হাদিস নং: ৬১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا زياد بن ايوب البغدادي، وابراهيم بن عبد الله الهروي، ومحمد بن كامل المروزي المعنى، واحد، قالوا حدثنا عباد بن العوام، عن سفيان بن حسين، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب كتاب الصدقة فلم يخرجه الى عماله حتى قبض فقرنه بسيفه فلما قبض عمل به ابو بكر حتى قبض وعمر حتى قبض وكان فيه " في خمس من الابل شاة وفي عشر شاتان وفي خمس عشرة ثلاث شياه وفي عشرين اربع شياه وفي خمس وعشرين بنت مخاض الى خمس وثلاثين فاذا زادت ففيها ابنة لبون الى خمس واربعين فاذا زادت ففيها حقة الى ستين فاذا زادت ففيها جذعة الى خمس وسبعين فاذا زادت ففيها ابنتا لبون الى تسعين فاذا زادت ففيها حقتان الى عشرين وماىة فاذا زادت على عشرين وماىة ففي كل خمسين حقة وفي كل اربعين ابنة لبون . وفي الشاء في كل اربعين شاة شاة الى عشرين وماىة فاذا زادت فشاتان الى ماىتين فاذا زادت فثلاث شياه الى ثلاثماىة شاة فاذا زادت على ثلاثماىة شاة ففي كل ماىة شاة شاة ثم ليس فيها شيء حتى تبلغ اربعماىة ولا يجمع بين متفرق ولا يفرق بين مجتمع مخافة الصدقة وما كان من خليطين فانهما يتراجعان بالسوية ولا يوخذ في الصدقة هرمة ولا ذات عيب " . وقال الزهري اذا جاء المصدق قسم الشاء اثلاثا ثلث خيار وثلث اوساط وثلث شرار واخذ المصدق من الوسط . ولم يذكر الزهري البقر . وفي الباب عن ابي بكر الصديق وبهز بن حكيم عن ابيه عن جده . وابي ذر وانس . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن . والعمل على هذا الحديث عند عامة الفقهاء . وقد روى يونس بن يزيد وغير واحد عن الزهري عن سالم هذا الحديث ولم يرفعوه وانما رفعه سفيان بن حسين .
৬১৯. যিয়াদ ইবনু আইয়ুব আল-বাগদাদী, ইবরাহীম ইবনু আব্দু্ল্লাহ আল- হিরাবী ও মুহাম্মাদ ইবনু কামিল আল-মারওয়াযী (রহঃ) ..... সালিম তদীয় পিতা ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা-যাকাত সম্পর্কিত একটি পত্র তৈরী করেন এবং সেটি তলোয়ারের সাথে মিলিয়ে সংরক্ষিত করে রাখেন। ইন্তেকাল পর্যন্ত আর তিনি তা বের করে আনেননি। যাকাত সংগ্রহকারী কর্মকর্তাদের জন্য সেটি প্রেরণ করতে পারেননি। তাঁর ইন্তেকালের পর আবূ বকর (রাঃ) ও তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এবং উমার (রাঃ) ও তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এতদ্ অনুসারে আমল করেছেন।
এতে ছিল, উটের ক্ষেত্রে পাঁচটিতে একটি, দশটিতে দু’টি, পনেরটিতে তিনটি, বিশটিতে চারটি ছাগল (যাকাত হিসাবে দিতে হয়)। পঁচিশটি থেকে পয়ত্রিশটি পর্যন্ত উটে একটি বিনত মাখায অর্থাৎ পূর্ণ এক বছর বছসের মাদি উট; এর উর্ধ্বে পয়তাল্লিশটি পর্যন্ত একটি বিনত লাবুন অর্থাৎ পূর্ণ দু’বছর বয়সের মাদি উট; এর উর্ধ্বে ষাটটি পর্যন্ত একটি হিক্কা অর্থাৎ পূর্ণ তিন ব ছর বয়সের মাদি উট; এর উর্ধ্বে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জায়আ’ অর্থাৎ পূর্ণ চার বছর বয়সের একটি মাদি উট (যাকাত হিসাবে দিতে হবে) উটের সংখ্যা আরো বেশী হলে নব্বইটি পর্যন্ত দুটি বিনত লাবূন, আরো বেশি হলে একশ বিশ পর্যন্ত দুটো হিক্কা; আর একশ বিশের উর্ধ্বে প্রতি পঞ্চাশে একটি হিক্কা এবং প্রতি চল্লিশে একটি করে বিনত লাবূন ধার্য হবে।
ছাগলের ক্ষেত্রে একশ বিশটি পর্যন্ত প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে ছাগল প্রদান করতে হবে। এর বেশী হলে দুশ পর্যন্ত দুটো ছাগল। এর বেশী হলে তিনশটি পর্যন্ত তিনটি ছাগল। এর বেশী হলে প্রতি একশটিতে একটি করে ছাগল ধার্য হবে এবং চারশ না হওয়া পর্যন্ত এতে (নতুন) ধার্য হবে না। যাকাতের আশংকায় (বিভিন্ন মালিকানায়) বিচ্ছিন্ন পশুগুলিকে (এক মালিকানাভুক্ত করে) এ একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিতগুলোকে বিছিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের পশুগুলো (যদি একত্রে) থাকে (আর একজন তা দিয়ে দেয় তবে) অতিরিক্ত অংশ পরস্পর থেকে সমানভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আনবে। যাকাতে অতিবৃদ্ধ বা ত্রুটিযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না। - ইবনু মাজাহ ১৭৯৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেনঃ যাকাত সংগ্রহকারী কর্মচারী যখন যাকাত সংগ্রহ করতে আসবে, তিনি পশু গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করবেন। সর্বোত্তম গুলোর একভাগ, মধ্যম ধরনের পশুগুলোর একভাগ আর নিকৃষ্ট গুলোর জন্য একভাগ। পরে তিনি মধ্যম ধরনের পশুগুলো থেকে যাকাতের অংশ গ্রহণ করবেন। রাবী বলেন, ইমাম যুহরী (রহঃ) এই রিওয়ায়াতে গরুর কথা উল্লেখ করেননি। এই বিষয়ে আবূ বকর সিদ্দীক, বাহয ইবনু হাকীম-পিতা-পিতাসহ (রাঃ) থেকে আবূ যার্ ও আনাস (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। সাধারণ ভাবে ফকীহ্গণএই হাদিসটি অনুসারে অভিমত গ্রহণকরেছেন। ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ প্রমুখ যুহরী হতে সালিম (রহঃ) সূত্রে এই হাদিসটি রিওয়ায়াতে করেছেন। কিন্তু তাঁরা মারফূ হিসাবে তা করেননি। কেবল সুফিয়ান ইবনু হুসায়নই এটিকে মারফূ হিসাবে রিওয়ায়াতে করেছেন।
এতে ছিল, উটের ক্ষেত্রে পাঁচটিতে একটি, দশটিতে দু’টি, পনেরটিতে তিনটি, বিশটিতে চারটি ছাগল (যাকাত হিসাবে দিতে হয়)। পঁচিশটি থেকে পয়ত্রিশটি পর্যন্ত উটে একটি বিনত মাখায অর্থাৎ পূর্ণ এক বছর বছসের মাদি উট; এর উর্ধ্বে পয়তাল্লিশটি পর্যন্ত একটি বিনত লাবুন অর্থাৎ পূর্ণ দু’বছর বয়সের মাদি উট; এর উর্ধ্বে ষাটটি পর্যন্ত একটি হিক্কা অর্থাৎ পূর্ণ তিন ব ছর বয়সের মাদি উট; এর উর্ধ্বে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জায়আ’ অর্থাৎ পূর্ণ চার বছর বয়সের একটি মাদি উট (যাকাত হিসাবে দিতে হবে) উটের সংখ্যা আরো বেশী হলে নব্বইটি পর্যন্ত দুটি বিনত লাবূন, আরো বেশি হলে একশ বিশ পর্যন্ত দুটো হিক্কা; আর একশ বিশের উর্ধ্বে প্রতি পঞ্চাশে একটি হিক্কা এবং প্রতি চল্লিশে একটি করে বিনত লাবূন ধার্য হবে।
ছাগলের ক্ষেত্রে একশ বিশটি পর্যন্ত প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে ছাগল প্রদান করতে হবে। এর বেশী হলে দুশ পর্যন্ত দুটো ছাগল। এর বেশী হলে তিনশটি পর্যন্ত তিনটি ছাগল। এর বেশী হলে প্রতি একশটিতে একটি করে ছাগল ধার্য হবে এবং চারশ না হওয়া পর্যন্ত এতে (নতুন) ধার্য হবে না। যাকাতের আশংকায় (বিভিন্ন মালিকানায়) বিচ্ছিন্ন পশুগুলিকে (এক মালিকানাভুক্ত করে) এ একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিতগুলোকে বিছিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের পশুগুলো (যদি একত্রে) থাকে (আর একজন তা দিয়ে দেয় তবে) অতিরিক্ত অংশ পরস্পর থেকে সমানভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আনবে। যাকাতে অতিবৃদ্ধ বা ত্রুটিযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না। - ইবনু মাজাহ ১৭৯৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেনঃ যাকাত সংগ্রহকারী কর্মচারী যখন যাকাত সংগ্রহ করতে আসবে, তিনি পশু গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করবেন। সর্বোত্তম গুলোর একভাগ, মধ্যম ধরনের পশুগুলোর একভাগ আর নিকৃষ্ট গুলোর জন্য একভাগ। পরে তিনি মধ্যম ধরনের পশুগুলো থেকে যাকাতের অংশ গ্রহণ করবেন। রাবী বলেন, ইমাম যুহরী (রহঃ) এই রিওয়ায়াতে গরুর কথা উল্লেখ করেননি। এই বিষয়ে আবূ বকর সিদ্দীক, বাহয ইবনু হাকীম-পিতা-পিতাসহ (রাঃ) থেকে আবূ যার্ ও আনাস (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান। সাধারণ ভাবে ফকীহ্গণএই হাদিসটি অনুসারে অভিমত গ্রহণকরেছেন। ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ প্রমুখ যুহরী হতে সালিম (রহঃ) সূত্রে এই হাদিসটি রিওয়ায়াতে করেছেন। কিন্তু তাঁরা মারফূ হিসাবে তা করেননি। কেবল সুফিয়ান ইবনু হুসায়নই এটিকে মারফূ হিসাবে রিওয়ায়াতে করেছেন।
হাদিস নং: ৬২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبيد المحاربي، وابو سعيد الاشج قالا حدثنا عبد السلام بن حرب، عن خصيف، عن ابي عبيدة، عن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " في ثلاثين من البقر تبيع او تبيعة وفي اربعين مسنة " . وفي الباب عن معاذ بن جبل . قال ابو عيسى هكذا رواه عبد السلام بن حرب عن خصيف وعبد السلام ثقة حافظ . وروى شريك هذا الحديث عن خصيف عن ابي عبيدة عن امه عن عبد الله . وابو عبيدة بن عبد الله لم يسمع من عبد الله .
