হাদিস নং: ৫৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد بن السري، حدثنا عبدة بن سليمان، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، انه استغيث على بعض اهله فجد به السير فاخر المغرب حتى غاب الشفق ثم نزل فجمع بينهما ثم اخبرهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يفعل ذلك اذا جد به السير . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وحديث الليث عن يزيد بن ابي حبيب حديث حسن صحيح .
৫৫৫. হান্নাদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার তাঁর পরিবারের জনৈক সদস্যের বিপদে সাড়া দিতে গিয়ে তাঁকে দ্রুত সফরে যেতে হয়েছিল। তখন তিনি মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে এত বিলম্ব করলেন যে, শাফক (সূর্যাস্তের পরবর্তী লালিমা) অস্তমিত হয়ে গেল। পরে তিনি সওয়ারী থেকে নেমে এশা ও মাগীরব একত্রে মিলিয়ে আদায় করলেন এবং বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখন সফরে তাড়াহুড়া থাকত, তখন এইরূপ করতেন। - সহিহ আবু দাউদ ১০৯০, বুখারি ও মুসলিম মারফুরূপে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াযীদ সূত্রে লায়স (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটিও হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াযীদ সূত্রে লায়স (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটিও হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৫৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن عباد بن تميم، عن عمه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج بالناس يستسقي فصلى بهم ركعتين جهر بالقراءة فيهما وحول رداءه ورفع يديه واستسقى واستقبل القبلة . قال وفي الباب عن ابن عباس وابي هريرة وانس وابي اللحم . قال ابو عيسى حديث عبد الله بن زيد حديث حسن صحيح . وعلى هذا العمل عند اهل العلم وبه يقول الشافعي واحمد واسحاق . وعم عباد بن تميم هو عبد الله بن زيد بن عاصم المازني .
৫৫৬. ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) ..... আব্বাদ ইবনু তামীম তার চাচা আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজন সহ ইস্তিসকার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তদের নিয়ে দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এতে তিনি সশব্দে কিরাআত পাঠ করেছিলেন। পরে তিনি তার চাঁদর উল্টিয়ে পরলেন ও দুই হাত তুলে কিবলামূখী হয়ে ইস্তিস্কার (বৃষ্টির জন্য) দু’আ করলেন। - ইবনু মাজাহ ১২৬৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, আনাস এবং আবিল লাহম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করার অভিমত গ্রহণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকেরও এই অভিমত। আব্বাস ইবনু তামীমের চাচার নাম হ’ল আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম আল-মাযিনী।
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, আনাস এবং আবিল লাহম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করার অভিমত গ্রহণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকেরও এই অভিমত। আব্বাস ইবনু তামীমের চাচার নাম হ’ল আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম আল-মাযিনী।
হাদিস নং: ৫৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث بن سعد، عن خالد بن يزيد، عن سعيد بن ابي هلال، عن يزيد بن عبد الله، عن عمير، مولى ابي اللحم عن ابي اللحم، انه راى رسول الله صلى الله عليه وسلم عند احجار الزيت يستسقي وهو مقنع بكفيه يدعو . قال ابو عيسى كذا قال قتيبة في هذا الحديث عن ابي اللحم ولا نعرف له عن النبي صلى الله عليه وسلم الا هذا الحديث الواحد وعمير مولى ابي اللحم قد روى عن النبي صلى الله عليه وسلم احاديث وله صحبة .
