হাদিস নং: ১০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن علي بن زيد، عن سعيد بن المسيب، عن عاىشة، قالت قال النبي صلى الله عليه وسلم " اذا جاوز الختان الختان وجب الغسل " . قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح . قال وقد روي هذا الحديث عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه " اذا جاوز الختان الختان فقد وجب الغسل " . وهو قول اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منهم ابو بكر وعمر وعثمان وعلي وعاىشة والفقهاء من التابعين ومن بعدهم مثل سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق قالوا اذا التقى الختانان وجب الغسل .
১০৯. হান্নাদ (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন পরস্পরের খাতনার স্থানটুকু অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়। - ইরওয়া ১/১২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। একাধিক সূত্রে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে এই রূপ বর্ণিত আছে যে, পরস্পরের খাতনার স্থানটুকু অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়। আবূ বকর, উমর, উছমান, আলী, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সহ অধিকাংশ ফকীহ সাহাবী, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী আলিম ও ফকীহ যথা (ইমাম আবূ হানীফা), সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকের অভিমত এ-ই। তারা বলেন পরস্পরে খাতনার স্থান অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। একাধিক সূত্রে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে এই রূপ বর্ণিত আছে যে, পরস্পরের খাতনার স্থানটুকু অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়। আবূ বকর, উমর, উছমান, আলী, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সহ অধিকাংশ ফকীহ সাহাবী, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী আলিম ও ফকীহ যথা (ইমাম আবূ হানীফা), সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকের অভিমত এ-ই। তারা বলেন পরস্পরে খাতনার স্থান অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়।
হাদিস নং: ১১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا يونس بن يزيد، عن الزهري، عن سهل بن سعد، عن ابى بن كعب، قال انما كان الماء من الماء رخصة في اول الاسلام ثم نهي عنها .
১১০. আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনেঃ বীর্যরূপ পানি বের হলে পর গোসলের নির্দেশ ছিল ইসলামের প্রাথামিক যুগে প্রদত্ত একটি অবকাশ। পরে সে হুকুম রহিত হয়ে যায়। - ইবনু মাজাহ ৬০৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا معمر، عن الزهري، بهذا الاسناد مثله . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وانما كان الماء من الماء في اول الاسلام ثم نسخ بعد ذلك .
১১১. আহমদ ইবনু মানী’ (রহঃ) ..... যুহরীর বরাতে একই সনদে এই হাদিসটি উক্তরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। বীর্যস্খলন হলেই গোসলের বিধান ছিল ইসালামের প্রাথমিক যুগে। পরে তা মানসূক হযে যায়। উবাই ইবনু কা’ব ও রাফি’ ইবনু খাদীছ (রহঃ) সহ একধিক সাহাবী এই ধরনের রিওয়ায়াত করেছেন। অধিকাংশ আলিম এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, কেউ যোনীদ্বার দিয়ে স্ত্রী সংগম করলে বীর্যপান না হলেও উভয়ের উপর গোসল করা ফরয। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। বীর্যস্খলন হলেই গোসলের বিধান ছিল ইসালামের প্রাথমিক যুগে। পরে তা মানসূক হযে যায়। উবাই ইবনু কা’ব ও রাফি’ ইবনু খাদীছ (রহঃ) সহ একধিক সাহাবী এই ধরনের রিওয়ায়াত করেছেন। অধিকাংশ আলিম এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, কেউ যোনীদ্বার দিয়ে স্ত্রী সংগম করলে বীর্যপান না হলেও উভয়ের উপর গোসল করা ফরয। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১১২
সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا شريك، عن ابي الجحاف، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال انما الماء من الماء في الاحتلام . قال ابو عيسى سمعت الجارود يقول سمعت وكيعا يقول لم نجد هذا الحديث الا عند شريك . قال ابو عيسى وابو الجحاف اسمه داود بن ابي عوف . ويروى عن سفيان الثوري قال حدثنا ابو الجحاف وكان مرضيا . قال ابو عيسى وفي الباب عن عثمان بن عفان وعلي بن ابي طالب والزبير وطلحة وابي ايوب وابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " الماء من الماء " .
১১২. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন ’’বীর্যপাত ঘটলে গোসল ফরয হবে’’ এই কথা কেবলমাত্র স্বপ্নদোষের বেলায় প্রযোজ্য। - "এই কথা কেবলমাত্র স্বপ্নদোষের বেলায় প্রযোজ্য" এই অংশটুকুর সনদ যইফ। আর সেটা মাওকুফ। হাদিসের বাকি অংশ সহিহ, ইবনু মাজাহ ৬০৬-৬০৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ যে, ওয়াকী বলেছেন শরীক ছাড়া আর কাউকেই ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করতে পাইনি। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটির অন্যতম রাবী আবূল-জাহ্হাফের নাম দাউদ ইবন আবী আওফ। সুফইয়ান ছাওরী থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন আবূল জাহহাফ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ছিলেন সন্তোষজনক ও আস্থাভাজন ব্যাক্তি।
এই বিষয়ে উছমান ইবনু আফফান, আলী ইবনু আবী তালিব, যুবইর, তালহা, আবূ আয়্যূব এবং আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ বীর্যরূপ পানির সাথে হল গোসলের পানি ব্যবহারের সম্বন্ধ (বীর্যপাতের ফলেই গোসল ওয়াজিব হয়)। - সহিহ, ইবনু মাজাহ ৬০৬-৬০৭
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ যে, ওয়াকী বলেছেন শরীক ছাড়া আর কাউকেই ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করতে পাইনি। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটির অন্যতম রাবী আবূল-জাহ্হাফের নাম দাউদ ইবন আবী আওফ। সুফইয়ান ছাওরী থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন আবূল জাহহাফ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ছিলেন সন্তোষজনক ও আস্থাভাজন ব্যাক্তি।
এই বিষয়ে উছমান ইবনু আফফান, আলী ইবনু আবী তালিব, যুবইর, তালহা, আবূ আয়্যূব এবং আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ বীর্যরূপ পানির সাথে হল গোসলের পানি ব্যবহারের সম্বন্ধ (বীর্যপাতের ফলেই গোসল ওয়াজিব হয়)। - সহিহ, ইবনু মাজাহ ৬০৬-৬০৭
