউদ ১১-১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন : সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি মুআবিয়া ইবনু সালিহ ... সাফর ইবন নুসায়র ... ইয়াযীদ ইবনু শুরায়হ ... আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত আছে। ইয়াযীদ ইবনু শুরায়হ .... আবূ হাই আল-মুআয্যিন ... সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সনদের দিক থেকে অধিক উত্তম ও প্রসিদ্ধ।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন : সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি মুআবিয়া ইবনু সালিহ ... সাফর ইবন নুসায়র ... ইয়াযীদ ইবনু শুরায়হ ... আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত আছে। ইয়াযীদ ইবনু শুরায়হ .... আবূ হাই আল-মুআয্যিন ... সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সনদের দিক থেকে অধিক উত্তম ও প্রসিদ্ধ।
হাদিস নং: ৩৫৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الاعلى بن واصل بن عبد الاعلى الكوفي، حدثنا محمد بن القاسم الاسدي، عن الفضل بن دلهم، عن الحسن، قال سمعت انس بن مالك، يقول لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة رجل ام قوما وهم له كارهون وامراة باتت وزوجها عليها ساخط ورجل سمع حى على الفلاح ثم لم يجب . قال وفي الباب عن ابن عباس وطلحة وعبد الله بن عمرو وابي امامة . قال ابو عيسى حديث انس لا يصح لانه قد روي هذا الحديث عن الحسن عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسل . قال ابو عيسى ومحمد بن القاسم تكلم فيه احمد بن حنبل وضعفه وليس بالحافظ . وقد كره قوم من اهل العلم ان يوم الرجل قوما وهم له كارهون فاذا كان الامام غير ظالم فانما الاثم على من كرهه . وقال احمد واسحاق في هذا اذا كره واحد او اثنان او ثلاثة فلا باس ان يصلي بهم حتى يكرهه اكثر القوم .
৩৫৮. আবদুল আ’লা ইবনু ওয়াসিল ইবনু আবদুল আলা আল-কূফী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ব্যক্তিকে লা’নত করেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করছে অথচ তারা তার উপর সন্তুষ্ট নয়, যে মহিলা এমনভাবে তার রাত অতিবাহিত করে যে, স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট নয় এবং যে ব্যক্তি حىّ على الفلاح (কল্যাণের দিকে আস), আযানের এই ডাক শোনার পরও সালাতে হাযির হয় না। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস, তালহা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর এবং আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি সহীহ নয়। এই হাদীসটি হাসানের সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপেও বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ (৩৫৫ নং হাদীসটির) রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিমকে আহমদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) সমালোচনা করেছেন এবং তাঁকে যঈফ বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু কাসিম তেমন স্মরণশক্তি সম্পন্ন নন। মুসল্লিদের অসন্তুষ্টিতে তাদের ইমামতি করা আলিমগণ মাকরূহ বলেছেন। কিন্তু ইমাম যদি যালিম বা অপরাধী না হন, সেই ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি তাকে অপছন্দ করবে তার উপরই গুনাহ বর্তাবে। এই বিষয়ে ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেনঃ অধিকাংশ মুসল্লি অপছন্দ না করা পর্যন্ত একজন বা দুইজন বা তিনজনের অপছন্দ করা ধর্তব্যের হবে না।
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস, তালহা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর এবং আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি সহীহ নয়। এই হাদীসটি হাসানের সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপেও বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ (৩৫৫ নং হাদীসটির) রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিমকে আহমদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) সমালোচনা করেছেন এবং তাঁকে যঈফ বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু কাসিম তেমন স্মরণশক্তি সম্পন্ন নন। মুসল্লিদের অসন্তুষ্টিতে তাদের ইমামতি করা আলিমগণ মাকরূহ বলেছেন। কিন্তু ইমাম যদি যালিম বা অপরাধী না হন, সেই ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি তাকে অপছন্দ করবে তার উপরই গুনাহ বর্তাবে। এই বিষয়ে ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেনঃ অধিকাংশ মুসল্লি অপছন্দ না করা পর্যন্ত একজন বা দুইজন বা তিনজনের অপছন্দ করা ধর্তব্যের হবে না।
হাদিস নং: ৩৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا جرير، عن منصور، عن هلال بن يساف، عن زياد بن ابي الجعد، عن عمرو بن الحارث بن المصطلق، قال كان يقال اشد الناس عذابا يوم القيامة اثنان امراة عصت زوجها وامام قوم وهم له كارهون . قال هناد قال جرير قال منصور فسالنا عن امر الامام فقيل لنا انما عنى بهذا اىمة ظلمة فاما من اقام السنة فانما الاثم على من كرهه .
