অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সুনান আত তিরমিজী
বান্দাদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলা প্রদত্ত উদাহরণ।
মোট ১৬ টি হাদিস
হাদিস নং: ২৮৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر السعدي، حدثنا بقية بن الوليد، عن بحير بن سعد، عن خالد بن معدان، عن جبير بن نفير، عن النواس بن سمعان الكلابي، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله ضرب مثلا صراطا مستقيما على كنفى الصراط داران لهما ابواب مفتحة على الابواب ستور وداع يدعو على راس الصراط وداع يدعو فوقه: (والله يدعو الى دار السلام ويهدي من يشاء الى صراط مستقيم) والابواب التي على كنفى الصراط حدود الله فلا يقع احد في حدود الله حتى يكشف الستر والذي يدعو من فوقه واعظ ربه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . قال سمعت عبد الله بن عبد الرحمن يقول سمعت زكريا بن عدي يقول قال ابو اسحاق الفزاري خذوا عن بقية ما حدثكم عن الثقات ولا تاخذوا عن اسماعيل بن عياش ما حدثكم عن الثقات ولا غير الثقات .
২৮৫৯. আলী ইবন হুজর আস-সা’দী (রহঃ) ..... নাওয়াস ইবন সিমআন কিলাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা সীরাতে মুস্তাকিমের উদাহরণ দিয়েছেন (এরূপ) পথের দুই কিনারায় দুটো প্রাচীর। দুই প্রাচীরের মাঝে অনেকগুলো খোলা দরজা। দরজাগুলোতে পর্দা ঝুলানো। পথের মাথায় দাঁড়িয়ে একজন আহবায়ক ডাকছেন। পথের উপর থেকে ডাকছেন আরেকজন আহবায়ক।
আল্লাহ্ তা’আলা (মানুষকে) শান্তির আবাস (জান্নাত)-এর দিকে ডাকছেন এবং তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সিরাতে মুস্তাকিমের দিকে হিদায়ত করেন। পথের দু’পাশের দরজাগুলো হল আল্লাহ্ নির্ধারিত সীমাসমূহ। কেউ আল্লাহর সীমা লংঘন করলে এতে পর্দা সরে যায়। উপর থেকে যিনি ডাকছেন তিনি হলেন পরওয়ারদিগারের পক্ষ থেকে উপদেশ দাতা।
সহীহ, মিশকাত ১৯১, ১৯২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন: যাকারিয়া ইবন ’আদী সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমানকে বলতে শুনেছি যে, আবূ ইসহাক আল-ফাযারী (রহঃ) বলেছেন, ছিকাহ রাবীদের বরাতে যে সব হাদীস বাকিয়্যা বর্ণনা করেন তা গ্রহণ কর। আর ইসমাঈল ইবন আয়্যাশ ছিকাহ বা গায়র ছিকাহ যাদের বরাতেই হাদীস বর্ণনা করুন না কেন কোনটাই গ্রহণ করবে না।
আল্লাহ্ তা’আলা (মানুষকে) শান্তির আবাস (জান্নাত)-এর দিকে ডাকছেন এবং তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সিরাতে মুস্তাকিমের দিকে হিদায়ত করেন। পথের দু’পাশের দরজাগুলো হল আল্লাহ্ নির্ধারিত সীমাসমূহ। কেউ আল্লাহর সীমা লংঘন করলে এতে পর্দা সরে যায়। উপর থেকে যিনি ডাকছেন তিনি হলেন পরওয়ারদিগারের পক্ষ থেকে উপদেশ দাতা।
সহীহ, মিশকাত ১৯১, ১৯২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন: যাকারিয়া ইবন ’আদী সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমানকে বলতে শুনেছি যে, আবূ ইসহাক আল-ফাযারী (রহঃ) বলেছেন, ছিকাহ রাবীদের বরাতে যে সব হাদীস বাকিয়্যা বর্ণনা করেন তা গ্রহণ কর। আর ইসমাঈল ইবন আয়্যাশ ছিকাহ বা গায়র ছিকাহ যাদের বরাতেই হাদীস বর্ণনা করুন না কেন কোনটাই গ্রহণ করবে না।
হাদিস নং: ২৮৬০
যঈফ (Dai'f)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن خالد بن يزيد، عن سعيد بن ابي هلال، ان جابر بن عبد الله الانصاري، قال خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فقال " اني رايت في المنام كان جبريل عند راسي وميكاىيل عند رجلى يقول احدهما لصاحبه اضرب له مثلا . فقال اسمع سمعت اذنك واعقل عقل قلبك انما مثلك ومثل امتك كمثل ملك اتخذ دارا ثم بنى فيها بيتا ثم جعل فيها ماىدة ثم بعث رسولا يدعو الناس الى طعامه فمنهم من اجاب الرسول ومنهم من تركه فالله هو الملك والدار الاسلام والبيت الجنة وانت يا محمد رسول فمن اجابك دخل الاسلام ومن دخل الاسلام دخل الجنة ومن دخل الجنة اكل ما فيها " . وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن النبي صلى الله عليه وسلم باسناد اصح من هذا . قال ابو عيسى هذا حديث مرسل . سعيد بن ابي هلال لم يدرك جابر بن عبد الله . وفي الباب عن ابن مسعود .