হাদিস নং: ১১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا حماد بن خالد الخياط، عن عبد الله بن عمر، هو العمري عن عبيد الله بن عمر، عن القاسم بن محمد، عن عاىشة، قالت سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل يجد البلل ولا يذكر احتلاما قال " يغتسل " . وعن الرجل يرى انه قد احتلم ولم يجد بللا قال " لا غسل عليه " . قالت ام سلمة يا رسول الله هل على المراة ترى ذلك غسل قال " نعم ان النساء شقاىق الرجال " . قال ابو عيسى وانما روى هذا الحديث عبد الله بن عمر عن عبيد الله بن عمر حديث عاىشة في الرجل يجد البلل ولا يذكر احتلاما . وعبد الله بن عمر ضعفه يحيى بن سعيد من قبل حفظه في الحديث . وهو قول غير واحد من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين اذا استيقظ الرجل فراى بلة انه يغتسل . وهو قول سفيان الثوري واحمد . وقال بعض اهل العلم من التابعين انما يجب عليه الغسل اذا كانت البلة بلة نطفة . وهو قول الشافعي واسحاق . واذا راى احتلاما ولم ير بلة فلا غسل عليه عند عامة اهل العلم
১১৩. আহমাদ ইবনু মানি (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ কেউ ঘুম থেকে জোগে (তার শরীরে বা কাপড়ে) বীর্যের আর্দ্রতা দেখতে পেল কিন্তু স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে তার মনে পড়ে না তার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ তাকে গোসল করতে হবে। এমনিভবে কারো যদি স্বপ্নদোষের কথা মনে পড়ে কিন্তু জেগে কোনরূপ আর্দ্রতা দেখতে না পায় তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে গোসল করতে হবে না। উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা তখন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! মেয়েদের কেউ যদি এই ধরনের কিছু দেখে তবে তাদেরও কি গোসল করতে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ,মেয়েরা তো পুরুষেরই অংশ। - সহিহ আবু দাউদ ২৩৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ’’ঘুম থেকে জেগে কেউ আর্দ্রতা দেখতে পেলে কেন্তু স্বপ্নদোষের কথা তার মনে পড়ে না-এই বিষয়ের আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদিসটি উবায়দুল্লাহ্ ইবনু উমরের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রেওয়ায়াত করেছেন। বিখ্যাত রিজাল বিশেষজ্ঞ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হাদীছের স্মরণ শক্তির বিষয়ে আবদুল্লাহকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। কেউ যদি ঘুম থেকে জেগে আর্দ্রতা দেখতে পায় আর স্বপ্নদোষের কথা যদি তার মনে না পড়ে তবে তাকে গোসল করতে হবে বলে সাহাবী ও তাবিঈগেদর অধিকাংশ আলিম ও ফকীহ অভিমত দিয়েছেন। এই বিষয়ে সুফইয়ান ও ইমাম আহমদের বক্তব্যও এ-ই। তাবিঈ আলিদের কেউ কেউ বলেনঃ এই আর্দ্রতা যদি বীর্য জনিত আর্দ্রতা বলে বিশ্বাস হয় তবেই কেবল গোসল করাতে হবে। ইমাম শাফিঈ এবং ইসহাক ও এই অভিমত পোষণ করেন। আর যদি এমন হয় যে, স্বপ্নদোষের কথা তো মনে পড়ছে কিন্তু কোনরূপ আর্দ্রতা পরিলক্ষেত হচ্ছে না তবে সাধারণভাবে প্রায় সকল আলিমের বক্তব্য হল,তাকে গোসল করতে হবে না।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ’’ঘুম থেকে জেগে কেউ আর্দ্রতা দেখতে পেলে কেন্তু স্বপ্নদোষের কথা তার মনে পড়ে না-এই বিষয়ের আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদিসটি উবায়দুল্লাহ্ ইবনু উমরের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রেওয়ায়াত করেছেন। বিখ্যাত রিজাল বিশেষজ্ঞ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হাদীছের স্মরণ শক্তির বিষয়ে আবদুল্লাহকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। কেউ যদি ঘুম থেকে জেগে আর্দ্রতা দেখতে পায় আর স্বপ্নদোষের কথা যদি তার মনে না পড়ে তবে তাকে গোসল করতে হবে বলে সাহাবী ও তাবিঈগেদর অধিকাংশ আলিম ও ফকীহ অভিমত দিয়েছেন। এই বিষয়ে সুফইয়ান ও ইমাম আহমদের বক্তব্যও এ-ই। তাবিঈ আলিদের কেউ কেউ বলেনঃ এই আর্দ্রতা যদি বীর্য জনিত আর্দ্রতা বলে বিশ্বাস হয় তবেই কেবল গোসল করাতে হবে। ইমাম শাফিঈ এবং ইসহাক ও এই অভিমত পোষণ করেন। আর যদি এমন হয় যে, স্বপ্নদোষের কথা তো মনে পড়ছে কিন্তু কোনরূপ আর্দ্রতা পরিলক্ষেত হচ্ছে না তবে সাধারণভাবে প্রায় সকল আলিমের বক্তব্য হল,তাকে গোসল করতে হবে না।
হাদিস নং: ১১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عمرو السواق البلخي، حدثنا هشيم، عن يزيد بن ابي زياد، ح قال وحدثنا محمود بن غيلان، حدثنا حسين الجعفي، عن زاىدة، عن يزيد بن ابي زياد، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن علي، قال سالت النبي صلى الله عليه وسلم عن المذى فقال " من المذى الوضوء ومن المني الغسل " . قال وفي الباب عن المقداد بن الاسود وابى بن كعب . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي عن علي بن ابي طالب عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه " من المذى الوضوء ومن المني الغسل " . وهو قول عامة اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم وبه يقول سفيان والشافعي واحمد واسحاق .
১১৪. মুহাম্মাদ ইবন আমার আস-সাওওয়াক আল-বালখী ও মাহদূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ মযী বের হলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে আর মনী বের হলে গোসল করতে হবে। - ইবনু মাজাহ ৫০৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মিকদাদ ইবনুল-আসওয়াদ এবং উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদীছীটি হাসান ও সহীহ। একধিক সনদে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই কথা বর্ণিত আছে যে, মযীর ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) এবং মনীর ক্ষেত্রে গোসল করতে হয়। এ হল সাধারণভবে সকল সাহাবী ও তাবিঈর অভিমত। ইমাম আবূ হানীফা) ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এই বিষয়ে মিকদাদ ইবনুল-আসওয়াদ এবং উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদীছীটি হাসান ও সহীহ। একধিক সনদে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই কথা বর্ণিত আছে যে, মযীর ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) এবং মনীর ক্ষেত্রে গোসল করতে হয়। এ হল সাধারণভবে সকল সাহাবী ও তাবিঈর অভিমত। ইমাম আবূ হানীফা) ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
হাদিস নং: ১১৫
হাসান (Hasan)
حدثنا هناد، حدثنا عبدة، عن محمد بن اسحاق، عن سعيد بن عبيد، هو ابن السباق عن ابيه، عن سهل بن حنيف، قال كنت القى من المذى شدة وعناء فكنت اكثر منه الغسل فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم وسالته عنه فقال " انما يجزىك من ذلك الوضوء " . فقلت يا رسول الله كيف بما يصيب ثوبي منه قال " يكفيك ان تاخذ كفا من ماء فتنضح به ثوبك حيث ترى انه اصاب منه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح ولا نعرفه الا من حديث محمد بن اسحاق في المذى مثل هذا . وقد اختلف اهل العلم في المذى يصيب الثوب فقال بعضهم لا يجزى الا الغسل وهو قول الشافعي واسحاق . وقال بعضهم يجزىه النضح . وقال احمد ارجو ان يجزىه النضح بالماء .