৩৫৯. হান্নাদ (রহঃ) ...... আমর ইবনুল হারিস ইবনু মুসতালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ বলা হয়, সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে দুই ব্যক্তির, স্বামীর অবাধ্যা স্ত্রীর এবং এমন ইমামের যাকে মুসল্লিরা অপছন্দ করে। রাবী মানসূর বলেনঃ ইমাম সম্পর্কে আমরা জিজ্ঞাসা করলে আমাদের বলা হল : যালিম বা অন্যায়চারী ইমামদের বেলায়ই উক্ত কথা প্রযোজ্য। কিন্তু যে ইমাম সুন্নাতের প্রতিষ্টা করেন, তাঁর ক্ষেত্রে তাঁকে অপছন্দকারী ব্যক্তির উপরই গুনাহ বর্তাবে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩৬০
হাসান (Hasan)
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا علي بن الحسن، حدثنا الحسين بن واقد، حدثنا ابو غالب، قال سمعت ابا امامة، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ثلاثة لا تجاوز صلاتهم اذانهم العبد الابق حتى يرجع وامراة باتت وزوجها عليها ساخط وامام قوم وهم له كارهون " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . وابو غالب اسمه حزور .
৩৬০. মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ..... আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তিন ব্যক্তি এমন যাদের সালাত তাদের কানও অতিক্রম করে না, পলাতক গোলাম যতক্ষণ না সে (মালিকের কাছে) ফিরে আসে, এমন মহিলা যে তার স্বামীর অসন্তুষ্টিতে রাত্রি যাপন করে, এমন ইমাম মুসল্লিরা যাকে অপছন্দ করে। - মিশকাত ১১২২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন : এই সনদে হাদীসটি হাসান-গরীব। রাবী আবূ গালিবের নাম হল হাযাওওয়ার।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন : এই সনদে হাদীসটি হাসান-গরীব। রাবী আবূ গালিবের নাম হল হাযাওওয়ার।
হাদিস নং: ৩৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن انس بن مالك، انه قال خر رسول الله صلى الله عليه وسلم عن فرس فجحش فصلى بنا قاعدا فصلينا معه قعودا ثم انصرف فقال " انما الامام او انما جعل الامام ليوتم به فاذا كبر فكبروا واذا ركع فاركعوا واذا رفع فارفعوا واذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا ربنا ولك الحمد واذا سجد فاسجدوا واذا صلى قاعدا فصلوا قعودا اجمعون " . قال وفي الباب عن عاىشة وابي هريرة وجابر وابن عمر ومعاوية . قال ابو عيسى وحديث انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خر عن فرس فجحش حديث حسن صحيح . وقد ذهب بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الى هذا الحديث منهم جابر بن عبد الله واسيد بن حضير وابو هريرة وغيرهم . وبهذا الحديث يقول احمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم اذا صلى الامام جالسا لم يصل من خلفه الا قياما فان صلوا قعودا لم تجزهم . وهو قول سفيان الثوري ومالك بن انس وابن المبارك والشافعي .
