হাদিস নং: ৭০৭
সহিহ (Sahih)
وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " فصل ما بين صيامنا وصيام اهل الكتاب اكلة السحر " . حدثنا بذلك قتيبة حدثنا الليث عن موسى بن علي عن ابيه عن ابي قيس مولى عمرو بن العاص عن عمرو بن العاص عن النبي صلى الله عليه وسلم بذلك . قال وهذا حديث حسن صحيح . واهل مصر يقولون موسى بن علي واهل العراق يقولون موسى بن على وهو موسى بن علي بن رباح اللخمي .
৭০৭. কুতায়বা (রহঃ) ..... আমর ইবনু আস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসটি বর্ণিত আছে। - হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা পৃঃ ৮৮, সহিহ আবু দাউদ ২০২৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদিসটি হাসান সহীহ্। এই হাদীসটির রাবী মূসা সম্পর্কে মিশরবাসী (মুহাদ্দিসগণ) বলেন, মূসা ইবনু আলী। আর ইরাকবাসী (মুহদ্দিসগণ) বলেন, মূসা ইবনু উলাই। তিনি হলেন, মূসা ইবনু উলাই ইবনু রাবাহ্ লাখমী।
এই হাদিসটি হাসান সহীহ্। এই হাদীসটির রাবী মূসা সম্পর্কে মিশরবাসী (মুহাদ্দিসগণ) বলেন, মূসা ইবনু আলী। আর ইরাকবাসী (মুহদ্দিসগণ) বলেন, মূসা ইবনু উলাই। তিনি হলেন, মূসা ইবনু উলাই ইবনু রাবাহ্ লাখমী।
হাদিস নং: ৭০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن جعفر بن محمد، عن ابيه، عن جابر بن عبد الله، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج الى مكة عام الفتح فصام حتى بلغ كراع الغميم وصام الناس معه فقيل له ان الناس قد شق عليهم الصيام وان الناس ينظرون فيما فعلت . فدعا بقدح من ماء بعد العصر فشرب والناس ينظرون اليه فافطر بعضهم وصام بعضهم فبلغه ان ناسا صاموا فقال " اولىك العصاة " . قال وفي الباب عن كعب بن عاصم وابن عباس وابي هريرة . قال ابو عيسى حديث جابر حديث حسن صحيح . وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " ليس من البر الصيام في السفر " . واختلف اهل العلم في الصوم في السفر فراى بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان الفطر في السفر افضل حتى راى بعضهم عليه الاعادة اذا صام في السفر . واختار احمد واسحاق الفطر في السفر . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان وجد قوة فصام فحسن وهو افضل وان افطر فحسن . وهو قول سفيان الثوري ومالك بن انس وعبد الله بن المبارك . وقال الشافعي وانما معنى قول النبي صلى الله عليه وسلم " ليس من البر الصيام في السفر " . وقوله حين بلغه ان ناسا صاموا فقال " اولىك العصاة " . فوجه هذا اذا لم يحتمل قلبه قبول رخصة الله فاما من راى الفطر مباحا وصام وقوي على ذلك فهو اعجب الى .
৭০৮. কুতায়বা (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রামাযান মাস) মক্কা বিজয় বছরে যখন মক্কার দিকে বের হন, তখন কুরা’উল -গামীম নামকস্থানে পৌঁছা পর্যন্ত সিয়াম পালন করেন। লোকেরা ও তাঁর সঙ্গে সিয়াম পালন করেন। তখন তাকে বলা হল; লোকদের জন্য সিয়াম পালন করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তারা আপনি কি করেন তার প্রতি তাকিয়ে আছে। তিনি আসরের পর এক পেয়লা পানি চেয়ে আনালেন এবং তা পান করলেন। লোকেরা তখন তাঁর দিকে দেখছিল। তখন কেউ কেউ সাওম ভেঙ্গে ফেলল আর কেউ কেউ সায়িম রইলো। লোকেরা সিয়াম পালন করছে এই কথা তাঁর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ এরা হল নাফরমান। - ইরওয়া ৪/৫৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে কা’ব ইবনু আমিস, ইবনু আব্বাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, ’’তিনি বলেনঃ সফরে সিয়াম পালনে নেকী নেই’’।
সফর অবস্থায় সিয়াম পালন সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ও অন্যান্যদের মধ্যে কোন কোন আলিমের মত হল সফরে সিয়াম পালন করতে হবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) সফরে সিয়াম পালন না করার মত গ্রহণ করেছেন। আর কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, সফরে যদি শক্তি থাকে এবং সিয়াম পালন করে তবে তা ভাল এবং তাই উত্তম। আর যদি সিয়াম পালন না করে তবে তা-ও ভাল। এ হলো, সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ)-এর অভিমত। ইমাম শাফই (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি ’’সফরে সিয়াম পালন করার কোন নেকী নেই।’’ এবং যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই খবর পৌছল যে কিছু সংখ্যক লোক সফরে সিয়াম পালন করছে। তখন তিনি বললেনঃ ’’এরা নাফরমান।’’ এই হাদিস দুটি সে ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যার অন্তর আল্লাহ প্রদত্ত অবকাশ গ্রহণ করে না। কিন্তু যে ব্যক্তি সফরে সিয়াম ভঙ্গ করা মুবাহ্ বলে বিশ্বাস করে এবং সিয়াম পালনে শক্তি থাকায় সে তা পালন করে, তা আমার কাছে পছন্দনীয়।
এই বিষয়ে কা’ব ইবনু আমিস, ইবনু আব্বাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, ’’তিনি বলেনঃ সফরে সিয়াম পালনে নেকী নেই’’।