২৮৬০. কুতায়বা (রহঃ) .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে এসে বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমার মাথার পাশে হলেন জিবরীল (আঃ) পায়ের কাছে মিকাঈল (আঃ)। একজন তার অপর সঙ্গীকে বলছেনঃ এ ব্যক্তির উদাহরণ দিন। অপরজন বললেন, শুনুন। আর আপনার কান যেন শ্রবণে নিবিষ্ট থাকে, আর আপনার অন্তর যেন যথার্থ উপলদ্ধিতে নিয়োজিত থাকে। আপনার এবং আপনার উম্মতের উপমা হল যেন, এক সম্রাট একটি বাড়ি বানালেন, তারপর এতে ঘর বানালেন। এরপর তাতে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা রাখলেন। তারপর তিনি লোকদেরকে আহারের দাওয়াত দিতে একজন আহবানকারী পাঠালেন। তাদের মাঝে একদল তো আহবায়কের ডাকে সাড়া দিলে আরেক দল তা প্রত্যাখ্যান করল।
আল্লাহ্ তা’আলা হলেন সেই সম্রাট। বাড়িটি হল ইসলাম। ঘর হল জান্নাত। আর ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি হলেন সেই প্রেরিত পুরুষ। যে ব্যক্তি আপনার ডাকে সাড়া দিল সে ইসলামে প্রবেশ করল। আর যে ইসলামে প্রবেশ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল। যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে তাতে যা আছে তা আহার করবে।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি মুরসাল। সাঈদ ইবন আবূ হিলাল জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাক্ষাৎ পান নি। এ বিষয়ে ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্যভাবে আরো সহীহ সনদে বর্ণিত আছে।
আল্লাহ্ তা’আলা হলেন সেই সম্রাট। বাড়িটি হল ইসলাম। ঘর হল জান্নাত। আর ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি হলেন সেই প্রেরিত পুরুষ। যে ব্যক্তি আপনার ডাকে সাড়া দিল সে ইসলামে প্রবেশ করল। আর যে ইসলামে প্রবেশ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল। যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে তাতে যা আছে তা আহার করবে।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি মুরসাল। সাঈদ ইবন আবূ হিলাল জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাক্ষাৎ পান নি। এ বিষয়ে ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্যভাবে আরো সহীহ সনদে বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৮৬১
হাসান (Hasan)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، عن جعفر بن ميمون، عن ابي تميمة الهجيمي، عن ابي عثمان، عن ابن مسعود، قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء ثم انصرف فاخذ بيد عبد الله بن مسعود حتى خرج به الى بطحاء مكة فاجلسه ثم خط عليه خطا ثم قال " لا تبرحن خطك فانه سينتهي اليك رجال فلا تكلمهم فانهم لا يكلمونك " . قال ثم مضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث اراد فبينا انا جالس في خطي اذ اتاني رجال كانهم الزط اشعارهم واجسامهم لا ارى عورة ولا ارى قشرا وينتهون الى لا يجاوزون الخط ثم يصدرون الى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا كان من اخر الليل لكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد جاءني وانا جالس فقال " لقد اراني منذ الليلة " . ثم دخل على في خطي فتوسد فخذي فرقد وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا رقد نفخ فبينا انا قاعد ورسول الله صلى الله عليه وسلم متوسد فخذي اذا انا برجال عليهم ثياب بيض الله اعلم ما بهم من الجمال فانتهوا الى فجلس طاىفة منهم عند راس رسول الله صلى الله عليه وسلم وطاىفة منهم عند رجليه ثم قالوا بينهم ما راينا عبدا قط اوتي مثل ما اوتي هذا النبي ان عينيه تنامان وقلبه يقظان اضربوا له مثلا مثل سيد بنى قصرا ثم جعل مادبة فدعا الناس الى طعامه وشرابه فمن اجابه اكل من طعامه وشرب من شرابه ومن لم يجبه عاقبه او قال عذبه - ثم ارتفعوا واستيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك فقال " سمعت ما قال هولاء وهل تدري من هولاء " . قلت الله ورسوله اعلم . قال " هم الملاىكة افتدري ما المثل الذي ضربوا " . قلت الله ورسوله اعلم . قال " المثل الذي ضربوا الرحمن تبارك وتعالى بنى الجنة ودعا اليها عباده فمن اجابه دخل الجنة ومن لم يجبه عاقبه او عذبه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه وابو تميمة هو الهجيمي واسمه طريف بن مجالد وابو عثمان النهدي اسمه عبد الرحمن بن مل وسليمان التيمي قد روى هذا الحديث عنه معتمر وهو سليمان بن طرخان ولم يكن تيميا وانما كان ينزل بني تيم فنسب اليهم . قال علي قال يحيى بن سعيد ما رايت اخوف لله تعالى من سليمان التيمي .
২৮৬১. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ’ইশার সালাত (নামায) আদায় করে ফিরলেন এবং আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাত ধরে তাঁকে নিয়ে বুতহায়ে মক্কায় দিকে বের হয়ে পড়লেন। অনন্তর এক স্থানে তাকে বসিয়ে চতুর্দিকে রেখা টেনে দিলেন এবং বললেনঃ তোমার এ রেখার মধ্যেই তুমি থাকবে। তোমার সীমা পর্যন্ত কিছু লোক অবশ্য আসবে। তুমি তাদের সাথে কথা বলবে না। তারাও তোমার সাথে কথা বলবে না।
তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে যাওয়ার তাঁর ইচ্ছা ছিল চলে গেলেন। আমি আমার বৃত্তের ভিতর বসে রইলাম। হঠাৎ একদল লোক আমার কাছে আসল, দেখতে মনে হল (ভারতের) জাঠ জাতীয় তাদের চুল এবং শরীর সবই ছিল ওদের মত। এদের গায়ে কোন আচ্ছাদনও দেখছিলাম না আবার তাদের সতরও দেখা যাচ্ছিল না। এরা আমার কাছাকাছি আসল কিন্তু রেখা অতিক্রম করল না। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে ফিরে গেল। এমনি রাত্রির শেষ ভাগ হয়ে এল (তারা আর আসল না) কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন আমি বসা ছিলাম তিনি বললেনঃ আমি দেখছি আজকের রাত ঘুমাতে পারি নি। এরপর তিনি আমার রেখার ভিতর প্রবেশ করে আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতেন তখন জোরে জোরে শ্বাস ফেলতেন।
আমি বসে রইলাম আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ আমি কিছু লোক দেখতে পেলাম। তাদের পরনে ছিল সাদা পোষাক। আল্লাহ্ই জানেন কি সৌন্দর্য যে তাঁদের ছিল! তারা আমার কাছে বসে গেলেন। এরপর পরস্পর বললেনঃ এ নবীকে যা দেওয়া হয়েছে আর কোন বান্দাকে তদ্রুপ দিতে আমরা কখনও দেখিনি। তাঁর দুই আঁখি তো নিদ্রা যায় কিন্তু তাঁর হৃদয় হল জাগ্রত। তোমরা তাঁর একটা উদাহরণ বর্ণনা কর।
এক অধিকর্তা একটি প্রাসাদ বানালেন। এরপর তাতে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা রাখলেন এবং লোকদেরকে এ খাদ্য ও পানীয়ের দাওয়াত দিলেন। যে ব্যক্তি এ দাওয়াত গ্রহণ করবে সে এ খাদ্য আহার করবে এবং পানীয় পান করবে। আর যে তা গ্রহণ করবে না তাকে অধিকর্তা শাস্তি দিবেন।
তারপর তারা উঠে চলে গেলেন। আর এই সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও জেগে উঠলেন। বললেনঃ এঁরা যা বলেছেন সবই আমি শুনেছি। তুমি কি জানো এরা কারা?
