হাদিস নং: ৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، عن مالك، ح وحدثنا الانصاري، اسحاق بن موسى حدثنا معن، حدثنا مالك، عن صفوان بن سليم، عن سعيد بن سلمة، من ال ابن الازرق ان المغيرة بن ابي بردة، وهو من بني عبد الدار اخبره انه، سمع ابا هريرة، يقول سال رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله انا نركب البحر ونحمل معنا القليل من الماء فان توضانا به عطشنا افنتوضا من ماء البحر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هو الطهور ماوه الحل ميتته " . قال وفي الباب عن جابر والفراسي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وهو قول اكثر الفقهاء من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منهم ابو بكر وعمر وابن عباس لم يروا باسا بماء البحر . وقد كره بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الوضوء بماء البحر منهم ابن عمر وعبد الله بن عمرو . وقال عبد الله بن عمرو هو نار .
৬৯. কুতায়বা ও আল-আনসারী ইসহাক ইবনু মূসা (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করলেন হে আল্লাহর রাসূল, অনেক সময় আমাদের সমুদ্র সফর করতে হয়। তখন সামান্য পানি আমরা আমদের সাথে নিয়ে যাই। যদি সে পানিতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে যাই তবে আমাদের পিপাসার্ত থাকতে হয়। সুতরাং আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে পারি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এর পানি পাক এবং এর মুর্দা (সামুদ্রিক মাছ) হালাল। - ইবনু মাজাহ ৩৮৬-৩৮৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জাবির ও আল-ফিরাসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। অধিকাংশ ফকীহ সাহাবীর মত এ-ই। এদের মধ্যে রয়েছেন আবূ বকর, উমর ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁরা সমুদ্রের পানি ব্যবহারে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। সাহাবীগণের কেউ কেউ সমুদ্রের পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা মাকরূহ বলে মনে করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনু উমর ও আবূদল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেনঃ এ তো আগুন।
এই বিষয়ে জাবির ও আল-ফিরাসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। অধিকাংশ ফকীহ সাহাবীর মত এ-ই। এদের মধ্যে রয়েছেন আবূ বকর, উমর ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁরা সমুদ্রের পানি ব্যবহারে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। সাহাবীগণের কেউ কেউ সমুদ্রের পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা মাকরূহ বলে মনে করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনু উমর ও আবূদল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেনঃ এ তো আগুন।
হাদিস নং: ৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، وقتيبة، وابو كريب قالوا حدثنا وكيع، عن الاعمش، قال سمعت مجاهدا، يحدث عن طاوس، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم مر على قبرين فقال " انهما يعذبان وما يعذبان في كبير اما هذا فكان لا يستتر من بوله واما هذا فكان يمشي بالنميمة " . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي هريرة وابي موسى وعبد الرحمن ابن حسنة وزيد بن ثابت وابي بكرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وروى منصور هذا الحديث عن مجاهد عن ابن عباس ولم يذكر فيه عن طاوس . ورواية الاعمش اصح . قال وسمعت ابا بكر محمد بن ابان البلخي مستملي وكيع يقول سمعت وكيعا يقول الاعمش احفظ لاسناد ابراهيم من منصور .
৭০. হান্নাদ, কুতায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, এই দু’টি কবরে আযাব হচ্ছে। আর তা বিরাট কোন কিছুর জন্য নয়। এই জন তো পেশাব থেকে নিজেকে বাঁচাত না আর ঐ জন চোগলখুরী কর বেড়াত। - ইবনু মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে যায়দ ইবনু ছাবিত, আবূ বকরা, আবূ হুরায়রা, আবূ মূসা ও আবূদর রাহমান ইবনু হাসানা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। মুজাহিদ-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে মানসূরও এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এতে তিনি মুজাহিদ ও ইবনু আব্বাসের মাঝে তাউসের কথা উল্লেখ করেননি। শুরুতে বর্ণিত আ’মাশের রিওয়ায়াতটই (৭০নং হাদিছ) অধিকতর সহীহ। আবূ বকর হাম্মাদ ইবনু আবান আল-বালখীকে বলতে শুনেছি যে, ওয়াকী’ বলেছেন ইবরাহীম থেকে রিওয়ায়াতের ব্যাপারে মানসূরের তুলনায় আ’মাশ অধিকতর সঠিক।
এই বিষয়ে যায়দ ইবনু ছাবিত, আবূ বকরা, আবূ হুরায়রা, আবূ মূসা ও আবূদর রাহমান ইবনু হাসানা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। মুজাহিদ-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে মানসূরও এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এতে তিনি মুজাহিদ ও ইবনু আব্বাসের মাঝে তাউসের কথা উল্লেখ করেননি। শুরুতে বর্ণিত আ’মাশের রিওয়ায়াতটই (৭০নং হাদিছ) অধিকতর সহীহ। আবূ বকর হাম্মাদ ইবনু আবান আল-বালখীকে বলতে শুনেছি যে, ওয়াকী’ বলেছেন ইবরাহীম থেকে রিওয়ায়াতের ব্যাপারে মানসূরের তুলনায় আ’মাশ অধিকতর সঠিক।
হাদিস নং: ৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، واحمد بن منيع، قالا حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ام قيس بنت محصن، قالت دخلت بابن لي على النبي صلى الله عليه وسلم لم ياكل الطعام فبال عليه فدعا بماء فرشه عليه . قال وفي الباب عن علي وعاىشة وزينب ولبابة بنت الحارث وهي ام الفضل بن عباس بن عبد المطلب وابي السمح وعبد الله بن عمرو وابي ليلى وابن عباس . قال ابو عيسى وهو قول غير واحد من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم مثل احمد واسحاق قالوا ينضح بول الغلام ويغسل بول الجارية وهذا ما لم يطعما فاذا طعما غسلا جميعا .