সফর অবস্থায় সিয়াম পালন সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ও অন্যান্যদের মধ্যে কোন কোন আলিমের মত হল সফরে সিয়াম পালন করতে হবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) সফরে সিয়াম পালন না করার মত গ্রহণ করেছেন। আর কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, সফরে যদি শক্তি থাকে এবং সিয়াম পালন করে তবে তা ভাল এবং তাই উত্তম। আর যদি সিয়াম পালন না করে তবে তা-ও ভাল। এ হলো, সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ)-এর অভিমত। ইমাম শাফই (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি ’’সফরে সিয়াম পালন করার কোন নেকী নেই।’’ এবং যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই খবর পৌছল যে কিছু সংখ্যক লোক সফরে সিয়াম পালন করছে। তখন তিনি বললেনঃ ’’এরা নাফরমান।’’ এই হাদিস দুটি সে ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যার অন্তর আল্লাহ প্রদত্ত অবকাশ গ্রহণ করে না। কিন্তু যে ব্যক্তি সফরে সিয়াম ভঙ্গ করা মুবাহ্ বলে বিশ্বাস করে এবং সিয়াম পালনে শক্তি থাকায় সে তা পালন করে, তা আমার কাছে পছন্দনীয়।
হাদিস নং: ৭০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا هارون بن اسحاق الهمداني، حدثنا عبدة بن سليمان، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، ان حمزة بن عمرو الاسلمي، سال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصوم في السفر وكان يسرد الصوم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان شىت فصم وان شىت فافطر " . قال وفي الباب عن انس بن مالك وابي سعيد وعبد الله بن مسعود وعبد الله بن عمرو وابي الدرداء وحمزة بن عمرو الاسلمي . قال ابو عيسى حديث عاىشة ان حمزة بن عمرو سال النبي صلى الله عليه وسلم حديث حسن صحيح .
৭০৯. হারুন ইবনু ইসহাক হামদানী (রাঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযা ইবনু আমর আসলামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সফরে সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আর তিনি লাগাতার সিয়াম পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তুমি চাইলে সিয়াম পালন কর আর ইচ্ছা ইফতার কর। - ইবনু মাজাহ ১৬৬২, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আনাস ইবনু মালিক, আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ দারদা এবং ইবনু আমর আসালামী (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ)-এর বর্ণিত হামযা ইবনু আমর আসলামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাস করেছিলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ্।
এই বিষয়ে আনাস ইবনু মালিক, আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ দারদা এবং ইবনু আমর আসালামী (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ)-এর বর্ণিত হামযা ইবনু আমর আসলামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাস করেছিলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ্।
হাদিস নং: ৭১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، حدثنا بشر بن المفضل، عن سعيد بن يزيد ابي مسلمة، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد الخدري، قال كنا نسافر مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فما يعيب على الصاىم صومه ولا على المفطر افطاره . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৭১০. নাসর ইবনু আলী জাহযামী (রহঃ) .... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রামাযান মাসে সফর করেছি। কিন্তু সফরে সিয়াম পালন করার কারণে কোন সায়িমকে কিংবা সিয়াম ভঙ্গ করার কারণে এবং কোন ইফতারকারীকে কোনরূপ দোষারোপ করা হতো না। - সহিহাহ ৩/১৪৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহীহ্।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহীহ্।
হাদিস নং: ৭১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا نصر بن علي، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا الجريري، ح قال وحدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا عبد الاعلى بن عبد الاعلى، عن الجريري، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد الخدري، قال كنا نسافر مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فمنا الصاىم ومنا المفطر فلا يجد المفطر على الصاىم ولا الصاىم على المفطر فكانوا يرون انه من وجد قوة فصام فحسن ومن وجد ضعفا فافطر فحسن . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৭১১. নাসর ইবনু আলী (রাঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সফর করতাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ থাকতেন সায়িম আর কেউ কেউ সাওম ভঙ্গকারী। ইফতারকারী সায়িমের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি এবং সায়িম ইফতার-কারীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি। তাঁরা মনে করতেন যে, যখন সে সিয়াম পালন করছে, সুতরাং তা ভাল আর যে সিয়াম পালন করছেনা তাও ভাল। - মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ।
হাদিস নং: ৭১২
যঈফ (Dai'f)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابن لهيعة، عن يزيد بن ابي حبيب، عن معمر بن ابي حيية، عن ابن المسيب، انه ساله عن الصوم، في السفر فحدث ان عمر بن الخطاب قال غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان غزوتين يوم بدر والفتح فافطرنا فيهما . قال وفي الباب عن ابي سعيد . قال ابو عيسى حديث عمر لا نعرفه الا من هذا الوجه . وقد روي عن ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم انه امر بالفطر في غزوة غزاها . وقد روي عن عمر بن الخطاب نحو هذا انه رخص في الافطار عند لقاء العدو وبه يقول بعض اهل العلم .
