হাদিস নং: ৪১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، قال حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ويل للاعقاب من النار " . قال وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وعاىشة وجابر وعبد الله بن الحارث هو ابن جزء الزبيدي ومعيقيب وخالد بن الوليد وشرحبيل بن حسنة وعمرو بن العاص ويزيد بن ابي سفيان . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " ويل للاعقاب وبطون الاقدام من النار " . قال وفقه هذا الحديث انه لا يجوز المسح على القدمين اذا لم يكن عليهما خفان او جوربان .
৪১. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, অযূতে যাদের গোড়ালী ভিজেনি তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। - বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ’আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশা, জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবনুল হারিছ, (ইনি হলেন ইবনু জায আয্-যুবায়দী), মু’আয়কীব, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, শুরাহবীল ইবনু হাসান, আমর ইবনুল আস, ইয়াযিদ ইবনু আবী সুফইয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন গোড়ালি এবং পায়ের পাতা যাদের ভিজেনি তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। হাদিসটির মর্ম হল পায়ে চামড়ার মোযা কাপড়ের মোটা শক্ত মোযা না থাকলে পায়ে মাসেহ করা জায়েয নয়।
এই বিষয়ে ’আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশা, জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবনুল হারিছ, (ইনি হলেন ইবনু জায আয্-যুবায়দী), মু’আয়কীব, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, শুরাহবীল ইবনু হাসান, আমর ইবনুল আস, ইয়াযিদ ইবনু আবী সুফইয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন গোড়ালি এবং পায়ের পাতা যাদের ভিজেনি তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। হাদিসটির মর্ম হল পায়ে চামড়ার মোযা কাপড়ের মোটা শক্ত মোযা না থাকলে পায়ে মাসেহ করা জায়েয নয়।
হাদিস নং: ৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو كريب، وهناد، وقتيبة، قالوا حدثنا وكيع، عن سفيان، ح قال وحدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، قال حدثنا سفيان، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا مرة مرة . قال ابو عيسى وفي الباب عن عمر وجابر وبريدة وابي رافع وابن الفاكه . قال ابو عيسى وحديث ابن عباس احسن شيء في هذا الباب واصح . وروى رشدين بن سعد وغيره هذا الحديث عن الضحاك بن شرحبيل عن زيد بن اسلم عن ابيه عن عمر بن الخطاب ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا مرة مرة . قال وليس هذا بشيء والصحيح ما روى ابن عجلان وهشام بن سعد وسفيان الثوري وعبد العزيز بن محمد عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৪২. আবূ কুরায়ব, হান্নাদ, কুবায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ একবার একবার করে ধুয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৪১১, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমর, জাবির, বুরায়দা, আবূ রাফি, ইবনুল ফকিহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। যাহহাক ইবনু শুরাহবীলের সূত্রে রিশদ্বীন ইবনু সা’দ ইবনু সা’দ প্রমুখ উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ এক একবার ধুয়ে উযূ করেছেন। তবে এই রিওয়ায়াতটি তেমন শুদ্ধ নয়। সহীহ হল সেটি, যেটি ইবনু আজনাল, হিশাম ইবনু সা,দ সুফইয়ান ছাওরী, আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
এই বিষয়ে উমর, জাবির, বুরায়দা, আবূ রাফি, ইবনুল ফকিহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। যাহহাক ইবনু শুরাহবীলের সূত্রে রিশদ্বীন ইবনু সা’দ ইবনু সা’দ প্রমুখ উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ এক একবার ধুয়ে উযূ করেছেন। তবে এই রিওয়ায়াতটি তেমন শুদ্ধ নয়। সহীহ হল সেটি, যেটি ইবনু আজনাল, হিশাম ইবনু সা,দ সুফইয়ান ছাওরী, আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৪৩
হাসান (Hasan)
حدثنا ابو كريب، ومحمد بن رافع، قالا حدثنا زيد بن حباب، عن عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان، قال حدثني عبد الله بن الفضل، عن عبد الرحمن بن هرمز، هو الاعرج عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا مرتين مرتين . قال ابو عيسى وفي الباب عن جابر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث ابن ثوبان عن عبد الله بن الفضل وهو اسناد حسن صحيح . قال ابو عيسى وقد روى همام عن عامر الاحول عن عطاء عن ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا ثلاثا ثلاثا " .