৩৬১. কুতায়বা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। তখন তিনি বসে বসে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে বসে বসে সালাত আদায় করলাম। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে বললেন : ইমাম করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্য। সুতরাং তিনি যখন তাকবীর বলবেন তখন তোমরা তাকবীর বলবে, তিনি যখন রুকূ করবেন তোমরা তখন রুকূ করবে। তিনি যখন উঠবেন তোমরাও তখন উঠবে। তিনি যখন বলবেনঃ سمع اللّه لمن حمده তখন তোমরা বলবে ربّنا ولك الحمد তিনি যখন সিজদা করবেন তোমরা তখন সিজদা করবে আর তিনি যখন বসে সালাত আদায় করবেন তখন তোমরাও সকলে বসে সালাত আদায় করবে। - ইবনু মাজাহ ১২৩৮, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, আবূ হুরায়রা, জাবির, ইবনু উমর এবং মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহত হওয়া সম্পর্কিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, উসায়দ ইবনু হুযায়র, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখসহ কতিপয় সাহাবী এই হাদীস অনুসারে মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কতক আলিমের অভিমত হল, ইমাম (উযরবশত) বসে সালাত আদায় করলেও তার পিছনের মুসল্লিদের দাঁড়িয়েই সালাত আদায় করতে হবে। তারা যদি (উযর ছাড়া) বসে সালাত আদায় করে তবে তা জায়েয হবে না। ইমাম (আবূ হানীফা), সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবনু মুবারক এবং শাফিঈ (রহঃ)-এর অভিমত এটাই।
এই বিষয়ে আয়িশা, আবূ হুরায়রা, জাবির, ইবনু উমর এবং মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহত হওয়া সম্পর্কিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, উসায়দ ইবনু হুযায়র, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখসহ কতিপয় সাহাবী এই হাদীস অনুসারে মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কতক আলিমের অভিমত হল, ইমাম (উযরবশত) বসে সালাত আদায় করলেও তার পিছনের মুসল্লিদের দাঁড়িয়েই সালাত আদায় করতে হবে। তারা যদি (উযর ছাড়া) বসে সালাত আদায় করে তবে তা জায়েয হবে না। ইমাম (আবূ হানীফা), সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবনু মুবারক এবং শাফিঈ (রহঃ)-এর অভিমত এটাই।
হাদিস নং: ৩৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا شبابة بن سوار، عن شعبة، عن نعيم بن ابي هند، عن ابي واىل، عن مسروق، عن عاىشة، قالت صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم خلف ابي بكر في مرضه الذي مات فيه قاعدا . قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح . وقد روي عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " اذا صلى الامام جالسا فصلوا جلوسا " . وروي عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج في مرضه وابو بكر يصلي بالناس فصلى الى جنب ابي بكر والناس ياتمون بابي بكر وابو بكر ياتم بالنبي صلى الله عليه وسلم . وروي عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى خلف ابي بكر قاعدا . وروي عن انس بن مالك ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى خلف ابي بكر وهو قاعد .
৩৬২. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ যে অসুস্থতায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন সে অসুস্থতার সময় তিনি আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পিছনে বসে সালাত আদায় করেছেন। - ইবনু মাজাহ ১২৩২, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু আয়্যূব (রহঃ) ও হুমায়দ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এবং একাধিক রাবীও হুমায়দ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ সনদে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের সনদে হুমায়দ (রহঃ) ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাঝে সাবিত (রহঃ)-এর উল্লেখ করেননি। তবে যাঁরা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের রিওয়ায়াতই অধিকতর সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু আয়্যূব (রহঃ) ও হুমায়দ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এবং একাধিক রাবীও হুমায়দ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ সনদে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের সনদে হুমায়দ (রহঃ) ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাঝে সাবিত (রহঃ)-এর উল্লেখ করেননি। তবে যাঁরা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের রিওয়ায়াতই অধিকতর সহীহ।
হাদিস নং: ৩৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن ابي زياد، حدثنا شبابة بن سوار، حدثنا محمد بن طلحة، عن حميد، عن ثابت، عن انس، قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه خلف ابي بكر قاعدا في ثوب متوشحا به . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال وهكذا رواه يحيى بن ايوب عن حميد عن ثابت عن انس . وقد رواه غير واحد عن حميد عن انس ولم يذكروا فيه عن ثابت . ومن ذكر فيه عن ثابت فهو اصح .