৫৫৭. কুতায়বা (রহঃ) .... আবিল লাহম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি (মদীনার) আহজারুয্ যায়ত নামক স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইস্তিসকা আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তখন তাঁর দু’হাত তুলে দু’আ করছিলেন। - সহিহ আবু দাউদ ১০৬৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ কুতায়বা (রহঃ) এই হাদীসটিকে আবীল্ লাহম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর এই একটি রিওয়ায়াত ছাড়া অন্য কোন রিওয়ায়াত আছে বলে আমরা জানি না। এই আবূল লাহম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাওলা বা আযাদকৃত দাস উমায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু হাদীস বর্ণিত আছে। তিনিও সাহাবী ছিলেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ কুতায়বা (রহঃ) এই হাদীসটিকে আবীল্ লাহম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর এই একটি রিওয়ায়াত ছাড়া অন্য কোন রিওয়ায়াত আছে বলে আমরা জানি না। এই আবূল লাহম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাওলা বা আযাদকৃত দাস উমায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু হাদীস বর্ণিত আছে। তিনিও সাহাবী ছিলেন।
হাদিস নং: ৫৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا حاتم بن اسماعيل، عن هشام بن اسحاق، وهو ابن عبد الله بن كنانة عن ابيه، قال ارسلني الوليد بن عقبة وهو امير المدينة الى ابن عباس اساله عن استسقاء، رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتيته فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج متبذلا متواضعا متضرعا حتى اتى المصلى فلم يخطب خطبتكم هذه ولكن لم يزل في الدعاء والتضرع والتكبير وصلى ركعتين كما كان يصلي في العيد . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৫৫৮. কুতায়বা (রহঃ) .... ইসহাক ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু কিনানা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ মদীনার আমীর ওয়ালীদ ইবনু উকবা আমাকে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইস্তিসকা সম্পর্কে জানতে পাঠিয়েছিলেন। আমি তার নিকট এসে তা জানতে চাইলে তিনি বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উদ্দেশ্যে অতি সাধারণ বেশে, বিনীত ভঙ্গীতে, রোনাযারীর সাথে ঘর থেকে বের হতেন, সালাত (নামায/নামাজ) গাহে আসতেন। তোমাদের মত এই ধরনের খুতবা দিতেন না; বরং দু’আ, রোনাযারী ও তাকবীর-এ ব্যস্ত থাকতেন। ঈদের সালাতের মত দুই রাকআত (ইস্তিসকার)-সালাত আদায় করতেন। - ইবনু মাজাহ ১২৬৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ।
হাদিস নং: ৫৫৯
হাসান (Hasan)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن هشام بن اسحاق بن عبد الله بن كنانة، عن ابيه، فذكر نحوه وزاد فيه متخشعا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وهو قول الشافعي قال يصلي صلاة الاستسقاء نحو صلاة العيدين يكبر في الركعة الاولى سبعا وفي الثانية خمسا واحتج بحديث ابن عباس . قال ابو عيسى وروي عن مالك بن انس انه قال لا يكبر في صلاة الاستسقاء كما يكبر في صلاة العيدين . وقال النعمان ابو حنيفة لا تصلى صلاة الاستسقاء ولا امرهم بتحويل الرداء ولكن يدعون ويرجعون بجملتهم . قال ابو عيسى خالف السنة .
৫৫৯. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু কিনানাহ্ (রহঃ) অনূরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এতে مُتَخَشِّعًا (খুশূ-খুযূ সহকারে)-শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রহঃ)-এর অভিমতও এইরূপ। তিনি বলেন, সালাতুল ঈদায়নের মত ইস্তিস্কা-এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হবে। এতে প্রথম রাকআতে সাতবার এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচবার তাকবীর বলা হবে। তিনি ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, সালাতুল ঈদায়নের তাকবীরের মত সালাতুল ইসতিসকায় কোন তাকবীর নেই। আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ তিনি সুন্নাতের বিপরীত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রহঃ)-এর অভিমতও এইরূপ। তিনি বলেন, সালাতুল ঈদায়নের মত ইস্তিস্কা-এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হবে। এতে প্রথম রাকআতে সাতবার এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচবার তাকবীর বলা হবে। তিনি ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, সালাতুল ঈদায়নের তাকবীরের মত সালাতুল ইসতিসকায় কোন তাকবীর নেই। আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ তিনি সুন্নাতের বিপরীত করেছেন।
হাদিস নং: ৫৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن سفيان، عن حبيب بن ابي ثابت، عن طاوس، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه صلى في كسوف فقرا ثم ركع ثم قرا ثم ركع ثم قرا ثم ركع ثلاث مرات ثم سجد سجدتين والاخرى مثلها . قال وفي الباب عن علي وعاىشة وعبد الله بن عمرو والنعمان بن بشير والمغيرة بن شعبة وابي مسعود وابي بكرة وسمرة وابي موسى الاشعري وابن مسعود واسماء بنت ابي بكر الصديق وابن عمر وقبيصة الهلالي وجابر بن عبد الله وعبد الرحمن بن سمرة وابى بن كعب . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . وقد روي عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم انه صلى في كسوف اربع ركعات في اربع سجدات . وبه يقول الشافعي واحمد واسحاق . قال واختلف اهل العلم في القراءة في صلاة الكسوف فراى بعض اهل العلم ان يسر بالقراءة فيها بالنهار . وراى بعضهم ان يجهر بالقراءة فيها كنحو صلاة العيدين والجمعة وبه يقول مالك واحمد واسحاق يرون الجهر فيها . وقال الشافعي لا يجهر فيها . وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم كلتا الروايتين صح عنه انه صلى اربع ركعات في اربع سجدات . وصح عنه ايضا انه صلى ست ركعات في اربع سجدات . وهذا عند اهل العلم جاىز على قدر الكسوف ان تطاول الكسوف فصلى ست ركعات في اربع سجدات فهو جاىز وان صلى اربع ركعات في اربع سجدات واطال القراءة فهو جاىز . ويرون اصحابنا ان تصلى صلاة الكسوف في جماعة في كسوف الشمس والقمر .
৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুসূফের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এতে তিনি কিরাআত পাঠ এবং রুকূ করলেন। এরপর দুই সিজদা দিলেন। পরবর্তী রাকআতও তদ্রূপভাবে আদায় করলেন। - সহিহ আবু দাউদ ১০৭২, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, আয়িশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, নু’মান ইবনু বাশীর, মুগীরা ইবনু শু’বা, আবূ মাসঊদ, আবূ বকরা, সামুরা ইবনু জুনদুব, ইবনু মাসঊদ, আসমা বিনতে আবী বাকর, ইবনু উমর, কাবীসা আল-হিলালী, জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, আব্দুর রহমান ইবনু সামুরা এবং উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার সিজদায় চার রাকআত কুসূফ সালাত আদায় করেছেন। এ হ’ল ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর বক্তব্য।
সালাতুল কুসূফের কিরাআত সম্পর্কে আলিমদের মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, দিনে সালাতের রীতি অনুসারে এতে অনুচ্চ স্বরে কিরাআত পাঠ করা হবে। আর কতক আলিম বলেন, সালাতুল ঈদায়ন ও জুমুআর মত এতে কিরাআত পাঠ করতে হবে। এ’হল ইমাম মালিক, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এর বক্তব্য। তারা এতে সশব্দে কিরাআত পাঠ করতে হবে বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, এতে সশব্দে কিরাআত হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উভয় ধরনের রিওয়ায়াত সহীহ সনদে প্রমাণিত আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তিনি চার সিজদায় চার রাক’আত কুসূফ সালাত আদায় করেছেন।
আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি চার সিজদায় ছয় রাকআত সালাতুল কুসূফ আদায় করেছেন। কুফূফ বা সূর্য গ্রহণের সময়ের পরিমাণ অনুসারে আলিমদের নিকট তদ্রূপ সালাত জায়েয আছে। আর যদি কুসূফ চার সিজদায় চার রাক’আত আদায় করে এবং কিরা’আত দীর্ঘ করে তবে তা-ও জায়েজ আছে। আমাদের ইমামগণ সূর্য গ্রহণ হোক বা চন্দ্র গ্রহণ, উভয় সালাতই জামাআতে আদায় করতে হবে বলে মনে করেন।
এই বিষয়ে আলী, আয়িশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, নু’মান ইবনু বাশীর, মুগীরা ইবনু শু’বা, আবূ মাসঊদ, আবূ বকরা, সামুরা ইবনু জুনদুব, ইবনু মাসঊদ, আসমা বিনতে আবী বাকর, ইবনু উমর, কাবীসা আল-হিলালী, জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, আব্দুর রহমান ইবনু সামুরা এবং উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার সিজদায় চার রাকআত কুসূফ সালাত আদায় করেছেন। এ হ’ল ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর বক্তব্য।
সালাতুল কুসূফের কিরাআত সম্পর্কে আলিমদের মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, দিনে সালাতের রীতি অনুসারে এতে অনুচ্চ স্বরে কিরাআত পাঠ করা হবে। আর কতক আলিম বলেন, সালাতুল ঈদায়ন ও জুমুআর মত এতে কিরাআত পাঠ করতে হবে। এ’হল ইমাম মালিক, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এর বক্তব্য। তারা এতে সশব্দে কিরাআত পাঠ করতে হবে বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, এতে সশব্দে কিরাআত হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উভয় ধরনের রিওয়ায়াত সহীহ সনদে প্রমাণিত আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তিনি চার সিজদায় চার রাক’আত কুসূফ সালাত আদায় করেছেন।
আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি চার সিজদায় ছয় রাকআত সালাতুল কুসূফ আদায় করেছেন। কুফূফ বা সূর্য গ্রহণের সময়ের পরিমাণ অনুসারে আলিমদের নিকট তদ্রূপ সালাত জায়েয আছে। আর যদি কুসূফ চার সিজদায় চার রাক’আত আদায় করে এবং কিরা’আত দীর্ঘ করে তবে তা-ও জায়েজ আছে। আমাদের ইমামগণ সূর্য গ্রহণ হোক বা চন্দ্র গ্রহণ, উভয় সালাতই জামাআতে আদায় করতে হবে বলে মনে করেন।
হাদিস নং: ৫৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الملك بن ابي الشوارب، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة، انها قالت خسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس فاطال القراءة ثم ركع فاطال الركوع ثم رفع راسه فاطال القراءة وهي دون الاولى ثم ركع فاطال الركوع وهو دون الاول ثم رفع راسه فسجد ثم فعل مثل ذلك في الركعة الثانية . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح . وبهذا الحديث يقول الشافعي واحمد واسحاق يرون صلاة الكسوف اربع ركعات في اربع سجدات . قال الشافعي يقرا في الركعة الاولى بام القران ونحوا من سورة البقرة سرا ان كان بالنهار ثم ركع ركوعا طويلا نحوا من قراءته ثم رفع راسه بتكبير وثبت قاىما كما هو وقرا ايضا بام القران ونحوا من ال عمران ثم ركع ركوعا طويلا نحوا من قراءته ثم رفع راسه ثم قال " سمع الله لمن حمده " . ثم سجد سجدتين تامتين ويقيم في كل سجدة نحوا مما اقام في ركوعه ثم قام فقرا بام القران ونحوا من سورة النساء ثم ركع ركوعا طويلا نحوا من قراءته ثم رفع راسه بتكبير وثبت قاىما ثم قرا نحوا من سورة الماىدة ثم ركع ركوعا طويلا نحوا من قراءته ثم رفع فقال " سمع الله لمن حمده " . ثم سجد سجدتين ثم تشهد وسلم .