৭১২. কুতায়রা (রাঃ) ..... মামার ইবনু আবূ হুয়াইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনুল মূসাইয়্যার (রহঃ) কে সফরে সিয়াম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রামাযান মাসে বদর ও মক্কা বিজয় যুদ্ধে শামিল ছিলাম। উভয়টিতে আমরা ইফতার করেছি। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, উমারের এ হাদিসটি সম্পর্কে এই সূত্র ছাড়া আমরা কিছু জানতে পারিনি। আর আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কোন এক গাযওয়ায় ইফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে যে, তিনি শত্রুপ সম্মুখীন হওয়া কালে সিয়াম পালন না করার অনুমতি দিয়েছেন। কোন কোন আলিম এই অভিমত পোষণ করেন।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, উমারের এ হাদিসটি সম্পর্কে এই সূত্র ছাড়া আমরা কিছু জানতে পারিনি। আর আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কোন এক গাযওয়ায় ইফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে যে, তিনি শত্রুপ সম্মুখীন হওয়া কালে সিয়াম পালন না করার অনুমতি দিয়েছেন। কোন কোন আলিম এই অভিমত পোষণ করেন।
হাদিস নং: ৭১৩
হাসান (Hasan)
حدثنا ابو كريب، ويوسف بن عيسى، قالا حدثنا وكيع، حدثنا ابو هلال، عن عبد الله بن سوادة، عن انس بن مالك، رجل من بني عبد الله بن كعب قال اغارت علينا خيل رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجدته يتغدى فقال " ادن فكل " . فقلت اني صاىم . فقال " ادن احدثك عن الصوم او الصيام ان الله تعالى وضع عن المسافر الصوم وشطر الصلاة وعن الحامل او المرضع الصوم او الصيام " . والله لقد قالهما النبي صلى الله عليه وسلم كلتيهما او احداهما فيا لهف نفسي ان لا اكون طعمت من طعام النبي صلى الله عليه وسلم . قال وفي الباب عن ابي امية . قال ابو عيسى حديث انس بن مالك الكعبي حديث حسن ولا نعرف لانس بن مالك هذا عن النبي صلى الله عليه وسلم غير هذا الحديث الواحد . والعمل على هذا عند اهل العلم . وقال بعض اهل العلم الحامل والمرضع تفطران وتقضيان وتطعمان . وبه يقول سفيان ومالك والشافعي واحمد . وقال بعضهم تفطران وتطعمان ولا قضاء عليهما وان شاءتا قضتا ولا اطعام عليهما . وبه يقول اسحاق .
৭১৩. আবূ কুরায়ব ও ইউসুফ ইবনু ঈসা (রাঃ) ..... বানু আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব গোত্রের আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহিনী আমাদের কবীলায় অকস্মাৎ আক্রমণ করে। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তখন তিনি তাঁকে সকালের আহারে রত পেলাম। তিনি বললেনঃ কাছে আস এবং খাও। আমি বললাম, আমি তো সায়িম। তিনি বললেনঃ কাছে আস। তোমাকে আমি সিয়াম সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছি। আল্লাহ তা’আলা মূসাফির থেকে অর্ধেক সালাম মাফ করে দিয়েছেন আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের জন্য সিয়াম পালন মাফ করে দিয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উভয়টির অথবা এর একটির কথা বলেছেন। আমার আপেক্ষ এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আহার করিনি। - ইবনু মাজাহ ১৬৬৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষযে আবূ উমায়্যা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, আনাস ইবনু মালিক আল-কাবী (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান। এই একটি হাদিস ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আনাস ইবনু মালিকের (রাঃ) কোন হাদিস আছে বলে আমাদের জানা নেই। কোন কোন আলিমের এই হাদিস অনুসারে আমল করেছে। আর কোন কোন আলিম বলেন, গর্ভবতী ও দুদ্ধদাকারিনী মহিলাগণ সিয়াম ভঙ্গ করবে, পরে কাযা আদায় করবে ও মিসকীনদের খাওয়াবে। এ হল সুফিয়ান, মালিক, শফিঈ ও আহমাদ (রহঃ) এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেন, এরা সিয়াম ভঙ্গ করবে এবং মিসকীনদের খাওয়াবে। তাদের উপর কাযা নেই। চাইলে কাযা করবে, মিসকীন খাওয়াতে হবে না। এ হল ইমাম ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত।
এই বিষযে আবূ উমায়্যা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, আনাস ইবনু মালিক আল-কাবী (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান। এই একটি হাদিস ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আনাস ইবনু মালিকের (রাঃ) কোন হাদিস আছে বলে আমাদের জানা নেই। কোন কোন আলিমের এই হাদিস অনুসারে আমল করেছে। আর কোন কোন আলিম বলেন, গর্ভবতী ও দুদ্ধদাকারিনী মহিলাগণ সিয়াম ভঙ্গ করবে, পরে কাযা আদায় করবে ও মিসকীনদের খাওয়াবে। এ হল সুফিয়ান, মালিক, শফিঈ ও আহমাদ (রহঃ) এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেন, এরা সিয়াম ভঙ্গ করবে এবং মিসকীনদের খাওয়াবে। তাদের উপর কাযা নেই। চাইলে কাযা করবে, মিসকীন খাওয়াতে হবে না। এ হল ইমাম ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا ابو خالد الاحمر، عن الاعمش، عن سلمة بن كهيل، ومسلم البطين، عن سعيد بن جبير، وعطاء، ومجاهد، عن ابن عباس، قال جاءت امراة الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت ان اختي ماتت وعليها صوم شهرين متتابعين . قال " ارايت لو كان على اختك دين اكنت تقضينه " . قالت نعم . قال " فحق الله احق " . قال وفي الباب عن بريدة وابن عمر وعاىشة .