৩৬৩. আবদুল্লাহ ইবনু আবী জিয়াদ (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত আছে যে, আনাস (রাঃ) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতার সময় শরীরে একটি কাপড় জড়িয়ে আবূ বকর (রাঃ) এর পিছনে বসে সালাত আদায় করেছেন। - তা’লীকাত হাসসান ৩/২৮৩/২১২২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহিহ। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব (রহঃ) ও হুমায়দ আনাস (রাঃ) সুত্রে এবং একাধিক রাবী ও হুমায়দ আনাস (রাঃ) সনদে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তারা তাদের সনদে হুমায়দ (রহঃ) ও আনাস (রাঃ) এর মাঝে সাবিত (রহঃ) এর উল্লেখ করননি। তবে যারা উল্লেখ করেছনে, তাদের রিওয়ায়াতই অধিকতর সহিহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহিহ। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব (রহঃ) ও হুমায়দ আনাস (রাঃ) সুত্রে এবং একাধিক রাবী ও হুমায়দ আনাস (রাঃ) সনদে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তারা তাদের সনদে হুমায়দ (রহঃ) ও আনাস (রাঃ) এর মাঝে সাবিত (রহঃ) এর উল্লেখ করননি। তবে যারা উল্লেখ করেছনে, তাদের রিওয়ায়াতই অধিকতর সহিহ।
হাদিস নং: ৩৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، اخبرنا ابن ابي ليلى، عن الشعبي، قال صلى بنا المغيرة بن شعبة فنهض في الركعتين فسبح به القوم وسبح بهم فلما صلى بقية صلاته سلم ثم سجد سجدتى السهو وهو جالس ثم حدثهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم فعل بهم مثل الذي فعل . قال وفي الباب عن عقبة بن عامر وسعد وعبد الله ابن بحينة . قال ابو عيسى حديث المغيرة بن شعبة قد روي من غير وجه عن المغيرة بن شعبة . قال ابو عيسى وقد تكلم بعض اهل العلم في ابن ابي ليلى من قبل حفظه . قال احمد لا يحتج بحديث ابن ابي ليلى . وقال محمد بن اسماعيل ابن ابي ليلى هو صدوق ولا اروي عنه لانه لا يدري صحيح حديثه من سقيمه وكل من كان مثل هذا فلا اروي عنه شيىا . وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن المغيرة بن شعبة رواه سفيان عن جابر عن المغيرة بن شبيل عن قيس بن ابي حازم عن المغيرة بن شعبة . وجابر الجعفي قد ضعفه بعض اهل العلم تركه يحيى بن سعيد وعبد الرحمن بن مهدي وغيرهما . والعمل على هذا عند اهل العلم ان الرجل اذا قام في الركعتين مضى في صلاته وسجد سجدتين منهم من راى قبل التسليم ومنهم من راى بعد التسليم . ومن راى قبل التسليم فحديثه اصح لما روى الزهري ويحيى بن سعيد الانصاري عن عبد الرحمن الاعرج عن عبد الله ابن بحينة .