আমি বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।
তিনি বললেনঃ এরা হলেন ফিরিশতা। তাঁরা যে উদাহরণটি দিয়েছেন তা বুঝতে পেরেছে?
আমি বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।
তিনি বললেনঃ তাদের উদাহরণটির ব্যাখ্যা হল, দয়াময় জান্নাত নির্মান করেছেন। এর দিকে তার বান্দাদের তিনি দাওয়াত দিয়েছেন। যে ব্যক্তি তাঁর ডাকে সাড়া দিবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে সাড়া দিবে না তাকে তিনি শাস্তি দিবেন।
হাসান সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি এ সূত্রে হাসান-গারীব-সহীহ। আবূ তামীমা হুজায়মী (রহঃ) এর নাম হল তরীফ ইবন মুজালিদ। আবূ উছমান নাহদী (রহঃ) এর নাম হল আবদুর রহমান ইবন মালল। সুলায়মান তায়মী (রহঃ) হলেন ইবন তারখান। তিনি মূলত তায়মী ছিলেন না। কিন্তু তিনি বনূ তায়ম গোত্রে অবস্থান করতেন বলে তাদের দিকে সম্পর্কিত করে তাঁকে তায়মী বলা হয়। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন যে, ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেছেনঃ সুলায়মান তায়মী অপেক্ষা বেশী আর কাউকে আমি আল্লাহকে ভয় করতে দেখিনি।
তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে যাওয়ার তাঁর ইচ্ছা ছিল চলে গেলেন। আমি আমার বৃত্তের ভিতর বসে রইলাম। হঠাৎ একদল লোক আমার কাছে আসল, দেখতে মনে হল (ভারতের) জাঠ জাতীয় তাদের চুল এবং শরীর সবই ছিল ওদের মত। এদের গায়ে কোন আচ্ছাদনও দেখছিলাম না আবার তাদের সতরও দেখা যাচ্ছিল না। এরা আমার কাছাকাছি আসল কিন্তু রেখা অতিক্রম করল না। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে ফিরে গেল। এমনি রাত্রির শেষ ভাগ হয়ে এল (তারা আর আসল না) কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন আমি বসা ছিলাম তিনি বললেনঃ আমি দেখছি আজকের রাত ঘুমাতে পারি নি। এরপর তিনি আমার রেখার ভিতর প্রবেশ করে আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতেন তখন জোরে জোরে শ্বাস ফেলতেন।
আমি বসে রইলাম আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ আমি কিছু লোক দেখতে পেলাম। তাদের পরনে ছিল সাদা পোষাক। আল্লাহ্ই জানেন কি সৌন্দর্য যে তাঁদের ছিল! তারা আমার কাছে বসে গেলেন। এরপর পরস্পর বললেনঃ এ নবীকে যা দেওয়া হয়েছে আর কোন বান্দাকে তদ্রুপ দিতে আমরা কখনও দেখিনি। তাঁর দুই আঁখি তো নিদ্রা যায় কিন্তু তাঁর হৃদয় হল জাগ্রত। তোমরা তাঁর একটা উদাহরণ বর্ণনা কর।
এক অধিকর্তা একটি প্রাসাদ বানালেন। এরপর তাতে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা রাখলেন এবং লোকদেরকে এ খাদ্য ও পানীয়ের দাওয়াত দিলেন। যে ব্যক্তি এ দাওয়াত গ্রহণ করবে সে এ খাদ্য আহার করবে এবং পানীয় পান করবে। আর যে তা গ্রহণ করবে না তাকে অধিকর্তা শাস্তি দিবেন।
তারপর তারা উঠে চলে গেলেন। আর এই সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও জেগে উঠলেন। বললেনঃ এঁরা যা বলেছেন সবই আমি শুনেছি। তুমি কি জানো এরা কারা?
আমি বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।
তিনি বললেনঃ এরা হলেন ফিরিশতা। তাঁরা যে উদাহরণটি দিয়েছেন তা বুঝতে পেরেছে?