৭১. কুতায়বা ও আহমদ ইবনু মানী’ (রহঃ) ..... উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি আমার দুগ্ধপোষ্য শিশু পুত্রকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। শিশুটি তাঁর কোলে পেশাব করে দিল। রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন এবং পরে তা পেশাবের স্থানে ছিটিয়ে দিলেন। - ইবনু মাজাহ ৫২৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, আয়িশা, যায়নাব, লুবাবা বিনত হারিছ-ইনি হলেন ফযল ইবনু আব্বাসের মা, আবূস-সামহি, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ লায়লা ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একাধিক সাহাবী, তাবিঈ এবং ইমাম আহমদ ও ইসহাকের মত পরবর্তী যুগের ফকীহদের অভিমত এ-ই। তাঁরা বলেন, দুগ্ধপোষ্য ছেলের পেশাবের বেলায় পানি ছিটিয়ে দেওয়া যথেষ্ট, আর মেয়ে হলে তা ধৌত করতে হতে। কিন্তু যদি দুগ্ধপোষ্য না হয় তবে ছেলে বা মেয়ে উভয়ের বেলায়ই তা ধৌত করতে হবে।
এই বিষয়ে আলী, আয়িশা, যায়নাব, লুবাবা বিনত হারিছ-ইনি হলেন ফযল ইবনু আব্বাসের মা, আবূস-সামহি, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ লায়লা ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একাধিক সাহাবী, তাবিঈ এবং ইমাম আহমদ ও ইসহাকের মত পরবর্তী যুগের ফকীহদের অভিমত এ-ই। তাঁরা বলেন, দুগ্ধপোষ্য ছেলের পেশাবের বেলায় পানি ছিটিয়ে দেওয়া যথেষ্ট, আর মেয়ে হলে তা ধৌত করতে হতে। কিন্তু যদি দুগ্ধপোষ্য না হয় তবে ছেলে বা মেয়ে উভয়ের বেলায়ই তা ধৌত করতে হবে।
হাদিস নং: ৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن محمد الزعفراني، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا حماد بن سلمة، حدثنا حميد، وقتادة، وثابت، عن انس، ان ناسا، من عرينة قدموا المدينة فاجتووها فبعثهم رسول الله صلى الله عليه وسلم في ابل الصدقة وقال " اشربوا من البانها وابوالها " . فقتلوا راعي رسول الله صلى الله عليه وسلم واستاقوا الابل وارتدوا عن الاسلام فاتي بهم النبي صلى الله عليه وسلم فقطع ايديهم وارجلهم من خلاف وسمر اعينهم والقاهم بالحرة . قال انس فكنت ارى احدهم يكد الارض بفيه حتى ماتوا . وربما قال حماد يكدم الارض بفيه حتى ماتوا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي من غير وجه عن انس . وهو قول اكثر اهل العلم قالوا لا باس ببول ما يوكل لحمه .
৭২. হাসান ইবনু মুহাম্মাদ আয্-যা’ফরানী (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, একবার উরায়না গোত্রের কিছু লোক মদিনা আসে। কিন্তু মদিনার আবহাওয়া তাদের উপযোগী না হওয়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সদকার উট চারণের ক্ষেত্রে পাঠিয়ে দিলেন। বলে দিলেন তোমরা উটের দুধ ও পেশাব পান করবে। শেষে এরা ইসালাম ত্যাগ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিযুক্ত রাখালকে হত্যা করে উটগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এদেরকে ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হাযির করা হয়। অতঃপর বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হল। চোখ শলাকা দিয়ে বিদ্ধ করা হল এবং এবং মদীনার পাথুরে ময়দান হাররায় নিক্ষেপ করা হল। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ এদের মধ্যে একজনকে আমি তখন মাটি কামড়াতে দেখেছি। হান্নাদ তাঁর রিওয়ায়াতে يكد الارض -এর স্থলে কোন কোন সময় يَكْدُمُ الأَرْضَ -ও রেওয়ায়াত করেছেন। - ইরওয়া ১৭৭, রাওয ৪৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহীহ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। অধিকাংশ আলিমের অভিমত এরুপ। তারা বলেনঃ হালাল পশুর পেশাবে কোন দোষ নেই।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহীহ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। অধিকাংশ আলিমের অভিমত এরুপ। তারা বলেনঃ হালাল পশুর পেশাবে কোন দোষ নেই।
হাদিস নং: ৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا الفضل بن سهل الاعرج البغدادي، حدثنا يحيى بن غيلان، قال حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا سليمان التيمي، عن انس بن مالك، قال انما سمل النبي صلى الله عليه وسلم اعينهم لانهم سملوا اعين الرعاة . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعلم احدا ذكره غير هذا الشيخ عن يزيد بن زريع . وهو معنى قوله : ( والجروح قصاص ) . وقد روي عن محمد بن سيرين قال انما فعل بهم النبي صلى الله عليه وسلم هذا قبل ان تنزل الحدود .
৭৩. আল-ফযল ইবনু সাহল আল-আ’রাজ আল-বাগদাদী (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, এরা যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাখালদের চোখ শলাকা দিয়ে বিদ্ধ করেছিল সেহেতু কিসাস হিসাবে তিনি তাদের চোখও শলাকা দিয়ে বিদ্ধ করেছিলেন। - প্রাগুক্ত। মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি গরীব। কেননা রাবী ইয়াযীদ ইবনু যারায় থেকে আর কেউ এটি রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নাই। এই হাদিসটির মর্ম আল্লাহর কালাম وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ (যখমের বদলে অনুরুপ যখম) এর অনুরুপ। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন হুদূদ সম্পর্কিত বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের সঙ্গে এই আচরণ করেছিলেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি গরীব। কেননা রাবী ইয়াযীদ ইবনু যারায় থেকে আর কেউ এটি রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নাই। এই হাদিসটির মর্ম আল্লাহর কালাম وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ (যখমের বদলে অনুরুপ যখম) এর অনুরুপ। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন হুদূদ সম্পর্কিত বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের সঙ্গে এই আচরণ করেছিলেন।
হাদিস নং: ৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، وهناد، قالا حدثنا وكيع، عن شعبة، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا وضوء الا من صوت او ريح " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৭৪ কুতায়বা ও হান্নাদ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন শব্দ বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে না। - ইবনু মাজাহ ৫১৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
হাদিস নং: ৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا كان احدكم في المسجد فوجد ريحا بين اليتيه فلا يخرج حتى يسمع صوتا او يجد ريحا " . قال وفي الباب عن عبد الله بن زيد وعلي بن طلق وعاىشة وابن عباس وابن مسعود وابي سعيد . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وهو قول العلماء ان لا يجب عليه الوضوء الا من حدث يسمع صوتا او يجد ريحا . وقال عبد الله بن المبارك اذا شك في الحدث فانه لا يجب عليه الوضوء حتى يستيقن استيقانا يقدر ان يحلف عليه . وقال اذا خرج من قبل المراة الريح وجب عليها الوضوء . وهو قول الشافعي واسحاق .