১১৫. হান্নাদ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মযীর কারণে আমি অত্যন্ত কষ্টে ছিলাম। এর জন্য আমকে বহুবার গোসল করতে হত। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই কথা বললাম এবং এই সম্পর্কে বিধান জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এই ক্ষেত্রে তোমার জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু)ই যথেষ্ট। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, যদি তা আমার কাপড়ে লাগে তবে কি হবে? তিনি বললেনঃ এক অঞ্জলী পানি নিবে আর যেখানে যেখানে লেগেছে বলে দেখতে পাবে সেখানে ঐ পানি ছিটিয়ে দিবে। - ইবনু মাজাহ ৫০৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। মযীর ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে এই রিওয়ায়াতটি ছাড়া আর কোন রিওয়ায়াত আমাদের জানা নাই। মযী কাপড়ে লাগলে এর গুকুম সম্পর্কে আলিমদের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ ধুয়ে না ফেলা পর্যন্ত তা পাক হবে না। ইমাম শাফঈ ও ইসহাকরে অভিমত এ-ই। কেউ কেউ বলেনঃ এইক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে। ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ এতে পানি ছিটিয়ে দিলে যথেষ্ট হবে বলে আশা করি।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। মযীর ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে এই রিওয়ায়াতটি ছাড়া আর কোন রিওয়ায়াত আমাদের জানা নাই। মযী কাপড়ে লাগলে এর গুকুম সম্পর্কে আলিমদের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ ধুয়ে না ফেলা পর্যন্ত তা পাক হবে না। ইমাম শাফঈ ও ইসহাকরে অভিমত এ-ই। কেউ কেউ বলেনঃ এইক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে। ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ এতে পানি ছিটিয়ে দিলে যথেষ্ট হবে বলে আশা করি।
হাদিস নং: ১১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن همام بن الحارث، قال ضاف عاىشة ضيف فامرت له بملحفة صفراء فنام فيها فاحتلم فاستحيا ان يرسل بها وبها اثر الاحتلام فغمسها في الماء ثم ارسل بها فقالت عاىشة لم افسد علينا ثوبنا انما كان يكفيه ان يفركه باصابعه وربما فركته من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم باصابعي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وهو قول غير واحد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم من الفقهاء مثل سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق قالوا في المني يصيب الثوب يجزىه الفرك وان لم يغسل . وهكذا روي عن منصور عن ابراهيم عن همام بن الحارث عن عاىشة مثل رواية الاعمش . وروى ابو معشر هذا الحديث عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة وحديث الاعمش اصح .
১১৬. হান্নাদ (রহঃ) .... হাম্মাম ইবনু হারিছ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহআ এর কাছে একজন মেহমান এলেন। তিনি তাঁকে একটি হলুদ রঙ্গের চাঁদরে বিশ্রাম করতে দিলেন। উক্ত মেহমান তা গায়ে জাড়িয়ে পড়লেন। তার স্বপ্নদোষ হল। বীর্যের দাগসহ চাঁদরটি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাছে ফেরত পাঠাতে খুব লজ্জাবোধ হয়। তাই এটি পানিতে চুবিয়ে ধুয়ে তিনি তা ফেরত পাঠালেন। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তা দেখে বললেনঃ আমার চাঁদারটি ভিজিয়ে নষ্ট করলে কেন? আঙ্গুল দিয়ে ঘষে ফেলে দিলেই তো যথেষ্ট হত। অনেক দিনই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে আমিতা অঙ্গুল দিয়ে রগড়ে ঘষে সাফ করে দিয়েছি। - ইবনু মাজাহ ৫৩৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান, আহমদ ও ইসহাকের মত একধিক ফকীহের অভিমত এ-ই। তারা বলেনঃ মনীা কাপড়ে লাগলে না ধুয়ে কেবল আঙ্গুল দিয়ে রগড়ে নিলেই যথেষ্ট হবে। আমশের উক্ত রিওয়ায়াতের মত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্রে মানসূর থেকেও রিওয়ায়াত আছে। আবূ ম’শারও ইবরাহীম-আসওয়াদ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আ’মাশ বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিক সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান, আহমদ ও ইসহাকের মত একধিক ফকীহের অভিমত এ-ই। তারা বলেনঃ মনীা কাপড়ে লাগলে না ধুয়ে কেবল আঙ্গুল দিয়ে রগড়ে নিলেই যথেষ্ট হবে। আমশের উক্ত রিওয়ায়াতের মত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্রে মানসূর থেকেও রিওয়ায়াত আছে। আবূ ম’শারও ইবরাহীম-আসওয়াদ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আ’মাশ বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিক সহীহ।
হাদিস নং: ১১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، قال حدثنا ابو معاوية، عن عمرو بن ميمون بن مهران، عن سليمان بن يسار، عن عاىشة، انها غسلت منيا من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن ابن عباس . وحديث عاىشة انها غسلت منيا من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم - ليس بمخالف لحديث الفرك لانه وان كان الفرك يجزى فقد يستحب للرجل ان لا يرى على ثوبه اثره . قال ابن عباس المني بمنزلة المخاط فامطه عنك ولو باذخرة .
১১৭. আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে মনী ধুয়েছেন। - ইবনু মাজাহ ৫৩৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসন ও সহীহ। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাপড় থেকে মনী ধৌত করা সম্পর্কিত হাদিসটি আঙ্গুলী দিয়ে কাপড়ের মনী সাফ করা সম্পর্কিত হাদিসটির বিরোধী নয়। কেননা, রগড়ে সাফ করা যথেষ্ট বটে তবুও এমনভবে তা সাফ করা যেন কাপড়ে কোনরূপ দাগ অবশিষ্ট না থাকে, অধিক পছন্দনীয়। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ মনী হল নাকের হয়লার মত। ইযখির জাতীয় ঘাস দিয়ে হলেও তা দূর করে দাও।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসন ও সহীহ। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাপড় থেকে মনী ধৌত করা সম্পর্কিত হাদিসটি আঙ্গুলী দিয়ে কাপড়ের মনী সাফ করা সম্পর্কিত হাদিসটির বিরোধী নয়। কেননা, রগড়ে সাফ করা যথেষ্ট বটে তবুও এমনভবে তা সাফ করা যেন কাপড়ে কোনরূপ দাগ অবশিষ্ট না থাকে, অধিক পছন্দনীয়। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ মনী হল নাকের হয়লার মত। ইযখির জাতীয় ঘাস দিয়ে হলেও তা দূর করে দাও।
হাদিস নং: ১১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو بكر بن عياش، عن الاعمش، عن ابي اسحاق، عن الاسود، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينام وهو جنب ولا يمس ماء .