৪৩. আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রতিটি অঙ্গ দুইবার করে ধুয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১২৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিজি (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন এই হাদিসটি হাসান-গরীব। ইবনু ছাওবান (রহঃ) আবূদল্লাহ ইবনু ফাযল (রহঃ) এর সনদ ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এটি বর্ণিত আছে কি না আমাদের জানা নেই। এই সনদটি হাসান ও সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করে উযূ করেছেন বলেও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়াত রয়েছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিজি (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন এই হাদিসটি হাসান-গরীব। ইবনু ছাওবান (রহঃ) আবূদল্লাহ ইবনু ফাযল (রহঃ) এর সনদ ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এটি বর্ণিত আছে কি না আমাদের জানা নেই। এই সনদটি হাসান ও সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করে উযূ করেছেন বলেও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়াত রয়েছে।
হাদিস নং: ৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن سفيان، عن ابي اسحاق، عن ابي حية، عن علي، ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا ثلاثا ثلاثا . قال ابو عيسى وفي الباب عن عثمان وعاىشة والربيع وابن عمر وابي امامة وابي رافع وعبد الله بن عمرو ومعاوية وابي هريرة وجابر وعبد الله بن زيد وابى بن كعب . قال ابو عيسى حديث علي احسن شيء في هذا الباب واصح لانه قد روي من غير وجه عن علي رضوان الله عليه . والعمل على هذا عند عامة اهل العلم ان الوضوء يجزى مرة مرة ومرتين افضل وافضله ثلاث وليس بعده شيء . وقال ابن المبارك لا امن اذا زاد في الوضوء على الثلاث ان ياثم . وقال احمد واسحاق لا يزيد على الثلاث الا رجل مبتلى .
৪৪. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ..... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধুয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ’উছমান, আয়িশা, রুবায়্যি, ইবনু উমর, আবূ উমামা, আবূ রাফি’, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, মু’আবিয়া, আবূ হুরায়বা, জাবির, আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ, উবাই ইবনু কা’ব (আবূ যাবরা) (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। সাধারণভাবে আলিম ও ফকীহগণ এই হাদিস অনুসারে আমল করেন। প্রতিটি অঙ্গ একবার করে ধোয়া যথেষ্ট, দুইবার করে ধোয়া উত্তম আর সর্বোত্তম হল তিনবার করে ধোয়া। এই বিষয়ে এরপর আর কিছু করণীয় নেই। ইবনু মুবারাক বলেন, তিনবার থেকেও বেশী যদি কেউ ধোয় সে গোনাহগার হবে না বলে আমার মনে হয় না। ইমাম আহমদ ও ইসাহাক (রহঃ) বলেন সন্দেহ প্রবণ লোক ছাড়া তিনবারের অতিরিক্ত কেউ ধোয় না।
এই বিষয়ে ’উছমান, আয়িশা, রুবায়্যি, ইবনু উমর, আবূ উমামা, আবূ রাফি’, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, মু’আবিয়া, আবূ হুরায়বা, জাবির, আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ, উবাই ইবনু কা’ব (আবূ যাবরা) (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। সাধারণভাবে আলিম ও ফকীহগণ এই হাদিস অনুসারে আমল করেন। প্রতিটি অঙ্গ একবার করে ধোয়া যথেষ্ট, দুইবার করে ধোয়া উত্তম আর সর্বোত্তম হল তিনবার করে ধোয়া। এই বিষয়ে এরপর আর কিছু করণীয় নেই। ইবনু মুবারাক বলেন, তিনবার থেকেও বেশী যদি কেউ ধোয় সে গোনাহগার হবে না বলে আমার মনে হয় না। ইমাম আহমদ ও ইসাহাক (রহঃ) বলেন সন্দেহ প্রবণ লোক ছাড়া তিনবারের অতিরিক্ত কেউ ধোয় না।
হাদিস নং: ৪৫
যঈফ (Dai'f)
حدثنا اسماعيل بن موسى الفزاري، حدثنا شريك، عن ثابت بن ابي صفية، قال قلت لابي جعفر حدثك جابر، ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا مرة مرة ومرتين مرتين وثلاثا ثلاثا قال نعم .
৪৫. ইসমাঈল ইবনু মূসা আল-ফাযারী (রহঃ) ..... ছাবিত ইবন সাফিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি আবূ জা’ফারকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার করে ধুয়ে, দুইবার করে ধুয়ে এবং তিনবার করে ধুয়েও উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন বলে জাবার রাদিয়াল্লাহু আনহু কি আপনাকে হাদিস শুনিয়েছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ। - ইবনু মাজাহ ৪১০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৪৬
সহিহ (Sahih)
قال ابو عيسى وروى وكيع، هذا الحديث عن ثابت بن ابي صفية، قال قلت لابي جعفر حدثك جابر، ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا مرة مرة قال نعم . حدثنا بذلك هناد وقتيبة قالا حدثنا وكيع عن ثابت بن ابي صفية . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث شريك لانه قد روي من غير وجه هذا عن ثابت نحو رواية وكيع . وشريك كثير الغلط وثابت بن ابي صفية
৪৬. ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ছাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যার সূত্রে ওয়াকী’ও এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ছবিত বলেন আমি আবূ জফর’ কে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার করে অঙ্গ সমূহ ধুয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন বলে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু কি আপনাকে হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন শারীকের সূত্রে ছাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যা বর্ণিত হাদিসটির তুলনায় এটি অধিকতর শুদ্ধ। কেননা ওয়াতকী’-এর রিওয়ায়াতের অনুরূপ আরো অনেকেই ছাবিত থেকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর শারীক বহু ভুল করেন। ছাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যা হলেন আবূ হামযা ছুমালী।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন শারীকের সূত্রে ছাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যা বর্ণিত হাদিসটির তুলনায় এটি অধিকতর শুদ্ধ। কেননা ওয়াতকী’-এর রিওয়ায়াতের অনুরূপ আরো অনেকেই ছাবিত থেকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর শারীক বহু ভুল করেন। ছাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যা হলেন আবূ হামযা ছুমালী।
হাদিস নং: ৪৭
সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حدثنا محمد بن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو بن يحيى، عن ابيه، عن عبد الله بن زيد، ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا فغسل وجهه ثلاثا وغسل يديه مرتين مرتين ومسح براسه وغسل رجليه مرتين . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح . وقد ذكر في غير حديث ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا بعض وضوىه مرة وبعضه ثلاثا . وقد رخص بعض اهل العلم في ذلك لم يروا باسا ان يتوضا الرجل بعض وضوىه ثلاثا وبعضه مرتين او مرة .
