হাদিস নং: ৩১৩০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، اخبرني سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " حين اسري بي لقيت موسى . قال فنعته فاذا رجل حسبته قال مضطرب رجل الراس كانه من رجال شنوءة قال ولقيت عيسى . قال فنعته قال ربعة احمر كانما خرج من ديماس يعني الحمام ورايت ابراهيم . قال وانا اشبه ولده به قال واتيت باناءين احدهما لبن والاخر خمر فقيل لي خذ ايهما شىت . فاخذت اللبن فشربته فقيل لي هديت الفطرة او اصبت الفطرة اما انك لو اخذت الخمر غوت امتك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩১৩০. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে যখন সফর করানো হয় তখন মূসা (আঃ)-এর সঙ্গেও আমার সাক্ষাৎ হয়। এরপর তিনি তাঁর আকৃতির বিবরণ দিয়ে বললেনঃ তিনি ছিলেন হালকা পাতলা। যার মাথার চুল কুঁকড়ানো ও সোজার মাঝামাঝি। তিনি যেন শানূআ গোত্রের পুরুষের মত। ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়। এরপর তিনি তাঁর গঠন প্রকৃতির বিবরণ দিয়ে বললেনঃ তিনি ছিলেন মধ্যমাকৃতির লাল বর্ণের। তিনি যেন গোসলখানা থেকে বের হলেন। ইবরাহীম (আঃ) কে দেখেছি। তাঁর বংশধরদের মাঝে আমিই তাঁর অধিক সদৃশ।
আমার কাছে দু’টো পাত্র আনা হয় একটিতে দুধ আরেকটিতে ছিল মদ। আমাকে বলা হল, দু’টো থেকে যে কোনটি আপনার ইচ্ছা গ্রহণ করুন। আমি দুধ গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। আমাকে বলা হল আপনাকে ফিতরাতের দিকে হিদায়াত করা হয়েছে, কিংবা বলেছেন, আপনি ফিতরাতে পৌঁছেছেন। যদি আপনি মদ গ্রহণ করতেন তবে আপনার উম্মাত গুমরাহ হয়ে যেত।
সহীহ, বুখারি ৪৭০৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
আমার কাছে দু’টো পাত্র আনা হয় একটিতে দুধ আরেকটিতে ছিল মদ। আমাকে বলা হল, দু’টো থেকে যে কোনটি আপনার ইচ্ছা গ্রহণ করুন। আমি দুধ গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। আমাকে বলা হল আপনাকে ফিতরাতের দিকে হিদায়াত করা হয়েছে, কিংবা বলেছেন, আপনি ফিতরাতে পৌঁছেছেন। যদি আপনি মদ গ্রহণ করতেন তবে আপনার উম্মাত গুমরাহ হয়ে যেত।
সহীহ, বুখারি ৪৭০৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩১৩১
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن قتادة، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم اتي بالبراق ليلة اسري به ملجما مسرجا فاستصعب عليه فقال له جبريل ابمحمد تفعل هذا فما ركبك احد اكرم على الله منه قال " فارفض عرقا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب ولا نعرفه الا من حديث عبد الرزاق .
৩১৩১. ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। মি’রাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিন পরিয়ে লাগাম লাগিয়ে বুরাক আনা হল কিন্তু সে হঠকারিতা করল। তখন জিবরীল (আঃ) বললেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাপারেও তুমি এরূপ করছ? আল্লাহর কাছে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কেউ তোমার উপর কখনও আরোহণ করেনি। লজ্জায় বুরাকটি ঘর্মাক্ত হয় উঠল।
এ হাদীসটি হাসান-গারীব। আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-গারীব। আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩১৩২
সহিহ (Sahih)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم الدورقي، حدثنا ابو تميلة، عن الزبير بن جنادة، عن ابن بريدة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لما انتهينا الى بيت المقدس قال جبريل باصبعه فخرق به الحجر وشد به البراق " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب .
৩১৩২. ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ... বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা যখন বায়তুল মুকাদ্দাস পৌঁছলাম জিবরীল তাঁর আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে একটি পাথর ছিদ্র করলেন এবং তাতে বুরাকটি বাঁধলেন।
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি গারীব।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি গারীব।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩১৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن عقيل، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن جابر بن عبد الله، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لما كذبتني قريش قمت في الحجر فجلا الله لي بيت المقدس فطفقت اخبرهم عن اياته وانا انظر اليه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن مالك بن صعصعة وابي سعيد وابن عباس وابي ذر وابن مسعود .
৩১৩৩. কুতায়বা (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরায়শরা যখন (মি’রাজের বিষয়ে) আমাকে মিথ্যাবাদী বলল তখন আমি হাতীমের মধ্যে দাঁড়ালাম তখন আল্লাহ্ তা’আলা আমার জন্য বায়তুল মুকাদ্দাস উদ্ভাসিত করে দিলেন। আমি এর প্রতি তাকিয়ে তাকিয়ে তাদেরকে এর আলামতগুলো সম্পর্কে বিবরণ দিতে লাগলাম।
সহীহ, তাখরীজু ফিকহিস সিরাহ ১৪৫, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে মালিক ইবন সা’সা’আ, আবূ সাঈদ, ইবন আব্বাস, আবূ যর এবং ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীসটি বর্ণিত আছে।
সহীহ, তাখরীজু ফিকহিস সিরাহ ১৪৫, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে মালিক ইবন সা’সা’আ, আবূ সাঈদ, ইবন আব্বাস, আবূ যর এবং ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীসটি বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৩১৩৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن عكرمة، عن ابن عباس، في قوله: ( وما جعلنا الرويا التي اريناك الا فتنة للناس ) قال هي رويا عين اريها النبي صلى الله عليه وسلم ليلة اسري به الى بيت المقدس . قال : (والشجرة الملعونة في القران ) هي شجرة الزقوم . قال هذا حديث حسن صحيح .
৩১৩৪. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, (ومَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلاَّ فِتْنَةً لِلنَّاسِ) - আমি যে দৃশ্য তোমাকে দেখিয়েছি তা এবং কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত বৃক্ষটিও, কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য (১৭ঃ ৬০)। আয়াতটি সম্পর্কে বলেছেন যে, এ হল চাক্ষুষ দর্শন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে রাতে বায়তুল মুকাদ্দাস সফর করানো হয় সে রাতে দেখানো হয়েছিল। কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ সম্পর্কে তিনি বলেছেনঃ এটি হল (জাহান্নামের) যাক্কূম বৃক্ষ।
সহীহ, বুখারি ৪৭১০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, বুখারি ৪৭১০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩১৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسباط بن محمد، - قرشي كوفي حدثنا ابي، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله : ( وقران الفجر ان قران الفجر كان مشهودا ) قال " تشهده ملاىكة الليل وملاىكة النهار " . قال هذا حديث حسن صحيح .
وروى علي بن مسهر، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، وابي، سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . حدثنا بذلك، علي بن حجر حدثنا علي بن مسهر، عن الاعمش، فذكر نحوه .
وروى علي بن مسهر، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، وابي، سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . حدثنا بذلك، علي بن حجر حدثنا علي بن مسهر، عن الاعمش، فذكر نحوه .
৩১৩৫. উবায়দ ইবন আসবাত ইবন মুহাম্মাদ কুরাশী কূফী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا) - এবং কায়েম করবে ফজরের সালাত (নামায), ফজরের সালাত (নামায) পরিলক্ষিত হয় বিশেষভাবে (১৭ঃ ৭৮)। প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের ফিরিশতা এবং দিনের ফিরিশতা এ সময়ে উপস্থিত হন।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলী ইবন মুসহির (রহঃ) এটি আ’মাশ-আবূ সালিহ ... আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রিওয়ায়ত করেছেন। আলী ইবন হুজর (রহঃ) আলী ইবন মুসহির ... আ’মাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলী ইবন মুসহির (রহঃ) এটি আ’মাশ-আবূ সালিহ ... আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রিওয়ায়ত করেছেন। আলী ইবন হুজর (রহঃ) আলী ইবন মুসহির ... আ’মাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩১৩৬
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا عبيد الله بن موسى، عن اسراىيل، عن السدي، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله : ( يوم ندعو كل اناس بامامهم ) قال " يدعى احدهم فيعطى كتابه بيمينه ويمد له في جسمه ستون ذراعا ويبيض وجهه ويجعل على راسه تاج من لولو يتلالا فينطلق الى اصحابه فيرونه من بعيد فيقولون اللهم اىتنا بهذا وبارك لنا في هذا حتى ياتيهم فيقول ابشروا لكل رجل منكم مثل هذا . قال واما الكافر فيسود وجهه ويمد له في جسمه ستون ذراعا على صورة ادم فيلبس تاجا فيراه اصحابه فيقولون نعوذ بالله من شر هذا اللهم لا تاتنا بهذا . قال فياتيهم فيقولون اللهم اخزه . فيقول ابعدكم الله فان لكل رجل منكم مثل هذا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . والسدي اسمه اسماعيل بن عبد الرحمن .