১১৮. হান্নাদ (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুনুবী অর্থাৎ গোসল ফরয অবস্থায় পানি স্পর্শ না করেও কোন কোন সময় ঘুমিয়ে পড়তেন। - ইবনু মাজাহ ৫৮১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن ابي اسحاق، نحوه . قال ابو عيسى وهذا قول سعيد بن المسيب وغيره . وقد روى غير، واحد، عن الاسود، عن عاىشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان يتوضا قبل ان ينام . وهذا اصح من حديث ابي اسحاق عن الاسود . وقد روى عن ابي اسحاق هذا الحديث شعبة والثوري وغير واحد . ويرون ان هذا غلط من ابي اسحاق .
১১৯. হান্নাদ (রহঃ) ....... আবূ ইসহাকরে সূত্রেও অনুরূপভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাঈদ ইবনুল মূসায়্যাব প্রমুখের অভিমতও এ-ই। একাধিক রাবী আসওয়াদের সূত্রে আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাবার আগে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিতেন। এই হাদিস আবূ ইসহাকের সূত্রে বর্ণিত আসওয়াদরে প্রথমোক্ত সনদে বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে অধিক সহীহ। শু’বা ও ছাওরী (রহঃ) সহ আরো অনেকেই আবূ ইসহাকের সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে উক্ত ভুল সংঘটিত হয়েছে বলে মত পোষণ করেন।
হাদিস নং: ১২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى بن سعيد، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، عن عمر، انه سال النبي صلى الله عليه وسلم اينام احدنا وهو جنب قال " نعم اذا توضا " . قال وفي الباب عن عمار وعاىشة وجابر وابي سعيد وام سلمة . قال ابو عيسى حديث عمر احسن شيء في هذا الباب واصح . وهو قول غير واحد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين وبه يقول سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق قالوا اذا اراد الجنب ان ينام توضا قبل ان ينام .
১২০. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রহঃ) .... উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেছিলেন হ্যাঁ পারে, যদি সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। - ইবনু মাজাহ ৫৮৫, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আম্মার, আয়িশা, জাবির, আবূ সাঈদ ও উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেওে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই বিষয়ে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি সর্বোত্তম এবং সর্বাধিক সহীহ। সাহাবী ও তাবিঈদের অনেকের অভিমতও এ-ই। সুফইয়ান, ইবনু মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)ও এই মত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেনঃ জুনুবী বা অপবিত্র ব্যাক্তি ঘুমাতে চাইলে উযূ করে নিবে।
এই বিষয়ে আম্মার, আয়িশা, জাবির, আবূ সাঈদ ও উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেওে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই বিষয়ে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি সর্বোত্তম এবং সর্বাধিক সহীহ। সাহাবী ও তাবিঈদের অনেকের অভিমতও এ-ই। সুফইয়ান, ইবনু মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)ও এই মত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেনঃ জুনুবী বা অপবিত্র ব্যাক্তি ঘুমাতে চাইলে উযূ করে নিবে।
হাদিস নং: ১২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، حدثنا يحيى بن سعيد القطان، حدثنا حميد الطويل، عن بكر بن عبد الله المزني، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم لقيه وهو جنب قال فانبجست اى فانخنست فاغتسلت ثم جىت فقال " اين كنت او اين ذهبت " . قلت اني كنت جنبا . قال " ان المسلم لا ينجس " . قال وفي الباب عن حذيفة وابن عباس . قال ابو عيسى وحديث ابي هريرة انه لقي النبي صلى الله عليه وسلم وهو جنب حديث حسن صحيح . وقد رخص غير واحد من اهل العلم في مصافحة الجنب ولم يروا بعرق الجنب والحاىض باسا . ومعنى قوله فانخنست يعني تنحيت عنه .
১২১. ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। তখন আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থান। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে আমি চুপি চুপি সরে পড়লাম এবং গোসল করে পরে তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেনঃ কোথায় ছিলে? কই গিয়েছিলে? আমি বললামঃ আমি অপবিত্র ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু’মিন কখনও (এমন) অপবিত্র হয় না, (যে, তাকে স্পর্শ করা যাবে না)। - ইবনু মাজাহ ৫৩৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে হুযায়ফা ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আলিমদের অনেকেই অপবিত্র ব্যক্তির সাথে মূসাফাহা করার অনুমতি দিয়েছেন ঋতুবতী মহিলা ও অপবিত্র ব্যক্তির ঘামে নাপাকজনিত কোনরূপ অসুবিধা নাই বলে তারা মনে করেন।
এই বিষয়ে হুযায়ফা ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আলিমদের অনেকেই অপবিত্র ব্যক্তির সাথে মূসাফাহা করার অনুমতি দিয়েছেন ঋতুবতী মহিলা ও অপবিত্র ব্যক্তির ঘামে নাপাকজনিত কোনরূপ অসুবিধা নাই বলে তারা মনে করেন।
হাদিস নং: ১২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن زينب بنت ابي سلمة، عن ام سلمة، قالت جاءت ام سليم بنت ملحان الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ان الله لا يستحيي من الحق فهل على المراة تعني غسلا اذا هي رات في المنام مثل ما يرى الرجل قال " نعم اذا هي رات الماء فلتغتسل " . قالت ام سلمة قلت لها فضحت النساء يا ام سليم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وهو قول عامة الفقهاء ان المراة اذا رات في المنام مثل ما يرى الرجل فانزلت ان عليها الغسل . وبه يقول سفيان الثوري والشافعي . قال وفي الباب عن ام سليم وخولة وعاىشة وانس .
১২২. ইবনু আবী উমর (রহঃ) .... উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, উম্মু সুলায়ম বিনত মিলহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তো সত্যের ব্যাপারে কোন লজ্জা করেন না। পুরুষদের মত কোন মহিলার যদি স্বপ্নদোষ হয় তাহলে সেই মহিলার উপরও কি কোন কিছু অর্থাৎ গোসল ফরয হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ, যদি সে পানি (মনি) দেখতে পায় তবে অবশ্যই সে যেন গোসল করে নেয়। উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন যে, আমি উম্মু সুলায়মকে বললামঃ হে উম্মু সুলায়ম, মেয়েদের তুমি লাঞ্ছিত করে ফেললে। - ইবনু মাজাহ ৬০০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহহি। সাধরণভাবে সকল ফকীহের অভিমত এই যে, কোন মহিলার পুরুষের মত স্বপ্নদোষ হলে এবং এতে মনীস্খলন হলে তাকে অবশ্যই গোসল করতে হবে। সুফইয়ান ছাওরী ও ইমাম শাফিঈরও এই অভিমত। এই বিষয় উম্মু সুলায়ম, খাওলা, আয়িশা ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহহি। সাধরণভাবে সকল ফকীহের অভিমত এই যে, কোন মহিলার পুরুষের মত স্বপ্নদোষ হলে এবং এতে মনীস্খলন হলে তাকে অবশ্যই গোসল করতে হবে। সুফইয়ান ছাওরী ও ইমাম শাফিঈরও এই অভিমত। এই বিষয় উম্মু সুলায়ম, খাওলা, আয়িশা ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে।
হাদিস নং: ১২৩
যঈফ (Dai'f)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن حريث، عن الشعبي، عن مسروق، عن عاىشة، قالت ربما اغتسل النبي صلى الله عليه وسلم من الجنابة ثم جاء فاستدفا بي فضممته الى ولم اغتسل " . قال ابو عيسى هذا حديث ليس باسناده باس . وهو قول غير واحد من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ان الرجل اذا اغتسل فلا باس بان يستدفى بامراته وينام معها قبل ان تغتسل المراة . وبه يقول سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق .
১২৩. হান্নাদ (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, অনেক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত বা যৌনমিলন-জনিত গোসল করে আসতেন এবং আমার শরীরের তাপ নিতেন আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরতাম অথচ তখনও আমি গোসল করি নাই। - ইবনু মাজাহ ৫৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটির সনদে দূর্বলতা নেই। একধিক সাহাবী ও তাবিঈ এর অভিমত এই যে, যদি স্বামী গোসল করে নেয় আর স্ত্রী গোসল না করে থাকে তবুও স্বামী তার স্ত্রীর শরীর জড়িয়ে ধরে তাপ নিতে এবং তরা তাতে ঘুমাতে পারবে। সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ এবংয় ইসহাক (রহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটির সনদে দূর্বলতা নেই। একধিক সাহাবী ও তাবিঈ এর অভিমত এই যে, যদি স্বামী গোসল করে নেয় আর স্ত্রী গোসল না করে থাকে তবুও স্বামী তার স্ত্রীর শরীর জড়িয়ে ধরে তাপ নিতে এবং তরা তাতে ঘুমাতে পারবে। সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ এবংয় ইসহাক (রহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
হাদিস নং: ১২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، ومحمود بن غيلان، قالا حدثنا ابو احمد الزبيري، حدثنا سفيان، عن خالد الحذاء، عن ابي قلابة، عن عمرو بن بجدان، عن ابي ذر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان الصعيد الطيب طهور المسلم وان لم يجد الماء عشر سنين فاذا وجد الماء فليمسه بشرته فان ذلك خير " . وقال محمود في حديثه " ان الصعيد الطيب وضوء المسلم " . قال وفي الباب عن ابي هريرة وعبد الله بن عمرو وعمران بن حصين . قال ابو عيسى وهكذا روى غير واحد عن خالد الحذاء عن ابي قلابة عن عمرو بن بجدان عن ابي ذر . وقد روى هذا الحديث ايوب عن ابي قلابة عن رجل من بني عامر عن ابي ذر ولم يسمه . قال وهذا حديث حسن صحيح . وهو قول عامة الفقهاء ان الجنب والحاىض اذا لم يجدا الماء تيمما وصليا . ويروى عن ابن مسعود انه كان لا يرى التيمم للجنب وان لم يجد الماء . ويروى عنه انه رجع عن قوله فقال يتيمم اذا لم يجد الماء . وبه يقول سفيان الثوري ومالك والشافعي واحمد واسحاق .
১২৪. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দশ বছর ধরেও যদি পানি না পায় তা হলেও পাক মাটি একজন মুসলিমের জন্য পবিত্রতার উপকরণ বলে বিবেচ্য হবে। অতঃপর যখন সে পানি পাবে তখন তা দিয়ে সে তার শরীর ধুয়ে নিবে। এ-ই তার জন্য উত্তম। মাহমূদ ইবনু গায়লান তাঁর রিওয়ায়াতে ’’পাক মাটি মুসলিমের জন্য উযুর উপকরণ’’ এই কথাটির উল্লেখ করেছেন। - মিশকাত ৫৩০, সহিহ সবু দাউদ ৩৫৭, ইরওয়া ১৫৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ খালিদ আল-হাযযা (রহঃ) এর সূত্রে আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ কিলাব-বানূ আমিরের জনৈক ব্যাক্তি আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে বানূ আমিরের ব্যাক্তিটির নাম উল্লেখ না করে আয়্যূব এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এই হাদিসটি হাসান। সাধারণভাবে সমস্ত ফকীহ আলিমের অভিমত এই যে, জুনুবী ব্যাক্তি বা হায়েযওয়ালী নারীদের কেউ যদি পানি না পায় তবে তায়াম্মুম করেই সালাত আদায় করে নিবে। ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, পানি না পাওয়া অবস্থায়ও তিনি জুনুবী ব্যাক্তির জন্য তায়াম্মুম করার অনুমতি আছে বলে মনে করেন না। তবে তাঁর থেকে এই কথাও বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই মত প্রত্যাহার করে বলেছেনঃ পানি না পাওয়া গেলে জুনুবী ব্যক্তি তায়াম্মুম করতে পারবে। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ খালিদ আল-হাযযা (রহঃ) এর সূত্রে আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ কিলাব-বানূ আমিরের জনৈক ব্যাক্তি আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে বানূ আমিরের ব্যাক্তিটির নাম উল্লেখ না করে আয়্যূব এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এই হাদিসটি হাসান। সাধারণভাবে সমস্ত ফকীহ আলিমের অভিমত এই যে, জুনুবী ব্যাক্তি বা হায়েযওয়ালী নারীদের কেউ যদি পানি না পায় তবে তায়াম্মুম করেই সালাত আদায় করে নিবে। ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, পানি না পাওয়া অবস্থায়ও তিনি জুনুবী ব্যাক্তির জন্য তায়াম্মুম করার অনুমতি আছে বলে মনে করেন না। তবে তাঁর থেকে এই কথাও বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই মত প্রত্যাহার করে বলেছেনঃ পানি না পাওয়া গেলে জুনুবী ব্যক্তি তায়াম্মুম করতে পারবে। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
হাদিস নং: ১২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، وعبدة، وابو معاوية عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، قالت جاءت فاطمة بنت ابي حبيش الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله اني امراة استحاض فلا اطهر افادع الصلاة قال " لا انما ذلك عرق وليست بالحيضة فاذا اقبلت الحيضة فدعي الصلاة واذا ادبرت فاغسلي عنك الدم وصلي " . قال ابو معاوية في حديثه وقال " توضىي لكل صلاة حتى يجيء ذلك الوقت " . قال وفي الباب عن ام سلمة . قال ابو عيسى حديث عاىشة جاءت فاطمة حديث حسن صحيح . وهو قول غير واحد من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين . وبه يقول سفيان الثوري ومالك وابن المبارك والشافعي ان المستحاضة اذا جاوزت ايام اقراىها اغتسلت وتوضات لكل صلاة .