৭৫. মুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমাদের কারুর যদি মসজিদে অবস্থানকালে বায়ু নির্গত হচ্ছে বলে ধারণা হয় তবে শব্দ বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত মসজিদ থেকে (উযূর) জন্য বের হবে না। - সহিহ আবু দাউদ ১৬৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ,আলী ইবনু তালক, আয়িশা, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই বিষয়ে আলিমগণের অভিমত এই যে, বায়ু নির্গত আওয়াজ শুনে বা এর গন্ধ পেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উযূ করা ওয়াজিব নয়। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক বলেন উযূ বিনষ্ট হওয়ার বিষয়ে যদি সন্দেহ হয় তবে, করার মত নিশ্চিত বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ওয়াজিব হবে না। তিনি আরো বলেনঃ কোন মহিলার পেশাবের পথে যদি বায়ু নির্গত হয় তবে তাকে উযূ করতে হবে। ইমাম শাফিঈ ও ইসহাকরে অভিমতও এ-ই।
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ,আলী ইবনু তালক, আয়িশা, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই বিষয়ে আলিমগণের অভিমত এই যে, বায়ু নির্গত আওয়াজ শুনে বা এর গন্ধ পেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উযূ করা ওয়াজিব নয়। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক বলেন উযূ বিনষ্ট হওয়ার বিষয়ে যদি সন্দেহ হয় তবে, করার মত নিশ্চিত বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ওয়াজিব হবে না। তিনি আরো বলেনঃ কোন মহিলার পেশাবের পথে যদি বায়ু নির্গত হয় তবে তাকে উযূ করতে হবে। ইমাম শাফিঈ ও ইসহাকরে অভিমতও এ-ই।
হাদিস নং: ৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن همام بن منبه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان الله لا يقبل صلاة احدكم اذا احدث حتى يتوضا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৭৬. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) বিনষ্ট হওয়ার পর উযূ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের কারো সালাত কবূল করবেন না। - আবু দাউদ ৫৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭৭
যঈফ (Dai'f)
حدثنا اسماعيل بن موسى، - كوفي - وهناد ومحمد بن عبيد المحاربي المعنى واحد قالوا حدثنا عبد السلام بن حرب الملاىي، عن ابي خالد الدالاني، عن قتادة، عن ابي العالية، عن ابن عباس، انه راى النبي صلى الله عليه وسلم نام وهو ساجد حتى غط او نفخ ثم قام يصلي . فقلت يا رسول الله انك قد نمت قال " ان الوضوء لا يجب الا على من نام مضطجعا فانه اذا اضطجع استرخت مفاصله " . قال ابو عيسى وابو خالد اسمه يزيد بن عبد الرحمن . قال وفي الباب عن عاىشة وابن مسعود وابي هريرة .
৭৭. ইসমাঈল ইবনু মূসা, হান্নাদ এবং মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল-মুহারিবী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিজদারত অবস্থায় ঘুমুতে দেখতে পেলেন। এমনাক তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। এরপর তিনি দাঁড়ালেন ও সালাত আদায় করলেন। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল আপনি তো ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। তিনি বললেনঃ শুয়ে না ঘুমালে উযূ (ওজু/অজু/অযু) ওয়াজিব হয় না। কারণ শুয়ে ঘুমালে জোড়াগুলি ঢিলে হয়ে যায়। - যইফ আবু দাউদ ২৫, মিশকাত ৩১৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সনদে উক্ত রাবী আবূ খালিদ-এর আসল নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদির রাহমান। এই বিষয়ে আয়িশা, ইবনু মাসউদ, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সনদে উক্ত রাবী আবূ খালিদ-এর আসল নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদির রাহমান। এই বিষয়ে আয়িশা, ইবনু মাসউদ, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن شعبة، عن قتادة، عن انس بن مالك، قال كان اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينامون ثم يقومون فيصلون ولا يتوضىون . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال وسمعت صالح بن عبد الله يقول سالت عبد الله بن المبارك عمن نام قاعدا معتمدا فقال لا وضوء عليه . قال ابو عيسى وقد روى حديث ابن عباس سعيد بن ابي عروبة عن قتادة عن ابن عباس قوله ولم يذكر فيه ابا العالية ولم يرفعه . واختلف العلماء في الوضوء من النوم فراى اكثرهم ان لا يجب عليه الوضوء اذا نام قاعدا او قاىما حتى ينام مضطجعا . وبه يقول الثوري وابن المبارك واحمد . قال وقال بعضهم اذا نام حتى غلب على عقله وجب عليه الوضوء وبه يقول اسحاق . وقال الشافعي من نام قاعدا فراى رويا او زالت مقعدته لوسن النوم فعليه الوضوء .