৪৭. ইবনু আবী উমর (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে গিয়ে মুখ তিনবার ধৌত করলেন, দুই হাত দুইবার ধৌত করলেন আর মাথা মাসেহ করলেন ও দুই পা দুইবার করে ধৌত করলেন। - "দুই পা দুইবার করে ধৌত করলেন" অংশটি শাজ। আবু দাউদ ১০৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসনা ও সহীহ। একাধিক হাদীছে এই কথার উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু)-তে কিছু অঙ্গ একবার করে এবং কিছু অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করেছেন। আলিমদের কেউ কেউ এই কথার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁরা উযূতে কিছু অঙ্গ তিনবার, কিছু অঙ্গ দুইবার বা একবার করে ধৌত করায় কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসনা ও সহীহ। একাধিক হাদীছে এই কথার উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু)-তে কিছু অঙ্গ একবার করে এবং কিছু অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করেছেন। আলিমদের কেউ কেউ এই কথার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁরা উযূতে কিছু অঙ্গ তিনবার, কিছু অঙ্গ দুইবার বা একবার করে ধৌত করায় কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না।
হাদিস নং: ৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا هناد، وقتيبة، قالا حدثنا ابو الاحوص، عن ابي اسحاق، عن ابي حية، قال رايت عليا توضا فغسل كفيه حتى انقاهما ثم مضمض ثلاثا واستنشق ثلاثا وغسل وجهه ثلاثا وذراعيه ثلاثا ومسح براسه مرة ثم غسل قدميه الى الكعبين ثم قام فاخذ فضل طهوره فشربه وهو قاىم ثم قال احببت ان اريكم كيف كان طهور رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى وفي الباب عن عثمان وعبد الله بن زيد وابن عباس وعبد الله بن عمرو والربيع وعبد الله بن انيس وعاىشة رضوان الله عليهم .
৪৮. হান্নাদ ও কুতায়বা ..... আবূ হায়্যা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে একদিন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখলাম। তিনি প্রথমে কবজি পর্যন্ত দুই হাত খুব পরিস্কার করে ধুইলেন। পরে তিনবার কুলী করলেন, তিনবার নাকে পানি দিলেন, তিনবার চেহারা ধুইলেন, দুই হাত তিনবার ধুইলেন, একবার মাথা মাসেহ করলেন এবং গোড়ালির হাড্ডি পর্যন্ত দু্ পা ধুইলেন, তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং উযূর অবশিষ্ট পানি নিয়ে তা দাঁড়িয়েই পান করলেন এবং বললেন আমার মনে ইচ্ছা জাগল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি কি ছিল তা তোমাদের দেখাই। - সহিহ আবু দাউদ ১০১-১০৫, বুখারি সংক্ষেপিত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উছমান, আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ, ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশা, রুবায়্যি’ এবং আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদিস বর্ণিত আছে।
এই বিষয়ে উছমান, আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ, ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশা, রুবায়্যি’ এবং আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদিস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং: ৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، وهناد، قالا حدثنا ابو الاحوص، عن ابي اسحاق، عن عبد خير، ذكر عن علي، مثل حديث ابي حية الا ان عبد خير، قال كان اذا فرغ من طهوره اخذ من فضل طهوره بكفه فشربه . قال ابو عيسى حديث علي رواه ابو اسحاق الهمداني عن ابي حية وعبد خير والحارث عن علي وقد روى زاىدة بن قدامة وغير واحد عن خالد بن علقمة عن عبد خير عن علي رضى الله عنه حديث الوضوء بطوله . وهذا حديث حسن صحيح . قال وروى شعبة هذا الحديث عن خالد بن علقمة فاخطا في اسمه واسم ابيه فقال مالك بن عرفطة عن عبد خير عن علي . قال وروي عن ابي عوانة عن خالد بن علقمة عن عبد خير عن علي . قال وروي عنه عن مالك بن عرفطة مثل رواية شعبة والصحيح خالد بن علقمة .