১২৫. হান্নাদ (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা বিনত আবী হুবায়শ নামক জনৈক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে এসে বললেন যে, আল্লাহর রাসূল, আমি তো ইস্তিহাযায় আক্রান্ত একজন মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি সালাত ছেড়ে দিব কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয় বরং শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়যের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে ক’দিন নামায ছেড়ে দিবে আর হায়যের দিনগুলো চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নিবে এবং সালাত আদায় করবে। রাবী আবূ মুআবিয়া তার রিওয়ায়াতে আরো উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মহিলাকে বলেছিলেনঃ আরেক সালাতের ওয়াক্ত না আসা পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিবে। - ইবনু মাজাহ ৬২১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে ওহাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই হচ্ছে একধিক সাহাবী ও তাবিঈর বক্তব্য। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ (রহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করে বলেনঃ হায়যের নির্ধরিত দিনগুলো অতিক্রমের পর ইসতিহাযায় আক্রান্ত মহিলা গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করবে।
এই বিষয়ে উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে ওহাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই হচ্ছে একধিক সাহাবী ও তাবিঈর বক্তব্য। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ (রহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করে বলেনঃ হায়যের নির্ধরিত দিনগুলো অতিক্রমের পর ইসতিহাযায় আক্রান্ত মহিলা গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করবে।
হাদিস নং: ১২৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا شريك، عن ابي اليقظان، عن عدي بن ثابت، عن ابيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال في المستحاضة " تدع الصلاة ايام اقراىها التي كانت تحيض فيها ثم تغتسل وتتوضا عند كل صلاة وتصوم وتصلي " .
১২৬. কুতায়বা (রহঃ) .... আদী ইবনু ছাবিত তার পিতা পিতামত এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইসতিহাযায় আক্রান্ত মহিলা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পূর্বে তার হায়যের যে নির্ধারিত দিনগুলি ছিল সেই দিনগুলির সালাত সে ছেড়ে দিবে। সে দিনগুলো অতিক্রান্ত হওয়ার পর সে গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে আর যথারীতি সিয়াম ও সালাত আদায় করতে থাকবে। - ইবনু মাজাহ ৬২৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا شريك، نحوه بمعناه . قال ابو عيسى هذا حديث قد تفرد به شريك عن ابي اليقظان . قال وسالت محمدا عن هذا الحديث فقلت عدي بن ثابت عن ابيه عن جده جد عدي ما اسمه فلم يعرف محمد اسمه وذكرت لمحمد قول يحيى بن معين ان اسمه دينار فلم يعبا به . وقال احمد واسحاق في المستحاضة ان اغتسلت لكل صلاة هو احوط لها وان توضات لكل صلاة اجزاها وان جمعت بين الصلاتين بغسل واحد اجزاها .
১২৭. আলী ইবনু হুজরের বরাতেও অনুরূপ মর্মে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূল ইয়াকযানের সূত্রে কেবলমাত্র শরীকই এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে এই হাদিসটি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আদী ইবনু ছাবিতের পিতামহের নাম কি? তিনি তার নাম জানেন না। আমি বললামঃ ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন বলেছেন, তার নাম হল দ্বীনার। কিন্তু মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রহঃ) এইদিকে দৃকপাত করলেন না। ইমাম আহমদ ও ইসহাক বলেছেনঃ মুস্তাহাযা মহিলা যদি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করে নেয় তবে সেটি হবে তার জন্য সতর্কতামূলক পন্থা। তবে প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিলে তার জন্য যথেষ্ট হবে। দুই সালাতের জন্য যদি একবার গোসল করে তবে তাও যথেষ্ট হবে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ১২৮
হাসান (Hasan)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عامر العقدي، حدثنا زهير بن محمد، عن عبد الله بن محمد بن عقيل، عن ابراهيم بن محمد بن طلحة، عن عمه، عمران بن طلحة عن امه، حمنة بنت جحش قالت كنت استحاض حيضة كثيرة شديدة فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم استفتيه واخبره فوجدته في بيت اختي زينب بنت جحش فقلت يا رسول الله اني استحاض حيضة كثيرة شديدة فما تامرني فيها قد منعتني الصيام والصلاة قال " انعت لك الكرسف فانه يذهب الدم " . قالت هو اكثر من ذلك قال " فتلجمي " . قالت هو اكثر من ذلك قال " فاتخذي ثوبا " . قالت هو اكثر من ذلك انما اثج ثجا فقال النبي صلى الله عليه وسلم " سامرك بامرين ايهما صنعت اجزا عنك فان قويت عليهما فانت اعلم " . فقال " انما هي ركضة من الشيطان فتحيضي ستة ايام او سبعة ايام في علم الله ثم اغتسلي فاذا رايت انك قد طهرت واستنقات فصلي اربعا وعشرين ليلة او ثلاثا وعشرين ليلة وايامها وصومي وصلي فان ذلك يجزىك وكذلك فافعلي كما تحيض النساء وكما يطهرن لميقات حيضهن وطهرهن فان قويت على ان توخري الظهر وتعجلي العصر ثم تغتسلين حين تطهرين وتصلين الظهر والعصر جميعا ثم توخرين المغرب وتعجلين العشاء ثم تغتسلين وتجمعين بين الصلاتين فافعلي وتغتسلين مع الصبح وتصلين وكذلك فافعلي وصومي ان قويت على ذلك " . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وهو اعجب الامرين الى " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ورواه عبيد الله بن عمرو الرقي وابن جريج وشريك عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن ابراهيم بن محمد بن طلحة عن عمه عمران عن امه حمنة الا ان ابن جريج يقول عمر بن طلحة والصحيح عمران بن طلحة . قال وسالت محمدا عن هذا الحديث فقال هو حديث حسن صحيح . وهكذا قال احمد بن حنبل هو حديث حسن صحيح . وقال احمد واسحاق في المستحاضة اذا كانت تعرف حيضها باقبال الدم وادباره واقباله ان يكون اسود . وادباره ان يتغير الى الصفرة فالحكم لها على حديث فاطمة بنت ابي حبيش وان كانت المستحاضة لها ايام معروفة قبل ان تستحاض فانها تدع الصلاة ايام اقراىها ثم تغتسل وتتوضا لكل صلاة وتصلي واذا استمر بها الدم ولم يكن لها ايام معروفة ولم تعرف الحيض باقبال الدم وادباره فالحكم لها على حديث حمنة بنت جحش . وكذلك قال ابو عبيد . وقال الشافعي المستحاضة اذا استمر بها الدم في اول ما رات فدامت على ذلك فانها تدع الصلاة ما بينها وبين خمسة عشر يوما فاذا طهرت في خمسة عشر يوما او قبل ذلك فانها ايام حيض فاذا رات الدم اكثر من خمسة عشر يوما فانها تقضي صلاة اربعة عشر يوما ثم تدع الصلاة بعد ذلك اقل ما تحيض النساء وهو يوم وليلة . قال ابو عيسى واختلف اهل العلم في اقل الحيض واكثره فقال بعض اهل العلم اقل الحيض ثلاثة واكثره عشرة . وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة وبه ياخذ ابن المبارك وروي عنه خلاف هذا . وقال بعض اهل العلم منهم عطاء بن ابي رباح اقل الحيض يوم وليلة واكثره خمسة عشر يوما . وهو قول مالك والاوزاعي والشافعي واحمد واسحاق وابي عبيد .