৬২০. মুহাম্মদ ইবনু উবায়দ আল মুহারিবীও আবূ সাঈদ আল-আশাজ্জ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ত্রিশটি গরুতে একটি পূর্ণ এক বছর বয়স্ক গরু বা গাভী, প্রতি চল্লিশটিতে পূর্ণ দুই বছর বয়স্ক গাভী (যাকাত হিসাবে দিতে হয়)। - ইবনু মাজাহ ১৮০৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ খুসায়ফ (রাঃ) থেকে ও আবদুস্ সালাম ইবনু হারব (রহঃ) এইরূপই বর্ণনা করেছেন। আবদুস সালাম (রহঃ) নির্ভরযোগ্য ও (হাদীছের) হাফিয। শারীক এই হাদিসটিকে খুসায়ফ আবূ উবায়দা সূত্রে তার পিতা থেকে আবদুল্লাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই আবূ উবায়দা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতা থেকে কোন হাদিস শুনেননি।
এই বিষয়ে মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ খুসায়ফ (রাঃ) থেকে ও আবদুস্ সালাম ইবনু হারব (রহঃ) এইরূপই বর্ণনা করেছেন। আবদুস সালাম (রহঃ) নির্ভরযোগ্য ও (হাদীছের) হাফিয। শারীক এই হাদিসটিকে খুসায়ফ আবূ উবায়দা সূত্রে তার পিতা থেকে আবদুল্লাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই আবূ উবায়দা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতা থেকে কোন হাদিস শুনেননি।
হাদিস নং: ৬২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا سفيان، عن الاعمش، عن ابي واىل، عن مسروق، عن معاذ بن جبل، قال بعثني النبي صلى الله عليه وسلم الى اليمن فامرني ان اخذ من كل ثلاثين بقرة تبيعا او تبيعة ومن كل اربعين مسنة ومن كل حالم دينارا او عدله معافر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وروى بعضهم هذا الحديث عن سفيان عن الاعمش عن ابي واىل عن مسروق ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث معاذا الى اليمن فامره ان ياخذ . وهذا اصح .
৬২১. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ...... মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন এবং আমাকে নিদের্শে দেন যে, আমি যেন প্রতি ত্রিশটি গরুতে পূর্ণ এক বছরের একটি ষাঁড় বা গাভী এবং প্রতি চল্লিশটিতে পূর্ণ দুই বছরের একটি গাভী (যাকাত হিসাবে) গ্রহণ করি এবং প্রত্যেক বালিগ ব্যক্তির পক্ষ থেকে এক দ্বীনার বা সমপরিমাণ মা’আফিরী কাপড় (জিযয়া হিসাবে) সংগ্রহ করি। - ইবনু মাজাহ ১৮০৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন,এই হাদিসটি হাসান। কোন কোন রাবী এই হাদিসটিকে সুফিয়ান, আ’মাশ, আবূ ওয়াইল, মাসরূক (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’আয (রাঃ) কে ইয়ামান প্রেরণ করেন এবং তাকে নির্দেশ দেন যেন তিনি গ্রহণ করেন। এই রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন,এই হাদিসটি হাসান। কোন কোন রাবী এই হাদিসটিকে সুফিয়ান, আ’মাশ, আবূ ওয়াইল, মাসরূক (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’আয (রাঃ) কে ইয়ামান প্রেরণ করেন এবং তাকে নির্দেশ দেন যেন তিনি গ্রহণ করেন। এই রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ।
হাদিস নং: ৬২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة قال سالت ابا عبيدة بن عبد الله هل تذكر من عبد الله شيىا قال لا .
৬২২. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... আমর ইবনু মুররা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ উবায়দা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আবদুল্লাহ থেকে কোন বিষয় স্মরণ রাখেন? তিনি বললেন না। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৬২৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، حدثنا زكريا بن اسحاق المكي، حدثنا يحيى بن عبد الله بن صيفي، عن ابي معبد، عن ابن عباس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث معاذا الى اليمن فقال له " انك تاتي قوما اهل كتاب فادعهم الى شهادة ان لا اله الا الله واني رسول الله فان هم اطاعوا لذلك فاعلمهم ان الله افترض عليهم خمس صلوات في اليوم والليلة فان هم اطاعوا لذلك فاعلمهم ان الله افترض عليهم صدقة في اموالهم توخذ من اغنياىهم وترد على فقراىهم فان هم اطاعوا لذلك فاياك وكراىم اموالهم واتق دعوة المظلوم فانها ليس بينها وبين الله حجاب " . وفي الباب عن الصنابحي . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . وابو معبد مولى ابن عباس اسمه نافذ .
৬২৩. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’আয (রাঃ) কে ইয়ামানে পাঠালেন। তখন তিনি তাকে বলেনঃ তুমি কিতাবী এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। তুমি প্রথমে তাদের এই কথার সাক্ষ্য দিতে আহবান জানবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসূল। তারা যদি এই বিষয়ে তোমার আনুগত্য করে তবে তাদের অবহতি করবে যে, আল্লাহ তাদের উপর দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করেছেন। তারা যদি এই বিষয়ে তোমার কথা মেনে নেয় তবে তাদের জানাবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর তাদের সম্পদে যাকাত ফরয করেছেন। তা তাদের ধনীদের থেকে সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের গরীবদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হবে। তারা যদি এতে তোমার আনুগত্য করে তবে তুমি তদের উত্তম মাল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। আর তুমি মাজলূমের দুআ থেকে বেঁচে থাকবে; কেননা আল্লাহ ও তার মাঝে কোন আড়াল নেই। - ইবনু মাজাহ ১৭৮৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সুনবীহ্ (রহঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান- সহীহ। রাবী আবূ মা’বাদ (রাঃ) হলেন ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস। তার নাম নাফিয।
এই বিষয়ে সুনবীহ্ (রহঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান- সহীহ। রাবী আবূ মা’বাদ (রাঃ) হলেন ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস। তার নাম নাফিয।
হাদিস নং: ৬২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن عمرو بن يحيى المازني، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ليس فيما دون خمس ذود صدقة وليس فيما دون خمس اواق صدقة وليس فيما دون خمسة اوسق صدقة " . وفي الباب عن ابي هريرة وابن عمر وجابر وعبد الله بن عمرو .