৩১৩৬. আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ) - স্মরণ কর, সে দিনকে যখন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের নেতা সহ আহবান করব (১৭ঃ ৭১) প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এদের একজনকে ডাকা হবে এবং তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে। তার দেহ ষাট হাত প্রশস্ত করা হবে। উজ্জ্বল করা হবে চেহারা আর তার মাথায় মোতির তাজ পরানো হবে। জ্বলজ্বল করতে থাকবে এর মোতিগুলো। অনন্তর সে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে চলবে। দূর হতে তারা তাকে দেখতে পাবে। তারা বলবে, ইয়া আল্লাহ্! আমাদেরও তা দান করুন এবং আমাদের জন্য তা বরকতময় করুন। শেষে ঐ লোকটি তাদের কাছে আসবে এবং তাদেরকে বলবেঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের প্রত্যেকের জন্য অনুরূপ পুরষ্কার রয়েছে।
পক্ষান্তরে কাফিরের চেহারা কালো করে দেওয়া হবে। আদম (আঃ)-এর সূরাতে তার শরীর ষাট হাত দীর্ঘ করে দেওয়া হবে। তাকে (অবমাননার) তাজ পরানো হবে। তার সঙ্গীরা তাকে দেখে বলবেঃ এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছেই আমরা পানাহ চাই। ইয়া আল্লাহ্! একে আমাদের কাছে আসতে দিবেন না।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ লোকটি তাদের কাছে আসবে। তখন তারা বলবে, ইয়া আল্লাহ্! তুমি একে সরিয়ে দাও। সে বলবেঃ আল্লাহ্ তোমাদের দূরে রাখুন। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য অনুরূপ বস্ত রয়েছে।
হাদীসটি হাসান-গারীব। সুদ্দী (রহঃ) এর নাম হল ইসমাঈল ইবন আবদুর রহমান।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
পক্ষান্তরে কাফিরের চেহারা কালো করে দেওয়া হবে। আদম (আঃ)-এর সূরাতে তার শরীর ষাট হাত দীর্ঘ করে দেওয়া হবে। তাকে (অবমাননার) তাজ পরানো হবে। তার সঙ্গীরা তাকে দেখে বলবেঃ এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছেই আমরা পানাহ চাই। ইয়া আল্লাহ্! একে আমাদের কাছে আসতে দিবেন না।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ লোকটি তাদের কাছে আসবে। তখন তারা বলবে, ইয়া আল্লাহ্! তুমি একে সরিয়ে দাও। সে বলবেঃ আল্লাহ্ তোমাদের দূরে রাখুন। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য অনুরূপ বস্ত রয়েছে।
হাদীসটি হাসান-গারীব। সুদ্দী (রহঃ) এর নাম হল ইসমাঈল ইবন আবদুর রহমান।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩১৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، عن داود بن يزيد الزعافري، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في قوله : ( عسى ان يبعثك ربك مقاما محمودا ) سىل عنها قال " هي الشفاعة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وداود الزعافري هو داود الاودي ابن يزيد بن عبد الرحمن وهو عم عبد الله بن ادريس .
৩১৩৭. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণীঃ (عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا) - ’’আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে ... (১৭ঃ ৭৯) এর ব্যাখ্যায় অথবা এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এ হল শাফাআত।
সহীহ, সহীহাহ ২৬৩৯, ২৩৭০, আয যিলাল ৭৮৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। দাঊদ যাগাফিরী (রহঃ) হলেন দাঊদ আওদী। ইনি হলেন আবদুল্লাহ্ ইবন ইদরীসের চাচা।
সহীহ, সহীহাহ ২৬৩৯, ২৩৭০, আয যিলাল ৭৮৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। দাঊদ যাগাফিরী (রহঃ) হলেন দাঊদ আওদী। ইনি হলেন আবদুল্লাহ্ ইবন ইদরীসের চাচা।
হাদিস নং: ৩১৩৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن ابي نجيح، عن مجاهد، عن ابي معمر، عن ابن مسعود، قال دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة عام الفتح وحول الكعبة ثلاثماىة وستون نصبا فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يطعنها بمخصرة في يده وربما قال بعود ويقول : (جاء الحق وزهق الباطل ان الباطل كان زهوقا) : (جاء الحق وما يبدى الباطل وما يعيد) . قال هذا حديث حسن صحيح وفيه عن ابن عمر .
৩১৩৮. ইবন আবূ উমর (রহঃ) .... ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন কাবা শরীফের আশেপাশে তিনশত ষাটটি মূর্তি ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে এক একটিকে খোঁচা দিতে লাগলেন আর বলতে থাকলেনঃ
(جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ) *** (جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا)
সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই (১৭ঃ ৮১)। সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে, না পারে পুনরাবৃত্তি করতে (৩৪ঃ ৪৯)।
সহীহ, বুখারি ৪৭২০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
(جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ) *** (جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا)
সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই (১৭ঃ ৮১)। সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে, না পারে পুনরাবৃত্তি করতে (৩৪ঃ ৪৯)।
সহীহ, বুখারি ৪৭২০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৩১৩৯
যঈফ (Dai'f)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا جرير، عن قابوس بن ابي ظبيان، عن ابيه، عن ابن عباس، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم بمكة ثم امر بالهجرة فنزلت عليه : ( قل رب ادخلني مدخل صدق واخرجني مخرج صدق واجعل لي من لدنك سلطانا نصيرا ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩১৩৯. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মক্কায় তারপর তাঁকে হিজরতের হুকুম দেওয়া হয় তাঁর উপর তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
قُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا
আর বল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্তকরাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি (১৭ : ৮০)।
এ হাদীসটি হাসান- সহীহ।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
قُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا
আর বল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্তকরাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি (১৭ : ৮০)।
এ হাদীসটি হাসান- সহীহ।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩১৪০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا يحيى بن زكريا بن ابي زاىدة، عن داود بن ابي هند، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال قالت قريش ليهود اعطونا شيىا نسال عنه هذا الرجل فقال سلوه عن الروح قال فسالوه عن الروح فانزل الله : ( يسالونك عن الروح قل الروح من امر ربي وما اوتيتم من العلم الا قليلا ) قالوا اوتينا علما كثيرا التوراة ومن اوتي التوراة فقد اوتي خيرا كثيرا فانزلت: ( قل لو كان البحر مدادا لكلمات ربي لنفد البحر ) الى اخر الاية قال هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه .
৩১৪০. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়শরা ইয়াহূদীদের বলল, আমাদের কিছু দাও যাতে আমরা এ ব্যক্তিটিকে প্রশ্ন করতে পারি।। ইয়াহুদীটি বললঃ তোমরা তাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর। তারপর তারা তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা অবর্তীর্ণ করেনঃ
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً
তোমাকে এরা রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। আর তোমাদের দেওয়া হয়েছে সামান্য জ্ঞানই (১৭ঃ ৮৫)। ইয়াহুদীরা বললঃ আমাদের বিপুল ইলম দান করা হয়েছে। আমাদের দেওয়া হয়েছে তাওরাত। আর যাকে তওরাত দান করা হয়েছে তাকে প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ
বল, আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য সাগর যদি কালি হয়, তবে সাগর নি:শেষ হয়ে যাবে (১৮ঃ ১০৯)।
সহীহ, আততা’লীকাত আল-হাসসান ৯৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ সূত্রে গারীব।
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً
তোমাকে এরা রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। আর তোমাদের দেওয়া হয়েছে সামান্য জ্ঞানই (১৭ঃ ৮৫)। ইয়াহুদীরা বললঃ আমাদের বিপুল ইলম দান করা হয়েছে। আমাদের দেওয়া হয়েছে তাওরাত। আর যাকে তওরাত দান করা হয়েছে তাকে প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ
বল, আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য সাগর যদি কালি হয়, তবে সাগর নি:শেষ হয়ে যাবে (১৮ঃ ১০৯)।
সহীহ, আততা’লীকাত আল-হাসসান ৯৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ সূত্রে গারীব।
হাদিস নং: ৩১৪১
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن خشرم، اخبرنا عيسى بن يونس، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، عن عبد الله، قال كنت امشي مع النبي صلى الله عليه وسلم في حرث بالمدينة وهو يتوكا على عسيب فمر بنفر من اليهود فقال بعضهم لو سالتموه فقال بعضهم لا تسالوه فانه يسمعكم ما تكرهون . فقالوا له يا ابا القاسم حدثنا عن الروح . فقام النبي صلى الله عليه وسلم ساعة ورفع راسه الى السماء فعرفت انه يوحى اليه حتى صعد الوحى ثم قال : (الروح من امر ربي وما اوتيتم من العلم الا قليلا ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩১৪১. আলী ইবন খাশরাম (রহঃ) ....... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মদীনার শস্যভূমি দিয়ে হাঁটছিলাম। তিনি একটি খেজুর ডালে ভর দিয়ে চলছিলেন। এমন সময় ইয়াহুদীদের একটি দলের পাশ দিয়ে তিনি পথ অতিক্রম করছিলেন। এদের একজন (তার সঙ্গীদের) বললঃ একে যদি তোমরা একটি প্রশ্ন করতে, অন্য একজন বললঃ তাকে কোন প্রশ্ন করতে যেয়ো না। তা হলে তিনি তোমাদের এমন কথা শুনিয়ে দিতে পারেন যা তোমাদের পছন্দের নয়।
যা হোক, তারা বললঃ হে আবুল কাসিম, রূহ সম্পর্কে আমাদের কিছু বিবরণ দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন এবং তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুললেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর উপর ওহী নাযিল হচ্ছে। ওহী গ্রহণ শেষ হলে তিনি বললেনঃ
الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً
রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত, আর তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে।
সহীহ, বুখারি ৪৭২১, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
যা হোক, তারা বললঃ হে আবুল কাসিম, রূহ সম্পর্কে আমাদের কিছু বিবরণ দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন এবং তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুললেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর উপর ওহী নাযিল হচ্ছে। ওহী গ্রহণ শেষ হলে তিনি বললেনঃ
الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً
রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত, আর তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে।
সহীহ, বুখারি ৪৭২১, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩১৪২
যঈফ (Dai'f)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا الحسن بن موسى، وسليمان بن حرب، قالا حدثنا حماد بن سلمة، عن علي بن زيد، عن اوس بن خالد، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يحشر الناس يوم القيامة ثلاثة اصناف صنفا مشاة وصنفا ركبانا وصنفا على وجوههم " . قيل يا رسول الله وكيف يمشون على وجوههم قال " ان الذي امشاهم على اقدامهم قادر على ان يمشيهم على وجوههم اما انهم يتقون بوجوههم كل حدب وشوك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روى وهيب عن ابن طاوس عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم شيىا من هذا .
৩১৪২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদের তিন ভাগে হাশর করা হবে। একদল পায়ে হেঁটে, আরেক দল আরোহী হয়ে, আরেক দল তাদের চেহারার উপর উল্টো হয়ে হাশরে উঠবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! চেহারার উপর তারা হাঁটবে কি করে? তিনি বললেনঃ যিনি তোমাদের পায়ের উপর হাটাতে পারেন তিনি চেহারার উপর তাদের হাঁটাতে ক্ষমতা রাখেন। শোন এরা (কাফিররা) তাদের চেহারা দিয়েই উঁচু ঢিলা ও কাঁটাবন থেকে নিজেদের বাঁচাতে চেষ্টা করবে।
যঈফ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৫৫৪৬, তা’লীকুর রাগীব ৪/১৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। উহায়ব (রহঃ) ইবন তাঊস তার পিতা তাঊস ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ কিছূ বর্ণনা করেছেন।
যঈফ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৫৫৪৬, তা’লীকুর রাগীব ৪/১৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। উহায়ব (রহঃ) ইবন তাঊস তার পিতা তাঊস ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ কিছূ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৩১৪৩
হাসান (Hasan)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا بهز بن حكيم، عن ابيه، عن جده، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انكم محشورون رجالا وركبانا ويجرون على وجوههم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن .
৩১৪৩. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) .... বাহয ইবন হাকীম তার পিতা তার পিতামহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের হাশর করা হবে পদাতিক ও আরোহী রূপে এবং তোমাদের চেহারার উপর টেনে-হেঁচড়ে নেওয়া হবে (কতককে)।
হাসান, তা’লীকুর রাগীব, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান।
হাসান, তা’লীকুর রাগীব, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান।
হাদিস নং: ৩১৪৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، ويزيد بن هارون، وابو الوليد، واللفظ، لفظ يزيد والمعنى واحد عن شعبة، عن عمرو بن مرة، عن عبد الله بن سلمة، عن صفوان بن عسال المرادي، ان يهوديين، قال احدهما لصاحبه اذهب بنا الى هذا النبي نساله فقال لا تقل له نبي فانه ان سمعنا نقول نبي كانت له اربعة اعين فاتيا النبي صلى الله عليه وسلم فسالاه عن قول الله عز وجل : ( ولقد اتينا موسى تسع ايات بينات ) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تشركوا بالله شيىا ولا تزنوا ولا تقتلوا النفس التي حرم الله الا بالحق ولا تسرقوا ولا تسحروا ولا تمشوا ببريء الى سلطان فيقتله ولا تاكلوا الربا ولا تقذفوا محصنة ولا تفروا من الزحف شك شعبة وعليكم اليهود خاصة ان لا تعدوا في السبت " . فقبلا يديه ورجليه وقالا نشهد انك نبي . قال " فما يمنعكما ان تسلما " . قالا ان داود دعا الله ان لا يزال في ذريته نبي وانا نخاف ان اسلمنا ان تقتلنا اليهود . قال هذا حديث حسن صحيح .