৪৯. কুতায়বা ও হান্নাদ (রহঃ) .... আবদ খায়রের সূত্রেও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি আবূ হায়্যার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আবদ খায়র বর্ণিত রিওয়ায়াতে আছে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু উযূ (ওজু/অজু/অযু) শেষে অবশিষ্ট পানি হাতে নিয়ে তা পান করলেন। তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) এই হাদিসটি আবূ হায়্যা, আবদ খায়র, হারিছের সুত্রে আবূ ইসহাক হামদানীও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। যাইদা ইবনু কুদামা এবং আরো অনেক আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরাতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কিত এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। শুবা ও এই হাদিসটি খালিদ ইবনু আলকামা থেকে বর্ণনা করেছন। কিন্তু শুবা খালিদ ও তাঁর পিতা আলকামার নামের ক্ষেত্রে ভুলক্রমে মালিক ইবনু আরফুত বলে ফেলেছেন। আবূ ’আওয়ানা-খালিদ ইবনু আলকামা-আবদ খায়রু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এই সূত্রেও হাদিসটি বর্ণিত আছে। কিন্তু শুদ্ধ হল খালিদ ইবনু আলকামা।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) এই হাদিসটি আবূ হায়্যা, আবদ খায়র, হারিছের সুত্রে আবূ ইসহাক হামদানীও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। যাইদা ইবনু কুদামা এবং আরো অনেক আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরাতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কিত এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। শুবা ও এই হাদিসটি খালিদ ইবনু আলকামা থেকে বর্ণনা করেছন। কিন্তু শুবা খালিদ ও তাঁর পিতা আলকামার নামের ক্ষেত্রে ভুলক্রমে মালিক ইবনু আরফুত বলে ফেলেছেন। আবূ ’আওয়ানা-খালিদ ইবনু আলকামা-আবদ খায়রু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এই সূত্রেও হাদিসটি বর্ণিত আছে। কিন্তু শুদ্ধ হল খালিদ ইবনু আলকামা।
হাদিস নং: ৫০
যঈফ (Dai'f)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، واحمد بن ابي عبيد الله السليمي البصري، قالا حدثنا ابو قتيبة، سلم بن قتيبة عن الحسن بن علي الهاشمي، عن عبد الرحمن الاعرج، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " جاءني جبريل فقال يا محمد اذا توضات فانتضح " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب . قال وسمعت محمدا يقول الحسن بن علي الهاشمي منكر الحديث . قال وفي الباب عن ابي الحكم بن سفيان وابن عباس وزيد بن حارثة وابي سعيد الخدري . وقال بعضهم سفيان بن الحكم او الحكم بن سفيان واضطربوا في هذا الحديث .
৫০. নাসর ইবনু আলী জাহযামী এবং আহমদ এবং আহমদ ইবনু আবী ’উবায়দিল্লাহ আস-সালীমী আল-বসরী ...... আবূ হুরায়বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছন, একবার আমার নিকট জিবরীল এলেন, বললেন, হে মুহাম্মাদ! উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পর আপনি সামান্য পানি ছিটিয়ে দিবেন। - ইবনু মাজাহ ৪৬৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন,এই হাদিসটি গরীব। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, এই হাদিসটির অন্যতম রাবী হাসান ইবনু আলী আল-হাশিম হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে মুনকার। এই বিষয়ে আবূল হাকাম ইবনু সুফইয়ান, ইবনু আব্বাস, যায়দ ইবনু হারিছা ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। এই হাদিসটির হাকাম ইবনু সুফইয়ানের সূত্রে উযতিরাব রয়েছে। কেউ কেউ সুফইয়ান ইবনু হাকাম অথবা হাকাম ইবনু সুফইয়ানও বলেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন,এই হাদিসটি গরীব। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, এই হাদিসটির অন্যতম রাবী হাসান ইবনু আলী আল-হাশিম হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে মুনকার। এই বিষয়ে আবূল হাকাম ইবনু সুফইয়ান, ইবনু আব্বাস, যায়দ ইবনু হারিছা ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। এই হাদিসটির হাকাম ইবনু সুফইয়ানের সূত্রে উযতিরাব রয়েছে। কেউ কেউ সুফইয়ান ইবনু হাকাম অথবা হাকাম ইবনু সুফইয়ানও বলেছেন।
হাদিস নং: ৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن جعفر، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الا ادلكم على ما يمحو الله به الخطايا ويرفع به الدرجات " . قالوا بلى يا رسول الله . قال " اسباغ الوضوء على المكاره وكثرة الخطا الى المساجد وانتظار الصلاة بعد الصلاة فذلكم الرباط " .