৬২৪. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ পাঁচটি উটের কমে যাকাত নাই, পাঁচ উকইয়া (এক উকইয়া = ৪০ দিরহাম) এর কম রৌপ্য মুদ্রার যাকাত নাই, পাঁচ ওয়াসাক (এক ওয়াসাক = ৬০সা’) এর কম শস্যের যাকাত নাই। - ইবনু মাজাহ ১৭৯৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ইবনু উমার, জাবিরও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ইবনু উমার, জাবিরও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৬২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، وشعبة، ومالك بن انس، عن عمرو بن يحيى، عن ابيه، عن ابي سعيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو حديث عبد العزيز عن عمرو بن يحيى . قال ابو عيسى حديث ابي سعيد حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عنه . والعمل على هذا عند اهل العلم ان ليس فيما دون خمسة اوسق صدقة . والوسق ستون صاعا وخمسة اوسق ثلاثماىة صاع وصاع النبي صلى الله عليه وسلم خمسة ارطال وثلث وصاع اهل الكوفة ثمانية ارطال . وليس فيما دون خمس اواق صدقة والاوقية اربعون درهما وخمس اواق ماىتا درهم . وليس فيما دون خمس ذود صدقة يعني ليس فيما دون خمس من الابل صدقة فاذا بلغت خمسا وعشرين من الابل ففيها بنت مخاض وفيما دون خمس وعشرين من الابل في كل خمس من الابل شاة .
৬২৫. মুহাম্মদ ইবনু বশশার (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে আবদুল আযীয (রহঃ) আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ। তাঁর থেকে একাধিক সূত্রে হাদিস বর্ণিত আছে। আলিমগণের আমলও এ হাদিস অনুযায়ী যে, পাঁচ ওয়াসাকের কম (কৃষিজ ফসলের) ক্ষেত্রে যাকাত নেই। এক ওয়াসাক হল ষাট সা’। সুতরাং পাঁচ ওয়াসাক হল তিনশ সা’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সা এর পরিমাণ ছিল, পাঁচ রতল ও এক রতলের এক তৃতীয়াংশ। কুফাবাসীদের সা এর পরিমাণ হল আট রতল। পাঁচ উকইয়ার কমে রৌপ্যের যাকাত নেই। এক উকইয়া হল চল্লিশ দিরহাম। পাঁচ উকইয়ায় হয় দুইশ দিরহাম। পাঁচ উট থেকে কম হলে যাকাত নেই। পাঁচিশটি উট হলে এতে একটি বিনত মাখায (এক বছরবয়স্ক মাদী উট) ওয়াজিব হয়। আর পঁচিশটির কমের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচটি উটের উপর একটি বকরী যাকাত আসে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৬২৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء ومحمود بن غيلان قالا حدثنا وكيع، عن سفيان، وشعبة، عن عبد الله بن دينار، عن سليمان بن يسار، عن عراك بن مالك، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ليس على المسلم في فرسه ولا في عبده صدقة " . وفي الباب عن علي وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل عليه عند اهل العلم انه ليس في الخيل الساىمة صدقة ولا في الرقيق اذا كانوا للخدمة صدقة الا ان يكونوا للتجارة فاذا كانوا للتجارة ففي اثمانهم الزكاة اذا حال عليها الحول .
৬২৬. আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু আলা ও মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের ঘোড়া ও দাসের উপর কোন যাকাত নেই। - ইবনু মাজাহ ১৮১২, যইফা ৪০১৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আলা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ্। আমিগণের আমল এই হাদীছের অনুযায়ী যে, সাইমা ঘোড়ার উপর যাকাত নেই। আর খিদমতের জন্যে নিয়োজিত দাস-দাসীদের উপর যাকাত নেই। কিন্তু ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে হলে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে হলে, এক বছর পূর্ণ হলে মূল্যের উপর যাকাত ধার্য হবে।
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আলা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ্। আমিগণের আমল এই হাদীছের অনুযায়ী যে, সাইমা ঘোড়ার উপর যাকাত নেই। আর খিদমতের জন্যে নিয়োজিত দাস-দাসীদের উপর যাকাত নেই। কিন্তু ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে হলে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে হলে, এক বছর পূর্ণ হলে মূল্যের উপর যাকাত ধার্য হবে।
হাদিস নং: ৬২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن ابي سلمة التنيسي، عن صدقة بن عبد الله، عن موسى بن يسار، عن نافع، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " في العسل في كل عشرة ازق زق " . وفي الباب عن ابي هريرة وابي سيارة المتعي وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى حديث ابن عمر في اسناده مقال ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب كبير شيء والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم وبه يقول احمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم ليس في العسل شيء . وصدقة بن عبد الله ليس بحافظ وقد خولف صدقة بن عبد الله في رواية هذا الحديث عن نافع .
৬২৭. মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া নীসাপুরী (রহঃ) .... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি দশ মোশক মধুর মধ্যে এক মোশক (যাকাত)। - ইবনু মাজাহ ১৮২৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবূ সায়্যারা আল- মুতাঈ, আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটির সনদে বিতর্ক রয়েছে। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু বর্ণনা নেই। অধিকাংশ আলিমের আমল এ অনুযায়ী। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এ মত পোষণ করেন। পক্ষান্তরে, কোন কোন উলামার মতে মধুর উপর কোন কিছু (যাকাত) নেই।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবূ সায়্যারা আল- মুতাঈ, আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটির সনদে বিতর্ক রয়েছে। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু বর্ণনা নেই। অধিকাংশ আলিমের আমল এ অনুযায়ী। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এ মত পোষণ করেন। পক্ষান্তরে, কোন কোন উলামার মতে মধুর উপর কোন কিছু (যাকাত) নেই।
হাদিস নং: ৬২৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا هارون بن صالح الطلحي المدني، حدثنا عبد الرحمن بن زيد بن اسلم، عن ابيه، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من استفاد مالا فلا زكاة عليه حتى يحول عليه الحول عند ربه " . وفي الباب عن سراء بنت نبهان الغنوية .