আমি বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।
তিনি বললেনঃ তাদের উদাহরণটির ব্যাখ্যা হল, দয়াময় জান্নাত নির্মান করেছেন। এর দিকে তার বান্দাদের তিনি দাওয়াত দিয়েছেন। যে ব্যক্তি তাঁর ডাকে সাড়া দিবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে সাড়া দিবে না তাকে তিনি শাস্তি দিবেন।
হাসান সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি এ সূত্রে হাসান-গারীব-সহীহ। আবূ তামীমা হুজায়মী (রহঃ) এর নাম হল তরীফ ইবন মুজালিদ। আবূ উছমান নাহদী (রহঃ) এর নাম হল আবদুর রহমান ইবন মালল। সুলায়মান তায়মী (রহঃ) হলেন ইবন তারখান। তিনি মূলত তায়মী ছিলেন না। কিন্তু তিনি বনূ তায়ম গোত্রে অবস্থান করতেন বলে তাদের দিকে সম্পর্কিত করে তাঁকে তায়মী বলা হয়। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন যে, ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেছেনঃ সুলায়মান তায়মী অপেক্ষা বেশী আর কাউকে আমি আল্লাহকে ভয় করতে দেখিনি।
হাদিস নং: ২৮৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا محمد بن سنان، حدثنا سليم بن حيان، بصري حدثنا سعيد بن ميناء، عن جابر بن عبد الله، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " انما مثلي ومثل الانبياء قبلي كرجل بنى دارا فاكملها واحسنها الا موضع لبنة فجعل الناس يدخلونها ويتعجبون منها ويقولون لولا موضع اللبنة " . وفي الباب عن ابى بن كعب وابي هريرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه .
২৮৬২. মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ...... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এবং অপরাপর আম্বিয়া-ই-কিরামের উদাহরণ হলঃ এক ব্যক্তি একটি ঘর বানালেন। এটিকে তিনি পরিপূর্ণ এবং সুন্দর করে তৈরী করলেন। তবে একটি ইটের জায়গা বাকী রয়ে গেল। লোকেরা এতে প্রবেশ করে এবং তা দেখে বিস্মিত হয়। আর বলে, এই একটি জায়গা যদি বাকী না থাকত।
সহীহ, ফিকহুস সীরাহ ১৪১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি এ সূত্রে হাসান-সহীহ-গারীব।
সহীহ, ফিকহুস সীরাহ ১৪১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি এ সূত্রে হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ২৮৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابان بن يزيد، حدثنا يحيى بن ابي كثير، عن زيد بن سلام، ان ابا سلام، حدثه ان الحارث الاشعري حدثه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان الله امر يحيى بن زكريا بخمس كلمات ان يعمل بها ويامر بني اسراىيل ان يعملوا بها وانه كاد ان يبطى بها فقال عيسى ان الله امرك بخمس كلمات لتعمل بها وتامر بني اسراىيل ان يعملوا بها فاما ان تامرهم واما انا امرهم . فقال يحيى اخشى ان سبقتني بها ان يخسف بي او اعذب فجمع الناس في بيت المقدس فامتلا المسجد وقعدوا على الشرف فقال ان الله امرني بخمس كلمات ان اعمل بهن وامركم ان تعملوا بهن اولهن ان تعبدوا الله ولا تشركوا به شيىا وان مثل من اشرك بالله كمثل رجل اشترى عبدا من خالص ماله بذهب او ورق فقال هذه داري وهذا عملي فاعمل واد الى فكان يعمل ويودي الى غير سيده فايكم يرضى ان يكون عبده كذلك وان الله امركم بالصلاة فاذا صليتم فلا تلتفتوا فان الله ينصب وجهه لوجه عبده في صلاته ما لم يلتفت وامركم بالصيام فان مثل ذلك كمثل رجل في عصابة معه صرة فيها مسك فكلهم يعجب او يعجبه ريحها وان ريح الصاىم اطيب عند الله من ريح المسك وامركم بالصدقة فان مثل ذلك كمثل رجل اسره العدو فاوثقوا يده الى عنقه وقدموه ليضربوا عنقه فقال انا افديه منكم بالقليل والكثير . ففدى نفسه منهم وامركم ان تذكروا الله فان مثل ذلك كمثل رجل خرج العدو في اثره سراعا حتى اذا اتى على حصن حصين فاحرز نفسه منهم كذلك العبد لا يحرز نفسه من الشيطان الا بذكر الله " . قال النبي صلى الله عليه وسلم " وانا امركم بخمس الله امرني بهن السمع والطاعة والجهاد والهجرة والجماعة فانه من فارق الجماعة قيد شبر فقد خلع ربقة الاسلام من عنقه الا ان يرجع ومن ادعى دعوى الجاهلية فانه من جثا جهنم " . فقال رجل يا رسول الله وان صلى وصام قال " وان صلى وصام فادعوا بدعوى الله الذي سماكم المسلمين المومنين عباد الله " . هذا حديث حسن صحيح غريب . قال محمد بن اسماعيل الحارث الاشعري له صحبة وله غير هذا الحديث .
২৮৬৩. মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... হারিছ আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহু তা’আলা ইয়াহ্ইয়া ইবন যাকারিয়া (আঃ)-কে নিজে আমল করতে এবং বনূ ইসরাঈলকেও আমল করতে বলার জন্য পাঁচটি কথার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি (লোকদের) বিষয়গুলো জানাতে প্রায় বিলম্বই করে ফেলেছিলেন। তখন ঈসা (আঃ) তাকে বললেনঃ আপনি নিজে আমল করতে এবং বনূ ইসরাঈলকেও আমল করার জন্য বলতে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে দিয়েছিলেন। হয় আপনি লোকদের এগুলো করতে নির্দেশ দিন, না হয় আমিই তাদের সেগুলো করতে নির্দেশ দিব।
ইয়াহ্ইয়া (আঃ) বললেনঃ আপনি যদি এই বিষয়ে আমার অগ্রগামী হয়ে যান তবে আমার আশংকা হয় যে আমাকে ভূমিতে ধসিয়ে দেওয়া হবে বা অন্য কোন আযাব দেওয়া হবে। অনন্তর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে লোকদের একত্রিত করলেন। মসজিদ লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। এমন কি বুরুজগুলোতে গিয়েও তারা বসল।
তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে পাঁচ বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আমি নিজেও সেগুলোর উপর আমল করি এবং তোমাদেরকেও সেগুলোর উপর আমলের নির্দেশ দিই। প্রথম হল, আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁর সঙ্গে কিছুর শরীক করবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে তার উদাহরণ হল, সেই ব্যক্তির মত যে তার সোনা বা রূপা নির্ভেজাল সম্পদ দিয়ে একটি দাস ক্রয় করল। তাকে বলল, এ হল আমার বাড়ি আর এ হল আমার কাজ। তুমি কাজ কর এবং আমাকে আমার হক দিবে। অনন্তর সে কাজ করতে থাকল কিন্তু তার মালিক ভিন্ন অন্যের হক আদায় করল। তোমাদের মধ্যে কেউ কি এই কথার উপর রাযী আছে যে, তার দাস এ ধরনের হোক?
আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদেরকে সালাতের নির্দেশ দিয়েছেন, সুতরাং তোমরা যখন সালাত (নামায) আদায় করবে তখন এদিক-সেদিক তাকাবে না। কেননা যতক্ষণ বান্দা এদিক-সেদিক না তাকায় ততক্ষণ সারাতে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নেক দৃষ্টি তাঁর বান্দার চেহারার দিকে নিবিষ্ট করে রাখেন।
তোমাদের আমি সিয়ামের নির্দেশ দিচ্ছি। এর উদাহরণ হল সেই ব্যক্তির মত, যে ব্যক্তি একটি দলে অবস্থান করছে। তার সঙ্গে আছে মিশক ভর্তি একটি থলে। দলের প্রত্যেকের কাছেই এ সুগন্ধি ভাল লাগে। আল্লাহ্ তা’আলার কাছে মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষা সিয়াম পালনকারীর (মুখের) গন্ধ অনেক বেশী সুগন্ধময়।
তোমাদের আমি সাদাকা-এর নির্দেশ দিচ্ছি। এর উদাহরণ হল সে ব্যক্তির মত যাকে শত্রুরা বন্দী করে তার ঘাড় পেঁচিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলেছে এবং গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার জন্য বধ্যভূমিতে নিয়ে চলেছে। তখন সে ব্যক্তি বললঃ আমার কম বেশী যা কিছু আছে সব কিছু মুক্তিপণ হিসাবে তোমাদের দিচ্ছি। অনন্তর সে এভাবে তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিল। (সাদাকার মাধ্যমেও মানুষ নিজেকে আযাব থেকে মুক্ত করে নেয়।)
তোমাদের আমি আল্লাহর যিকরের নির্দেশ দিচ্ছি। এর উদাহরণ হল সে ব্যক্তির মত যাকে তার দুশমণ দ্রুত পশ্চাদ্ধাবণ করছে। শেষে সে একটি সুন্দর কেল্লার ভিতরে এসে নিজেকে শত্রুদের থেকে হেফাজত করে নিল। এমনি ভাবে বান্দা আল্লাহর যিকরের কেল্লা ছাড়া নিজেকে হেফাযত করতে পারে না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমিও তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যেগুলোর নির্দেশ তিনি আমাকে দিয়েছেনঃ কথা শুনবে ও ফরমাবরদারী করবে। জিহাদ, হিজরত এবং মুসলিমদের জামা’আত অবলম্বন করবে। কেননা, যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণও জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল সে তার গলা থেকে ইসলামের বেড়ী খুলে ফেলে দিল- যতক্ষণ না সে আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে। যে ব্যক্তি জাহেলী যুগের ডাকে ডাকবে সে হল জাহান্নামীদের দলভুক্ত। জনৈক ব্যক্তি তখন বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে যদি সালাত (নামায) ও সিয়াম পালন করে তবুও? তিনি বললেনঃ যদিও সে সালাত (নামায) আদায় করে এবং সিয়াম পালন করে। সুতরাং মুসলিম, মুমিন, আল্লাহর বান্দা রূপে যে নামে আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের নামকরণ করেছেন সেই আল্লাহর ডাকেই তোমরা নিজেদের ডাকবে।
সহীহ, মিশকাত ৩৬৯৪, তা’লীকুর রাগীব ১/১৮৯-১৯০, সহিহুল জামি’ ১৭২৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিসটি হাসান-সহীহ-গারীব। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) বলেছেনঃ হারিছ আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংসর্গে পেয়েছেন। এ হাদীসটি ছাড়াও তাঁর বর্ণিত আরো হাদীস রয়েছে।
ইয়াহ্ইয়া (আঃ) বললেনঃ আপনি যদি এই বিষয়ে আমার অগ্রগামী হয়ে যান তবে আমার আশংকা হয় যে আমাকে ভূমিতে ধসিয়ে দেওয়া হবে বা অন্য কোন আযাব দেওয়া হবে। অনন্তর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে লোকদের একত্রিত করলেন। মসজিদ লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। এমন কি বুরুজগুলোতে গিয়েও তারা বসল।
তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে পাঁচ বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আমি নিজেও সেগুলোর উপর আমল করি এবং তোমাদেরকেও সেগুলোর উপর আমলের নির্দেশ দিই। প্রথম হল, আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁর সঙ্গে কিছুর শরীক করবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে তার উদাহরণ হল, সেই ব্যক্তির মত যে তার সোনা বা রূপা নির্ভেজাল সম্পদ দিয়ে একটি দাস ক্রয় করল। তাকে বলল, এ হল আমার বাড়ি আর এ হল আমার কাজ। তুমি কাজ কর এবং আমাকে আমার হক দিবে। অনন্তর সে কাজ করতে থাকল কিন্তু তার মালিক ভিন্ন অন্যের হক আদায় করল। তোমাদের মধ্যে কেউ কি এই কথার উপর রাযী আছে যে, তার দাস এ ধরনের হোক?
আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদেরকে সালাতের নির্দেশ দিয়েছেন, সুতরাং তোমরা যখন সালাত (নামায) আদায় করবে তখন এদিক-সেদিক তাকাবে না। কেননা যতক্ষণ বান্দা এদিক-সেদিক না তাকায় ততক্ষণ সারাতে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নেক দৃষ্টি তাঁর বান্দার চেহারার দিকে নিবিষ্ট করে রাখেন।
তোমাদের আমি সিয়ামের নির্দেশ দিচ্ছি। এর উদাহরণ হল সেই ব্যক্তির মত, যে ব্যক্তি একটি দলে অবস্থান করছে। তার সঙ্গে আছে মিশক ভর্তি একটি থলে। দলের প্রত্যেকের কাছেই এ সুগন্ধি ভাল লাগে। আল্লাহ্ তা’আলার কাছে মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষা সিয়াম পালনকারীর (মুখের) গন্ধ অনেক বেশী সুগন্ধময়।
তোমাদের আমি সাদাকা-এর নির্দেশ দিচ্ছি। এর উদাহরণ হল সে ব্যক্তির মত যাকে শত্রুরা বন্দী করে তার ঘাড় পেঁচিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলেছে এবং গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার জন্য বধ্যভূমিতে নিয়ে চলেছে। তখন সে ব্যক্তি বললঃ আমার কম বেশী যা কিছু আছে সব কিছু মুক্তিপণ হিসাবে তোমাদের দিচ্ছি। অনন্তর সে এভাবে তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিল। (সাদাকার মাধ্যমেও মানুষ নিজেকে আযাব থেকে মুক্ত করে নেয়।)
তোমাদের আমি আল্লাহর যিকরের নির্দেশ দিচ্ছি। এর উদাহরণ হল সে ব্যক্তির মত যাকে তার দুশমণ দ্রুত পশ্চাদ্ধাবণ করছে। শেষে সে একটি সুন্দর কেল্লার ভিতরে এসে নিজেকে শত্রুদের থেকে হেফাজত করে নিল। এমনি ভাবে বান্দা আল্লাহর যিকরের কেল্লা ছাড়া নিজেকে হেফাযত করতে পারে না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমিও তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যেগুলোর নির্দেশ তিনি আমাকে দিয়েছেনঃ কথা শুনবে ও ফরমাবরদারী করবে। জিহাদ, হিজরত এবং মুসলিমদের জামা’আত অবলম্বন করবে। কেননা, যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণও জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল সে তার গলা থেকে ইসলামের বেড়ী খুলে ফেলে দিল- যতক্ষণ না সে আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে। যে ব্যক্তি জাহেলী যুগের ডাকে ডাকবে সে হল জাহান্নামীদের দলভুক্ত। জনৈক ব্যক্তি তখন বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে যদি সালাত (নামায) ও সিয়াম পালন করে তবুও? তিনি বললেনঃ যদিও সে সালাত (নামায) আদায় করে এবং সিয়াম পালন করে। সুতরাং মুসলিম, মুমিন, আল্লাহর বান্দা রূপে যে নামে আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের নামকরণ করেছেন সেই আল্লাহর ডাকেই তোমরা নিজেদের ডাকবে।
সহীহ, মিশকাত ৩৬৯৪, তা’লীকুর রাগীব ১/১৮৯-১৯০, সহিহুল জামি’ ১৭২৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিসটি হাসান-সহীহ-গারীব। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) বলেছেনঃ হারিছ আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংসর্গে পেয়েছেন। এ হাদীসটি ছাড়াও তাঁর বর্ণিত আরো হাদীস রয়েছে।
হাদিস নং: ২৮৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو داود الطيالسي، حدثنا ابان بن يزيد، عن يحيى بن ابي كثير، عن زيد بن سلام، عن ابي سلام، عن الحارث الاشعري، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه بمعناه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب . وابو سلام الحبشي اسمه ممطور وقد رواه علي بن المبارك عن يحيى بن ابي كثير .
২৮৬৪. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... হারিছ আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মে অনূরূপ বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। রাবী আবূ সাল্লাম (রহঃ) এর নাম হল মামতূর। আলী ইবন মুবরাক (রহঃ)-ও এ হাদিসটি ইয়াহ্ইয়া ইবন আবূ কাছীর (রহঃ) এর বরাতে বর্ণনা করেছেন।
তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৮৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، عن انس، عن ابي موسى الاشعري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " مثل المومن الذي يقرا القران كمثل الاترجة ريحها طيب وطعمها طيب ومثل المومن الذي لا يقرا القران كمثل التمرة لا ريح لها وطعمها حلو ومثل المنافق الذي يقرا القران كمثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر ومثل المنافق الذي لا يقرا القران كمثل الحنظلة ريحها مر وطعمها مر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد رواه شعبة عن قتادة ايضا .
২৮৬৫. কুতায়বা (রহঃ) .... আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে সে হল উৎরুঞ্জা ফলের মত। ফলটি সুগন্ধি ও সুস্বাদু যার সৌরভ মনোরম ও স্বাদ উত্তম। যে মু’মিন কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হল খেজুরের মত। গন্ধ নেই কিন্তু সুস্বাদূ। যে মুনাফিক কুরআন পড়ে সে হল রায়হানা ফুলের মত। যার সৌরভ মনোরম ও স্বাদ তিক্ত। যে মুনাফিক কুরআন পড়ে না সে হল মাকাল ফলের মত যার গন্ধ ও স্বাদ তিক্ত।
সহীহ, নাকদুল কাত্তানী ৪৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। শু’বা (রহঃ) এটিকে কাতাদা (রহঃ) থেকে রিওয়ায়ত করেছেন।
সহীহ, নাকদুল কাত্তানী ৪৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। শু’বা (রহঃ) এটিকে কাতাদা (রহঃ) থেকে রিওয়ায়ত করেছেন।
হাদিস নং: ২৮৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن علي الخلال، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " مثل المومن كمثل الزرع لا تزال الرياح تفيىه ولا يزال المومن يصيبه بلاء ومثل المنافق كمثل الشجرة الارز لا تهتز حتى تستحصد " . هذا حديث حسن صحيح .