৫৬১. মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল মালিক ইবনু আবিশ্ শাওয়ারিব (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সূর্য গ্রহণ দেখা দেয়। তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছিলেন। এতে তিনি দীর্ঘ কিরাআত তিলাওয়াত করেন, এর পর দীর্ঘ রুকূ করেন। পরে মাথা উঠালেন, পরে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন তবে প্রথমবারের তুলনায় কিছু কম দীর্ঘ পরে মাথা তুললেন এবং সিজদা করলেন। এরপর দ্বিতীয় রাক’আতেও অনুরূপ করলেন। - সহিহ আবু দাউদ ১০৭১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারেই শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা সালাতুল কুসূফ (সুর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ) চার সিজদায় চার রাক’আতে উম্মুল কুরআন সূরা ফাতিহা এবং দিনের বেলায় (সূর্য গ্রহণের সময়) হলে অনুচ্চ শব্দে সূরাতুল বাকারা পরিমাণ কিরাআত করবে এবং কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। পরে তাকবীর দিয়ে মাথা তুলবে এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং উম্মুল কুরআন সূরাতুল ফাতিহা পাঠ করে আলে-ইমরানের পরিমাণ কিরাআত তিলাওয়াত করবে। পরে কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে, পরে মাথা তুলবে বলবে, ’’সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ এর পর পূর্ণ দুই সিজদা দিবে এবং রুকূতে যতক্ষণ অবস্থান করেছিল, সিজদায়ও ততক্ষণ অবস্থান করবে। পরে সিজদা থেকে দাঁড়াবে। উম্মুল কুরআন ও সূরাতুন নিসা পরিমাণ কিরাআত করবে। এর পর কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। পরে তাকবীর বলে মাথা তুলবে সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং সূরাতুল মায়িদা পরিমাণ কিরআত পাঠ করবে, এরপর কিরাআত পরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। অতঃপর মাথা তুলবে। বলবে সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ পরে দুই সিজদা দিবে। এরপর তাশাহ্হুদ পাঠ করবে ও সালাম ফিরাবে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারেই শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা সালাতুল কুসূফ (সুর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ) চার সিজদায় চার রাক’আতে উম্মুল কুরআন সূরা ফাতিহা এবং দিনের বেলায় (সূর্য গ্রহণের সময়) হলে অনুচ্চ শব্দে সূরাতুল বাকারা পরিমাণ কিরাআত করবে এবং কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। পরে তাকবীর দিয়ে মাথা তুলবে এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং উম্মুল কুরআন সূরাতুল ফাতিহা পাঠ করে আলে-ইমরানের পরিমাণ কিরাআত তিলাওয়াত করবে। পরে কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে, পরে মাথা তুলবে বলবে, ’’সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ এর পর পূর্ণ দুই সিজদা দিবে এবং রুকূতে যতক্ষণ অবস্থান করেছিল, সিজদায়ও ততক্ষণ অবস্থান করবে। পরে সিজদা থেকে দাঁড়াবে। উম্মুল কুরআন ও সূরাতুন নিসা পরিমাণ কিরাআত করবে। এর পর কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। পরে তাকবীর বলে মাথা তুলবে সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং সূরাতুল মায়িদা পরিমাণ কিরআত পাঠ করবে, এরপর কিরাআত পরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। অতঃপর মাথা তুলবে। বলবে সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ পরে দুই সিজদা দিবে। এরপর তাশাহ্হুদ পাঠ করবে ও সালাম ফিরাবে।
হাদিস নং: ৫৬২
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، حدثنا سفيان، عن الاسود بن قيس، عن ثعلبة بن عباد، عن سمرة بن جندب، قال صلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم في كسوف لا نسمع له صوتا . قال وفي الباب عن عاىشة . قال ابو عيسى حديث سمرة حديث حسن صحيح . وقد ذهب بعض اهل العلم الى هذا وهو قول الشافعي .