৭৮. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়তেন তারপর উঠে সালাত আদায় করতেন; কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না। - ইরওয়া ১১৪, সহিহ আবু দাউদ ১৯৪, মিশকাত ৩১৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটিকে হাসান সহীহ।সালিহ ইবনু আবদিল্লাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন বসাবস্থায় ইচ্ছা করে ঘুমিয়ে পড়া সম্পকর্কে ইবনু মুবারকের নিকট আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ তার জন্য উযূ করা জরুরী নয়। সাঈদ ইবনু আবী আরূবা (রহঃ) কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উক্তি হিসাবে তাঁর রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আবূল আলিয়ার উল্লেখ করেননি এবং মারফূরূপে তা বর্ননা করেননি। নিদ্রার কারণে উযূ করা সম্পর্কে আলিম ও ফিকহবিদগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শুয়ে নিদ্রা না গিয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে নিদ্রা গেলে উযূ ওয়াজব হবে না বলে অধিকাংশ ফিকহবিদ অভিমত প্রকাশ করেছেন। ইমাম ছাওরী, ইবনু মুবারাক ও আহমদ (রহঃ) এর অভিমত এ-ই। কেউ কেউ বলেন, নিদ্রার কারণে যদি জ্ঞান ও অনুভূতি আচ্ছন্ন হয়ে যায় তবে উযূ করতে হবে। ইমাম ইসহাকেরও এই অভিমত। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন বসা অবস্থায় ঘুমিয়ে যদি কেউ স্বপ্ন দেখে বা ঘুমের ঘোরে যদি তার বসার স্থান সরে যায় তা হলে উযূ করতে হবে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটিকে হাসান সহীহ।সালিহ ইবনু আবদিল্লাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন বসাবস্থায় ইচ্ছা করে ঘুমিয়ে পড়া সম্পকর্কে ইবনু মুবারকের নিকট আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ তার জন্য উযূ করা জরুরী নয়। সাঈদ ইবনু আবী আরূবা (রহঃ) কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উক্তি হিসাবে তাঁর রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আবূল আলিয়ার উল্লেখ করেননি এবং মারফূরূপে তা বর্ননা করেননি। নিদ্রার কারণে উযূ করা সম্পর্কে আলিম ও ফিকহবিদগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শুয়ে নিদ্রা না গিয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে নিদ্রা গেলে উযূ ওয়াজব হবে না বলে অধিকাংশ ফিকহবিদ অভিমত প্রকাশ করেছেন। ইমাম ছাওরী, ইবনু মুবারাক ও আহমদ (রহঃ) এর অভিমত এ-ই। কেউ কেউ বলেন, নিদ্রার কারণে যদি জ্ঞান ও অনুভূতি আচ্ছন্ন হয়ে যায় তবে উযূ করতে হবে। ইমাম ইসহাকেরও এই অভিমত। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন বসা অবস্থায় ঘুমিয়ে যদি কেউ স্বপ্ন দেখে বা ঘুমের ঘোরে যদি তার বসার স্থান সরে যায় তা হলে উযূ করতে হবে।
হাদিস নং: ৭৯
হাসান (Hasan)
حدثنا ابن ابي عمر، قال حدثنا سفيان بن عيينة، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الوضوء مما مست النار ولو من ثور اقط " . قال فقال له ابن عباس يا ابا هريرة انتوضا من الدهن انتوضا من الحميم قال فقال ابو هريرة يا ابن اخي اذا سمعت حديثا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا تضرب له مثلا . قال وفي الباب عن ام حبيبة وام سلمة وزيد بن ثابت وابي طلحة وابي ايوب وابي موسى . قال ابو عيسى وقد راى بعض اهل العلم الوضوء مما غيرت النار واكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم على ترك الوضوء مما غيرت النار .
৭৯. ইবনু আবী উমার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন আগুনে পাক করা খাদ্য আহার করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে। যদিও তা পনিরের টুকরো হয়। রাবী বলেন ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এই কথা শুনে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন তাহলে কি তেল ব্যবহার করে বা গরম পানি ব্যবহার করেও আমাদের উযূ করতে হবে? আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোন হাদিস শুনলে এর উদাহরন দিতে যেও না। - ইবনু মাজাহ ৪৮৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উম্মু হাবীবা, উম্মু সালামা, যায়দ ইবনু ছাবিত, আবূ তালহা, আবূ আয়্যুব ও আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ফিকহবিদ আলিমদের কেউ কেউ আগুনে প্রস্তুতকৃত খাদ্য আহার করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন। তবে সাহাবা, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী অধিকাংশ আলিম এই ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) জরুরী নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।
এই বিষয়ে উম্মু হাবীবা, উম্মু সালামা, যায়দ ইবনু ছাবিত, আবূ তালহা, আবূ আয়্যুব ও আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ফিকহবিদ আলিমদের কেউ কেউ আগুনে প্রস্তুতকৃত খাদ্য আহার করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন। তবে সাহাবা, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী অধিকাংশ আলিম এই ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) জরুরী নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।
হাদিস নং: ৮০
হাসান (Hasan)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، قال حدثنا عبد الله بن محمد بن عقيل، سمع جابرا، . قال سفيان وحدثنا محمد بن المنكدر، عن جابر، قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا معه فدخل على امراة من الانصار فذبحت له شاة فاكل واتته بقناع من رطب فاكل منه ثم توضا للظهر وصلى ثم انصرف فاتته بعلالة من علالة الشاة فاكل ثم صلى العصر ولم يتوضا . قال وفي الباب عن ابي بكر الصديق وابن عباس وابي هريرة وابن مسعود وابي رافع وام الحكم وعمرو بن امية وام عامر وسويد بن النعمان وام سلمة . قال ابو عيسى ولا يصح حديث ابي بكر في هذا الباب من قبل اسناده انما رواه حسام بن مصك عن ابن سيرين عن ابن عباس عن ابي بكر الصديق عن النبي صلى الله عليه وسلم . والصحيح انما هو عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم . هكذا روى الحفاظ . قال ابو عيسى والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم مثل سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق راوا ترك الوضوء مما مست النار . وهذا اخر الامرين من رسول الله صلى الله عليه وسلم . وكان هذا الحديث ناسخ للحديث الاول حديث الوضوء مما مست النار .