২৮৬৬. হাসান ইবন আলী খাল্লাল প্রমুখ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের উদাহরণ হল শস্যের মত, যাকে বাতাস দোলা দেয়। মু’মিনেরও তেমনি বালা মুসিবত পৌঁছতে থাকে। আর মুনাফিকের উদাহরণ হল অশ্বত্থ বৃক্ষের মত, বাতাসে হেলে না। শেষে (ঝড়ে) সমূলে উৎপাটিত হয়।
সহীহ, তাখরীজুল ঈমান আবী শাইবা ৮৬, সহিহাহ ২৮৮৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তাখরীজুল ঈমান আবী শাইবা ৮৬, সহিহাহ ২৮৮৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৮৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن موسى الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان من الشجر شجرة لا يسقط ورقها وهي مثل المومن حدثوني ما هي " . قال عبد الله فوقع الناس في شجر البوادي ووقع في نفسي انها النخلة . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " هي النخلة " . فاستحييت ان اقول قال عبد الله فحدثت عمر بالذي وقع في نفسي . فقال لان تكون قلتها احب الى من ان يكون لي كذا وكذا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن ابي هريرة رضى الله عنه .
২৮৬৭. ইসহাক ইবন মূসা আনসারী (রহঃ) ..... ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গাছের মধ্যে একটি গাছ এমন যার পাতা ঝরে না। এটি হল মু’মিনের উদাহরণ। তোমরা বলতো সেটি কি? আবদুল্লাহ্ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ উপস্থিত লোকদের ধারণা বন-বৃক্ষের উপর গিয়ে আপতিত হতে থাকে। কিন্তু আমার ধারণা হয় যে, এটি হল খেজুর বৃক্ষ। শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি হল খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমার তা বলতে লজ্জা লাগে। আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমার মনে যে ধারণার উদয় হয়েছিল তা (আমার পিতা) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি যদি এটা বলতে তবে অমুক অমুক সম্পদ আমার হাতে আসা অপেক্ষা তা আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিল।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদিসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদিসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৮৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن الهاد، عن محمد بن ابراهيم، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ارايتم لو ان نهرا بباب احدكم يغتسل منه كل يوم خمس مرات هل يبقى من درنه شيء " . قالوا لا يبقى من درنه شيء . قال " فذلك مثل الصلوات الخمس يمحو الله بهن الخطايا " . وفي الباب عن جابر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
حدثنا قتيبة، حدثنا بكر بن مضر القرشي، عن ابن الهاد، نحوه .
حدثنا قتيبة، حدثنا بكر بن مضر القرشي، عن ابن الهاد، نحوه .
২৮৬৮. কুতায়বা (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো দরজার সামনে যদি একটা নহর থাকে আর সে যদি তাতে দিনে পাঁচবার গোসল করে তবে তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে বলে কি তোমাদের ধারণা হয়? সাহাবীরা বললেন, না, কোন ময়লা তার থাকতে পারে না। তিনি বললেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায) ও তদ্রম্নপ। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’আলা গুনাহসমূহ বিলীন করে দেন।
সহীহ, ইরওয়া ১৫, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন হাদ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
সহীহ, ইরওয়া ১৫, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন হাদ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ২৮৬৯
হাসান (Hasan)
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن يحيى الابح، عن ثابت البناني، عن انس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " مثل امتي مثل المطر لا يدرى اوله خير ام اخره " . قال وفي الباب عن عمار وعبد الله بن عمرو وابن عمر وهذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . قال وروي عن عبد الرحمن بن مهدي انه كان يثبت حماد بن يحيى الابح وكان يقول هو من شيوخنا .
২৮৬৯. কুতায়বা (রহঃ) .... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মত হল বৃষ্টির মত। জানা নেই এর প্রথম ভাগ অধিক কল্যাণকর না শেষ ভাগ।
হাসান, মিশকাত ৬২৭৭, সহীহাহ ২২৮৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আম্মার, আবদুল্লাহ্ ইবন আমর, ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান, এ সূত্রে গারীব। আবদুর রহমান ইবন মাহদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি হাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া আবাহ্ (রহঃ)-কে নির্ভরযোগ্য বলে মত প্রকাশ করতেন। তিনি বলতেনঃ ইনি হলেন আমাদের শিক্ষকদের অন্যতম।
হাসান, মিশকাত ৬২৭৭, সহীহাহ ২২৮৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে আম্মার, আবদুল্লাহ্ ইবন আমর, ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান, এ সূত্রে গারীব। আবদুর রহমান ইবন মাহদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি হাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া আবাহ্ (রহঃ)-কে নির্ভরযোগ্য বলে মত প্রকাশ করতেন। তিনি বলতেনঃ ইনি হলেন আমাদের শিক্ষকদের অন্যতম।
হাদিস নং: ২৮৭০
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا خلاد بن يحيى، حدثنا بشير بن المهاجر، اخبرنا عبد الله بن بريدة، عن ابيه، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " هل تدرون ما هذه وما هذه " . ورمى بحصاتين . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " هذاك الامل وهذاك الاجل " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه .
২৮৭০. মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ ইবন বুরায়দা তাঁর পিতা বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটো নুড়িপাথর ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেনঃ তোমরা কি জান এটা এবং ওটা কিসের দৃষ্টান্ত? সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম বললেনঃ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ ওটা হল (মানুষের) আশা। আর এটা হল (তার) আয়ূ।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব ৪/১৩৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব ৪/১৩৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
হাদিস নং: ২৮৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن موسى، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " انما اجلكم فيما خلا من الامم كما بين صلاة العصر الى مغارب الشمس وانما مثلكم ومثل اليهود والنصارى كرجل استعمل عمالا فقال من يعمل لي الى نصف النهار على قيراط قيراط فعملت اليهود على قيراط قيراط فقال من يعمل لي من نصف النهار الى العصر على قيراط قيراط فعملت النصارى على قيراط قيراط ثم انتم تعملون من صلاة العصر الى مغارب الشمس على قيراطين قيراطين فغضبت اليهود والنصارى وقالوا نحن اكثر عملا واقل عطاء . قال هل ظلمتكم من حقكم شيىا قالوا لا . قال فانه فضلي اوتيه من اشاء " . هذا حديث حسن صحيح .
২৮৭১. ইসহাক ইবন মূসা আনসারী (রহঃ) .... ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতীত উম্মতসমূহের তুলনায় তোমাদের আয়ূর পরিমাণ হল আসর থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত সময়।
তোমাদের এবং ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের দৃষ্টান্ত হল, এক ব্যক্তি যিনি কিছু শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করতে চাইলেন। বললেনঃ এক এক কিরাতের বিনিময়ে অর্ধদিবস পর্যন্ত কে আমার কাজ করবে? ইয়াহূদীরা এক এক কিরাতের বিনিময়ে (অর্ধদিবস পর্যন্ত) কাজ করল।
এরপর তিনি বললেনঃ এক এক কিরাতের বিনিময়ে অর্ধ-দিবস থেকে আসর পর্যন্ত কে আমার কাজ করবে? অনন্তর খৃষ্টানরা এক এক কিরাতের বিনিময়ে (আসর পর্যন্ত) কাজ করল।
এরপর তোমরা দুই দুই কিরাতের বিনিময়ে আসর থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করছ। এতে ইয়াহূদী ও খৃষ্টনরা রাগান্বিত হয়ে বললঃ আমরা কাজ করলাম বেশী কিন্তু মজুরী পেলাম কম? তিনি (নিয়োগকর্তা আল্লাহ্ তা’আলা) বললেনঃ তোমাদের হকের ক্ষেত্রে আমি কোনরূপ জুলুম করেছি কি? তারা বললঃ না। তিনি বললেনঃ এতো (এই উম্মতকে দ্বিগুণ মজুরী প্রদান) আমার অনুগ্রহ। যাকে ইচ্ছা তাকে আমি তা প্রদান করি।
সহীহ, মুখতাসারুল বুখারি ৩১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
তোমাদের এবং ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের দৃষ্টান্ত হল, এক ব্যক্তি যিনি কিছু শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করতে চাইলেন। বললেনঃ এক এক কিরাতের বিনিময়ে অর্ধদিবস পর্যন্ত কে আমার কাজ করবে? ইয়াহূদীরা এক এক কিরাতের বিনিময়ে (অর্ধদিবস পর্যন্ত) কাজ করল।
এরপর তিনি বললেনঃ এক এক কিরাতের বিনিময়ে অর্ধ-দিবস থেকে আসর পর্যন্ত কে আমার কাজ করবে? অনন্তর খৃষ্টানরা এক এক কিরাতের বিনিময়ে (আসর পর্যন্ত) কাজ করল।
এরপর তোমরা দুই দুই কিরাতের বিনিময়ে আসর থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করছ। এতে ইয়াহূদী ও খৃষ্টনরা রাগান্বিত হয়ে বললঃ আমরা কাজ করলাম বেশী কিন্তু মজুরী পেলাম কম? তিনি (নিয়োগকর্তা আল্লাহ্ তা’আলা) বললেনঃ তোমাদের হকের ক্ষেত্রে আমি কোনরূপ জুলুম করেছি কি? তারা বললঃ না। তিনি বললেনঃ এতো (এই উম্মতকে দ্বিগুণ মজুরী প্রদান) আমার অনুগ্রহ। যাকে ইচ্ছা তাকে আমি তা প্রদান করি।
সহীহ, মুখতাসারুল বুখারি ৩১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ২৮৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن علي الخلال، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انما الناس كابل ماىة لا يجد الرجل فيها راحلة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
২৮৭২. হাসান ইবন আলী আল-খাল্লাল প্রমূখ (রহঃ) .... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের দৃষ্টান্ত যেমন একশ’টি উট-যার মাঝে আরোহণ যোগ্য নেই একটিও।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৯৯০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৯৯০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৮৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عبد الرحمن المخزومي، حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، بهذا الاسناد نحوه وقال لا تجد فيها راحلة او قال لا تجد فيها الا راحلة .
২৮৭৩. সাঈদ ইবন আবদুর রহমান মাখযুমী (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এতে আছে- এর মাঝে তুমি একটিও আরোহণযোগ্য পারে না। বা তিনি বলেছেনঃ এর মাঝে একটি ছাড়া কোন আরোহণযোগ্য উট তুমি পাবে না।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ২৮৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا المغيرة بن عبد الرحمن، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " انما مثلي ومثل امتي كمثل رجل استوقد نارا فجعلت الدواب والفراش يقعن فيها وانا اخذ بحجزكم وانتم تقحمون فيها " . قال هذا حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه .
২৮৭৪. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এবং আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত হল সেই এক ব্যক্তির মত যে আগুন জ্বালাল। তখন কীট-পতঙ্গ এতে এসে নিপতিত হতে লাগল। আমি তো তোমাদের কোমর ধরে (আগুন থেকে) বাধা দিয়ে রাখছি কিন্তু তোমরা জবরদস্তী হাতে ঠেলে ঠুলে ঢুকে পড়ছ। সহীহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হদীসটি হাসান-সহীহ। অন্য সূত্রেও এটি বর্ণিত আছে।
(আবু ঈসা বলেন) হদীসটি হাসান-সহীহ। অন্য সূত্রেও এটি বর্ণিত আছে।