৫৬২. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... সামূরা ইবনু জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাতুল কুসূফ আদায় করেছেন। আমরা তাঁর কিরাআতের আওয়ায শুনতে পাইনি। - ইবনু মাজাহ ১২৬৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ সামুরা ইবনু জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের কতক এতদনুসারে অভিমত গ্রহণ করেছেন। এ হ’ল ইমাম শাফিঈ (রহঃ)-এরও বক্তব্য।
এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ সামুরা ইবনু জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের কতক এতদনুসারে অভিমত গ্রহণ করেছেন। এ হ’ল ইমাম শাফিঈ (রহঃ)-এরও বক্তব্য।
হাদিস নং: ৫৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو بكر، محمد بن ابان حدثنا ابراهيم بن صدقة، عن سفيان بن حسين، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الكسوف وجهر بالقراءة فيها . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ورواه ابو اسحاق الفزاري عن سفيان بن حسين نحوه . وبهذا الحديث يقول مالك بن انس واحمد واسحاق .
৫৬৩. আবূ বকর মুহাম্মদ ইবনু আবান (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুল কুসূফ আদায় করেছেন। এতে তিনি সশব্দে কিরাআত পাঠ করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১০৭৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ ইসহাক আল-ফাযারী (রহঃ)-ও সুফইয়ান ইবনু হুসায়ন (রহঃ)-এর বরাতে উক্তরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মালিক, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর বক্তব্য এ-ই।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ ইসহাক আল-ফাযারী (রহঃ)-ও সুফইয়ান ইবনু হুসায়ন (রহঃ)-এর বরাতে উক্তরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মালিক, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর বক্তব্য এ-ই।
হাদিস নং: ৫৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الملك بن ابي الشوارب، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الخوف باحدى الطاىفتين ركعة والطاىفة الاخرى مواجهة العدو ثم انصرفوا فقاموا في مقام اولىك وجاء اولىك فصلى بهم ركعة اخرى ثم سلم عليهم فقام هولاء فقضوا ركعتهم وقام هولاء فقضوا ركعتهم . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح . وقد روى موسى بن عقبة عن نافع عن ابن عمر مثل هذا . قال وفي الباب عن جابر وحذيفة وزيد بن ثابت وابن عباس وابي هريرة وابن مسعود وسهل بن ابي حثمة وابي عياش الزرقي واسمه زيد بن صامت وابي بكرة . قال ابو عيسى وقد ذهب مالك بن انس في صلاة الخوف الى حديث سهل بن ابي حثمة وهو قول الشافعي . وقال احمد قد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف على اوجه وما اعلم في هذا الباب الا حديثا صحيحا واختار حديث سهل بن ابي حثمة . وهكذا قال اسحاق بن ابراهيم قال ثبتت الروايات عن النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الخوف . وراى ان كل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الخوف فهو جاىز وهذا على قدر الخوف . قال اسحاق ولسنا نختار حديث سهل بن ابي حثمة على غيره من الروايات .
৫৬৪. মুহাম্মদ ইবনু আবদিল মালিক ইবনু আবিশ-শাওয়ারিব (রহঃ) ...... সালিম তৎপিতা ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইভাবে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন যে, (পুরো দলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে) এক দলকে নিয়ে এক রাকআত পড়েছেন। এই সময়ে অপর একদল শত্রুর সামনে থেকে ছেন। এরপর যে দল এক রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেরেছন তারা যে দল শত্রুর সামনে রয়েছেন তাদের স্থানে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন আর শত্রুর সম্মুখে অবস্থানরত দল সালাতে এসে শরীক হয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে অপর এক রাকআত সমাধা করেছেন এবং নিজে সালাম ফিরিয়ে নিয়েছেন (কারণ তাঁর সালাত (নামায/নামাজ) শেষ হয়ে গেছে) এরপর সালাত (নামায/নামাজ) রত দল দাঁড়িয়ে তাদের এক রাকআত পুরা করেছেন এবং শত্রুর সম্মুখে যারা অবস্থানরত তারাও দাঁড়িয়ে (অবশিষ্ট) এক রাকআত পুরা করে নিয়েছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১১৩২, ইরওয়া ৩/৫০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি (৫৬১ নং) হাসান-সহীহ। মূসা ইবনু উকবা (রহঃ)-ও এটি নাফি ইবনু উমর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে জাবির, হুসায়ফা, যায়দ ইবনু সাবিত, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, সাহল ইবনু আবূ আয়্যাশ আয্ যুরাকী-তাঁর নাম হ’ল যায়দ ইবনু সামিত এবং আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক (রহঃ) সালাতুল খাওফ-এর ব্যাপারে সাহল ইবনু আবী হাসমা (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অনুসারে পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এটা ঈমাম শাফিঈ (রহঃ)-এরও অভিমত।
ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কয়েকভাবে সালাতুল খাওফ আদায়ের পদ্ধতি বর্ণিত আছে।এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ বলেই আমি জানি। তবে আমি সাহল ইবনু আবী হাসমা বর্ণিত পদ্ধতিটই গ্রহণ করেছি। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও এইরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ সালাতুল খাওফ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ সহীহ বলে প্রমাণিত। এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যতগুলো পদ্ধতি বর্ণিত আছে, সবগুলোই জায়েয। এই বিভিন্নতা হ’ল খাওফ বা ভীতির পরিমাণের তারতম্য হিসাবে। ইসহাক বলেনঃ আমরা অন্যান্য রিওয়ায়াতসমূহের উপর সাহল আবী হাসমার রিওয়ায়াতটির প্রাধান্য দেই না।
ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি (৫৬১ নং) হাসান-সহীহ। মূসা ইবনু উকবা (রহঃ)-ও এটি নাফি ইবনু উমর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে জাবির, হুসায়ফা, যায়দ ইবনু সাবিত, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, সাহল ইবনু আবূ আয়্যাশ আয্ যুরাকী-তাঁর নাম হ’ল যায়দ ইবনু সামিত এবং আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক (রহঃ) সালাতুল খাওফ-এর ব্যাপারে সাহল ইবনু আবী হাসমা (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অনুসারে পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এটা ঈমাম শাফিঈ (রহঃ)-এরও অভিমত।
ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কয়েকভাবে সালাতুল খাওফ আদায়ের পদ্ধতি বর্ণিত আছে।এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ বলেই আমি জানি। তবে আমি সাহল ইবনু আবী হাসমা বর্ণিত পদ্ধতিটই গ্রহণ করেছি। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও এইরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ সালাতুল খাওফ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ সহীহ বলে প্রমাণিত। এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যতগুলো পদ্ধতি বর্ণিত আছে, সবগুলোই জায়েয। এই বিভিন্নতা হ’ল খাওফ বা ভীতির পরিমাণের তারতম্য হিসাবে। ইসহাক বলেনঃ আমরা অন্যান্য রিওয়ায়াতসমূহের উপর সাহল আবী হাসমার রিওয়ায়াতটির প্রাধান্য দেই না।
হাদিস নং: ৫৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد القطان، حدثنا يحيى بن سعيد الانصاري، عن القاسم بن محمد، عن صالح بن خوات بن جبير، عن سهل بن ابي حثمة، انه قال في صلاة الخوف قال يقوم الامام مستقبل القبلة وتقوم طاىفة منهم معه وطاىفة من قبل العدو ووجوهم الى العدو فيركع بهم ركعة ويركعون لانفسهم ركعة ويسجدون لانفسهم سجدتين في مكانهم ثم يذهبون الى مقام اولىك ويجيء اولىك فيركع بهم ركعة ويسجد بهم سجدتين فهي له ثنتان ولهم واحدة ثم يركعون ركعة ويسجدون سجدتين .
৫৬৫. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ....... সাহল ইবনু আবী হাসমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি সালাতুল খাওফ বিষয়ে বলেনঃ ইমাম কিবলামূখী হয়ে দাঁড়াবেন। তার সাথে একদল মুসল্লি শামিল হবেন। আরেক দল থাকবেন শত্রুর সামনে তাদের দিকে মুখ করে। ইমাম তার সঙ্গে শামিল দলকে নিয়ে এক রাকআত আদায় করবেন আর মুসল্লিরা নিজেরা এক রাকআত আদায় করবেন এবং নিজেরা নিজেদের দুই সিজদা দেবেন। এরপর তারা শত্রুর সম্মুখে অবস্থানরত দলের স্থানে গিয়ে দাঁড়াবেন এবং ওরা এসে ইমামের সঙ্গে অবস্থান গ্রহণ করবেন।ইমাম তাদের নিয়ে (অবশিষ্ট) এক রাকআত আদায় করবেন ও দুই সিজদা দিবেন। এতে ইমামের হবে পূর্ণ দু’রাকআত আর এই দলের হবে এক রাকআত। সুতরাং এরা রুকূ ও দুই সিজদা দিবেন ও তাদের সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ণ করবেন। - ইবনু মাজাহ ১২৫৯, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৬৬
সহিহ (Sahih)
قال ابو عيسى قال محمد بن بشار سالت يحيى بن سعيد عن هذا الحديث، فحدثني عن شعبة، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن صالح بن خوات، عن سهل بن ابي حثمة، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثل حديث يحيى بن سعيد الانصاري . وقال لي يحيى اكتبه الى جنبه ولست احفظ الحديث ولكنه مثل حديث يحيى بن سعيد الانصاري . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح . لم يرفعه يحيى بن سعيد الانصاري عن القاسم بن محمد وهكذا روى اصحاب يحيى بن سعيد الانصاري موقوفا ورفعه شعبة عن عبد الرحمن بن القاسم بن محمد .