৫১. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের বললেন আমি কি তোমাদের এমন এক বিষয়ের কথা বলব, যার কারণে আল্লাহ তা’আলা গুনাহ্ বিদূরিত করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তা হলঃ কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণ ভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, বেশি করে মসজিদে যাওয়া, এক সালাতের পর আরেক সালাতের অপেক্ষা করা। এ হলো জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্ত প্রতিরক্ষার মত। - ইবনু মাজাহ ৪২৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫২
সহিহ (Sahih)
وحدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء، نحوه . وقال قتيبة في حديثه " فذلكم الرباط فذلكم الرباط فذلكم الرباط " . ثلاثا . قال ابو عيسى وفي الباب عن علي وعبد الله بن عمرو وابن عباس وعبيدة ويقال عبيدة بن عمرو وعاىشة وعبد الرحمن بن عاىش الحضرمي وانس . قال ابو عيسى وحديث ابي هريرة في هذا الباب حديث حسن صحيح . والعلاء بن عبد الرحمن هو ابن يعقوب الجهني الحرقي وهو ثقة عند اهل الحديث .
৫২. কুবায়বা-’আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ -আলা সূত্রেও হাদিসটি অনুরূপভাবে রিওয়ায়াত করেছেন। তবে কুতায়বা তার রিওয়ায়াতে এ হলে রিবাত, এ হলো রিবাত, এ হলো রিবাত’’- অথাৎ ’’জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্তে প্রতিক্ষার মত’’ কথাটি তিনবার উল্লেখ করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে ’আলী, ’আবদুল্লাহ ’আমার, ইবনু ’আব্বাস, ’আবীদ (উবায়দা নামেও পরিচিত) ইবনু ’আমর, ’আয়িশা, আবদুর রহমান ইবনু ’আইশ আল-হাযরামী ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। ’আলা ইবনু ’আবদির রাহমান হলেন ইবনু ইয়াকুব আল-জুহানী আল-হুরাকী। হাদিস বিশারদদের নিকট তিনি নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃত।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে ’আলী, ’আবদুল্লাহ ’আমার, ইবনু ’আব্বাস, ’আবীদ (উবায়দা নামেও পরিচিত) ইবনু ’আমর, ’আয়িশা, আবদুর রহমান ইবনু ’আইশ আল-হাযরামী ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। ’আলা ইবনু ’আবদির রাহমান হলেন ইবনু ইয়াকুব আল-জুহানী আল-হুরাকী। হাদিস বিশারদদের নিকট তিনি নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃত।
হাদিস নং: ৫৩
যঈফ (Dai'f)
حدثنا سفيان بن وكيع بن الجراح، حدثنا عبد الله بن وهب، عن زيد بن حباب، عن ابي معاذ، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة، قالت كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم خرقة ينشف بها بعد الوضوء . قال ابو عيسى حديث عاىشة ليس بالقاىم ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب شيء . وابو معاذ يقولون هو سليمان بن ارقم وهو ضعيف عند اهل الحديث . قال وفي الباب عن معاذ بن جبل .
৫৩. সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী ইবনু জাররাহ (রহঃ) ..... আয়িশারাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক খন্ড কাপড় ছিল। এটি দিয়ে তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর পানি মুছতেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসটিও প্রতিষ্ঠিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ কোন বর্ণনা নেই। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটির রাবী আবূ মু’আয সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, ইনি হলেন সুলায়মান ইবনু আরকাম। তিনি হাদীস বিশারদগণের নিকট দূর্বল। এই বিষয়ে মু’আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসটিও প্রতিষ্ঠিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ কোন বর্ণনা নেই। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটির রাবী আবূ মু’আয সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, ইনি হলেন সুলায়মান ইবনু আরকাম। তিনি হাদীস বিশারদগণের নিকট দূর্বল। এই বিষয়ে মু’আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং: ৫৪
যঈফ (Dai'f)
حدثنا قتيبة، حدثنا رشدين بن سعد، عن عبد الرحمن بن زياد بن انعم، عن عتبة بن حميد، عن عبادة بن نسى، عن عبد الرحمن بن غنم، عن معاذ بن جبل، قال رايت النبي صلى الله عليه وسلم اذا توضا مسح وجهه بطرف ثوبه . قال ابو عيسى هذا حديث غريب واسناده ضعيف . ورشدين بن سعد وعبد الرحمن بن زياد بن انعم الافريقي يضعفان في الحديث . وقد رخص قوم من اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ومن بعدهم في التمندل بعد الوضوء ومن كرهه انما كرهه من قبل انه قيل ان الوضوء يوزن . وروي ذلك عن سعيد بن المسيب والزهري . حدثنا محمد بن حميد الرازي حدثنا جرير قال حدثنيه علي بن مجاهد عني وهو عندي ثقة عن ثعلبة عن الزهري قال انما كره المنديل بعد الوضوء لان الوضوء يوزن .