৩১৪৪. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..... সাফওয়ান ইবন আসসাল মূরাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার দুই ইয়াহূদীর একজন আরেকজনকে বললঃ এই নবীর কাছে আমাদের নিয়ে চল আমরা তাঁকে কিছু প্রশ্ন করি। অপরজন বললঃ তাকে নবী বলবে না। কারণ, যদি শুনতে পায় যে তাকে তুমি নবী বলছ তাহলে আনন্দে আটখানা হয়ে যাবে। এরা উভয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল এবং তারা আল্লাহর বাণীঃ (وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ) - আমি মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম (১৭ঃ ১০১) সম্পর্কে প্রশ্ন করল।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে কিছুর শরীক করবে না, যিনা করবে না, আল্লাহ্ যে প্রাণ বধ হারাম করেছেন শরীয়ত সম্মত অধিকার ছাড়া তাকে হত্যা করবে না, চুরি করবে না, যাদু-টোনা করবে না, কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাধিকারীর কাছে নিয়ে তাকে হত্যা করাবে না, সুদ খাবে না, কোন নির্দোষ ব্যাক্তিকে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাধিকারীর কাছে নিয়ে তাকে হত্যা করাবে না, সুদ খাবে না, সাধ্বী মহিলাকে অপবাদ দিবে না, যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করবে না। বিশেষ করে হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য কথা হল তোমরা শনিবারের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। তারপর এরা উভয়েই তাঁর হাতে ও পায়ে চুমু খেয়ে বললঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নবী। তারা বললঃ দাঊদ (আঃ) আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন যে, তাঁর বংশেই যেন সব সময় নবীর আগমন হয় আমাদের আশংকা হয় আমরা যদি ইসলাম গ্রহণ করি তবে ইয়াহূদীরা আমাদের মেরে ফেলবে।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৩৭০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে কিছুর শরীক করবে না, যিনা করবে না, আল্লাহ্ যে প্রাণ বধ হারাম করেছেন শরীয়ত সম্মত অধিকার ছাড়া তাকে হত্যা করবে না, চুরি করবে না, যাদু-টোনা করবে না, কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাধিকারীর কাছে নিয়ে তাকে হত্যা করাবে না, সুদ খাবে না, কোন নির্দোষ ব্যাক্তিকে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাধিকারীর কাছে নিয়ে তাকে হত্যা করাবে না, সুদ খাবে না, সাধ্বী মহিলাকে অপবাদ দিবে না, যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করবে না। বিশেষ করে হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য কথা হল তোমরা শনিবারের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। তারপর এরা উভয়েই তাঁর হাতে ও পায়ে চুমু খেয়ে বললঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নবী। তারা বললঃ দাঊদ (আঃ) আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন যে, তাঁর বংশেই যেন সব সময় নবীর আগমন হয় আমাদের আশংকা হয় আমরা যদি ইসলাম গ্রহণ করি তবে ইয়াহূদীরা আমাদের মেরে ফেলবে।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৩৭০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩১৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا سليمان بن داود، عن شعبة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، ولم يذكر عن ابن عباس، وهشيم، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس : (ولا تجهر بصلاتك ) قال نزلت بمكة كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا رفع صوته بالقران سبه المشركون ومن انزله ومن جاء به فانزل الله : (ولا تجهر بصلاتك ) فيسبوا القران ومن انزله ومن جاء به : (ولا تخافت بها ) عن اصحابك بان تسمعهم حتى ياخذوا عنك القران . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩১৪৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... সাঈদ ইবন জুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। অন্য সনদে আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ) - সালাতে স্বর উচ্চ করবে না এবং অতিশয় ক্ষীণও করবে না (১৭ঃ ১১০)। তিনি আয়াতটি প্রসঙ্গে বলেন, এটি মক্কায় নাযিল হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি উচ্চঃস্বরে তিলাওয়াত করতেন তবে মুশরিকরা স্বয়ং কুরআন এবং কুরআন যিনি নাযিল করেছেন আর যিনি নিয়ে এসেছেন সকলকে গালি-গালাজ করত।
তখন আল্লাহ্ তাআলা নাযিল করেনঃ ’সালাতে স্বর উচ্চ করবে না।’ তা করলে এরা কুরআন এবং তা যিনি নাযিল করেছেন এবং যিনি নিয়ে এসেছেন সকলকে গালি দিবে। এদিকে ’আপনার সঙ্গীদের থেকে আওয়াজ অতিশয় ক্ষীনও করবেন না।’ বরং তাদেরকে আপনি শুনাবেন যেন তারা আপনার নিকট থেকে কুরআন গ্রহণ করতে পারে।
সহীহ, বুখারি ৪৭২২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
তখন আল্লাহ্ তাআলা নাযিল করেনঃ ’সালাতে স্বর উচ্চ করবে না।’ তা করলে এরা কুরআন এবং তা যিনি নাযিল করেছেন এবং যিনি নিয়ে এসেছেন সকলকে গালি দিবে। এদিকে ’আপনার সঙ্গীদের থেকে আওয়াজ অতিশয় ক্ষীনও করবেন না।’ বরং তাদেরকে আপনি শুনাবেন যেন তারা আপনার নিকট থেকে কুরআন গ্রহণ করতে পারে।
সহীহ, বুখারি ৪৭২২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩১৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، حدثنا ابو بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، في قوله : (ولا تجهر بصلاتك ولا تخافت بها وابتغ بين ذلك سبيلا ) قال نزلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم مختف بمكة وكان اذا صلى باصحابه رفع صوته بالقران فكان المشركون اذا سمعوه شتموا القران ومن انزله ومن جاء به فقال الله لنبيه : (ولا تجهر بصلاتك ) اى بقراءتك فيسمع المشركون فيسبوا القران : (ولا تخافت بها ) عن اصحابك : ( وابتغ بين ذلك سبيلا ) . هذا حديث حسن صحيح .
৩১৪৬. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যেঃ (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً) - সালাতে স্বর উচ্চ করবে না এবং অতিশয় ক্ষীণও করবে না বরং এ দুয়ের মধ্যপথে অবলম্বন করবে (১৭ঃ ১১০)। আয়াতটি প্রসঙ্গে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ এ আয়াতটি যখন নাযিল হয় সে সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় লুক্কায়িত ছিলেনঃ তিনি সাহাবীদের নিয়ে যখন সালাত (নামায) আদায় করতেন তখন উচ্চঃস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। মুশরিকরা তা শুনতে পেলে কুরআন এবং যিনি তা নাযিল করেছেন ও যিনি তা নিয়ে এসেছেন সকলকে গালমন্দ করত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নবীকে বললেনঃ আপনার সালাত (নামায) অর্থাৎ কিরাআত উচ্চ স্বরে করবে না। তা করলে মুশরিকরা শুনতে পাবে এবং কুরআনকে গাল-মন্দ করবে। আর তা আপনার সঙ্গীদের থেকে অতিশয় ক্ষীণও করবেন না এবং দুয়ের মধ্যপথ অবলম্বন করবেন।
সহীহ, বুখারি ৪৭২২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, বুখারি ৪৭২২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ৩১৪৭
হাসান (Hasan)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن مسعر، عن عاصم بن ابي النجود، عن زر بن حبيش، قال قلت لحذيفة بن اليمان اصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيت المقدس قال لا . قلت بلى . قال انت تقول ذاك يا اصلع بما تقول ذلك قلت بالقران بيني وبينك القران . فقال حذيفة من احتج بالقران فقد افلح قال سفيان يقول فقد احتج . وربما قال قد فلج فقال : (سبحان الذي اسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام الى المسجد الاقصى ) قال افتراه صلى فيه قلت لا . قال لو صلى فيه لكتب عليكم فيه الصلاة كما كتبت الصلاة في المسجد الحرام قال حذيفة قد اتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بدابة طويلة الظهر ممدودة هكذا خطوه مد بصره فما زايلا ظهر البراق حتى رايا الجنة والنار ووعد الاخرة اجمع ثم رجعا عودهما على بدىهما قال ويتحدثون انه ربطه لم ايفر منه وانما سخره له عالم الغيب والشهادة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৩১৪৭. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... যির ইবন হুরায়শ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযায়ফা ইবন ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বায়তুল মুকাদ্দাসে সালাত (নামায) আদায় করেছেন?
তিনি বললেনঃ না।
আমি বললামঃ অবশ্যই তা আদায় করেছেন।
তিনি বললেনঃ হে টেকো, তুমি এ কথা বলছ? এবং তুমি কেন তা বলছ?
আমি বললামঃ কুরআন থেকে বলছি। আমার ও আপনার মাঝে কুরআন ফায়সালা করবে।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ কুরআন থেকে যে ব্যক্তি দলীল পেশ করে সে সফলকাম।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, তিনি বলেছেন, সে সঠিক দলীল পেশ করেছে। আর অনেক সময় তিনি বলেছেন, সে সফলকাম হয়েছে।
যিরর ইবন হুবায়শ (রহঃ) বললেনঃ (سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى) - পবিত্র ও মহিমাময় তিনি যিনি তার বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় (১৭ঃ ১)।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমার কি মনে হয়, যে তিনি সেখানে সালাত (নামায) আদায় করেছেন?
আমি বললামঃ না।
তিনি বললেনঃ যদি সেখানে তিনি সালাত (নামায) আদায় করতেন তবে তোমাদের জন্য সেখানে সালাত (নামায) আদায় করা জরুরী হয়ে যেত যেমন মসজিদুল হারাম কা’বায় সালাত (নামায) আদায় করা জরুরী।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বললেনঃ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এরূপ (হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন) সুপ্রশস্ত দীর্ঘ পিঠ বিশিষ্ট একটা জন্তু আনা হল। চোখের দৃষ্টি দূরত্ব পরিমাণ ছিল তার এক একটি পদক্ষেপ। তারা বুরাকের পিঠে আরোহণ করে জান্নাত, জাহান্নাম এবং আখিরাতে ওয়াদাকৃত সবকিছু পরিদর্শণ করলেন, পরে তারা উভয়েই ফিরে আসলেন। যাত্রা শুরু মাত্রই ছিল তাদের এই প্রত্যাবর্তন। (অর্থাৎ বেশী সময় এতে লাগেনি যেন শুরু হতেই তা শেষ হয়ে গিয়েছিল)।
তিনি আরো বলেন, লোকেরা বর্ণনা করে যে, তিনি এটি বেঁধে রেখেছিলেন। কেন বাঁধবেন! পালিয়ে যাবে বলে কি? গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু সম্পর্কে যিনি জানেন সেই মহাসত্যই এটিকে তাঁর জন্য বাধ্যগত করে দিয়েছিলেন।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
তিনি বললেনঃ না।
আমি বললামঃ অবশ্যই তা আদায় করেছেন।
তিনি বললেনঃ হে টেকো, তুমি এ কথা বলছ? এবং তুমি কেন তা বলছ?
আমি বললামঃ কুরআন থেকে বলছি। আমার ও আপনার মাঝে কুরআন ফায়সালা করবে।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ কুরআন থেকে যে ব্যক্তি দলীল পেশ করে সে সফলকাম।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, তিনি বলেছেন, সে সঠিক দলীল পেশ করেছে। আর অনেক সময় তিনি বলেছেন, সে সফলকাম হয়েছে।
যিরর ইবন হুবায়শ (রহঃ) বললেনঃ (سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى) - পবিত্র ও মহিমাময় তিনি যিনি তার বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় (১৭ঃ ১)।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমার কি মনে হয়, যে তিনি সেখানে সালাত (নামায) আদায় করেছেন?
আমি বললামঃ না।
তিনি বললেনঃ যদি সেখানে তিনি সালাত (নামায) আদায় করতেন তবে তোমাদের জন্য সেখানে সালাত (নামায) আদায় করা জরুরী হয়ে যেত যেমন মসজিদুল হারাম কা’বায় সালাত (নামায) আদায় করা জরুরী।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বললেনঃ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এরূপ (হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন) সুপ্রশস্ত দীর্ঘ পিঠ বিশিষ্ট একটা জন্তু আনা হল। চোখের দৃষ্টি দূরত্ব পরিমাণ ছিল তার এক একটি পদক্ষেপ। তারা বুরাকের পিঠে আরোহণ করে জান্নাত, জাহান্নাম এবং আখিরাতে ওয়াদাকৃত সবকিছু পরিদর্শণ করলেন, পরে তারা উভয়েই ফিরে আসলেন। যাত্রা শুরু মাত্রই ছিল তাদের এই প্রত্যাবর্তন। (অর্থাৎ বেশী সময় এতে লাগেনি যেন শুরু হতেই তা শেষ হয়ে গিয়েছিল)।
তিনি আরো বলেন, লোকেরা বর্ণনা করে যে, তিনি এটি বেঁধে রেখেছিলেন। কেন বাঁধবেন! পালিয়ে যাবে বলে কি? গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু সম্পর্কে যিনি জানেন সেই মহাসত্যই এটিকে তাঁর জন্য বাধ্যগত করে দিয়েছিলেন।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৩১৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن علي بن زيد بن جدعان، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا سيد ولد ادم يوم القيامة ولا فخر وبيدي لواء الحمد ولا فخر وما من نبي يومىذ ادم فمن سواه الا تحت لواىي وانا اول من تنشق عنه الارض ولا فخر قال فيفزع الناس ثلاث فزعات فياتون ادم فيقولون انت ابونا ادم فاشفع لنا الى ربك . فيقول اني اذنبت ذنبا اهبطت منه الى الارض ولكن اىتوا نوحا . فياتون نوحا فيقول اني دعوت على اهل الارض دعوة فاهلكوا ولكن اذهبوا الى ابراهيم . فياتون ابراهيم فيقول اني كذبت ثلاث كذبات " . ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما منها كذبة الا ماحل بها عن دين الله ولكن اىتوا موسى . فياتون موسى فيقول اني قد قتلت نفسا ولكن اىتوا عيسى . فياتون عيسى فيقول اني عبدت من دون الله ولكن اىتوا محمدا قال فياتونني فانطلق معهم " . قال ابن جدعان قال انس فكاني انظر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " فاخذ بحلقة باب الجنة فاقعقعها فيقال من هذا فيقال محمد . فيفتحون لي ويرحبون فيقولون مرحبا فاخر ساجدا فيلهمني الله من الثناء والحمد فيقال لي ارفع راسك سل تعط واشفع تشفع وقل يسمع لقولك وهو المقام المحمود الذي قال الله : ( عسى ان يبعثك ربك مقاما محمودا ) " . قال سفيان ليس عن انس الا هذه الكلمة " فاخذ بحلقة باب الجنة فاقعقعها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روى بعضهم هذا الحديث عن ابي نضرة عن ابن عباس الحديث بطوله .
৩১৪৮. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমিই হব বনী আদমের সরদার। এতে কোন অহংকার নেই; আমার হাতেই থাকবে হামদের পতাকা, এতে কোন অহংকার নেই; আদম এবং অন্যান্য সকল নবীই ঐ দিন আমার পতাকার নিচে থাকবেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মাটি বিদীর্ণ করে উঠবে, এতে কোন অহংকার নেই।
ঐ দিন মানুষ তিনবার ভীষন ভীতিকর অবস্থায় পড়বে। তারা আদম (আঃ)-এর কাছে আসবে আর বলবেঃ আপনি আমাদের আদি পিতা আদম, আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ আমি তো একটা ভূল করেছিলাম, যদ্দরুন আমাকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বরং তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা নূহ (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো পৃথিবীতে একটি দু’আ করেছিলাম। এতে তারা ধ্বংস হয়েছে। তোমরা বরং ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো তিনটি অসত্য কথা বলেছিলাম।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মূলত এর একটিও মিথ্যা ছিল না। আসলে আল্লাহর দীনের পক্ষে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসাবেই তিনি তা করেছিলেন।
যা হোক, তিনি বলবেনঃ তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে।
তিনি বলবেনঃ আমি তো একজনকে হত্যা করে ফেলেছিলাম। তোমরা বরং ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে তিনি বলবেনঃ আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে উপসনা করা হয়েছে। তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি তাদের সঙ্গে চলব।
ইবন জুদআন (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ আমি যেন এখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখছি। তিনি বলেন, এরপর আমি জান্নাতের দরওয়াজার আংটা ধরে তা খটখটাব। বলা হবে কে?
উত্তরে বলা হবেঃ মুহাম্মাদ।
আমার জন্য জান্নাতের দ্বার তারা (ফিরিশতারা) খুলে দিবেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে বলবেনঃ মারহাবা, এরপর আমি (রাব্বুল আলামীনের হুযুরে) সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ্ তা’আলাই আমাকে হামদ ও ছানার ইলহাম করবেন। আমাকে বলা হবেঃ আপনার মাথা তুলুন। যাঞ্ছা করুন আপনাকে তা দেওয়া হবে। সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ গ্রহন করা হবে। আপনি বলুন আপনার কথা শোনা হবে।
এই হল মাকামে মাহমূদ যার কথা আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, (عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا) আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে (১৭ঃ ৭৯)।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ই কেবল এই বাক্যটি ’’আমি জান্নাতের দরওয়াজার আংটা ধরে তা খটখটাব’’ বর্ণিত আছে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪৩০৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। কোন কোন রাবী এ হাদীসটি আবূ নাযরা ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।
ঐ দিন মানুষ তিনবার ভীষন ভীতিকর অবস্থায় পড়বে। তারা আদম (আঃ)-এর কাছে আসবে আর বলবেঃ আপনি আমাদের আদি পিতা আদম, আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ আমি তো একটা ভূল করেছিলাম, যদ্দরুন আমাকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বরং তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা নূহ (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো পৃথিবীতে একটি দু’আ করেছিলাম। এতে তারা ধ্বংস হয়েছে। তোমরা বরং ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো তিনটি অসত্য কথা বলেছিলাম।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মূলত এর একটিও মিথ্যা ছিল না। আসলে আল্লাহর দীনের পক্ষে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসাবেই তিনি তা করেছিলেন।
যা হোক, তিনি বলবেনঃ তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে।
তিনি বলবেনঃ আমি তো একজনকে হত্যা করে ফেলেছিলাম। তোমরা বরং ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে তিনি বলবেনঃ আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে উপসনা করা হয়েছে। তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি তাদের সঙ্গে চলব।
ইবন জুদআন (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ আমি যেন এখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখছি। তিনি বলেন, এরপর আমি জান্নাতের দরওয়াজার আংটা ধরে তা খটখটাব। বলা হবে কে?
উত্তরে বলা হবেঃ মুহাম্মাদ।
আমার জন্য জান্নাতের দ্বার তারা (ফিরিশতারা) খুলে দিবেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে বলবেনঃ মারহাবা, এরপর আমি (রাব্বুল আলামীনের হুযুরে) সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ্ তা’আলাই আমাকে হামদ ও ছানার ইলহাম করবেন। আমাকে বলা হবেঃ আপনার মাথা তুলুন। যাঞ্ছা করুন আপনাকে তা দেওয়া হবে। সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ গ্রহন করা হবে। আপনি বলুন আপনার কথা শোনা হবে।
এই হল মাকামে মাহমূদ যার কথা আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, (عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا) আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে (১৭ঃ ৭৯)।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ই কেবল এই বাক্যটি ’’আমি জান্নাতের দরওয়াজার আংটা ধরে তা খটখটাব’’ বর্ণিত আছে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪৩০৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। কোন কোন রাবী এ হাদীসটি আবূ নাযরা ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৩১৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن سعيد بن جبير، قال قلت لابن عباس ان نوفا البكالي يزعم ان موسى صاحب بني اسراىيل ليس بموسى صاحب الخضر قال كذب عدو الله سمعت ابى بن كعب يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " قام موسى خطيبا في بني اسراىيل فسىل اى الناس اعلم فقال انا اعلم . فعتب الله عليه اذ لم يرد العلم اليه فاوحى الله اليه ان عبدا من عبادي بمجمع البحرين هو اعلم منك قال موسى اى رب فكيف لي به فقال له احمل حوتا في مكتل فحيث تفقد الحوت فهو ثم فانطلق وانطلق معه فتاه وهو يوشع بن نون ويقال يوسع فحمل موسى حوتا في مكتل فانطلق هو وفتاه يمشيان حتى اذا اتيا الصخرة فرقد موسى وفتاه فاضطرب الحوت في المكتل حتى خرج من المكتل فسقط في البحر قال وامسك الله عنه جرية الماء حتى كان مثل الطاق وكان للحوت سربا وكان لموسى ولفتاه عجبا فانطلقا بقية يومهما وليلتهما ونسي صاحب موسى ان يخبره فلما اصبح موسى قال لفتاه: (اتنا غداءنا لقد لقينا من سفرنا هذا نصبا ) قال ولم ينصب حتى جاوز المكان الذي امر به : (قال ارايت اذ اوينا الى الصخرة فاني نسيت الحوت وما انسانيه الا الشيطان ان اذكره واتخذ سبيله في البحر عجبا ) قال موسى : ( ذلك ما كنا نبغ فارتدا على اثارهما قصصا ) قال فكانا يقصان اثارهما . قال سفيان يزعم ناس ان تلك الصخرة عندها عين الحياة ولا يصيب ماوها ميتا الا عاش . قال وكان الحوت قد اكل منه فلما قطر عليه الماء عاش . قال فقصا اثارهما حتى اتيا الصخرة فراى رجلا مسجى عليه بثوب فسلم عليه موسى فقال انى بارضك السلام قال انا موسى . قال موسى بني اسراىيل قال نعم . قال يا موسى انك على علم من علم الله علمكه الله لا اعلمه وانا على علم من علم الله علمنيه لا تعلمه فقال موسى : ( هل اتبعك على ان تعلمني مما علمت رشدا * قال انك لن تستطيع معي صبرا * وكيف تصبر على ما لم تحط به خبرا * قال ستجدني ان شاء الله صابرا ولا اعصي لك امرا ) قال له الخضر : (فان اتبعتني فلا تسالني عن شيء حتى احدث لك منه ذكرا ) قال نعم فانطلق الخضر وموسى يمشيان على ساحل البحر فمرت بهما سفينة فكلماه ان يحملوهما فعرفوا الخضر فحملوهما بغير نول فعمد الخضر الى لوح من الواح السفينة فنزعه فقال له موسى قوم حملونا بغير نول عمدت الى سفينتهم فخرقتها : ( لتغرق اهلها لقد جىت شيىا امرا * قال الم اقل انك لن تستطيع معي صبرا * قال لا تواخذني بما نسيت ولا ترهقني من امري عسرا ) ثم خرجا من السفينة فبينما هما يمشيان على الساحل واذا غلام يلعب مع الغلمان فاخذ الخضر براسه فاقتلعه بيده فقتله فقال له موسى : ( اقتلت نفسا زكية بغير نفس لقد جىت شيىا نكرا * قال الم اقل لك انك لن تستطيع معي صبرا ) قال وهذه اشد من الاولى : ( قال ان سالتك عن شيء بعدها فلا تصاحبني قد بلغت من لدني عذرا * فانطلقا حتى اذا اتيا اهل قرية استطعما اهلها فابوا ان يضيفوهما فوجدا فيها جدارا يريد ان ينقض ) يقول ماىل فقال الخضر بيده هكذا : ( فاقامه ) فقال له موسى قوم اتيناهم فلم يضيفونا ولم يطعمونا : ( ان شىت لاتخذت عليه اجرا * قال هذا فراق بيني وبينك سانبىك بتاويل ما لم تستطع عليه صبرا ) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يرحم الله موسى لوددنا انه كان صبر حتى يقص علينا من اخبارهما " . قال وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الاولى كانت من موسى نسيان - قال وجاء عصفور حتى وقع على حرف السفينة ثم نقر في البحر فقال له الخضر ما نقص علمي وعلمك من علم الله الا مثل ما نقص هذا العصفور من البحر " . قال سعيد بن جبير وكان يعني ابن عباس يقرا وكان امامهم ملك ياخذ كل سفينة صالحة غصبا وكان يقرا واما الغلام فكان كافرا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ورواه الزهري عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن ابن عباس عن ابى بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم وقد رواه ابو اسحاق الهمداني عن سعيد بن جبير عن ابن عباس عن ابى بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى سمعت ابا مزاحم السمرقندي يقول سمعت علي بن المديني يقول حججت حجة وليس لي همة الا ان اسمع من سفيان يذكر في هذا الحديث الخبر حتى سمعته يقول حدثنا عمرو بن دينار وقد كنت سمعت هذا من سفيان من قبل ذلك ولم يذكر فيه الخبر .
৩১৪৯. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললামঃ নাওফ বিকালী বলেন যে, বানূ ইসরাঈলী নবী মূসা খাযিরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী মূসা এক নন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। আমি উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ একদিন মূসা বানূ ইসরাঈলের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী?
তিনি বললেনঃ আমি।
আল্লাহ্ তা’আলার দিকে বিষয়টি সোপর্দ না করায় তিনি তাঁর উপর অসন্তুষ্ট হন। তিনি তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন, দুই সাগরের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা আছে সে তোমার চেয়ে বড় জ্ঞানী।
মূসা (আঃ) বললেন, হে পরওয়ারদিগার, আমি কি উপায়ে তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পারি?