৬২৮. ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) ...... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেনঃ যদি বছরের মাঝে কারো সম্পদ লাভ হয়, তবে উক্ত মালিকের নিকট বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে যাকাত নেই। - ইবনু মাজাহ ১৭৯২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সারা বিনত নাবহান আল-গানাবিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
এই বিষয়ে সারা বিনত নাবহান আল-গানাবিয়্যা (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৬২৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، حدثنا ايوب، عن نافع، عن ابن عمر، قال من استفاد مالا فلا زكاة فيه حتى يحول عليه الحول عند ربه . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث عبد الرحمن بن زيد بن اسلم . قال ابو عيسى وروى ايوب وعبيد الله بن عمر وغير واحد عن نافع عن ابن عمر موقوفا . وعبد الرحمن بن زيد بن اسلم ضعيف في الحديث ضعفه احمد بن حنبل وعلي بن المديني وغيرهما من اهل الحديث وهو كثير الغلط . وقد روي عن غير واحد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ان لا زكاة في المال المستفاد حتى يحول عليه الحول . وبه يقول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم اذا كان عنده مال تجب فيه الزكاة ففيه الزكاة وان لم يكن عنده سوى المال المستفاد ما تجب فيه الزكاة لم يجب عليه في المال المستفاد زكاة حتى يحول عليه الحول فان استفاد مالا قبل ان يحول عليه الحول فانه يزكي المال المستفاد مع ماله الذي وجبت فيه الزكاة . وبه يقول سفيان الثوري واهل الكوفة .
৬২৯. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) .... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারো যদি বছরের মাঝে সম্পদ লাভ হয় তবে এই মালিকের নিকট বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাতে যাকাত ধার্য হবে না। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আব্দুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম (রাঃ) বর্ণিত রিওয়াতটির তুলনায় এই রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ্। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আইয়ুব, উবায়দুল্লাহ প্রমুখ এ হাদিসকে নাফি’ (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) এর সনদে মাওকূফরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম হাদীছের ক্ষেত্রে যঈফ। আহমাদ বি্ন হাম্বল, আলী ইবনু আল-মাদীনী (রাঃ) প্রমুখ হাদিস বিশারদ তাকে যঈফ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বহু ভুল করে থাকেন। একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত, বছরের মাঝে প্রাপ্ত সম্পদে যাকাত নেই। এ হল ইমাম মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বল ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেন, যদি কারো কাছে পূর্ব থেকেই যাকাত ধার্য হওয়ার মত পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে বছরের মাঝে প্রাপ্ত এই সম্পদেও যাকাত ধার্য হবে। আর যদি বছরের মাঝে প্রাপ্ত সম্পদ ছাড়া এমন কোন সম্পদ তার না থাকে যতটুকুতে যাকাত ধার্য হতে পারে তবে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই যদি কারো সম্পদ প্রাপ্তি ঘটে তবে তার যে সমস্ত সম্পদে (পূর্ব থেকেই) যাকাত ছিল সেই সম্পদের সাথে যোগ করে প্রাপ্ত এই সম্পদেরও যাকাত তাকে দিতে হবে। এ হল সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
আব্দুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম (রাঃ) বর্ণিত রিওয়াতটির তুলনায় এই রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ্। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আইয়ুব, উবায়দুল্লাহ প্রমুখ এ হাদিসকে নাফি’ (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) এর সনদে মাওকূফরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম হাদীছের ক্ষেত্রে যঈফ। আহমাদ বি্ন হাম্বল, আলী ইবনু আল-মাদীনী (রাঃ) প্রমুখ হাদিস বিশারদ তাকে যঈফ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বহু ভুল করে থাকেন। একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত, বছরের মাঝে প্রাপ্ত সম্পদে যাকাত নেই। এ হল ইমাম মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বল ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেন, যদি কারো কাছে পূর্ব থেকেই যাকাত ধার্য হওয়ার মত পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে বছরের মাঝে প্রাপ্ত এই সম্পদেও যাকাত ধার্য হবে। আর যদি বছরের মাঝে প্রাপ্ত সম্পদ ছাড়া এমন কোন সম্পদ তার না থাকে যতটুকুতে যাকাত ধার্য হতে পারে তবে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই যদি কারো সম্পদ প্রাপ্তি ঘটে তবে তার যে সমস্ত সম্পদে (পূর্ব থেকেই) যাকাত ছিল সেই সম্পদের সাথে যোগ করে প্রাপ্ত এই সম্পদেরও যাকাত তাকে দিতে হবে। এ হল সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
হাদিস নং: ৬৩০
যঈফ (Dai'f)
حدثنا يحيى بن اكثم، حدثنا جرير، عن قابوس بن ابي ظبيان، عن ابيه، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تصلح قبلتان في ارض واحدة وليس على المسلمين جزية " .
৬৩০. ইয়াহইয়া ইবনু আকসাম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একই দেশে (আরবে) দুই কিবলার সুযোগ পাবে না আর মুসলিমদের উপর জিযয়া নেই। - ইরওয়া ১২৪৪, যইফা ৪৩৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৬৩১
যঈফ (Dai'f)
حدثنا ابو كريب، حدثنا جرير، عن قابوس، بهذا الاسناد نحوه . وفي الباب عن سعيد بن زيد، وجد حرب بن عبيد الله الثقفي . قال ابو عيسى حديث ابن عباس قد روي عن قابوس بن ابي ظبيان، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . والعمل على هذا عند عامة اهل العلم ان النصراني اذا اسلم وضعت عنه جزية رقبته . وقول النبي صلى الله عليه وسلم " ليس على المسلمين عشور " انما يعني به جزية الرقبة وفي الحديث ما يفسر هذا حيث قال " انما العشور على اليهود والنصارى وليس على المسلمين عشور " .