৮০. আবী উমার (রহঃ) ..... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমিও ঘর থেকে বের হলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারী মহিলার বাড়িতে গেলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটি বকরী যবেহ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে আহার করলেন। তারপর সেই মহিলা এক কাঁদি কাঁচা খেজুর এনে হাযির করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে কিছু খেজুর খেলেন। পরে যুহরের উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং সালাত আদায় করে ফিরে বসলেন। উক্ত মহিলা বকরীটির মাংস থেকে যা অবশিষ্ট ছিল তা তাঁর সামনে এনে হাযির করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আহার করলেন। পরে তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন; কিন্তু উযূ করলেন না। - সহিহ আবু দাউদ ১৮৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, আবূ রাফি, উম্মু হাকাম, আমর ইবনু উমায়্যা, উম্মু আমির, সুওয়ায়াদ ইবনু মু’নাম এবং উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। তবে সনদের দিক থেকে সেই রিওয়ায়াতটি সহীহ নয়। হাদিসটি গুসাম ইবনু মিসাকক-ইবনু সীরীন-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত। হাফিজুল হাদিস নির্ভরযোগ্য রাবীগণ এভাবেই এটির রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনু সীরীন-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সনদে একধিক সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। আতা ইবনু ইয়াসার, ইকরিমা, মুহাম্মদ ইবন আমার ইবনু আতা, আবী ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু আব্বাস প্রমুখ হাফিজুল হাদিস রাবীগণ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা মাঝে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উল্লেখ করেননি। এটি অধিকতর সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবা, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী প্রায় সকল ফিকহবিদ আলিম যথা সুফইয়ান ছাওরী, ইবন মুবারক, শাফিঈ, আহমদ, ইসাহাক প্রমুখ এই হাদিস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা আগুনে প্রস্তুত খাদ্য আহারের ক্ষেত্রে উযূ করা জরুরী নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এই ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ আমল ছিল এরূপই। এই হাদিসটি আগুনে প্রস্তুত খাদ্য আহারের ক্ষেত্রে উযূ করার বিধান সম্বলিত হাদিসটি জন্য নাসিখ বা রহিতকারী বলে গণ্য।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, আবূ রাফি, উম্মু হাকাম, আমর ইবনু উমায়্যা, উম্মু আমির, সুওয়ায়াদ ইবনু মু’নাম এবং উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। তবে সনদের দিক থেকে সেই রিওয়ায়াতটি সহীহ নয়। হাদিসটি গুসাম ইবনু মিসাকক-ইবনু সীরীন-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত। হাফিজুল হাদিস নির্ভরযোগ্য রাবীগণ এভাবেই এটির রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনু সীরীন-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সনদে একধিক সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। আতা ইবনু ইয়াসার, ইকরিমা, মুহাম্মদ ইবন আমার ইবনু আতা, আবী ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু আব্বাস প্রমুখ হাফিজুল হাদিস রাবীগণ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা মাঝে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উল্লেখ করেননি। এটি অধিকতর সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবা, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী প্রায় সকল ফিকহবিদ আলিম যথা সুফইয়ান ছাওরী, ইবন মুবারক, শাফিঈ, আহমদ, ইসাহাক প্রমুখ এই হাদিস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা আগুনে প্রস্তুত খাদ্য আহারের ক্ষেত্রে উযূ করা জরুরী নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এই ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ আমল ছিল এরূপই। এই হাদিসটি আগুনে প্রস্তুত খাদ্য আহারের ক্ষেত্রে উযূ করার বিধান সম্বলিত হাদিসটি জন্য নাসিখ বা রহিতকারী বলে গণ্য।
হাদিস নং: ৮১
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن عبد الله بن عبد الله الرازي، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن البراء بن عازب، قال سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الوضوء من لحوم الابل فقال " توضىوا منها " . وسىل عن الوضوء من لحوم الغنم فقال " لا تتوضىوا منها " . قال وفي الباب عن جابر بن سمرة واسيد بن حضير . قال ابو عيسى وقد روى الحجاج بن ارطاة هذا الحديث عن عبد الله بن عبد الله عن عبد الرحمن بن ابي ليلى عن اسيد بن حضير . والصحيح حديث عبد الرحمن بن ابي ليلى عن البراء بن عازب . وهو قول احمد واسحاق . وهو قول احمد واسحاق وقد روي عن بعض اهل العلم من التابعين وغيرهم انهم لم يروا الوضوء من لحوم الابل وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة .
৮১. হান্নাদ (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ননা করেন যে, উটের মাংস আহরের কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ এই কারণে তোমরা উযূ করে নিও। মেষের মাংস আহরের ক্ষেত্রে উযূ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি বললেনঃ এতে তোমাদের উযূ করতে হবে না। - ইবনু মাজাহ ৪৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জাবির ইবনু সামুরা, উসায়দ ইবনু হুযায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হাজ্জাজ ইবনু আরতাত (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ---আবদুর রাহমান ইবনু আবী লায়লা এর সূত্রে উসায়দ ইবনু হুযায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ হল আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা-বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। ইমাম আহমদ ও ইসহাকও এই কথা বলেছেন। উবায়দা আয্যাববী আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ্ আর-রাযী- আদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা যুল গুররা সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) হাজ্জাজ ইবনু আরতাত এর সনদে হাদিসটি বর্ণনা করতে দিয়ে এর সনদে ভুল করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রাহমান স্বীয় পিতা আবদুর রাহমান ইবনু আবী লায়লা উসায়দ ইবনু হাযায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন; অথচ সহীহ হল, আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ আর-রাযী আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা -- বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
ইসহাক (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে দুইটি রিওয়ায়াত অধিকতর সহীহ; একটি হল বারা এর এবং অপরটি হল জাবির ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র রিওয়ায়াত। এ হল ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। তাবিঈ ও অপরাপর কতক আলিম থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁর উটের মাংস আহারের কারণে উযূ করতে হবে বলে মনে করেন না। এ হলো সুফইায়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
এই বিষয়ে জাবির ইবনু সামুরা, উসায়দ ইবনু হুযায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হাজ্জাজ ইবনু আরতাত (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ---আবদুর রাহমান ইবনু আবী লায়লা এর সূত্রে উসায়দ ইবনু হুযায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ হল আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা-বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। ইমাম আহমদ ও ইসহাকও এই কথা বলেছেন। উবায়দা আয্যাববী আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ্ আর-রাযী- আদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা যুল গুররা সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) হাজ্জাজ ইবনু আরতাত এর সনদে হাদিসটি বর্ণনা করতে দিয়ে এর সনদে ভুল করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রাহমান স্বীয় পিতা আবদুর রাহমান ইবনু আবী লায়লা উসায়দ ইবনু হাযায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন; অথচ সহীহ হল, আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ আর-রাযী আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা -- বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
ইসহাক (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে দুইটি রিওয়ায়াত অধিকতর সহীহ; একটি হল বারা এর এবং অপরটি হল জাবির ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র রিওয়ায়াত। এ হল ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। তাবিঈ ও অপরাপর কতক আলিম থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁর উটের মাংস আহারের কারণে উযূ করতে হবে বলে মনে করেন না। এ হলো সুফইায়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
হাদিস নং: ৮২
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، قال حدثنا يحيى بن سعيد القطان، عن هشام بن عروة، قال اخبرني ابي، عن بسرة بنت صفوان، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من مس ذكره فلا يصل حتى يتوضا " . قال وفي الباب عن ام حبيبة وابي ايوب وابي هريرة واروى ابنة انيس وعاىشة وجابر وزيد بن خالد وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال هكذا رواه غير واحد مثل هذا عن هشام بن عروة عن ابيه عن بسرة .
৮২. ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) .... বুসরা বিনত সাফওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কেউ লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করে সালাত পড়বে না। - ইবনু মাজাহ ৪৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উম্মু হাবীবা, আবূ আয়্যূব, আবূ হুরায়রা, আরওয়া বিনত উনায়স, আয়িশা, জাবির, যায়দ ইবনু খালিদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। হিশাম ইবনু উরওয়া-পিতা উরওয়া-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে একধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন।
এই বিষয়ে উম্মু হাবীবা, আবূ আয়্যূব, আবূ হুরায়রা, আরওয়া বিনত উনায়স, আয়িশা, জাবির, যায়দ ইবনু খালিদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। হিশাম ইবনু উরওয়া-পিতা উরওয়া-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে একধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ৮৩
সহিহ (Sahih)
وروى ابو اسامة، وغير، واحد، هذا الحديث عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن مروان، عن بسرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . حدثنا بذلك، اسحاق بن منصور حدثنا ابو اسامة، بهذا .