৩৬৪. আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) .... শা’বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ একবার মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু সালাতে আমাদের ইমামতি করলেন। কিন্তু দুই রাকআতের পর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন। মুসল্লিরা তাকে সতর্ক করতে সুবহানাল্লাহ পাঠ করলেন। তিনিও তখন সুবহানাল্লাহ বললেন। সালাত শেষে তিনি বসাবস্থায় সিজদা সহ্ও করলেন। পরে বললেন যে, তিনি এখন যেমন করলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এই ক্ষেত্রে তাঁদের নিয়ে এমন করেছিলেন। - ইবনু মাজাহ ১২০৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উকবা ইবনু আমির, সা’দ ও আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়না রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ মুগীরা ইবনু শু’বা বর্ণিত এই হাদীসটি তাঁর থেকে একাধিক সনদে আছে। আলিমগণ ইবনু আবী লায়লার স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন। ইমাম আহমদ বলেনঃ ইবনু আবী লায়লার হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আবী লায়লা সত্যবাদী (সা’দূক) বটে কিন্তু আমি তার থেকে হাদীস বর্ণনা করি না। কারণ তাঁর দুর্বল ও সহীহ হাদীসগুলো আলাদা আলাদা বুঝা যায় না। আর যাদের অবস্থা এই, তাদের কোন হাদীস আমি বর্ণনা করি না। এই হাদীসটি মুগীরা ইবনু শু’বা থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। সুফইয়ান জাবির, মুগীরা ইবনু শুবাইল কায়স, ইবনু আবী হাযিম মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে ও এটি বর্ণিত আছে। তবে এই সনদে উল্লেখিত রাবী জাবির আল-জু’ফীকে কতক আলিম যঈফ বলে মন্তব্য করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ, আবদুর রহমান ইবনু মাহদী প্রমুখ হাদীস বিশরদ তাকে বর্জন করেছেন।
আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা বলেনঃ দুই রাকআতের পর কেউ যদি (ভুলে) দাঁড়িয়ে যায় তবে সে সালাত চালিয়ে যাবে এবং শেষে সিজদা সাহও করবে। কেউ কেউ বলেনঃ সালামের পর সিজদা সাহু করবে, আর কেউ কেউ বলেন সালামের আগেই সিজদা সাহু করবে। যারা বলেন সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করবে, তাদের কথা অধিকতর সঠিক। কেননা যুহরী ও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ) আবদুর রহমান আল-আ’রাজের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়না থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
এই বিষয়ে উকবা ইবনু আমির, সা’দ ও আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়না রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ মুগীরা ইবনু শু’বা বর্ণিত এই হাদীসটি তাঁর থেকে একাধিক সনদে আছে। আলিমগণ ইবনু আবী লায়লার স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন। ইমাম আহমদ বলেনঃ ইবনু আবী লায়লার হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আবী লায়লা সত্যবাদী (সা’দূক) বটে কিন্তু আমি তার থেকে হাদীস বর্ণনা করি না। কারণ তাঁর দুর্বল ও সহীহ হাদীসগুলো আলাদা আলাদা বুঝা যায় না। আর যাদের অবস্থা এই, তাদের কোন হাদীস আমি বর্ণনা করি না। এই হাদীসটি মুগীরা ইবনু শু’বা থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। সুফইয়ান জাবির, মুগীরা ইবনু শুবাইল কায়স, ইবনু আবী হাযিম মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে ও এটি বর্ণিত আছে। তবে এই সনদে উল্লেখিত রাবী জাবির আল-জু’ফীকে কতক আলিম যঈফ বলে মন্তব্য করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ, আবদুর রহমান ইবনু মাহদী প্রমুখ হাদীস বিশরদ তাকে বর্জন করেছেন।
আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা বলেনঃ দুই রাকআতের পর কেউ যদি (ভুলে) দাঁড়িয়ে যায় তবে সে সালাত চালিয়ে যাবে এবং শেষে সিজদা সাহও করবে। কেউ কেউ বলেনঃ সালামের পর সিজদা সাহু করবে, আর কেউ কেউ বলেন সালামের আগেই সিজদা সাহু করবে। যারা বলেন সালামের পূর্বে সিজদা সাহু করবে, তাদের কথা অধিকতর সঠিক। কেননা যুহরী ও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ) আবদুর রহমান আল-আ’রাজের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়না থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৩৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا يزيد بن هارون، عن المسعودي، عن زياد بن علاقة، قال صلى بنا المغيرة بن شعبة فلما صلى ركعتين قام ولم يجلس فسبح به من خلفه فاشار اليهم ان قوموا فلما فرغ من صلاته سلم وسجد سجدتى السهو وسلم وقال هكذا صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن المغيرة بن شعبة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৩৬৫. আবদুল্লাহ ইবনু আব্দির রহমান (রহঃ) .... যিয়াদ ইবনু ইলাকা (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। দুই রাকআতের পর তিনি না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। পিছনে যারা ছিলেন তারা (তাকে সতর্ক করার জন্য) সুবহানাল্লাহ পাঠ করলেন। তিনি তাদেরকে দাঁড়াতে ইশারা করলেন। সালাতশেষে তিনি সালাম ফিরিয়ে সিজদা সাহু করলেন এবং পরে যথারীতি সালাম ফিরিয়ে বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এরূপ করেছিলেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটি মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটি মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৩৬৬
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، - هو الطيالسي حدثنا شعبة، اخبرنا سعد بن ابراهيم، قال سمعت ابا عبيدة بن عبد الله بن مسعود، يحدث عن ابيه، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا جلس في الركعتين الاوليين كانه على الرضف . قال شعبة ثم حرك سعد شفتيه بشيء فاقول حتى يقوم فيقول حتى يقوم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن الا ان ابا عبيدة لم يسمع من ابيه . والعمل على هذا عند اهل العلم يختارون ان لا يطيل الرجل القعود في الركعتين الاوليين ولا يزيد على التشهد شيىا . وقالوا ان زاد على التشهد فعليه سجدتا السهو . هكذا روي عن الشعبي وغيره .
৩৬৬. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... আবূ উবায়দা (রহঃ) তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দু’রাকআতের পর যখন বসতেন তখন মনে হত তিনি যেন কোন উত্তপ্ত পাথরের উপর বসেছেন। শু’বা বলেন, অতঃপর (এই হাদীসের রাবী) সা’দ ঠোঁট নাড়িয়ে কি যেন বললেন। আমি বললামঃ حتى يقوم (দাঁড়িয়ে না পড়া পর্যন্ত) বলছেন? তিনি বললেন’ হ্যাঁ, حتى يقوم - মিশকাত ৯১৫, যইফ আবু দাউদ ১৭৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান। তবে রাবী আবূ উবায়দাহ্ তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে সরাসরি কোন হাদীস শোনেন নি। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেনঃ প্রথম দুই রাকআতের পর বৈঠক দীর্ঘ করবে না এবং তাশাহ্হুদের অতিরিক্ত কিছু বাড়াবে না। যদি তাশাহ্হুদের অতিরিক্ত কিছু করে, তবে তাকে সিজদা সাহুও করতে হবে। ইমাম শা’বী প্রমুখ থেকে এই ধরনের বক্তব্য বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান। তবে রাবী আবূ উবায়দাহ্ তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে সরাসরি কোন হাদীস শোনেন নি। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেনঃ প্রথম দুই রাকআতের পর বৈঠক দীর্ঘ করবে না এবং তাশাহ্হুদের অতিরিক্ত কিছু বাড়াবে না। যদি তাশাহ্হুদের অতিরিক্ত কিছু করে, তবে তাকে সিজদা সাহুও করতে হবে। ইমাম শা’বী প্রমুখ থেকে এই ধরনের বক্তব্য বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৩৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث بن سعد، عن بكير بن عبد الله بن الاشج، عن نابل، صاحب العباء عن ابن عمر، عن صهيب، قال مررت برسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فسلمت عليه فرد الى اشارة . وقال لا اعلم الا انه قال اشارة باصبعه . قال وفي الباب عن بلال وابي هريرة وانس وعاىشة .