৬৩১. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... কাবুস (রহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। - জামে সাগীর ২০৫০, মিশকাত ৪০৩৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সাঈদ ইবনু যায়িদ এবং হারব ইবনু উবায়দুল্লাহ সাকাফীর পিতামহ (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ইসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি কাবুস ইবনু আবূ যাবিয়ান তাঁর পিতা আবূ যাবিয়ান সুত্রে মুরসালরূপেও বর্ণিত আছে। সাধারণভাবে আলিমগণ এই হাদিস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা বলেন, কোন খৃষ্টান ব্যক্তি যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার থেকে জিয্য়া রহিত হয়ে যাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীঃ মুসলিমদের উপর ’’জিয্য়া উশর’’ ধার্য হয় না। এখানে ’’জিয্য়া উশর’’ অর্থ বা ব্যক্তির উপর ধার্য জিয্য়া হাদীছে এই ব্যাখ্যার ইঙ্গিতও বিদ্যমান। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ উশর ধার্য হয় ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের উপর, মুসলিমদের উপর উশর নেই।
এই বিষয়ে সাঈদ ইবনু যায়িদ এবং হারব ইবনু উবায়দুল্লাহ সাকাফীর পিতামহ (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ইসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি কাবুস ইবনু আবূ যাবিয়ান তাঁর পিতা আবূ যাবিয়ান সুত্রে মুরসালরূপেও বর্ণিত আছে। সাধারণভাবে আলিমগণ এই হাদিস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা বলেন, কোন খৃষ্টান ব্যক্তি যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার থেকে জিয্য়া রহিত হয়ে যাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীঃ মুসলিমদের উপর ’’জিয্য়া উশর’’ ধার্য হয় না। এখানে ’’জিয্য়া উশর’’ অর্থ বা ব্যক্তির উপর ধার্য জিয্য়া হাদীছে এই ব্যাখ্যার ইঙ্গিতও বিদ্যমান। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ উশর ধার্য হয় ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের উপর, মুসলিমদের উপর উশর নেই।
হাদিস নং: ৬৩২
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي واىل، عن عمرو بن الحارث بن المصطلق، عن ابن اخي، زينب امراة عبد الله عن زينب، امراة عبد الله بن مسعود قالت خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " يا معشر النساء تصدقن ولو من حليكن فانكن اكثر اهل جهنم يوم القيامة " .
৬৩২. হান্নাদ .... আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহআ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে খুতবা দিলেন এবং বললেনঃ হে নারী সমাজ! তোমরা সাদাকা দাও, তোমাদের অলংকার থেকে হলেও। কারণ কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের মধ্যে তোমরাই হবে অধিক। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৬৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، عن شعبة، عن الاعمش، قال سمعت ابا واىل، يحدث عن عمرو بن الحارث ابن اخي، زينب امراة عبد الله - عن زينب، - امراة عبد الله - عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث ابي معاوية وابو معاوية وهم في حديثه فقال عن عمرو بن الحارث عن ابن اخي زينب . والصحيح انما هو عن عمرو بن الحارث ابن اخي زينب . وقد روي عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم انه راى في الحلي زكاة . وفي اسناد هذا الحديث مقال . واختلف اهل العلم في ذلك فراى بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين في الحلي زكاة ما كان منه ذهب وفضة . وبه يقول سفيان الثوري وعبد الله بن المبارك . وقال بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منهم ابن عمر وعاىشة وجابر بن عبد الله وانس بن مالك ليس في الحلي زكاة . وهكذا روي عن بعض فقهاء التابعين وبه يقول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق .
৬৩৩. মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ...... আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, আবূ মুআবিয়া (রাঃ) এর রিওয়ায়াত থেকে এটি অধিকতর সহীহ্। আবূ মুআবিয়া তাঁর রিওয়ায়েতে সন্দেহে পতিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমর ইবনু হারিস যায়নাবেরভ্রাতুষ্পুত্র থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। অথচ বিশুদ্ধ হল আমর ইবনু হারিস যায়নাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আমর ইবনু শুআয়ব তার পিতামহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি অলংকারের যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তাঁর এই সনদে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী ও তাবিঈ বলেন, সোনা ও রূপার অলংকার হলে তার উপর যাকাত রয়েছে। এ হল সুফিয়ান সাওরী এবং আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) এর অভিমত। ইবনু উমার, আয়িশা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সহ কতক সাহাবীর অভিমত হল যে, অলংকারে যাকাত নেই। তাবিঈদের মধ্যে কোন কোন ফকীহ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমতও এ-ই।
ইমাম আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, আবূ মুআবিয়া (রাঃ) এর রিওয়ায়াত থেকে এটি অধিকতর সহীহ্। আবূ মুআবিয়া তাঁর রিওয়ায়েতে সন্দেহে পতিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমর ইবনু হারিস যায়নাবেরভ্রাতুষ্পুত্র থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। অথচ বিশুদ্ধ হল আমর ইবনু হারিস যায়নাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আমর ইবনু শুআয়ব তার পিতামহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি অলংকারের যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তাঁর এই সনদে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী ও তাবিঈ বলেন, সোনা ও রূপার অলংকার হলে তার উপর যাকাত রয়েছে। এ হল সুফিয়ান সাওরী এবং আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) এর অভিমত। ইবনু উমার, আয়িশা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সহ কতক সাহাবীর অভিমত হল যে, অলংকারে যাকাত নেই। তাবিঈদের মধ্যে কোন কোন ফকীহ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমতও এ-ই।
হাদিস নং: ৬৩৪
হাসান (Hasan)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابن لهيعة، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، ان امراتين، اتتا رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي ايديهما سواران من ذهب فقال لهما " اتوديان زكاته " . قالتا لا . قال فقال لهما رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتحبان ان يسوركما الله بسوارين من نار " . قالتا لا . قال " فاديا زكاته " . قال ابو عيسى وهذا حديث قد رواه المثنى بن الصباح عن عمرو بن شعيب نحو هذا . والمثنى بن الصباح وابن لهيعة يضعفان في الحديث ولا يصح في هذا الباب عن النبي صلى الله عليه وسلم شيء .