তিনি বললেনঃ একটি থলের মধ্যে একটি মাছ নাও। যেখানে গিয়ে মাছটি হারিয়ে যাবে সে স্থানেই সে আছে। তারপর তিনি রওয়ানা হলেন। সঙ্গে তাঁর খাদেম ইউশা’ ইবন নূনও চললেন। মূসা (আঃ) মাছটি একটি থলেতে রাখলেন। তিনি ও তাঁর খাদিম চলতে চলতে একটি চটানের কাছে এসে পৌঁছে মূসা ও তার খাদিম ঘুমিয়ে পড়েন। তখন থলের ভিতর মাছটি নড়ে চড়ে থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে পড়ে যায়। আল্লাহ্ তা’য়ালা চলার পথে পানির ধারা বন্ধ করে দিলেন। ফলে সেটি একটি তাকের মত হয়ে যায়।
মাছটির জন্য এটি একটি সুড়ঙ্গেরা মত হয়ে পড়ে আর মূসা ও তাঁর খাদেমের জন্য এক বিস্ময়কর বস্ত হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর তাঁরা বাকী দিন ও রাত্রিভর চলতে থাকেন। মূসার সাথী তাঁকে মাছের বিষয়টি বলতে ভুলে যান। সকাল হলে মূসা (আঃ) তাঁর খাদিমকে বললেনঃ আমাদের সকালের খাবার নিয়ে আস। এই সফরে আমরা বেশ ক্লান্তি অনুভব করছি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম করা পর্যন্ত তাঁরা কোন ক্লান্তি বোধ করেননি।
খাদিম বললেনঃ হায়, আপনি কি জানেন আমরা যখন চটানে আশ্রয় মাছের তখনকার ব্যাপারটি তো আমি ভুলে গিয়েছি। সে কথা বলতে শয়তান ছাড়া আর কেউ আমাকে ভুলিয়ে দেয়নি। এটি সাগরে এক আশ্চর্যজনক ভাবে পথ ধরে চলে গেছে।
মূসা (আঃ) বললেনঃ সেটাই তো ছিল উদ্দীষ্ঠ স্থান। অনন্তর উভয়েই তাঁরা পদচিহ্ন ধরে পেছনে ফিরে আসলেন।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, লোকদের ধারণা সেই চটানের পাশে ছিল সঞ্জীবনী ঝর্ণা। কোন মৃতের গায়ে এর পানি লাগলেই তা জীবিত হযে উঠে। ঐ মাছটির কিছু অংশ খাওয়া হয়েছিল। এতদসত্ত্বেও এর উপর উক্ত পানির ফোটা পড়লেই সেটি জীবিত হয়ে উঠে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাঁরা পদচিহ্ন অনুসরণ করে পাথরটির কাছে ফিরে এলেন। সেখানে এসে কাপড় ঘোমটা দিয়ে আবৃত এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। লোকটি বললেনঃ এই যমিনে সালাম কোথা হতে!
মূসা (আঃ) বললেনঃ আমি মূসা। লোকটি বললেনঃ বানূ ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
লোকটি বললেনঃ হে মূসা, আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন ধরনের জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত, আল্লাহ্ তা’আলা যা আপনাকে শিখিয়েছেন। আমি তা জানি না। আর আমিও আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক জ্ঞান লাভ করেছি যা তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। তা আপনি জানেন না।
মূসা (আঃ) বললেনঃ সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আপনি আমাকে শিক্ষা দিবেন- এই শর্তে আমি আপনার সঙ্গে আমি চলতে পারি কি?
লোকটি বললেনঃ আপনি কিছূতেই আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না। আর যে বিষয়ে আপনার জ্ঞানায়ত্ব নয় সে বিসয়ে আপনি কেমন করে ধৈর্যধারণ করবেন?
তিনি বললেনঃ ইনশাআল্লাহ্! আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার আদেশ অমান্য করব না।
খাযির বললেনঃ আপনি যদি আমার সাথে চলতে চান তবে কোন বিষয়ে আপনি আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি নিজে সে সম্বন্ধে আপনাকে বলি (১৮ : ৬২-৭০)। মূসা বললেন, আচ্ছা।
খাযির এবং মূসা সাগরের তীর দিয়ে হেঁটে চললেন। তাঁদের পাশ দিয়ে একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা তাতে তুলে নেওয়ার জন্য নৌকার লোকদের সঙ্গে আলাপ করলেন। তারা খাযির (আঃ)-কে চিনতে পেরে পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদের উভয়কে তুলে নিল। এরপর খাযির (গোপনে) নৌকার একটি তক্তার দিকে লক্ষ্য করে তা সরিয়ে ফেললেন।
মূসা (আঃ) তাঁকে বললেনঃ বিনা পারিশ্রমিকে এরা আমাদের বহন করল আর আপনি আরোহীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য আপনি এটি বিদীর্ণ করে দিলেন! আপনি এক গুরুতর কাজ করলেন।
খাযির বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না?
মূসা (আঃ) বললেনঃ মেহেরবানী করে আমার ভুলের জন্য আমাকে ধরবেন না এবং আমার বিষয়ে অত্যাধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না।
এরপর তাঁরা নৌকা থেকে নামলেন। তাঁরা তীর দিয়ে হেঁটে চলছিলেন। এমন সময় দেখেন কতকগুলো বালকের সাথে একটি বালক খেলছে। খাযির (আঃ) সেই বালকটির মাথা ধরে তার ঘাড় মটকে তাকে হত্যা করে ফেললেন। মূসা (আঃ) তাকে বললেনঃ আপনি কি একটি নিষ্পাপ বালককে কোন প্রাণ হত্যার বিনিময় ব্যতীতই হত্যা করে ফেললেন! আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
খাযির (আঃ) বললেনঃ আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই আপত্তি প্রথমটির তুলনায় কঠোরতর।
মূসা (আঃ) বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে আর সঙ্গে রাখবেন না। আমার পক্ষ থেকে ওযর গ্রহণে আপনি চরমে পৌছে গিয়েছেন।
এরপর তাঁরা উভয়েই চলতে চলতে এক জনপদবাসীদের কাছে পৌঁছে তাদের নিকট খাবার চাইলেন।
কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। এরপর মূসা ও খাযির তাদের একটা পতনোন্মুখ দেওয়াল ঝুঁকে পড়েছে দেখতে পেলেন। খাযির সেটিকে তাঁর হাত দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
মূসা (আঃ) বললেনঃ এমন এক সম্প্রদায়! এদের কাছে আমরা এলাম কিন্তু তারা আমাদের কোনরূপ মেহমানদারী করল না এবং আমাদের খাওয়ালো না। আপনি ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।
খাযির (আঃ) বললেনঃ এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হল। যে বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেননি আমি সেগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা মূসা (আঃ)-এর উপর রহম করুন। আমাদের মনোবঞ্ছা ছিল, তিনি যদি ধৈর্যধারণ করতেন তাহলে তাঁদের আরো বহু বিষয় আমাদের কাছে বিবৃত করা হতো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির কিনারে বসে সাগরে এক ঠোকর মারল। তখন খাযির (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বললেনঃ সাগর থেকে এই চড়ুইটি যতটুযকু পানি আহরণ করতে পেরেছে আপনার এবং আমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় সে পরিমাণ ছাড়া আহরণ করতে পারেনি। সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু পাঠ করতেনঃ
قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلاَّ الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا
আরো পাঠ করতেনঃ (ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا)।
সহীহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ ইসহাক হামদানী এটি সাঈদ ইবন জুবায়র-ইবন আব্বাস-উবাই কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। যুহরী এটি উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন উতবা (রহঃ)-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবূ মুযাহিম ফাযারকান্দী (রহঃ) বলেন, আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) বলেছেনঃ যদিও আমার দৃঢ় সংকল্প ছিল না তবুও এই হাদীস সম্বন্ধে সুফইয়ান (রহঃ) থেকে পূর্ণ খবর শোনার জন্য হজ্জ করলাম। শেষে তাকে (فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلاَ تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا) রূপে রিওয়ায়ত করতে শুনলাম। এর আগেও হাদীসটি সুফইয়ানকে রিওয়ায়ত করতে শুনেছি তিনি পূর্ণ খবর বর্ণনা করেননি।
তিনি বললেনঃ আমি।
আল্লাহ্ তা’আলার দিকে বিষয়টি সোপর্দ না করায় তিনি তাঁর উপর অসন্তুষ্ট হন। তিনি তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন, দুই সাগরের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা আছে সে তোমার চেয়ে বড় জ্ঞানী।
মূসা (আঃ) বললেন, হে পরওয়ারদিগার, আমি কি উপায়ে তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পারি?