৫৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... মু’আয ইবনু যাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আমি দেখেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তাঁর পরিহিত কাপড়ের কে প্রান্ত দিয়ে তাঁর চেহারা মুছে ফেলেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই হাদিসটি গরীব। এর সনদ দুর্বল। এই হাদীছের রাবী রিশদ্বীন ইবনু সা’দ এবং ’আবদুর রহমান ইবনু যয়াদ ইবনু আনউম আল-ইফরীকী উভয়েই হাদীছের ক্ষেত্রে দুর্বল। সাহাবী ও পরবর্তী যুগের আলিমগণের মধ্যে একদল উযূর পর রুমাল ব্যবহরের অনুমতি দিয়েছেন। ’’উযূর পানি অবশ্যই ওজন করা হবে’’-এই কথার উপর ভিত্তি করে কোন কোন আলেম উযূর পর সে পানি মুছে ফেলা অপছন্দ করেছেন। সাঈদ ইবনুল মূসায়্যব এবং ইমাম যুহরী থেকেও এই ধরনের কথা বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ আর রাযী-যহরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন উযূর পানি অবশ্যই ওজন করা হবে বলে উযূর পর রুমাল ব্যাবহার করা পছন্দনীয় নয়।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই হাদিসটি গরীব। এর সনদ দুর্বল। এই হাদীছের রাবী রিশদ্বীন ইবনু সা’দ এবং ’আবদুর রহমান ইবনু যয়াদ ইবনু আনউম আল-ইফরীকী উভয়েই হাদীছের ক্ষেত্রে দুর্বল। সাহাবী ও পরবর্তী যুগের আলিমগণের মধ্যে একদল উযূর পর রুমাল ব্যবহরের অনুমতি দিয়েছেন। ’’উযূর পানি অবশ্যই ওজন করা হবে’’-এই কথার উপর ভিত্তি করে কোন কোন আলেম উযূর পর সে পানি মুছে ফেলা অপছন্দ করেছেন। সাঈদ ইবনুল মূসায়্যব এবং ইমাম যুহরী থেকেও এই ধরনের কথা বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ আর রাযী-যহরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন উযূর পানি অবশ্যই ওজন করা হবে বলে উযূর পর রুমাল ব্যাবহার করা পছন্দনীয় নয়।
হাদিস নং: ৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا جعفر بن محمد بن عمران الثعلبي الكوفي، حدثنا زيد بن حباب، عن معاوية بن صالح، عن ربيعة بن يزيد الدمشقي، عن ابي ادريس الخولاني، وابي، عثمان عن عمر بن الخطاب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من توضا فاحسن الوضوء ثم قال اشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له واشهد ان محمدا عبده ورسوله اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين فتحت له ثمانية ابواب الجنة يدخل من ايها شاء " . قال ابو عيسى وفي الباب عن انس وعقبة بن عامر . قال ابو عيسى حديث عمر قد خولف زيد بن حباب في هذا الحديث . قال وروى عبد الله بن صالح وغيره عن معاوية بن صالح عن ربيعة بن يزيد عن ابي ادريس عن عقبة بن عامر عن عمر . وعن ربيعة عن ابي عثمان عن جبير بن نفير عن عمر . وهذا حديث في اسناده اضطراب ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب كبير شيء . قال محمد وابو ادريس لم يسمع من عمر شيىا .
৫৫. জা’ফর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইমরান আছ-ছ’লাবী আল-কূফী (রহঃ) ..... উমর ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন কোন ব্যক্তি যদি খুব ভাল করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এই দু’আ পড়ে তবে জান্নাতের সব দরজাই তার জন্য খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে সে ইচ্ছা করবে সেটি দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। দু’আটি হলঃ
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কেউ শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ্! আমাকে তওবাকারীদের মধ্যে শামিল কর এবং পবিত্রদের অন্তর্ভুক্ত কর। - ইবনু মাজাহ ৪৭০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে আনাস এবং উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটির সনদে বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু হুবাবের সাথে অন্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় গরমিল বলেছে। অন্যান্য বর্ণনাকারিগণ আবূ ইদরীস খওলানী ও আবূ উছামন এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে অপর এক রাবীল কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন-আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ প্রমুখ মু’আবিয়া ইবনু সালিহ-রাবী’আ ইবনু উয়যীদের সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটি সনদে আবূ ইদরীস এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে উকবা ইবনু আমিরের নাম উল্লেখ করেছেন। এভাবে আবূ উছমান ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে জুবায়র ইবনু নুফায়লের নাম উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে যায়দ ইবনু হুবারের বর্ণনায় এরূপ নেই। যা হোক, এই হাদিসটির সনদে ইযতিরাব রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ সনদে বিশেষ কিছু ছাবিত নেই। ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেছেন, আবূ ইদরীস (রহঃ) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কোন কিছু শুনেননি।
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কেউ শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ্! আমাকে তওবাকারীদের মধ্যে শামিল কর এবং পবিত্রদের অন্তর্ভুক্ত কর। - ইবনু মাজাহ ৪৭০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে আনাস এবং উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটির সনদে বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু হুবাবের সাথে অন্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় গরমিল বলেছে। অন্যান্য বর্ণনাকারিগণ আবূ ইদরীস খওলানী ও আবূ উছামন এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে অপর এক রাবীল কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন-আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ প্রমুখ মু’আবিয়া ইবনু সালিহ-রাবী’আ ইবনু উয়যীদের সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটি সনদে আবূ ইদরীস এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে উকবা ইবনু আমিরের নাম উল্লেখ করেছেন। এভাবে আবূ উছমান ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে জুবায়র ইবনু নুফায়লের নাম উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে যায়দ ইবনু হুবারের বর্ণনায় এরূপ নেই। যা হোক, এই হাদিসটির সনদে ইযতিরাব রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ সনদে বিশেষ কিছু ছাবিত নেই। ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেছেন, আবূ ইদরীস (রহঃ) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কোন কিছু শুনেননি।
হাদিস নং: ৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن منيع، وعلي بن حجر، قالا حدثنا اسماعيل ابن علية، عن ابي ريحانة، عن سفينة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يتوضا بالمد ويغتسل بالصاع . قال وفي الباب عن عاىشة وجابر وانس بن مالك . قال ابو عيسى حديث سفينة حديث حسن صحيح . وابو ريحانة اسمه عبد الله بن مطر . وهكذا راى بعض اهل العلم الوضوء بالمد والغسل بالصاع . وقال الشافعي واحمد واسحاق ليس معنى هذا الحديث على التوقيت انه لا يجوز اكثر منه ولا اقل منه وهو قدر ما يكفي .
৫৬. আহমদ ইবনু মানী ও আলী ইবনু হজর (রহঃ) .... সাফীনা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএ ক মুদ পরিমাণ পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) এবং এক সা’ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন। - ইবনু মাজাহ ২৬৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, জাবির ও আনাস ইবনু মালক রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, সাফীনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। রাবী আবূ রায়হানার নাম হল আবদুল্লাহ ইবনু মাতার। আলিমগণের কেউ কেউ একমুদ পরিপাণ পানি দিয়ে উযূ এবং সা’ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করার বিধান দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন, উযূ গোসলের জন্য বিশেষ এমন একটা পরিমাণ নির্ধারণ করা যে, এর কম বা বেশী পরিমাণ পানি ব্যাবহার করা জায়েয হবে না এই হাদিসটির মর্ম তা নয়। বরং কতটুকু পরমাণ পানি উযূ বা গোসলেন জন্য যথেষ্ট তা বর্ণনা করাই হল এর উদ্দেশ্য।
এই বিষয়ে আয়িশা, জাবির ও আনাস ইবনু মালক রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, সাফীনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। রাবী আবূ রায়হানার নাম হল আবদুল্লাহ ইবনু মাতার। আলিমগণের কেউ কেউ একমুদ পরিপাণ পানি দিয়ে উযূ এবং সা’ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করার বিধান দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন, উযূ গোসলের জন্য বিশেষ এমন একটা পরিমাণ নির্ধারণ করা যে, এর কম বা বেশী পরিমাণ পানি ব্যাবহার করা জায়েয হবে না এই হাদিসটির মর্ম তা নয়। বরং কতটুকু পরমাণ পানি উযূ বা গোসলেন জন্য যথেষ্ট তা বর্ণনা করাই হল এর উদ্দেশ্য।
হাদিস নং: ৫৭
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو داود الطيالسي، حدثنا خارجة بن مصعب، عن يونس بن عبيد، عن الحسن، عن عتى بن ضمرة السعدي، عن ابى بن كعب، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان للوضوء شيطانا يقال له الولهان فاتقوا وسواس الماء " . قال وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وعبد الله بن مغفل . قال ابو عيسى حديث ابى بن كعب حديث غريب وليس اسناده بالقوي والصحيح عند اهل الحديث لانا لا نعلم احدا اسنده غير خارجة . وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن الحسن قوله ولا يصح في هذا الباب عن النبي صلى الله عليه وسلم شيء . وخارجة ليس بالقوي عند اصحابنا وضعفه ابن المبارك .
৫৭. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) .... উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, উযূ (ওজু/অজু/অযু)র জন্য একটি শয়তান নির্ধারিত রয়েছে। এর নাম হল ওয়ালাহান। সুতারাং তোমরা পানির ব্যাপারে সন্দেহ প্রবণতা থেকে বেঁচে থাকবে। - ইবনু মাজাহ ৪২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর এবং আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, উবাই ইবনুু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি গরীব। হাদিস বিশারদগণের নিকট এই হাদিসটির সনদ শক্তিশালী এবং সহীহ্ নয়। কারণ, খারিজা ব্যতীত আর কেউ এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত রাবী পরস্পরায় বা মুসনাদ হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এই কথাটি হানানের উক্তি হিসাবেও একধিক বর্ণনায় রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ কিছু বর্ণিত নেই। হাদিস বিশারদদের নিকট খারিজা শক্তিশালী রারী বলে স্বীকৃত নন। ইবনু মুবারাক তাঁকে যঈফ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর এবং আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, উবাই ইবনুু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি গরীব। হাদিস বিশারদগণের নিকট এই হাদিসটির সনদ শক্তিশালী এবং সহীহ্ নয়। কারণ, খারিজা ব্যতীত আর কেউ এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত রাবী পরস্পরায় বা মুসনাদ হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এই কথাটি হানানের উক্তি হিসাবেও একধিক বর্ণনায় রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ কিছু বর্ণিত নেই। হাদিস বিশারদদের নিকট খারিজা শক্তিশালী রারী বলে স্বীকৃত নন। ইবনু মুবারাক তাঁকে যঈফ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হাদিস নং: ৫৮
যঈফ (Dai'f)
حدثنا محمد بن حميد الرازي، حدثنا سلمة بن الفضل، عن محمد بن اسحاق، عن حميد، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يتوضا لكل صلاة طاهرا او غير طاهر . قال قلت لانس فكيف كنتم تصنعون انتم قال كنا نتوضا وضوءا واحدا . قال ابو عيسى وحديث حميد عن انس حديث حسن غريب من هذا الوجه والمشهور عند اهل الحديث حديث عمرو بن عامر الانصاري عن انس . وقد كان بعض اهل العلم يرى الوضوء لكل صلاة استحبابا لا على الوجوب .
৫৮. মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ আর-রাযী (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাক-নাপাক প্রত্যেক অবস্থায়ই প্রতি সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। রাবী হুমায়দ বলেন, আমি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আপনারা নিজেরা কি করতেন? তিনি বললেন আমরা একবার উযূ করে নিতাম। - সহিহ আবু দাউদ ১৬৩ নং হাদিসের অধীনে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন হুমায়দের সূত্রে বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি হাসান ও গরীব। পক্ষান্তরে আমর ইবনু আমির আল আনসারীর সূত্রে বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াতটি হাদিস বিশারদগণের নিকট অধিক প্রসিদ্ধ। আলিমদের কেউ কেউ প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করা ওয়াজিব নয় বরং তা মুস্তাহাব বলে মত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন হুমায়দের সূত্রে বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি হাসান ও গরীব। পক্ষান্তরে আমর ইবনু আমির আল আনসারীর সূত্রে বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াতটি হাদিস বিশারদগণের নিকট অধিক প্রসিদ্ধ। আলিমদের কেউ কেউ প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করা ওয়াজিব নয় বরং তা মুস্তাহাব বলে মত ব্যক্ত করেছেন।
হাদিস নং: ৫৯
যঈফ (Dai'f)
وقد روي في، حديث عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " من توضا على طهر كتب الله له به عشر حسنات " . قال وروى هذا الحديث الافريقي عن ابي غطيف عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم . حدثنا بذلك الحسين بن حريث المروزي حدثنا محمد بن يزيد الواسطي عن الافريقي . وهو اسناد ضعيف . قال علي بن المديني قال يحيى بن سعيد القطان ذكر لهشام بن عروة هذا الحديث فقال هذا اسناد مشرقي . قال سمعت احمد بن الحسن يقول سمعت احمد بن حنبل يقول ما رايت بعيني مثل يحيى بن سعيد القطان .
৫৯. ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ..... সূত্রে একটি হাদীছে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাক অবস্থায় যে ব্যক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে আল্লাহ্ তার জন্য দশটি করে নেকী লিখবেন। - ইবনু মাজাহ ৫১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আল-ইফরীকী (রহঃ) আবূ গুতায়ফ সূত্রে ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এই সনদটি দুর্বল। আলী ইবনু আল-মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন হিশাম ইবনু উরওয়ার কাছে এই হাদিসটি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছিলেন এর সনদ হল পূর্বঞ্চলীয়। আহমদ ইবনুল হাসান বলেন, আহমদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) বলেছেন ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানের মত হাদিস বিশারদ কোন লোক আমি দেখিনি।
আল-ইফরীকী (রহঃ) আবূ গুতায়ফ সূত্রে ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এই সনদটি দুর্বল। আলী ইবনু আল-মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন হিশাম ইবনু উরওয়ার কাছে এই হাদিসটি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছিলেন এর সনদ হল পূর্বঞ্চলীয়। আহমদ ইবনুল হাসান বলেন, আহমদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) বলেছেন ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানের মত হাদিস বিশারদ কোন লোক আমি দেখিনি।
হাদিস নং: ৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، وعبد الرحمن، هو ابن مهدي قالا حدثنا سفيان بن سعيد، عن عمرو بن عامر الانصاري، قال سمعت انس بن مالك، يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم يتوضا عند كل صلاة . قلت فانتم ما كنتم تصنعون قال كنا نصلي الصلوات كلها بوضوء واحد ما لم نحدث . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .
৬০. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আমর ইবনু আমির আল-আনসারী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আমি বললাম আপনারা নিজেরা কি করতেন? তিনি বললেন উযূ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ সালাত আমরা একই উযূতে আদায় করতাম। - ইবনু মাজাহ ৫০৯, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। পক্ষান্তরে হুমায়দের সূত্রে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াতটি উত্তম এবং গরীব ও হাসান।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। পক্ষান্তরে হুমায়দের সূত্রে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াতটি উত্তম এবং গরীব ও হাসান।