৬৩৪. কুতায়বা (রহঃ) ...... আমর ইবনু শুআয়ব তার পিতা-পিতাসহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, একবার দুজন মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসে। তাদের হাতে ছিল সোনার দুটি কঙ্কন। তিনি তাদের বললেনঃ তোমরা কি এর যাকাত আদায় করে থাক? তারা বললঃ না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমরা কি পছন্দ কর যে, তোমাদের হাতে আল্লাহ তা’আলা আগুনের দুটি কঙ্কন পরিয়ে দিবেন? তারা বললঃ না। তিনি বললেনঃ তা হলে তোমরা এর যাকাত দিবে। - অন্য শব্দে হাদিসটি হাসান, ইরওয়া ৩/২৯৬, মিশকাত ১৮০৯, সহিহ আবু দাউদ ১৩৯৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, মূসান্না ইবনুুস সাববাহ (রহঃ) এই হাদিসটি আমর ইবনু শুআয়ব (রহঃ) এর বরাতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মূসান্না ইবনু সাববাহ এবং ইবনু লাহীআ উভয় হাদীছের ক্ষেত্রে যঈফ। মোটকথা, এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন সহীহ রিওয়ায়াত নেই।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, মূসান্না ইবনুুস সাববাহ (রহঃ) এই হাদিসটি আমর ইবনু শুআয়ব (রহঃ) এর বরাতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মূসান্না ইবনু সাববাহ এবং ইবনু লাহীআ উভয় হাদীছের ক্ষেত্রে যঈফ। মোটকথা, এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন সহীহ রিওয়ায়াত নেই।
হাদিস নং: ৬৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن خشرم، اخبرنا عيسى بن يونس، عن الحسن بن عمارة، عن محمد بن عبد الرحمن بن عبيد، عن عيسى بن طلحة، عن معاذ، انه كتب الى النبي صلى الله عليه وسلم يساله عن الخضروات وهي البقول فقال " ليس فيها شيء " . قال ابو عيسى اسناد هذا الحديث ليس بصحيح وليس يصح في هذا الباب عن النبي صلى الله عليه وسلم شيء وانما يروى هذا عن موسى بن طلحة عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . والعمل على هذا عند اهل العلم ان ليس في الخضروات صدقة . قال ابو عيسى والحسن هو ابن عمارة وهو ضعيف عند اهل الحديث ضعفه شعبة وغيره وتركه عبد الله بن المبارك .
৬৩৫. আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ...... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে,তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শাক-সবজি অর্থাৎ তরিতরকারী (এর যাকাত) সম্পর্কে জানতে চেয়ে পত্র লিখেছেলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেছিলেনঃ এতে কিছু নেই। - ইরওয়া ৩/২৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটির সনদ সহীহ্ নয়। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ্ কিছু বর্ণিত নেই। এই রিওয়ায়াতটি মূসা ইবনু তালহা (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসাবে বর্ণিত আছে। এই হাদিস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, শাক- সবজির কোন যাকাত নেই। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, রাবী হাসান হলেন, ইবনু উমারা। হাদীসবেত্তাগণের দৃষ্টিতে তিনি যঈফ। শু’বা (রহঃ) প্রমূখ তাঁকে যঈফ বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) তাকে বর্জন করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটির সনদ সহীহ্ নয়। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ্ কিছু বর্ণিত নেই। এই রিওয়ায়াতটি মূসা ইবনু তালহা (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসাবে বর্ণিত আছে। এই হাদিস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, শাক- সবজির কোন যাকাত নেই। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, রাবী হাসান হলেন, ইবনু উমারা। হাদীসবেত্তাগণের দৃষ্টিতে তিনি যঈফ। শু’বা (রহঃ) প্রমূখ তাঁকে যঈফ বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) তাকে বর্জন করেছেন।
হাদিস নং: ৬৩৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو موسى الانصاري، حدثنا عاصم بن عبد العزيز المدني، حدثنا الحارث بن عبد الرحمن بن ابي ذباب، عن سليمان بن يسار، وبسر بن سعيد، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فيما سقت السماء والعيون العشر وفيما سقي بالنضح نصف العشر " . قال وفي الباب عن انس بن مالك وابن عمر وجابر . قال ابو عيسى وقد روي هذا الحديث عن بكير بن عبد الله بن الاشج عن سليمان بن يسار وبسر بن سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . وكان هذا اصح . وقد صح حديث ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب وعليه العمل عند عامة الفقهاء .