১২৮. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... হামনা বিনত জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি খুব ভীষণভবে ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলাম। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এই বিষয়ে ফতওয়া জানতে এলাম। তাঁকে আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন যয়নাব বিনত জাহাশের ঘরে পেলাম। বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো ভীষণভাবে ইস্তিহাযা আক্রান্ত। এ বিষয়ে আপনি কি করতে বলেন? এ তো আমাকে সালাত ও সওম থেকে ফিরিয়ে রাখছে। তিনি বললেনঃ তোমাকে আমি তুলা ব্যবহার করতে পরামর্শ দিচ্ছি। এতে রক্ত শুষে নিবে। আমি বললামঃ রক্তের পরিমান এর থেকেও বেশি। তিনি বললেনঃ তবে তা দিয়ে লাগমের মত বেধে নাও। আমি বললামঃ না, রক্তের পরিমাণ তো আরো বেশি। তিনি বললেন তবে এর নীচে আর একটি কাপড়ের পট্টি লাগিয়ে নাও। বললাম, রক্ততো আরো বেশি। স্রোতের মত তা ধেয়ে বেরুচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে আমি দু’টো বিষয়ের কথা বলছি। এ দু’টোর যে কোন একটি করতে পারলে তোমার জন্য যথেষ্ট। আর উভয়টি করতে তোমার শক্তি হলে তুমিই ভাল জান কোনটি তুটি গ্রহণ করবে। শোন, এ হলো শয়তানের গুতো।
যা হোক, ছয়দিন বা সাতদিন আল্লাহর জ্ঞানে বা তোমার জন্য নির্ধারিত সেদিনগুলো হায়েয হিসাবে ধরবে পরে তা অতিক্রান্ত হয়ে গেলে গোসল করে নিবে। যখন তুমি দেখবে যে, তুমি পাক হয়ে গেছ এবং পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছ তখন চব্বিশ দিন বা তেইশ দিন সালাত ও সিয়াম পালন করবে। আর এ-ই তোমার জন্য যথেষ্ট। সাধারণভাবে মহিলারা হাযেয ও তুহরের (পাক থাকার) নির্ধারিত দিনগুলোতে যা করে তুমিও সেদিনগুলোতে তা করবে।
আর পাক থাকার নির্ধারিত দিনগুলোতে তোমার জন্য যুহরের সালাত পিছিয়ে এবং আছরের সালাত কিছুটা এগিয়ে নিয়ে উভয় ওয়াক্তের একবার গোসল করেলে দুই ওয়াক্তের সালাত আদায় করা সম্ভব হলে তা করবে। এমনিভাবে মাগরিবের সালাত পিছিয়ে এবং ’ইশার সালাত এগিয়ে নিয়ে উভয় ওয়াক্তের জন্য একবার গোসল করে দু’টো আদায় করো এবং ফজরের সময় গোসল করে তা আদায় করা সম্ভব হলে তদ্রম্নপভাবে সালাত ও সিয়াম পালন করবে। হ্যাঁ, তোমার শক্তিতে কুলালে তা-ই করো। আর দুটো বিষয়ের মধ্যে এই বিষয়টই আমার নিকট অধিক পছন্দের। - ইবনু মাজাহ ৬২৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। উবায়দুল্লাহ ইবনু আমর আর রাক্কী, ইবনুুর জুরাইজ এবং শরীক (রহঃ) ও হামনা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবেত ইবনু জুরাইজ তাঁর সনদে জনৈক রাবীল নাম উমর ইবনু তালহা বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ শুদ্ধ হল ইমরান ইবনু তালহা।
মুহাম্মাদ আল বুখারী (রহঃ) কে এই হাদিসটি সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন এই হাদিসটি হাসান। ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ)ও উক্তরূপ অভিমত প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
ইমাম আহমদ ও ইসহাক বলেন ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলা যদি হায়যের আগমন ও এর অতিক্রান্ত হওয়া বুঝতে পারে তবে ফাতিমা বিনত আবী হুবায়শ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ বিধান তার জন্য প্রযোজ্য হবে। সাধারণতঃ হায়যের আগমন বুঝার উপায় হল, এই সময় এর রং থাকে কাল আর অতিক্রন্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝার উপায় হল তখন এর রং হয়ে যায় হরিদ্রাভ। আর সেই মহিলার যদি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে হায়যের নির্ধারিত দিন থেকে থাকে তবে ইস্তিহাযা আক্রান্ত হওয়ার পরেও সে উক্ত নির্ধারিত দিন সমূহের সালাত আদায় ছেড়ে দিবে। এই দিনগুলি অতিক্রান্ত হওয়ার পর সে পাক হওয়ার জন্য গোসল করবে এবং পরে প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তা আদায় করবে। কিন্তু তার যদি সব সময় রক্ত ঝরতে থাকে, হায়যের কোন নির্দিষ্ট দিন না থাকে, রক্তের রঙ্গের মাধ্যমে হায়যের শুরু ও শেষ বুঝতে না পারে তবে তার জন্য বিধান হামনা বিনত জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত (১২৮ নং) হাদীছের অনুরূপ।
আবূ উবায়দাও অনুরূপ কথা বলেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেনঃ শুরু থেকে ই যদি কোন মহিলার রক্ত প্রবাহিত হতে থাক আর তা বন্ধ না হয় তবে পনের দিনের মাঝের দিনগুলির সালাত সেছেড়ে দিবে। পনেরতম দিন বা এর পূর্বে সে যদি পাক হয়ে যায় তবে এই দিনগুলি হায়যের দিন হিসাবে গণ্য হবে। পনের দিনের পরও যদি রক্ত দেখে তবে সে চৌদ্দ দিনের সালাত কাযা করবে। পরবর্তীতে হায়বের সর্বনিম্ন সময় একদিন ও একরাতের সালাত ছেড়ে দিবে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হায়যের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মুদ্দত সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন সর্বনিম্ন মুদ্দত হল তিনদিন আর সর্বোচ্চ পরিমাণ হল দশদিন। এ হল সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমদের অভিমত। ইবনু মুবারকও এই অভিমত গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁর নিকট থেকে ভিন্নরূপ বর্ণনাও রয়েছে। অপর একদল আলিম যাদের মধ্যে আতা ইবনু আবী রাবাহও রয়েছেন তারা বলেন হায়যের সর্বনিম্ন মুদ্দত হল একদিন একরাত আর সর্বোচ্চ পারমান হল পনের দিন। ইমাম মালিক, আওযোঈ, শাফিঈ, আহমদ, সিহাক ও আবূ উবয়দা (রহঃ) এর অভিমতও এ-ই।
যা হোক, ছয়দিন বা সাতদিন আল্লাহর জ্ঞানে বা তোমার জন্য নির্ধারিত সেদিনগুলো হায়েয হিসাবে ধরবে পরে তা অতিক্রান্ত হয়ে গেলে গোসল করে নিবে। যখন তুমি দেখবে যে, তুমি পাক হয়ে গেছ এবং পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছ তখন চব্বিশ দিন বা তেইশ দিন সালাত ও সিয়াম পালন করবে। আর এ-ই তোমার জন্য যথেষ্ট। সাধারণভাবে মহিলারা হাযেয ও তুহরের (পাক থাকার) নির্ধারিত দিনগুলোতে যা করে তুমিও সেদিনগুলোতে তা করবে।
আর পাক থাকার নির্ধারিত দিনগুলোতে তোমার জন্য যুহরের সালাত পিছিয়ে এবং আছরের সালাত কিছুটা এগিয়ে নিয়ে উভয় ওয়াক্তের একবার গোসল করেলে দুই ওয়াক্তের সালাত আদায় করা সম্ভব হলে তা করবে। এমনিভাবে মাগরিবের সালাত পিছিয়ে এবং ’ইশার সালাত এগিয়ে নিয়ে উভয় ওয়াক্তের জন্য একবার গোসল করে দু’টো আদায় করো এবং ফজরের সময় গোসল করে তা আদায় করা সম্ভব হলে তদ্রম্নপভাবে সালাত ও সিয়াম পালন করবে। হ্যাঁ, তোমার শক্তিতে কুলালে তা-ই করো। আর দুটো বিষয়ের মধ্যে এই বিষয়টই আমার নিকট অধিক পছন্দের। - ইবনু মাজাহ ৬২৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। উবায়দুল্লাহ ইবনু আমর আর রাক্কী, ইবনুুর জুরাইজ এবং শরীক (রহঃ) ও হামনা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবেত ইবনু জুরাইজ তাঁর সনদে জনৈক রাবীল নাম উমর ইবনু তালহা বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ শুদ্ধ হল ইমরান ইবনু তালহা।
মুহাম্মাদ আল বুখারী (রহঃ) কে এই হাদিসটি সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন এই হাদিসটি হাসান। ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ)ও উক্তরূপ অভিমত প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
ইমাম আহমদ ও ইসহাক বলেন ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলা যদি হায়যের আগমন ও এর অতিক্রান্ত হওয়া বুঝতে পারে তবে ফাতিমা বিনত আবী হুবায়শ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ বিধান তার জন্য প্রযোজ্য হবে। সাধারণতঃ হায়যের আগমন বুঝার উপায় হল, এই সময় এর রং থাকে কাল আর অতিক্রন্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝার উপায় হল তখন এর রং হয়ে যায় হরিদ্রাভ। আর সেই মহিলার যদি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে হায়যের নির্ধারিত দিন থেকে থাকে তবে ইস্তিহাযা আক্রান্ত হওয়ার পরেও সে উক্ত নির্ধারিত দিন সমূহের সালাত আদায় ছেড়ে দিবে। এই দিনগুলি অতিক্রান্ত হওয়ার পর সে পাক হওয়ার জন্য গোসল করবে এবং পরে প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তা আদায় করবে। কিন্তু তার যদি সব সময় রক্ত ঝরতে থাকে, হায়যের কোন নির্দিষ্ট দিন না থাকে, রক্তের রঙ্গের মাধ্যমে হায়যের শুরু ও শেষ বুঝতে না পারে তবে তার জন্য বিধান হামনা বিনত জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত (১২৮ নং) হাদীছের অনুরূপ।
আবূ উবায়দাও অনুরূপ কথা বলেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেনঃ শুরু থেকে ই যদি কোন মহিলার রক্ত প্রবাহিত হতে থাক আর তা বন্ধ না হয় তবে পনের দিনের মাঝের দিনগুলির সালাত সেছেড়ে দিবে। পনেরতম দিন বা এর পূর্বে সে যদি পাক হয়ে যায় তবে এই দিনগুলি হায়যের দিন হিসাবে গণ্য হবে। পনের দিনের পরও যদি রক্ত দেখে তবে সে চৌদ্দ দিনের সালাত কাযা করবে। পরবর্তীতে হায়বের সর্বনিম্ন সময় একদিন ও একরাতের সালাত ছেড়ে দিবে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হায়যের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মুদ্দত সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন সর্বনিম্ন মুদ্দত হল তিনদিন আর সর্বোচ্চ পরিমাণ হল দশদিন। এ হল সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমদের অভিমত। ইবনু মুবারকও এই অভিমত গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁর নিকট থেকে ভিন্নরূপ বর্ণনাও রয়েছে। অপর একদল আলিম যাদের মধ্যে আতা ইবনু আবী রাবাহও রয়েছেন তারা বলেন হায়যের সর্বনিম্ন মুদ্দত হল একদিন একরাত আর সর্বোচ্চ পারমান হল পনের দিন। ইমাম মালিক, আওযোঈ, শাফিঈ, আহমদ, সিহাক ও আবূ উবয়দা (রহঃ) এর অভিমতও এ-ই।