৮৩. আবূ উসামা এবং আরো অনেকে হিশাম ইাবন উরওয়া পিতা উরওয়া-মারওয়ান-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আর আবূ উসামার সূত্রে ইসহাক ইবনু মানসূর আমাকে এই সনদটি বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৮৪
সহিহ (Sahih)
وروى هذا الحديث ابو الزناد، عن عروة، عن بسرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم . حدثنا بذلك، علي بن حجر قال حدثنا عبد الرحمن بن ابي الزناد، عن ابيه، عن عروة، عن بسرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . وهو قول غير واحد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين وبه يقول الاوزاعي والشافعي واحمد واسحاق . قال محمد واصح شيء في هذا الباب حديث بسرة . وقال ابو زرعة حديث ام حبيبة في هذا الباب صحيح وهو حديث العلاء بن الحارث عن مكحول عن عنبسة بن ابي سفيان عن ام حبيبة . وقال محمد لم يسمع مكحول من عنبسة بن ابي سفيان وروى مكحول عن رجل عن عنبسة غير هذا الحديث . وكانه لم ير هذا الحديث صحيحا .
৮৪. আবূয যিনাদ (রহঃ) উরওয়া-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে এটির বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আলী ইবনু হুজরও আমাকে হাদিসটির রিওয়ায়ত করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
একধিক সাহাবী ও তাবিঈ এই ধরনের বিধান দিয়েছেন। ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। মুহাম্মাদ আল বুখারী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটই অধিকতর সহীহ। আবূ যুর’আ বলেনঃ উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হল এই বিষয়ে বর্ণিত সর্বাধিক সহীহ। এটি হল আল-আলা ইবনু হারিছ---মাকহুল আম্বাসা ইবনু আবী সুফইয়ান---- উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা সনদে বর্ণিত হাদিস। মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেন মাকুল আম্বাসা ইবনু আবী সুফইয়ান থেকে কোন রিওয়ায়াত শুনেন নাই। ইনি মূলত এ হাদিস ছাড়া অন্যান্য হাদিস জনৈক ব্যক্তির সূত্রে আম্বাসা থেকে বর্ণনা করেছেন। সরাসারি আম্বাসা থেকে বর্ণনা করেন নাই। সুতরাং ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রহঃ) মাকহুল--আম্বাসা সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি সহীহ বলে মনে করেন না।
একধিক সাহাবী ও তাবিঈ এই ধরনের বিধান দিয়েছেন। ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। মুহাম্মাদ আল বুখারী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটই অধিকতর সহীহ। আবূ যুর’আ বলেনঃ উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হল এই বিষয়ে বর্ণিত সর্বাধিক সহীহ। এটি হল আল-আলা ইবনু হারিছ---মাকহুল আম্বাসা ইবনু আবী সুফইয়ান---- উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা সনদে বর্ণিত হাদিস। মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেন মাকুল আম্বাসা ইবনু আবী সুফইয়ান থেকে কোন রিওয়ায়াত শুনেন নাই। ইনি মূলত এ হাদিস ছাড়া অন্যান্য হাদিস জনৈক ব্যক্তির সূত্রে আম্বাসা থেকে বর্ণনা করেছেন। সরাসারি আম্বাসা থেকে বর্ণনা করেন নাই। সুতরাং ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রহঃ) মাকহুল--আম্বাসা সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি সহীহ বলে মনে করেন না।
হাদিস নং: ৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ملازم بن عمرو، عن عبد الله بن بدر، عن قيس بن طلق بن علي، هو الحنفي عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " وهل هو الا مضغة منه او بضعة منه " . قال وفي الباب عن ابي امامة . قال ابو عيسى وقد روي عن غير واحد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وبعض التابعين انهم لم يروا الوضوء من مس الذكر وهو قول اهل الكوفة وابن المبارك . وهذا الحديث احسن شيء روي في هذا الباب . وقد روى هذا الحديث ايوب بن عتبة ومحمد بن جابر عن قيس بن طلق عن ابيه . وقد تكلم بعض اهل الحديث في محمد بن جابر وايوب بن عتبة . وحديث ملازم بن عمرو عن عبد الله بن بدر اصح واحسن .
৮৫. হান্নাদ (রহঃ) .... তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ এরো (লজ্জাস্থান) তার শরীরের একটি অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। - ইবনু মাজাহ ৪৮৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একধিক সাহাবী ও কতক তাবিঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা লজ্জাস্থান স্পর্শের ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা জরুরী বলে মনে করেন না। ইবনু মুবারক এবং কূফাবাসী ফকীহগণের অভিমতও এই। এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এই হাদিসটই সর্বাধিক উত্তম। আয়্যূব ইবনু উতবা ও মুহাম্মাদ ইবনু জাবির (রহঃ) ...... তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিসটির রিওয়ায়াত করেছেন। হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ মুহাম্মাদ ইবনু জাবির ও আয়্যূব ইবান উতবা সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু বাদর (রহঃ) এর সূত্রে মুলাযিম ইবনু আমরের বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ এবং হাসান।
এই বিষয়ে উবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একধিক সাহাবী ও কতক তাবিঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা লজ্জাস্থান স্পর্শের ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা জরুরী বলে মনে করেন না। ইবনু মুবারক এবং কূফাবাসী ফকীহগণের অভিমতও এই। এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এই হাদিসটই সর্বাধিক উত্তম। আয়্যূব ইবনু উতবা ও মুহাম্মাদ ইবনু জাবির (রহঃ) ...... তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিসটির রিওয়ায়াত করেছেন। হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ মুহাম্মাদ ইবনু জাবির ও আয়্যূব ইবান উতবা সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু বাদর (রহঃ) এর সূত্রে মুলাযিম ইবনু আমরের বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ এবং হাসান।
হাদিস নং: ৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، وهناد، وابو كريب واحمد بن منيع ومحمود بن غيلان وابو عمار الحسين بن حريث قالوا حدثنا وكيع، عن الاعمش، عن حبيب بن ابي ثابت، عن عروة، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قبل بعض نساىه ثم خرج الى الصلاة ولم يتوضا . قال قلت من هي الا انت قال فضحكت . قال ابو عيسى وقد روي نحو هذا عن غير واحد من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين . وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة قالوا ليس في القبلة وضوء . وقال مالك بن انس والاوزاعي والشافعي واحمد واسحاق في القبلة وضوء . وهو قول غير واحد من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين . وانما ترك اصحابنا حديث عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا لانه لا يصح عندهم لحال الاسناد . قال وسمعت ابا بكر العطار البصري يذكر عن علي بن المديني قال ضعف يحيى بن سعيد القطان هذا الحديث جدا . وقال هو شبه لا شىء . قال وسمعت محمد بن اسماعيل يضعف هذا الحديث وقال حبيب بن ابي ثابت لم يسمع من عروة . وقد روي عن ابراهيم التيمي عن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم قبلها ولم يتوضا . وهذا لا يصح ايضا . ولا نعرف لابراهيم التيمي سماعا من عاىشة . وليس يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب شيء .