৩৬৭. কুতায়বা (রহঃ) .... সুহায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি একবার রাসূূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি আমাকে ইশারায় জওয়াব দিলেন। - সহিহ আবু দাউদ ৮৫৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
রাবি লায়স ইবনু সা’দ বলেনঃ আমি নিশ্চিত যে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অঙ্গুলি দিয়ে ইশারা করেছিলেন বলে সুহায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহু উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়ে বিলাল, আবূ হুরায়রা, আনাস এবং আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
রাবি লায়স ইবনু সা’দ বলেনঃ আমি নিশ্চিত যে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অঙ্গুলি দিয়ে ইশারা করেছিলেন বলে সুহায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহু উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়ে বিলাল, আবূ হুরায়রা, আনাস এবং আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৩৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، حدثنا هشام بن سعد، عن نافع، عن ابن عمر، قال قلت لبلال كيف كان النبي صلى الله عليه وسلم يرد عليهم حين كانوا يسلمون عليه وهو في الصلاة قال كان يشير بيده . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وحديث صهيب حسن لا نعرفه الا من حديث الليث عن بكير . وقد روي عن زيد بن اسلم عن ابن عمر قال قلت لبلال كيف كان النبي صلى الله عليه وسلم يصنع حيث كانوا يسلمون عليه في مسجد بني عمرو بن عوف قال كان يرد اشارة . وكلا الحديثين عندي صحيح لان قصة حديث صهيب غير قصة حديث بلال . وان كان ابن عمر روى عنهما فاحتمل ان يكون سمع منهما جميعا .
৩৬৮. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি বিলালকে বললাম, সালাতরত অবস্থায় সালাম দিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে এর জওয়াব দিতেন? তিনি বললেনঃ তখন হাতে ইশারা করতেন। - ইবনু মাজাহ ১০১৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুহায়ব (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটি (৩৬৫ নং) হাসান। এটি লায়স ইবনু বুকায়র (রহঃ) এর সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। যায়দ ইবনু আসলাম রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ আমি বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বনূ আমর ইবনু আওফ-এর মসজিদে সালাতরত অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিলে তিনি কিভাবে-এর উত্তর দিয়েছিলেন? বললেনঃ ইশারায় জবাব দিতেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ বিলাল ও সুহায়ব উভয়ের হাদীস ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রিওয়ায়াত করেছেন বটে, তবে আমার নিকট উভয় হাদীসই সহীহ। বিলাল-এর হাদীসটির প্রেক্ষাপট সুহায়ব-এর হাদীসটির প্রেক্ষাপট থেকে ভিন্ন। সম্ভবত ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয়ের নিকট থেকে ই হাদীস শুনেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুহায়ব (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটি (৩৬৫ নং) হাসান। এটি লায়স ইবনু বুকায়র (রহঃ) এর সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। যায়দ ইবনু আসলাম রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ আমি বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বনূ আমর ইবনু আওফ-এর মসজিদে সালাতরত অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিলে তিনি কিভাবে-এর উত্তর দিয়েছিলেন? বললেনঃ ইশারায় জবাব দিতেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ বিলাল ও সুহায়ব উভয়ের হাদীস ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রিওয়ায়াত করেছেন বটে, তবে আমার নিকট উভয় হাদীসই সহীহ। বিলাল-এর হাদীসটির প্রেক্ষাপট সুহায়ব-এর হাদীসটির প্রেক্ষাপট থেকে ভিন্ন। সম্ভবত ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয়ের নিকট থেকে ই হাদীস শুনেছেন।
হাদিস নং: ৩৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " التسبيح للرجال والتصفيق للنساء " . قال وفي الباب عن علي وسهل بن سعد وجابر وابي سعيد وابن عمر . وقال علي كنت اذا استاذنت على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي سبح . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل عليه عند اهل العلم وبه يقول احمد واسحاق .
৩৬৯. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, পুরুষদের ক্ষেত্রে হল সুবহানাল্লাহ পাঠ আর মহিলাদের ক্ষেত্রে হল হাততালি দেওয়া। - ইবনু মাজাহ ১০৩৪-১০৩৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, সাহল ইবনু সা’দ, জাবির, আবূ সাঈদ এবং ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইতাম, তিনি তখন সালাতরত থাকলে সুবহানাল্লাহ পাঠ করতেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারেই আমল গ্রহণ করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাকও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এই বিষয়ে আলী, সাহল ইবনু সা’দ, জাবির, আবূ সাঈদ এবং ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইতাম, তিনি তখন সালাতরত থাকলে সুবহানাল্লাহ পাঠ করতেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারেই আমল গ্রহণ করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাকও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
হাদিস নং: ৩৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن جعفر، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " التثاوب في الصلاة من الشيطان فاذا تثاءب احدكم فليكظم ما استطاع " . قال وفي الباب عن ابي سعيد الخدري وجد عدي بن ثابت . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . وقد كره قوم من اهل العلم التثاوب في الصلاة . قال ابراهيم اني لارد التثاوب بالتنحنح .