৫৬৬. (ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন) মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) কে আমি এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে তা শু’বা আব্দুর রহমান ইবনু আল-কাসিম-পিতা কাসিম-সালিহ ইবনু খাওওয়াত-সাহল ইবনু আবী হাসমা (রহঃ) সূত্রে মারফূ হিসাবে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এর রিওয়ায়াত (৫৬৫ নং)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি (৫৬৬নং)-টির শব্দ পুরাপুরি সংরক্ষণ করতে পারি নাই তবে এটিও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এর রিওয়ায়াত (৫৬৫ নং)-টির অনুরূপই।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এটিকে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সূত্রে মারফূ হিসাবে রিওয়ায়াত করেননি। এমনিভাবে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ) এর শাগরিদগণও একে মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু’বা (রহঃ) আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে এটিকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এটিকে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সূত্রে মারফূ হিসাবে রিওয়ায়াত করেননি। এমনিভাবে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ) এর শাগরিদগণও একে মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু’বা (রহঃ) আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে এটিকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৬৭
সহিহ (Sahih)
وروى مالك بن انس، عن يزيد بن رومان، عن صالح بن خوات، عمن صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف فذكر نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وبه يقول مالك والشافعي واحمد واسحاق . وروي عن غير واحد ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى باحدى الطاىفتين ركعة ركعة فكانت للنبي صلى الله عليه وسلم ركعتان ولهم ركعة ركعة . قال ابو عيسى ابو عياش الزرقي اسمه زيد بن صامت .
৫৬৭. মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) ...... সালিহ ইবনু খাওওয়াত (রহঃ) সূত্রে যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন এমন এক ব্যক্তি থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এই হাদীস অনুসারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একাধিক রাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী এক-এক দলের সঙ্গে এক-এক রাকআত করে আদায় করেছেন। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হয়েছে দু’রাকআত আর মুসল্লিদের হয়েছে এক এক রাক’আত। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ আবূ আয়্যাশ আয-যুরাকীর নাম হলো যায়দ ইবনু সামিত। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এই হাদীস অনুসারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একাধিক রাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী এক-এক দলের সঙ্গে এক-এক রাকআত করে আদায় করেছেন। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হয়েছে দু’রাকআত আর মুসল্লিদের হয়েছে এক এক রাক’আত। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ আবূ আয়্যাশ আয-যুরাকীর নাম হলো যায়দ ইবনু সামিত। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৬৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا عبد الله بن وهب، عن عمرو بن الحارث، عن سعيد بن ابي هلال، عن عمر الدمشقي، عن ام الدرداء، عن ابي الدرداء، قال سجدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم احدى عشرة سجدة منها التي في النجم .
৫৬৮. সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী .... আবূদ্ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এগারটি তিলাওয়ায়াতের সিজদা আদায় করেছি। এগুলোর একটি হ’ল সূরা আন-নাজম-এর সিজদা। - ইবনু মাজাহ ১০৫৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৬৯
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا عبد الله بن صالح، حدثنا الليث بن سعد، عن خالد بن يزيد، عن سعيد بن ابي هلال، عن عمر، وهو ابن حيان الدمشقي قال سمعت مخبرا، يخبر عن ام الدرداء، عن ابي الدرداء، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه بلفظه . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث سفيان بن وكيع عن عبد الله بن وهب . قال وفي الباب عن علي وابن عباس وابي هريرة وابن مسعود وزيد بن ثابت وعمرو بن العاص . قال ابو عيسى حديث ابي الدرداء حديث غريب لا نعرفه الا من حديث سعيد بن ابي هلال عن عمر الدمشقي .
৫৬৯. আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) ..... আবূদ্ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ শব্দে বর্ণিত আছে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই রিওয়ায়াতটি সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি (৫৬৮নং) থেকে অধিক সহীহ। এই বিষয়ে আলী, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, যায়দ ইবনু সাবিত ও আমর ইবনু আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূদ্-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব। সাঈদ ইবনু আবূ হিলাল উমার দিমাশকী (রহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই রিওয়ায়াতটি সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি (৫৬৮নং) থেকে অধিক সহীহ। এই বিষয়ে আলী, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, যায়দ ইবনু সাবিত ও আমর ইবনু আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূদ্-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব। সাঈদ ইবনু আবূ হিলাল উমার দিমাশকী (রহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
হাদিস নং: ৫৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا نصر بن علي، حدثنا عيسى بن يونس، عن الاعمش، عن مجاهد، قال كنا عند ابن عمر فقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ايذنوا للنساء بالليل الى المساجد " . فقال ابنه والله لا ناذن لهن يتخذنه دغلا . فقال فعل الله بك وفعل اقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول لا ناذن لهن . قال وفي الباب عن ابي هريرة وزينب امراة عبد الله بن مسعود وزيد بن خالد . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح .
৫৭০. নাসর ইবনু আলী (রহঃ) .... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমরা একদিন ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে বসা ছিলাম। তিনি বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমরা মহিলাদেরকে রাতে মসজিদে যেতে অনুমতি দিও। তখন তার ছেলে (বিলাল) বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমরা তাদের অনুমতি দিব না। কারণ এটিকে তারা একটা বাহানা বানিয়ে নিবে। এই শুনে ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহ্ তোমার সাথে যা করার করুন। আমি বলছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অনুমতি দিতে) বলেছেন, আর তুমি বলছ আমরা অনুমতি দিব না। - সহিহ আবু দাউদ ৫৭৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ এর স্ত্রী যয়নব এবং যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ এর স্ত্রী যয়নব এবং যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৫৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن سفيان، عن منصور، عن ربعي بن حراش، عن طارق بن عبد الله المحاربي، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا كنت في الصلاة فلا تبزق عن يمينك ولكن خلفك او تلقاء شمالك او تحت قدمك اليسرى " . قال وفي الباب عن ابي سعيد وابن عمر وانس وابي هريرة . قال ابو عيسى وحديث طارق حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم . قال وسمعت الجارود يقول سمعت وكيعا يقول لم يكذب ربعي بن حراش في الاسلام كذبة . قال وقال عبد الرحمن بن مهدي اثبت اهل الكوفة منصور بن المعتمر .
৫৭১. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... তারিক ইবনু আবদিল্লাহ আলি-মুহারিবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যখন সালাত (নামায/নামাজ) রত থাকবে তখন তোমরা ডানে থুথু ফেলবে না, (যদি অগত্যা ফেলতেই হয় তবে) তোমার পিছনে বা বামে বা বাম পায়ের নিচে ফেলবে। - ইবনু মাজাহ ১০২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ, ইবনু উমর, আনাস ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ তারিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত দিয়েছেন। আল-জারূদ (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমি ওয়াকী (রহঃ) - কে বলতে শুনেছিঃ রিবঈ ইবনু হিরাশ ইসলামে কোন দিন মিথ্যা বলেন নি। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রহঃ) বলেন, কূফবাসীদের মধ্যে সবচে বিশ্বস্ত হলেন মনসূর ইবনুল মু’তামির।
এই বিষয়ে আবূ সাঈদ, ইবনু উমর, আনাস ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ তারিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত দিয়েছেন। আল-জারূদ (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমি ওয়াকী (রহঃ) - কে বলতে শুনেছিঃ রিবঈ ইবনু হিরাশ ইসলামে কোন দিন মিথ্যা বলেন নি। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রহঃ) বলেন, কূফবাসীদের মধ্যে সবচে বিশ্বস্ত হলেন মনসূর ইবনুল মু’তামির।
হাদিস নং: ৫৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " البزاق في المسجد خطيىة وكفارتها دفنها " . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح .
৫৭২. কুতায়বা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা অপরাধ। আর এর কাফফারা হ’ল তা মুছে ফেলা। - রওয ৪৮, সহিহ আবু দাউদ ৪৯৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৫৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ايوب بن موسى، عن عطاء بن ميناء، عن ابي هريرة، قال سجدنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في (اقرا باسم ربك الذي خلق ) و (اذا السماء انشقت )
৫৭৩. কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ (সূরা আলাক) এবং إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ (সূরা ইনশিকাক) সূরায় সিজদা করেছি। - ইবনু মাজাহ ১০৫৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا سفيان بن عيينة، عن يحيى بن سعيد، عن ابي بكر بن محمد، هو ابن عمرو بن حزم عن عمر بن عبد العزيز، عن ابي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم يرون السجود في(اذا السماء انشقت ) و (اقرا باسم ربك ) . وفي هذا الحديث اربعة من التابعين بعضهم عن بعض .
৫৭৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ভিন্ন সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। السَّمَاءُ انْشَقَّتْ এবং اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ সূরাদ্বয়ে সিজদা এ-তিলাওয়াত করতে হবে বলে তারা মনে করেন। এই রিওয়াত (৫৭৪) টিতে চারজন তাবিঈ (ইয়াহহিয়া ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু হাযম, উমর ইবনু আবদিল আযীয, আবূ বকর ইবনু আবদির রহমান ইবনু আল-হারিস ইবনু হিশাম) পরস্পর পরস্পর থেকে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]