৮৬. কুতায়বা, হান্নাদ আবূ কুরায়ব, আহমদ ইবনু মানী, মাহমূদ ইবনু গায়লান, আবূ আম্মার (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জনৈক স্ত্রীকে চুম্বন করলেন এবং সালাতের জন্য বের হয়ে গেলেন; কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না। রাবী উরওয়া বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঐ স্ত্রী আপনি ছাড়া আর কেউ হবেন না। এই কথা শুনে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাসলেন। - ইবনু মাজাহ ৫০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈ, আলিম ও ফকীহদের থেকেও অনুরূপ মতামত রয়েছে। সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী ফকীহদের অভিমতও তা-ই। তাঁরা বলেনঃ চুম্বনের কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) জরূরী নয়। পক্ষান্তরে ইমাম মালিক ইবনু আনাস, আওযাঈ, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন চুম্বনের ক্ষেত্রে উযূ জরূরী। সাহাবী ও তাবিঈদের একধিক আলিম ও ফকীহও এই মত ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত উপরের হাদিসটি গ্রহণ না করার কারণ হল, এটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। আবূ বকার আল-আত্তার আল-বাসরীকে আলী ইবনুল মাদীনীর সূত্রে বলতে শুনেছি যে, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল- কাত্তান এই হাদিসটিকে যঈফ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন এবং বলেছেন এটি সন্দেহ পূর্ণ, আর এটি কিছুই নয়। মুহাম্মাদ আল বুখারীকেও এই হাদিসটি যঈফ বলে সিদ্ধান্ত দিতে শুনেছি। তিনি বলেন বর্ণনাকারী হাবীব ইবনু আবী ছাবিত (রহঃ) উরওয়ার নিকট থেকে হাদিস শুনেননি। ইবরাহীম আত-তায়মী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রেও নবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চুম্বন করেছেন; কিন্তু উযূ করেননি। এই হাদিসটিও সহীহ নয়। কারণ, ইবরাহীম আত-তায়মী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে কোন হাদিস শুনেছেন বলে আমরা জানি না। মোট কথা, এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন সহীহ হাদিস নেই।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈ, আলিম ও ফকীহদের থেকেও অনুরূপ মতামত রয়েছে। সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী ফকীহদের অভিমতও তা-ই। তাঁরা বলেনঃ চুম্বনের কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) জরূরী নয়। পক্ষান্তরে ইমাম মালিক ইবনু আনাস, আওযাঈ, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন চুম্বনের ক্ষেত্রে উযূ জরূরী। সাহাবী ও তাবিঈদের একধিক আলিম ও ফকীহও এই মত ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত উপরের হাদিসটি গ্রহণ না করার কারণ হল, এটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। আবূ বকার আল-আত্তার আল-বাসরীকে আলী ইবনুল মাদীনীর সূত্রে বলতে শুনেছি যে, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল- কাত্তান এই হাদিসটিকে যঈফ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন এবং বলেছেন এটি সন্দেহ পূর্ণ, আর এটি কিছুই নয়। মুহাম্মাদ আল বুখারীকেও এই হাদিসটি যঈফ বলে সিদ্ধান্ত দিতে শুনেছি। তিনি বলেন বর্ণনাকারী হাবীব ইবনু আবী ছাবিত (রহঃ) উরওয়ার নিকট থেকে হাদিস শুনেননি। ইবরাহীম আত-তায়মী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রেও নবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চুম্বন করেছেন; কিন্তু উযূ করেননি। এই হাদিসটিও সহীহ নয়। কারণ, ইবরাহীম আত-তায়মী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে কোন হাদিস শুনেছেন বলে আমরা জানি না। মোট কথা, এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন সহীহ হাদিস নেই।
হাদিস নং: ৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عبيدة بن ابي السفر، - وهو احمد بن عبد الله الهمداني الكوفي واسحاق بن منصور قال ابو عبيدة حدثنا وقال، اسحاق اخبرنا عبد الصمد بن عبد الوارث، حدثني ابي، عن حسين المعلم، عن يحيى بن ابي كثير، قال حدثني عبد الرحمن بن عمرو الاوزاعي، عن يعيش بن الوليد المخزومي، عن ابيه، عن معدان بن ابي طلحة، عن ابي الدرداء، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قاء فافطر فتوضا . فلقيت ثوبان في مسجد دمشق فذكرت ذلك له فقال صدق انا صببت له وضوءه . قال ابو عيسى وقال اسحاق بن منصور معدان بن طلحة . قال ابو عيسى وابن ابي طلحة اصح . قال ابو عيسى وقد راى غير واحد من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم من التابعين الوضوء من القىء والرعاف . وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم ليس في القىء والرعاف وضوء . وهو قول مالك والشافعي . وقد جود حسين المعلم هذا الحديث . وحديث حسين اصح شيء في هذا الباب . وروى معمر هذا الحديث عن يحيى بن ابي كثير فاخطا فيه فقال عن يعيش بن الوليد عن خالد بن معدان عن ابي الدرداء ولم يذكر فيه الاوزاعي وقال عن خالد بن معدان وانما هو معدان بن ابي طلحة .