৩৭০. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সালাতে হাই তোলা শয়তান থেকে হয়। সুতরাং কারো যদি হাই আসে তবে সে যেন যথাশক্তি তা রোধ করে। - যইফা ২৪২০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ আল-খুদরী এবং আদী ইবনু সাবিতের পিতামহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন : আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের বিরাট এক সম্প্রদায় সালাতে হাই তোলা মাকরূহ বলেছেন। ইবরাহীম বলেনঃ আমি গলা খাকারী দিয়ে হাই প্রতিহত করি।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ আল-খুদরী এবং আদী ইবনু সাবিতের পিতামহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন : আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের বিরাট এক সম্প্রদায় সালাতে হাই তোলা মাকরূহ বলেছেন। ইবরাহীম বলেনঃ আমি গলা খাকারী দিয়ে হাই প্রতিহত করি।
হাদিস নং: ৩৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، حدثنا عيسى بن يونس، حدثنا حسين المعلم، عن عبد الله بن بريدة، عن عمران بن حصين، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صلاة الرجل وهو قاعد فقال " من صلى قاىما فهو افضل ومن صلى قاعدا فله نصف اجر القاىم ومن صلى ناىما فله نصف اجر القاعد " . قال وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وانس والساىب وابن عمر . قال ابو عيسى حديث عمران بن حصين حديث حسن صحيح .
وقد روي هذا الحديث، عن ابراهيم بن طهمان، بهذا الاسناد الا انه يقول عن عمران بن حصين، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صلاة المريض فقال " صل قاىما فان لم تستطع فقاعدا فان لم تستطع فعلى جنب " .
وقد روي هذا الحديث، عن ابراهيم بن طهمان، بهذا الاسناد الا انه يقول عن عمران بن حصين، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صلاة المريض فقال " صل قاىما فان لم تستطع فقاعدا فان لم تستطع فعلى جنب " .
৩৭১. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) .... ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বসে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ কেউ যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তার জন্য উত্তম। বসে সালাত আদায় করলে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার অর্ধিক সওয়াব পাবে। আর শুয়ে সালাত আদায় করলে সে বসে সালাত আদায়ের অর্ধেক সওয়াব পাবে। - ইবনু মাজাহ ১২৩১, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আনাস ও ইয়াযীদ ইবনু সায়িব (এবং ইবনু উমর) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটি উক্ত সনদে ইবরাহীম ইবনু তাহমানের বরাতেও বর্ণিত আছে। তবে তিনি বর্ণনা করেন যে,
ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি অসুস্থ ব্যক্তির সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ সেও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তা সম্ভব না হলে বসে পড়বে আর তাও সম্ভব না হলে শুয়ে সালাত আদায় করবে। - ইরওয়া ২৯৯, বুখারি,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ৩৭২ এর প্রথমাংশ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আনাস ও ইয়াযীদ ইবনু সায়িব (এবং ইবনু উমর) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটি উক্ত সনদে ইবরাহীম ইবনু তাহমানের বরাতেও বর্ণিত আছে। তবে তিনি বর্ণনা করেন যে,
ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি অসুস্থ ব্যক্তির সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ সেও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তা সম্ভব না হলে বসে পড়বে আর তাও সম্ভব না হলে শুয়ে সালাত আদায় করবে। - ইরওয়া ২৯৯, বুখারি,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ৩৭২ এর প্রথমাংশ [আল মাদানী প্রকাশনী]