৬৩৬. আবূ মূসা আল-আনসারী (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ বৃষ্টি ও ঝর্ণার পানি দিয়ে যা উৎপাদিত হয় তাতে হল উশর (দশ ভাগের এক ভাগ) এবং সেচের মাধ্যমে যা উৎপাদিত হয় তাতে হল নিসফ উশর (বিশ ভাগের এক ভাগ)। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আনাস ইবনু মালিক, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি বুকায়র ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আশাজ্জ এবং সুলায়মান ইবনু ইয়াসার ও বুসর ইবনু সাঈদ (রহঃ) এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসাবে বর্ণিত আছে। এই হাদিসটি অধিকতর সহীহ্। এই বিষয়ে ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদিস বর্ণিত আছে। অধিকাংশ ফকীহগণের আমল এই হাদীছের অনুসারে রয়েছে।
এই বিষয়ে আনাস ইবনু মালিক, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি বুকায়র ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আশাজ্জ এবং সুলায়মান ইবনু ইয়াসার ও বুসর ইবনু সাঈদ (রহঃ) এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসাবে বর্ণিত আছে। এই হাদিসটি অধিকতর সহীহ্। এই বিষয়ে ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদিস বর্ণিত আছে। অধিকাংশ ফকীহগণের আমল এই হাদীছের অনুসারে রয়েছে।
হাদিস নং: ৬৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن الحسن، حدثنا سعيد بن ابي مريم، حدثنا ابن وهب، حدثني يونس، عن ابن شهاب، عن سالم، عن ابيه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه سن فيما سقت السماء والعيون او كان عثريا العشر وفيما سقي بالنضح نصف العشر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৬৩৭. আহমাদ ইবনু হাসান (রহঃ) .... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির, ঝর্ণার বা নালার পানি দ্বারা যা উৎপাদিত হয় তার উপর ’উশর’ ধার্য করেছেন। আর সেচের মাধ্যমে যা উৎপাদিত হয় তার উপর ’নিসফ’ উশর। - ইবনু মাজাহ ১৮১৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ্।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ্।
হাদিস নং: ৬৩৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا ابراهيم بن موسى، حدثنا الوليد بن مسلم، عن المثنى بن الصباح، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، ان النبي صلى الله عليه وسلم خطب الناس فقال " الا من ولي يتيما له مال فليتجر فيه ولا يتركه حتى تاكله الصدقة " . قال ابو عيسى وانما روي هذا الحديث من هذا الوجه وفي اسناده مقال لان المثنى بن الصباح يضعف في الحديث . وروى بعضهم هذا الحديث عن عمرو بن شعيب ان عمر بن الخطاب . فذكر هذا الحديث . وقد اختلف اهل العلم في هذا الباب فراى غير واحد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في مال اليتيم زكاة . منهم عمر وعلي وعاىشة وابن عمر وبه يقول مالك والشافعي واحمد واسحاق . وقالت طاىفة من اهل العلم ليس في مال اليتيم زكاة . وبه يقول سفيان الثوري وعبد الله بن المبارك . وعمرو بن شعيب هو ابن محمد بن عبد الله بن عمرو بن العاص وشعيب قد سمع من جده عبد الله بن عمرو . وقد تكلم يحيى بن سعيد في حديث عمرو بن شعيب وقال هو عندنا واه . ومن ضعفه فانما ضعفه من قبل انه يحدث من صحيفة جده عبد الله بن عمرو واما اكثر اهل الحديث فيحتجون بحديث عمرو بن شعيب ويثبتونه منهم احمد واسحاق وغيرهما .
৬৩৮. মুহাম্মদ ইসমাঈল (রহঃ) .... আমর ইবনু শুআয়ব তৎপিতা পিতামহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিলেন। তাতে বললেনঃ শুনে রাখ! কেউ যদি কোন ইয়াতীমের সম্পদের মুতাওয়াল্লী হয়, সে যেন তার ব্যবসায়ে নিয়োগ করে। যাকাত দিতে দিতে তা শেষ হয়ে এই অবস্থায় যেন ছেড়ে না রাখে। - ইরওয়া ৭৮৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সনদে হাদিসটি বর্ণিত আছে, কিন্তু এর সনদ সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে। কেননা মূসান্না ইবনুস সাববাহ হাদীছে যঈফ। কেউ কেউ হাদিসটি আমর ইবনু শুআয়ব থেকে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। উমার, আলী, আয়িশা, ইবনু উমার (রাঃ) সহ কতক সাহাবী ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত ধার্য হয় বলে মত পোষণ করেন। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাঃ) এর বক্তব্য এ-ই। আলিমদের একদল বলেন, ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত নেই। এ হল সুফিয়ান সাওরী ও আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ)-এর অভিমত।
আমর ইবনু শুআয়বের বংশ তালিকা হলো ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর ইবনু আস রাদিয়াল্লাহু আনহু। শু’আয়ব তাঁর পিতামহ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে হাদিস শুনেছেন। আমর ইবনু শুআয়ব (রাঃ) এর রিওয়ায়াতগুলো সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের মতে এগুলো হলো ভিত্তিহীন। যা হোক তাঁকে যঈফ বলার কারণ হলো, তিনি তার পিতামহ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) এর সহীফা (পান্ডুলিপি) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন (সরাসরি শুনে নয়)। তবে ইমাম আহমাদ, ইসহাক প্রমুখ সহ অধিকাংশ হাদিস বিশারদ আমর ইবনু শুআয়ব (রহঃ)-এর হাদিস প্রামাণ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকেন এবং তারা সেগুলো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সনদে হাদিসটি বর্ণিত আছে, কিন্তু এর সনদ সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে। কেননা মূসান্না ইবনুস সাববাহ হাদীছে যঈফ। কেউ কেউ হাদিসটি আমর ইবনু শুআয়ব থেকে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। উমার, আলী, আয়িশা, ইবনু উমার (রাঃ) সহ কতক সাহাবী ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত ধার্য হয় বলে মত পোষণ করেন। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাঃ) এর বক্তব্য এ-ই। আলিমদের একদল বলেন, ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত নেই। এ হল সুফিয়ান সাওরী ও আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ)-এর অভিমত।
আমর ইবনু শুআয়বের বংশ তালিকা হলো ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর ইবনু আস রাদিয়াল্লাহু আনহু। শু’আয়ব তাঁর পিতামহ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে হাদিস শুনেছেন। আমর ইবনু শুআয়ব (রাঃ) এর রিওয়ায়াতগুলো সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের মতে এগুলো হলো ভিত্তিহীন। যা হোক তাঁকে যঈফ বলার কারণ হলো, তিনি তার পিতামহ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) এর সহীফা (পান্ডুলিপি) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন (সরাসরি শুনে নয়)। তবে ইমাম আহমাদ, ইসহাক প্রমুখ সহ অধিকাংশ হাদিস বিশারদ আমর ইবনু শুআয়ব (রহঃ)-এর হাদিস প্রামাণ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকেন এবং তারা সেগুলো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন।