হাদিস নং: ১৫৩৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا ابو بكر بن عياش، حدثني محمد، مولى المغيرة بن شعبة حدثني كعب بن علقمة، عن ابي الخير، عن عقبة بن عامر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كفارة النذر اذا لم يسم كفارة يمين " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب .
১৫৩৪। আহমাদ ইবনু মানী’ (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানতের ক্ষেত্রে যদি কোন কিছু নির্ধারণ করা না হয় তবে এর কাফফারা হল কসমের কাফফারার অনুরূপ।
যঈফ, হাদীসে বর্ণিত "কোন কিছু নির্ধারণ করা না হয়" অংশ বাদে হাদিসটি সহীহ, ইরওয়া ২৫৮৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
যঈফ, হাদীসে বর্ণিত "কোন কিছু নির্ধারণ করা না হয়" অংশ বাদে হাদিসটি সহীহ, ইরওয়া ২৫৮৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ১৫৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الاعلى الصنعاني، حدثنا المعتمر بن سليمان، عن يونس، هو ابن عبيد حدثنا الحسن، عن عبد الرحمن بن سمرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا عبد الرحمن لا تسال الامارة فانك ان اتتك عن مسالة وكلت اليها وان اتتك عن غير مسالة اعنت عليها واذا حلفت على يمين فرايت غيرها خيرا منها فاىت الذي هو خير ولتكفر عن يمينك " . وفي الباب عن علي وجابر وعدي بن حاتم وابي الدرداء وانس وعاىشة وعبد الله بن عمرو وابي هريرة وام سلمة وابي موسى . قال ابو عيسى حديث عبد الرحمن بن سمرة حديث حسن صحيح .
১৫৩৫। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আবদুর রহমান, শাসন ক্ষমতাধিকারী হওয়ার যাঞ্চা করবে না। কেননা যদি যাচঞার কারণে তা তোমার কাছে আসে তবে এর ভাল মন্দের দায়িত্ব তোমার প্রতই সোপর্দ করা হবে। আর যদি যাচঞা ছাড়া তোমার কাছে তা আসে তবে এই বিষয়ে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তুমি সাহায্য প্রাপ্ত হবে। কোন বিষয়ে কসম করার পরে অন্য একটি বিষয়কে যদি তা থেকে ভাল দেখতে পাও তবে ঐ ভাল কাজটি করবে এবং তোমার কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে।
সহীহ, ইরওয়া ৭/১৬৬, ৮/২২৮, ২৬০১, সহীহ আবূ দাউদ ২৬০১, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আদী ইবনু হাতিম, আবূদ-দারদা, আনাস, আয়িশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ হুরায়রা, উম্মু সালামা ও আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুর রহমান ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, ইরওয়া ৭/১৬৬, ৮/২২৮, ২৬০১, সহীহ আবূ দাউদ ২৬০১, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আদী ইবনু হাতিম, আবূদ-দারদা, আনাস, আয়িশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ হুরায়রা, উম্মু সালামা ও আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুর রহমান ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ১৫৩৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، عن مالك بن انس، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من حلف على يمين فراى غيرها خيرا منها فليكفر عن يمينه وليفعل " . قال وفي الباب عن ام سلمة . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان الكفارة قبل الحنث تجزى وهو قول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم لا يكفر الا بعد الحنث . قال سفيان الثوري ان كفر بعد الحنث احب الى وان كفر قبل الحنث اجزاه .
১৫৩৬। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন বিষয়ে কসম করার পর অন্য বিষয় যদি তা থেকে ভাল দেখে তবে সে তার কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে এবং ঐ কাজটি করবে। সহীহ, ইরওয়া ২০৮৪, রাওযুন নাযীর ১০২৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ বিষয়ে উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন যে, কসম ভাঙ্গার পূর্বে কাফফারা দেওয়া যায়। এ হল ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, কসম ভাঙ্গার পর ছাড়া কাফফারা প্রদান করা যাবে না। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেন, কসম ভাঙ্গার পর কাফফারা প্রদান আমার নিকট অধিকতর পছন্দনীয়। তবে এর পূর্বেও যদি কাফফারা দিয়ে দেয় তবে তা তার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচ্য হবে।
এ বিষয়ে উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন যে, কসম ভাঙ্গার পূর্বে কাফফারা দেওয়া যায়। এ হল ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, কসম ভাঙ্গার পর ছাড়া কাফফারা প্রদান করা যাবে না। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেন, কসম ভাঙ্গার পর কাফফারা প্রদান আমার নিকট অধিকতর পছন্দনীয়। তবে এর পূর্বেও যদি কাফফারা দিয়ে দেয় তবে তা তার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচ্য হবে।
হাদিস নং: ১৫৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث، حدثني ابي وحماد بن سلمة، عن ايوب، عن نافع، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من حلف على يمين فقال ان شاء الله فقد استثنى فلا حنث عليه " . قال وفي الباب عن ابي هريرة . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن . وقد رواه عبيد الله بن عمر وغيره عن نافع عن ابن عمر موقوفا . وهكذا روي عن سالم عن ابن عمر رضى الله عنهما موقوفا . ولا نعلم احدا رفعه غير ايوب السختياني وقال اسماعيل بن ابراهيم وكان ايوب احيانا يرفعه واحيانا لا يرفعه . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان الاستثناء اذا كان موصولا باليمين فلا حنث عليه وهو قول سفيان الثوري والاوزاعي ومالك بن انس وعبد الله بن المبارك والشافعي واحمد واسحاق .
১৫৩৭। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কোন বিষয়ে কসম করতে ইনশাআল্লাহ বলে তবে তার উপর কসম ভাঙ্গার বিষয় প্রযোজ্য হবে না। (কেননা, তা কসম বলেই গন্য হবে না।) সহীহ, ইবনু মাজাহ ২১০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার প্রমুখ (রহঃ) এটিকে নাফি’ - ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে মাওকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে সালিম (রহঃ)-ও এটিকেইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন। আয়্যূব সাখতিয়ানী ছাড়া এটিকে আর কেউ মারফু’রূপে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নাই। ইসমাইল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, আয়্যূব (রহঃ) এটিকে কখনো মারফু’ রূপে বর্ণনা করেছেন আর কখনো কখনো মারফু’ রূপে বর্ণনা করেননি। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন যে, ইনশাআল্লাহ যদি কসমের সঙ্গে একত্রিত করে বলে তবে তার উপর কসম ভাঙ্গার বিষয় প্রযোজ্য হবে না এ হল সুফইয়ান ছাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার প্রমুখ (রহঃ) এটিকে নাফি’ - ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে মাওকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে সালিম (রহঃ)-ও এটিকেইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন। আয়্যূব সাখতিয়ানী ছাড়া এটিকে আর কেউ মারফু’রূপে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নাই। ইসমাইল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, আয়্যূব (রহঃ) এটিকে কখনো মারফু’ রূপে বর্ণনা করেছেন আর কখনো কখনো মারফু’ রূপে বর্ণনা করেননি। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন যে, ইনশাআল্লাহ যদি কসমের সঙ্গে একত্রিত করে বলে তবে তার উপর কসম ভাঙ্গার বিষয় প্রযোজ্য হবে না এ হল সুফইয়ান ছাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ১৫৩৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن ابن طاوس، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من حلف على يمين فقال ان شاء الله لم يحنث " . قال ابو عيسى سالت محمد بن اسماعيل عن هذا فقال هذا حديث خطا اخطا فيه عبد الرزاق اختصره من حديث معمر عن ابن طاوس عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان سليمان بن داود قال لاطوفن الليلة على سبعين امراة تلد كل امراة غلاما . فطاف عليهن فلم تلد امراة منهن الا امراة نصف غلام " . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لو قال ان شاء الله لكان كما قال " . هكذا روي عن عبد الرزاق عن معمر عن ابن طاوس عن ابيه هذا الحديث بطوله وقال " سبعين امراة " . وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " قال سليمان بن داود لاطوفن الليلة على ماىة امراة " .
১৫৩৮। ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কসম করে আর ইনশাআল্লাহ বলে তবে তার জন্য কসম ভাঙ্গার বিষয় নেই। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২১০৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ)-কে হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, এই হাদীসটি ভুল। এতে রাবী আবদুর রাযযাক ভুল করেছেন। তিনি মা’মার-ইবনু তাউস-তৎপিতা তাউস আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিতরিওয়ায়াতটিকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছেন।
রিওয়ায়াতটি হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুলায়মান ইবনু দাউদ (আলাইহিস সালাম) একবার বলেছিলেন, আমি আজ রাতে অবশ্যই সত্তর জন স্ত্রীর শয্যা পরিভ্রমণ করব। প্রত্যেক মহিলাই একজন করে সন্তান প্রসব করবে। অনন্তর তিনি উক্ত স্ত্রীদের শয্যা পরিভ্রমণ করেন। কিন্তু তাদের মাঝে কেউ কোন সন্তান প্রসব করতে পারল না। কেবল একজন একটি অর্ধ বিকলাঙ্গ শিশু প্রসব করল। অনন্তর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তিনি এতদসঙ্গে ইনশাআল্লাহ বলতেন তবে তার কথা অনুসারেই বিষয়টি ঘটত।
আবদুর রাযযাক (রহঃ) মা’মার-ইবনু তাউস-তৎপিতা তাউস (রহঃ) সূত্রে বিস্তারিতভাবে হাদীসটিকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে সত্তর জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, সুলায়মান ইবনু দাউদ (আঃ) বলেছেন, আজ রাতে একশত স্ত্রীর শয্যা পরিভ্রমণ করব।
আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ)-কে হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, এই হাদীসটি ভুল। এতে রাবী আবদুর রাযযাক ভুল করেছেন। তিনি মা’মার-ইবনু তাউস-তৎপিতা তাউস আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিতরিওয়ায়াতটিকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছেন।
রিওয়ায়াতটি হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুলায়মান ইবনু দাউদ (আলাইহিস সালাম) একবার বলেছিলেন, আমি আজ রাতে অবশ্যই সত্তর জন স্ত্রীর শয্যা পরিভ্রমণ করব। প্রত্যেক মহিলাই একজন করে সন্তান প্রসব করবে। অনন্তর তিনি উক্ত স্ত্রীদের শয্যা পরিভ্রমণ করেন। কিন্তু তাদের মাঝে কেউ কোন সন্তান প্রসব করতে পারল না। কেবল একজন একটি অর্ধ বিকলাঙ্গ শিশু প্রসব করল। অনন্তর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তিনি এতদসঙ্গে ইনশাআল্লাহ বলতেন তবে তার কথা অনুসারেই বিষয়টি ঘটত।
আবদুর রাযযাক (রহঃ) মা’মার-ইবনু তাউস-তৎপিতা তাউস (রহঃ) সূত্রে বিস্তারিতভাবে হাদীসটিকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে সত্তর জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, সুলায়মান ইবনু দাউদ (আঃ) বলেছেন, আজ রাতে একশত স্ত্রীর শয্যা পরিভ্রমণ করব।
হাদিস নং: ১৫৩৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا سفيان، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، سمع النبي صلى الله عليه وسلم عمر وهو يقول وابي وابي فقال " الا ان الله ينهاكم ان تحلفوا باباىكم " . فقال عمر فوالله ما حلفت به بعد ذلك ذاكرا ولا اثرا . قال وفي الباب عن ثابت بن الضحاك وابن عباس وابي هريرة وقتيلة وعبد الرحمن بن سمرة . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح . قال ابو عيسى قال ابو عبيد معنى قوله ولا اثرا . اى لم اثره عن غيري يقول لم اذكره عن غيري .
১৫৩৯। কুতায়বা (রহঃ) ... সালিম তৎপিতা ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে ’’কসম আমার পিতার, কসম আমার পিতার’’-এই কথা বলতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, সাবধান, আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে তোমাদের পিতার কসম খেতে নিষেধ করেছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর কসম, এরপর আর আমি এর কসম খাইনি বা অন্যের বরাতেও তা উল্লেখ করেনি।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২০৯৪, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ছাবির ইবনু যাহহাক, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, কুতায়লা, আবদুর রহমান ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, অর্থ হল অন্যের বরাতেও আমি তা উল্লেখ করেনি।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২০৯৪, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ছাবির ইবনু যাহহাক, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, কুতায়লা, আবদুর রহমান ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, অর্থ হল অন্যের বরাতেও আমি তা উল্লেখ করেনি।
হাদিস নং: ১৫৪০
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، حدثنا عبدة، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ادرك عمر وهو في ركب وهو يحلف بابيه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله ينهاكم ان تحلفوا باباىكم ليحلف حالف بالله او ليسكت " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
১৫৪০। হান্নাদ (রহঃ) ... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার একটি কাফেলার সঙ্গে চলছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তার পিতার নামে কসম করতে (শুনতে) পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের পিতার কসম খেতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের নিষেধ করেছেন। কসম করতে হলে আল্লাহর নামে করবে বা চুপ থাকবে। সহিহ, দেখুন পূর্বের হাদীস, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ১৫৪১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو خالد الاحمر، عن الحسن بن عبيد الله، عن سعد بن عبيدة، ان ابن عمر، سمع رجلا، يقول لا والكعبة . فقال ابن عمر لا يحلف بغير الله فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من حلف بغير الله فقد كفر او اشرك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وفسر هذا الحديث عند بعض اهل العلم ان قوله " فقد كفر او اشرك " على التغليظ . والحجة في ذلك حديث ابن عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم سمع عمر يقول وابي وابي . فقال " الا ان الله ينهاكم ان تحلفوا باباىكم " . وحديث ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " من قال في حلفه واللات والعزى فليقل لا اله الا الله " . قال ابو عيسى هذا مثل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " ان الرياء شرك " . وقد فسر بعض اهل العلم هذه الاية : ( ومن كان يرجو لقاء ربه فليعمل عملا صالحا ) الاية قال لا يراىي .
১৫৪১। কুতায়বা (রহঃ) ... সা’দ ইবনু উবায়দা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জনৈক ব্যক্তিকে ’’না কা’বার কসম’’ বলতে শুনতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কসম করা যায় না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কসম করল সে কুফরী করল বা শিরকী করল। সহীহ, ইরওয়া ২৫৬১, সহীহাহ ২০৪২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। কতক আলিম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, বিষয়টির প্রতি কঠোরতা প্রদর্শনার্থেই বলা হয়েছে ’’সে কুফরী করল বা শিরকী করল’’। এর দলীল হল ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে আছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারকে ’’আমার পিতার কসম, আমার পিতার কসম’’ বলতে শুনে তিনি বলেছিলেন, সাবধান, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পিতার নামে কসম করতে তোমাদের নিষেধ করেছেন। (এখানে কুফরীর কথা বলা হয়নি।) এমনিভাবে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কসম করতে যেয়ে বলে ’লাত ও উযযার’ কসম তবে সে যেন বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এটির মর্ম সেরূপই যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, রিয়া হল শিরক।
(فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا) যে ব্যক্তি তার প্রভুর সাক্ষাতের আশা করে সে যেন সৎ আমল করে। (সূরা কাহফঃ ১১০)-এই আয়াতের তাফসীরে কতক আলিম বলেন সে যেন রিয়া না করে।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। কতক আলিম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, বিষয়টির প্রতি কঠোরতা প্রদর্শনার্থেই বলা হয়েছে ’’সে কুফরী করল বা শিরকী করল’’। এর দলীল হল ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে আছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারকে ’’আমার পিতার কসম, আমার পিতার কসম’’ বলতে শুনে তিনি বলেছিলেন, সাবধান, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পিতার নামে কসম করতে তোমাদের নিষেধ করেছেন। (এখানে কুফরীর কথা বলা হয়নি।) এমনিভাবে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কসম করতে যেয়ে বলে ’লাত ও উযযার’ কসম তবে সে যেন বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এটির মর্ম সেরূপই যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, রিয়া হল শিরক।
(فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا) যে ব্যক্তি তার প্রভুর সাক্ষাতের আশা করে সে যেন সৎ আমল করে। (সূরা কাহফঃ ১১০)-এই আয়াতের তাফসীরে কতক আলিম বলেন সে যেন রিয়া না করে।
হাদিস নং: ১৫৪২
হাসান (Hasan)
حدثنا عبد القدوس بن محمد العطار البصري، حدثنا عمرو بن عاصم، عن عمران القطان، عن حميد، عن انس، قال نذرت امراة ان تمشي، الى بيت الله فسىل نبي الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال " ان الله لغني عن مشيها مروها فلتركب " . قال وفي الباب عن ابي هريرة وعقبة بن عامر وابن عباس . قال ابو عيسى حديث انس حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم وقالوا اذا نذرت امراة ان تمشي فلتركب ولتهد شاة .
১৫৪২। আবদুল কুদ্দুস ইবনু মুহাম্মদ আত্তার বাসরী (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা বায়তুল্লাহ শরীফে হেটে যাওয়ার মানত করে। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তার হেঁটে যাওয়া থেকে আল্লাহ অমুখাপেক্ষী সুতরাং তোমরা তাকে (বাহনে) আরোহণ করতে নির্দেশ দাও।
হাসান সহীহ, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, উকবা ইবনু আমির ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাসান সহীহ, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, উকবা ইবনু আমির ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিস নং: ১৫৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو موسى، محمد بن المثنى حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا حميد، عن ثابت، عن انس، قال مر النبي صلى الله عليه وسلم بشيخ كبير يتهادى بين ابنيه فقال " ما بال هذا " . قالوا يا رسول الله نذر ان يمشي . قال " ان الله عز وجل لغني عن تعذيب هذا نفسه " . قال فامره ان يركب .
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا ابن ابي عدي، عن حميد، عن انس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى رجلا فذكر نحوه . هذا حديث حسن صحيح .
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا ابن ابي عدي، عن حميد، عن انس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى رجلا فذكر نحوه . هذا حديث حسن صحيح .
১৫৪৩। আবূ মূসা মুহাম্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৃদ্ধ ব্যক্তির পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলেন, বৃদ্ধটি তার দুই ছেলেন কাঁধে ভর দিয়ে চলছিল। তিনি বললেন, এর কি হয়েছে? লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, লোকটি পায়ে হেঁটে (বায়তুল্লাহ যিয়ারতের) মানত করেছিল। তিনি বললেন, এর নিজেকে কষ্ট দেওয়ার প্রতি আল্লাহ মুখাপেক্ষী নন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বললেন, অনন্তর তিনি লোকটিকে (বাহনে) সাওয়ার হতে নির্দেশ দিলেন।
সহীহ, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহাম্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লোককে দেখলেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা বললেন, কোন মহিলা যদি পায়ে হেটে (বায়তুল্লাহ) যাওয়ার মানত করে তবুও সে বাহনে সওয়ার হয়ে যাবে এবং এর জন্য একটি বকরী হাদী (কুরবানী) হিসাবে আদায় করবে।
সহীহ, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহাম্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লোককে দেখলেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা বললেন, কোন মহিলা যদি পায়ে হেটে (বায়তুল্লাহ) যাওয়ার মানত করে তবুও সে বাহনে সওয়ার হয়ে যাবে এবং এর জন্য একটি বকরী হাদী (কুরবানী) হিসাবে আদায় করবে।
হাদিস নং: ১৫৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تنذروا فان النذر لا يغني من القدر شيىا وانما يستخرج به من البخيل " . قال وفي الباب عن ابن عمر . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم كرهوا النذر . وقال عبد الله بن المبارك معنى الكراهية في النذر في الطاعة والمعصية وان نذر الرجل بالطاعة فوفى به فله فيه اجر ويكره له النذر .
১৫৪৪। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মানত করবে না। কেননা, মানত তাকদীরে নির্ধারিত কোন বিষয়ে কিছুমাত্র উপকার দিতে পারে না। এর দ্বারা বখীলের কাছ থেকে কিছু বের করে নেওয়া হয় মাত্র।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২১২৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা মানত করা অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক বলেন, ফরমাবরদারীর কাজে হোক বা না ফরমানীর কাজে মানত করা সর্বাবস্থায় অপছন্দনীয়। কেউ যদি কোন পরমাবরদারী ও নেক কাজে মানত করে আর তা সে পূরণ করে তবে তার জন্য ছওয়াব হবে বটে কিন্তু মানত করা হবে মাকরূহ।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২১২৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা মানত করা অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক বলেন, ফরমাবরদারীর কাজে হোক বা না ফরমানীর কাজে মানত করা সর্বাবস্থায় অপছন্দনীয়। কেউ যদি কোন পরমাবরদারী ও নেক কাজে মানত করে আর তা সে পূরণ করে তবে তার জন্য ছওয়াব হবে বটে কিন্তু মানত করা হবে মাকরূহ।
হাদিস নং: ১৫৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا يحيى بن سعيد القطان، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، عن عمر، قال قلت يا رسول الله اني كنت نذرت ان اعتكف ليلة في المسجد الحرام في الجاهلية . قال " اوف بنذرك " . قال وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وابن عباس . قال ابو عيسى حديث عمر حديث حسن صحيح . وقد ذهب بعض اهل العلم الى هذا الحديث قالوا اذا اسلم الرجل وعليه نذر طاعة فليف به . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم لا اعتكاف الا بصوم . وقال اخرون من اهل العلم ليس على المعتكف صوم الا ان يوجب على نفسه صوما . واحتجوا بحديث عمر انه نذر ان يعتكف ليلة في الجاهلية فامره النبي صلى الله عليه وسلم بالوفاء . وهو قول احمد واسحاق .
১৫৪৫। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, জাহেলী যুগে আমি মসজিদুল হারামে এক রাত ই’তিকাফ করার মানত করেছিলাম। তিনি বললেন, তোমার মানত পূরণ কর। সহীহ, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারে কতক আলিম আমল করেছেন। তারা বলেন, কোন ব্যক্তি যদি ইসলাম গ্রহণ করে আর তার উপর যদি কোন নেক কাজের মানত থাকে তবে সে তার মানত পূরণ করবে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, সাওম ব্যতিরেখে ই’তিকাফ হয় না। অপর একদল আলিম বলেন, নিজের উপর সাওম প্রযোজ্য করা ব্যতিরেখে ই’তিকাফকারীর জন্য সওম অত্যাবশ্যক নয়। তারা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এ হাদীসটি দলীল হিসাবে পেশ করেন যে, তিনি একরাত ই’তিকাফ করবেন বলে জাহেলী যুগে মানত করেছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেই মানত পূরণ করতে নির্দেশ দেন। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারে কতক আলিম আমল করেছেন। তারা বলেন, কোন ব্যক্তি যদি ইসলাম গ্রহণ করে আর তার উপর যদি কোন নেক কাজের মানত থাকে তবে সে তার মানত পূরণ করবে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, সাওম ব্যতিরেখে ই’তিকাফ হয় না। অপর একদল আলিম বলেন, নিজের উপর সাওম প্রযোজ্য করা ব্যতিরেখে ই’তিকাফকারীর জন্য সওম অত্যাবশ্যক নয়। তারা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এ হাদীসটি দলীল হিসাবে পেশ করেন যে, তিনি একরাত ই’তিকাফ করবেন বলে জাহেলী যুগে মানত করেছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেই মানত পূরণ করতে নির্দেশ দেন। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ১৫৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا عبد الله بن المبارك، وعبد الله بن جعفر، عن موسى بن عقبة، عن سالم بن عبد الله، عن ابيه، قال كثيرا ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحلف بهذه اليمين " لا ومقلب القلوب " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
১৫৪৬। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ তৎপিতা আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, অনেক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইরূপ ভাবে কসম করতেন যে, (لاَ وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ) না, সেই সত্তার কসম যিনি হৃদয়কে পরিবর্তন করেন।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২০৯২, বুখারী, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২০৯২, বুখারী, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ১৫৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن الهاد، عن عمر بن علي بن الحسين بن علي بن ابي طالب، عن سعيد ابن مرجانة، عن ابي هريرة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من اعتق رقبة مومنة اعتق الله منه بكل عضو منه عضوا من النار حتى يعتق فرجه بفرجه " . قال وفي الباب عن عاىشة وعمرو بن عبسة وابن عباس وواثلة بن الاسقع وابي امامة وعقبة بن عامر وكعب بن مرة . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه . وابن الهاد اسمه يزيد بن عبد الله بن اسامة بن الهاد وهو مدني ثقة قد روى عنه مالك بن انس وغير واحد من اهل العلم .
১৫৪৭। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কেউ যদি কোন মুমিন দাসকে আযাদ করে তবে আল্লাহ তা’আলা এর প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে আযাদকারীর প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামাগ্নি থেকে আযাদ করে দিবেন। এমনকি এর লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকে মুক্তি দিবেন। সহীহ, ইরওয়া ১৭৪২, রাওযুন নাযীর ৩৫৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, আমর ইবনু আব্বাস, ইবনু আব্বাস, ওয়াসীলা ইবনু আসকা’, আবূ উমামা, কা’ব ইবনু মুররা এবং উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। তবে এই সূত্রে গারীব। রাবী ইবনুল হাদ (রহঃ)-এর নাম হল ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উসামা ইবনুল-হাদ। তিনি মাদীনী এবং নির্ভরযোগ্য রাবী (ছিকা)। তার বরাতে মালিক ইবনু আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ একাধিক আলিম হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
এই বিষয়ে আয়িশা, আমর ইবনু আব্বাস, ইবনু আব্বাস, ওয়াসীলা ইবনু আসকা’, আবূ উমামা, কা’ব ইবনু মুররা এবং উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। তবে এই সূত্রে গারীব। রাবী ইবনুল হাদ (রহঃ)-এর নাম হল ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উসামা ইবনুল-হাদ। তিনি মাদীনী এবং নির্ভরযোগ্য রাবী (ছিকা)। তার বরাতে মালিক ইবনু আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ একাধিক আলিম হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস নং: ১৫৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، حدثنا المحاربي، عن شعبة، عن حصين، عن هلال بن يساف، عن سويد بن مقرن المزني، قال لقد رايتنا سبعة اخوة ما لنا خادم الا واحدة فلطمها احدنا فامرنا النبي صلى الله عليه وسلم ان نعتقها . قال وفي الباب عن ابن عمر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روى غير واحد هذا الحديث عن حصين بن عبد الرحمن فذكر بعضهم في الحديث قال لطمها على وجهها .
১৫৪৮। আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... সুওয়ায়দ ইবনু মুকাররিন মুযানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা দেখেছি যে, আমরা ছিলাম সাত ভাই। অথচ আমাদের একটি ছাড়া কোন দাসী ছিল না। একদিন আমাদের একজন তাকে থাপ্পড় মারে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে আযাদ করে দিতে নির্দেশ দিলেন।
সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। হুসায়ন ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে একাধিক রাবী এটি রিওয়ায়ত করেছেন। কোন রাবী এই হাদীসটি উল্লেখ করেন যে,لَطَمَهَا عَلَى وَجْهِهَا দাসীর চেহারায় সে থাপ্পড় মেরেছিল।
সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। হুসায়ন ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে একাধিক রাবী এটি রিওয়ায়ত করেছেন। কোন রাবী এই হাদীসটি উল্লেখ করেন যে,لَطَمَهَا عَلَى وَجْهِهَا দাসীর চেহারায় সে থাপ্পড় মেরেছিল।
হাদিস নং: ১৫৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا اسحاق بن يوسف الازرق، عن هشام الدستواىي، عن يحيى بن ابي كثير، عن ابي قلابة، عن ثابت بن الضحاك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من حلف بملة غير الاسلام كاذبا فهو كما قال " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد اختلف اهل العلم في هذا اذا حلف الرجل بملة سوى الاسلام فقال هو يهودي او نصراني ان فعل كذا وكذا ففعل ذلك الشىء فقال بعضهم قد اتى عظيما ولا كفارة عليه وهو قول اهل المدينة وبه يقول مالك بن انس والى هذا القول ذهب ابو عبيد . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين وغيرهم عليه في ذلك الكفارة وهو قول سفيان واحمد واسحاق .
১৫৪৯। আহমাদ ইবনু মানী’ (রহঃ) ... ছাবিত ইবনু যাহহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের মিথ্যা শপথ করবে সে তা-ই বলে বিবেচ্য হবে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২০৯৮, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আলিমগণের মত বিরোধ রয়েছে যে, কেউ যদি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের শপথ করে যেমন বলল অমুক কাজ যদি সে করে তবে সে ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান আর পরে যদি ঐ কাজটি করে তবে কি হবে? কতক আলিম বলেন, এতে সে এক ভীষণ এক মারাত্মক কাজ করল বটে তবে তার উপর কোন কাফফারা ধার্য হবে না। এ হল মদীনাবাসীদের অভিমত। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)-এর বক্তব্যও এ-ই। আবূ উবায়দ (রহঃ)-ও এই পন্থা অবলম্বন করেছেন। কতক সাহাবী, তাবিঈ ও অপরাপর আলিম বলেন, এতে তার উপর কাফফারা ধার্য হবে। এ হল সুফইয়ান ছাওরী, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)–এর অভিমত।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আলিমগণের মত বিরোধ রয়েছে যে, কেউ যদি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের শপথ করে যেমন বলল অমুক কাজ যদি সে করে তবে সে ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান আর পরে যদি ঐ কাজটি করে তবে কি হবে? কতক আলিম বলেন, এতে সে এক ভীষণ এক মারাত্মক কাজ করল বটে তবে তার উপর কোন কাফফারা ধার্য হবে না। এ হল মদীনাবাসীদের অভিমত। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)-এর বক্তব্যও এ-ই। আবূ উবায়দ (রহঃ)-ও এই পন্থা অবলম্বন করেছেন। কতক সাহাবী, তাবিঈ ও অপরাপর আলিম বলেন, এতে তার উপর কাফফারা ধার্য হবে। এ হল সুফইয়ান ছাওরী, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)–এর অভিমত।
হাদিস নং: ১৫৫০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن يحيى بن سعيد، عن عبيد الله بن زحر، عن ابي سعيد الرعيني، عن عبد الله بن مالك اليحصبي، عن عقبة بن عامر، قال قلت يا رسول الله ان اختي نذرت ان تمشي الى البيت حافية غير مختمرة . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ان الله لا يصنع بشقاء اختك شيىا فلتركب ولتختمر ولتصم ثلاثة ايام " . قال وفي الباب عن ابن عباس . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . والعمل على هذا عند اهل العلم وهو قول احمد واسحاق .
১৫৫০। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার বোন মানত করেছে যে, সে খালী পায়ে মাথা ও চেহারা না ঢেকে বায়তুল্লাহ শরীফ হেটে যাবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার বোনকে কষ্ট দিয়ে আল্লাহ তা’আলার তো কোন লাভ নাই। সে যেন সওয়ারীতে আরোহণ করে যায়, চেহারা ঢাকে এবং তিন দিন সওম পালন করে। যঈফ, ইবনু মাজাহ ২১৩৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।
হাদিস নং: ১৫৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، حدثنا ابو المغيرة، حدثنا الاوزاعي، حدثنا الزهري، عن حميد بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من حلف منكم فقال في حلفه واللات والعزى فليقل لا اله الا الله ومن قال تعال اقامرك فليتصدق " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو المغيرة هو الخولاني الحمصي واسمه عبد القدوس بن الحجاج .
১৫৫১। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি কসম করার সময় বলে লাতের কসম, উযযার কসম তবে সে যেন বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। যে ব্যক্তি বলে আস, জুয়া খেলি, তবে যেন সে কিছু সাদকা করে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২০৯৬, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূল মুগীরা (রহঃ) হলেন খাওলানী হিমসী। তার নাম হল আবদুল কুদ্দুস ইবনুল হাজ্জাজ।
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূল মুগীরা (রহঃ) হলেন খাওলানী হিমসী। তার নাম হল আবদুল কুদ্দুস ইবনুল হাজ্জাজ।
হাদিস নং: ১৫৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس، ان سعد بن عبادة، استفتى رسول الله صلى الله عليه وسلم في نذر كان على امه توفيت قبل ان تقضيه فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اقضه عنها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
১৫৫২। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, সা’দ ইবনু উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মানত সম্পর্কে ফতওয়া জানতে চেয়েছিলেন। তার মার একটি মানত ছিল কিন্তু তা পূরণ করার আগেই তার মৃত্যু ঘটেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার পক্ষ থেকে তুমি এটি আদায় করে দাও। সহীহ, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং: ১৫৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الاعلى حدثنا عمران بن عيينة هو اخو سفيان بن عيينة عن حصين عن سالم بن ابي الجعد عن ابي امامة وغيره من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ايما امرى مسلم اعتق امرا مسلما كان فكاكه من النار يجزي كل عضو منه عضوا منه وايما امرى مسلم اعتق امراتين مسلمتين كانتا فكاكه من النار يجزي كل عضو منهما عضوا منه وايما امراة مسلمة اعتقت امراة مسلمة كانت فكاكها من النار يجزي كل عضو منها عضوا منها قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه قال ابو عيسى وفي الحديث ما يدل على ان عتق الذكور للرجال افضل من عتق الاناث لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم من اعتق امرا مسلما كان فكاكه من النار يجزي كل عضو منه عضوا منه
১৫৫৩। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আবূ উমামা প্রমুখ সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে মুসলিম ব্যক্তি কোন মুসলিম দাসকে আযাদ করবে তা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। এর এক একটি অঙ্গের বিনিময়ে তার এক একটি অঙ্গের মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। যে মুসলিম ব্যক্তি দুইজন মুসলিম দাসকে আযাদ করবে। তারা দুইজন এই ব্যক্তির জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। তাদের প্রতি অঙ্গের বিনিময়ে এই ব্যক্তির প্রতি অঙ্গের মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। যে মুসলিম মহিলা কোন মুসলিম দাসীকে আযাদ করবে তা তার জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। এর প্রতি অঙ্গের বিনিময়ে তার প্রতি অঙ্গ মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫২২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। তবে এই সূত্রে গারীব। এই হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, পুরুষের জন্য দাসীর তুলনায় দাস আযাদ করা উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যে কোন মুসলিম দাসকে আযাদ করবে তা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। এর এক একটি অঙ্গের বিনিময়ে তার এক একটি অঙ্গের মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে।’’ হাদিসটি সব সনদেই সহীহ।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫২২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। তবে এই সূত্রে গারীব। এই হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, পুরুষের জন্য দাসীর তুলনায় দাস আযাদ করা উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যে কোন মুসলিম দাসকে আযাদ করবে তা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। এর এক একটি অঙ্গের বিনিময়ে তার এক একটি অঙ্গের মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে।’’ হাদিসটি সব সনদেই সহীহ।