৮৭. আবূ উবায়দা ইবনু আবিস সাফার ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... মা’দান ইবনু আবী তালহার সনদে আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বমি হল। পরে তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। মা’দান ইবনু আবী তালহা বরেন, দামিশক মসজিদে ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলে তাঁর কাছে আবূদ -দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই রিওয়ায়াতটির উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন আবূদ-দারদা সত্য বলোছেন। তখন আমিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূর পানি ঢেলে দিয়েছিলাম। - ইরওয়া ১১১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ইসহাক বলেনঃ ইসহাক ইবনু মানসূল (রহঃ) ও (রাবীর নাম) মা’দান ইবনু তালহা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু আবী তালহা অধিকতর সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈগণের একধিক আলিম ও ফকীহ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে উযূ করার বিধান দিয়েছেন। সুফইযান ছাওরী, ইবনু মুবারক, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এরও এই অভিমত। আলিমগণের কেউ কেউ বলেছেনঃ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে উযূর দরকার নেই। ইমাম মালিক ও শাফিঈও এই মত পোষণ করেন হুসায়ন আল-মুআল্লিম এই হাদিসটি উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে হুসায়ন বর্ণিত হাদিসটই সর্বাধিক সহীহ। ইয়হইয়া ইবনু আবী কাছীরের সূত্রে মা’মারও এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে ভুল করে ফেলেছেন এবং ইয়াঈশ ইবনুল ওয়ালিদ-খালিদ ইবনু মা’দান-আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদের উল্লেখ করেছেন। এতে আল-আওযাই (রহঃ)-র উল্লেখ করেননি। তিনি খালিদ ইবনু মা’দান বলেছেন, অথচ ইনি হলেন মা’দান ইবনু আবী তালহা।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ইসহাক বলেনঃ ইসহাক ইবনু মানসূল (রহঃ) ও (রাবীর নাম) মা’দান ইবনু তালহা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু আবী তালহা অধিকতর সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈগণের একধিক আলিম ও ফকীহ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে উযূ করার বিধান দিয়েছেন। সুফইযান ছাওরী, ইবনু মুবারক, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এরও এই অভিমত। আলিমগণের কেউ কেউ বলেছেনঃ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে উযূর দরকার নেই। ইমাম মালিক ও শাফিঈও এই মত পোষণ করেন হুসায়ন আল-মুআল্লিম এই হাদিসটি উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে হুসায়ন বর্ণিত হাদিসটই সর্বাধিক সহীহ। ইয়হইয়া ইবনু আবী কাছীরের সূত্রে মা’মারও এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে ভুল করে ফেলেছেন এবং ইয়াঈশ ইবনুল ওয়ালিদ-খালিদ ইবনু মা’দান-আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদের উল্লেখ করেছেন। এতে আল-আওযাই (রহঃ)-র উল্লেখ করেননি। তিনি খালিদ ইবনু মা’দান বলেছেন, অথচ ইনি হলেন মা’দান ইবনু আবী তালহা।
হাদিস নং: ৮৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا هناد، حدثنا شريك، عن ابي فزارة، عن ابي زيد، عن عبد الله بن مسعود، قال سالني النبي صلى الله عليه وسلم " ما في اداوتك " . فقلت نبيذ . فقال " تمرة طيبة وماء طهور " . قال فتوضا منه . قال ابو عيسى وانما روي هذا الحديث عن ابي زيد عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم . وابو زيد رجل مجهول عند اهل الحديث لا يعرف له رواية غير هذا الحديث . وقد راى بعض اهل العلم الوضوء بالنبيذ منهم سفيان الثوري وغيره . وقال بعض اهل العلم لا يتوضا بالنبيذ وهو قول الشافعي واحمد واسحاق . وقال اسحاق ان ابتلي رجل بهذا فتوضا بالنبيذ وتيمم احب الى . قال ابو عيسى وقول من يقول لا يتوضا بالنبيذ اقرب الى الكتاب واشبه لان الله تعالى قال: "فان لم تجدوا ماء فتيمموا صعيدا طيبا ".
৮৮. হান্নাদ (রহঃ) ....... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমার পাত্রে কি আছে? আমি বললামঃ নবীয। তিনি বললেনঃ খেজুর পবিত্র আর পানিও পাক। তারপর তিনি তা দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। - ইবনু মাজাহ ৩৮৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূ যায়দ-আবদুল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। এই আবূ যায়দ হাদিসবেত্তাদের নিকট মাজহুল বা অজ্ঞাত। এই হাদিসটি ছাড়া আর কোন রিওয়ায়াত তার আছে বলে আমরা জানি না। আলিমদের কেউ কেউ নবীয দিয়ে উযূ করার অনুমতি আছে বলে মনে করেন। সুফইয়ান প্রমুখের মতও তা-ই। আলিমদের অপর একদল বলেন নবীয দিয়ে উযূ করা যাবে না। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এই মত ব্যক্ত করেছেন। ইসহাক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট অধিক পছন্দের হল, কোন ব্যক্তি যদি এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যে, নবীয ছাড়া তার নিকট অন্য কোন পনি নাই তাহলে সে নবীয দিয়ে উযূও করবে এবং তায়াম্মুমও করবে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ যারা বলেন নবীয দিয়ে উযূ হবে না তাদের কথা কুরআনের অধিকতর নিকটবর্তী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا ’’পানি না পেলে পবিত্র মাটির তায়াম্মুম করবে।’’
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূ যায়দ-আবদুল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। এই আবূ যায়দ হাদিসবেত্তাদের নিকট মাজহুল বা অজ্ঞাত। এই হাদিসটি ছাড়া আর কোন রিওয়ায়াত তার আছে বলে আমরা জানি না। আলিমদের কেউ কেউ নবীয দিয়ে উযূ করার অনুমতি আছে বলে মনে করেন। সুফইয়ান প্রমুখের মতও তা-ই। আলিমদের অপর একদল বলেন নবীয দিয়ে উযূ করা যাবে না। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এই মত ব্যক্ত করেছেন। ইসহাক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট অধিক পছন্দের হল, কোন ব্যক্তি যদি এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যে, নবীয ছাড়া তার নিকট অন্য কোন পনি নাই তাহলে সে নবীয দিয়ে উযূও করবে এবং তায়াম্মুমও করবে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ যারা বলেন নবীয দিয়ে উযূ হবে না তাদের কথা কুরআনের অধিকতর নিকটবর্তী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا ’’পানি না পেলে পবিত্র মাটির তায়াম্মুম করবে।’’