৭১৪. আবূ সাঈদ আল-আশাজ্জ (রহঃ) ....... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমার বোন মারা গেছে, তার একের পর এক দু’মাসের সাওম রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দেখ তোমার বোনের উপর যদি কোন ঋণ থাকত তবে তুমি তা আদায় করতে কি? মহিলাটি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুতরাং আল্লাহর হক সর্বাপেক্ষা অগ্রগণ্য। - ইবনু মাজাহ ১৭৫৮, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে বুরায়দা, ইবনু উমার ও আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ্।
এই বিষয়ে বুরায়দা, ইবনু উমার ও আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ্।
হাদিস নং: ৭১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، حدثنا ابو خالد الاحمر، عن الاعمش، بهذا الاسناد نحوه . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . قال وسمعت محمدا، يقول جود ابو خالد الاحمر هذا الحديث عن الاعمش، . قال محمد وقد روى غير ابي خالد، عن الاعمش، مثل رواية ابي خالد . قال ابو عيسى وروى ابو معاوية، وغير، واحد، هذا الحديث عن الاعمش، عن مسلم البطين، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم . ولم يذكروا فيه سلمة بن كهيل ولا عن عطاء ولا عن مجاهد . واسم ابي خالد سليمان بن حيان .
৭১৫. আবূ কুরায়র (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) সুত্রেও এ সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত আছে। মুহাম্মদ (বুখারী) (রহঃ) বলেন, আবূ খালিদ ছাড়া আরো অনেকে আনাস (রাঃ) থেকে আবূ খালিদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ মুআবিয়া প্রমুখ রাবী এই হাদীসটিকে আমাশ, মুসলিম ব্যতীত, সাঈদ ইবনু জুবাইর, ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা এতে রাবী সালামা ইবনু কুহায়ল, আতা ও মুজাহিদ (রহঃ) এর উল্লেখ করেননি। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ মুআবিয়া প্রমুখ রাবী এই হাদীসটিকে আমাশ, মুসলিম ব্যতীত, সাঈদ ইবনু জুবাইর, ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা এতে রাবী সালামা ইবনু কুহায়ল, আতা ও মুজাহিদ (রহঃ) এর উল্লেখ করেননি। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭১৬
যঈফ (Dai'f)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبثر بن القاسم، عن اشعث، عن محمد، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من مات وعليه صيام شهر فليطعم عنه مكان كل يوم مسكينا " . قال ابو عيسى حديث ابن عمر لا نعرفه مرفوعا الا من هذا الوجه والصحيح عن ابن عمر موقوف قوله . واختلف اهل العلم في هذا الباب فقال بعضهم يصام عن الميت . وبه يقول احمد واسحاق قالا اذا كان على الميت نذر صيام يصوم عنه واذا كان عليه قضاء رمضان اطعم عنه . وقال مالك وسفيان والشافعي لا يصوم احد عن احد . قال واشعث هو ابن سوار . ومحمد هو عندي ابن عبد الرحمن بن ابي ليلى .
৭১৬. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি তার রামাযানের সিয়াম রেখে মারা যায় তবে তার পক্ষ থেকে প্রতি দিনের সাওমের জন্য একজন করে মিসকীনকে যেন আহার করানো হয়। - ইবনু মাজাহ ১৭৫৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, এই সনদ ছাড়া ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি মারফু রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে তাঁর উক্তি হিসাবে মাওকুফরূপে বর্ণনাটি সহীহ্। এই বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাওম আদায় করা যায়। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। তাঁরা বলেন, মৃত ব্যক্তির উপর যদি মানত হিসাবে কোন সাওম থাকে তবে তার পক্ষ থেকে সিয়াম আদায় করা যাবে। আর যদি তার দায়িত্বে রামাযান মাসের কাযা থেকে থাকে তবে তার পক্ষ থেকে মিসকীনদের আহার করাবে। ইমাম মালিক, সুফিয়ান ও শাফিঈ (রহঃ) বলেন, একজন আরেকজনের পক্ষ থেকে সিয়াম পালন করতে পারবেনা। রাবী আশআস হলেন, ইবনু সাওয়ার আর মুহাম্মাদ হলেন মুহাম্মদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা।
ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, এই সনদ ছাড়া ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি মারফু রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে তাঁর উক্তি হিসাবে মাওকুফরূপে বর্ণনাটি সহীহ্। এই বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাওম আদায় করা যায়। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। তাঁরা বলেন, মৃত ব্যক্তির উপর যদি মানত হিসাবে কোন সাওম থাকে তবে তার পক্ষ থেকে সিয়াম আদায় করা যাবে। আর যদি তার দায়িত্বে রামাযান মাসের কাযা থেকে থাকে তবে তার পক্ষ থেকে মিসকীনদের আহার করাবে। ইমাম মালিক, সুফিয়ান ও শাফিঈ (রহঃ) বলেন, একজন আরেকজনের পক্ষ থেকে সিয়াম পালন করতে পারবেনা। রাবী আশআস হলেন, ইবনু সাওয়ার আর মুহাম্মাদ হলেন মুহাম্মদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা।
হাদিস নং: ৭১৭
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن عبيد المحاربي، حدثنا عبد الرحمن بن زيد بن اسلم، عن ابيه، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ثلاث لا يفطرن الصاىم الحجامة والقىء والاحتلام " . قال ابو عيسى حديث ابي سعيد الخدري حديث غير محفوظ . وقد روى عبد الله بن زيد بن اسلم وعبد العزيز بن محمد وغير واحد هذا الحديث عن زيد بن اسلم مرسلا . ولم يذكروا فيه عن ابي سعيد . وعبد الرحمن بن زيد بن اسلم يضعف في الحديث . قال سمعت ابا داود السجزي يقول سالت احمد بن حنبل عن عبد الرحمن بن زيد بن اسلم فقال اخوه عبد الله بن زيد لا باس به . قال وسمعت محمدا يذكر عن علي بن عبد الله المديني قال عبد الله بن زيد بن اسلم ثقة وعبد الرحمن بن زيد بن اسلم ضعيف . قال محمد ولا اروي عنه شيىا .