তিনি বললেনঃ একটি থলের মধ্যে একটি মাছ নাও। যেখানে গিয়ে মাছটি হারিয়ে যাবে সে স্থানেই সে আছে। তারপর তিনি রওয়ানা হলেন। সঙ্গে তাঁর খাদেম ইউশা’ ইবন নূনও চললেন। মূসা (আঃ) মাছটি একটি থলেতে রাখলেন। তিনি ও তাঁর খাদিম চলতে চলতে একটি চটানের কাছে এসে পৌঁছে মূসা ও তার খাদিম ঘুমিয়ে পড়েন। তখন থলের ভিতর মাছটি নড়ে চড়ে থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে পড়ে যায়। আল্লাহ্ তা’য়ালা চলার পথে পানির ধারা বন্ধ করে দিলেন। ফলে সেটি একটি তাকের মত হয়ে যায়।
মাছটির জন্য এটি একটি সুড়ঙ্গেরা মত হয়ে পড়ে আর মূসা ও তাঁর খাদেমের জন্য এক বিস্ময়কর বস্ত হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর তাঁরা বাকী দিন ও রাত্রিভর চলতে থাকেন। মূসার সাথী তাঁকে মাছের বিষয়টি বলতে ভুলে যান। সকাল হলে মূসা (আঃ) তাঁর খাদিমকে বললেনঃ আমাদের সকালের খাবার নিয়ে আস। এই সফরে আমরা বেশ ক্লান্তি অনুভব করছি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম করা পর্যন্ত তাঁরা কোন ক্লান্তি বোধ করেননি।
খাদিম বললেনঃ হায়, আপনি কি জানেন আমরা যখন চটানে আশ্রয় মাছের তখনকার ব্যাপারটি তো আমি ভুলে গিয়েছি। সে কথা বলতে শয়তান ছাড়া আর কেউ আমাকে ভুলিয়ে দেয়নি। এটি সাগরে এক আশ্চর্যজনক ভাবে পথ ধরে চলে গেছে।
মূসা (আঃ) বললেনঃ সেটাই তো ছিল উদ্দীষ্ঠ স্থান। অনন্তর উভয়েই তাঁরা পদচিহ্ন ধরে পেছনে ফিরে আসলেন।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, লোকদের ধারণা সেই চটানের পাশে ছিল সঞ্জীবনী ঝর্ণা। কোন মৃতের গায়ে এর পানি লাগলেই তা জীবিত হযে উঠে। ঐ মাছটির কিছু অংশ খাওয়া হয়েছিল। এতদসত্ত্বেও এর উপর উক্ত পানির ফোটা পড়লেই সেটি জীবিত হয়ে উঠে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাঁরা পদচিহ্ন অনুসরণ করে পাথরটির কাছে ফিরে এলেন। সেখানে এসে কাপড় ঘোমটা দিয়ে আবৃত এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। লোকটি বললেনঃ এই যমিনে সালাম কোথা হতে!
মূসা (আঃ) বললেনঃ আমি মূসা। লোকটি বললেনঃ বানূ ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
লোকটি বললেনঃ হে মূসা, আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন ধরনের জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত, আল্লাহ্ তা’আলা যা আপনাকে শিখিয়েছেন। আমি তা জানি না। আর আমিও আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক জ্ঞান লাভ করেছি যা তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। তা আপনি জানেন না।
মূসা (আঃ) বললেনঃ সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আপনি আমাকে শিক্ষা দিবেন- এই শর্তে আমি আপনার সঙ্গে আমি চলতে পারি কি?
লোকটি বললেনঃ আপনি কিছূতেই আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না। আর যে বিষয়ে আপনার জ্ঞানায়ত্ব নয় সে বিসয়ে আপনি কেমন করে ধৈর্যধারণ করবেন?
তিনি বললেনঃ ইনশাআল্লাহ্! আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার আদেশ অমান্য করব না।
খাযির বললেনঃ আপনি যদি আমার সাথে চলতে চান তবে কোন বিষয়ে আপনি আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি নিজে সে সম্বন্ধে আপনাকে বলি (১৮ : ৬২-৭০)। মূসা বললেন, আচ্ছা।
খাযির এবং মূসা সাগরের তীর দিয়ে হেঁটে চললেন। তাঁদের পাশ দিয়ে একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা তাতে তুলে নেওয়ার জন্য নৌকার লোকদের সঙ্গে আলাপ করলেন। তারা খাযির (আঃ)-কে চিনতে পেরে পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদের উভয়কে তুলে নিল। এরপর খাযির (গোপনে) নৌকার একটি তক্তার দিকে লক্ষ্য করে তা সরিয়ে ফেললেন।
মূসা (আঃ) তাঁকে বললেনঃ বিনা পারিশ্রমিকে এরা আমাদের বহন করল আর আপনি আরোহীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য আপনি এটি বিদীর্ণ করে দিলেন! আপনি এক গুরুতর কাজ করলেন।
খাযির বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না?
মূসা (আঃ) বললেনঃ মেহেরবানী করে আমার ভুলের জন্য আমাকে ধরবেন না এবং আমার বিষয়ে অত্যাধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না।
এরপর তাঁরা নৌকা থেকে নামলেন। তাঁরা তীর দিয়ে হেঁটে চলছিলেন। এমন সময় দেখেন কতকগুলো বালকের সাথে একটি বালক খেলছে। খাযির (আঃ) সেই বালকটির মাথা ধরে তার ঘাড় মটকে তাকে হত্যা করে ফেললেন। মূসা (আঃ) তাকে বললেনঃ আপনি কি একটি নিষ্পাপ বালককে কোন প্রাণ হত্যার বিনিময় ব্যতীতই হত্যা করে ফেললেন! আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
খাযির (আঃ) বললেনঃ আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই আপত্তি প্রথমটির তুলনায় কঠোরতর।
মূসা (আঃ) বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে আর সঙ্গে রাখবেন না। আমার পক্ষ থেকে ওযর গ্রহণে আপনি চরমে পৌছে গিয়েছেন।
এরপর তাঁরা উভয়েই চলতে চলতে এক জনপদবাসীদের কাছে পৌঁছে তাদের নিকট খাবার চাইলেন।
কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। এরপর মূসা ও খাযির তাদের একটা পতনোন্মুখ দেওয়াল ঝুঁকে পড়েছে দেখতে পেলেন। খাযির সেটিকে তাঁর হাত দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
মূসা (আঃ) বললেনঃ এমন এক সম্প্রদায়! এদের কাছে আমরা এলাম কিন্তু তারা আমাদের কোনরূপ মেহমানদারী করল না এবং আমাদের খাওয়ালো না। আপনি ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।
খাযির (আঃ) বললেনঃ এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হল। যে বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেননি আমি সেগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা মূসা (আঃ)-এর উপর রহম করুন। আমাদের মনোবঞ্ছা ছিল, তিনি যদি ধৈর্যধারণ করতেন তাহলে তাঁদের আরো বহু বিষয় আমাদের কাছে বিবৃত করা হতো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির কিনারে বসে সাগরে এক ঠোকর মারল। তখন খাযির (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বললেনঃ সাগর থেকে এই চড়ুইটি যতটুযকু পানি আহরণ করতে পেরেছে আপনার এবং আমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় সে পরিমাণ ছাড়া আহরণ করতে পারেনি। সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু পাঠ করতেনঃ
قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلاَّ الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا
আরো পাঠ করতেনঃ (ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا)।
সহীহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ ইসহাক হামদানী এটি সাঈদ ইবন জুবায়র-ইবন আব্বাস-উবাই কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। যুহরী এটি উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন উতবা (রহঃ)-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবূ মুযাহিম ফাযারকান্দী (রহঃ) বলেন, আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) বলেছেনঃ যদিও আমার দৃঢ় সংকল্প ছিল না তবুও এই হাদীস সম্বন্ধে সুফইয়ান (রহঃ) থেকে পূর্ণ খবর শোনার জন্য হজ্জ করলাম। শেষে তাকে (فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلاَ تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا) রূপে রিওয়ায়ত করতে শুনলাম। এর আগেও হাদীসটি সুফইয়ানকে রিওয়ায়ত করতে শুনেছি তিনি পূর্ণ খবর বর্ণনা করেননি।