৭১৭. মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ মুহারিবী (রহঃ) .... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তিনটি বিষয় সায়িমের সাওম ভঙ্গ হয় না। (১) সিঙ্গা লাগান (২) বমি এবং (৩) স্বপ্নদোষ। - তাখরীজ হাকিকাতুস সিয়াম ২১-২২, যইফ আবু দাউদ ৪০৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই রিওয়ায়াতটি নির্ভরযোগ্য নয়। আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম, আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ প্রমূখ এই হাদিসটিকে যায়িদ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। এতে তারা আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) এর উল্লেখ করেননি। আবদুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম হাদিস বর্ণনায় যইফ। আবূ দাউদ সিজাযী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) কে আবদুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, তার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ সম্বন্ধে কোন দোষ নাই। মুহাম্মাদ (বুখারী) (রহঃ) কে আলী ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম হলেন নির্ভরযোগ্য। আর আবদুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম হলেন যইফ। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আমি তার থেকে কি কিছুই রিওয়ায়াত করব না।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই রিওয়ায়াতটি নির্ভরযোগ্য নয়। আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম, আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ প্রমূখ এই হাদিসটিকে যায়িদ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। এতে তারা আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) এর উল্লেখ করেননি। আবদুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম হাদিস বর্ণনায় যইফ। আবূ দাউদ সিজাযী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) কে আবদুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, তার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ সম্বন্ধে কোন দোষ নাই। মুহাম্মাদ (বুখারী) (রহঃ) কে আলী ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম হলেন নির্ভরযোগ্য। আর আবদুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম হলেন যইফ। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আমি তার থেকে কি কিছুই রিওয়ায়াত করব না।
হাদিস নং: ৭১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، حدثنا عيسى بن يونس، عن هشام بن حسان، عن محمد بن سيرين، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من ذرعه القىء فليس عليه قضاء ومن استقاء عمدا فليقض " . قال وفي الباب عن ابي الدرداء وثوبان وفضالة بن عبيد . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن غريب لا نعرفه من حديث هشام عن ابن سيرين عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم الا من حديث عيسى بن يونس . وقال محمد لا اراه محفوظا . قال ابو عيسى وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا يصح اسناده . وقد روي عن ابي الدرداء وثوبان وفضالة بن عبيد ان النبي صلى الله عليه وسلم قاء فافطر . وانما معنى هذا ان النبي صلى الله عليه وسلم كان صاىما متطوعا فقاء فضعف فافطر لذلك . هكذا روي في بعض الحديث مفسرا . والعمل عند اهل العلم على حديث ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم ان الصاىم اذا ذرعه القىء فلا قضاء عليه واذا استقاء عمدا فليقض . وبه يقول سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق .
৭১৮. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো (সিয়ামকালে) অনিচ্ছকৃত বমি হলে তাকে কাযা করতে হবে না। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছাকৃত বমি করে তবে সে কাযা করবে। - ইবনু মাজাহ ১৬৭৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ দারদা, সাওবানও ফাযালা ইবনু উবায়দ (রাঃ) থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হাসান গরীব। ঈসা ইবনু ইউনুসের বরাত ছাড়া, হিশাম ইবনু সীরীন, আবূ হুরায়রা সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। মুহাম্মাদ (বুখারী) (রহঃ) বলেন, ঈসা ইবনু ইউনুসকে আমি বারী হিসাবে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করি না। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর বর্ণিত হাদিসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু এর সনদগুলো সহীহ নয়।
আবূদ দারদা, সাওবান ও ফাযালা ইবনুুউবায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার (সিয়াম কালে) বমি করলেন এবং সাওম ছেড়ে দিলেন।এ হাদিসটির র্মম হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল সিয়াম পালন করছিলেন। বমি হওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি সিয়াম ভেঙ্গে ফেলেন। কোন কোন হাদীছে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত এই হাদিস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, সায়িমের অনিচ্ছাকৃত বমি হলে তার কোন কাযা নেই। কিন্তু ইচ্ছা করে বমি করলে সে কাযা করবে। এ হলো শাফিঈ, সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত।
এই বিষয়ে আবূ দারদা, সাওবানও ফাযালা ইবনু উবায়দ (রাঃ) থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হাসান গরীব। ঈসা ইবনু ইউনুসের বরাত ছাড়া, হিশাম ইবনু সীরীন, আবূ হুরায়রা সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। মুহাম্মাদ (বুখারী) (রহঃ) বলেন, ঈসা ইবনু ইউনুসকে আমি বারী হিসাবে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করি না। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর বর্ণিত হাদিসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু এর সনদগুলো সহীহ নয়।
আবূদ দারদা, সাওবান ও ফাযালা ইবনুুউবায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার (সিয়াম কালে) বমি করলেন এবং সাওম ছেড়ে দিলেন।এ হাদিসটির র্মম হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল সিয়াম পালন করছিলেন। বমি হওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি সিয়াম ভেঙ্গে ফেলেন। কোন কোন হাদীছে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত এই হাদিস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, সায়িমের অনিচ্ছাকৃত বমি হলে তার কোন কাযা নেই। কিন্তু ইচ্ছা করে বমি করলে সে কাযা করবে। এ হলো শাফিঈ, সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا ابو خالد الاحمر، عن حجاج بن ارطاة، عن قتادة، عن ابن سيرين، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من اكل او شرب ناسيا فلا يفطر فانما هو رزق رزقه الله " .
৭১৯. আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি (সিয়াম কালে) ভুলবশতঃ কিছু খায় বা পান করে তবে সে সাওম ভঙ্গ করবেন না। কেননা, এ হলো রিয্ক যা আল্লাহ তা’আলা তাকে দিয়েছেন। - ইবনু মাজাহ ১৬৭৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৭২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا ابو اسامة، عن عوف، عن ابن سيرين، وخلاس، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله او نحوه . قال وفي الباب عن ابي سعيد وام اسحاق الغنوية . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم وبه يقول سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق . وقال مالك بن انس اذا اكل في رمضان ناسيا فعليه القضاء . والقول الاول اصح .
৭২০. আবূ সাঈদ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ ও উম্মু ইসহাক আলগানবিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান সহীহ্। অধিকাংশ আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও অভিমত। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) বলেন, রামাযানে কেউ যদি ভুলে খেয়ে ফেলে তবে তাকে তা কাযা করতে হবে। কিন্তু প্রথমোক্ত অভিমতটই অধিকতর বিশুদ্ধ।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ ও উম্মু ইসহাক আলগানবিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান সহীহ্। অধিকাংশ আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও অভিমত। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) বলেন, রামাযানে কেউ যদি ভুলে খেয়ে ফেলে তবে তাকে তা কাযা করতে হবে। কিন্তু প্রথমোক্ত অভিমতটই অধিকতর বিশুদ্ধ।
হাদিস নং: ৭২১
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، وعبد الرحمن بن مهدي، قالا حدثنا سفيان، عن حبيب بن ابي ثابت، حدثنا ابو المطوس، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من افطر يوما من رمضان من غير رخصة ولا مرض لم يقض عنه صوم الدهر كله وان صامه " . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة لا نعرفه الا من هذا الوجه . وسمعت محمدا يقول ابو المطوس اسمه يزيد بن المطوس ولا اعرف له غير هذا الحديث .
৭২১. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনরূপ অনুমোদিত কারণ বা রোগ ব্যতিরেকে কেউ যদি রামাযানের সিয়াম ভঙ্গ করে তবে একজন সারা জীবন সিয়াম পালন করলেও তার কাযা আদায় হবে না। - ইবনু মাজাহ ১৬৭২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সূত্র ব্যতিত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানিনা, মুহাম্মাদ বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাবী আবূল মুতাওবিস (রহঃ) এর নাম হলো ইয়াযিদ ইবনু মুতাওবিস। এই হাদিস ছাড়া তার আর কোন রিওয়ায়াত আছে বলে আমাদের জানা নেই।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সূত্র ব্যতিত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানিনা, মুহাম্মাদ বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাবী আবূল মুতাওবিস (রহঃ) এর নাম হলো ইয়াযিদ ইবনু মুতাওবিস। এই হাদিস ছাড়া তার আর কোন রিওয়ায়াত আছে বলে আমাদের জানা নেই।
হাদিস নং: ৭২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، وابو عمار والمعنى واحد واللفظ لفظ ابي عمار قالا اخبرنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن حميد بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، قال اتاه رجل فقال يا رسول الله هلكت . قال " وما اهلكك " . قال وقعت على امراتي في رمضان . قال " هل تستطيع ان تعتق رقبة " . قال لا . قال " فهل تستطيع ان تصوم شهرين متتابعين " . قال لا . قال " فهل تستطيع ان تطعم ستين مسكينا " . قال لا . قال " اجلس " . فجلس فاتي النبي صلى الله عليه وسلم بعرق فيه تمر - والعرق المكتل الضخم قال " تصدق به " . فقال ما بين لابتيها احد افقر منا . قال فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت انيابه . قال " فخذه فاطعمه اهلك " . قال وفي الباب عن ابن عمر وعاىشة وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم في من افطر في رمضان متعمدا من جماع واما من افطر متعمدا من اكل او شرب فان اهل العلم قد اختلفوا في ذلك فقال بعضهم عليه القضاء والكفارة . وشبهوا الاكل والشرب بالجماع . وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك واسحاق . وقال بعضهم عليه القضاء ولا كفارة عليه لانه انما ذكر عن النبي صلى الله عليه وسلم الكفارة في الجماع ولم تذكر عنه في الاكل والشرب . وقالوا لا يشبه الاكل والشرب الجماع . وهو قول الشافعي واحمد . وقال الشافعي وقول النبي صلى الله عليه وسلم للرجل الذي افطر فتصدق عليه " خذه فاطعمه اهلك " . يحتمل هذا معاني يحتمل ان تكون الكفارة على من قدر عليها وهذا رجل لم يقدر على الكفارة فلما اعطاه النبي صلى الله عليه وسلم شيىا وملكه فقال الرجل ما احد افقر اليه منا . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " خذه فاطعمه اهلك " . لان الكفارة انما تكون بعد الفضل عن قوته . واختار الشافعي لمن كان على مثل هذا الحال ان ياكله وتكون الكفارة عليه دينا فمتى ما ملك يوما ما كفر .
৭২২. নাসর ইবনু আলী জাহযামী ও আবূ আম্মার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করলো? লোকটি বলল, রামাযানে আমি স্ত্রী সংগম করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে সক্ষম? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি লাগাতার দুই মাস সিয়াম পালনে সমর্থ? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, ষাটজন মিসকিনকে আহার করাতে সক্ষম? লোকটি বলল, না। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি বসো। লোকটি বসে রইলো। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক আরক খেজুর এলো। ’আরক’ হল বড় থলে বা টুকরি। তিনি লোকটিকে বললেন, এগুলো নিয়ে সা’দকা করে দাও। লোকটি বলল, মদিনার দুই প্রান্তের মাঝে আমার চাইতে অভাবগ্রস্ত আর কেউ নেই। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তিনি শুনে হেসে উঠলেন, এমন কি তার চোয়ালের দাঁত প্রকাশ পেল। তিনি বললেন, তুমি নিয়ে নাও তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও। - ইবনু মাজাহ ১৬৭১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমার, আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহিহ। যে ব্যক্তি রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সংগম দ্বারা সিয়াম ভঙ্গ করে তার ব্যাপারে এই হাদীস অনুসারে উলামায়ে কিরামদের আমল রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি পানাহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে সাওম ভেঙ্গে ফেলে তবে তার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। তারা পানাহারকে স্ত্রী সংগমের সাথে সা’দৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এ হলো সুফিয়ান সাওরী, ইবনু মুবারক ও ইসহাক এর অভিমত।
কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা করতে হবে। কিন্তু কাফফারা দিতে হবেনা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্ত্রী সংগমের ক্ষেত্রেই কাফফারা উল্লেখ রয়েছে। পানাহারের ক্ষেত্রে এর উল্লেখ নেই। তারা বলেন, স্ত্রী সংগমের সাথে পানাহারের সা’দৃশ্য নেই। এ হলো, ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ) এর অভিমত।
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, সিয়াম ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সা’দকা করে দিয়েছিলেন; তার উক্তি নাও, তোমার পরিবারবর্গকে তার আহার করাও, বিভিন্নার্থ বহন করে। হতে পারে যে, কাফফারা তো যে সক্ষম তার দিতে হয়। এই ব্যাক্তি তখন কাফফারা দিতে সক্ষম ছিল না। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে কিছু দিলেন আর সে তার মালিক হয়ে গেল তখন সে বলল, এ এলাকায় আমাদের চাইতে বেশী অভাবগ্রস্ত আর কেউ নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও। কেননা, জীবন ধারণের মত পরিমাণ খাদ্যের অতিরিক্ত যা হয় তা কাফফারা হয়। যার অবস্থা এই ব্যক্তির ন্যায় তার সম্পর্কে ইমাম শাফেঈর মত হলো, সে ঐ মাল ভোগ করতে পারে। আর কাফফারা তার সিয়াম থেকে যাবে। যেদিন সে মালিক হবে সেদিন সে কাফফারা দিবে।
এই বিষয়ে ইবনু উমার, আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহিহ। যে ব্যক্তি রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সংগম দ্বারা সিয়াম ভঙ্গ করে তার ব্যাপারে এই হাদীস অনুসারে উলামায়ে কিরামদের আমল রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি পানাহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে সাওম ভেঙ্গে ফেলে তবে তার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। তারা পানাহারকে স্ত্রী সংগমের সাথে সা’দৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এ হলো সুফিয়ান সাওরী, ইবনু মুবারক ও ইসহাক এর অভিমত।
কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা করতে হবে। কিন্তু কাফফারা দিতে হবেনা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্ত্রী সংগমের ক্ষেত্রেই কাফফারা উল্লেখ রয়েছে। পানাহারের ক্ষেত্রে এর উল্লেখ নেই। তারা বলেন, স্ত্রী সংগমের সাথে পানাহারের সা’দৃশ্য নেই। এ হলো, ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ) এর অভিমত।
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, সিয়াম ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সা’দকা করে দিয়েছিলেন; তার উক্তি নাও, তোমার পরিবারবর্গকে তার আহার করাও, বিভিন্নার্থ বহন করে। হতে পারে যে, কাফফারা তো যে সক্ষম তার দিতে হয়। এই ব্যাক্তি তখন কাফফারা দিতে সক্ষম ছিল না। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে কিছু দিলেন আর সে তার মালিক হয়ে গেল তখন সে বলল, এ এলাকায় আমাদের চাইতে বেশী অভাবগ্রস্ত আর কেউ নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও। কেননা, জীবন ধারণের মত পরিমাণ খাদ্যের অতিরিক্ত যা হয় তা কাফফারা হয়। যার অবস্থা এই ব্যক্তির ন্যায় তার সম্পর্কে ইমাম শাফেঈর মত হলো, সে ঐ মাল ভোগ করতে পারে। আর কাফফারা তার সিয়াম থেকে যাবে। যেদিন সে মালিক হবে সেদিন সে কাফফারা দিবে।
হাদিস নং: ৭২৩
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن عاصم بن عبيد الله، عن عبد الله بن عامر بن ربيعة، عن ابيه، قال رايت النبي صلى الله عليه وسلم ما لا احصي يتسوك وهو صاىم . قال وفي الباب عن عاىشة . قال ابو عيسى حديث عامر بن ربيعة حديث حسن . والعمل على هذا عند اهل العلم لا يرون بالسواك للصاىم باسا الا ان بعض اهل العلم كرهوا السواك للصاىم بالعود الرطب وكرهوا له السواك اخر النهار ولم ير الشافعي بالسواك باسا اول النهار ولا اخره وكره احمد واسحاق السواك اخر النهار .
৭২৩. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিয়াম অবস্থায় এতবার মিস্ওয়াক করতে দেখেছি, যার সংখ্যা আমি গণনা করতে পারিনা। - ইরওয়া ৬৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। এই হাদীস অনুমারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তারা সিয়াম পালনকারীর জন্য মিস্ওয়াক করার কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। তবে কতক আলেম কাঁচা ডাল দিয়ে মিস্ওয়াক করা এবং দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) দিনের শুরু বা শেষ কোন ভাগেই মিস্ওয়াক করার কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ মনে করেন।
এই বিষয়ে আয়িশা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। এই হাদীস অনুমারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তারা সিয়াম পালনকারীর জন্য মিস্ওয়াক করার কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। তবে কতক আলেম কাঁচা ডাল দিয়ে মিস্ওয়াক করা এবং দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) দিনের শুরু বা শেষ কোন ভাগেই মিস্ওয়াক করার কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ মনে করেন।
হাদিস নং: ৭২৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الاعلى بن واصل الكوفي، حدثنا الحسن بن عطية، حدثنا ابو عاتكة، عن انس بن مالك، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اشتكت عيني افاكتحل وانا صاىم قال " نعم " . قال وفي الباب عن ابي رافع . قال ابو عيسى حديث انس حديث ليس اسناده بالقوي ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب شيء . وابو عاتكة يضعف . واختلف اهل العلم في الكحل للصاىم فكرهه بعضهم وهو قول سفيان وابن المبارك واحمد واسحاق . ورخص بعض اهل العلم في الكحل للصاىم وهو قول الشافعي .
৭২৪. আবদুল আ’লা ইবনু ওয়াসিল আল-কুফী (রহঃ) .... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমার চোখ দু’টিতে কষ্ট পাচ্ছি। আমি সায়িম অবস্থায় তাতে সুরমা ব্যবহার করতে পারি কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ রাফি (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটির সনদ শক্তিশালী নয়। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ কিছু বর্ণিত নাই। রাবী আবূ আতিকাকে যঈফ বলা হয়। সিয়াম অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মাকরূহ মনে করেন। এ হল সুফিয়ান, ইবনু মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম সিয়াম অবস্থায় সুরমা ব্যবহারের অনুমতি দেন। এ হল ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমত।
এই বিষয়ে আবূ রাফি (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটির সনদ শক্তিশালী নয়। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ কিছু বর্ণিত নাই। রাবী আবূ আতিকাকে যঈফ বলা হয়। সিয়াম অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মাকরূহ মনে করেন। এ হল সুফিয়ান, ইবনু মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম সিয়াম অবস্থায় সুরমা ব্যবহারের অনুমতি দেন। এ হল ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، وقتيبة، قالا حدثنا ابو الاحوص، عن زياد بن علاقة، عن عمرو بن ميمون، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقبل في شهر الصوم . قال وفي الباب عن عمر بن الخطاب وحفصة وابي سعيد وام سلمة وابن عباس وانس وابي هريرة . قال ابو عيسى حديث عاىشة حديث حسن صحيح . واختلف اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم في القبلة للصاىم فرخص بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في القبلة للشيخ ولم يرخصوا للشاب مخافة ان لا يسلم له صومه والمباشرة عندهم اشد . وقد قال بعض اهل العلم القبلة تنقص الاجر ولا تفطر الصاىم . وراوا ان للصاىم اذا ملك نفسه ان يقبل واذا لم يامن على نفسه ترك القبلة ليسلم له صومه . وهو قول سفيان الثوري والشافعي .
৭২৫. হান্নাদ ও কুতায়রা (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়ামের মাসে তাকে (সিয়াম অবস্থায়) চুম্বন করতেন। - ইবনু মাজাহ ১৬৮৩, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমার ইবনু খাত্তাব, হাফসা, আবূ সাঈদ, উম্মে সালামা, ইবনু আব্বাস, আনাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্নিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা বলেন, আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ। সায়িমের চুম্বন করা বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে ইলম সাহাবী ও আলিমদের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু যুবকদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দেননি; এই আশংকায় যে, এতে হয়ত বা এরা তাদের সাওম হিফাজত করতে পারবে না। আর স্ত্রী আলিঙ্গন করার বিষয়টি তাদের মতে আরো মারাত্মক। কোন কোন আলিম বলেন, চুম্বনে সাওয়াব কমে যায়, কিন্তু সাওম ভঙ্গ হবে না। তারা মনে করেন; সায়িম ব্যক্তি নিজের নফসের উপর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হলে চুম্বন করতে পারে। আর যদি তার নফসের ব্যাপারে আস্থা না থাকে তবে সে তা পরিত্যাগ করবে; যাতে সাওমের হিফাযত হয়। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমত।
এই বিষয়ে উমার ইবনু খাত্তাব, হাফসা, আবূ সাঈদ, উম্মে সালামা, ইবনু আব্বাস, আনাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্নিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা বলেন, আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ। সায়িমের চুম্বন করা বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে ইলম সাহাবী ও আলিমদের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু যুবকদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দেননি; এই আশংকায় যে, এতে হয়ত বা এরা তাদের সাওম হিফাজত করতে পারবে না। আর স্ত্রী আলিঙ্গন করার বিষয়টি তাদের মতে আরো মারাত্মক। কোন কোন আলিম বলেন, চুম্বনে সাওয়াব কমে যায়, কিন্তু সাওম ভঙ্গ হবে না। তারা মনে করেন; সায়িম ব্যক্তি নিজের নফসের উপর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হলে চুম্বন করতে পারে। আর যদি তার নফসের ব্যাপারে আস্থা না থাকে তবে সে তা পরিত্যাগ করবে; যাতে সাওমের হিফাযত হয়। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমত।
হাদিস নং: ৭২৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا وكيع، حدثنا اسراىيل، عن ابي اسحاق، عن ابي ميسرة، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يباشرني وهو صاىم وكان املككم لاربه .
৭২৬. ইবন আবী উমার (রহঃ) ..... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম অবস্থান আমাকে আলিঙ্গন করেছেন। তবে তিনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রনে তোমাদের তুলনায় অনেক বেশী সমর্থ ছিলেন। - ইবনু মাজাহ ১৬৮৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]